মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 104

শবেমেরাজ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবেমেরাজ আজ। লাইলাতুন বা শব অর্থ হলো- রাত আর মেরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। শবেমেরাজ বা লাইলাতুল মেরাজের অর্থ দাঁড়ায়- ঊর্ধ্বগমনের রাত। ব্যাপক অর্থে রাসূল সা:-এর বায়তুল্লাহ শরিফ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপনীত হয়ে সেখান থেকে সপ্তাকাশ এবং আরশে আজিম পৌঁছে আল্লাহর সাথে কথা বলাকেই মেরাজ বলে। রাসূল সা:-এর ৫২ বছর বয়সে অর্থাৎ নবুয়তের ১২তম সনে রজব মাসের ২৬ তারিখ দিনগত রাতে মেরাজের আশ্চর্যতম ঘটনাটি সংঘটিত হয়।

 

শবেমেরাজ আল্লাহর অসীম কুদরত। মেরাজের ঘটনা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ১ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন- ‘মহামহিম পরম পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাতেরবেলা ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। যাতে আমি তাকে দেখিয়ে দেই, এর চারপাশের নিদর্শনগুলো, যা বরকতময়। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।’

হাদিস সূত্রে জানা যায়, রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে রাসূল সা: এশার নামাজ শেষে হজরত উম্মে হানী রা:-এর ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এ সময় হজরত জিব্রাইল আ: আল্লাহ তায়ালার হুকুমে জান্নাত থেকে বোরাক নামের একটি সাওয়ারি আর অসংখ্য ফেরেশতা নিয়ে রাসূল সা:-এর কাছে হাজির হয়ে সালাম দিয়ে বললেন, হুজুর! আপনার প্রতিপালক আপনাকে স্মরণ করেছেন, এ মুহূর্তেই আপনাকে সেখানে যেতে হবে। মুহাম্মদ সা: প্রস্তুত হলে জিবরাইল আ: রাসূল সা:-কে নিয়ে কাবা শরিফের হাতিমে যান। জমজমের পানিতে অজুর পর বোরাক নামক বাহনে জেরুসালেমের বায়তুল মুকাদ্দাসে গিয়ে নামাজ আদায় করেন। সেখানে থেকে প্রথম আকাশে পৌঁছান মহানবী সা:। সেখানে হজরত আদম আ:-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এভাবে সাত আকাশ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সাক্ষাৎ করেন হজরত ঈসা আ:, হজরত ইয়াহইয়া আ:, হজরত ইদ্রিস আ:, হজরত হারুন আ:, হজরত মুসা আ: ও হজরত ইব্রাহিম আ:-এর সাথে। সপ্তম আকাশ থেকে হজরত মুহাম্মদ সা:-কে বায়তুল মামুর পরিদর্শনে নেয়া হয়, যেখানে প্রতিদিন (সকাল-সন্ধ্যায়) ৭০ হাজার ফেরেশতা তাওয়াফ করেন ও প্রস্থান করেন; তারা দ্বিতীয়বার আর সেখানে আসার সুযোগ পান না। এরপর তিনি সিদরাতুল মুনতাহার কাছে যান। সেখান থেকে রফরফ নামক বিশেষ বাহনে আরশে আজিম যান। এক ধনুক দূরত্ব থেকে আল্লাহর সাথে কথোপকথন হয়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন, তাদের মধ্যে ধনুকের দুই মাথার ব্যবধান রইল অথবা আরো নিকটে। তখন আল্লাহ তার বান্দার প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যা করার ছিল।

