শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 632

মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। আজ সকালে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি এলাকায় গেলে অকষ্মাৎ দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংসের সদস্য শায়রুল কবির খান  এ হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল নিরাপদে আছেন। তবে তার বহরে থাকা বেশ কটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুবৃত্তরা।

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ধর্মপুর ও নানুপুর এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘঠনায় আহত হয়েছে ৫ জন।

আহতরা হলেন আজম, শফিউল আজম, জামাল, রাশেদুল কুদ্দুস। আহতরা ফটিকছড়ির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সোমবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আকতার।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু তৈয়বের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

অপপ্রচার বন্ধ না হলে আইনি ব্যবস্থা : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক  :

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার করে সরকার বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অপপ্রচার বন্ধ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিতভাবে জঘন্যরকমের অপপ্রচারে সরকার মেতে উঠেছে। এটা করতে গিয়ে তারা সরকারি অর্থ ব্যয় করে সোস্যাল মিডিয়া, দেশের প্রিন্টিং মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। সরকারি দল ও মন্ত্রীরা জঘন্য মিথ্যাচার শুরু করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত রোববার বিভিন্ন পত্রিকায় একটা সিন্ডিকেটেড নিউজ ছাপানো হয়েছে যে, পাকিস্তানের দূতাবাসের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি এবং তথাকথিত আইএসআইয়ের সঙ্গে লন্ডনে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বৈঠক করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটা বলেছেন। ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের মতো দলের সাধারণ সম্পাদকের মুখ দিয়ে এই ধরনে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন জঘন্য মিথ্যাচার হয় সেটা শুধু অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত নয় এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি জঘন্য আঘাত বলে আমরা মনে করি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি। আমি খুব দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে এই ধরনের কোনো বৈঠক কখনোই আমাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং লন্ডনেও আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনো সংস্থার সাথে কোনো রকমের বৈঠক হয়নি। এটা শুধু বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং এটা জঘন্য মিথ্যাচার। আমরা এহেন বক্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী ছাড়াও গ্রেফতার হওয়ার অনলাইন এ্যাক্টিভিস্টদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সমর্থিত সোশ্যাল মিডিয়ার এ্যাক্টিভিস্টদের গ্রেপ্তার করার অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট করেছেন, আইসিটি অ্যাক্ট, ৫৭ ধারা করেছেন। এসব করতে গিয়ে তারা সমস্ত স্বাধীন চিন্তা, মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতাকে হরণ করেছেন। তারা শীর্ষ নিউজসহ ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব করেছে। এভাবে তারা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশকে রক্ষা করতে হলে মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের জানা মতে তিন শ’র উপরে আইডি খোলা হয়েছে তাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নোংরা ছবি, বানোয়াট গল্প প্রচার করা। সরকার নগ্নভাবে অনলাইন এ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তা নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদ ছাড়া আর কিছুই না।
প্রধানমন্ত্রীর তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক আইডিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি কার্টুন দেখিয়ে তিনি বলেন, কার্টুন দিতেই পারেন। সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক নেতাদের কার্টুন আসতেই পারে। যখন আওয়ামী লীগের নেতা, প্রধানমন্ত্রী অথবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কার্টুন দেয়া হয় তখন তাদেরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রামের মহিলা তাকে পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার একটা ছবি দেখেন। যখন আমি রাঙ্গামাটি যাচ্ছিলাম (গত বছর) সেই পথে আমার ওপর আক্রমণ করা হয়, আমাদের গাড়ি ভেঙে দিয়ে আমার কাপড় ছিঁড়ে যায়, রক্তাক্ত হয়। তখন একটা ছবি আপনারা নিয়েছিলেন। এই ছবিটাই গত শনিবার আমাদের এখানে কিছু কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশীর সমর্থকরা বিক্ষোভ করছিলেন তাদের মধ্য দিয়ে আমি যাওয়ার সময়ে বেরিয়ে যাই। তখন ওই ছবি দিয়ে বলেছি সেদিন নাকি আমার এই অবস্থা হয়েছে! এই যে চরিত্র হনন করা এসব তাদের স্বভাবজাত। এদের বিরুদ্ধে কিন্তু মামলা হয় না।

