শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 633

চট্টগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন যারা

নিউজ ডেস্ক..
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। রোববার (৯ ডিসেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তারা আবেদন করেন।

এর মধ্যে বিএনপির ৬, জাসদের ৩, এলডিপির ২, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা, ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, জেএসডির একজন করে প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র একজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

তারা হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির কামালউদ্দিন আহমেদ,মনিরুল ইসলাম ইউসুফ,চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিকল্পধারার মাজহারুল হক শাহ, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবুল বশর মুহা. জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির সাকিলা ফারজানা।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির আবু আহমেদ হাসনাত, শওকত আলী নুর, ইসলামিক ফ্রন্টের আহমেদ রেজা, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে জাতীয় পার্টির ফাতেমা খুরশিদ সোমাইয়া, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে ন্যাপের আলী নেওয়াজ খান ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাম্মদ আবু হানিফ, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে জাসদের মো. আনিসুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জামায়াত) শাহজাহান চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জাসদের মো. জসীম উদ্দিন ও জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহবুব, চট্টগ্রাম-১২ আসনে (পটিয়া) আসনের এলডিপির নাদিয়া আকতার, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে (আনোয়ারা) বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে এলডিপির অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, জাসদের সুযসময় চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

নগরের ৬টি (আংশিক জেলা) আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, রোববার নয়জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

জেলার ১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসাইন বলেন, ২ ডিসেম্বর যাছাই-বাছাই শেষে ২২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এর মধ্যে আপিল করে পাঁচজন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ ছাড়া রোববার প্রত্যাহারের শেষদিন ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার (১০ ডিসেম্বর) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছে। যেসব আসনে এক দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন, দলগুলোর তালিকা দেখে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হবে।’

সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় যা মেনে চলতে হবে

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ (সোমবার) থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীর হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারণা নামছেন তারা। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় কমিশনের বিধিমালা অবশ্যই মেনে চলতে হয়। না হলে কমিশন অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এবার নির্বাচন কমশিন থেকে প্রচাররণায় কিছু বিধিমালা আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে।
নির্বাচনী পোস্টারের সাইজ দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থে ৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার কোনভাবেই তিন মিটারের বেশি হবে না। পোস্টার রঙ্গিন করা যাবে না। পোস্টারে প্রার্থী ছাড়া দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে। যা দড়িতে ঝুঁলিয়ে প্রচার করতে হবে। ৪’শ বর্গফুট এলাকার বেশি বড় কোন প্যান্ডেল করে প্রচার চালানো যাবে না। কাপড়ের তৈরি ব্যানার করে প্রচার চালানো গেলেও ডিজিটাল ডিসপ্লে ব্যবহার করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলের অসুবিধা হয়, এমন কোন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবে হবে। প্রচারের অংশ হিসেবে যে কোনও প্রকার দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

মাইকে প্রচার চালানো যাবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পাশাপাশি একই নির্বাচনী এলাকাতে কোনও অবস্থাতেই তিনটির বেশি লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী এলাকায় প্রতি ইউনিয়ন আর পৌর এলাকার ওয়ার্ড প্রতি একটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না।
মোটরসাইকেলসহ যেকোনো মোটরগাড়িতে করে মিছিল, মশাল মিছিল বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনও প্রকার বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণীর ব্যবহার নিষিদ্ধ।

প্রচারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অন্য কোও প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি সম্মানহানীকর কিছু করতে পারবে না। উস্কানীমূলক কোনও বক্তব্যও দেয়া যাবে না।

প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব সুবিধা ত্যাগ করে প্রচার কাজে অংশ নিতে হবে। কোনও ডাক বাংলো, সরকারি গাড়ি ব্যবহারসহ প্রটোকল ছেড়ে এলাকায় যেতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ আইনে অনুমতি থাকায় নিরাপত্তার কারণে প্রটোকল পাবেন। দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে না।

প্রচারের সময় আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইসি ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি ভোটের মাঠে রয়েছে ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি (ইলেক্ট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটি)। এসব কমিটির কাছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

ভোটগ্রহণ শুরু ৩২ ঘণ্টা আগে বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা থেকে প্রচারণা বন্ধ থাকবে। সে হিসেবে এবার প্রার্থীরা ১৯ দিন প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে।

মিরসরাইয়ে বিয়ের দুই বছর পর মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে মায়ের অপহরণ মামলা!


