নিজস্ব প্রতিবেদক »
কাল থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে জেলেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তাব জানায়।
সাগরিকা রাসমণি ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নেই তেমন জনসমাগম। জেলেদের থলেতে ইলিশের সংখ্যাও হাতে গোনা। অল্প মাছের নিলাম চলছে। কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা হাতেগোনা। ক্রেতারা বলছেন, নৌকাতেই জেলেরা মাছ বিক্রি করে আসে। তাই ঘাটে এসেও মাছ পাওয়া যায় না। তবে জেলেরা বলছেন, স্রোত না থাকায় জালে মাছ ধরা পড়ছে না।
এ প্রসঙ্গে রাণী রাসমনি ঘাটের জেলে সর্দার খেলন জলদাশ বলেন, ‘জোয়ারেও স্রোত না থাকায় মাছ জালে ধরা পড়ছে না। স্রোত থাকলে মাছ পানির ঝাপটায় উপরে চলে আসে। এখন মাছ সাগরে তলদেশে চলে যাওয়ায় মাছ পাচ্ছি না।’
ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এবার আশানুরূপ মাছ পাইনি। অন্য জেলায় অল্প কিছু পেলেও ভারত মাছ বেশি পেয়েছে। গত বছর থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সময়টা হয়তো ঠিক হচ্ছে না বলেই আমরা মাছ পাচ্ছি না। যেমন সামনের জো’তে মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু কাল থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আমরা এ মাছ পাবো না। ভারত কিন্তু এ মাছ পাবে। তাই ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ১৪ অক্টোবর থেকে যদি নিষেধাজ্ঞা দিতো, আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতাম।’
ইলিশ ধরা ও এর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে কথা হয় ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইলিশ ধরায় ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তা মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্যই। শীত চলে আসলে ইলিশ আর ডিম ছাড়বে না। তাই সবসময় অক্টোবরে, অর্থাৎ শীত আসার আগেই ইলিশ আহরণে ২২ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।’



