রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 87

যুগপৎভাবে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ রূপরেখা ঘোষণা বিএনপির

 

সরকার হঠানোর আন্দোলনে যুগপৎ ধারায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ রূপরেখা কার্যকরে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

আজ বৃহস্পতিবার গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ রূপরেখার কথা প্রকাশ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে রূপরেখাগুলো আনছি, তা শুধু আমাদের জন্য না। এটা পুরো দেশের জন্য, পুরো দেশের গুণগত পরিবর্তনের জন্যই এই রূপরেখা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র এবং সকল নাগরিকের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সেই রাষ্ট্রের মালিকানা আজ তাদের হাতে নেই। বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে নানাভাবে ধ্বংস ও বিপর্যন্ত করে ফেলেছে। এই রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত ও পুনর্গঠন না করলে দেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবে না। এজন্য প্রয়োজন দেশে এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তি, এক নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্যে এবং দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার হঠানোর আন্দোলনে যুগপৎ ধারায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে নিম্নলিখিত রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক গণতান্ত্রিক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান।

যুগপৎভাবে ৩১ রূপরেখা হলো :

১. বিগত এক দশকের অধিক কালব্যাপী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করিয়া রাখার হীন উদ্দেশ্যে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী আনয়ন করিয়াছে। একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করিয়া সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করিয়া এইসব রহিত/সংশোধন করা হইবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হইবে। সংবিধানে গণভোট (referendum) ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করিয়া জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হইবে।

২. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক ‘Rainbow Nation’ প্রতিষ্ঠা করা হইবে। এই জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিকে (Social Contract) পৌঁছাতে হবে। এই জন্য একটি ‘National Reconciliation Commission’ গঠন করা হইবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হইবে।

৩. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হইবে।

৪.সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন করা হইবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হইবে।

৫. পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না।

৬. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতয়না শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাকিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ (Upper House of the Legislature) প্রবর্তন করা হইবে।

৭. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া (দেখা হইবে) বিবেচনা করা হইবে।

৮. রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করিবার লক্ষ্যে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ সংশোধন করা হইবে। ইভিএম নয়, সকল কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হইবে। RPO, Delimitation Order এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হইবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হহইবে।

৯. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করিবার লক্ষ্যে এই সকল প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনঃগঠন করা হইবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে নিয়োগ প্রদান করা হইবে।

১০. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হইবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হইবে। অধঃস্থন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের নিকট ন্যাস্ত হইবে (সংবিধানের ভাষা)। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকিবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হইবে। এইজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হইবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠিয়া কেবলমাত্র জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করিয়া বিচারক নিয়োগ করা হইবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদ- সম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হইবে।

১১. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়িয়া তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করিয়া প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হইবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।

 

১২. গণমাধ্যমের পুনস্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া বাকিদের সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি “মিডিয়া কমিশন” গঠন করা হইবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে; এই ICT Act 2006. সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও Special Power Act-1974. Digital Security Act- 2018 সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সকল কালাকানুন বাতিল করা হইবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হইবে।

১৩. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোন আপোস করা হইবে না। বিগত দেড় দশকব্যাপী সংগঠিত অর্থ-পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করিয়া একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। দেশের বাহিরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হইবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল (Ombudsman)’ নিয়োগ করা হইবে।

১৪. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হইবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং এম খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকার এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হইবে। Universal Declaration of Human Rights অনুযায়ী মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হইবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হইবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা ম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল নাভিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হইবে।

১৫. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাস¤পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হইবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ করা হইবে। উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করিবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

১৬. ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করিবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হইবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

১৭. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের চৎরপব-রহফবী নধংবফ ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হইবে। শিশু-শ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হইবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হইবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ সকল বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হইবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দরসহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানি মুক্ত সেবা প্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হইবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হইবে।

১৮. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হইবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করিবার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হইতে বিদ্যুৎ ক্রয়ে চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হইবে। আমদানি নির্ভরতা পরিহার করিয়া নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি গ্রহণ করিয়া দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হইবে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রনোদনা দেওয়া হইবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়িয়া তোলা হইবে।

১৯. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হইবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যাদির সমাধান করা হইবে। বাংলাদেশ ভূ খণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হইবে না এবং কোন সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাইবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করিয়া এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগাইয়া ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হইলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় আনিয়া শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হইবে।

