চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ শুক্রবার ভোরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড মিয়ানমারের চীন রাজ্যের হাখা শহরের ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন এমন মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল চট্টগ্রাম থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পে কেঁপেছে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত। ভারতের কলকাতা, আসাম ও ত্রিপুরায় কম্পন্ন অনুভূত হয়েছে । তবে নির্দিষ্ট কোন প্লেট এই কম্পনের পিছনে, তা নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কিছু জানা যায়নি।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও চীনে। শক্তিশালী ভূমিকম্পের দুটি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। এতে বহুতল ভবনগুলো বেশ জোরালোভাবে দুলেছে।
ইউএসজিএস’র ইন্টার্যাক্টিভ ম্যাপে দেখা যায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মিজোরাম প্রদেশ ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতো শক্তিশালী ভূমিকম্প কবে দেখেছেন, মনে করতে পারছেন না।
ইউএসজিসি’র পরিমাপ অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ছিল ৬.১ মাত্রার। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ছিল ৫.৮ মাত্রার। আবহাওয়া অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, তীব্রতার পরিমাপে এটি ছিল মাঝারি মাপের ভূমিকম্প। ঢাকার কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অফিস থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ৩৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউএসসজিএস বলছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ৩২.৮ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে অপেক্ষাকৃত তীব্রভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের কয়েকটি শহরেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, জানিয়েছে ইউএসজিএস।



