রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 77

মিরসরাইয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ এর শাখা অফিসের যাত্রা শুরু

মিরসরাই প্রতিনিধি::
মিরসরাইয়ে পুজিবাজারের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে । শনিবার (২১ অক্টোবর) মিরসরাই পৌরসদরের চৌধুরী কমপ্লেক্সের ২য় তলায় এ শাখার উদ্বোধন করা হয়। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাওসার আল মামুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই পৌর সভার মেয়র এম. গিয়াস উদ্দিন।

এসময় উদ্বোধক কাওসার আল মামুন বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে সহায়তা করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। মিরসরাই তথা অত্র অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের সহায়তার লক্ষ্যে এই শাখা অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিদিনের মার্কেট আপডেট জানা থাকলে এবং ভালো শেয়ার বাছাই করতে পারলে এ ক্ষেত্রে প্রচুর লাভ করা সম্ভব। এসময় তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রতি হঠাৎ করে দাম বাড়তে থাকা শেয়ার না কিনে, কোম্পানীর প্রোফাইল দেখে শেয়ার কেনার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথি মিরসরাই পৌর মেয়র এম. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সাধারন বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে মিরসরাইয়ে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজের শাখা খোলায় মানুষ উপকৃত হবে। শেয়ারবাজার ঝুকিপূর্ন জায়গা তাই বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাছাইয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

শাখা ইনচার্জ মেহেদী হাসান পলিন জানান, আমাদের শাখায় বিও একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে পুঁিজ বাজারের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সকল রকমের সেবা প্রদান করা হবে। নতুন বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার সম্পর্কে সম্যক ধারনা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

এক দফা আদায়ে নেতাকর্মীরা মরণপণ লড়াইয়ে প্রস্তুত: আমীর খসরু

 

সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মরণপণ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘এটা (আন্দোলন) ক্ষমতার লড়াই না, দেশটাকে বাঁচানোর লড়াই, বাংলাদেশের মুক্তির লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের পরে এখন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এটাকে মাথায় রেখে জনগণ আজ রাস্তায় নেমেছে। এর সফল সমাপ্তির জন্য জীবন দিতে হয়…. আমি মনে করি, আমাদের নেতাকর্মীরা সেই পথে এসে পৌঁছেছে।’

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনই জাতীয় সংকট উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেখানে গিয়েছি- এই যে রোড মার্চ হয়ে গেলো, গাড়ির দরজা ভেঙে ফেলতেছে… লোকজন বলছে, স্যার প্রোগ্রাম দেন, আমরা জীবন দিতে রাজি আছি। এরপর তো আর কিছু বলার থাকে না। যারা জীবন দেয় তাদের সঙ্গে কেউ লড়াই করে কোনোদিন জিততে পারে না।’

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃতি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম ৩৬ দলের ইস্যু নয়, এটা ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ইস্যু। এটাকে মাথায় রেখে আমরা ৩১ দফা দিয়েছি যে, দেশকে আবার পুনর্গঠন করার জন্য, বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবাই মিলে ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে আজকে যারা দেশকে মুক্ত করার আন্দোলন করছে- সবাইকে নিয়ে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো।’

‘কারণ উনি বলেছেন, জাতি যে ক্রান্তিলগ্নে, জাতি যে গর্তের মধ্যে পড়েছে, এই জাতিকে যদি উদ্ধার করতে হয়- বিএনপি একা সরকার গঠন করে এর সমাধান দিতে পারবে না। এখানে জাতীয় ঐক্যের দরকার আছে। জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে আগে দেশকে বাঁচাতে হবে।’

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘দেশে গত ১৫ বছর ভোট চুরির প্রকল্প করে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায়। এবার আর এটা হতে দেওয়া হবে না। জনগণ এক হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক বিশ্ব এক হয়েছে।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি জাফর মাহমুদ। সংগঠনটির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, নৈতিক সমাজের সভাপতি আমসা আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুতফুর রহমান প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে ৩৪তম উদয়ন মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিলো ২৪০০ শিক্ষার্থী

 

মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের অন্যতম ও স্বর্ণপদক প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন উদয়ন ক্লাবের আয়োজনে ৩৪ তম উদয়ন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মিরসরাই, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার ১৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৪০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়, করেরহাট গণিয়াতুল উলুম হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসা ও জয়পুর পূর্ব জোয়ার আঙ্কুরেরনেছা ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় (হাবিলদারবাসা) এই তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪৫ টি হলরুমে ৯০ জন হল পর্যবেক্ষকের তত্বাবধানে উক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার ( মিরসরাই সার্কেল) মনিরুল ইসলাম, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, সংগঠনের উপদেষ্টা সাখাওয়াত উল্লাহ রিপন, ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ সেলিম, সংগঠনের উচ্চ পরিষদের সদস্য ও করেরহাট গণিয়াতুল উলুম হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসা পরিচালণা কমিটির সভাপতি কামরুল হোসেন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর তারিখে ৩৪ তম মেধাবৃত্তি পরীক্ষার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহিম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া কেন্দ্র সচিব, সংগঠনের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার বণিক আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম শাহীন সমন্বয়ক ও সাহিত্য সম্পাদক টিটু নাগ পরীক্ষার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জানে আলম, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, শহীদ উল্লাহ, রেজাউল করিম নোমান, সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিউদ্দিন কিরন, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী মাসুদ, উচ্চ পরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন, সংগঠনের সহ-সভাপতি আশীষ কুমার দাশ, সাইফুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন রুমন, কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, প্রচার সম্পাদক তানভীর হোসেন, অফিস সম্পাদক মৃদুল কুমার দাস, ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তারেক, সামাজিক সম্পাদক রাজিব কৃষ্ণ দে, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মঞ্জুরুল কাদের মিরাজ, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম মিল্টন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাশেদুল ইসলাম লাভলু, রিপন কুমার দাশ, সদস্য বাবলু কুমার ঘোষ, মিলন কুমার দে, ইকতেদার, কফিল উদ্দিন, ইব্রাহিম সকল সদস্যবৃন্দ দায়িত্ব পালন করেন।

প্রসঙ্গত, উক্ত সংগঠন ১৯৮৮ সাল থেকে মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছে। ১৯৯৯ সালে সংগঠন স্বর্ণপদক অর্জন করে এবং ২০০১ সালে জেলাভিত্তিক শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন নির্বাচিত হয়।

মিরসরাইয়ে নদী ভাঙ্গন রোধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

 

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধুম ইউনিয়নের শুক্রবারিয়াহাট এলাকায় নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রায় ৫ শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেয়। ফেনী নদীর পাড় সংরক্ষণ ও ভাঙ্গন প্রতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নুরুন নবী ভূঁইয়া, উপদেষ্টা সাইফ উদ্দিন চৌধুরী রূপম, নুরুল কাদের হোসাইনী, কমিটির সভাপতি ও ধুম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান ভোলা, সাধারণ সম্পাদক হাজী শামসুদ্দীন ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজমুল হোসেন ভূইয়া।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধুম ইউনিয়নের মোবারকঘোনা গ্রাম ও ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের চর কালিদাশ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের আশংকায় শুক্রবারিয়াহাট জামে মসজিদ, একটি ঈদগাঁ, উত্তর মোবারকঘোনা ফোরকানীয়া ও নূরানী একাডেমী, উত্তর মোবারকঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুক্রবারিয়াহাট বাজার ও এলাকায় তিনটি কবরস্থান নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছি।

মানববন্ধনে বিভিন্ন রঙিন পেষ্টুনে ‘নদী ভাঙ্গন ঠেঁকাও, শুক্রবারিয়াহাট বাঁচাও’, ‘মৎস্য প্রকল্পের ওভারলোড় গাড়ি নিয়ন্ত্রন করি, নদী ভাঙ্গন ও এলাকা রক্ষা করি’। ‘প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি চাই, নদী ভাঙ্গন রোধ চাই’ নদী ভাঙ্গন রোধ করি, মাদ্রাসা, মসজিদ ঈদগাঁ, কবরস্থান, স্কুল রক্ষা করি’ এসব স্লোগান সংবলিত দাবী নিয়ে ফেনী নদীর তীরে মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশ নেয়।

এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. রবিউল হোসেন বলেন, এই নদীতে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেকের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। অনেকে জায়গা জমি হারিয়ে এখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে। এখন চলাচলের একমাত্র সড়কটি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এলাকার ২০ হাজার মানুষের পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে ভাঙ্গন রোধে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছি।

শুক্রবারিয়াহাট বাজারের ব্যবসায়ি আশরাফুল ইসলাম তসলিম বলেন, এখানে আতংকে মধ্যে ব্যবসা করছি। যেভাবে রাস্তা ভেঙ্গে নদীতে চলে যাচ্ছে, ব্লক দিয়ে মেরামত না করলে যে কোন সময় আমাদের বাজারও নদী গর্ভে চলে যেতে পারে।

