সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 97

মিরসরাইয়ে আম কুড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ গেলো নওরিনের

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে গাছ থেকে ঝরে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে নুসরাত জাহান নওরিন ( ৮) নামে এক স্কুল ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৬ মে) দুপুরে উপজেলার ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের নজু ভূঁইয়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নুসরাত ওই বাড়ির আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। একইদিন বিকেলে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। সে ভূূঁইয়ার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো।

নওরিনের চাচা নাছির উদ্দিন বলেন, আমার ভাতিজি মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে পাশ^বর্তি বাড়ির পুকুর পাড়ে আম কুড়াতে যান। এসময় পুকুরে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়। আমার ভাইয়ের তিন সন্তানের মধ্যে নওরিন বড় ছিলো।

সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এভাবে পানিতে ডুবে মেয়েটি মারা যাওয়া খুবই দুঃখজনক।

 

গাসিক নির্বাচন : ২৯ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

 

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপির ২৯ জনকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৬ মে) দলটির পক্ষ থেকে ওই প্রার্থীদের আলাদা করে বহিষ্কারের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৫ মে অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রহসনের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আপনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে গত ১১ মে তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না দেয়ার তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হলেন যারা
(১) হাসান আজমল ভূঁইয়া, আহ্বায়ক, সদর মেট্রো থানা যুবদল (২৮ নম্বর ওয়ার্ড)
(২) হান্নান মিয়া হান্নু, সাবেক আহ্বায়ক, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২৬ নম্বর ওয়ার্ড)
(৩) মোছলেম উদ্দিন মুসা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাসন মেট্রো থানা বিএনপি (১৭ নম্বর ওয়ার্ড)
(৪) সফিউদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি (৩৭ নম্বর ওয়ার্ড)

(৫) ফয়সাল সরকার, আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর শ্রমিকদল (১৭ নম্বর ওয়ার্ড)
(৬) এ্যাড. নজরুল ইসলাম বিকি, সদস্য সচিব, পূবাইল মেট্রো থানা বিএনপি (৪০ নম্বর ওয়ার্ড)
(৭) সুলতান উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাবেক আহ্বায়ক, পূবাইল মেট্রো থানা বিএনপি (৪২ নম্বর ওয়ার্ড)
(৮) মজিবর সরকার, সভাপতি, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২৫ নম্বর ওয়ার্ড)
(৯) মাহবুবুর রশিদ খান শিপু, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২৪ নম্বর ওয়ার্ড)
(১০) সবদের আহাম্মদ, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২২ নম্বর ওয়ার্ড)
(১১) খায়রুল আলম, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২৯ নং ওয়ার্ড)

(১২) জি এস মনির, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২৯ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৩) শহিদ, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (২১ নং ওয়ার্ড)
(১৪) মোঃ তানভির আহমেদ, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (১৯ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৫) শাহিন আলম, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (১৯ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৬) আনোয়ার সরকার, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (৩০ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৭) রফিকুল ইসলাম রাতা, সদস্য, সদর মেট্রো থানা বিএনপি (১৬ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৮) আবুল হাশেম, সদস্য, গাজীপুর মহানগর বিএনপি (৫৫ নম্বর ওয়ার্ড)
(১৯) সেলিম হোসেন, সদস্য, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি (৫৫ নম্বর ওয়ার্ড)
(২০) মোঃ ফারুক হোসেন খান, সাবেক সদস্য, গাজীপুর মহানগর বিএনপি (৩৫ নম্বর ওয়ার্ড)
(২১) খন্দকার নুরুন্নাহার, সিনিয়র সহ-সভাপতি, গাজীপুর মহানগর মহিলাদল (২৫,২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড)
(২২) কেয়া শারমিন, সহ-সভাপতি, গাজীপুর মহানগর মহিলা দল (৫২,৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৩) ফিরোজা বেগম, সদস্য, গাজীপুর মহানগর মহিলা দল, (৪৬,৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৪) হাসিনা মমতাজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দল (৪৬,৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৫) অ্যাডভোকেট আলম, সাবেক সভাপতি ১১ নম্বর (১১ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৬) আউয়াল সরকার, সভাপতি, ৩৭ নম্বচর ওয়ার্ড বিএনপি (৩৭ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৭) মো: মাহফুজুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, গাছা থানা বিএনপি (৩৪ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৮) মোবারক হোসেন মিলন, যুব বিষয়ক সম্পাদক, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি (৪৯ নম্বর ওয়ার্ড)
(২৯) ইঞ্জি, মনিরুজ্জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল (৫১ নম্বর ওয়ার্ড)

