মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 98

মিরসরাইয়ে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ১ হাজার ৬৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট বাজার এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে মিরসরাই থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার ফজলুল কবিরের পুত্র মো. ইকবাল হোসেন (৩৯) ও নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর থানার বিরামপুর এলাকার মৃত কাজী মনিরুল ইসলামের পুত্র কাজী মো. ইয়াছিন (৪০) কে ১ হাজার ৬৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মিরসরাই থানা পুলিশের একটি টিম উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট বাজার এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে ইমপেরিয়াল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী (এসি বাস) যাহার নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-১৮০৩ ইয়াবাসহ ইকবাল ও ইয়াছিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-০৬) দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

মোখা ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নেয়ার আশঙ্কা

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

 

এটি আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মোখা ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে’ বলে ধারণা করছেন আবহাওবিদরা। ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো: এনামুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখা হতে পারে সুপার সাইক্লোন’।

ঘূর্ণিঝড়টি টেকনাফ এবং মিয়ানমারের উপকূলে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতিপথ কোনদিকে
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমান গতি প্রকৃতি অনুযায়ী এগোলে বা দিক না পাল্টালে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোখা ১৪ মে বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং মিয়ানমারের কিয়াকপিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বিভিন্ন গ্লোবাল মডেল বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ বলছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগ ১৪ মে সকাল ৬টার পর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় কেন্দ্র দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ও পিছনের অংশ সন্ধ্যা থেকে ১৫ মে সোমবার ভোর পর্যন্ত উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।’

‘এটি স্থলভাগে ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে আঘাত করার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্বলোচ্ছাসের উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে‘ বলে মন্তব্য করেন পলাশ।

এছাড়া ভূমিধসের আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন এই আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ।

অন্যদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলছেন, এখন যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে যে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে আসছে ঘূর্ণিঝড়টি।

‘বাংলাদেশে কক্সবাজার অঞ্চলে কিছু প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এটা টেকনাফের ওপর দিয়ে যাবে মনে হচ্ছে। এই মুহূর্তে যে গতিপথ দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশটা টেকনাফ ছূঁয়ে যাবে। হয়তো টেকনাফের একটু দক্ষিণ দিক অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিকে চলে যেতে পারে,’ বলছিলেন কর্মকার।

মোখা’র সম্ভাব্য শক্তি
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের দু’টি মৌসুম রয়েছে। একটি বর্ষার আগে অর্থাৎ এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসে এবং আরেকটি বর্ষার পড়ে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে।

সমরেন্দ্র সরকার বলছেন, ‘এই দুইটা সময়ে সি সার্ফেসের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকে। বায়ুমণ্ডলের বিন্যাস এই সময়ে ফেভারেবল থাকে। সূর্য যখন এক গোলার্ধ থেকে যখন আরেক গোলার্ধে যায় তখন এই সময়টায় বঙ্গোপসাগরের ওপরে থাকে। ফলে বঙ্গোপসাগর অতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।’

এ কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠে যে পানিটা আছে সেটা সুপ্ত তাপ নিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এটা বায়ুমণ্ডলে যত প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় তত শক্তিশালী হয় এবং এ কারণে এই সময়ে ঘূর্ণিঝড় বেশি শক্তিশালী হয় বলে উল্লেখ করেন সমরেন্দ্র কর্মকার।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপাসগরে কোনো নিম্নচাপ লঘুচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়নি।

চলতি বছরে সর্বপ্রথম এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

সে কারণে পুরো মৌসুমটায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি পুরোটাই বঙ্গোপসাগরের পানি উত্তপ্ত করেছে, ফলে প্রচুর শক্তি সঞ্চিত হয়েছে বঙ্গোপসাগরের পানিতে।

গত কয়েক বছর ধরে যে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড়টি সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার পানির মধ্যে। এবং এখন বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রার যে মানচিত্র দেখা যাচ্ছে তাতে বুঝা যাচ্ছে, যত উত্তর দিকে ঘূর্ণিঝড়টি অগ্রসর হবে তত বেশি এটি উত্তপ্ত পানির সংস্পর্শে আসবে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি ধরে রাখার জন্য যে তিনটি প্রধান শর্ত প্রয়োজন তার তিনটিই আছে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে। সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির ওপরে এবং সমুদ্রে সঞ্চিত শক্তি যথেষ্ট পরিমাণে আছে, ফলে ঘূর্ণিঝড়টি আকারে বড় হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত করার সময় এটি অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড় কিংবা তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