বেলাল হোসেন নামে একজন বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টন মাছের খাদ্য নিয়ে বড় বড় ট্রাকগুলো মৎস্য প্রকল্পে নেয়া হয়। একে তো আগে থেকে নদী ভাঙ্গন রয়েছে, তার উপর খাদ্যবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক দেবে গিয়ে ভাঙ্গন আরো তীব্র হচ্ছে।

ফেনী নদীর পাড় সংরক্ষণ ও ভাঙ্গন প্রতিরক্ষা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আজমুল হোসেন ভূইয়া বলেন, ভাঙ্গন রোধে আমাদের স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া কিছু ব্লক দিয়েছেন। ব্লকগুলো ফেলা হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে ব্লক তৈরি না করলে ভাঙ্গন রোধ কিছুতেই সম্ভব নয়।

ফেনী নদীর পাড় সংরক্ষণ ও ভাঙ্গন প্রতিরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামসুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, বড় বড় ট্রাক মাছের খাদ্য নিয়ে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাওয়ার কারণে নদী পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। এই ট্রাকগুলোর চলাচল বন্ধ না হলে এবং টেকসই ব্লক দিয়ে মেরামত করা না গেলে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কবরস্থান ও বাজার বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছি। এ বিষয়ে আমাদের অভিববাবক সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি কামনা করছি।

 

 

মিরসরাইয়ে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন -শ্রেষ্ঠ ল্যাব পুরস্কার পেল তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মিরসরাই প্রতিনিধি:::
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ও শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে সারা দেশের মতো মিরসরাইয়েও নানান কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে এসব অনুষ্ঠান বেশ ঝাকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রথমে ওইদিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় অনুষ্ঠান ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার দেখে সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরপর মিরসরাই  উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবকে শ্রেষ্ঠ ল্যাব ঘোষণা করে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির খাঁন, মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক মো. হাসানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ।
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির খাঁন জানান, উপজেলার মিরসরাই সদরে অবস্থিত মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ডিজিটাল শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মোট ৯জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

আন্দোলন সফল পরিণতির দিকে যাচ্ছে: আমীর খসরু

 

সরকার পতনের এক দফার যুগপৎ আন্দোলন সফল পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সমমনা দল গণফোরাম ও পিপলস পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন। সরকার পতন আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক ডাকা হয়।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যারা জড়িত সবাই একযোগে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচি পালন করছে। এ আন্দোলনে আমরা সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। ফলে আন্দোলন একটি সফল সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটেই আমরা আজ বসেছি, মতবিনিময় করেছি, আন্দোলনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেছি। এর মাধ্যমে আগামী দিনে আন্দোলনের কর্মসূচি কী হবে সবাই মতামত দিয়েছেন এবং সেভাবেই আমরা সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাবো।

গণফোরামের (মন্টু) সভাপতি মোস্তফা মোহসিন মন্টু বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটিই দাবি- অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন। সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেই আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই নির্দলীয় সরকারের কোনো বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলন করছি।

আগামী জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট ধরে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির মধ্যেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিএনপি ও সমমান দলগুলো দুর্গাপূজার পর ‘কঠোর কর্মসূচি’ দেওয়ার কথা বলেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এরপর নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বৈঠকে গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও মহিউদ্দিন আবদুল কাদের এবং পিপলস পার্টির বাবুল সরদার চাখারি, মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও পারভিন নাসের খান ভাসানী উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আমীর খসরু ছাড়াও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছিলেন।

বিএনপির এক দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে মানুষ জেগে উঠেছে : রিজভী