তিনি বলেন, এখন আমরা মামলা শুরু করবো। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। দেখব সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন সময়ে সোস্যাল মিডিয়ায় সরকারের দুর্নীতির ওপর পোস্ট দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট লায়ন আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির, কে এম হারুন, রেজোয়ানুল হক শোভন, ওয়াসীম ইফতেখার, রাজন ব্যাপারী, মো. ইভান, ফসিউল আলম, জাহিদ হাসান, ইকবাল চৌধুরী, সজীব পাইলট, মাহফুজুল হকসহ গ্রেফতার হওয়ার সোস্যাল মিডিয়ার ও অনলাইন এ্যাক্টিভিস্টদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসমতল মাঠের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সবাইকে সাথে নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। কিন্তু আজকে এই নির্বানচনে বানচাল করার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে প্রতিমুহূর্তে। রিটার্নিং অফিসারেরা পর্যন্ত আমাদের নেতাদের মনোনয়ন বাতিল করে দিচ্ছেন। আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

বিধি ভেঙে যশোরে নৌকার প্রার্থীর শোডাউন, ধানের শীষের প্রচার মাইক ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর প্রথম দিনেই আচরণবিধি ভঙ্গ করলেন যশোর-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ। সোমবার প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনেই তিনি ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে বিশাল শোডাউন দেন। এসময় নৌকার পক্ষে শোডাউনের সময় গোটা শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আতঙ্ক দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মাঝে। মিছিল থেকে ফেরার পথে শহরের দড়াটাটানা মোড় এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একটি প্রচার গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা।

জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ছিল প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত দিন। সকালে প্রতীক বরাদ্দের সময় জেলা রিটার্নিং ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়াল উপস্থিত প্রার্থী ও তাদের পক্ষের প্রতিনিধিদের নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি মেনে চলার আহবান জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই নির্দেশনার মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই যশোর-৩ আসনের নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন।

তার নেতৃত্বেই সোমবার বিকেলে নৌকার পক্ষে বিশাল মিছিল হয়েছে। এসময় নৌকা প্রতীকের পক্ষে ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মিছিল করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল তিনটার পর থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে খন্ড খন্ড মিছিল বের করে। এসময় প্রতিটি মিছিলে ব্যানার, ফেস্টুন ও সামনে মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা ছিলো। খন্ড খন্ড এসব মিছিল এসে জড়ো হয় টাউন ময়দানে।

পরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও যশোর পৌরসভার মেয়র জেলা যুবলীগের সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল শহরে প্রবেশ করে। মিছিল থেকে নৌকার পক্ষে স্লোগান ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তাকের রহমানের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয় নেতাকর্মীরা। নৌকার পক্ষে এ বিশাল মিছিলের কারণে গোটা শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী বিধি ভেঙ্গে প্রথম দিনেই নৌকার পক্ষে এ শোডাউনের ঘটনায় বিষ্মিত হন সাধারণ মানুষ।
এদিকে মিছিলের সময় দড়াটানা মোড় এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একটি প্রচার মাইক ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এসময় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আওয়ালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এখনো পর্যন্ত কেউই আমার কাছে করেননি। তবে আমরা আশা করছি সকলেই একটি সুষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে আচরণবিধি মেনে চলবেন।

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিনিধি :

 

কুমিল্লায় প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণার প্রথমদিনে পৃথক স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জাবেদ নামের একজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছে। নগরীর মুরাদপুর ও থিরাপকুরপাড় এলাকায় সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সায়মন সানি ও মোখলেছুর রহমান নামে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সদর আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নগরীর মুরাদপুর এলাকা অতিক্রমের সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জাবেদ (১৬) নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

একপর্যায়ে থিরাপুকুরপাড় এলাকায় ৫টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছে, তবে তাদের নাম জানা যায়নি। রাত সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অধীন চকবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সালাউদ্দিন জানান, দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, এর বেশি কিছু জানা নেই। পুলিশের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে আছে। এছাড়া পৃথক ঘটনায় নগরীর কচুয়া চৌমুহনী এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে সায়মন সানি (১৬) নামের একজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর আহম্মদ নগরের রুহুল আমিনের ছেলে মোখলেছুর রহমানকে (৩৩) কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পেট্রোলবোমার পাশাপাশি লগি-বৈঠা, ব্যাংক লুট বাকস্বাধীনতা হরণের কথাও তুলে ধরা যেতো

ডেস্ক রিপোর্ট : 

