শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 689

মিরসরাইয়ে যুবদল নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নামে এক যুবদল নেতার উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। সে ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। গত শুক্রবার (২৩আগষ্ট) দুপুরে দিকে মিঠাছরা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সে পূর্ব ইছাখালী ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের শামছুল আলমের ছেলে।

জানা গেছে, ছুটি শেষে ঈদের পরদিন দুপুরে তার কর্মস্থল চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই অতর্কিত হামলা করে। পথচারীদের সহযোগিতায় মিজানকে মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন।

হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন (সাময়িক বরখাস্তকৃত), উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলমগীর,গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন।

মিরসরাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় চোরের দল নগদ ২ লাখ টাকাসহ মূলবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। শুত্রবার রাত সাড়ে ৩টায় উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে একজনকে আসামী করে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাড় সাড়ে ৩টায় জোরারগঞ্জ থানাধীন উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার প্রবাসী ইমাম উদ্দিনের ঘরের শিট কেটে চোর ঢুকে পড়ে। এসময় ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকাসহ মূলবান জিনিসিপত্র নিয়ে যায়। এই বিষয়ে ইমাম উদ্দিনের স্ত্রী রুবিনা চৌধুরী রুমা বাদি হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ বয়লার পরিচারক এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও আর্থিক অনুদান প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বয়লার পরিচারক এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও আর্থিক অনুদান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৪ আগষ্ট) বিকেলে মিরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর এম.কে আলিশান কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।
মোঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে ও মঞ্জুরুল আলম ভূঁইয়া, দেলোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব মোঃ আবুল কালাম। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মোঃ আবুল বশর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ কে এ লিটন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নিজাম উদ্দীন, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম।


এসময় আরো বক্তব্য রাখেন মোঃ নিজাম উদ্দীন, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ শাহাদাৎ হোসেন
মোঃ মোসলেহ উদ্দীন মসলু, মোঃ আলা উদ্দীন, মোঃ হেলাল উদ্দীন, মোঃ রিপন,
মোঃ মুসলিম উদ্দীন, মোঃ বেলাল হোসেন, মোঃ শাহ আলম।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে গত বছর গাজীপুর মাল্টিফ্যাবস কারখানায় বয়লার দুর্ঘটনায় নিহত আবদুস ছালামের পুত্র মোঃ মেহেদী হাসান, নিহত আরশাদের প্রতিনিধি মোঃ হেলাল উদ্দীন ও নিহত মনসুরের প্রতিনিধি মোঃ ইলিয়াছ মাষ্টারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক হস্তানন্তর করা হয়।


বক্তারা বলেন, বয়লার পরিচারক এসোসিয়েশন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান জানান।
ছবির ক্যাপসনঃগাজীপুর মাল্টিফ্যাবস কারখানায় বয়লার দুর্ঘটনায় নিহত আবদুস ছালামের পুত্র মেহেদী হাসানের হাতে অনুদানের চেক তুলে দিচ্ছেন বাংলাদেশ বয়লার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

 

২১ আগস্ট বোমা হামলার রায় নিয়ে কূটচাল করছে সরকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার সর্বনাশা খেলায় মেতেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছেন। একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না মানুষের মনে সে সংশয়ও এখন দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয় একটি ফরমায়াসি রায় হতে যাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, একুশে আগস্ট মামলার রায় হলে সঙ্কটে পড়বে বিএনপি এবং আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। তার বক্তব্যেই পরিষ্কার যে তারা নীল নকশা অনুযায়ী একুশে আগস্টের বোমা হামলা মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন এবং সেজন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন তারা।

আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনীতি করছে। তাদের আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক কাহার আকন্দকে তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে।

তিনি বলেন, দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

রিজভী বলেন, এ জন্য নানা ধরনের ফন্দি ফিকিরের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ১/১১’র সময় ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে কাহার আকন্দ- যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুই বার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর নজির নেই। পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেয় এবং তার উপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়।

রিজভী বলেন, মুফতি হান্নানের উপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরষ্কার স্বরুপ কাহার আকন্দের বার বার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বেড়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শুরুর ২ ঘন্টা আগেও জানত না সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হবে। সেখানে মুফতি হান্নান কিভাবে দুদিন আগেই জেনেছিল সমাবেশ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হবে? কার সিদ্ধান্তে সমাবেশস্থল মুক্তাঙ্গন থেকে সরিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নেওয়া হয়েছিল?

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, মুফতি হান্নান তার স্বীকারোক্তিতে বলেছিল, মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভার কথাটি সে জানত। আবার স্বীকারোক্তিতে বলেছে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছে এবং সে জন্য সে তার বাড্ডার বাসা থেকে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউর দিকে রওয়ানা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো মুফতি হান্নান মুক্তাঙ্গনে সভার কথা জেনে কেনো শুরু থেকে সে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিল?