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের এক দফা দাবিতে সারাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। জেগে উঠেছে মানুষ।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মিথ্যাচার, অপপ্রচারে বিভ্রান্তি ছড়ানোই যেন আওয়ামী লীগ নেতাদের সহজাত প্রবৃত্তি। এরা ডাকাতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। ব্যাংক ডাকাতি, অন্যের জমি-জিরাত ডাকাতি, মানুষের নাগরিক অধিকার ডাকাতি, ব্যালট বাক্স ডাকাতিসহ সমগ্র নির্বাচন পদ্ধতিকে ডাকাতি করা ছাড়া তাদের রাজনীতিতে কোনো নীতি ও আদর্শ নেই। এক ভয়ানক অবিচার আর অনাচারের রাজত্ব কায়েম করে অপপ্রচারের উপরই টিকে থাকতে হয় অবৈধ ক্ষমতাসীনদের। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কলুষিত করে জবাবদিহিহীন ও অসীম ক্ষমতাশালী সরকার কায়েম হয়েছে জনগণের ক্ষমতাকে হরণ করে। আর এ কারণেই দেশের সম্পদ লুণ্ঠন ও অর্থপাচারে পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করেছে আওয়ামী সরকার। এদিকে সরকারি ব্যর্থতায় খাদ্যপণ্যের চরম মূল্যস্ফীতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে, রোগে শোকে কাহিল সাধারণ মানুষ। এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পিরামিড জমেছে, কিন্তু এ বিষয়ে সরকার ভ্রুক্ষেপহীন।’

তিনি বলেন, “এখন চরম সংকট বিরাজ করছে জাতীয় জীবনে। এই ক্রান্তিকালে এ দেশে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন, ‘বেশি কথা বললে সব বন্ধ করে দিব।’ এই হুমকি জনগণের বিরুদ্ধে, জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অন্যায্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের হুমকি দিয়েছেন। আর সেই কারণেই অপপ্রচার আর বানোয়াট বক্তব্য ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা ও সরকারের মন্ত্রীরা।”

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের এক দফা দাবিতে সারাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। জেগে উঠেছে মানুষ। হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য জনগণের সম্মিলিত মিছিল রাজপথকে প্রকম্পিত করছে। বিএনপির সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, স্লোগানে চারিদিক থেকে জনগণের মিলিত স্রোত দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগ সরকার। বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য অনেক মানুষ জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথে তাদের সরব উপস্থিতির কোনো কমতি হয়নি। শেখ হাসিনা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন হবে না, তা আরো তীব্রতর হবে।’

‘মাত্রাছাড়া আওয়ামী সন্ত্রাস ও পুলিশী আক্রমণের মুখেও গণতন্ত্রকামী মানুষ গণতন্ত্র ফেরানোর প্রচেষ্টায় অক্লান্ত রয়েছে। তাই অত্যাচারী ও অনাচারী আওয়ামী সরকার ও তাদের দোসররা বিএনপির সভা-সমাবেশ নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে,’ বলেন রিজভী।

আগামীকাল বুধবার বেলা ২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির (ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ) উদ্যোগে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি আহূত এই জনসমাবেশ সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হবে না। জনগণ কিন্তু গভীর নিদ্রায় অচেতন নয়। নতুন যুগের জয়যাত্রার পথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সৌধ ভেঙ্গে জনগণ প্রতিষ্ঠা করবে নিজেদের মালিকানা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। চলমান আন্দোলন বিজয়ের সিংহদুয়ার অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। আমি ঢাকাবাসীসহ বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থকদের সরকারি চক্রান্ত ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য জনসমাবেশকে সার্থক ও সফল করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় সারাদেশে ক্ষমতাসীনদের হামলা, পুলিশ বাহিনী কর্তৃক হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের বিবরণ তুলে ধরেন রিজভী।

বেওয়ারিশ লাশ দাফন-কাপনের ব্যবস্থা করলেন চেয়ারম্যান করিম মাষ্টার

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ লাশ দাফন-কাপনের ব্যবস্থা করলেন স্থানীয় জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল করিম মাষ্টার। রোববার (১৫ অক্টোবর) রাত ১ টা নাগাদ হাসপাতালে বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকার খবরে তিনি ছুটে যান। আজ জোহরের নামাজের পর শাহ কালা (রঃ) মসজিদ প্রাঙ্গনে ওই ব্যক্তির জানাযা শেষে পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অসুস্থ্য অবস্থায় এক ভবঘুরে বেওয়ারিশ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, হাসপাতালের আশেপাশে থাকতো ভবঘুরে ব্যক্তিটি৷ বেওয়ারিশ অবস্থায় রবিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়। সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টারের তত্ত্বাবধানে ওই লাশের দাফন করা হয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (মাস্তান নগর হাসপাতাল) মেডিকেল অফিসার ডা. নাছির উদ্দিন জানান, রবিবার রাত ১১টার দিকে একজন বললো হাসপাতালের সামনে লোকটা পড়ে রয়েছে, কিন্তু নড়াছড়া নেই। এরপর দেখি সে মারা গেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তার আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাইনি৷ পরে জোরারগঞ্জ থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম মাস্টার জানান, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের সবসময় যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করি। রোববার রাতে হাসপাতালে ভবঘুরে বেওয়ারিশ লাশটি পড়ে থাকার খবর পেয়ে আমি ছুটে যাই। পরে ওই ব্যক্তির দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ সোমবার জোহরের নামাজের পর হাসপাতালের পাশে মস্তাননগর সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন হয়েছে।