মিরসরাই প্রতিনিধি
মা-বাবা পছন্দ করে আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে নিজের মেয়েকে বিয়ে দেয়ার দুই বছর পর মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেছেন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। ওই মেয়ে ইসরাত জাহান ইরার মা জেসমিন সুলতানা বাদি হয়ে গত ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এ এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় মেয়ের স্বামী মোঃ ইমাম হোসেন রিপন ও তাঁর বড় ভাই মোঃ কামরুল হাসান লিটনকে আসামী করা হয়।
জানা গেছে, মিরসরাই পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত আবুল হোসেন সওদাগরের পুত্র ইমাম হোসেন রিপনের সাথে একই উপজেলার শাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী গ্রামের ইসমাইল সওদাগর বাড়ির প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের মেয়ে ইসরাত জাহান ইরার সাথে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর আকদ হয়। দুই বছর পর ইসরাতকে তাঁর স্বামী বাড়িতে নিয়ে যাবে মর্মে বিবাহের ফর্দে উল্লেখ করা হয়। বিয়ের পর মেয়ে তাঁর মা-বাবার সাথে মিরসরাই সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্বামী রিপন নিয়মিত শশুরের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। ইসরাতের মা-বাবা, স্বামী রিপন সহ একসাথে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গেছেন এবং সবাই মিলে দুজনের বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছেন। বিগত কয়েক মাস ধরে ইসরাতের স্বামী রিপনের সাথে তাঁর মা-বাবার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। তাঁরা রিপকে ডিভোর্স দিতে ইসরাতকে একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু ইসরাত স্বামীকে ডিভোর্স দিতে রাজি হয়নি। এরপর ইসরাত ও তাঁর স্বামী রিপন মিরসরাই থেকে গিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করে। অন্যত্র চলে যাওয়ায় গত ২৯ নভেম্বর ইসরাতের মা জেসমিন সুলতানা ইসরাতের স্বামী ইমাম হোসেন রিপন ও তাঁর বড় ভাই কামরুল হাসান লিটনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এ এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় এই দুই অভিযুক্ত তাঁর মেয়েকে কলেজে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করতো। গত ২৫ নভেম্বর মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মেয়েকে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে বলে উল্লেখ করেন।


রিপনের বড় ভাই কামরুল হাসান লিটন বলেন, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর শরিয়তের সকল নিয়মনীতি মেনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আমার ছোট ভাই রিপনের সাথে ইসরাতের আকদ সম্পন্ন হয়। দুই বছর পরে অনুষ্ঠান করে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা। উভয় পক্ষের মধ্যে ভালো সম্পর্ক চলছিলো। কিছুদিন যাওয়ার পর ইসরাতের মা আমাক ভাইকে বলে আমি ভেবেছিলাম তোমার কাছে অনেক টাকা-পয়সা আছে। কিন্তু তেমন কিছুতো নেই। তাকে আমাদের পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাঁর শশুরদের সাথে থাকার প্রস্তাব দিলে রিপন সেই প্রস্তাব প্রত্যাক্ষাণ করে। এরপর থেকে ইসরাতকে বিভিন্নভাবে রিপনকে ডিভোর্স দিতে চাপ প্রয়োগ করে তাঁর মা-বাবা। একপর্যায়ে ইসরাত রিপনকে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু তিনি আদালতে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।


এই বিষয়ে ইসরাত জাহান ইরা বলেন, একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে কি জন্য অপহরণ করবে! আমাকে আমার মা একাধিকবার রিপনকে ডিভোর্স দিতে চাপ প্রয়োগ করে। আমাকে বলে তোকে আরো ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দেব, তুই ওকে ডিভোর্স দে। তাই আমরা স্বামী-স্ত্রী সুখে-শান্তিতে থাকতে বাবার বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে এসেছি। বর্তমানে আমি গর্ভবতি। আমার মা-বাবা পছন্দ করে বিয়ের দেয়ার দুই বছর পর কেন এগুলো করছে বুঝতে পারছিনা।
জানা গেছে, জেসমিন সুলতানা আদালতে মামলা করার পূর্বে তাঁর মেয়ে বর্তমানে বসবাসরত এলাকায় চট্টগ্রাম শহরের খুলশি থানায় অপহরণ মামলা করতে যায়। ১৭ নভেম্বর থানার একজন উপ-পরিদর্শকের উপস্থিতিতে মেয়ের বাবা হুমায়ুন কবির, ইসরাত ও তাঁর স্বামী রিপনকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ইসরাত দুই বছর আগে রিপনের সাথে বিয়ের বিষয়টি ওই উপ-পরিদর্শককে অবহিত করায় খুলশি থানায় মামলা হয়নি।


