মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 99

মাদক সম্রাজ্ঞী নাছিমা বগুড়ায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

মাদক সম্রাজ্ঞী নাছিমা ইয়াবা বেগম (৩০) সহ বগুড়ায় গ্রেফতার হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ৮’শ পিস ইয়াবাসহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃত নাছিমা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের হাইতকান্দি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড কচুয়া এলাকার নুরুল হকের বড় মেয়ে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব মাদার বাড়ি কামাল গেইট আশিকের ভাড়া বাড়িতে থাকে।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজশাহী বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে মিরসরাই থানায় নাছিমা বেগমের বিষয়ে তদন্তের চিঠি আসে।

এজাহারে জানা যায়, বগুড়া সদর থানার নওদাপাড়া আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালিন সময়ে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৮শ পিস ইয়াবাসহ নাছিমা আক্তারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মোছাদ্দেক হোসেন জানান, আটককৃত নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকা থেকে পাইকারে ইয়াবা ক্রয় করে সেগুলো ঢাকা,সিলেট, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেয়। নিজ এলাকায় আপন ভাই ও বোনদের মাধ্যমে মাদক কারবারি করে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, বগুড়ায় আটককৃত নারী নাছিমা বেগম ও তার পরিবার এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও উশৃঙ্খল প্রকৃতির পরিবার। এলাকায় মারামারি মাদক ব্যবসায় সহ সকল অপকর্মের সাথে তারা জড়িত। প্রশাসনের উচিত পরিবারটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কবির হোসেন জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। কর্মক্ষেত্রে যোগ দেয়ার পর খোঁজখবর নিয়ে ওই পরিবারের প্রতি নজরদারি বাড়াবেন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু, দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন রুবেল, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ করিম রানা সহ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মিরসরাইয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকালে উপজেলার নিজামপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে ওয়াহেদপুর  ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।
মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষীণ করে পুনরায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিজামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম আরিয়ান, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাছান রনি , ছাত্রলীগ নেতা শরীফ সবুজ, রুবেল,হৃদয়, মিরাজ।

বক্তারা অভিলম্বে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপুসহ যেসকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্র মূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মিরসরাইয়ে দুই ফিলিং স্টেশনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে অনুমোদন ব্যতিত এলপিজি গ্যাস বিক্রি ও অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা না থাকায় দুই ফিলিং স্টেশনকে ২ লক্ষ টাকা টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার (২ মে) বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুফিয়ারোড় এলাকার মেসার্স গুলিস্থান ফিলিং স্টেশন ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ফেবো ফিলিং স্টেশনকে এই জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বিকালে মিরসরাই সদরে সুফিয়ারোড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স গুলিস্তান ফিলিং স্টেশনকে অনুমোদন ব্যতীত এলপিজি গ্যাস মজুদ ও বিক্রির দায়ে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ফেবো ফিলিং স্টেশনের অগ্নি প্রতিরোধ ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সন্তোজনক নয় বলে জানান মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অভিযানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত প্রতিষ্ঠানকেও প্রতিষ্ঠানকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ডিজিটাল আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার : বিএনপি

 

ফ্যাসিবাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সরকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

 

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কিডনী সমস্যায় আক্রান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা আট মাসের বেশি সময় কারাগারে আটক এবং ইউএনবি সাংবাদিক মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফখরুল বলেন, এই কুখ্যাত আইন বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় যা গণতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। সরকার এই আইনের সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সংবাদকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করছে। ফ্যাসিবাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে এই নিবর্তনমূলক আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সভা অবিলম্বে কারাগারে আটক শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাসহ আটক সকল বন্দির মুক্তি ও এই আইনের অধীনে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। সভা গণতন্ত্রবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায়।

সভায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা বিল ২০২৩ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বিলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সভায় বিলটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অত্যাবশ্যক পরিসেবা বিল ২০২৩ মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করে সংসদে পেশ করা হয়েছে। শীঘ্রই তা আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রস্তাবিত আইন নানা কারণে বিতর্কিত, অগণতান্ত্রিক, শ্রমিক ও পেশাজীবিদের স্বার্থবিরোধী, একতরফা, নিবর্তনমূলক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট বরখেলাপ।