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নূর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দহন’ সিনেমায় শুধু রাজনীতির পেট্রোলবোমার বিষয়টি তুলে ধরা হলো। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারা, শেয়ারবাজার, ব্যাংক থেকে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার, হলমার্ক-ডেসটিনি, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি, গুম-খুন, আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ, গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা, বাকস্বাধীনতা হরণ, যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে করা আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা, সচেতন মানুষ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় জেল-রিমান্ড, নির্যাতন-নিপীড়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি, নোংরা রাজনীতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেহালদশা, রাজনৈতিক কর্মসূচির বিনিময়ে হলে থাকার সিট এরকম ২/৪টি ঘটনাকেও কানেক্ট করে তুলে ধরা যেত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সবাই উপরতলাকে খুশি রেখে কাজ করতে চায়।

মিরসরাইয়ে সরকারী দলের হামলায় যুবদল ছাত্রদলের ৪ নেতা-কর্মী আহত

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগের হামলায় যুবদল ও ছাত্রদলের ৪ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে উপজেলা বিএনপি। সোমবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের গাজীটোলা ও জাফরাবাদ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা নুরচ্ছাপা, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ আরিফ হোসেন ও যুবদল নেতা তছলিম উদ্দিন।
মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন অভিযোগ করেন, সোমবার সকাল নয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গাজীটোলা ও জাফরাবাদ এলাকায় যুবদল, ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা করে এবং তাদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন। তিনি অবিলম্ভে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

ভোটযুদ্ধে ফিরল বাংলাদেশ

 

নিউজ ডেস্ক..

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াবে ভোটের লড়াই। ভোটারের মন জয়ের এই প্রতিযোগিতার ফল মিলবে ৩০ ডিসেম্বর।

দর-কষাকষি শেষ করে বড় দুই দল ও জোট ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গতকাল রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সময় নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দাবি জানিয়ে আসছে। তবে গতকাল পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল। সবার জন্য সমান সুযোগের পরীক্ষা শুরু হবে আজ থেকে। অবশ্য নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ১০ বছর পর ভোটযুদ্ধ ফিরে আসল দেশে। এখন ভোটারদের ভোট-উৎসবে শামিল করা দলগুলোর দায়িত্ব। এতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এই নির্বাচন কিছুটা আলাদা। এক দশক পর সব দলমতের মানুষ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আবার ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচন হয়েছে (১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ছাড়া) নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এবারই দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হলেও সব দল তাতে অংশ নেয়নি। বিতর্ক ও বিরোধিতা সত্ত্বেও এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদ বহাল থাকছে। সরকারি জোটের সাংসদেরা স্বপদে থেকেই নির্বাচন করছেন।

এ নির্বাচনের আরও বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, অন্যতম বড় দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারছেন না। দণ্ডিত হয়ে তিনি কারাগারে। তাঁর ছেলে দলে দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাও দণ্ডিত, তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

নিজেদের মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির নিবন্ধনও নেই। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটি শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। তাই এবার জামায়াতের নেতারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচনী বৈশিষ্ট্যে নতুন সংযোজন ইভিএম। বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সীমিত আকারে ইভিএমের ব্যবহার হচ্ছে। ছয়টি আসনে পুরোপুরি ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এবার ভোট সামনে রেখে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজনীতি জোটের আবর্তে ঘুরপাক খেয়েছে। নিবন্ধিত দল ৩৯টি হলেও নির্বাচনের বাজারে অন্তত ১৬টি জোট ও ২৮০ দলের নাম পাওয়া গেছে। কার সঙ্গে কত দল ও জোট আছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তা দেখানোর প্রতিযোগিতায় নামায় ডান, বাম, মধ্যপন্থী, ধর্মাশ্রয়ীসহ ছোট-বড়, নামসর্বস্ব অনেক দল গুরুত্ব পেয়েছে, আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে স্বৈরশাসক এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। বিএনপির কাছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত। বিএনপি তাদের ভোটের মাঠ রেখেছে জোটের আবরণে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সে আড়ালকে আরও পুরু করেছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলেও এবার রেকর্ড হয়েছে। ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬৫। বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে ৭৮৬টি। এরমধ্যে নির্বাচন কমিশনের আপিলে বৈধ হয়েছে ২৪১ জনের মনোনয়নপত্র। বিএনপি ৩০০ আসনে ৬৯৬ জনকে মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে। জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে দলটিকে একক প্রার্থী দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। গতকাল শেষ দিনেও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত ব্যক্তিদের অনেকে যাঁর যাঁর এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ‘বিদ্রোহী’দের বসাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি চিঠি পর্যন্ত দিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বড় দুই দল ও জোটের প্রার্থী তালিকায় এবার তেমন চমক নেই। পুরোনোদের পাল্লাই ভারী। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা আইনি কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ বাদ পড়লেও তাঁদের জায়গায় স্ত্রী, সন্তান, বাবা বা অন্য কোনো স্বজন মনোনয়ন পেয়েছেন। নারী ও তরুণ প্রার্থীর সংখ্যা কম। যদিও এবারই সবচেয়ে বেশি, ২ কোটি ৪০ লাখ তরুণ ভোটার প্রথম ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা মোট ভোটারের ২২ শতাংশ। এবার ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন অনুষঙ্গ হয়েছে কথিত ‘গায়েবি মামলা’। বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, সারা দেশে চার হাজারের বেশি গায়েবি মামলা হয়েছে। তাই ভোটের আগে ও ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী হয়, তা এখন বিএনপির কাছে বড় শঙ্কার বিষয়। নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় আছে। এর আগে পাঁচ সিটি করপোরেশনে ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন’ করে সমালোচিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনেও একই ‘মডেল’ অনুসরণ করা হয় কি না, তা নিয়েও আলোচনা আছে। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ওপর আস্থা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

