শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 691

আনোয়ারায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

আনোয়ারায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোহাম্মদ নাসির ওরফে মামুন (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত মামুন আনোয়ারার বারাসাত ইউনিয়নের বোয়ালিয়ার বাসিন্দা হাজি কালামিয়ার ছেলে। সে জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল। তার বিরুদ্ধে খুন গণধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই চুরিসহ অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার দুধকুমড়া এলাকায় পুলিশের সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে সন্ত্রাসী মামুনের মৃত্যু এবং দুই পুলিশ আহত হয়েছে বলে দাবী করে থানা পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, গতকাল বিকালে শীর্ষ সন্ত্রাসী মানুনকে গ্রেফতারের পর রাত একটার দিকে তাকে নিয়ে পুলিশে অস্ত্র উদ্ধারে বের হয়।রাত দেড়টার দিকে দুধকুমড়া এলাকায় অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করলে দু’পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এসময় গ্রেফতারকৃত আসামী পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে দেশে তৈরি দুইটি বন্দুক (এলজি) ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের এএসআই পলাশ মজুমদার ও কনেস্টেবল আকিবুর রহমান আহত হয়।

মামুন একজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ছিল। সে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল। ৫/৬ আগে সে একবার চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে গতকাল বিকালে তাকে আমরা গ্রেফতার করেছিলাম।এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় মামলা হয়েছে। আহত দুই পুলিশকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানান ওসি।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু ১ নভেম্বর

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে সোমবার এ তথ্য জানা গেছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বোর্ড থেকে পাঠানো এ পরীক্ষার প্রস্তাবিত সময়সূচি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে জেএসসির পরীক্ষার সূচি প্রস্তুত করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ের পাঠায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি। এর প্রধান হিসেবে রয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা ১ নভেম্বর শুরু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রথম দিন জেএসসিতে থাকবে বাংলা পরীক্ষা।

তিনি বলেন, আগের মতোই সকাল ১০টা ও বিকাল ২টায় দুটি করে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত সূচিতে দেখা গেছে, প্রথম দিন জেডিসি অনুষ্ঠিত হবে কোরআন মজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে।

দারুণ জয়ে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ফ্লোরিডার লডারহিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সমতা ফিরিয়েছে তিন ম্যাচের সিরিজে।

বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচে ২০ ওভারে বাংলাদেশ করেছিল ১৭১ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করতে পেরেছে ১৫৯।

মার্চে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল থেকে টানা পাঁচটি ম্যাচ হারার পর টি-টোয়েন্টিতে জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ।

শুরুতে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশক উদ্ধার করেছে তামিম ও সাকিবের ৫০ বলে ৯০ রানের জুটি। ৪৪ বলে ৭৪ করেছেন তামিম, ৩৮ বলে ৬০ সাকিব।

সাকিব পরে বল হাতে ৪ ওভারে ১৯ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। আরেক স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু নিয়েছেন ৩টি। খরুচে হলেও গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ বদল এনেছিল ব্যাটিং অর্ডারে। তবে বদলায়নি টপ অর্ডারের চিত্র।

প্রথম ম্যাচে দুই বাঁহাতি ওপেনারকে প্রথম ওভারেই ফিরিয়েছিলেন অ্যাশলি নার্স। তাকে এড়াতে এদিন তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন লিটন দাস। স্ট্রাইকও নেন লিটন, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার নন-স্ট্রাইকে শুরু করেন তামিম।

বাংলাদেশের এই বদলে কৌশল বদলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজও। ডানহাতি লিটনের জন্য বোলিং শুরু করে তারা লেগ স্পিনার স্যামুয়েল বদ্রিকে দিয়ে।

তবে নার্স আক্রমণে আসেন দ্বিতীয় ওভারেই এবং আবারও নাড়িয়ে দেন বাংলাদেশকে। জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দেন লিটন দাস।

ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয় ধরে রাখতে তিনে নামানো হয় মুশফিকুর রহিমকে। তিনিও নার্সকে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন সুইচ হিট খেলতে গিয়ে।

আরেক পাশে তামিম দারুণ খেললেও অন্য পাশে আসেনি তেমন রান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে রান আসে কেবল ৩৫।

সৌম্য সময় নিয়েছেন, কিন্তু রানে ফিরতে ব্যর্থ এদিনও। ১৮ বলে ১৪ করে বিদায় নেন কিমো পলের স্লোয়ারে। অষ্টম ওভারে তখন বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৪৮।

এই তিন উইকেটের মাঝে তামিম খেলেছেন দুর্দান্ত। নার্সকে প্রথম ওভারে মেরেছেন দুটি চার। বদ্রির দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারির পর চোখধাঁধানো শটে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছক্কা। সৌম্যকে আউট করা পলের ওভারেও মেরেছেন দুটি বাউন্ডারি।

ইনিংস নতুন গতি পায় সাকিব নামার পর। টানা দুই বলে মারেন বাউন্ডারি। কেসরিক উইলিয়ামসের এক ওভারে তিনটি।

কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের বলে তামিমের দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে জুটির ফিফটি আসে ৩৩ বলে। দলের রানও স্পর্শ করে তিন অঙ্ক। ওই ওভারেই রভম্যান পাওয়েলকে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তামিম ৪৭ রানে। সেটির মূল্য দিতে হয় ক্যারিবিয়ানদের।

৩৫ বলে তামিম স্পর্শ করেন ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি ফিফটি। এর পর পেয়ে বসেন আন্দ্রে রাসেলকে। পাঁচ বলের মধ্যে মারেন দুর্দান্ত তিনটি ছক্কা, এক চার। ওভারের শেষ বলে আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় ক্যাচ দেন সীমানায়। নামের পাশে তখন জ্বলজ্বল করছে আধ ডজন চার ও চারটি ছক্কায় ৭৪।

সাকিব ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি স্পর্শ করেন ৩০ বলে। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ১৬ ইনিংস পর আবার পেলেন টি-টোয়েন্টি ফিফটি। অধিনায়ক হিসেবে ১৩ ম্যাচে তার প্রথম।

৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬০ রান করে সাকিব ফিরেছেন শেষ ওভারে। তামিমের বিদায়ের পর শেষ ৪ ওভারে ওঠেনি প্রত্যাশিত ঝড়। মাহমুদউল্লাহ করেছেন ১০ বলে অপরাজিত ১৩।

সাকিব-তামিমে উজ্জ্বীবিত দল বোলিংয়ের শুরুটাও করে ভালো। আবু হায়দার রনির নিয়ন্ত্রিত প্রথম ওভারে শুরু। দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজ শুরু করেছিলেন টানা তিনটি ওয়াইডে। কিন্তু সেই ওভারেই দলকে এনে দেন বিপজ্জনক এভিন লুইসের উইকেট।

তিনে নামা আন্দ্রে রাসেল সহজাত ব্যাটিংয়ে তোলেন ঝড়। তবে চার-ছক্কা হজমের পর দারুণ বাউন্সারে রাসেলকে (১০ বলে ১৭) ফেরান সেই মুস্তাফিজই।

মারলন স্যামুয়েলস শুরু করেছিলেন প্রথম দুই বলে চার ও ছয়ে। তৃতীয় বলে একই চেষ্টায় বিদায়। সাকিবের বলে সীমানা দারুণ ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৫ ওভারে রান ওঠে ৪৮, কিন্তু নেই ততক্ষণে ৩ উইকেট।

উইকেট পতনে একটু কমে রানের গতি। দিনেশ রামদিনকে ফেরান রুবেল। ৮ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে ৬০।

ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার টিকে তখনও। রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে জুটিতে এগিয়ে নেন দলকে। পঞ্চম উইকেটে দুজন গড়েন ৫৮ রানের জুটি।

৩৬ রনে সীমানায় ফ্লেচারের ক্যাচ ছাড়েন আরিফুল হক। আগের তিন ওভারে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা আবু হায়দারের ওই ওভারে দুটি ছক্কা মারেন পাওয়েল।

জমে ওঠা এই জুটি ভাঙেন নাজমুল ইসলাম। ৩৮ বলে ৪৩ রান করা ফ্লেচারের ক্যাচ নেন সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে বল হাতে ফেরান কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে। সীমানায় আরেকটি অসাধারণ ক্যাচ নেন লিটন।

তখনও বাধা হয়েছিলেন পাওয়েল। ৩৭ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন সাকিব। ৩৪ বলে ৪৩ রান করা ব্যাটসম্যানকে শেষের আগের ওভারে মুস্তাফিজ ফেরান বাউন্সারে। উইকেটের পেছনে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মুশফিক।

ওই ওভারের শেষ দুই বলে নার্সের চার ও ছক্কায় আবার আশা জাগে ক্যারিবিয়ানদের। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল অপু দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

শেষে এসে অনেকবার গুবলেট পাকানো দল এবার মাঠ ছাড়ে জয়ের স্বস্তিতে। উচ্ছ্বাসে ভাসে গ্যালারি ভরিয়ে সমর্থন দিতে আসা বাংলাদেশি দর্শকরাও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭১/৫ (লিটন ১, তামিম ৭৪, মুশফিক ৪, সৌম্য ১৪, সাকিব ৬০, মাহমুদউল্লাহ ১৩*, আরিফুল ১*; বদ্রি ০/১৪, নার্স ২/২৫, রাসেল ১/৩৩, পল ২/৩৯, উইলিয়ামস ০/২৯, ব্র্যাথওয়েট ০/২৯)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫৯/৯ (ফ্লেচার ৪৩, লুইস ১, রাসেল ১৭, স্যামুয়েলস ১০, রামদিন ৫, পাওয়েল ৪৩, ব্র্যাথওয়েট ১১, নার্স ১৬, পল ২, উইলিয়ামস ০*, বদ্রি ১*; আবু হায়দার ০/২৬, মুস্তাফিজ ৩/৫০, রুবেল ১/৩৫, সাকিব ২/১৯)।

ফল: বাংলাদেশ ১২ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: তামিম ইকবাল