২০. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করিয়া গড়িয়া তোলা হইবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রাখিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হইবে।

২১. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হইবে। এই সকল প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হইবে যেন তাহারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারী মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হইবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হইলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হইবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হইবে না।

২২. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হইবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হইবে এবং তাঁহাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হইবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হইবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করিয়া একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হইবে।

২৩. যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাক্সক্ষাকে ধারণ করিয়া আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হইবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হইবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হইবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হইবে। যুব সমাজের দক্ষতা (Skill Development) বৃদ্ধি করিয়া “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়া মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হইবে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হইবে।

২৪. জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী গ্রহণ করা হইবে। নারী ও শিশুদের জীবন মান বিকাশের নিমিত্তে যুপোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হইবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হইবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হইবে।

২৫. বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করিয়া নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষা (Need-based education) এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে (Knowledge-based education) প্রাধান্য দেওয়া হইবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হইবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হইবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়িয়া তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হইবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢালিয়া সাজানো হইবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদানখাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে (R&D) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হইবে।

২৬. স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করিয়া ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোন মৃত্যু নয়’ এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ‘NHS’ এর আদলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (Universal health coverage) প্রবর্তন করিয়া সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হইবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হইবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরো সম্প্রসারিত করা হইবে।

২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হইবে। পর্যায়ক্রমে সকল ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হইবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়া হইলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হইবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হইবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্ম-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে।এতদসংশ্লিষ্ট রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেওয়া হইবে।

২৮. দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারা দেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়িয়া তোলা হইবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দর সমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হইবে।

২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সঙ্কট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হইবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হইবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হইবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হইবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞান সম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।

৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিকমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হইবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হইবে।

৩১. এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করিয়া এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করিয়া পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হইবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠির আবাসন নিশ্চিত করা হইবে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের এই রূপরেখা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ‘১৯- দফা’, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত বিএনপি’র ‘ভিশন-২০৩০’ এর আলোকে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফা কর্মসূচির সংশোধীত ও সম্প্রসারিত রূপে প্রণীত।

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত আ.লীগ নেতাকে দেখতে গেলেন যুবলীগ নেতা এলিট

নিজস্ব প্রতিনিধি

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।
বুধবার (১২ জুলাই) বিকেলে চিকিৎসার খোঁজ নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান তিনি। এ সময় তিনি জাহেদ ইকবাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একইসঙ্গে জাহেদ ইকবাল চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান যুবলীগ নেতা এলিট।

আহত জাহেদ ইকবাল চৌধুরী উপজেলার ১২ নম্বর খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত ১০ জুলাই রাতে উপজেলার খৈইয়াছড়া ঝর্ণা এলাকায় নিজ বাংলোতে তাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান রিয়াদের অসুস্থ দাদীকেও দেখতে চমেক হাসপাতালে যান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট। এসময় উনার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।

বারইয়ারহাট পৌরসভায় মশক নিধন অভিযান

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১২ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকায় অভিযানের উদ্বোধন করেন পৌরসভার মেয়র ও বারইয়ারহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম খোকন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফ উদ্দিন মাসুদ, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুজ্জামান বাবুল, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কান্তি চাকমা, নির্বাহী প্রকোশলী সমর মজুমদার, উপ-সহকারী প্রকোশলী মনিরুল ইসলাম, প্রধান সহকারী আবদুল হক চৌধুরী।
পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম খোকন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। ডেঙ্গু মশা নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিপলেট বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচালনা করা হবে। ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন বারইয়ারহাট পৌরসভা গড়তে তিনি পৌরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

 

মিরসরাই শতবর্ষী আলেম মাওলানা তাজুল ইসলামের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন

মিরসরাই প্রতিনিধি
উত্তর চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, কিছমত জাফরাবাদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সাবেক ইমাম ও তারাকাটিয়া জলিল শাহ্ ফকির জামে মসজিদের খতিব আলহাজ¦ মাওলানা আ.ন.ম. তাজুল ইসলাম আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছে ১০০ বছর। বুধবার সকাল ১০ টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে বাধক্যজনিত কারণে তিনি নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন।

