ঈদ পরবর্তী চট্টগ্রামে বেড়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তুলনামূলক বেড়েছে অন্যান্য রোগীও। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো। তবে লকডাউনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, করোনার রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চাপও বেড়েছে। সাম্প্রতি বুক ব্যথা, গ্যাস্ট্রোলিভার ও ডেলিভারি রোগীর চাপ বেড়েছে। ফলে হাসপাতালে বেড সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। এতে ভোগান্তি বেড়েছে কোভিড ও নন-কোভিড রোগীর।
ম্যাক্স হাসপাতাল, ডেলটা হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালের একই অবস্থা কথা উল্লেখ করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘ইদানিং কোভিড রোগীদের চাপ বেড়েছে। একইভাবে অন্যান্য রোগীর চাপও আছে। তবে খুব অল্প সময়ে আমরা এ সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবো। এ লকডাউনে যদি মানুষ একটু সচেতন হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা করছি।’
ম্যাক্স হাসপাতালের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ৬৭টি কেবিন রয়েছে। রোগী ভর্তি রয়েছে ৬৯ জন। তারমধ্যে ১০ জন রোগী আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। দৈনিক ৭ থেকে ৮ জন রোগী ভর্তির জন্য যোগাযোগ করছেন।’
এর মধ্যে আশার কথা শুনিয়েছে পার্কভিউ হাসপাতাল। এ সংকটের মধ্যে হাসপাতালটি করোনার বিশেষায়িত দুটি ফ্লোরের পাশাপাশি আরেকটি নতুন ফ্লোর চালু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় দুটি ফ্লোরে ৫২টি কেবিন শয্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ এছাড়া ১২টি আইসিইউ বেড, এইচডিইউ বেড এবং হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাও ছিল পর্যাপ্ত। বর্তমানে আরও একটি ফ্লোর চালু করা হয়েছে। যেখানে করোনা রোগীদের সেবায় আরও ২৬টি কেবিন রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক তালুকদার জিয়াউর রহমান জানান, ২৩ জুলাইয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী পার্কভিউ হাসপাতালে করোনার ৮৪টি কেবিনেই রোগী ভর্তি রয়েছে। কোন কেবিনই খালি নেই। ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ১৫ করোনা রোগী। ১২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে একটিও খালি নেই। এরমধ্যেই দৈনিক ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর স্বজন আইসিইউ বেডের জন্য যোগাযোগ করছেন৷
শয্যা সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘ঈদ পরবর্তী এমন একটা অবস্থা আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। আমরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে এ সংকট মোকাবেলা করছি। তবে আজ (শুক্রবার) থেকে চলমান লকডাউনে মানুষের চলাচল ও সরাসরি যোগাযোগ অনেকটা কমে যাবে। ফলে এ সংকট নিয়ন্ত্রণ করতে খুব বেশি সময় লাগবে না, আশা করি।’
# সূত্র মহানগর নিউজ



