সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 94

আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরে সংলাপ : মির্জা ফখরুল

 

সরকারের সংলাপকে ফাঁদ উল্লেখ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। দুইবার পাতানো নির্বাচন হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো আর ফাঁদে পা দিবে না বিএনপি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সংসদে ১০ ভাগ আসনও পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতা গৌতম চক্রবর্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট।

মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

সংলাপ নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত বছরও ডেকেছে সংলাপের জন্য। ভেবেছিলাম ভালো কিছু একটা হবে। দুইবার প্রতারণার শিকার হয়েছি। তাদের কথায় আর কেউ শুনবে না। কারণ অতীতে কথা দিয়ে তারা রাখেনি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি করছে আর উন্নয়নের কথা বলছে। তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। আমরা বলেছি গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন হয় না। আজকে আন্তর্জাতিকভাবেও সেটা বলা হচ্ছে। বিদেশী পত্রিকা লিখছে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি আন্ডার গ্রাউন্ডে’।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে যে ঢাকঢোল পিটিয়েছে, যে টাকা খরচ করেছে- এখন সেটা কোথায়? তারা এখন নির্বাচনী ফান্ড তৈরির চেষ্টা করছে। যেখানে বিমান চলতে পারে না, সেখানে এয়ার বাস কেনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি হবে। তারা নির্বাচনী ফান্ড তৈরি করবে।

 

দেশে প্রথমবারের মতো ‘জেসিআই স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট ও এক্সপো’

নিজস্ব প্রতিবেদক
পর্দা উঠলো দেশে প্রথমবারের মতো জেসিআই বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট ও এক্সপো’র।

দুই দিনব্যাপী এই সামিট ও এক্সপো শুক্রবার সকালে রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজনটির উদ্বোধন করা হয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রা ও স্মার্ট যুগের অপার সম্ভাবনাকে সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টায় এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাপী তরুণদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেসিআই বাংলাদেশের আয়োজনে ও এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই-এর সহযোগিতায় আজ ও আগামীকাল শনিবার চলবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দর্শনার্থীদের প্রবেশ। তারপর উদ্বোধন করা হয় সামিট ও এক্সপোর।

প্রধান অতিথি থেকে ‘জেসিআই স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট ও এক্সপো’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান) এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইভেন্টের পরিচালক ও জেসিআই বাংলাদেশের ডেপুটি ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমরান কাদির বলেন, দেশে ২২ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করার জন্য তৈরি হচ্ছে। দেশে তরুণদের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জেসিআই সেই তরুণ জনগোষ্ঠীকে নিয়েই কাজ করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যে ম্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জেসিআই সমানভাবে সহযোগিতা করতে চায়।

স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি পিলার বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার জনাব আনীর চৌধুরী। তিনি তার উপস্থাপনায় সরকার ডিজিটালাইজেশন থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি জানান, যেখানে ২০০৮ সালে সরকারের ডিজিটাল সেবা ছিল প্রায় শূন্য। সেখান থেকে ২০২৩ সালে এসে সেখানে ২ হাজারের বেশি সেবা দেওয়া হচ্ছে ডিজিটালি। ২০২৩ সালে এসে ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের হার খুবই উচ্চমাত্রায়।

আনীর চৌধুরী তার উপস্থাপনায় ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি মূল বিষয়কে তুলে ধরেন। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমি। তিনি দেশের বিভিন্ন উদ্যোগের উদাহরণ দিয়ে দেখান কীভাবে এগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান দিচ্ছেন তরুণরা। আর সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সবই হাতের মুঠোয়।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাকরির বাজার পরিবর্তন হচ্ছে। সেটির জন্য নতুন নতুন দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান জেসিআইয়ের স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে এমন আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানান। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা জেসিআইয়ের তরুণদের একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উদ্যোক্তা তুলে আনার আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রযুক্তি খুবই দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেটার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন। এখন যেমন বিশ্বে একটা বড় চ্যালেঞ্জ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এটি এখন এমন সব কাজ করছে যা বিশ্বকে একটা চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। এসব নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। টেকনোলজির আরেকটা বড় ধরনের অগ্রগতি হবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। যেটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কাজ করছে। এখন বাংলাদেশ সামনের দিনের প্রযুক্তি নিয়ে কী, কীভাবে কাজ করতে পারে সেটা নিয়ে সরকার একটা নীতিমালা করে দিতে পারে। বেসরকারি বিভিন্ন খাতকে এসব নিয়ে কাজ করতে সুযোগ করে দিতে পারে।

