রেলপথে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদককারবারীরা। চলতি মাসেই চট্টগ্রাম ও লাকসাম রেলস্টেশনে ধরা পড়েছে ইয়াবা ও গাঁজার ৮ চালান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গ্রেফতার করা হয়েছে এক নারীসহ ৫ জনকে। মাদক নেটওয়ার্কে যারা ‘কবুতর’ বা ‘বাহক’ নামে পরিচিত। পুলিশ বলছে, বাহকদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, মূলত কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন হয়ে ট্রেনে ইয়াবা পাচার হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়। পাচারের ঠিক আগ মুহূর্তে চারটি পৃথক অভিযানে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ৫ জন ‘বাহক’। আর এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ পিস ইায়াবা। স্টেশনে একের পর এক মাদকের ‘বাহক’ গ্রেফতারের পরও মূল হোতারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের অনুমতি না মেলায় মাদকের উৎস জানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ট্র্যাকিং ও কললিস্ট চেক করে মাদকের উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা।
এ ৪টি ঘটনায় দায়ের করা মামলার তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ১৫ নভেম্বর পুলিশের জালে ধরা পড়া রমিদা ওরফে ছেনোয়ারা (৪০) কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা। তার সহযোগী ইমরান সিপাহী (২৮) মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা। এর আগে গত ৩ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রায় ৪০০ পিস ইয়াবাসহ মো. ওয়াজেদ আলী খানকে (৩৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার ওয়াজেদ আলী টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। পরের দিন অর্থাৎ ৪ নভেম্বর ভোরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় ইয়াবার ‘বাহক’ মো. বেলাল (৩৮)।
অন্যদিকে নভেম্বরের শুরুতেই চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রায় ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে মহাদেব চন্দ্র বর্মন (২৬) নামের আরেক বাহক। তার বাড়ি গাজীপুর জেলায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডের অনুমতি না পেয়ে জেলগেটে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মুখ খুলেনি এ ৫ ‘বাহক’। তাই ইয়াবা পাচারের মূল হোতাদের ব্যাপারে এখনও ধোঁয়াশায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের নিয়ে ‘টিম’ বানিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে। তবে পাচারকারীরা একই নেটওয়ার্কের আওতায় কি-না, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের ওসি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডের অনুমতি পাইনি। জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খুলেনি তারা। বিভিন্ন সূত্র ধরে মূল হোতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’
অন্যদিকে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশের সফলতা ‘মালিকবিহীন গাঁজা’ উদ্ধার পর্যন্ত। নভেম্বর গাঁজা উদ্ধারের ৪টি পৃথক ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে মাত্র একজন। বাকি ৩টি অভিযানে ‘মালিকবিহীন পরিত্যক্ত গাঁজা’ দাবি করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে যোগযোগ করা হলে ফোনকল রিসিভ করেননি লাকসাম রেলওয়ে পুলিশের ওসি জসিম উদ্দিন।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সড়ক-সমুদ্রপথের পাশাপাশি রেলপথে মাদক পাচারের বিষয়টি পুরানো। রেলপথে মাদক পাচার রুখতে নজরদারী অব্যহত রেখেছে সংস্থাটি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ূন কবির খন্দকার বলেন, ‘নদী ও সমুদ্রপথের মতো মাদক পাচারের অন্যতম রুট রেলপথ। এ রুটের বিভিন্ন স্পটে মাদক পাচারের সময় ধরাও পড়ছে। মাদকপাচারের বিভিন্ন চিহ্নিত স্পটে নজরদারি অব্যহত আছে।