 

মিরসরাইয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্ট, মৃত্যু শয্যায় রোগী

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট নাইটেঙ্গেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্টের কারণে মৃত্যু পথযাত্রী সদ্য সন্তান প্রসব করা এক নারী। সে এখন চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার স্বর্নার রক্তের গ্রুপের ভুল রিপোর্ট দেয় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। তবে গ্রুপ নির্ণয়ের রিপোর্ট নাইটেঙ্গেলের হলেও এই রিপোর্ট গৃহবধূ সোনিয়ার নয় বলে জানান, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাজীব পাটোয়ারী। তিনি বলেন, এই রিপোর্ট নাইটেঙ্গেলে করা তা ঠিক, কিন্তু এই রিপোর্ট সোনিয়ার নয় অন্যকোন রোগীর।

এবিষয়ে রোগী সোনিয়ার স্বামী মাসুদ রানা জানান, আমার প্রথম সন্তান হওয়ার সময় ২০১৯ সালে নাইটেঙ্গেলে ডাক্তার দেখালে সেসময় তার রক্তের গ্রæপের এই রিপোর্ট দেয়া হয়। নামের বিষয়ে সেসময় জিজ্ঞেস করলে তারা বলে রিপোর্ট আপনাদের ঠিক আছে নাম লিখার সময় ভুলে সোনিয়ার জায়গায় স্বর্ণা লিখা হয়ে গেছে। এটা তারা ভুল করেছে। আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুর পথে।

জানা গেছে, প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে গত ১১ মে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন গৃহবধূ সোনিয়া। নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা না থাকায় পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সিজারের সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বরত চিকিৎসক নাছিমা আক্তার। সিজারের পর রক্তক্ষরণ হওয়ায় এক ব্যাগ রক্ত সঞ্চালনের পরামর্শ দেন তিনি। রোগীর আত্মীয়রা আগে থেকেই রক্তোর গ্রুপ এ পজিটিভ হিসেবে পরিক্ষা করানো রিপোর্ট আছে জানান। সে অনুযায়ী এ পজিটিভ রক্তোর সঞ্চালন করা হয়। তবে রক্ত সঞ্চালনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকলে পরবর্তীতে গ্রুপ নির্ণয় করে দেখতে পান রোগীর রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ।

এবিষয়ে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক কামাল উদ্দিন চৌধুরী জানান, সোনিয়া আক্তার নামের এক রোগী গত ১১ মে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি হয়। ওই রাত সাড়ে ৯ টায় সিজারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন। ১২ মে সকালে তার শরীরে রক্তের প্রয়োজন হলে তখন চিকিৎসক তার রক্তের গ্রুপ জানতে চাইলে রোগীর স্বামী নাইটেঙ্গেলের ২০২১ সালের ৩ মার্চ তারিখে পরীক্ষা করা একটি রক্তের গ্রুপের দালিলিক কাগজ প্রদান করেন। যাতে রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ লেখা রয়েছে। এর পরেও চিকিৎসক রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে চাইলে রোগীর স্বামী বলে রক্তের গ্রুপ কি বার বার পরিবর্তন হয় বলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করতে দেয়নি। এছাড়া তিনি রক্তের এ পজেটিভ গ্রুপের একজন ডোনারও সাথে নিয়ে আসেন রক্ত দেওয়ার জন্য। ডোনারের গ্রুপ ম্যাচ করে তখন চিকিৎসক রোগীর শরীরে রক্ত পুশ করেন। কিছুক্ষণ পরে রোগীর শরীরে সমস্যা দেখা দিলে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রোগীর শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করলে তকন রক্তের গ্রুপ ও পজেটিভ আসে। আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য পাশবর্তি লাইফ কেয়ারে পরীক্ষা করালে সেখানেও ও পজেটিভ আসে। এরপর আমরা রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে রেফার করেছি।

জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাছিমা আক্তার জানান, যেকোন রোগীকে গর্ভবতি অবস্থায় যখন দেখাতে নিয়ে আসে আমরা তখন অবশ্যই রোগীর রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানার জন্য যা করা দরকার করে থাকি। এ রোগীকে যখন গ্রুপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো সেসময় তারা নাইটেঙ্গেলের রিপোর্ট আমার নিকট জমা দেয় এবং রক্তের গ্রুপ এ পজিটিভ বলে জানায়। তাদের করা আগের রিপোর্টে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল থাকায় এ সমস্যাটা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাকে এখনো কেউ জানায়নি। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

মহেশখালীতে মোখার প্রভাবে ৩ লবণচাষি নিহত

 

ঘূর্ণিঝড় মোখা যখন উপকূলীয় অঞ্চলে তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের চাষিরা ঝড়ের কবল থেকে লবণ রক্ষার চেষ্টা করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে তিন লবণচাষি নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় আরো কয়েকজন।

 

রোববার সন্ধ্যার পরে এ ঘটনা স্থানীয়রা জানতে পারে।

নিহতরা হলেন মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজীর পাড়া গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে রিদোয়ান (৩৫), পানিরছড়া গ্রামের আকতার কবিরের ছেলে মুহাম্মদ নেছার (৩২) ও পানিরছড়া বারঘরপাড়ার মরহুম মতিনের ছেলে মো: আনছার।

হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর কাশেম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টায় পলিথিন ও লবণ উঠানোর জন্য ৪০-৫০ জন শ্রমিক মাঠে যায়। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করে ঠান্ডায় ছয়-সাতজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিদওয়ানকে (৩৫) কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকিদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

অন্যদিকে লবণ মাঠে পলিথিন উঠাতে গিয়ে মৃত্যু হয় মুহাম্মদ নেছার নামের আরেকজনের। তাকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় সোনা মিয়া নামের আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া রাত সাড়ে ১১টায় লবণ মাঠে খুঁজে আনছারের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, হোয়ানক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১০-১৫ জন লবণচাষি এখনো ঘরে ফিরেনি।

মহেশখালী হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক জানান, মোখার প্রভাবে ঠান্ডাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, ‘তিন শ্রমিকের মৃত্যু ও কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার কথা শুনেছি।’

 

মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান ওসি হায়দারের গাড়িতে হাসপাতালে গেলেন প্রসূতি নারী

 

ঘূর্ণিঝড় মোখা আতংকে বাড়িঘর ছেড়ে এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেওয়া এক প্রসূতি নারীকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার।

শনিবার (১৩ মে) দিবাগত রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে প্রসব বেদনা উঠলে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো যানবাহন না থাকায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন ওসি।

প্রসূতি নারীর নাম জয়নব বেগম (১৯)। তিনি পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বামুলা পাড়ার যুবক মো. আরকান (২২) এর স্ত্রী।

জানা যায়, আশ্রয়কেন্দ্রে রাত ১ টার দিকে প্রসববেদনায় কাতরাতে শুরু করলে হাসপাতালের নিচে গাড়ি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন আরকান। কিন্তু মধ্যরাতে তিনি কোন গাড়ি পাচ্ছিলেন না। ঠিক ওই সময় আশ্রয়ণ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার। দুর্গত দম্পতির অসহায়ত্ব দেখে তাঁদের নিজের সরকারী গাড়িতে তুলে নেন তিনি। দিয়ে আসেন ১২ কিলোমিটার দূরের সরকারী হাসপাতালে।

