নগরীর পানি নিষ্কাশনের বড় নালাগুলো পথচারীদের পাশাপাশি ভোগাচ্ছে পুলিশকেও। ছিনতাইকারীরা হরহামেশা ছিনতাই করেই আশ্রয় নেয় এসব নালায়। আর এসব নালার মুখ এক থানা এলাকায় হলেও, অপরমুখ থাকে অন্য থানা এলাকায়। এ জটিল হিসেবের সুযোগ নেয় ছিনতাইকারীরা।
সম্প্রতি এক নারী পুলিশ সদস্য সিভিল পোশাকে বাসা থেকে যাচ্ছিলেন কর্মস্থলে। ষোলশহর ২ নম্বর গেট থেকে জিইসি মোড়ের দিকে অগ্রসর হতেই ওঁৎপেতে থাকা দুই ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগটি নিয়ে দৌড় দেয়। পথচারীরা তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা লাফিয়ে পড়ে নালায়। তাদের আর কেউ পায়নি। তবে তাদের ভাগ্য সেদিন সুপ্রসন্ন ছিল না। তারা বের হয় লালখান বাজার ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির সামনের অংশ দিয়ে। সেখানেই ছিল টহল পুলিশ। ১৪-১৫ বছরের কিশোরদের হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ দেখে তাদের ধরে ফেলে পুলিশ সদস্যরা। ততক্ষণে পুলিশের ওয়ার্লেস সেটে বার্তা আসে ছিনতাইয়ের ব্যাপারে। কাকতালীয়ভাবে ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ সদস্যরা তাদের সহকর্মীর পরিচয়পত্র পেয়ে যায়। দুই ছিনতাইকারীর সাথে ছিল টিপছোরা। পুলিশ মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে সোপর্দ করে।
রিয়াজ উদ্দিন বাজার থেকে বাজার করে রিকশাযোগে ফিরছিলেন পোস্তার পাড় এলাকার মো. ইসমাইল। কদমতলী রেল ক্রসিংয়ের সিগন্যালপোস্ট বরাবর আসতেই তার বাজারভর্তি ব্যাগটি ছোঁ মেরে নিয়ে যায় ২২-২৩ বছরের এক যুবক। ব্যাগ নিয়ে সে নেমে পড়ে নালায়। কয়েকশ’ টাকার বাজার খোয়া গেলেও ইসমাইল আর থানা-পুলিশ করেননি। ওই এলাকার লোকজন জানায়, এ রকম ঘটনা কদমতলীতে নিত্যদিনের ব্যাপার।
নগরীর জামালখান মোড়, ডিসি হিল এলাকায় পুরুষদের পাশাপাশি শত শত নারী প্রাতঃভ্রমণে বের হন। কোনো নারীকে একা হাঁটতে দেখলে ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন বা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ে লক্ষ্য স্থির করে। সুযোগ বুঝে ঝাপটা দিয়ে মোবাইল ফোনসেট বা ব্যাগটি নিয়ে লাফিয়ে পড়ে নালায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রোকসানা বন্যা নামের এক গৃহিনী প্রাতঃভ্রমণে বের হয়ে প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে পিডিবি অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে আসতেই পিছন থেকে ছিনতাইকারী এসে টান দিয়ে তার কাঁধের ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। দুই পাশ থেকে মানুষ এগিয়ে এলেও ছিনতাইকারী গিয়ে লাফিয়ে পড়ে রাস্তার উত্তর পাশের নালায়।
কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে আসে কোতোয়ালী থানা পুলিশের টহল দল। কয়েকজন পুলিশ নালায় নেমেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। কারণ ওই নালার একটা মুখ জামালখান কুয়ারপাড় এলাকায়, অপর মুখ কাজেম আলী স্কুলের উত্তর পাশে।
ছিনতাইয়ের ঘটনা কোতোয়ালী থানা এলাকায়। ছিনতাইকারী পালিয়ে উঠলো চকবাজার থানায়। এভাবে থানার সীমানাও ছিনতাইকারীরা তাদের নিরাপত্তার জন্য বিবেচনায় রাখে। কারণ সব ঘটনার ভিকটিমই সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করবে। তাই তারা নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে চলে যায় অন্য থানার সীমানায়।
জামালখান মোড়ের ছিনতাইয়ের ঘটনায় কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক মোমিনুল হাসান, বোরহান উদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদর্শক অনুপ কুমার বিশ্বাসের টিম মোবাইল ফোনসেটটি উদ্ধার করার পাশাপাশি আটক করে দুই ছিনতাইকারীকে।
ছিনতাইকারীরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাদের তিনজনের টিম থাকে। একজন ছিনতাই করে, অপর দুইজন তার সামনে আর পিছনে ব্যাকআপ হিসেবে থাকে। সঙ্গী ছিনতাইকারী বিপদে পড়লে তারা এগিয়ে আসে, না হয় তারা অপর পথচারীদের সাথে মিশে যায়। তারা মূলতঃ সকালে হাঁটতে বের হওয়া নারীদেরই টার্গেট করে।
সিএমপির পক্ষ থেকে ছিনতাই রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) বিজয় বসাক বলেন, দীর্ঘদিন নালা নিয়ে পুলিশের যে যন্ত্রণা তা লাঘবের উদ্যোগ নিয়েছেন কমিশনার স্যার। তিনি সেবা সংস্থাগুলোর কাছে নালার প্ল্যান চেয়েছেন। প্ল্যানগুলো পেলে নালাকেন্দ্রিক যে ক্রাইম হয় তা প্রতিরোধে সিএমপি’র পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