সূত্র : বিবিসি

দেশে-বিদেশে তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগ : রিজভী

 

অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক উপসংহারহীন অবস্থার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আবারো নিঃশব্দ আতঙ্কের পরিবেশে ভোটারবিহীন নির্বাচনের ফন্দি-ফিকির করছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, গায়েবি মামলা এ সরকারের রাজনৈতিকহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিএনপির মৃত নেতা, অসুস্থ নেতা এবং বিদেশে অবস্থান করছেন এমন নেতাদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা দিয়ে দেশে-বিদেশে তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছে আওয়ামী সরকার।

বুধবার (১০ মে) রাতে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দল-মত ও সমালোচকদের দমন করার জন্য মামলা করে গায়েবি মামলা সেটিরই প্রমাণ। শুধু দেশেই নয় বিদেশেও এই অবৈধ সরকারের আমলে আইন আদালতের সততা নিয়ে বিশাল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরা জনগণকে বলে এক কথা, আর ক্ষমতায় এসে করে তার বিপরীত কাজ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে কখনোই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিষয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে কোনো কথা নেই, কিন্তু ক্ষমতায় এসে সেটি বাতিল করেছে। এ ঘটনা বিস্ময়কর ও জনগণের প্রতি মারাত্মক অসদাচরণ।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন‘স্বচ্ছ নির্বাচন করবো বিদেশীরা কে কি বললো তাতে কিছু যায় আসে না’। সুতরাং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ কথায় জনগণের মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে, শেখ হাসিনার সরকার আরেকটি অস্বচ্ছ ও পাতানো নির্বাচনের গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী সরকারের মানসিকতা শান্তি, সহাবস্থানের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে এরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এদের ভাষা ভয়ঙ্কর। সমাজের স্থিতিকে ভেঙে ফেলার সমতুল্য। বর্তমান দানবীয় দুঃশাসনে নিরপেক্ষতা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। দলীয় আনুগত্য সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়ে থাকে। রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয় ব্যক্তিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সুতরাং সুশাসন নির্বাসিত হওয়ায় টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এদিকে কর্মসংস্থানের বেহাল অবস্থা, ক্রমহ্রাসমান আয় এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠলেও নিশিরাতের সরকার বিরোধী দল দমণে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের অশালীন কু-কথা, গায়েবি মামলা, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং কারাগারে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের কোনো কমতি নেই। সন্ত্রাস, নির্যাতন আর মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করা হোক। এই সরকারি অনাচারের বিরুদ্ধে জনগণ ফুঁসে উঠেছে। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে এই মূহুর্তে একযোগে মাঠে নামাটা এখন নাগরিক কর্তব্য। গণতন্ত্র মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান। ‘গণতন্ত্রের প্রতীক, গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের অবিচল নির্ভিক নেতৃত্বে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দলমত-পেশা নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

 

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর-কূটনৈতিক সফলতা-নতুন বার্তা দেখছে না বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী তিন দেশ জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরে নতুন কোনো বার্তা দেখছে না বিএনপি। এ সফরে বিএনপির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলেও মনে করছে তারা। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, এখানে কূটনৈতিক বা আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক কিছু ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ব্যর্থ। কারণ এখানে রাষ্ট্রীয় কোনো সফলতা নেই।

গত ২৫ এপ্রিল সকালে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (৮ মে) ১৫ দিনের টানা সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করে ৯ মে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের শুরু থেকেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তৃণমূল বিএনপিতেও রয়েছে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো আগেই গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই সফরে অর্জন শূন্য। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এ সফর। এসব করে কোনো লাভ হবে না।’

সফর নিয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা ধরে রাখতে দেন-দরবার করতে বিদেশ সফর করছেন। কিন্তু তাতে তিনি কোনোভাবেই সফল হবেন না। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, তারা এ সফর নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা এখন আন্তর্জাতিকভাবেও বিচ্ছিন্ন। আমাদের লক্ষ্য লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করা। যেহেতু তারা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন, এটা আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা।

বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সরকারের টাকা নেই, তাই টাকার সংস্থান করতে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর করছেন। এ সফরের রাজনৈতিক কোনো গুরুত্ব নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকসহ স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যও। তারা এটাকে ব্যর্থ সফর উল্লেখ করে, এ সফরে কোনো দৃষ্টি রাখার দরকার আছে বলেই মনে করছেন না।

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির মূল শক্তি। আমরা দেশের মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী। বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করছে। পাশাপাশি বিএনপি যতটুকু বিদেশিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা দরকার তাও রাখছে।

‘সরকারপ্রধানের সফরে বড় এসব শক্তির কাছে তাদের আরেকবার ক্ষমতায় রাখতে সহযোগিতায় চাইবে। সে লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনের আগে হয়তো এসব দেশ সফর করছেন। আর দল হিসেবে বিএনপি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে নজর রাখলেও প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে নজর রাখছে না।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছেন। মানুষ যেখানে অসহায়, সেখানে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। তিনি ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। তাই বিভিন্ন দেশে গিয়ে নানান চুক্তির নামে তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন নির্বাচনের আগে।

আগামীতে ক্ষমতায় থাকতে সহযোগিতা পাওয়ার জন্যই এ সফর উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রাখার দরকার আছে বলে মনে হয় না।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে নতুন কোনো কূটনৈতিক বার্তা দেখছেন কি না জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এটা খুবই নিম্ন পর্যায়ের একটা সফর। এখানে কূটনৈতিক বা আওয়ামী লীগের ইতিবাচক কিছু ছিল বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর সফর ব্যর্থ। কারণ এখানে রাষ্ট্রীয় কোনো সফলতা নেই।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা হচ্ছে জনগণের কাছে ওনাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য একটা সফর। ওনাদের যে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা নেই, সেটাকে প্রোপাগান্ডার মতো গণমাধ্যম ব্যবহার করে, সরকারি মুখপাত্র ব্যবহার করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে, একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। এটা হচ্ছে সফরের উদ্দেশ্য।

‘সম্পূর্ণ বিফল হয়েছে। কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। যেখানেই গেছে সেখানেই শুনতে হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তো? আর ইউকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে বৈঠকের কথা বলে বেড়াচ্ছে এটা কোনো অফিসিয়াল বৈঠক নয়। কমনওয়েলথে দুই প্রধানমন্ত্রী গেছেন, দেখা হয়েছে। আর দুই প্রধানমন্ত্রী দেখা হলে কমপ্লিমেন্ট দেবেন এটা একটা স্ট্যান্ডার্ড। কিন্তু তারা এটাকে অফিসিয়াল বৈঠক বলে প্রচার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অফিসিয়াল বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।’

# সূত্র জাগো নিউজ

মিরসরাইয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে শামসুল আলম হকসাব (৫৫) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (০৮ মে) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রবিবার রাতে তাকে কোতয়ালী থানার সহায়তায় মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত শামসুল আলম হকসাব উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ এলাকার কমরআলী মুহুরী বাড়ির মৃত শফিউল্লাহ ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক ছিলেন।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামি শামসুল আলমকে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থেকে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। থানায় এনে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।
তিনি আরো বলেন, শামসুল আলম অনেক দিন পালাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা আছে। একটি সাজা আরেকটি ওয়ারেন্ট মূলতবি আছে।

 

মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে যাত্রী ছাউনি গুঁঁড়িয়ে ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে সওজ’এর (সড়ক ও জনপথ) জায়গায় নির্মিত ছাত্রী ছাউনী রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দিয়ে ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করছে সেলিম উদ্দিন নামে এক প্রভাবশালী। উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে চৈতন্যারহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রী ছাউনিটি গুড়িয়ে ফেলে তা সরিয়ে ও সওজ’র কিছু জায়গা দখল করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। কৌশলে রাতের আঁধারে স্কেভেটর দিয়ে যাত্রী ছাউনী ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এছাড়া যাত্রী ছাউনীর দক্ষিণ পাশে সওজ’র জায়গা দখল করে টিন দিয়ে সীমানা নির্মাণ করেছে ওই প্রভাবশালী। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার।