আলহাজ¦ মাওলানা আ.ন.ম. তাজুল ইসলাম মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব কিছমত জাফরাবাদ এলাকার অছি উদ্দিন মীর বাড়ির বাসিন্দা। মৃত্যুকালে তিনি ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী, ছাত্র ও ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন।

জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আলম দিদার, ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এম সাইফুল্লাহ দিদার, মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ আলহাজ¦ মাওলানা আব্দুল বাকী নিজামী, সুফিয়া নূরিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রেজাউল হক নিজামী, মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. এমদাদ উল্ল্যাহ খান, উপধ্যক্ষ ভাইস প্রিন্সিপাল হুজুরের ছাত্র মাওলানা নিজামুল হক সাদেকী, আলহাজ¦ মাওলানা আ.ন.ম. তাজুল ইসলামের একমাত্র সন্তান আজহারুল ইসলাম আজাদ, হুজুরের জামাতা মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন। জানায়ায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা জামায়াত নেতা মাষ্টার নুরুচ্ছালাম, মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আলহাজ্ব নুরুল করিম, উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল কবির, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলাম নিজামী, মিরসরাই লতিফীয়া কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ নিজামী, সাবেক উপাধ্যক্ষ নুরুন্নবী ফারুকী, মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক ছাত্র মাওলানা নুরুল করিম, ছুটি খাঁ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নুরুল আলম তৌহিদী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জুয়েল চৌধুরী। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন মাদারার অধ্যক্ষ, মসজিদের খতিব, হুজুরের ছাত্র, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানাযার নামাজ এবং দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মিঠাছরা ইসলামীয়া ফাজিল মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ আলহাজ¦ মাওলানা আব্দুল বাকী নিজামী।

 

এখন দফা একটাই- শেখ হাসিনার পদত্যাগ : মির্জা ফখরুল

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন দফা একটাই- শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আর কোনো দফা নেই। সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। ভোটাধিকার ফিরে দিতে হবে।

 

আজ বুধবার বিকেলে নয়া পল্টনে একদফা ঘোষণার সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গণতন্ত্রের ঘাতক, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও সর্বনাশা অনাচারে লিপ্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের একদফার যৌথ ঘোষণার জন্য সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে আমাদের শত শত নেতাকর্মীকে খুন করেছে। ছয় শ’র মতো নেতাকর্মীকে গুম করেছে।

এ সময় তিনি আবেগঘনভাবে বিএনপির গুম হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার পরিবারকে স্মরণ করেন।

২০১৩-১৪ সালে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফখরুল বলেন, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছ। এখন আমাদের তরুণরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ। যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও, তবেই তুমি বাংলাদেশ। এখন সব দিকে খালি তরুণ আর তরুণ। তোমরাই পারবে এদেরকে রুখে দিতে।

সমাবেশে আসা মানুষদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে, ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে। কিন্তু তাদের কথার সাথে সেটার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এরা আবার বলেছিল, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবে। এখন সারের দাম তিন চার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার সারও পাওয়া পায় না কৃষকরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে এই সরকার জীর্ণশীর্ণ কারাগারে রেখেছিল, তাকে ভালো চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। আমরা বাবারার তার চিকিৎসা বাইরের দেশে করানোর জন্য বলেছিলাম। পরিবার থেকেও বলা হয়েছিল। কিন্তু তাকে যেতে দেয়া হয়নি। এজন্যে তাকে বারবার হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোর্টকে ব্যবহার করে এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা মামলা দিয়ে মাসের পর মাস জেলে আটকে রাখে, জামিন দেয় না। যেটা মানুষের বিচার পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল, সেখানে এখন বিচার পাওয়া যায় না।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর কথা বলার সময় নেই। এখন আমাদের একটাই কাজ- এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে নেমে আসা।’

জনগণ জেগে উঠেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন জনগণ জেগে ওঠে, তখন তাদের আটকানো যায় না। ঝড় এলে বাঁধ দিয়ে ঠেকে রাখা যায় না। সুনামি এলে তাকে আটকানো যায় না। আজ বাংলাদেশে প্রতিবাদের সুনামি শুরু হয়েছে। ঢাকার বাহির থেকে আসতে অনেক বাধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা ঠেকানো গেছে? ঢাকার রাজপথ আজ নেতাকর্মীদের পদচারণায় ভরপুর।