মুখে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার কথা বললেও এ নির্বাচন আসলে বিএনপির জন্য অনেকটা অস্তিত্বের লড়াই। আর আওয়ামী লীগ বলছে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা। ক্ষমতায় থেকে ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে চায় আওয়ামী লীগ।

আ.লীগ–জাপার সমঝোতা হয়েও হয়নি

 

নিউজ ডেস্ক..

আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলটির সবচেয়ে বড় মিত্র এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েও হয়নি। জাপা বলছে, মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তারা ২৯টি আসন পেয়েছে। এর বাইরে ১৩২ আসনে ‘উন্মুক্ত প্রার্থী’ হিসেবে জাপার প্রার্থী আছে।
আবার মহাজোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, জাপা যে ১৬১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে, তার মধ্যে ২৯টি মহাজোট হিসেবে পেয়েছে। যার মধ্যে নিষ্কণ্টক আসন ২৭ টি। বাকি দুটিতে জাপার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের বা ১৪ দলের শরিকদের প্রার্থী আছে। অন্যদিকে জাপার বাকি ১৩২ আসনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের প্রার্থীরা।

আসন নিয়ে জটিলতা আছে ১৪–দলীয় জোট ও মিত্র যুক্তফ্রন্টেও। এই দুই জোটের শরিকদের ১৬টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি ছাড়া বাকিরা আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’য় ভোট করবে। কিন্তু গতকাল রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন দেখা যাচ্ছে, এসব শরিকেরা সমঝোতার বাইরে আরও অনেক আসনে নিজ দলের প্রতীকে প্রার্থী রেখেছে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও তার শরিক বা মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতা কতগুলো আসনে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আওয়ামী লীগ বা জোটের নেতারা।

আওয়ামী লীগ নিজে ২৫৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ৪২টি আসন ছেড়েছে ১৪-দলীয় জোট, জাপা ও যুক্তফ্রন্টকে। নিজেদের ভাগে বেশি আসন রাখতে পেরে নির্ভার আওয়ামী লীগ। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, জাপা বা অন্য শরিকদের বাড়তি প্রার্থী ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারবে না।

সমঝোতার বাইরে এভাবে নিজস্ব প্রতীকে বিপুল প্রার্থী দেওয়ার কারণ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও জাপা সূত্র থেকে দুই রকম ভাষ্য পাওয়া গেছে। একটি ভাষ্য হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর-কষাকষিতে শরিকেরা সুবিধা করতে পারেনি। এ জন্যই নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। অপর ভাষ্যটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেই শরিকদের যার যেখানে শক্তি আছে, সে সেখানে নিজেদের প্রার্থী দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন। এমন আসনকে সবার জন্য উন্মুক্ত বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যে-ই জয়ী হয়ে আসবেন, তাঁকেই জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। আর শরিকদের প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে চাপ দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হবে।