ফের সিসিইউতে খালেদা জিয়া

 

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়েছে।

 

শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে নেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের একজন সদস্য রাত পৌনে ১০টার দিকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ম্যাডামকে সিসিইউতে নেয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা শেষে আবার তাকে কেবিনে নিয়ে আসা হবে। নতুন করে ইসিজি, এক্সরেসহ কয়েকটি টেস্ট করা হয়েছে। প্যারামিটারগুলো ওঠানামা করছে।

তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার অল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেয়া হয়। স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা শেষে আবার কেবিনে নিয়ে আসা হয়। এখন অবস্থা ভালো-খারাপ কোনোটাই বলা যাবে না। বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো উদ্বিগ্ন। কারণ, তিনি শঙ্কামুক্ত নন। যেকোনো সময় পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই চিকিৎসক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন শারীরিক দুর্বলতা থাকায় অনেক ওষুধ খেতে চান না। আর উনাকে সবসময় স্যালাইন ও ইনজেকশনের ওপর থাকতে হচ্ছে। দুই দিন আগে রক্তের হেমোগ্লোবিনের কিছুটা উন্নতি হলেও ফের কিছুটা কমেছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নানা এন্টিবায়োটিকের মাধ্যমে লিভারের সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তবে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া স্থায়ী কোনো সমাধান নেই। স্বাস্থ্যের বিভিন্ন রিপোর্ট দেখে বোর্ড বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনে প্রতিনিয়ত। কিছু রিপোর্ট একাধিক হাসপাতালে টেস্ট করা হচ্ছে। বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। লিভারের পাশাপাশি তার কিডনি জটিলতা ও ডায়াবেটিসের মাত্রাও বাড়ছে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন মাঝেমধ্যে বর্ডার লাইনের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। ফলে একটিকে কমাতে গেলে আরেকটিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে তার লিভার প্রতিস্থাপনে জোর দিচ্ছে, যা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এসবের বিস্তারিত মেডিক্যাল বোর্ড সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেছেন।

৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া কিডনি, ফুসফুস, হৃদরোগ, লিভার জটিলতায় ভুগছেন। গত ৯ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে।

মিরসরাইয়ে না জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের গাছ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ইউপি সদস্যকে না জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনের বিরুদ্ধে তাঁর গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পূর্বপাশে হাবিলদারবাসা রশিদিয়া এমদাদুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করেন, দুই বছর পূর্বে রশিদিয়া মাদারাসর পুকুর পাড়ের গাছগুলো তিনি ক্রয় করেছেন। গত কয়েকদিন পূর্বে তিনি ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে ভারতে ছিলেন। সে সময় তাকে কিছু না জানিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন ৮টি নারিকেল গাছ ফল সহ কেটে ফেলে। তিনি দেশে এসে জানতে পেরে মাদরাসার মুহতামিমকে জিজ্ঞেস করলে তিনি পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তাকে জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে গাছ কাটবে ভালো কথা, কিন্তু আমাকে না জানিয়ে গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা আমি মানতে পারছিনা। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে হাবিলদারবাসা রশিদিয়া এমদাদুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার মুহতামিম মাওলানা ইমসাইল হোসেন বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লোকজন আমাকে কিছু না জানিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমরা তখন ক্লাসে পাঠদানে ব্যস্ত ছিলাম। ৩০ মিনিটের মধ্যে ৮টি নারিকেল গাছ কেটে ফেলে। তিনি আরো বলেন, গাছগুলো দুই বছর পূর্বে ৩০ হাজার টাকায় ফারুক মেম্বারের কাছে বিক্রি করেছি।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (পাওয়ার গ্রীড) মো. মহিউদ্দিন বলেন, গাছের উপরে ৪ লাখ বোল্টেজ লাইনের তারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নিচের গাছগুলো কেটে ফেলেছি। আমরা জানতাম গাছগুলো মাদরাসার। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে গাছগুলো কাটা হয়েছে।