এই বিষয়ে উপস্থিত থাকা খুলশি থানার উপ-পরিদর্শক রূপক জানান, মেয়ে পক্ষ থানায় মামলা করতে এলে উভয় পক্ষ মিরসরাইয়ের বাসিন্দা হওয়ায় আমি নিজ উদ্যোগে প্রথমে ওদেরকে নিয়ে বৈঠকে বসি। বৈঠকে মেয়ে তাঁর বাবাকে উদ্দ্যেশ্যে করে বলেন, আপনারা দুই বছর আগে রিপনের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়ে এখন অপহরণের নাটক করছেন কেন? তাঁর বাবা তখন কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি। এই বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি। শুনেছি পরে আদালতে নাকি অপহরণ মামলা করেছে।
এই বিষয়ে ইসরাতের মা ও মামলার বাদি জেসমিন সুলতানা বলেন, দুই বছর আগে রিপনের সাথে আমার মেয়ের বিয়ের কথা ঠিক হয়েছিলো, এখনো বিয়ে হয়নি। রিপন আমার মেয়েকে কলেজ থেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সবাই মিলে মেয়ের বিবাহ বার্ষিকী পালন করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বিবাহ বার্ষিকী পালন হয়নি। তাঁর জন্মদিন পালন করেছিলাম।
ফর্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ইসরাতের মামা আলা উদ্দিন বলেন, দুই বছর পূর্বে রিপনের সাথে ইসরাতের আকদ হয়েছে। উভয় পরিবারে হয়তো কোন বিষয়ে মনমালিন্য হয়েছে। অপহরণের মত কোন ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞ আদালত থেকে ভিকটিমকে (ইসরাত সুলতানা) উদ্ধার করার জন্য মিরসরাই থানা ও খুলশি থানায় নির্দেশনা দেয়া হয়। আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। দুই বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হওয়ার বিষয়টি আমিও শুনেছি।

প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ আজ

 

নিউজ ডেস্ক..

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট আগামী ৩০ ডিসেম্বর। ভোটে লড়তে ৩০০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের আজ প্রতীক বরাদ্দ দেবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশন(ইসি) সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দের পরেই দেশজুড়ে শুরু হবে প্রচার উৎসব। এ সময় যাতে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি রয়েছে শতাধিক নির্বাচনী কমিটি। এসব কমিটির কাছে বিভিন্ন অভিযোগ জানাতে পারবেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

আসন্ন নির্বাচনে লড়তে মোট ২৫৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর বাইরে ১৫টি আসনে নৌকা নিয়ে লড়বে জোটের শরিকরা। বাকি ২৭টি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ছাড় দেয়া হয়েছে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে।

এবার শরিকদের ৬০ থেকে ৭০টি আসনে ছাড় দেয়ার কথা জানিয়েছিল ক্ষমতাশীল দল আওয়ামী লীগ। শেষ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে ৪২টি আসন।

এদিকে ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৯টি দুই জোটের শরিকদের ছেড়ে দিয়ে বাকি ২৪১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি।

অবশ্য শরিকদের মধ্যে কেবল একটি আসনে দলীয় প্রতীক ছাতা নিয়ে ভোটে লড়বেন এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমেদ। আর একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী লড়বেন স্বতন্ত্র হিসেবে। বাকি ২৯৮টি আসনে থাকছে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।

জয় দিয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল টিম টাইগার। অবশ্য এই জয়ের ধারা শুরু হয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেস্ট টেস্ট থেকেই।

সেই সিরিজ ধরলে টেস্ট-ওয়ানডে মিলিয়ে আজ টানা ৭ম জয় তুলে নিল টিম টাইগার! মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উইন্ডিজকে ৮৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এই জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। বল হাতে মাশরাফি-মুস্তাফিজদের দাপটের পর ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন মুশফিক-লিটন-সাকিবরা।
১৯৬ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। ব্যক্তিগত ৬ রানে কেমার রোচের বল ক্যাচ দিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বলটি নো বল হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। এরপরেই তামিম ইকবালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি হারায় বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা দেশসেরা ওপেনার ব্যক্তিগত ১২ রানে রোস্টন চেইসের বলে ধরা পড়লেন দেবেন্দ্র বিশুর হাতে। ইমরুল কায়েস (৪) উইকেটে এসেই বাউন্ডারি হাঁকালেন।

তারপর বোল্ড হয়ে গেলেন থমাসের বলে।
মুশফিকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটি জমিয়ে ফেলেছিলেন অপর ওপেনার লিটন দাস। হাফ সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে কিমো পলের বলে বাজে শট খেলতে গিয়ে ৪১ রানে বোল্ড হয়ে যান এই তরুণ ওপেনার। ২১তম ওভারে ১০০ পার করে বাংলাদেশের স্কোর। চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিক আর সাকিব। হাত খুলে ব্যাটিং করে ২৬ বলে ৩০ রান করা বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার পাওয়েলের বলে ক্যাচ দিলে ভাঙে এই জুটি।

৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার। এই পজিশনে এটাই তার প্রথম ব্যাট করা। শুরু থেকেই চোখ ধাঁধানো সব শট খেলতে শুরু করেন তিনি। জয়ের কাছাকাছি গিয়ে রোস্টন চেইসের বলে থামে তার ১৩ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রানের ইনিংস। এরপরই ক্যারিয়ারর ৩১তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (১৪*) নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ৫৫* রানে অপরাজিত মুশি। ৮৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের এই জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