কে কত আসন পেল
জাপা গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, মহাজোটের শরিক হিসেবে তারা ২৯ আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, তাদের আসলে ২৭টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ার্কার্স পার্টিকে ৫ টি, জাসদ (ইনু) ৩ টি, জেপি ১ টি, তরীকত ফেডারেশন ২ টি, জাসদ (আম্বিয়া) ১টি আসন পেয়েছে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট পেয়েছে ৩টি আসন। আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, জাপা ও কিছু ধর্মভিত্তিক দল নিয়ে যে ঐক্য, এর নাম দেওয়া হয়েছে মহাজোট। আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দল ও যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। আর জাপা করবে দলীয় প্রতীক লাঙ্গলে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, এবার আসন সমঝোতায় দুটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, জোটের শরিকদের আসন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৪ আসনে ভোট করেছিল। আসন ছেড়ে দিয়েছিল ৩৬ টি।

এরশাদকে চাপে ফেলে জাপা কবজায়
আওয়ামী লীগ চাপে আছে—এই ভেবে এবার জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ৮০ আসন চেয়ে দর-কষাকষি শুরু করেন। কিন্তু আসন সমঝোতার একপর্যায়ে দলের মধ্যে বিভক্তি এবং এরশাদের নানা দুর্বলতার সুযোগে তাঁকেই উল্টো চাপে ফেলে দেয় আওয়ামী লীগ। সরকারি দলের চাপে রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমানকে দলের মহাসচিব করতে হয়। পরে আবার হাওলাদারকে বিশেষ সহকারীর পদ দিয়ে দলে নিজের পরে স্থান দেন এরশাদ। মনোনয়ন–প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই এরশাদ নিজে সিএমএইচ ও বাসায় আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন এরশাদ। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত জাপা আসন সমঝোতায় সুবিধা করতে পারেনি।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, মনোনয়ন নিয়ে জাপায় ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর আসন নিয়ে সতর্ক হয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এককভাবে এরশাদের চাওয়াকেই মেনে নেয়নি আওয়ামী লীগ। দলের ভেতরে নানা বিভেদে যুক্ত সব পক্ষেরই প্রার্থী রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি দলের কৌশলের পাল্টা হিসেবে এরশাদ ১৬১ আসনে দলের প্রার্থী দিয়ে রাখেন। যার মধ্যে ২৯ টিতে মহজোটের প্রার্থী হিসেবে ছাড় পেয়েছে। বাকিগুলোতেও প্রার্থী রেখে দিয়েছেন।

মহাজোটের প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে থাকা জাপার ১১ জন সাংসদ বাদ পড়েছেন। নতুন করে নীলফামারী-৩, পিরোজপুর-৩, টাঙ্গাইল-৫ এবং ফেনী-৩ আসন যুক্ত হয়েছে। জাপা বরিশাল-৩ আসনটি নিজেদের দাবি করলেও সেখানে ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান সাংসদ টিপু সুলতানকে নৌকা প্রতীকে ভোট করার জন্য চূড়ান্ত চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় পার্টি যে ২৯টি আসন পেয়েছে বলছে, তাতে কুড়িগ্রাম-১ আসনও আছে। এখানে জাপার প্রার্থী বর্তমান সাংসদ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। আবার নির্বাচন কমিশনে পাঠানো আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত তালিকায় এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছলাম হোসেন সওদাগর। ফলে এখানে মহাজোটের একক প্রার্থী থাকছে না।

পিরোজপুর-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী বিএনপিতে ছিলেন। গত নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সাংসদ হন। সম্প্রতি তিনি জাপায় যোগ দিয়ে মহাজোটের মনোনয়ন পেলেন। ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। কয়েক দিন পরই তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। তিনি মহাজোটেরও মনোনয়ন পেয়েছেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এবার তাঁদের আরও কম আসন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি দর-কষাকষি করে বাড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, জাপা ৩০টি আসন পেয়েছিল। রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় একটা কমে ২৯ হয়েছে।
আরও ১৩২ আসনে প্রার্থী রাখার বিষয়ে মসিউর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। তাঁর দলের প্রার্থীদেরও চাপ ছিল। আওয়ামী লীগও বাধা দেয়নি। এরপরও স্থানীয়ভাবে কেউ সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নিলে তাতে জাপা কেন্দ্রীয়ভাবে আপত্তি করবে না।

