রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 86

সবুজ বনায়ন গড়তে করেরহাটে ৫০ হাজার গাছের চারা বিতরণ

 

মিরসরাই প্রতিনিধি ::
গাছে গাছে ভরে যাবে পতিত জায়গা, পথ-ঘাট আর বাড়ির আঙিনা। সবুজের সমারোহ আর সবুজ পাতার ঘ্রাণে ভরিয়ে দেবে মাটি ও মানুষের মন। মিরসরাই উপজেলা সবুজময় হয়ে উঠবে এমন প্রত্যাশায় শিক্ষার্থী ও আদিবাসীদের মাঝে তুলে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা (ফলজ, বনজ ও ঔষধি)।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে খুন হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারের সকলের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫০ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও করেরহাট ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ধারাবাহিকভাবে দেড় লাখ গাছের চারা রোপন করা হবে।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম, করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম,  উদয়ন ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহীদ উল্লাহ, আজাদ উদ্দিন, বেলাল উদ্দিন, কোরবান আলী সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী মো. জাহেদুল হাসান, সাথী ত্রিপুরা, মো. তামিম, প্রতিবছর আমরা ফুল-ফলের গাছের চারা পেয়ে থাকি। এগুলো আমরা বাড়ির পাশে লাগাই। এতে করে আমাদের ঘর আলো ছায়ায় থাকে। ফলগুলো বড় হলে সেগুলো আমরা খেতে পারি। গাছ লাগানো পুণ্যের কাজ।

তারা আরও বলেন, আমরা ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা পেয়েছি। সত্যি আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে। এই গাছগুলো আমরা বাড়ির আঙ্গিনায় রোপণ করবো।

 

জাম্বুরিতে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মিরসরাইয়ের তুসি

মিরসরাই প্রতিনিধি
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য স্কাউট জাম্বুরিতে অংশ নিতে গেলেন মিরসরাই উপজেলার জেবি উচ্চ থেকে সদ্য এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী লুৎফা আঞ্জুমান তুসি। আগামী ১ থেকে ১২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামানগুমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব স্কাউট সম্মেলনের ২৫ তম আসর। সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকেও একটি দল যোগ দিবে। সে দলের সদস্য হিসেবে গেছেন তুসি। রোববার ( ৩০ জুলাই) রাত ১১.৫৫টায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে রওয়ানা দেয় সে। তুসি উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ভূঁইয়া গ্রামের বাসিন্দা নিজামপুর মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক লুৎফর রহমান ও ফাতেমা গালর্স হাইস্কুলের সিনিয়র সহকারি শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বেগমের কন্যা। চারভাই বোনের মধ্যে তুসি তৃতীয়

জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি বড়–য়া বলেন, বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরীতে আমাদের বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। দেশের হয়ে এমন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। জেবি পরিবার তাঁর শিক্ষার্থীদের বিশ্বায়নের যুগে প্রকৃত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। আমি বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশ্বমঞ্চে ে যোগদান শুধু মিরসরাই নয়, বাংলাদেশকেও বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত করবে।

 

অদম্য যুব সংঘের নতুন কমিটি গঠন, নিয়াজ সভাপতি; সম্পাদক নাজমুল

 

মিরসরাই উপজেলার অন্যতম সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন অদম্য যুব সংঘের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। ২০২৩-২০২৫ সালের নতুন কার্যকরী কমিটিতে নিয়াজ মুহাম্মদ সাজেদকে সভাপতি ও নাজমুল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। আজ শনিবার (২৯ জুলাই) আহবায়ক কমিটির আহবায়ক নিয়াজ মুহাম্মদ সাজেদ ও সদস্য সচিব নাজমুল হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরে কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়। নতুন কমিটিতে পরিচালনা পরিষদের পরিচালক মনোনীত হন এনামুল হক ও কামরুল হাসান জনি। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মঞ্জুর আলম ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মাসুম উদ্দিন মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ হোসাইন জাহিন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান নিশান, অর্থ সম্পাদক জোবাইদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম, শিক্ষা ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তারিফ হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আবিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান মামুন, পাঠাগার সম্পাদক সোহরাব হোসেন মিঠু ও নির্বাহী সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম।

অদম্য যুব সংঘ প্রতিষ্ঠার পর ৮ বছর ধরে স্থানীয়ভাবে সামাজিক, সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নতুন কার্যকরী কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কর্ম পরিধি আরো প্রসারিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংগঠনের সদস্যরা।

নির্বাচন কমিশনের চায়ের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন রিজভী

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চায়ের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