এর আগে আজ রবিবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরু থেকেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। দুই পাশ থেকেই স্পিন আক্রমণ দিয়ে বোলিং শুরু করেন অধিনায়ক মাশরাফি। রান বাড়ানোর তাগিদে সাকিব আল হাসানকে তুলে মারতে গিয়ে রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়েন কাইরন পাওয়েল (১০)।

এর মাঝেই দুইবার জীবন পান ড্যারেন ব্র্যাভো। মুস্তাফিজের বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন আরিফুল হক। এরপর রুবেলের বলে ব্র্যাভোর আরেকটি সহজ ক্যাচ ফস্কে যায় মুশফিকের গ্লাভস থেকে। ক্যারিবীয় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে অবশেষে ১৯ রানে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি। তার বলে চোধ ধাঁধানো ক্যাচ নেন ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তামিম ইকবাল। এই মাশরাফির বলেই বলে ওপেনার শাই হোপ (৪৩) ধরা পড়েন মেহেদী মিরাজের হাতে।

৭৮ রানে তৃতীয় উইকেটর পতনের পর স্যামুয়েলসকে জীবন দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিপজ্জনক হেটমায়ার (৬) বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই তাকে বোল্ড করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রোভম্যান পাওয়েল (১৪) মাশরাফির বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিলে উইন্ডিজের ইনিংস অর্ধেক শেষ হয়। মারলন স্যামুয়েলসের (২৫) উইকেটটিও লিটন দাসের কৃতিত্ব। রুবেল হোসেনের বল উড়িয়ে মেরেছিলেন স্যামুয়েলেস। লং অনের সীমানার ওপর অসাধারণ দক্ষতায় বলটি তালুবন্দি করেন লিটন।

বিপদ সামলে ৭ম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন রোস্টন চেইস এবং কিমো পল। ৩২ রান করা চেইস মুস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকার হলে ভাঙে এই জুটি। শেষ ওভারে কিমো পলও (৩৭) মিরাজের দারুণ ক্যাচে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এক বল পরে দেবেন্দ্র বিশুকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে ‘কাটার মাস্টার’ তৃতীয় শিকার ধরেন। বোলিং তোপে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি উইন্ডিজ।

১৩২ আসনে জাপার একক প্রার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট :

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ১৬১ আসনে লড়বে। এর মধ্যে মহাজোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ২৯টি আসনে। বাকি ১৩২ আসনে একক প্রার্থী দিচ্ছে মহাজোটের অন্যতম এই শরীক দল।
এছাড়া দলটির চেয়ারম্যানের সদ্য নিযুক্ত বিশেষ সহকারি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রার্থিতা ফিরে পেলে সমঝোতাভিত্তিক আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০টি। সে হিসেবে ১৬২ আসনে লড়বে দলটি। রুহুল আমিনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে শুনানী চলছে। শুনানী শেষে জানা যাবে তিনি নির্বাচনের মাঠে থাকবেন, কি থাকবেন না।