কর্মসূচি ঘোষণার পর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা একদফা আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচি। এতে যদি আঙ্গুলে ঘি না উঠে, তবে কিভাবে আঙ্গুলে ঘি তুলতে হয়, তা এ দেশের জনগণ ভালো করেই জানেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, হামলা করবেন মামলা করবেন। মিথ্যা ফরমায়েশি রায় দিয়ে সাজা দেবেন এটা হতে দেব না। অনেক সুযোগ দিয়েছি। আর সুযোগ পাবেন না। অনেক ডলার পাচার করেছেন। গত ১৫ বছরে অনেক জেলে পুরিয়েছেন, সাজা দিয়েছেন, তাতে কোনো লাভ হয়েছে? বিএনপি কখনো পিছু হটে না।

আমরা সবাই রক্ত দিতে চাই জানিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শেখ হাসিনাকে যেতে হবে, তবে তিনি কোন দেশে যাবেন, তা তিনি জানেন না। কোন দেশ তাকে পাসপোর্ট দেবে এ নিয়ে তিনি অস্থিরতায় আছেন। এখন আপনাদের গায়ে একটা আঘাত এলে পাল্টা দু’টা আঘাত করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন আলী খান বলেন, এই সরকার দেশের সুশাসন নষ্ট করে কুশাসন সৃষ্টি করেছে। এই সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে জুলুমের শাসন কায়েম করেছে। তারা গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছে। এই সরকার ভোটাধিকার হত্যা করে দিনের ভোট রাতে করেছে। এরা দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকে যে ঘোষণা আসবে, এই ঘোষণা আগামী দিনে এই সরকারের পতন ঘটাবে ইনশাআল্লাহ। জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জাতি আজ মুক্তির ঘোষণা চায়। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সরকারকে বিদায় করার জন্য। জনগণ জেগে উঠেছে। তাই ওই সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, বাক স্বাধীনতা হরণকারী কারো রেহাই মিলবে না। এবার যেতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় ‌বিএন‌পি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহাজান ওমর, ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবেদিন, নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান মিনু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসে বদলে সভাপতি এসএম জিলানী, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মিরসরাইয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রস্তুতি সভা

মিরসরাই প্রতিনিধি
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে মিরসরাইয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো. মামুন উদ্দিন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।
প্রধান আলোচন হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এরাদুল হক নিজামী ভুট্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাইনুর ইসলাম রানা, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়া।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এরাদুল হক নিজামী ভুট্টু বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সম্মেলন অত্যন্ত ঝাঁকজমক ভাবে করা হবে। দলের জন্য নিবেদিত, অতীতে রাজপথে ছিলেন, মাদক-চাঁদাবাজী সহ অন্যায় কার্যক্রমে জড়িত নয় এমন স্বচ্ছ ব্যক্তিকে সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বৃহত্তর চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। তাই সম্মেলন সফল করতে মিরসরাই থেকে সকল নেতাকর্মীকে স্বতঃস্পূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনকে সফল করার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সম্মেলনে দলের জন্য নিবেদিত ও দুঃসময়ে রাজপথে ছিলো এমন নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে আমরা মনে করি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত যাতে মিরসরাইতে কোন অরাজকতা, নৈরাজ্য করতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ সকল অঙ্গসংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকতে হবে। রাজপথে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১ যুগ- ফুলের শ্রদ্ধায় শিক্ষার্থীদের স্মরণ

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
ফুলের শ্রদ্ধায় মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্বরণ করলো শিক্ষার্থী, স্বজন, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকালে দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ ও আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে শ্রদ্ধা জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা আওয়ামী লীগ, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিকলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদ, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা যুবলীগ, মায়ানী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে শোকসভার আয়োজন করা হয়। মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহমদ নিজামীর সঞ্চালনায় ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষরেদ সভাপতি আবুল হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এম আলা উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খান, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার, সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাইনুর ইসলাম রানা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য ওমর ফারুক, মায়ানী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নুরেরছাপা নয়ন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি স্মরণকালের ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা। এইদিন পিকআপ উল্টে ৪২ জন শিক্ষার্থী সহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। যারা জীবিত থাকলে পরিবার, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতো। আমি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ট্র্যাজেডিতে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ, আসবাবপত্র সহ যে সকল সংকট আছে তা নিরসণ করা হবে। নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করার জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ে অবহিত করবেন বলে জানান।’
প্রসঙ্গত : ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পিকআপ বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় পাশের একটি ডোবায় উল্টে যায়। যেখানে উপজেলার আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ জন, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২ জন, প্রফেসর কামালউদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২ জন শিক্ষার্থী নিহত হন। এছাড়া এক অভিভাবক, ২জন ফুটবলপ্রেমী যুবক সহ ৪৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রচিত হয় মিরসরাই ট্র্যাজেডি।
নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।