তিনি বলেন, বেসিস প্রেসিডেন্ট বাজেটে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সেটাতে আমিও একমত। আসলে বাজেটে যেটা হয়েছে সেটা ভুল বোঝাবুঝি। সেটা তারা হয়তো বোঝেননি। আমরা সেটা চূড়ান্ত বাজেটে থাকবে না। হয়তো সেটা শতভাগ করতে পারব না। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি, বাজেটে যেসব সমস্যার কথা উঠেছে সেগুলো আমরা সলভ করব।

অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ঘোষণা করার পর স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে প্রথম সামিট করছে জেসিআই।

তিনি বলেন, ব্যবসা করবেন শুধু মুনাফার জন্য নয়, সমস্যার সমাধান নিতে আসতে হবে। এটি করতে পারলে করবেন দেখবেন সারা বিশ্বে আপনি মর্যাদা পাবেন। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ এমন দশটা স্টার্টআপ পাবে যারা কয়েক মিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ হবে। মিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ হতে বিকাশের লেগেছে ১২ বছর, নগদের ৩ বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে মেধাবী সাহসী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবেই দেশ থেকে নেতৃত্বদানকারী স্টার্টআপ উঠে আসবে।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দেন সেটা নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেছে। কিন্তু এখন এসে কেউ আর সেটি নিয়ে কোনো কথা বলতে চান না। কারণ, এখনকার ট্রান্সফরমেশন দেখে এটা আমরা নির্দিধায় বলতে পারি স্মার্ট বাংলাদেশ এখন সময়ের ব্যাপার।

এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, এটুআই সবসময় সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যখন জেসিআই এমন একটি সুযোগ তৈরি করল স্মার্ট বাংলাদেশকে জানানোর জন্য সামিটের সেখানে এটুআই খুব আগ্রহী হয়ে অংশ নেয়ার কথা জানায়। স্মার্ট বাংলাতেশ গড়ে তুলতে হলে বহুমুখী উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে হবে। এখনকার উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো জিনিসে ভয় পাওয়া যাবে না। তবেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ২০০৯ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ঘোষণা করেন এবং এখন ২০২৩ সালে এসে সেটার বাস্তবতা দেখি তখন এখন আর মানুষ ভাবে না স্মার্ট বাংলাদেশ হবে কিনা। কিন্তু মানুষ এটা বিশ্বাস করে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। সেখানে জেসিআইয়ের সঙ্গে বেসিস একসঙ্গে কাজ করছে। বাজেট অধিবেশন চলছে, এবারের বাজেটে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট সংক্রান্ত দুটি বিষয় উঠে এসেছে, একটি উৎসে কর ও ইনকাম ট্যাক্স। আমাদের দাবি, এগুলো রহিত করতে হবে। এটা শুধু আমার নয় নতুন জেনারেশন ও বেসিসের দাবি, যা উপস্থাপন করিছি সেটা আদায় করে দেবেন আপনারা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার বলেন, গত দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অভাবনীয় উন্নতি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত কয়েকবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ ও উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়াবে। সেই অর্থনীতি হবে তরুণদের মেধাভিত্তিক। আমাদের সেই মেধাভিত্তিক অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে এখনই।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার তার বক্তব্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ই-কমার্সের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখন ই-কমার্সের অবদান অনেক।