আশ্রয় কেন্দ্রে আসা স্থানীয় অপর নারী ফাতেমা বেগম বলেন, ঠিক ওই মুহূর্তে জয়নবকে হাসপাতালে পৌঁছানো না গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো। কারণ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে কোনো ধাত্রী পাওয়া যায়নি।

স্বামী মো. আরকান বলেন, স্ত্রী জয়নবকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছায় এখন আর ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। দুর্যোগকালীন সময়ে বিপদে এগিয়ে আসার পুলিশের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ওই নারীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে তিনি বাচ্চা জন্ম দেবেন।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে প্রসব বেদনায় কাতরানো ওই নারীকে আমি দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছি। ওই মুহূর্তে আমার সরকারী গাড়ি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিলো না। পুলিশের কাজ তো জনকল্যাণ। আমি সে কর্তব্য পালন করেছি মাত্র।

উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’

 

সকাল থেকে কক্সবাজার ও উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’। এটি আরো উত্তর উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ মিয়ানমারের সিটুয়ের কাছ দিয়ে কক্সবাজার ও উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 

রোবাবার সকাল ৮টায় আবহাওয়া অধিদফতরের ১৮ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এটি ক্রমশ বাংলাদেশের উত্তর-উত্তরপূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ (আট) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা ও এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ (আট) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার নদী বন্দরসমূহকে ৪ (চার) নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী (৪৪-৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারী (৮৯ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ওমানে মিরসরাই সমিতির কার্যক্রম শুরু

মিরসরাই প্রতিনিধি
মানবিক কাজে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে চট্টগ্রামের মিরসরাই’র প্রবাসীরা গঠন করেছে ‘ওমান মিরসরাই সমিতি’। শুক্রবার ( ১২ মে) দেশটির রাজধানী মাস্কাট শহরের কুরম পার্কে প্রায় শতাধিক মিরসরাই প্রবাসীকে নিয়ে সভা ও মিলনমেলার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।

এসময় নুরুল করিমের সঞ্চালনায় ওমান মাস্কাটের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও ওমান মিরসরাই সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পুরো আয়োজনের পরিচালনা করেন কামরুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম।

পরে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা গঠন করা হয়। সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া পর্যন্ত সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন- তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নুরুল করিম, ইমাম হোসেন ও মোহাম্মদ সাকিব।
আহবায়ক কমিটি জানায়, খুব শিগগিরই ওমান মিরসরাই সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

 

কক্সবাজার-টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে

 

 

‘ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৯০ কিলোমিটার। মোখার প্রভাবে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। তবে, জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জলাবদ্ধতা ও ভয়াবহ পরিস্থিতি হওয়ার সুযোগ নেই।’

শনিবার (১৩ মে) বিকেলে ঘূর্ণিঝড় মোখার সবশেষ অবস্থান তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

আরও পড়ুন>> ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন যেহেতু একটা দ্বীপ। সেখানে পানি পশ্চিম পাশ থেকে পূর্ব পাশে চলে যাবে। জলাবদ্ধতা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে সেই রকম নয়। তবে, জলোচ্ছ্বাস হলেও পানি একপাশ থেকে এসে আরেক পাশ দিয়ে নেমে যাবে।

 

মোখার কারণে আর কোনো সংকেত বাড়ানো হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, উপকূলে আঘাত হানার আগে আর কোনো সংকেত দেওয়া হবে না। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা এসব জেলায় এর প্রভাব পড়বে। ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বাতাসের গতি ১৭০ থেকে বেড়ে ১৯০ কিলোমিটার হয়েছে। এটি রোববারের আগে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। এ মুহূর্তে এটির শক্তি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছি না। অতিপ্রবল অবস্থায় এটা অতিক্রম করবে। রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ যেকোনো এটি উপকূল অতিক্রম করবে। কক্সবাজার ও এর উত্তরে যতই ধাবিত হবে জলোচ্ছ্বাসের গতি তত কম। তবে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

 