আ’লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি বারবারই বলি আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা আছে, এটি হচ্ছে চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য। বরাবরই তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

 

মঙ্গলবার বিএনপি প্রশিক্ষণ সেল -এর উদ্যোগে নারী নেতৃত্ব অগ্রগতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান তারপর বাংলাদেশ। এদেশে বারবার গণতন্ত্রের চর্চা ব্যর্থ হয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার, যে জন্য ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেই গণতন্ত্র চর্চা ধ্বংস করেছে তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। এটা পরিষ্কার কথা এবং তারা একের পর এক আইন তৈরি করেছিল ক্ষমতায় থাকার জন্য যখন জনগণ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল।

আওয়ামী লীগ বরাবরই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ওরা একনায়কতন্ত্র বিশ্বাসী। ওরাভাবে আর কেউ নেই। ১৯৭৪ সালের তারা সকল দলকে নিষিদ্ধ করে একটি মাত্র দল রেখেছিল। তারা প্রচার মাধ্যম বন্ধ করে রেখেছিল। মানুষের মানবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মন মানসিকতায় যদি ডেমোক্রেসি না থাকে তাহলে আমরা কেউ ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো না। এটি হচ্ছে মন মানসিকতার বিষয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে সহনশীল হতে হবে। সকলের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের সেই জাতি হিসেবে, যখন আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি সেই মুহূর্তে এদেশে গণতন্ত্র নেই। একইভাবে এই দেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে তাদের যে গণতান্ত্রিকি স্পেস সেগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেল রিদোয়ান কবির মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ক্রীড়া সামগ্রী

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার একসময়কার ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম রিদোয়ান কবিরের নামে পরিচালিত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট উপজেলার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকালে ট্রাস্টের সেক্রেটারী সাদমান বিন কবির এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রিকেট বেট, বলি বল, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম প্রদান করে।
জানা গেছে, ওইদিন সকালে উপজেলার বিশ^দরবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়, মজহারুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও মারূফ মডেল স্কুলে এসব সামগ্রী প্রদান করেন ট্রাস্টের প্রতিনিধি মোবারক হোসেন তারেক।
ট্রাস্টের সেক্রেটারী মরহুম রিদোয়ান কবিরের জ্যেষ্ঠ সন্তান সাদমান বিন কবির জানান, আমার বাবা জীবদ্দশায় এলাকার ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, সফল ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় ফুটবলার ছিলেন। এছাড়া তিনি সবসময় এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক পরিমন্ডলের উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর নামে গড়া এ ট্রাস্ট এসব কাজের মাধ্যমে তারই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।

 

আমরা দয়া চাইনি, জাস্টিস চেয়েছি : মির্জা ফখরুল

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার কথায় কথায় বলেন, খালেদা জিয়াকে দয়া দেখিয়ে বাসায় রেখেছি। আমরা দয়া চাইনি, জাস্টিস চেয়েছি। আমরা ন্যায়বিচার চেয়েছি, প্রাপ্যটা চেয়েছি।

 

সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া’র শারীরিক সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে দলটি।

মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেটি বসবাসের উপযোগী ছিল না। তিনি ওই সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময় ডাক্তাররা একাধিকবার গণমাধ্যমে বলেছেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। পরে করোনা শুরু হয়ে গেলে বাসায় পাঠিয়ে দেয় সরকার।

তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারো দয়া চাননি। তাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বারবার তাকে বিদেশ নিয়ে চিকিৎসার কথা বলছেন। কিন্তু সরকার তাকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার। এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা দেয়নি তারা।

তিনি বলেন, এ দেশে আমরা কোনো রাজা-রানির রাজত্বে বাস করি না। আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সেই গণতন্ত্রই আজ দেশে অনুপস্থিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।