
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো ওই গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পর থেকে স্বামী,শশুর শাশুড়ী পলাতক রয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার আগেই ঘরের মুল্যবান সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সোমবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১০ টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজম নগরের আব্দুল পন্ডিত (কায়ানীর বাড়ী) বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ হোসনে আরা আক্তার লিপি (২৫) ওই বাড়ীর নুর মোহাম্মদের ছেলে কামাল উদ্দিনের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের মেহেদী নগর গ্রামের শেখ আলম সওদাগর বাড়ীর বাঁশ ব্যবসায়ী শেখ আলমের কন্যা।
হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ জানান, ‘নিহতের স্বামী আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় লিপির লাশ ঘরের তীরের সাথে ঝুলছে। নিহতের ৪ মাস বয়সি ১টি কন্যা সন্তান রয়েছে। ফাঁস দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটাতে পারে।’
নিহত লিপির আত্মীয় শেখ আহম্মদ বলেন, ৪ মাসের ফুটফুটে ফুলের মত শিশু সন্তান রেখে কোন মা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা খুনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত গ্রেপ্তারের জোর দাবী করছি।
লিপির বাবা শেখ আলম সওদাগর অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে স্বামীর ঘরেড় লিপির এক দিনের জন্যেও শান্তি হয়নি। বার বার নির্যাতনে সে অসহ্য হয়ে বাপের বাড়ী চলে আসতো। আবার স্বামী, সন্তানের ভবিষ্যত ভেবে স্বামীর ঘরে ফিরে যেতো। ৪ মাসের কন্যা সন্তান বিবি মরিয়মকে রেখে লিপি মরতে পারেনা। তার লাশের মধ্যে গলায় ফাঁস দেয়া লাশের কোন চিহৃ নেই। আতœহত্যার বিষয়টি তাদের সাজানো পরিকল্পিত । লিপি আর কোনদিন ফিরে আসবেনা। আমি হত্যাকান্ডের জন্য খুনী কামাল ও তার বাবা মায়ের শাস্তি দাবী করছি।
এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আবেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে লাশ নামিয়ে সুরতাহাল করি। নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। তবে ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে আমাদের আসার খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে ।