১৪–দলীয় জোট অনেকটাই নিরুপায়
১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, তরীকত ফেডারেশন ও জেপি গত নির্বাচনে ১৫টি আসন পেয়েছিল। এবার তারা আরও কিছু আসন বাড়তি চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের আসন কমেছে। কোনো কোনো শরিককে ছেড়ে দেওয়া আসনে অন্য শরিকদের প্রার্থী থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টি ও জেপির আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বরিশাল-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতানকে মহাজোটের মনোনয়নে ভোট করার জন্য চূড়ান্ত চিঠি দেওয়ার পর জাপাও সেই আসনটি নিজেদের দাবি করছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জেপির বর্তমান সাংসদ রুহুল আমিন ও আওয়ামী লীগের নেতা জাকির হোসেন দুজনকেই মনোনয়নের চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। জাকির হোসেনের প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাতিল হলে জেপিকে বলা হয়, আসনটি তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিলে জাকির প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ তাঁকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে এই আসনটি জেপি হারিয়েছে।

১৪ দলের শরিক ও যুক্তফ্রন্টের যে ১৬ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আসন ছাড় পেয়েছেন, জেপি (প্রতীক–বাইসাইকেল) ছাড়া বাকিরা নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন। তবে এর বাইরে ওয়ার্কার্স পার্টি আরও দুটি আসনে নিজেদের প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। জাসদ (ইনু) সমঝোতা হওয়া তিন আসনের বাইরে আরও ৪টি আসনে মশাল প্রতীকে ভোট করবে। জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল মার্কায় ১২ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। জাসদ (আম্বিয়া) নিবন্ধিত নয় বলে দলটির ৩-৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। গণতন্ত্রী পার্টি কোনো আসন পায়নি। তবে দলটির ৬ জন প্রার্থী নিজস্ব প্রতীকে দাঁড়িয়েছেন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট তিনটি আসনে নৌকা প্রতীক পেয়েছে। এর বাইরে ফ্রন্টের নেতা সমশের মবিন চৌধুরীসহ ২০ জন বিকল্পধারার কুলা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এবার সমঝোতায় কোনো আসন পায়নি। দলীয় প্রতীকে ১০ জন প্রার্থী আছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রথম আলোকে বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে কিছু অসংগতি আছে। তবে তাঁদের ৫টি আসন নিশ্চিত।

একই আসনে জোটের শরিক ও মিত্র দলের প্রার্থী থাকায় ঝুঁকি থাকছে কি না, জানতে চাইলে মেনন বলেন, এবার জাপা বাদে অন্যরা সবাই নৌকায় ভোট করছেন। ফলে এটা একটা সুবিধার জায়গা।

নির্বাচনী ডামাডোল শুরু: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক হাকিমদের (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘আপনারা সাংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং সাংবিধানিক দায়িত্ব ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মূলত আজ থেকেই নির্বাচনী ডামাডোল শুরু হয়ে গেল। বাকিটা মাঠে আপনাদের দায়িত্ব। আপনি স্বাধীন, আপনি নিরপেক্ষ, আপনি বিচারক, বিচারকের মাইন্ড আপনাকে অ্যাপ্লাই করতে হবে।’

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ে সিইসি এসব কথা বলেন।

তিন ধাপে মোট ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্রিফ করবে কমিশন। প্রথম ধাপে আজ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন ২১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণের আগের দিন, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরের দুই দিন নির্বাচনের মাঠে নিয়োজিত থাকবেন তাঁরা।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠুভাবে করবেন, সেটি আপনি আপনার মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে বিবেচনা করবেন। সংবিধান, জাতি, রাজনৈতিক দল ও ভোটারের কাছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশন দায়বদ্ধ।’

আস্থা অর্জনের জন্য নিরপেক্ষভাবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন কে এম নুরুল হুদা।

সিইসি বলেন, ছয় শর বেশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। বৈষম্যের ঊর্ধ্বে থেকে, রাগ-অনুরাগ প্রশ্রয় না দিয়ে, আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞা ও মেধা খাটিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হবে। আতঙ্ক নয়, কমিশন চায় আস্থার একটি পরিবেশ।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সরব উপস্থিতি চায় কমিশন। কেউ শিথিলতা ও পক্ষপাতিত্ব করলে ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

মাহবুব তালুকদার বলেন, এবারের নির্বাচনে একটাই স্বপ্ন, কোনো প্রার্থী যেন ভোটের মাধ্যমে নিজের জয় নিশ্চিত না করে জাতীয় সংসদে আসতে না পারেন।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।