নিজস্ব প্রতিনিধি
স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন চেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আসামি হোসনে আরা বেগম পারুল চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা গ্রামের মৃত নিজামুদ্দৌলার মেয়ে।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর ৭নং পম্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বুধবার (১৩ মার্চ) আদালত শুনানী শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবু আবদুল্লাহ আল হেলাল জানান, মামলার বাদি রাকিবুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব নং খুলেন। ২০১৬ সালে তার চেক বই হারিয়ে ফেলেন। তিনি ব্যাংককর্তৃপক্ষকে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেন। একই ঘটনায় ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডাইরী (জিডি) করেন।
এর প্রায় একবছর পর ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী সকালে আসামি হোসনে আরা বেগম পারুল ইসলামী ব্যাংক সিডিএ শাখা থেকে স্বাক্ষর জালিয়তি করে আটাশ লাখ টাকা উত্তোলনের সময় সন্দেহ হলে ইসলামী ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখার কর্মকর্তা মোঃ কবির উদ্দিন বাদিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি কাউকে চেক প্রদান করেনি এবং তার চেকবই হারানোর ঘটনার বিস্তারিত ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এই ঘটনার পর তিনি ইসলামী ব্যাংক সিডিএ এভিনিউ শাখায় যোগাযোগ করলে সেখানে টাকা উত্তোলনের জন্য ইস্যুকৃত চেকের স্বাক্ষরের সাথে তার স্বাক্ষরের কোন মিল নেই। একটি জালিয়াত ও প্রতারক চক্র রাকিবুল ইসলামের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে বলে উপস্থিত সকলের কাছে প্রমাণিত হয়।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় গত বছরের ২১ মে হোসনে আরা বেগম পারুল এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর ভিপি এবং সিডিএ এভিনিউ শাখার প্রধান মোঃ আবুল কালাম আজাদকে আসামি করে মহানগর মূখ্য হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন রাকিবুল ইসলাম । আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সাথে আসামির সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে গত বছরের ২৪ অক্টোবর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জসিম উদ্দিন।
এই মামলার প্রধান আসামি হোসনে আরা পারুল দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।