হঠাৎ করে সংকেত বাড়ানোর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৮, ৯ ও ১০ তিনটাই মহা বিপৎসংকেতের আওতায়। কোন অঞ্চল দিয়ে এটা অতিক্রম করবে তার ওপর নির্ভর করে ৮, ৯ ও ১০ নির্ধারণ করা হয়। যেহেতু কক্সবাজারের কাছাকাছি টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দিয়ে এটি অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। সেজন্য কক্সবাজারকে মহা বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের পরিধি ৭৪ কিলোমিটার। এটি যদি সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ দিক দিয়েও প্রবাহিত হয়। কেন্দ্রের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সেন্টমার্টিন ও টেকনাফে পড়বে। উপকূলের ঘূর্ণিঝড়ে বড় অংশ আঘাত হানবে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা। সন্ধ্যা ৬টার আগে এটার আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা এর প্রভাব থাকবে। এরপর এটি দুর্বল হয়ে পড়বে।

 

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। গতি আরও বাড়বে। উপকূলের কাছাকাছি এলে গতিবেগ বেড়ে ২০ পর্যন্ত হতে পারে। সিত্রাংয়ের সময় উপকূলে আঘাত হানার গতিবেগ ছিল ৫৬ কিলোমিটার। মোখাও উপকূলে এলে এর গতি ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে। ৬০০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি অতিক্রম করবে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ ১৭৫ কিমি বেগে উপকূলে আঘাত হানতে পারে

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি উপকূলে আঘাতের সময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার।’

 

শুক্রবার (১২ মে) ঘূর্ণিঝড় মোখার সবশেষ অবস্থান তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

তিনি বলেন, মোখার প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার (১৩ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস শুরু হতে পারে। তখন থেকে ওইসব এলাকায় এর প্রভাব শুরু হবে। বৃষ্টিপাতের সাথে বইবে দমকা বাতাস। পরদিন রোববার উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

তিনি আরো বলেন, মোখার গতি কমেছে। এটি আগে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছিল। কিন্তু এখন তা কমে গড়ে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে। বর্তমানে এর গতি ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার। এ গতিবেগ থাকলে রোববার দুপুর নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল দিয়ে এবং মিয়ানমারের উত্তর উপকূল দিয়ে মোখার অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলা পুরোটাই এ মোখার আওতায় থাকবে। এখন পর্যন্ত ঝুঁকিতে আছে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ। এ ছাড়াও রয়েছে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া।

এই আবহাওয়াবিদ বলেন, এখন পর্যন্ত মোখার সুপার সাইক্লোন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সিডরের মতো আই ফরমেশন বা চোখাকৃতির তৈরির দিকে এগুচ্ছে।

আজ থেকে সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। ১৩ তারিখ থেকে সারা দেশেই বেড়ে যাবে বৃষ্টিপাত।

সকাল পর্যন্ত উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোলেও একপর্যায়ে এটি উত্তর দিকে বাঁক নেয় এবং বিকেল নাগাদ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অর্থাৎ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলে আগানোর আশঙ্কা রয়েছে।

আবারও চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন মিরসরাই থানার কবির হোসেন

মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলায় আবারো শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন। বৃহস্পতিবার (১১ মে) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অপরাধ বিষয়ক সভায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসির নাম ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার এস.এম. শফিউল্লাহ বিপিএম। এসময় তিনি মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেনের হাতে সম্মাননা সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে উপ-পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। ২০২২ সালের ৬ মার্চ মিরসরাই থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন মো. কবির হোসেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কবির হোসেন মিরসরাই থানায় যোগদান করার পর কৃতিত্বের সাথে কাজ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক, ছিনতাই, চুরি ও চুরিকৃত মালামাল উদ্ধারসহ বেশ কিছু মামলার আসামি ও অপরাধীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছেন

তিনি মিরসরাই থানায় যোগদান করার পর দ্বিতীয় বারের মতো চট্টগ্রাম জেলা শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন।

এই বিষয়ে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও উত্তম কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ মাননীয় পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জেলা এস এম শফিউল্লাহ বিপিএম মহোদয় আমাকে শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করেন।