জাতীয় পার্টির যে ২৯ প্রার্থী মহাজোটের হয়ে লড়বে:
নীলফামারী-৩ আসনে মেজর অব. রানা মোহাম্মদ সোহেল, নীলফামারী-৪ আসনে আহসান আদেলুর রহমান, লালমনিরহাট-৩ আসনে গোলাম মোহাম্মদ কাদের, রংপুর-১ আসনে মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৩ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, কুড়িগ্রাম-১ আসনে একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ আসনে পনির উদ্দিন আহমেদ, গাইবান্ধা-১ আসনে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বগুড়া-২ আসনে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ আসনে নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬ আসনে মো. নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আসনে এ্যাড. আলতাফ আলী, বরিশাল-৩ আসনে গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৬ আসনে নাসরিন জাহান রতনা, পিরোজপুর-৩ আসনে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে শফিউল্লাহ আল মুনির, ময়মনসিংহ-৪ আসনে বেগম রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৮ আসনে ফখরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মজিবুল হক চুন্নু, ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ আসনে কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পীর ফজলুর রহমান মিজবাহ, সিলেট-২ আসনে ইয়াহ ইয়া চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জিয়াউল হক মৃধা, ফেনী-৩ আসনে লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মো. নোমান এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
যে ১৩২ আসনে প্রার্থী উন্মুক্ত থাকবে:
রংপুর-২ আসনে আসাদুজ্জামান চৌধুরী শাবলু, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আক্কাস আলী সরকার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মেজর (অব.) আশরাফ উদ দৌলা, গাইবান্ধা-৩ আসনে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী, খুলনা-১ আসনে সুনীল শুভরায়, সাতক্ষিরা-১ আসনে সৈয়দ দিদার বখত্, সাতক্ষিরা- আসনে শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, সাতক্ষিরা-৪ আসনে আব্দুস সাত্তার মোড়ল, জামালাপুর-৪ আসনে মোখলেছুর রহমান, শেরপুর-১ আসনে আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন, শেরপুর-৩ আসনে মো. আবু নাসের, সিলেট-৫ আসনে সেলিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে কাজী মামুনুর রশীদ, পঞ্চগড়-১ আসনে আবু সালেক, পঞ্চগড়-২ লুৎফর রহমান রিপন, ঠাকুরগাঁও-৩ হাফিজ উদ্দিন, দিনাজপুর-১ মো. শাহীনুর ইসলাম, দিনাজপুর-২ মো. জুলফিকার হোসেন, দিনাজপুর-৪ মো. মোনাজাত চৌধুরী, দিনাজপুর-৫ সোলায়মান সামী, দিনাজপুর-৬ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, নীলফামারী-১ জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, লালমনিরহাট-১ মোঃ খালেদ আখতার, রংপুর-৪ মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, রংপুর-৫ মোঃ ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, গাইবান্ধা ৪ কাজী মোঃ মশিউর রহমান, গাইবান্ধা-৫ এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু, জয়পুরহাট-১ আ.স.ম. মোক্তাদির তিতাস, জয়পুরহাট-২ কাজী মোঃ আবুল কাশেম, বগুড়া-৪ হাজী নুরুল আমিন বাচ্চু, বগুড়া-৫ তাজ মোহাম্মদ শেখ, নওগা-১ আকবর আলী কালু, নওগাঁ-২ মোঃ বদিউজ্জামান, নওগাঁ-৩ এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ-৪ মোঃ এনামুল হক, রাজশাহী-২ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী-৫ মো. আবুল হোসেন, রাজশাহী-৬ মো. ইকবাল হোসেন, নাটোর-১ মো. আবু তালহা, নাটোর-২ মো. মুজিবুর রহমান সেন্টু, নাটোর-৩ ইঞ্জিনিয়ার আনিসুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৩ মো. আলমগীর হোসেন, পাবনা-১ সরদার শাহজাহান, পাবনা-৫ মো. আব্দুল কাদের খান।
মেহেরপুর-১ আব্দুল হামিদ, মেহেরপুর-২ মো. কেতাব আলী, কুষ্টিয়া-১ মো. শাহারিয়ার জামিল, কুষ্টিয়া-৪ মো. আশরাফুল সোলাইমান, চুয়াডাঙ্গা-১ এ্যাড. মোঃ সোহরাব হোসেন, যশোর-২ এবিএম সেলিম রেজা, যশোর-৩ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, যশোর-৪ মো. জহুরুল হক, যশোর-৫ এমএ হালিম, যশোর-৬ মো. মাহাবুব আলম, মাগুরা-১ মো. হাসান সিরাজ, নড়াইল-১ মো. মিল্টন মোল্যা, নড়াইল-২ খন্দকার ফায়েকুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ মো. সেকেন্দার আলী মনি, বাগেরহাট-৪ সোমনাথ দে, খুলনা-৪ হাদিউজ্জামান, খুলনা-৫ মো. শহীদ আলম, খুলনা-৬ শফিকুল ইসলাম মধু, বরগুনা-২ মিজানুর রহমান মল্লিক, পটুয়াখালী-৩ মো. সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী-৪ আনোয়ার হোসেন, ভোলা-১ কেফায়েত উল্লাহ নজিব, ভোলা-৩ নুরুন্নবী সুমন, বরিশাল-২ সোহেল রানা, বরিশাল-৫ একেএম মর্তুজা আবেদীন, ঝালকাঠি-১ এমএ কুদ্দুস খান, ঝালকাঠি-২ এমএ কুদ্দুস খান, পিরোজপুর-১ মো. নজরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৪ সৈয়দ মোস্তাক হোসেন রতন, টাঙ্গাইল-৭ মো. জহিরুল ইসলাম জহির, জামালপুর-১ আবদুস সাত্তার, জামালপুর-২ মোস্তফা আল মাহমুদ, ১৪০ জামালপুর-৩ লে. কর্ণেল (অব,) মঞ্জুর আহাদ হেলাল।

ময়মনসিংহ-৫ মো. সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, ময়মনসিংহ-৬ ডা. কেআর ইসলাম, ময়মনসিংহ-৭ বেগম রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৯ হাসনাত মাহমুদ তালহা, নেত্রকোণা-৩ মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ-৬ নুরুল কাদের সোহেল, মানিকগঞ্জ-৩ জহিরুল আলম রুবেল, মুন্সিগঞ্জ-১ শেখ সিরাজুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ-৩ গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ঢাকা-২ শাকিল আহমেদ শাকিল, ঢাকা-৭ তারেক আহমেদ আদেল, ঢাকা-৮ মো. ইউনুস আলী আকন্দ, ঢাকা-১০ মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা-১১ এস.এম. ফয়সল চিশতী, ঢাকা-১২ নাসির উদ্দিন সরকার, ঢাকা-১৩ শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ঢাকা-১৪ মোস্তাকুর রহমান, ঢাকা-১৫ মো. শামসুল হক, ঢাকা-১৭ এইচ.এম. এরশাদ, ঢাকা-১৯ কাজী আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা-২০ খান মো. ই¯্রাাফিল, গাজীপুর-৩ আফতাব উদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর-৫ রাহেলা পারভীন শিশির, নরসিংদী-১ মো. শফিকুল ইসলাম, নরসিংদী-২ মো. আজম খান, নরসিংদী-৩ আলমগীর কবির, নরসিংদী-৪ মো. নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া, নরসিংদী-৫ এমএ সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ-১ আজম খান, রাজবাড়ী-১ আক্তারুজ্জামান হাসান, রাজবাড়ী-২ এবিএম নুরুল ইসলাম, শরিয়তপুর-৩ মো. আবুল হাসান,সুনামগঞ্জ-৫ নাজমুল হুদা।