এ বিষয়ে ভবন নির্মাণকারী নির্মানের সমন্বয়ক মো. নুর নবী রেদোয়ান বলেন, স্থাপনা নির্মাণের জায়গাটি জৈনক সেলিম উদ্দিনের পৈত্তিক সম্পত্তি। এখানে স্থাপনার কাজ করতে গিয়ে স্কেভেটর লেগে যাত্রী ছাউনির একটি খুঁটি ভেঙে গেছে।

এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, এখানে ভবন নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি। মহাসড়কের দু’পাশে অধিগ্রহণ অংশসহ ৩০ ফুট পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখার বিধান রয়েছে যা সড়ক বিভাগের দেখার এখতিয়ার। এভাবে রাতের আঁধারে কেউ সরকারি স্থাপনা ভেঙ্গে দিতে পারে না।

মিরসরাই উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, এভাবে কাজ করা বেআইনি। মহাসড়ক ও যাত্রীছাউনি ভেঙে দখলের বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথের চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, মিরসরাইয়ের চৈতন্যারহাট এলাকায় যাত্রী ছাউনী ভাঙ্গার বিষয়টা জেনেই ভবন নির্মাণের কাজ আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। যদি আবার ভবন নির্মাণের চেষ্টা করে তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

 

 

মিরসরাই বিএনপির ৭ নেতা কারাগারে, জামিন পেলেন ৫জন

মিরসরাই  প্রতিনিধি::
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির ১২ জন নেতা চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক ৫জনকে জামিন দিলেও ৭জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। রবিবার (৭ মে) জেলা জজ আদালতে আসামীরা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকায় পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার এই মামলা হয়েছে। এতে ৪টি মামলায় ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

জামিন পাওয়া নেতারা হলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল হোসেন মিয়া সওদাগর, সদস্য মনজুর কাদের ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন চৌধুরী।

 

কারাগারে পাঠানো নেতারা হলো, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজি, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক নাজমুল হক সোহাগ, করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জহির উদ্দিন বাবলু, সদস্য নাজমুল আমিন পারভেজ, মিরসরাই পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক কামরুল ইসলাম, মিরসরাই পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরহাদ হোসেন তুহিন।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য শাহীনুল ইসলাম স্বপন জানান, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামে বিএনপির সুশৃঙ্খল বিভাগীয় সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বাহিনী বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয়, মারমুখি আচরণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের গাড়িতে কোন নেতাকর্মী কোন প্রকার হামলা করেনি। এসব আজগুবি মামলা আর অপরাজনীতির অংশ। আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেতকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করছি।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মিনহাজ উদ্দিন জানান, বিএনপির নেতৃবৃন্দ উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ৫জনের জামিন মঞ্জুর করে। বাকি ৭জনকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ও পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠালেন মিরসরাইয়ের সন্তান ওসি ওমর হায়দার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়া সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ গাড়ীতে করে পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন তিনি। আহতদের মধ্যে আফনান বেগম নামের এক পরীক্ষার্থী আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ওসি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় তিন বান্ধবী একসাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তারা। দুই বান্ধবী আহত অবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলেও আফনান বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হলো না তার।
৭ মে(রোববার) সকাল ৯ টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মামা ভাগিনার দোকান এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশার সাথে পূর্ব দিকে আসা দ্রুতগামী একটি ডাম্পার ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয় ওই তিন শিক্ষার্থী।


আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মরিচ্যাদিয়া এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে আইরিন জন্নাত রেখা(১৬) ও মগনামা কাজী মার্কেট এলাকার আহমদ শরীফের মেয়ে সাইমা সোলতানা রিফা(১৬)। আফনান বেগমও একই এলাকার আশরাফ মিয়ার মেয়ে। তারা তিনজনই মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
পরীক্ষা শেষে কথা হয় আইরিন জন্নাত রেখার সাথে তিনি বলেন, পুরো শরীর ব্যাথা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছি। আগে থেকে পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা সব এলোমেলো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হল সুপার ও পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম বলেন, আজ তাঁদের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষা অংশগ্রহণ করতে আসার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে দুইজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। একজন অনুপস্থিত আছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর হায়দার বলেন, খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল পাটিয়েছে চিকিৎসক। অন্য দুইজনকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়ী দুইটি আটক আছে।