আজ রোববার (৩০ জুলাই) দুপুরে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা দিতে গেলে ইসি সচিব বিএনপির নেতাদে চায়ের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির ঢাকা জেলার সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে দুপুরে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আমরা দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসেব জমা দিতে গিয়েছিলাম। ইসি সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছে হিসেব তুলে দেয়ার পর তিনি রুহুল কবির রিজভীকে চায়ের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তা প্রত্যাখ্যান করে ইসি সচিবালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

এ সময় রুহুল কবির রিজভীর সাথে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মিরসরাইয়ে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিগেডিয়ার সামস্ এর মতবিনিময়

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাই উপজেলায় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে কর্মরত সাংবাদিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর সাবেক পরিচালক (প্রশাসন), বাংলাদেশ এম্বেসি ওয়াশিংটন ডিসির মিনিস্টার কনসোলার ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) মো. শামসুল আলম চৌধুরী শামস্। শনিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মিরসরাই প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিয় করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম, সাবেক সভাপতি শারফুদ্দীন কাশ্মীর, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজ আজহার, প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক সাদমান রহমান সময়, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেন জীবন, সাংবাদিক শিহাব উদ্দিন শিবলু ও মেহরাজ।
মতবিনিময়ে মো. শামসুল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান পৃথিবী খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মিরসরাইকে এগিয়ে নিতে হলে যার যার অবস্থান থেকে প্রত্যেকের ভূমিকা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা জন্য গণমাধ্যমের ভুমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ মিরসরাই রেখে যেতে চাইলে এখনি সময় সবাইকে সচেতন হওয়ার। এছাড়া তিনি মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে শতশত মানুষ যারা নিজের সর্বস্ব দিয়ে এশিয়ার বৃহৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প অঞ্চলের জন্য জমি দিয়েছে তাদের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের লিখার অনুরোধ করেন। মিরসরাই শিল্প জোনে মিরসরাইয়ের লোকজনের চাকুরির কোটা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। লোকালয় থেকে সামান্য দূরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অর্থনৈতিক অঞ্চলে যে সকল ক্যামিকেল কারখানা হচ্ছে; তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে করছে কিনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি দাবি করেন। এসব ক্যামিকেল কারখানা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি না করলে এ জনপদের মানুষ নানা ধরনের রোগে মারা যাবে।
শামস বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই। কিন্তু মানুষের জীবন বিপন্ন করে যেন না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সরকার পতন পর্যন্ত ঢাকায় থাকার নির্দেশ

 

 

রাজধানীতে এক দফার মহাসমাবেশে লাখো জনতার ঢল নামিয়ে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ঢাকায় অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না। মহাসমাবেশ থেকে আজ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রবেশমুখে ৫ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে আপনাদের এখন আর কোনো সমর্থন নেই। সময় থাকতে পদত্যাগ করুন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্রকামী মানুষ ঘরে ফিরে যাবে না।’

মির্জা ফখরুল কর্মসূচি ঘোষণার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অডিওতে ৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তিনি সমাবেশের জনসমুদ্রে সরকারের পদত্যাগে এক দফার আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ে প্রস্তুত রয়েছেন কি না হাত তুলে দেখানোর অনুরোধ জানালে পুরো সমাবেশস্থলের মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানায়।

 

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গতকাল বেলা ২টায় শুরু হয় মহাসমাবেশ, শেষ হয় সাড়ে ৬টায়। কার্যালয়ের সামনে ৯টি ট্রাককে উত্তরমুখী করে তৈরি করা হয় অস্থায়ী মঞ্চ। সমাবেশের ব্যানারে এক দিকে খালেদা জিয়া ও অন্য দিকে জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি রেখে লেখা হয়, ‘যুগপৎ ধারার বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের এক দফার মহাসমাবেশ’। মহাসমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ২টায় জুমার নামাজের পরে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের শিল্পীরা গণসঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে রাখেন।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। সাদা, নীল, লাল, সবুজ ও হলুদ টুপি মাথায় হাজার হাজার নেতাকর্মী মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে স্লোগান দেন ‘এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা এখনই যাবি’, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। মানুষের ভিড় ও চাপ বাড়তে থাকায় সকাল থেকেই নয়াপল্টনের দুই পাশের সড়কই যান চলাচল পুলিশ বন্ধ করে দেয়। সমাবেশ শুরুর পর দুই দফায় প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেই সমাবেশস্থলে থাকেন নেতাকর্মীরা ।

এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন : মির্জা ফখরুল
সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারকে এখনো বলছি, যদি ভালো চান, দেশের মঙ্গল চান তাহলে এখনো সময় আছে আমাদের যে এক দফা দাবি তা মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। তা না হলে ফয়সালা কোথায় হবে স্লোগান তুলেন বিএনপি মহাসচিব। এই সময় নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলেন, ‘রাজপথে, রাজপথে’।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রশাসনকে বলতে চাই আপনারা এই ভয়াবহ একটা দলীয় সরকারের বেআইনি আদেশ-নির্দেশে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা জানি যে, আপনারা সবাই এ দেশের মঙ্গল চান, আপনারা এই দেশের কল্যাণ চান। আপনারা শপথ নিয়েছেন যে, এ দেশের স্বার্থে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবেন। আমরাও আপনাদের কাছে সেটাই চাই। আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সমাবেশ থেকে গ্রেফতার বন্ধ করুন, বেআইনি গ্রেফতার বন্ধ করুন, হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা কারাগারে আছে তাদের ছেড়ে দিন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি এবং তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের ফরমায়েশি সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন একটা বড় চমক আছে। অপেক্ষা করুন। সেই চমক হচ্ছে আপনাদের প্রিয় নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি আজকে আপনাদের সামনে অডিওতে কথা বলবেন। এই সময়ে নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তার বক্তব্য শোনার সময় ছিলেন পিনপতন নিরবতায়। তারেক রহমানের বক্তব্যের পরে বিএনপি মহাসচিব শনিবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে ৫ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যুগপৎ ধারায় যে আন্দোলন করেছি সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মসূচি ঘোষণা করছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী, বর্তমান ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ এবং বিদ্যমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচনকালীন নির্বাচন গঠন করে অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা, বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি, তারেক রহমানসহ সব মিথ্যা গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান, রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে ঢাকা মহানগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন হবে। তিনি বলেন, আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব যে প্রশাসন এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। আমরা এটাও আশা করব, কালকে (আজ) যে ছুটির দিন আছে, সেই কারণে সব দলকে একসাথে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের এই কর্মসূচিটা পালন করব। প্রশাসন ও সরকার যাতে সহযোগিতা করে এই আশা আমি করছি।

আর কোনো অনুমতি নয় : মির্জা আব্বাস
মহাসমাবেশ আহ্বানের জন্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মহাসমাবেশের সভাপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, পাখিরও বাসা আছে, পোঁকামাকড়েরও থাকার জায়গায় আছে। কিন্তু এই মহাসমাবেশে আসা আপনারা কোথায় খাওয়া-দাওয়া করেছেন আমি জানি না। কোথায় ছিলেন কেমন ছিলেন সেটাও দেখতে পাইনি। তবে আপনারা সাহসের পরিচয় দিয়েছেন এত নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেফতারের পরও আপনারা এই মহাসমাবেশে এসেছেন এজন্য আপনাদের সাধুবাদ জানাই। আপনাদের হোটেলে থাকতে দেয়নি, গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে। এসব করে কিছু লাভ হবে না। তিনি বলেন, এই সরকারের সময় শেষ। এদের কয়েকজন তল্পিবাহক যেভাবে সকাল-বিকেল প্রলাপ বকছেন, আবোল-তাবোল কথা বলছেন তাতে তাদের শেষ রক্ষা হবে না। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে আন্দোলনে থাকার আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, পরবর্তী কোনো কর্মসূচির জন্য আমরা আর কোনো অনুমতি চাইব না। এবারো চাইনি, শুধু অবহিত করেছি।

ক্ষমতা না ছাড়লে ১৮ কোটি মানুষই মারা যাবে : গয়েশ্বর
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সম্পদ লুটেরা, ভূমিদস্যুরা আজ বলছে, আগামীতে দরকার শেখ হাসিনার সরকার। আর যারা গণতন্ত্রকামী, যাদের মাঝে দেশপ্রেম আছে তারা এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে লক্ষাধিক লোক মারা যাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতা না ছাড়লে তো দেশের ১৮ কোটি মানুষই মারা যাবে। অতএব, ক্ষমতা ছেড়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, নিজেরা মুক্তি পান, দেশ ও জাতিকে মুক্তি দেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, বিএনপি মানুষের দল। এখানে কোনো কুকুর নেই। সুতরাং অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গণতন্ত্রের পথে যাবেন, না গণতন্ত্রের পথের বাইরে যাবেন বেছে নেন। তিনি বলেন, চীন ও ভারত আপনাকে টাকা দিতে পারে। কিন্তু ভোট দেবে জনগণ। কারণ তারাই দেশের মালিক। সুতরাং দেশে হাসিনার চেয়ে খুনি ও বড় জঙ্গি কেউ নাই। সে চুরিতে এক্সপার্ট। ভোট ডাকাতিতে এক্সপার্ট। তিনি বলেন, যে দেশের আদালত প্রধানমন্ত্রীর হাতের মুঠোয়, যে দেশের প্রশাসন এক ব্যক্তির হাতে জিম্মি, যে দেশের গণতন্ত্র একজনের জন্য জিম্মি তা থেকে উদ্ধার হতে হলে প্রয়োজন রাজপথ। এই রাজপথ ছাড়া যাবে না। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব শক্তির উৎস কর্মীরা। আপনারা আমাদের নতুন মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা যারা ঢাকায় আছেন তারা ঢাকায়ই থাকবেন। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবেন না।

দেশের মানুষ অনাস্থা দিয়েছে : ড. মঈন খান
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগকে সারা দেশের মানুষ অনাস্থা দিয়েছে। এরা আমাদের সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে অনেক বাধা দিয়েছে। কিন্তু ঠেকাতে পারে নাই। ঢাকায় যাতে আমরা সমাবেশ করতে না পারি সে জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে তারা মাথা নত করেছে। তিনি বলেন, জনগণের রাজনীতির কাছে বাকশালী শক্তি কখনোই টিকতে পারে না। পুলিশ দিয়ে, জলকামান নিয়ে মানুষকে দমাতে পারবে না। এখনো সময় আছে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেন। অতীতেও আপনারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, টিকতে পারেন নাই। এবারো পারবেন না। দেশে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো এটা আজ আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রত্যয়।

সরকারের অবস্থান দেশেও নেই, বিদেশেও নেই : আমীর খসরু
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আজকের এই মহাসমাবেশের পর এই অবৈধ সরকারের আর বৈধতা নেই। এ সরকারের অবস্থান দেশেও নেই, বিদেশেও নেই। এদের ডানে-বামে কেউ নেই। তিনি বলেন, আজ সারা পৃথিবী বাংলাদেশের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ১৩ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান বলে দিয়েছেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা জাতিসঙ্ঘের অধীনে নির্বাচন চেয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাও একই কথা বলেছেন। কিন্তু সরকার বেহায়ার মতো ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এরা আবারো একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু এ দেশে তা আর হবে না, বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে এখানে (নয়া পল্টন এলাকায়) ইন্টারনেট নাই। বিএনপির যখন সমাবেশ হয় তখন ইন্টারনেট থাকে না। যারা এই ইন্টারনেট বন্ধের পেছনে কাজ করছেন তারা ভোট চোরদের দালাল হিসেবে কাজ করছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ভোট চোরের দালালরা সাবধান হয়ে যান। আপনারা ভোট চোরের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছেন, আপনারা ভোট চুরির প্রকল্পে কাজ করছেন। সাবধান, সাবধান। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা জাতীয় বেইমান হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা জেল থেকে মুক্ত করব, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব, তবে কারো দয়ায় নয়। জনগণ মুক্ত করে আনবে। আগামীতে ঝড় তুফান, সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

এবার সফল হবোই : নজরুল ইসলাম খান
বৃষ্টিতে ভিজে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মীরা আজ মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন। আমরা এবার সফল হবোই।

বিশ্ববিবেক জেগে উঠেছে : রিজভী
বিশ্ববিবেক আজ আওয়ামী লীগের অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ১৩ জন কংগ্রেসম্যান গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্যাংশনের কথা বলেছেন। এটি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার। আজ একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গোটা জাতি এক হয়েছে। রিজভী বলেন, অনেক বাধা দিয়েছে। রাজধানীর সব প্রবেশপথে নেতাকর্মীদের মহাসমাবেশে আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনস্রোত ঠেকাতে পারেননি। পারবেন না। পদ্মা মেঘনা যমুনার ঢেউয়ের মানুষ এসেছে। তিনি বলেন, সরকার দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। আজ দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এ সরকারকে বিদায় না করতে পারলে দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে না।

মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবে রহমান শামীম, আসাদুল হাবিব দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, মোস্তাক মিয়া, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানি, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, মহানগর উত্তরের আমিনুল হক, দক্ষিণের তানভীর আহমেদ রবিন প্রমুখ।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ‘এক দফা’ দাবিতে বিএনপিসহ সমমনা জোট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঢাকায় বিকেলে যুগপৎভাবে আলাদা আলাদাভাবে এই মহাসমাবেশ-সমাবেশ করেছে।
গত ১২ জুলাই শুরু হওয়া এক দফার আন্দোলনের এটি দ্বিতীয় কর্মসূচি। এর আগে ১৮ ও ১৯ জুলাই সারা দেশে মহানগর ও জেলায় পদযাত্রা করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

