বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আশার আলো দেখাচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেলে সদ্য চালু হওয়া ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিট। অত্যাধুনিক এ জরুরি বিভাগে সেবা নিতে পেরে সন্তুষ্ট রোগী ও তাদের স্বজনেরা। চিকিৎসকরাও আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন।
নতুন এই জরুরি বিভাগে রয়েছে সকল ধরনের ল্যাব ও ক্লিনিকাল প্যাথলজি সুবিধা। এর পাশাপাশি দুটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) এবং ৬টি হাই ডিপেন্ডেড ইউনিট (এইচডিও)। পর্যায়ক্রমে ৪টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। চিকিৎসকদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৫টি কক্ষ। যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় মেডিসিন, সার্জারি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা এবং অ্যানেসথেসিয়াসহ প্রয়োজনীয় সব বিভাগের একজন করে কনসালটেন্ট সার্বক্ষণিক (শিফট ভিত্তিতে) নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ারে রোগীদের জন্য একশটি শয্যা রয়েছে। সরেজমিনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একজন রোগী আসা মাত্রই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হলে সেটাও এখানে করা হয়। রোগীদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এর মধ্যে যেসব রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন নেই বা বাসায় চিকিৎসা নিতে পারবেন, তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। যেসব রোগীর আরোও চিকিৎসা প্রয়োজন, শুধু সেসব রোগীকে ভর্তি দেয়া হয়।
ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগ
ওয়ানস্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আদলে নির্মিত। যা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জরুরি বিভাগ। বিভাগটিতে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের (ইএমও) ৭টি পদ আছে। বর্তমানে ৭ জন ইএমও এখানে কর্মরত আছেন। দিনে তিনটি শিফটে এখানে দায়িত্ব পালন করে থাকেন চিকিৎসকরা। প্রতি শিফটে বেশির ভাগ সময়ই একজন ইএমও দায়িত্বে থাকেন। হয়েছে। ৩২ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গায় নতুন এ বিভাগ চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল প্রশাসনের তথ্যমতে জরুরি বিভাগের মাধ্যমে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ জন রোগী টিকেট কেটে ডাক্তার দেখান। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
সাতকানিয়া থেকে নিজের অসুস্থ মাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন হাসানুল হক নামে নামে এক ব্যক্তি। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এসে মাত্র ১০ টাকায় একটি টিকেট কিনে লাইনে দাঁড়াই। পরে ডিউটি ডাক্তার আমার মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে আম্মাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নতুন এই ইমার্জেন্সি চালুর পর রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে কাজও কিছুটা কমেছে। তবে আমাদের ল্যাবে লোকবল সংকট রয়েছে। নতুন একটি এক্সরে মেশিন এসেছে। এটি এখনো চালু করতে পারিনি। প্রয়োজনীয় টেকনেশিয়ান নেই। আশা করছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শীঘ্রই জনবল নিয়োগ দেবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা নতুন ও পূর্ণাঙ্গ একটি জরুরি বিভাগ তৈরি করতে পেরেছি। তবে সব বিভাগে আমাদের শতভাগ লোক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। লোকবল শতভাগ নিয়োগ দেয়া হলে সেবার মান আরও বাড়বে।