মিরসরাইয়ে রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার দায়ে ২ জনের কারাদন্ড

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার দায়ে ২ জনকে আটক করেছে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান। শুক্রবার রাত ২ টা ৩০ মিনিটের সময় উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গলাচিপা আবাসন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত মাটি ভর্তি ২টি ট্রাকও জব্দ করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি মাটি দস্যু একটি চক্র করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর গলাচিপা এলাকায় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে হিঙ্গুলী এলাকায় কৃষি জমিট ভরাট করছিলো। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো মো. আলীর ছেলে সায়মনকে (২২) ও মৃত বশির আহমদের ছেলে আব্দুল আলীমকে (৪৭)। সায়মনকে ৬ মাসের ও আলীমকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। ধৃত আসামী এবং জব্দকৃত ট্রাকগুলো জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়ছে। তিনি আরো জানান, জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান এই অভিযান নিয়মিত চলবে।

গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই : মোশাররফ

 

এই সরকারের হাত থেকে দেশকে, জনগণকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই সরকারকে যত দ্রুত বিদায় করা যায়, এ দেশের জনগণ এবং দেশের জন্য ততই মঙ্গল।

 

তিনি বলেন, এই সরকারকে হটিয়ে এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ। এজন্য দেশে গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া এ দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল হয়েছেন। এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ভয় পায়। দেশের জনগণকে ভয় পায়।

আজকে আমরা দিবা সন্ধিক্ষণে রয়েছি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে সেটা কেউ বলতে পারবে না। একই সাথে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিএনপি যে বিভাগীয় কর্মসূচি দিয়েছিল এই সরকার, পুলিশ বাহিনী, সরকারের পেটুয়া বাহিনী বাধা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সকল বাধা উপেক্ষা করে প্রতিটি কর্মসূচি জনগণ সফল করেছে।

তিনি বলেন, আজকে একমাত্র দাবি এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করা। কোনো স্বৈরাচার সরকার আপসে ক্ষমতা ছাড়েনি।

মোশারফ হোসেন বলেন, এদেশের মানুষ আইয়ুব খানকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করেছে। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকেও দেশের মানুষ গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করেছে। সময় অতি সন্নিকটে, এদেশের মানুষ আজকে ঐক্যবদ্ধ ইনশা আল্লাহ অনতিবিলম্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনব এবং এদেশে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, তারা দুর্নীতি করে লুটপাট করে মেগা প্রজেক্টের নামে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল, আবার গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। আজকে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এই সরকার ঠেকাতে পারছে না। তাদের সিন্ডিকেট, তাদের ব্যবসায়ীরা এদেশের মানুষের পকেট থেকে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার জন্য আজকে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, বিএনপি দেশের আপামর জনগণকে নিয়ে যে আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে সুপরিকল্পিতভাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে আপনারা জানেন। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার রহমানকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে বিতারিত করা হয়েছিল। তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল। অসুস্থ করা হয়েছিল। আমি জেনে শুনে বলছি, তাকে অসুস্থ করা হয়েছিল। অতঃপর লোক দেখানোর জন্য তাকে বাইরে আনা হয়েছে। তবে মুক্তি দেয়া হয়নি। আজ আমাদের একটাই দাবি গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি।

শহীদ জিয়া বীর উত্তম একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরির ফ্যাক্টরির নাম বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। এ সরকার বেআইনিভাবে মুক্তিযোদ্ধা উৎপাদন করেছে। তারা একদিন পালিয়ে যাবে। সেই দিন, যেদিন এই সরকার পালাবে, আর সেদিন ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা পালিয়ে যাবে। কারণ আসল আর নকল একসাথে চলতে পারে না। পাঁচ বছর, দশ বছর বয়সে কখনো মুক্তিযোদ্ধা হয় না। আমরা দেশের সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা চাই।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জিম হোসেন আলাল বক্তব্য রাখেন।