বিএনপির কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদল

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কিছু আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে। মনোনয়বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থক ও অনুসারীরের বিক্ষোভের জেরে আজ রোববার দলটির কিছু আসনে প্রার্থী বদলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

যেসব আসনে প্রার্থী বদল-

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিসের বদলে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ডা. এমএ মুহিতকে। ভোলা-১ আসনে গোলাম নবী আলমগীর, মানিকগঞ্জ-১ আসনে পরিবর্তন করে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ারের ছেলে আব্দুল হামিদ ডাবলুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রার্থী বদল করে বিএনপির আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা-৩ জামায়াত থেকে পরিবর্তন করে বিএনপির ডা. শহীদুল আলমকে দেওয়া হয়েছে।

সিলেট-৫ আসনে জামাতের মাওলানা ফরিদুদ্দীন আহমেদের বদলে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামীর ওবায়দুল্লাহ ফারুককে দেওয়া হয়। আর সিলেট-৬ আসনে জামাতের হাবিবুর রহমানের বদলে বিএনপির অন্য একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে তার নাম এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির তথ্য : দশ বছরে ব্যাংকিং খাতে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা লোপাট

বিশেষ প্রতিবেদক :

 

 

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে গত দশ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ অবস্থায় বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত। এছাড়া বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে নিষ্কাশন মূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকিং খাতকে রাজনীতি থেকে নিষ্কৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সিপিডি। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র চিহ্নিত করতে নাগরিক কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী?’ শীর্ষক সংলাপে এই তথ্য তুলে ধরে সিপিডি। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দীন আহমদে, সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ, ব্যাংকার মো. নুরুল আমীন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

সংলাপে দেশের আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ, সাবেক ব্যাংকার ও আমলারা নানা সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের পরামর্শ দেন।

তারা সবাই ব্যাংক খাত ঠিক রাখতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন ভূমিকার আশা করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চলছে। এছাড়া বর্তমান ব্যাংকিং খাতে অধিক হারে আমানত সংগ্রহ, ঋণ ও আমানতের মধ্যে সুদ হারের পার্থক্য, খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং পরিচালনা পর্ষদে পরিবারতন্ত্র প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যার মূল সমাধান হচ্ছে ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে যেসব আইন আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা। তারা বলেন, এ অবস্থায় দেশের ব্যাংকিং কাঠামো ভেঙে পড়েছে। যারা লুটপাট করেছে, তাদের বিচার না হওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন আলোচকরা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোনালী, জনতা, এনসিসি, মার্কেন্টাইল ও ঢাকা ব্যাংকে লোপাট হয়েছে ৫.৮৯ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি; সোনালী ব্যাংকে ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি; জনতা ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি; প্রাইম, যমুনা, শাহজালাল, ইসলামী ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১ হাজার ১৭৪ কোটি; এবি ব্যাংকে ১৬৫ কোটি; এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংকে ৭০১ কোটি; জনতা ব্যাংকে ১২৩০ কোটি; দ্য ফারমার্স ব্যাংকে ৫০০ কোটি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬৭৯ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সিপিডি জানায়, লাগামহীন খেলাপি ঋণ, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ অনুমোদন, ঋণ দেয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ব্যাংকারদের পেশাদারিত্বের অভাবে চরম সংকটাপন্ন দেশের ব্যাংক খাত। এর মূল কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা, পরিচালকদের দুর্বৃত্তায়ন, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থাপনা এবং সবশেষে ঋণ দেয়ায় সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ব্যাংকিংখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। সুশাসনের অভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট হওয়ায় পুরো আর্থিকখাতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আগামী বছর সিপিডি একটা নাগরিক কমিশন করতে চায়। কেননা আলাদা কমিশন ছাড়া এ খাতের বিপর্যয় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এজন্য সরকার উদ্যোগ না নিলে সিপিডি নিজ উদ্যোগেই তা করবে। ব্যাংক খাত থেকে যারা টাকা বের করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের নিবৃত থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের বিষয় উল্লেখ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর ব্যাংকিং খাতের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো কী ভূমিকা রাখবে তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

