টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি, দোকান পাটে এখনো থৈথৈ পানি। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা। একইসাথে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরীর আগ্রাবাদসহ নিচু এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। বৃষ্টির পানি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হয়েছে নগরীর নিচু এলাকা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি আটকে আছে। এতে মানুষের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে ভোগান্তির সীমা ছাড়িয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে উচ্চ জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে চলে গেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
রাত থেকে টানা এই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়। নগরবাসী বলছে, সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার সকালে অফিসগামী মানুষ হুড়োহুড়ি কম থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হয়েছেন তাদের ভোগান্তির শেষ নেই।
সরেজমিনে নগরীরর বিভিন্ন রাস্তা ও অলিগলিতে ঘুরে দেখা যায়, রাতভর বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অবশ্য সকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকায় মূল সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করে। কিছু অলিগলিতে বিকেল পর্যন্ত পানি আটকে রয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২১৫ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবারও থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা রাত থেকেই ভারী বৃষ্টিপাতে মধ্যরাতেই চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকায়, ডিসি রোড, চকবাজার, বাকলিয়া এলাকায় হাঁটুপানিতে প্লাবিত হয়।



