মিরসরাই প্রতিনিধি
সন্ত্রাসীদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবুল কাশেম (৬৫)। গত ২৬ জানুয়ারি ছুরিকাহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার ভোর ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে ঘটনার ৫দিন পর গতকাল সোমবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে আবুল কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওইদিন দিবাগত রাতে প্রধান আসামী বেলালের ছেলে ফাহাদ, এলাকার সন্ত্রাসী নজরুল ও সিরাজুল ইসলাম নামে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দক্ষিণ মঘাদিয়া গ্রামের শাহেরখালী খালের কাদামাটি থেকে ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার হন ছয়বারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম। পরে তাঁকে পরিবারের লোকজন মুমুর্ষ অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করান। ভর্তির পরদিন তার শরিরে একটি অস্ত্রোপচার হলে শারিরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
নিহত আবুল কাশেমের ছেলে বদরুদৌজা তারেক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে বাবাকে নিয়ে রীতিমত আমরা সংগ্রাম করেছি। শেষমেষ বাঁচানো গেলো না। মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’ এসময় তারেক দাবি করেন, ‘আমার বাবার খুনি ইউপি সদস্য বেলালসহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে উনাকে দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, আবুল কাশেমের স্ত্রীর দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে প্রধান আসামী বেলালের ছেলেসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা ঘটনায় যুক্ত রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