দেবপ্রিয় বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরই এ কমিটি গঠন করা হবে। এ নাগরিক কমিটি ব্যাংক খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরবে। নাগরিক কমিশন ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা ও সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরবে এ কমিশন।

তিনি বলেন, সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম হোক, স্থুল হোক কী কী প্রবিধান হতে পারে, সেটার ব্যাপারে নাগরিক সুপারিশ লিপিবদ্ধ করবে। এসব বিষয়ে আমাদের কী কী করণীয় সেসব বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে আমরা তুলে ধরবো। এভাবে আমাদের কণ্ঠস্বরকে জাগ্রত রাখবো। দেশের ব্যাংকিং খাত আমাদের হৃদপিণ্ড। সেই হৃদপিণ্ডকে সচল রাখতে আগামী দিনে আমাদের অন্যান্য অঙ্গ থেকে চেষ্টা করতে হবে।

বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে নিষ্কাশন মূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ব্যাংক পরিচালনা। এজন্য ব্যাংকিং খাতকে রাজনীতি থেকে নিষ্কৃতি দেয়ার দাবি জানান দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের ইশতেহারে উল্লেখ করতে হবে তারা যেন ব্যাংকিং খাতের ওপর কোনো তদারকি না করে। তা না হলে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো কখনোই সম্ভব হবে না।
আলোচনার শুরুতেই সালেহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধান হলো এই (সালেহউদ্দিন) ধরনের লোকদেরকে গভর্নর বানাতে হবে। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নেমেছে দলগুলো। অথচ ব্যাংকিংখাতের সুশাসন কিংবা স্থিতিশীলতা কীভাবে আসবে ইশতেহারে তার কোনো কিছু আমরা দেখছি না। তাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাত রক্ষায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বোঝাতে হবে যে ব্যাংকিং খাতকে নিষ্কৃৃতি দেন। তা না হলে আগামীদিনে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ।
ব্যাংকিং খাতের নিয়ম লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ভিতরে আমি এই প্রথম দেখেছি সাধারণ মানুষ, ব্যাংকের আমানতকারীরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে যে কোনো ব্যাংকে রাখলে তার আমানত নিরাপদ থাকবে। এর আগে কখনোই আমি এই প্রশ্নের সম্মুখীন হইনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধান করতে কোনো গবেষণার প্রয়োজন নেই। আমরা সবাই জানি কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। নতুন কোনো আইন প্রণয়নেরও দরকার নেই। যে সমস্ত আইন আছে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে জবাবদিহি নেই। এটা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে।

ড. খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্ব পালনে অক্ষম। তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের বৈঠক হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে হয়। আমাদের গভর্নর সুবোধ বালকের মতো ভূমিকা পালন করছেন। ব্যাংক মালিকরা যা চাইছে তাই হচ্ছে। এসব কিসের আলামত প্রশ্ন করেন তিনি। এই খাতে আইনের শাসন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দুদক পর্যন্ত ধরতে পারেনি। এই হলো আমাদের আইনের শাসন। আর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জমিদারের ভূমিকায় চলে গেছে।

ইব্রাহীম খালেদ বলেন, একটি ব্যাংকের পরিচালন মূলধনের মাত্র ৭ থেকে ৯ শতাংশ অর্থের যোগান দেয় মালিকপক্ষ। আর ৯০ শতাংশের মতো যোগান দেন আমানতকারীরা। কিন্তু পরিচালনা বোর্ডে যারা নির্বাচিত হন তারা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করেন। ৯০ শতাংশের মালিক জনগণের পক্ষে কেউ থাকে না।

তিনি বলেন, এই খাতে কোনো ভদ্রলোকের স্থান নেই। যারা লুটপাট করবে তারাই ব্যাংকিং খাতে থাকতে পারছে বলে তিনি মনে করেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশের যে স্বপ্ন তা বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার এ খাতের যে ক্ষতি করেছে তা পুষিয়ে নিতে আগামীদিনে কী করবে সেটি এখনই তাদের বলা উচিত। তা না হলে বিশাল এ খাতে মানুষের আস্থা ফিরবে না।
ব্যাংকার নুরুল আমীন বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় দেশের ভিভিআইপিরা তাদের সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন তা দেখলে মনে হয় তারা খুবই গরিব। অথচ বাস্তবতা কি তাই? তাদের হলফনামার তথ্য যদি আমরা সত্য ধরে নেই তবে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের স্বপ্নতো সুদূর পরাহত! তার মতে, প্রার্থীরা যেমন সত্য তথ্য দিচ্ছেন না তেমনি ব্যাংকিং কিংবা দেশের আর্থিক খাত নিয়ে যত বুলিই আওড়ানো হোক প্রকৃত অবস্থা কিন্তু খুবই নাজুক। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সুশাসন জরুরি।