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, মুফতি হান্নান সভার স্থান পরিবর্তনের সংবাদ পেয়েছিল তাহলে কে তাকে এ সংবাদটি দিয়েছিল? মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিতে গ্রেনেড নিক্ষেপের কথা বলা হয়েছে কিন্তু বন্দুক ব্যবহারের কথা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও সিকিউরিটি অফিসার নাজিব আহমেদ বলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বুলেট প্রুফ গাড়িতে অসংখ্য গুলি করা হয়েছে। এ বন্দুক ও গুলি আসল কোথা থেকে?

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের ১১ই জুন বর্তমান আইজিপি ও তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাবেদ পাটোয়ারির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ, মুফতি হান্নানই পরিকল্পনাকারী, মওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহকারী, হামলার পরিকল্পনা হয় ১৯ শে আগস্ট। জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির নাম নেই। যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেররা নীলনকশা পূরণে তাদের নিজেদের আইজিপির প্রতিবেদনকেও অগ্রাহ্য করাও দূরভিসন্ধিমূলক।

রিজভী বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্ত কাজে কোনো প্রকার সহায়তা করা হয়নি এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিল না? এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক। আওয়ামী প্রধান শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরদের বর্তমান বক্তব্যেই সেগুলো এখন পরিষ্কার। তারা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে প্রভাবিত করতেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানেক নিয়ে বেসামাল বক্তব্য রাখছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এ জাতীয় বক্তব্য সুদুর প্রসারি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতবাহী।

বিএনপির অন্যতম এই মুখপাত্র আরো বলেন, যে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় সেখানে নিম্ন আদালত কতটুকু স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে সে প্রশ্ন সারাদেশের মানুষের। বেগম খালেদা জিয়াও ন্যায় বিচার পাননি। বিরোধীদলশুন্য আগামী নির্বাচন করতেই সরকার সর্বনাশা খেলায় মেতে উঠেছে। মানুষের ক্ষোভের ধাক্কায় আসন্ন পতনের ভয়ে সরকারের বুকে ধড়ফড়ানি শুরু হয়েছে বলেই উদ্ভট বক্তব্য রাখছে। সামনে হয়ত আরও নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করবে সরকার। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র ও মহাপরিকল্পনা করেন না কেনো ওবায়দুল কাদের আপনাদের পতন ঠেকানো যাবে না। আপনাদের পতনের ভুমিকম্প শুরু হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন-নোয়াখালীর চাটখিলে ঈদ-উল আযহা উদযাপন করতে গেলে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চালায়। ছাত্রলীগ-যুবলীগ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে, বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং পরিবারের লোকজন এবং তার মায়ের সাথে চরম অশোভন ব্যবহার করে।

এছাড়া তার ছোট ভাই রিয়াজ চৌধুরীকে ব্যাপক মারধর করে গুরুতর আহত করে। এই ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলা বিএনপির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বকশি, চাটখিল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান শামসুল আরেফিন শামীম, চাটখিল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাজল হোসেন ও পারকোটা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিন শেখকে গ্রেফতার করে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নানকে গতকাল রাত ৮ টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রামগঞ্জ উপজেলার তার গ্রামের নিজবাড়ী থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে পুলিশ তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলীর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলাস্থ গ্রামের বাড়িতে গতকাল পুলিশ তল্লাশি করে এবং পরিবারের লোকজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।