ফখরুল বলেন, আইনটি প্রণয়নে কোনো পর্যায়েই অংশীজনের মতামত নেয়া হয়নি। প্রস্তাবিত আইনের পরিধি শুধু বিস্তৃত নয়; অসীম। সরকার ইচ্ছা করলেই যে কোনো শিল্প, প্রতিষ্ঠান, পেশা ও সেবাকে এই আইনের আওতায় এনে ধর্মঘট নিষিদ্ধ করে তা অমান্য করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বানাতে পারবে। এই আইনকে প্রচলিত শ্রম আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে যুগযুগ ধরে আন্দোলন করে শ্রমজীবি জনগণ যা কিছু অধিকার অর্জন করেছিল তা এই আইন দিয়ে নাকচ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত শ্রম আইনেই কোনো ধর্মঘট জনজীবন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে তা নিষিদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট বিরোধটি শ্রম আদালতে পাঠানোর কথা বলা আছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলেই লক্ষ-কোটি শ্রমজীবি, পেশাজীবি মানুষকে ৬ মাস ৬ মাস করে সারা জীবন ধর্মঘট নিষিদ্ধ ঘোষণার আওতায় রাখতে পারবে। কিন্তু তাদের ন্যায্য সমস্যা সমাধান কিংবা প্রাপ্য আদায়ের কোনো বিকল্পের কথা আইনে রাখা হয়নি।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আই.এল.ও কনভেনশন নং ৮৭ অনুসমর্থন করেছে। যেখানে ধর্মঘটের অধিকারকে সংগঠিত হওয়ার অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই কনভেনশনে স্বাধীনভাবে সংগঠিত হওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বিলে দেশের বিপুল সংখ্যক শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতকে “অত্যাবশ্যক পরিসেবা” চিহ্নিত করে শ্রমজীবি মানুষের ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেয়ার অর্থ হলো তাদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারও কেড়ে নেয়া।

একই বছর বাংলাদেশ আই.এল.ও কনভেনশন নং ৯৮ অনুসমর্থন করেছে। এই কনভেনশনে স্বাধীনভাবে যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিয়তা দিয়েছে। সবাই জানে, ধর্মঘটের অধিকার হলো যৌথ দরকষাকষির প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘অত্যাবশ্যক পরিসেবা’ বিলে ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেয়ার অর্থ হলো- যৌথ দরকষাকষির অধিকারও কেড়ে নেয়া। এটাও সরকারের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট বরখেলাপ এবং শ্রমিক সংগঠন ও আন্দোলনকে অকার্যকর করে মালিকদের নির্যাতন, বঞ্চনা ও শোষণ সুরক্ষার হাতিয়ার।

আই.এল.ও’র সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ ওই প্রতিষ্ঠানে গঠনতন্ত্র মানতে বাধ্য। যেখানে বলা হয়েছে কোনো সদস্য রাষ্ট্র কোনো কনভেনশন অনুসমর্থন করলে তার প্রতিটি বিধান বাস্তবায়ন করবে। রাষ্টের প্রচলিত আইন কনভেনশনের কোন বিধানের সাথে অসংগতিপূর্ণ হলে সেই আইন পরিবর্তন করতে হবে। অথচ প্রস্তাবিত আইনে অনুসমর্থনকৃত কনভেনশনের বিধান অগ্রাহ্য করে সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তি লংঘন করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি মনে করে, প্রস্তাবিত আইনটি শুধু শ্রমজীবি মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকেই ক্ষুন্ন করবে না, এটি সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের সংবিধানসম্মত প্রতিবাদের অধিকার পরিপন্থী। বিএনপি প্রস্তাবিত ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা বিল ২০২৩’ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

মিরসরাই কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের পুনর্মিলনী

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার কমর আলী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের দুই দশক পূর্তি ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ মে) দিনব্যাপী র‌্যালী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে পুনর্মিলনী উৎসব পালন করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
পুনর্মিলনী উপলক্ষে সোমবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি কমরআলী বাজার ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করে।
পরে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক একেএম নুরুর আবছার, বশির আহমদ, হীরা দেবী বড়–য়া, সহকারী প্রধান শিক্ষক গোষ্ট বিহারী পাল, সিনিয়র শিক্ষক নাজমুল আবেদীন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অরবিন্দ চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক আলী আজগর চৌধুরী, হাইতকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাইমুল ইসলাম টুটন।
এছাড়াও ব্যাংকার ডালিম সাহা, মহিউদ্দিন দুলাল, সজিত বড়ুয়া, মোশারফ হোসেন, নুর মোহাম্মদ লিটন, গিয়াস উদ্দিন সজীব, আলী আকবর সাগর, সিরাজুল ইসলাম শাহেদ, সুমি বড়ুয়া, শম্পি বড়ুয়া, নিলু আক্তার, তৈয়মুর রহমান, ছাবের আহমদ, সাইফুদ্দিন সোহেল, কামরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা স্মৃতিচারণ করেন।
পূনর্মিলনীতে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চারজন শিক্ষক ও বর্তমানে কর্মরত ২১ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য অবদানের জন্য ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সাবেক সিনিয়র শিক্ষক একেএম নুরুর আবছার, বশির আহমদ, সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ, হীরা দেবী বড়ুয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি রোধে মিরসরাইয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মশালা

মিরসরাই প্রতিনিধি
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। বন্যা, খরা, ভূমিধস, টর্নেডো, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভূতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্যোগ পূর্ববর্তী সচেতনতা ও প্রস্তুতি নিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে উপজেলা পর্যায়ে ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি রোধে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘পাহাড়ি ঢালে বসবাস, ডেকে আনে সর্বনাশ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে রেখে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উদ্যোগে বর্ণমালা কমিনিউকেশন লিমিটেডের সহযোগিতায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কর্মশালার আয়োজন করে।
এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী কাজী সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মিনহাজ উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: খন্দকার মো: ইসমাইল,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো: কবির হোসেন। এছাড়া কর্মশালায় অংশ নেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্য, মসজিদের ইমাম। কর্মশালা পরিচালনা করেন বর্ণমালা কমিনিউকেশন লিমিটেডের ওয়ার্কশপ অর্গানাইজার পার্থ সিংহ ও মাহমুদুল হাসান।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে ভূমিধসে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় ৭২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। এটির অন্যতম কারণগুলো হলো অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, ভূমিকম্প, মাটি খেকোদের পাহাড়কাটা, পাহাড়ি এলাকায় ইটের ভাটা গড়ে ওঠা, পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপন করা। এসব বন্ধ করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে হবে। তাছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পূর্বাভাসে প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মসজিদের ইমামদের তৎপর থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রয়াসের কোন বিকল্প নাই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। যে কোনো দুর্যোগে জানমালের ক্ষতি কমিয়ে আনতে পূর্ব প্রস্তুতি ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

 

 

মিরসরাইয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার মূলহোতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থেকে অপহৃত এক যুবককে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় অপহরণকারী ও মুক্তিপণ আদায়চক্রের মূলহোতা মো. মামুনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১ মে) ভুজপুর থানার রহমতপুর এলাকা থেকে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মামুন মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের আব্দুল ছোবহানের ছেলে। অপহরণ হওয়া ব্যক্তির নাম নুর হাসেম। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলি উপজেলার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নুরুল আবছার। তিনি বলেন, অপহৃত যুবক মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের মডার্ন সিনটেক নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে চাকরির সুবাদে মামুন এবং জসিমের সাথে তার পরিচয় হয়। গত ২৮ এপ্রিল দুপুরে জসিম তাকে ফোন করে করেরহাট এলাকায় যাওয়ার জন্য বলে। জসিম ভিকটিমের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ভিকটিম তার সাথে দেখা করার জন্য রওনা দেয়। ভিকটিম করেরহাট এলাকায় পৌঁছলে সেখানে একটি সিএনজি অটোরিক্সার চালক তাকে সিএনজিতে করে ভুজপুরের কৈলারছড়া এলাকায় জসিমের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আসামি মো. মামুন এবং অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন সহযোগী ভিকটিমকে অপহরণ করে ভুজপুর থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী একটি অজ্ঞাত এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। অপহরণকারীরা ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তার পরিবারের লোকদের মোবাইলের মাধ্যমে শুনাত। বিষয়টি পরিবারের লোকজন র‌্যাবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মো. মামুন। এসময় অপর আসামীরা পালিয়ে যায়। পলাতক আসামীদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি মামুনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

মিরসরাইয়ে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাই উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১ মে) সকালে জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
ওইদিন মিরসরাই উপজেলা নির্মাণ শ্রমিকের সভাপতি মো. আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূইয়াঁ, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রেজাউল করিম মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন দিদার, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের ভূঁইয়া ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু।


এইসময় উপস্থিত ছিলেন, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা জেরিন, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ভিপি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ রিপন, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ, খৈয়াছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্যামল দেওয়ানজী, ধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জহির উদ্দিন ইরান, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল হাসান টিপু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ভূঁইয়াসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মিরসরাই উপজেলা নির্মাণ শ্রমিকের সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, এই দেশের জীবন যাত্রা ও সাধারণ মানুষের মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকার। বঙ্গবন্ধু শ্রমিকদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি সব সময় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কথা বলে গেছেন। এখন উনার সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও শ্রমিকদের কল্যানে নানা কল্যানমুখী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তিনি আরো বলেন, যারা নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন, তারা মালিক পক্ষকে বলবেন যেন আপনাদের একটা জীবন বিমা করে দেওয়ার জন্য। যাতে কোন বিপদ হলে ওই জীবন বিমা থেকে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