বিআইবিএম‘র পরিচালক অধ্যাপক শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। ওই সবও ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হয়। কিন্তু বিশ্বে এমনও দেশ আছে যাদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো আমাদের দেশের চেয়ে অনেক ভালো করছে। যেমন নেপালে খেলাপি ঋণের হার ২.৭ শতাংশ। কিন্তু আমাদের দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২৮.২ শতাংশ। তাদের স্থানে পৌঁছাতে আমাদের দেশে অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ শাখার প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বর্তমানে খেলাপি ঋণ একটি বড় ধরনের বাধা। এই সমস্যার মূল কারণ নিয়ন্ত্রকরা এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সে কারণে আইন থাকা সত্ত্বেও তার কোন প্রয়োগ হচ্ছে না। এই নীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে ধস হয়েছে এর প্রভাব আগামী প্রজন্মের ওপর পড়বে। তিনি বলেন, ভয়াবহ এই ধসের তুলনা সড়ক-সেতুর সঙ্গে না করে কতটা স্কুল করা যেতো সেটা আসলে আরো ভালো হতো বলে জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গেল এক দশকে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। যার বিরুদ্ধে সরকারি কোনো ব্যবস্থা সেভাবে দৃশ্যমান হয়নি। বাড়তি খেলাপি ঋণ, যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ অনুমোদন, ঋণ বাগিয়ে নিতে রাজনৈতিক প্রভাব, পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যাংকারদের পেশাদারির অভাবে দেশের ব্যাংকিং খাত এখন ক্রান্তিকাল পার করছে।

এসব অনিয়ম ঠেকাতে ও ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ, নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দেয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থাসহ জরুরি ভিত্তিতে ৫টি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ, নতুন ব্যাংক অনুমোদন না দেয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারিক ব্যবস্থাসহ কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরে সিপিডি। যা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকার কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করে সিপিডি। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, মেক্সিকোর অর্থনীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির ৭.৪ গুণ বেশি হওয়ার পরও তাদের মাত্র ৪৭টি ব্যাংক, আর বাংলাদেশে ৫৪টি। সমপ্রতি আরও কয়েকটি অনুমোদন দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

 

‘মিস ওয়ার্ল্ডের’ মুকুট এখন ভেনিসা লিওনের

আন্তর্জাতিক :

 

দীর্ঘদিন মেধা-প্রতিভা-সুন্দরের প্রতিযোগিতায় লড়াই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। বিশ্বের ১১৮ দেশের সেরা সুন্দরীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮’র মুকুট ছিনিয়ে নিলেন মেক্সিকান মডেল ভেনিসা লিওন। পুরো নাম ভেনিসা পনসে দে লিওন। গ্রান্ড ফিনালের নিয়মানুযায়ী গতবারের বিশ্ব সুন্দরী ভারতের মানুষী ছিল্লার হাত তার মাথায় বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট পরিয়ে দেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় চীনের সানইয়াহ শহরে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালের জমকালো আয়োজনে ১১৮ দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিচারকমণ্ডলী ভেনিসাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ভেনিসা হলেন ৬৮তম মিস ওয়ার্ল্ড। তিনি ১৯৯২ সালের ৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ভেনিসা একজন মেক্সিকান মডেল। তিনিই হলেন প্রথম মেক্সিকান যিনি বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জিতে নিলেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ এই সুন্দরীর চোখ কালো আর চুল বাদামী রঙের। এই সুন্দরী গুয়ানজাজুটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি মানবাধিকার বিষয়ে ডিপ্লোমা করেছেন। ভেনিসা মিস মেক্সিকো হয়ে বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পা রাখেন।

বিশ্ব সুন্দরীর প্রতিযোগীতার এবারের আসরে প্রথম রানার-আপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের মেয়ে নিকোলেনে পিছাপা লিমসনসুকান। তবে, ভেনিসার প্রতিযোগী হিসেবে এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো প্রতিযোগী ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এ সেরা ৩০ এর মঞ্চে ছিলেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বাদ পড়েছে গতবারের বিজয়ী দেশ ভারতও।

সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট :

নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের আপিল শুনানির তৃতীয় দিন শনিবার বিকেলে তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর প্রার্থী বাতিল করে। পরে গতকাল বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয় আসলাম চৌধুরীর ভাই ইসহাক চৌধুরীকে। কিন্তু আজ আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তিনিই বিএনপি প্রার্থী থাকছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী রাজনৈতিক, রাষ্ট্রদ্রোহ ও ব্যাংক ঋণ মামলাসহ অসংখ্য মামলায় মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন।

এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, আসলাম চৌধুরীর মত হেভিওয়েট প্রার্থী মানোনয়ন ফিরে পাওয়ায় চট্টগ্রামে নতুন প্রার্থী নিয়ে সে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা কিছুটা লাঘব হলো।