জীবনের নিষ্ঠুর চলার পথে কিছু লুকায়িত সত্য

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

জীবনের নিষ্ঠুর চলার পথে কিছু লুকায়িত সত্য

হাসপাতালের ডক্টরস রুমে বসে রুগীর discharge paper লিখছি।

এমন সময় ……

– আমার রুগী কি আজকেই মারা যাবে?

– মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি ৩৫-৪০ বছরের এক লোক দাঁড়িয়ে আছে।

অবাক হয়ে বললাম……কি বললেন?

– আমি ২২ নম্বর বেডের রুগীর লোক। জানতে চাচ্ছি, আমার রুগী কি আজকেই মারা যাবে, নাকি আরও কয়েকদিন টিকবে।

– রুগী কখন মারা যাবে সেটাতো আমি বলতে পারবো না। ওটা আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। আচ্ছা আপনি রুগীর কি হন?

– আমি উনার ছেলে।

– ছেলে হয়ে জানতে চাচ্ছেন, মা আজকেই মারা যাবে কিনা!!!!

– ক্যান্সারের রুগী। অবস্থা দেখে মনে হলো খুব একটা ভালো না। আর আমাকেও একটা কাজে দেশের বাইরে যেতে হবে। তাই জিজ্ঞেস করলাম।

– এমন সময় রুমে এক ইন্টার্ন ডাক্তার ঢুকে বললো ……. ভাইয়া, ২২ নম্বর বেডের রুগীর জন্য রক্ত ম্যানেজ করতে পেরেছি। আমার এক আত্মীয়কে অনেক রিকোয়েস্ট করে রক্ত দিতে রাজি করিয়েছি।

– আমি হেসে দিয়ে বললাম …… কেউ অন্যের মাকে আরও একটা দিন বাঁচানোর জন্য রক্ত ম্যানেজ করে। আর কেউ নিজের মা কবে মারা যাবে তার জন্য অস্থির হয়ে থাকে।
..
..
– কিছুক্ষণ পর সিস্টার কল দিয়ে বললো …… স্যার, ২২ নম্বর বেডের রুগীর অবস্থা ভালো না। এক্ষুণি আসেন।

– আমি দৌড়ে গেলাম।

– মহিলা বিড় বিড় করে শুধু বলছে …… আমার বাজান কোই?

– আমি সিস্টারকে বললাম …… উনার ছেলে কোথায়? উনাকে ডাক দেন।

– ছেলেতো চলে গেছে। তার নাকি কি কাজ আছে। কাল সকালে আসবে।

– আমি মহিলার পাশে বসে হাতটা ধরলাম। মহিলা আমার হাত শক্ত করে ধরে বললো …… বাজান আইছোস? কোই ছিলি এতোক্ষণ?

– আমিতো তোমার পাশেই ছিলাম মা। তুমি কোনো টেনশন করো না। আমি আছি তোমার পাশে।

– ২-৩ মিনিট পর মহিলার হাত আমার হাতের মধ্যে নিথর হয়ে পড়ে রইলো। আমি তার হাতের মধ্যে থেকে আমার হাতটা সরিয়ে নিলাম।

– সিস্টারকে জিজ্ঞেস করলাম …… কেমন অভিনয় করলাম? আমার এই অভিনয়ের জন্য আমাকে অস্কার দেয়া উচিৎ না?

– সিস্টার কাঁদছে।

– আমার চোখ দুটোতেও দেখি কেমন আদ্রতা জমা হচ্ছে। দ্রুত পায়ে ২২ নম্বর বেড থেকে সরে এলাম !!

অধ্যাপক ডাঃ কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলন এর ফেসবুক থেকে