ঢাকার ৪ প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি

 

যুগপৎ ধারায় ঘোষিত ১-দফা শেখ হাসিনা’র পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামীকাল ঢাকার ৪ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

 

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে দলটি।

ঢাকার কোন কোন প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি উত্তরা বিএনএস সেন্টার উল্টো দিকে রাস্তার পূর্ব পাশে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এ অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান এবং গাবতলী এস এ খালেক বাস স্টেশনের সামনেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নয়া বাজার দলটির অফিসের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যাত্রাবাড়ি হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নেমে চট্টগ্রাম রোড দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এখানেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে থেকে এ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মিরসরাই সমিতি কাতারের উদ্যোগে কাতার বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম মিনিস্টার ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানকে বিদায়ী সংবর্ধা

কাতার বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম মিনিস্টার ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে মিরসরাই সমিতি কাতার। শুক্রবার (১৪ জুলাই) মিরসরাই সমিতি কাতারের আয়োজনে কাতারের সারে আসমাক বৈশাখী রেস্টুরেন্টের হল রুমে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর নবী চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নে কৃতি সন্তান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম মিনিস্টার ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার মোহাম্মদ আবদুস সালাম, বাংলাদেশ কমিউনিটি কাতারের (বিসিকিউ) উপদেষ্টা এসএম ফরিদুল হক, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সফিকুল ইসলাম তালুকদার বাবু, অর্থ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন নাছের, সমন্বয়ক ও পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আলম, মিরসরাই সমিতির উপদেষ্টা নুরুল করিম মানিক, আবুল কালাম, মাঈন উদ্দিন মানিক চৌধুরী, আকতার হোসেন আজাদ, শাখাওয়াত হোসেন লিটন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারন সম্পাদক এন.কে. টিপু, সহ-সভাপতি নুরুল হুদা বাবুল ও সমিতির উপদেষ্টা নুরুল আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানকে সন্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর নবী চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এন. কে.টিপু। বিদায়ী মানপত্র পাঠ করেন সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নিজামী। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন সমিতির সহ-সভাপতি নুর নবী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিন রানা ও কার্যকরী সদস্য নুরুল আকতার স্বপনসহ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির অর্থ সম্পাদক মীর হোসেন মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইউসুফ নবী, সহ-প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, সহ-অর্থ সম্পাদক ইমাম হোসেন, অফিস সম্পাদক নুর ইসলাম, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নুর উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন। সবশেষে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর নবী চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সবাইকে কাতারের আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বলেন। এছাড়া দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এবং তিনি মিরসরাই সমিতি কাতারের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মিরসরাইয়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় মারুফ মডেল প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় সেরা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় মারুফ মডেল প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় ১ম পুরস্কার ক-গ বিভাগে ২২ টি, ২য় পুরস্কার ক-গ বিভাগে ২২ টি, ৩য় পুরস্কার ক-গ বিভাগে ২১ টি পুরুষ্কার অর্জন করে বিদ্যালয়টি।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মিরসরাই উপজেলা জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার সভাপতি মাহফুজা জেরিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান,
মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও মিরসরাই উপজেলা জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার সদস্য সচিব একেএম ফজলুল হক, মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক নিজামী।

মারুফ মডেল ও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, জাতীয় শিশু পুরস্কার বিতরণে আমাদের বিদ্যালয় উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি অত্র বিদ্যালয় বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সবগুলো প্রতিযোগিতায় মেধার স্বাক্ষর রাখছে। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী।

 

মিরসরাই পৌরসভা ছাত্রদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাই পৌরসভা ছাত্রদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ জুলাই) সকালে মিরসরাই পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইনজামামুল হক ইমনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক ফয়সালের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব জাহিদ হোসাইন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেন।
কর্মী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মিরসরাই পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সোহেল, ইব্রাহীম, আহনাফ, হৃদয়, রাকিব, বাপ্পী, রিফাত, রিয়াজ, তারেক ও মামুন প্রমুখ। এছাড়াও মিরসরাই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।
প্রধান অতিথি নুরুল আমিন বলেন, এক দপার আন্দোলন শুরু হয়েছে। আমরা বিএনপির আগামী দিনের রাষ্ট নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে সকল কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। তারেক রহমান বীরের বেশে আসবে ফিরে বাংলাদেশে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরশাসকের বিদায় করে তারপর রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরবো আমরা। এই প্রতিজ্ঞা করতে হবে আমাদের।