জেসিআই বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, জেসিআইয়ের জুনিয়ার চেম্বারের তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে চাই। ইয়াং উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছি। তাদের কীভাবে বিনিয়োগ দেওয়া যেতে পারে সে বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। সবাইকে এখন বিষয়টিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৩ এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক ভূঁইয়া বলেন, জেসিআই কাজ করছে স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশনকে লক্ষ্য রেখেই। সেই লক্ষ্য নিয়েই এই সামিট ও এক্সপো। স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে আমরা জেসিআইয়ের এই আয়োজন থেকে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে চাই। আমরা শুধু তরুণদের জন্যই না, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব। এ সময় তিনি এটুআইসহ সব পার্টনারদের ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া বক্তব্য দেন বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল্লাহ আজীম, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) বিজনেস ডিরেক্টর সোহেল তানভীর খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় জেসিআই বাংলাদেশের চেয়ারপারসন ও স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট অ্যান্ড ফাউন্ডেশন কমিটির আহ্বায়ক তাহসিন আজিম সেজানের ধন্যবাদ বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।

তিনি জানান, ‘এক্সপো আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নামী ব্র্যান্ডগুলো তাদের ভবিষ্যত স্মার্টসল্যুশন প্রদর্শন করার সুযোগ পাচ্ছে। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মোট ১১টি বিশেষ অধিবেশন বা সেশন থাকছে, উক্ত সেশনগুলোতে দেশ এবং দেশের বাইরের বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা উপস্থিত থাকবেন।’

জেসিআই স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট ও এক্সপো’র প্রধান লক্ষ্য বিশেষজ্ঞ আলোচনার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরা। আমন্ত্রিত অতিথি ও প্যানেলিস্টরা তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ এর সম্ভাবনাময় প্রতিটি দিক তুলে ধরবেন। এছাড়া স্মার্ট এক্সপোতে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য চমকপ্রদ সকল প্রযুক্তির প্রদর্শন। ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ কেমন হবে সেসবের ফিউচারিসস্টিকস আয়োজন।

আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে তথ্য প্রযুক্তি সংগঠন বেসিস, পোশাক শিল্পের সংগঠন বিজিএমইএ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ডেইলি স্টার, এটুআই, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউএনডিপি।

স্মার্ট বাংলাদেশ সামিট, এক্সপো ও সিওয়াইই অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর স্বপ্ন, পাওয়ার্ড বাই হুয়াওয়ে এবং প্লাটিনাম স্পন্সর বন্ডস্টাইন। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইশো, লিঙ্কথ্রি, ওয়েজলি, জিও, মাস্টারকার্ড, এমটিবি, ওয়ালটন, সানাফি কনস্ট্রাকশন, সিনগুলারিটি। অনুষ্ঠানে এন্টারটেইনমেন্ট পার্টনার চরকি, টেলিকম পার্টনার গ্রামীণফোন, ইউনিভার্সিটি পার্টনার উত্তরা ইউনিভার্সিটি, রিসার্চ পার্টনার ক্রিয়েভিশন, সেশন পার্টনার ফাইবার অ্যাট হোম, পিকাবু, ইনোভেশন ইন্টারন্যাশনাল, ফুড পার্টনার প্রিমিয়ার, পোলার। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে বাক্কো, ই-ক্যাব ও আইএসপিএবি।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে ওপেন হাউজ ডে

মিরসরাই প্রতিনিধি
‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’-মহাসড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং মলম পার্টির দৌরাত্ব প্রতিরোধসহ অন্যান্য অপরাধরোধকল্পে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের আওতাধীন জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের আয়োজনে হাইওয়ে থানা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক ও সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি সোহেল সরকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আদম আলী, এস আই দেলোয়ার হোসেনসহ সাংবাদিক, বিভিন্ন পরিবহণ মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় আসন্ন ঈদুল আজহায় মহাসড়কে নিরাপদে যাতায়াত, গরু চুরি, দুর্ঘটনার সাথে সাথে সেবা প্রদান, থ্রি হুইলার বন্ধ, ওভারলোড, ওভারস্পিড নিয়ন্ত্রণ ও মামলা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চালানো, রুট পারমিটবিহীন গাড়ী না চালানো, মহাসড়কে শৃংখলা মেনে গাড়ি চালানো, দুর্ঘটনা হ্রাস, ডাকাতি, ছিনতাই, মলম পার্টির দৌরাত্ব প্রতিরোধসহ অন্যান্য অপরাধ রোধকল্পে আলোচনা করা হয়।

 

 

মিরসরাইয়ে এসএসসি-২০০২ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে এসএসসি-২০০২ ব্যাচের পুণর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ জুন) দিনব্যাপী অনুষ্ঠান উপজেলার করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সারদিন হৈ হল্লুড, আড্ডা, খোশ-গল্প, খেলা-ধুলা ও শেল্পীবাজিতে দিন কাটে সবার। মনে সবাই ২১ বছর পূর্বের স্কুল জীবনে ফিরে গেছেন।
করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমিনুল আহসান রিমনের সভাপতিত্বে এবং সালাহ উদ্দিন ও মাঈনুদ্দিন রিপনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ¦ নুরুল আলম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন। এসময় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন করেরহাট ইউপি সদস্য শহিদ উল্যাহ, সাংবাদিক রাজিব মজুমদার, মোহাম্মদ ইউসুফ, আজিজ আজহার, সাদমান সময়, রেদোয়ান জনি, জুয়েল নাগ।

এসএসসি-২০০২ ব্যাচ করেরহাট ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকতার হোসেন।

খেলা পরিচালনা করেন আক্তারুজ্জামান সুমন, আজিম, নাহিদ, সরোয়ার জাহিদ। বেলুন ফুটানোতে আজমল, মোরগদের লড়াইয়ে ইব্রাহিম, কাঁঠাল খাওয়ায় আজিম, সুঁই সুতায় টুম্পা, স্লো বাইক রাইডে বিনয়, মোমবাতি প্রজ্বলনে ফারজানা প্রথম স্থান অর্জন করেন।
এসময় বন্ধুত্বের বন্ধন মিরসরাই-২০০২ ব্যাচের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক প্রদান করা হয়।

অভ্যর্থনায় সাইদুল, শুক্কুর, মামুন ভূইয়া, শৃঙ্খলায় মাহমুদুল হাসান, নিজাম উদ্দিন, খাবার বিতরণে তৌফিক, পেয়ার, সুজন, মাঈন আকাশ, ফারুক, ফটোগ্রাফার হিসেবে সরোয়ার উদ্দিন এবং স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অনির্বাণ যুব ক্লাবের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

পুনর্মিলনীর আয়োজন সম্পন্ন করতে আর্থিক অনুদান প্রদান করায় করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদ চৌধুরী, আমজাদ হোসেন ডলার, মফিজুর রহমান ও সাখাওয়াত হোসেনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

উক্ত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মিরসরাই উপজেলার ২৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সহ তিন শতাধিক লোকের সমাগম ঘটে।

সহপাঠী বন্ধু ও ব্যাচম্যাটদের আর্থিক অনুদান, স্পন্সর, সময়, শ্রম, পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে সুন্দর এবং সফল একটা অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ায় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন সকলকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেই সাথে আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকালে রেজিষ্ট্রেশন, পবিত্র কুরআন তেলোয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়ে। নাস্তা বিতরণ, ক্রমান্বয়ে মোট ৭ টি ইভেন্টে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, দুপুরের খাবার, ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা, ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণের এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

মিরসরাইয়ে জায়গা দখল চেষ্টার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন

মিরসরাই প্রতিনিধি :
মিরসরাইয়ে অবৈধভাবে জায়গা দখল চেষ্টা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার ৮নং দূর্র্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন রুবেল। শুক্রবার (৯ জুন) দুপুরে উপজেলার ঠাকুরদিঘীতে মরহুম মজিবুল হক চেয়ারম্যান বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে নাজিম উদ্দিন রুবেল বলেন, আমার বড় ভাই মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মিঠানালা মৌজায় মিঠাছরা বাজারে বিএস ২৯১২ ও ২৯৬০নং খতিয়ানে বিএস ২১২৫ দাগে ৭ শতক এবং দখল শর্তে ১ শতকসহ মোট ৮ শতক জায়গা ক্রয় করেন। উক্ত জমিতে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করলে গত ৪ জুন আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী নুরুল মোস্তফা পলাশ নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসী পলাশ তার বাহিনী নিয়ে আমাদের ক্রয়কৃত জায়গার মূল ফটকের তালা ভেঙ্গে ভূমির একটি অংশে বেইজ ঢালাই করে দখলের চেষ্টা চালায় ও ভবণ নির্মাণের জন্য রাখা রড সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসময় খবর পেয়ে আমি মিরসরাই থানার ওসিকে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পলাশ তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় আমি গত ৬ জুন মিরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পরবর্তীতে দখলদার সন্ত্রাসী পলাশ চট্টগ্রামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর মাধ্যমে আমাকে ও আমার পরিবারকে জড়িয়ে অসত্য ও আজগুবি বক্তব্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করায়। কোন প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়া একজন জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এমন অপপ্রচার বিরোধী দলের এজেন্ড ব্যতিত আর কি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের জায়গার সামনে সন্ত্রাসী পলাশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় অবৈধ ভাবে একটি দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি সার্ভেয়ার এর মাধ্যমে উক্ত জায়গাটি পরিমাপ করলে পলাশ কোন দলিলপত্র দেখাতে পারেননি। পলাশের বিরুদ্ধে আমি ৯নং মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পলাশকে একাধিকবার লিখিত নোটিশ প্রদান করলেও সে পরিষদে হাজির হয়নি। অবৈধ ভাবে জায়গা দখলের চেষ্টা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমরা ন্যায় বিচার কামনা করছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ হোসেন আরজু, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন মেম্বার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রওশন জামান সিদ্দিকী মাহি, ছাত্রলীগ নেতা আনিছুর রহমান প্রমুখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নুরুল মোস্তফা পলাশ বলেন, আমি তাদের জায়গায় দখল করিনি। উল্টো তারা তাদের ক্রয়কৃত জায়গা বুঝে না পেয়ে আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল করার চেষ্টা করায় আমি বাধা দিলে আমাকে মেরে রক্তাক্ত যখম করে।

 

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘১৪-১৮ সালে ভোট দিতে পারেনি জনগণ। সামনের নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন নির্বাচন খেলা খেলতে চাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কোনো নির্বাচন হবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে।’

 

শুক্রবার (৯ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে এক বিক্ষোভ মিছিলের আগে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোরসহ সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।

বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তা না হলে কোনো নির্বাচন হবে না বলে আবারো হুশিয়ারি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪-১৮ সালো মতো আবারো একতরফা নির্বাচনের জন্য সরকার নির্বাচনী খেলা খেলতে চায়, জনগণ তা আর হতে দেবে না।’

বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে বিএনপি মহাসচিব স্লোগান দিতে থাকেন, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও।’

অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে দ্রুত নির্দলীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিও জানান তিনি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারের সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন বিএনপি মহাসচিব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

এর আগে বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করে শ্রমিক কর্মচারী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে জড়ো হয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টায় নয়া পল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা একটু দেরিতে শুরু হয়।

এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিসে সামনের রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

লিও জেলার নতুন সেবাবর্ষের কার্যকরী কমিটি গঠন

 

লায়ন্স জেলার যুব সংগঠন লিও জেলা পরিষদের আগামী সেবাবর্ষের কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে লিও আতিক শাহরিয়ার সাদিফ ও সহসভাপতি পদে লিও ইসমাইল বিন আজিজ আলভী নির্বাচিত হয়েছন। গত ৫ জুন নতুন এই কেবিনেট ঘোষণা দেন ২০২৩–২৪ সেবাবর্ষের জেলা গভর্নর লায়ন এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তবে বিষয়টি গণমাধ্যম প্রকাশ করা হয়েছে আজ ৭ জুন বুধবার সকালে। একইসাথে লিও জেলার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য লিও ক্লাব চেয়ারম্যান হিসেবে লায়ন এ কে এম নবিউল হক সুমন এবং লিও ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ চেয়ারপার্সন হিসেবে লায়ন শুভ নাজ জিনিয়ার নামও ঘোষণা করা হয়।

লিও জেলা কার্যকরী ক্যাবিনেটে জেলা সচিব হিসেবে লিও মো. শওকত হোসাইন ও ট্রেজারার হিসেবে লিও রাফিদ মো. আহনাফের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও জিএলটি ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে লিও ওমর ফারুক, জিএমটি ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে লিও দীপ্ত দে, জিএসটি ডিস্ট্রিক্ট কোওর্ডিনেটর হিসেবে লিও মো. নুর হোসাইন, জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে লিও অনুপ কুমার দাস ও জয়েন্ট ট্রেজারার হিসেবে লিও শাহাদাত হোসাইনের নাম ঘোষণা করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মিরসরাইয়ে বিএনপির মোটর শোভাযাত্রায় হামলা আহত ১৫, গাড়ী ভাংচুর

মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের মোটর শোভাযাত্রায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মী কর্তৃক হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই সময় যুবদল-ছাত্রদলের ১৫জন নেতাকর্মী আহত হন। ভাংচুর করা হয় ৬টি মাইক্রোবাস ও ১২ টি মোটরসাইকেল। নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে দেশে ফিরে জিয়াউর রহমানের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে বুধবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলো চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইফতেখার মাহমুদ জিপসন, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মিনহাজ উদ্দিন সোহান, করেরহাট ইউনিয়ন যুবদল নেতা আকতার, হকসাব, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক, ধুম ইউনিয়ন যুবদল নেতা জিয়াউল ফারুক, হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মির্জা, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন যুবদল নেতা দিদার, সোহেল, মহিউদ্দিন, মিরসরাই পৌরসভা ছাত্রদল নেতা রাব্বি, মামুন, ইব্রাহিম, ইছাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা জুবায়ের, সৌরভ ও ছাত্রদল নেতা অনিক। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সকালে উপজেলার ওচমানপুর এলাকায় আলোচনা সভার আয়োজন ছিলো। যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটর শোভাযাত্রা করে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের সাথে ওচমানপুর যাচ্ছিলেন।
উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে। আমরা সংঘাত চাইনা। বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা চাই সুস্থ ধারার রাজনীতির মাধ্যমে মিরসরাইকে এগিয়ে নিতে। তিনি আরও বলেন, হামলায় আমাদের যুবদল-ছাত্রদরে ১৫ জন নেতকর্মী আহত, ৬ টি মাইক্রোবাস ও ১২ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এই ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, আমাদের কোন কর্মসূচী ছিলো না। বিএনপির কোন্দলের কারণে নিজেদের মধ্যে নিজেরা মারামারি করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।
জোরারগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইফুর রহমান বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মিরসরাইয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাঙ্গলেন এসিল্যান্ড!

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে শিশুদের বিনোদনের লক্ষ্যে নির্মানাধীন স্থাপনা অন্যায়ভাবে ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ করেছেন সুকান্ত কুমার রায় নামে এক হোমিও চিকিৎসক। ওই ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের পর কৃষি জমি ভরাট করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ ছাড়া ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই স্থাপনা ভেঙ্গে দেয় এসিল্যান্ড।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৬ জুন) বেলা ১২ টার সময় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ঝরনা সড়ক এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। বুধবার (৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আনেন ভূক্তভোগী হোমিও চিকিৎসক সুকান্ত কুমার রায়। এসময় তিনি মিরসরাই উপজেলা প্রকৌশলী রণি শাহ্, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. তাওহিদুল ইসলাম ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অনুমোদিত নকশা, এছাড়া মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ভবন তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদনের কাগজপত্র সাংবাদিকদের দেন।
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ভূমিতে ৩ তলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক ভবন উপজেলা পরিষদ থেকে সকল নিয়ম মেনে অনুমোদন নেয়ার পরও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে প্রশাসন অনৈতিকভাবে তা ভেঙ্গে দিয়েছে।’
এসময় সুকান্ত কুমার জানান, আমার মালিকানাধীন অনাবাদি পতিত ৩০ শতক জমিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ করে শিশুদের জন্য প্লে জোন ও একটি খাবারের ক্যাফে করার উদ্যোগ নিই। সেখানে ১০.৩৩ শতক জমিতে ৩ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের জন্য গত ২৯ মার্চ উপজেলা পরিষদে আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোট ৪১৮.২৩ বর্গমিটার ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদন (নম্বর-০৮/২০২২-২৩) দেন।
তিনি আরো জানান, ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার সময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমানকে জমির সকল দলিল ও খতিয়ানের কপি এবং ভবন নির্মাণের নকশা আমি সরবরাহ করি। কিন্তু তিনি আমার কোন কাগজপত্র পর্যালোচনা না করে গত ৬ জুন দুপুরে অন্যায় ভাবে আমার নির্মানাধীন ভবন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ভেঙ্গে ফেলেছেন। এতে করে আমার প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই টাকা আমি এবং আমার স্ত্রীর তিল তিল করে সঞ্চিত করেছি।
এসময় তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘ভবন ভাঙ্গার পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আমাকে কোন ধরণের সতর্কতা কিংবা নোটিশ প্রদান করেনি। আমি এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হবো।’
এদিকে ভূক্তভোগী সুকান্ত কুমার রায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বললে মিরসরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুকান্ত কুমার রায় কৃষি জমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছেন। তাকে এর আগেও একাধিকাবার ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছিলো।’ ভবন ভাঙ্গার পূর্বে কোন শতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করা হয়েছিলো কি না জানতে চাওয়া হলে এসিল্যান্ড বলেন, ‘তাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিলো।’ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে উপজেলা পরিষদ ও প্রকৌশল বিভাগের দেয়া অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মিজানুর রহমান দাবি করেন, ‘ভবন নির্মাণের অনুমোদনে উপজেলা চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিটি ভূয়া। সম্পূর্ণ লিগ্যাল ওয়েতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ভবনটি ভাঙ্গা হয়েছে।’
তবে সুকান্ত কুমার রায়ের নামে ১০.৩৩ শতাংশ জমিতে তিন তলা বিশিষ্ট ভবন অনুমোদন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার মতে সব ধরণের নিময় মেনে সুকান্ত কুমার রায়কে তিন তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
ভবনের চূড়ান্ত অনুমোদনের চিঠিতে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনের স্বাক্ষর ভূয়া বলে এসিল্যান্ড দাবি করলেও উপজেলা চেয়ারম্যান জানান, ‘এসিল্যান্ড আমাকে নকশা অনুমোদনের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যাতে দেখা যায় স্বাক্ষরটি আমার নয়। আমি ফাইলটি পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য সভা আহ্বান করেছি। তাছাড়া উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেও রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন দিতে পারে না।’

 

মিরসরাইয়ে কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ী জব্দ, আটক ২

মিরসরাই প্রতিনিধি :
মিরসরাইয়ে কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী সহ ২ জনকে আটক করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। সোমবার (৫ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌর বাজারে ফুট ওভার ব্রীজের নীচে চট্টগ্রামমুখী অংশে অভিযান চালিয়ে দু’টি মাইক্রো হাইচ গাড়ী জব্দ করা হয়। গাড়ী তল্লাশী করে ৩১টি গাইডের ভেতর ২ হাজার ৩০৫টি শাড়ী জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
এসময় গাড়ীর ড্রাইভার উপজেলার ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের মৃত শরিফ উদ্দিনের ছেলে মো. সোহাগ (৩৭) ও ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়িয়া গ্রামের মো. নুরুল হকের ছেলে রেজাউল করিম (২৬) কে আটক করা হয়।
মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, কতিপয় চোরাকারবারী সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় শাড়ী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় রাত পৌনে ৩টায় মহসড়কের মিরসরাই পৌর বাজারে ফুট ওভার ব্রীজের নীচে চট্টগ্রাম মুখী অংশে অভিযান চালিয়ে দু’টি মাইক্রো হাইচ (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৪২৫৪, চট্ট মেট্রো-চ-১১-৫৪২৫) গাড়ী আটক করা হয়। পরবর্তীতে গাড়ী তল্লাশী করে ভেতরে থাকা ৩১টি গাইডের মধ্যে ২ হাজার ৩০৫টি শাড়ী জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, গাড়ী চালক সোহাগ এর আগেও ভারতীয় শাড়ী চোরাচালান করার সময় আমাদের হাতে আটক হয়েছিলো। জেল থেকে বের হয়ে সে পুনরায় চোরা চালানে জড়িয়ে পড়ে। জব্দকৃত গাড়ী দু’টির মূল্য প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। গাড়ীর চালকদের আটক করা হয়েছে। চোরাচালানের সাথে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। এঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।