 

চিকিৎসকদের ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ খালেদা জিয়া : ডা. জাহিদ

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

 

রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ স্বাস্থ্যের অবস্থা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে ডা. জাহিদ এ তথ্য জানান।

অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ম্যাডাম কেবিনে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিতসাধীন আছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘গতকালকের মতো আজও উনার অবস্থা একই আছে। বাট কিছুটা… যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তার পরে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে গতকাল সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের বিশেষ চিকিৎসক অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিতসাধীন আছেন। অধ্যাপক সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড আগে থেকে তার এই চিকিতসা কার্য্ক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন। গতকাল ভর্তি হওয়ার পর মেডিক্যাল বোর্ডের একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘গতকাল ভর্তি হওয়ার পরে ম্যাডামের বেশকিছু পরীক্ষা মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে করা হয়েছে। ওইসব পরীক্ষার রিপোর্ট আসা শুরু করেছে। মেডিক্যাল বোর্ড আজ (রোববার) সন্ধ্যায় কোনো একটা সময়ে বসবেন এবং রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে উনার পরবর্তী পর্যায়ে যে চিকিৎসা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা নেবেন। তবে প্রাথমিকভাবে মেডিক্যাল বোর্ড গতকাল একদফা বসে যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটা নিয়েছেন। সকাল বেলাও বোর্ডের কয়েকজন সদস্য উনার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনার কিছু অসুস্থতা ছিলো… যার জন্য নিয়মিত চেকআপের পাশাপাশি কিছু উপসর্গ দেখা দিয়েছিলো। যার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী তাকে এখানে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, সেই চিকিৎসাতে উনি মোটামুটি রেন্সপনস করছেন।’

হাসপাতালে খালেদা জিয়া কতদিন থাকতে পারেন- জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘এটা মেডিক্যাল বোর্ডের ডিসিশনের ওপর নির্ভর করবে, উনার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কাজেই এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

৭৭ বছর বয়েসী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভারসহ নানা রোগে ভুগছেন। অসুস্থতার মধ্যে গুলশানের ‘ফিরোজা‘য় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছিল। পরে তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে শনিবার এভারকেয়ারে ভর্তি হন বিএনপির চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘রোগীর অসুস্থতা সম্পর্কে মিডিয়াতে বলা ঠিক না। খালি এইটুকু জানানো যেতে পারে যে, উনার কিছু শারীরিক অসুস্থতা, উনার হার্টের জটিলতা, উনার লিভারের জটিলতা, উনার কিডনির জটিলতা– এগুলো ছিলো, আছে… আপনারা জানেন। সেগুলোর কোনো কোনোটা একটু বৃদ্ধি পেয়েছিলো, সেজন্য উনার চেকআপ ও চিকিৎসার জন্য উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উনি কেবিনেই আছেন। কিন্তু কেবিনে উনার জন্য স্পেশালিস্ট এমআইএসটি নার্স-ডাক্তার সাহেবরা… দেয়ার টেকিং কেয়ার অফ। কেবিনে মানে এমনি শুয়ে থাকার তা না। সি ইজ আন্ডার স্ট্রিক সুপারভেশন।’

জাহিদ জানান, অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হচ্ছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুর উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিন, অধ্যাপক শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক জিয়াউল হক এবং অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম।

এছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানসহ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শর্মিলা রহমান সিঁথি। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান সবসময় খোঁজ রাখছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।

এর আগে সর্বশেষ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

মিরসরাইয়ে ফখরুল ইসলাম খানের কুশপুত্তলিকা দাহ

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
দেশব্যাপী জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্যর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল এবং মিরসরাইয়ের সাংসদ, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর প্রতিবাদে ফখরুল ইসলাম খানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। শনিবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে মিরসরাই পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ লিটনের উদ্যোগের এই বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি নাজিরপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নাজিরপাড়া জামে মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে মিরসরাইয়ের সাংসদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) অপপ্রচার ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম খান কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন লিটন সহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা।
বক্তারা বলেন, অতি শিগগিরই ফখরুল ইসলাম খানের মিরসরাইয়ের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।