লক্ষ্য ছিল জাতিগত নির্মূল- নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বিভীষিকার দিন আজ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিভীষিকার দিন আজ। গত বছর এই দিনে উত্তর-পশ্চিম রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের লক্ষ্য সামনে রেখে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী ও বৌদ্ধ চরমপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে নৃশংস বর্বরতা চালায়। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত রোহিঙ্গাদের। আদি নিবাস রাখাইন ছেড়ে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা।
বর্তমানে কক্সবাজারের কুতুপালং বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু শিবিরে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আগে থেকেই চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চালানো নৃশংসতায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ লাখে। এই বিপুল উদ্বাস্তু আর কোনোদিন নিজ দেশে ফিরতে পারবেন কি নাÑ তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্য দিকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণও দিন দিন কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সফর করে বিষয়টির প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা।
এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপকে অব্যাহতভাবে উপেক্ষা করে যাচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক চাপে গত ২৩ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি সই করে মিয়ানমার। কিন্তু এর পর থেকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এ চুক্তি বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করে রেখেছে দেশটি। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে আসছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া জনগণের পুনর্বাসনের জন্য রাখাইনে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তাদের ফেরার ব্যাপারে সময় কাঠামো নির্ধারণ করা কঠিন। ঢাকাকেই প্রক্রিয়াটি শুরু করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা কেবল সীমান্তে তাদের স্বাগত জানাতে পারি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থীবিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। প্রত্যাবাসন চুক্তি সইয়ের পর দশ মাসেও এর প্রধান কোনো শর্ত মিয়ানমার বাস্তবায়ন করেনি। চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসিত হবেন; তাদের নিজেদের গ্রামে। সম্ভব হলে নিজ বাড়িতে। কোনো কারণে এটি সম্ভব না হলে নিজ গ্রামের কাছাকাছি কোনো জায়গায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার মোটাদাগে শুধু দুটি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল গত ৯ থেকে ১১ আগস্ট মিয়ানমার সফর করেছে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি মিয়ানমারের একাধিক মন্ত্রীর সাথে বৈঠক এবং রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দেশটির প্রস্তুতি পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক, শরণার্থীবিষয়ক কমিশনার আবুল কালামসহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গঠিত যৌথ কার্যকরী কমিটির (জেডব্লিউজি) সদস্যরাও ছিলেন।
জেডব্লিউজির সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মনে করে রোহিঙ্গা নামে কোনো সম্প্রদায় নেই। উত্তর রাখাইনে রয়েছে বাঙালি। তারা বাংলাদেশ থেকে এসে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন। এসব বাঙালি চরমপন্থী। তাদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের কোনো সত্যতা নেই। কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মিডিয়াকে আসতে দিয়ে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা রকম গল্প বানাতে সহায়তা দিচ্ছে। মুসলিম বলেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।
হেলিকপ্টারে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুরে উত্তর রাখাইনে একসময় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলো দেখেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়ে গেছে। গাছগুলোর পাতাও জ্বলে গেছে।
রাখাইন রাজ্যের সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমার সরকার গঠিত আনান কমিশনের (জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে) প্রতিবেদনে অতিমাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করলে রোহিঙ্গা চরমপন্থীদের উত্থান হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া, তাদের চলাফেলার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মানবিক সেবার অধিকার দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। গত বছর ২৪ আগস্ট এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর পরদিনই রাখাইনের পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) একযোগে আক্রমণ চালায় বলে মিয়ানমার সরকার অভিযোগ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনী রাখাইন অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় সাঁড়াশি আক্রমণ চালায়। সাথে যোগ দেয় বৌদ্ধ চরমপন্থীরা। তারা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট চালায়। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অধিবেশনে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা : অব্যক্ত অভিজ্ঞতা’ বিষয়ক একটি গবেষণাগ্রস্থ উপস্থাপন করা হয়। এতে ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে ২৪ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা ও ১৮ হাজার নারীকে ধর্ষণের তথ্যসহ নৃশংসতার তথ্য সব তুলে ধরা হয়।
রাখাইনে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতা যে পূর্বপরিকল্পিত ছিল তা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ২৫ আগস্টের আগেই রাখাইনে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ করা হয়। এ ব্যাপারে আগে থেকেই সাবধান করেছিলেন মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি। রোহিঙ্গাদের ওপর বিভিন্ন সময়ে চালানো নৃশংসতার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার কারণে ইয়াংহি লির মিয়ানমার সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লি তার অভিজ্ঞতার কথা আগামী মাসে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরবেন। এ ছাড়া ২৮ আগস্ট জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে গত নভেম্বরে চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। নেইপিডোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ সময় চুক্তির শর্ত নিয়ে মিয়ানমারের সাথে দরকষাকষি করে সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এই চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যেই প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু দফায় দফায় মিয়ানমারের নানাবিধ শর্তের বেড়াজালে নির্ধারিত সময়ের সাত মাস পরও বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত একজন রোহিঙ্গাও রাখাইনে ফিরে যেতে পারেনি। চুক্তি অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রত্যাবাসন শেষ হওয়া তো দূরের কথা, দফায় দফায় বৈঠক করে শুরুর সময়সীমাও নির্ধারণ করতে পারছে না বাংলাদেশ বা মিয়ানমার।
চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পরে আসা ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা এবং গত ২৫ আগস্টের পরে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যোগ্য বিবেচনা করবে। মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোতে গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি জেডব্লিউজির বৈঠকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। মিয়ানমার নিজেদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার ও রোববার ছাড়া প্রতিদিন ৩০০ করে সপ্তাহে সর্বোচ্চ দেড় হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হতে পারে ধারণা করছে বাংলাদেশ। সেই হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সাত লাখ ৮৭ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে সাত বছরের বেশি সময় লাগবে, যদি মিয়ানমার যথাসময়ে নিয়মিতভাবে তালিকা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই মিয়ানমার মূল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এ জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই। মিয়ানমার শুধু একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
#সূত্র নয়া দিগন্ত

মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা আহত


নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে মোহাম্মদ জাহিদ চৌধুরী নামে এক ছাত্রদল নেতার উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। সে ধুম ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। শুক্রবার (২৪ আগষ্ট) সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জাহিদ ধুম ইউনিয়নের তাজুল ইসলামের পুত্র।

উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জাহিদ শুক্রবার সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট থেকে বাড়ি যাচ্ছিলো। এসময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তার গতিরোধ করে কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই অতর্কিত হামলা করে পালিয়ে যায়। পরে লোকজন উদ্ধার করে জাহেদকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করায়।

হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন (সাময়িক বরখাস্তকৃত), উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলমগীর,গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন।

মিরসরাইয়ে বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) ও সাবেক ছাত্রনেতা দাউদ খানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার হাদিফকিরহাট সুহৃদ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজনগর কমিউনিটি সেন্টারে ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

সালাউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ উদ্দিন নিজামীর সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদুল হাসান টিপু, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ, বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা রেহান উদ্দিন, নিজামপুর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জি এস আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল হাসান শাহীন, নিজামপুর কলেজের সাবেক ভিপি জসিম উদ্দিন, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিল্পব প্রমুখ। এছাড়া ইউএই মিরসরাই সমিতির সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও কাতার মিরসরাই সমিতির সহ সভাপতি নুরুল হুদা বাবুলকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সর্বশেষ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন গোলাম সরোয়ার।

 

মিরসরাইয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত যুবক নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত যুবক (২৫) নিহত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর (ডাকঘর) এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকঘরের পূর্ব পাশে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয় ওই যুবক। শুক্রবার (২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, আমার ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুরে একটি ছেলে ট্রেন থেকে পড়ে মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি জিআরপি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন পুর্বে একই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে মূমর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালের নিয়ে যায়।

সীতাকুন্ড জিআরপি পুলিশের ইনচার্জ এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ৫ টার সময় ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাড়ে ৬ টা নাগাদ মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর এলাকায় পৌঁছে। এসময় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ৮ টার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের মিরসরাইয়ের বিভিন্ন অংশে প্রায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে নিহতের ঘটনা ঘটে থাকে।

ক্যান্সারের কাছে হেরে গেলেন ডা. আলাউদ্দিন


নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধী ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন ডা. আলাউদ্দিন। শনিবার ( ২৫ আগষ্ট) ভোর সাড়ে ৫ টায় চিকিৎসাধনীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। আজ বিকেল ৩টায় মরহুমের নিজবাড়িতে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

আলাউদ্দিন উপজেলার ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানী মোল্লা বাড়ীর মরহুম আবু তাহেরের তৃতীয় পুত্র।

ডা. আলাউদ্দিন ১৯৯৬ সালে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৯৮ সালে এইচএসসি পাশ করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে ৪১তম ব্যাচে এম.বি.এস পাশ করেন তিনি। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগে বিসিএস পাশ করেন। তিনি মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার মিয়ানমারের

 

নিউজ ডেস্ক..

আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার প্রথমবার্ষিকী উপলক্ষে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ১৬০টিরও বেশি পুলিশ আউটপোস্ট বসিয়ে দেশটি। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতি।

গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে মিয়ানমারের পুলিশ কর্মকর্তা কর্নেল অং মাইয়াত মোয়ে ইরাবতিকে জানান, সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসা দলে লোক জড়ো করেছে এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও খাদ্য জমা করেছে। সীমান্তের কাছে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।’

আরেকটি দেশে শরণার্থী শিবির রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শরণার্থীর বেশ ধরে সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থান করছে। আমরা জানতে পেরেছি, প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক জব্দ করা হয়েছে সেখানে। সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রচুর মানুষকে সেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তার বরাত উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, মংডু ও বুথিডাং শহর এলাকায় সার্বক্ষণিকভাবে টহল দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া ক্রিমিনাল রেকর্ড ধরে অপরাধীদের দিকে দৃষ্টি রেখেছে দেশটি।

উল্লেখ্য, আরসা নামে পরিচিত সংগঠনকে মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার আরসাকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা লাগিয়ে দেয় মিয়ানমার।

এই হামলার অভিযোগে রাখাইনে কঠোর সামরিক অভিযান শুরু হয়; যে অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। এর ফলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যাপক নৃশংসতা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে।