সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 93

জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন খালেদা জিয়া: ফখরুল

 

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। গতকাল রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত পদযাত্রাপূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, লোডশেডিং ও দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি।

 

পদযাত্রা পূর্বক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন খোকন, তানভীর আহমেদ রবিন, ইউনূস মৃধা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

 

মিরসরাইয়ে মাছ না দেওয়ায় জেলের উপর হামলা

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাইয়ে মাছ না দেওয়ায় এক জেলের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নুরনবী প্রকাশ কাবিলা (২৫) নামে এক সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ৫ টার সময় উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের বসুন্ধরা ৩ নং রাস্তার উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভূক্তভোগী সুজিৎ জল দাশ (৫০) মঙ্গলবার দুপুরে মিরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত নুরনবী প্রকাশ কাবিলা সাহেরখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকার মকছুদ আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির মকছুদ আহাম্মদ প্রকাশ মিয়ার পুত্র। ভূক্তভোগী সুজিৎ জলদাশ মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জল দাশপাড়া এলাকার মৃত ললিত মোহন জল দাশের পুত্র।

ভূক্তভোগী সুজিৎ জল দাশ বলেন, আমি একজন মাছ ব্যবসায়ী। প্রতিদিন সাগর থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে পরিবারের জন্য জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। নুরনবী প্রকাশ কাবিলা প্রায় সময় আমার থেকে মাছ নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যায়। মাছের টাকা চাইলে আমাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিতো। সর্বশেষ গত সোমবার (১২ জুন) সকালে আমি মাছ বিক্রি করে বাড়িতে চলে যাচ্ছি। এসময় নুর নবী আমার কাছে মাছ চাইলে আমি বলি মাছ নাই। তখন সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। গালিগালাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তখন আমাকে গাছের লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিল, ঘুষি মারে। এতে আমার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইউনুছ বলেন, সুজিৎ জলদাশের কাছে নুরনবী মাছ চেয়েছিলেন। সে মাছ আগে অন্যত্র বিক্রি করে ফেলায় তাকে দিতে পারেনি। এরপর তার উপর চড়াও হয় সে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরনবী প্রকাশ কাবিলার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ডিউটি অফিসার (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) সহকারি উপ-পরিদর্শক জসীম উদ্দিন বলেন, মারধরের বিষয়ে সুজিৎ দাশ থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মিরসরাইয়ে ব্র্যাক ব্যাংক রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় ও পুরস্কার বিতরণ

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ব্র্যাক ব্যাংক আয়োজিত রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীদের জন্য আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জুন) উপজেলার বারইয়ারহাট এজেন্ট আউটলেট আয়োজিত রেমিট্যান্স ড্রিম ক্যাম্পেইনে এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ একাউন্ট ক্রেডিটে রেমিট্যান্স গ্রহণ করে ১ম স্থান অর্জনকারি মঞ্জুরুল ইসলামের হাতে ১টি এসি তুলে দেওয়া হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের মাস্টার এজেন্ট মো. আশরাফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট প্রধান শাহরিয়ার জামিল, এজেন্ট ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্ট প্রধান মো. নাজমুল হাসান, এজেন্ট ব্যাংকিং চট্টগ্রাম ডিভিশনের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর কামরুল হাসান, মিরসরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম, ব্র্যাক ব্যাংক সীতাকু- শাখার ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান, এসএমই ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক, এজেন্ট ব্যাংকিং চট্টগ্রাম রিজিওনের টিম লিড কফিল উদ্দিন সহ ব্র্যাক ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, রেমিট্যান্স সুবিধাভোগী, গ্রাহক ও ব্র্যাক ব্যাংকের শুভাকাঙ্খীবৃন্দ।

 

মিরসরাইয়ে গাঁজা ও ফেন্সিডিলসহ মাদক কারবারি আটক

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে পাচারের সময় গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা হাইওয়ে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ জুন) বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে সোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে মাদকের চালান আটক করা হয়। এসময় মাদক বহনের কাজে ব্যবহত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে। এসময় মিরসরাই উপজেলা ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামের আহম্মদ আলী সওদাগর বাড়ির জসীম উদ্দিনের ছেলে বেলায়েত হোসেনে সোহেলকে (২৫) আটক করা হয়।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহেল সরকারের নেতৃতে¦ চট্টগ্রামগামী একটি গাড়ি সিগনাল দিলে না দাঁড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্টো গ, ১১-১৮১৪) ধাওয়া করে চালককে আটক করে। মাদকের চালানটি ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকা থেকে চট্টগ্রামের একেখান এলাকায় নিয়ে যাচ্ছিলো। পরে গাড়ীর পেছনের ডিকিতে থাকা ৩টি চটের বস্তায় ১০টি প্যাকেটে ১৯ কেজি গাঁজা ও ৩ টি পলিথিনের প্যাকেটে ৭৫ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।

এবিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহেল সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে সোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারসহ একজন মাদক পাচারকারীকে আটক করি। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জরুরি-ভিত্তিতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের ভর্তি করানো হয়েছে।

 

সোমবার (১২ জুন) দিবাগত ১টা ৪০ মিনিটে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং পরেই তাকে ভর্তি করানো হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।

তিনি জানান, ‘রাত ১টা ১৫ মিনিটে ম্যাডামকে নিয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। রাত ১২টার পরে অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।’

চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়।

রাত পৌনে ১টার দিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার বাস ভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন। এর আগে চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসও সেখানে যান।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, চোখের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছেন।

এর আগে, মে মাসে নিয়মিত চেকআপ করতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। দু’দিন পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি তার বাস ভবন ফিরোজায় ফিরেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়েছিলেন। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে। এরপর কয়েক দফায় তার দণ্ডাদেশ স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

 

মিরসরাইয়ে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ফেন্সিডিল সহ গ্রেপ্তার ৩

মিরসরাই প্রতিনিধি :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌর সদরে অভিযান চালিয়ে পৃথক অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজা ও ৩০ বোতল ফেন্সিডিল সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ জুন) সকালে যাত্রীবাহি এসি বাস গ্রীনলাইন পরিবহণ থেকে মিরসরাই উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. পারভেজ উদ্দিন (৩০), একই ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন প্রকাশ সাদ্দাম (২৯) ও সিডিএম ট্রাভেল্স এ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের মোছনী রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের রেদোয়ানের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, সোমবার সকালে মিরসরাই পৌর সদরে মহাসড়কে চট্টগ্রামমুখী বিভিন্ন গণপরিবহনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সকাল পৌনে ৮টায় যাত্রীবাহি এসি বাস গ্রীনলাইন (রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪৪০১) তল্লাশী করে ৭ কেজি গাঁজা ও ৩০ বোতল ফেন্সিডিল সহ মো. পারভেজ উদ্দিন ও মো. সাহাব উদ্দিন গ্রেফতার করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহি বাস সিডিএম ট্রাভেল্স (রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৮৩৫) তল্লাশী করে ৭ কেজি গাঁজা সহ রহমত উল্লাহ (১৯) কে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১৪ কেজি গাঁজার বাজার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ৩০টি ফেন্সিডিলের মূল্য ৩০ হাজার টাকা। তাদের বিরুদ্ধে মিরসরাই থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

 

মিরসরাইয়ে ২৭ বছর পর পৈত্তিক সম্পত্তি ফিরে পেলেন একটি পরিবার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরসরাইয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা জায়গা পৈত্তিক সম্পদ ফিরে পেয়েছেন একটি পরিবার। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত জায়গার পরিমাপ করে সীমানা দিয়ে কবলা সূত্রে মৃত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ওয়ারশিদের বুঝিয়ে দেন।
জানা গেছে, পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল ইসলামের পুত্র মরহুম নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মধ্যম মঘাদিয়া মৌজার বিএসদাগ নং-৫৫৯২৪, বিএসখতিয়ান ৩৮৩ দাগের ২২ শতক জমি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে আসছে মৃত নরুল ইসলামের মেয়ে হাসনা হেনা, আবুল বশরের পুত্র মফিজুল করিম জুয়েল ও মোহাম্মদ গোলামের পুত্র সাইফুল ইসলাম।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর মামলা চালাতে গিয়ে পিতৃহারা হয়েছেন আবদুল হালিম বাবু, মেহেদী হাসান বাপ্পি ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেও নিজেদের জায়গা পেয়ে ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে উদযাপন করেন।
এ সময় মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন, মিরসরাই পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ করিম রানাসহ এলাকার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
মৃত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী ফেরদৌসি খানম বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত আমার স্বামীর ২২ শতক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে আসছে ৩ ব্যক্তি। এই জায়গার জন্য আমার স্বামী পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। আমার সন্তানরা এই জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে অনেক মামলা-হামলার স্বীকার হয়েছেন। আমি সু-বিচার পেয়েছি এই জন্য প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর যেন আমার সন্তানদের মামলা-হামলা দিয়ে কেউ যেন হয়রানি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন আপনারা।

মৃত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার পুত্র মাহফুজুর রহমান রাব্বি বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে এই মামলা শুরু। মামলা শুরু হওয়ার পর থেকে যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত রায় দে, তারপর এটা আপিল হয়ে ৬ষ্ঠ আদালতে যায়, সেখানেও নিষ্পত্তি হয়। তারপর হাইকোর্টে যায়, হাইকোর্ট থেকেও নিষ্পত্তি হয়। হাইকোর্ট থেকে বিজ্ঞ আপিলে সুপ্রিম কোর্টে যায় সেখানেও আমার বাবার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়। এরপর তারা আপিল করে রিভিশন পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, ৭ জন বিচারপতি লাস্ট রিভিশনের রায়টা আমাদের পক্ষে দেয়। এই সম্পূর্ণ রায় ডিগ্রীর প্রেক্ষিতে আমি ২০২১ সালে ৬/২১ মামলা দায়ের করি। অপর জারি মামলা। ওই মামলায় আমি আদেশ প্রাপ্ত হয়ে মিরসরাই সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে কবলাপাপ্ত হয়। কবলাপাপ্ত হওয়ার পর আমি আমার জায়গা আইনানুগভাবে এই জায়গা উচ্ছেদের জন্য জেলা যুগ্ম জজ আদালত থেকে আদেশ পাই।
রাব্বি আরও বলেন, আমরা যখন ছোট বেলায় স্কুলে যেতাম, তখন রাস্তায় দিয়ে যেতে পারতাম না। জমিনের মধ্যদিয়ে যেতাম। যেখানে হাটুপরিমাণ পানি থাকতো।

 

মিরসরাইয়ে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে জামায়াতের আর্থিক সহায়তা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের মিঠানালায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৭টি পরিবারের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে মিরসরাই উপজেলা জামায়াত। মিঠানালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব মলিয়াইশ গ্রামের দর্জিপাড়া কাজিম উদ্দিন হাজ্বী অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিটি পরিবারের মাঝে রোববার (১১ জুন) আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের একটি টিম উপজেলা আমীর মো. নুরুল কবিরের নেতৃত্বে ওই বাড়ি পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্থ ১৭ পরিবারের সবাইকে নগদ আর্থিক অনুদান, কুরআন শরীফ ও জায়নামাজ প্রদান করে তাদের জন্য দোয়া করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আলা উদ্দিন, জামায়াত নেতা কলিমুল্লাহ, মাওলানা ইকরামুল হক, ইমদাদুল হক, দিদারুল আলম প্রমুখ।

গত রবিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১২ টার সময় মামুনের রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে ওই বাড়ির ১৭ পরিবারের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, জায়গা জমির কাগজপত্র সহ পুড়ে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

 

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি জীবন্ত ইস্যু : মির্জা ফখরুল

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি জীবন্ত ইস্যু। সারা বিশ্ব চায় বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হোক।

 

রোববার (১১ জুন) দুপুরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে আওয়ামী লীগ ১০টি আসনও পাবে না। এ জন্যই এই দলের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ডেড ইস্যু। কিন্তু না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি জীবন্ত ইস্যু। সারা বিশ্ব চায় বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হোক।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা একটি সন্ত্রাসী দল। তাই তারা নির্বাচন চায় না। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দেয় তারা সন্ত্রাসী ছাড়া আর কিছুই না। তাদের সাথে ফয়সালা হবে এবার রাজপথেই।’

গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে, দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেন পেরেছেন এবং আওয়ামী লীগ কেন পারে নাই এ জন্য তাদের ঈর্ষা হয়। শত্রু মারা হেলেও মানুষ শোক জানায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোনো নেতা মারা গেলেও শোক জানায় না। জিয়াউর রহমানের নামাজে জানাজায় ৩০ লক্ষাধিক লোক কেন হলো এবং বঙ্গবন্ধুর জানাজায় কেন লোক হলো না এ জন্যও আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়।

বিএনপির লক্ষ্য একটিই- গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার
বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু বলেন, বিএনপির লক্ষ্য একটিই- গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার করা। বিএনপি ছাড়া যারাই ক্ষমতায় গেছে তারাই গণতন্ত্র হরণ করেছে। দেশে দুটি শক্তি- একটি গণতন্ত্রের পক্ষের, আরেকটি বিপক্ষের। বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষের স্বীকৃত শক্তি।

একজন কাউন্সিলরকে দিয়ে ১২ লাখ ভোটারকে অপমান করা হয়েছে
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা: মাজহারুল আলম বলেন, অবৈধ এই সরকার শুধু কেন্দ্রীয়ভাবেই নয়, স্থানীয় কোনো নির্বাচনেও জনগণের রায়কে মেনে নেয় না। গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর নির্বাচিত কোনো মেয়রকেই দায়িত্ব পালন করতে দেয়নি। একজন কাউন্সিলরকে দিয়ে গত দুটি নির্বাচিত পরিষদ পরিচালনা করে ১২ লাখ ভোটারকে অপমান করা হয়েছে।

দলবল নিয়ে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতাদের সম্মেলনে যোগদান
এদিকে, দলের মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে অংশ নেন সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিযোগে বহিষ্কৃত নেতারা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় শোডাউন করেছেন সদর মেট্রো থানা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আজমল হোসেন ভূইয়া। তিনি বিশাল মিছিল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাকেসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৩১ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। সম্মেলনে বহিষ্কৃত নেতাদের অধিকাংশকেই দলবল নিয়ে যোগদান করতে দেখা যায়।

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এম মঞ্জুরুল করীম রনির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো: শওকত হোসেন সরকারের সঞ্চালনায় নগরীর বাসন থানার টেকনগ পাড়ায় সাগর সৈকত কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।

বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, কেন্দ্রীয় নেতা মো: ওমর ফারুক সাফিন, ডা: মাজহারুল আলম, সাঈদ সোহরাব, আবু আশফাক, কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, মেয়র মো. মজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, মহানগর বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জাামান ননী, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম শামীম, মো: সুরুজ আহমেদ, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাভেদ আহমেদ সুমন, বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ, গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল, কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সভাপতি মো: ইদ্রিস আলী, কাশিমপুর থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আলী হোসেন, পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বকুল, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক এজিএস সাজেদুল ইসলাম, মহানগর কৃষকদলের সভাপতি আতাউর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন শাহীন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রুহানুজ্জামান শুক্কুর, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী শিরিন চাকলাদার, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

মনোহরদীতে খাটের নিচে ৬ দিন লাশ রেখে বসবাস!

 

নরসিংদীর মনোহরদীতে ভন্ড পীরের কথা রাখতে খাটের নিচে নাজমা বেগম (৫৬) নামে এক গৃহবধূর লাশ নিয়ে ছয় দিন বসবাস করেছে নিহতের স্বামীসহ তার চার মেয়ে। এলাকাবাসীর মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মনোহরদী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবাসহ চার মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মনোহরদী বাজার সংলগ্ন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোক্তার উদ্দীন (৬৮) নিজের বাড়িতে তার স্ত্রী নাজমা ও চার মেয়েসহ দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছিল। গত সোমবার ভোরে নাজনা বেগম মারা যান। নাজমা বেগম নাকি মৃত্যুর আগে তার পরিবারের সবাইকে বলে যান, তার পীর বলে গেছেন মৃত্যুর তিন থেকে চার দিন পর তিনি পুনরুজ্জীবিত হবেন। এজন্য যেন তাকে দাফন না করা হয়। নাজমার এমন কথার ভিত্তিতে বিশ্বাসে পরিবারটি তার লাশ বসত ঘরের খাটের নিচে রেখে খুব স্বাভাবিক ভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেও প্রতিবেশিদের কেউ মৃত্যুর এমন ঘটনা আঁচ করতে পারছিল না।

পরে লাশ পঁচা দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের খাটের নিচ থেকে নাজমার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় মোক্তার উদ্দীন ও তার চার মেয়ে ঘরের ভেতরই অবস্থান করছিলেন।

জানা যায়, মুক্তার উদ্দীনের বাড়ি মনোহরদী উপজেলাধীন অর্জুনচর গ্রামে। মনোহরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জমি কিনে বাড়ি করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, পরিবারটি এক পীরের মুরিদ ছিলেন বলে জানা যায়। তারা প্রতিদিন ভোর ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত জিকির করতেন। জিকিররত অবস্থায় নাজমার মৃত্যু ঘটে বলে তারা পুলিশকে জানিয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টার ও পরবর্তী তদন্তে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।