হাদিসের বর্ণনামতে, শবেমেরাজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয় মহানবী সা:-এর উম্মতদের জন্য। এ ছাড়া দেখেছেন অনেক নিদর্শন। দেখেছেন জান্নাতের নেয়ামত ও জাহান্নামের শাস্তি। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় ওঠে আসা কয়েকটি শাস্তির বিবরণ তুলে ধরা হলো- বেনামাজির শাস্তি : বড় পাথর দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হচ্ছে, আঘাতে মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে, আবার ভালো হয়ে যাচ্ছে, আবার আঘাত করা হচ্ছে। জাকাত না দেয়ার শাস্তি : তাদের সামনে ও পেছনে পাওনাদারেরা থাকবে। তারা পশুর মতো চরবে আর নোংরা আবর্জনা ময়লা ও পুঁজ এবং কাঁটাযুক্ত আঠালো বিষাক্ত ফল খাবে, জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর ভক্ষণ করবে। চোগলখোরের শাস্তি : তাদের পার্শ্বদেশ হতে গোশত কেটে তাদের খাওয়ানো হচ্ছে; আর বলা হচ্ছে, যেভাবে তোমার ভাইয়ের গোশত খেতে, সেভাবে এটা ভক্ষণ করো। গিবতকারীদের শাস্তি : তাদের অগ্নিময় লোহার নখর দিয়ে তারা তাদের চেহারা ও বক্ষ বিদীর্ণ করছে। এসব দেখে রাসূল সা: বললেন, হে জিবারাইল আলাইহিস সালাম! এরা কারা? তিনি (জিবরাইল) বললেন, এরা হলো সেসব লোক যারা পশ্চাতে মানুষের গোশত খেত (আড়ালে সমালোচনা করত)। সুদখোরের শাস্তি : সুদখোরদের বড় বড় পেট, যার কারণে তারা তাদের অবস্থান থেকে নড়াচড়া করতে পারছে না। তাদের সাথে রয়েছে ফেরাউন সম্প্রদায়, তাদেরকে অগ্নিতে প্রবিষ্ট করানো হচ্ছে। ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের শাস্তি : জেনাকার বদকার নারী, যারা ব্যভিচার করেছে এবং ভ্রুণ ও সন্তান হত্যা করেছে, তাদের পায়ে আংটা লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে; তারা আর্তচিৎকার করছে। এক সম্প্রদায় তাদের সামনে একটি উত্তম পাত্রে উপাদেয় তাজা ভুনা গোশত এবং অন্য নোংরা একটি পাত্রে পচা মাংস। তারা উত্তম পাত্রের উন্নত তাজা সুস্বাদু গোশত রেখে নোংরা পাত্রের পচা মাংস ভক্ষণ করছে। রাসূল সা: বললেন, হে জিবরাইল! আ: এরা কারা? তিনি বললেন, এরা হলো ওই সব পুরুষ যারা স্বীয় বৈধ স্ত্রী রেখে অন্য নারীর কাছে গমন করেছে এবং ওই সব নারী যারা স্বীয় বৈধ স্বামী রেখে পরপুরুষগামিনী হয়েছে।

মেরাজ শেষে পৃথিবীতে ফিরে রাসূল সা: পুরো ঘটনা হজরত আবু বকর রা:-এর কাছে বর্ণনা করেন। তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসূল সা: তাকে সিদ্দিক বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। মক্কার কাফেররা রাসূল সা:-এর মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন : শবেমেরাজ উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ বাদ জোহর ‘পবিত্র শবেমেরাজ’র ‘গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা: বশিরুল আলম। আলোচনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহা: আবদুল কাদির। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ২ ছাত্রলীগ নেতা আটক 

 

একুশে বইমেলায় ঘুরতে আসা একদল দর্শনার্থীর কাছে পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির সময় আটক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতা। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালী মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ। বিজ্ঞাপন আটকরা দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজীব হোসেন রবিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের অনুসারী। অপরজন মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম ইমন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। শাহাবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই শিক্ষার্থী নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বইমেলায় চাঁদপুর থেকে আসা একদল দর্শনার্থীকে আটক করে। তারা ওই দর্শনার্থীদের মাদক ব্যবসা করে এমন অভিযোগ তুলে তাদের শরীর তল্লাশি করতে থাকে। তল্লাশির পরে কোনো মাদকদ্রব্য না পেয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা চাঁদপুরে ফেরার টাকা নেই বললে ছিনতাইকারীরা ৬০০ টাকা ফেরত দিয়ে মোটরসাইকেল করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত আশপাশের লোকজন তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। এ বিষয়ে শাহাবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ বলেন, এই ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আমরা তাদের কাছ থেকে একটি বাইক জব্দ করেছি। ভুক্তভোগীরা শাহবাগ থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করায় আমরা তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখেছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মিরসরাইয়ের পশ্চিম মায়ানী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম মায়ানী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইদিন ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাষ্টার কবির আহম্মদ নিজামী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মায়ানী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শহীদ মিয়া ও ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সালেক।

প্রধান শিক্ষক মো. আবু সালেক বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দুইদিন ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত বক্তৃতা, দৌড় প্রতিযোগিতা, দীর্ঘ লাফ, বিস্কুট দৌড়, দড়ি লাফ, পাতিল ভাঙ্গা, বর্ষা-চাকতি-গোলক নিক্ষেপ, আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও যেমন খুশি তেমন সাজসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

 

মিরসরাইয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩০হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরসরাইয়ে অস্ব্যাস্থকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারি খাদ্যপণ্য তৈরিতে ডাইং কালার ব্যবহার এবং বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত দাহ্য জ্বালানি ডিজেল ও অকটেন মজুদের দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মিরসরাই সদরের নিউ মদিনা বেকারি এবং ইছাখালির ইউনিয়নের অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকার মোহাম্মদীয়া ট্রেডার্স নামের দুই প্রতিষ্ঠানকে ত্রিশ (৩০) হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গুলিস্তান ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন নিউ মদিনা বেকারিকে অস্ব্যাস্থকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারি খাদ্যপণ্য তৈরিতে ডাইং কালার ব্যবহারের দায়ে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ইছাখালী ইউনিয়নের অর্থনৈতিক অঞ্চল সংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকায় বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত দাহ্য জ্বালানি ডিজেল ও অকটেন মজুদের দায়ে মোহাম্মদীয়া ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধীকারী শফিকুল ইসলাম কে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও দুটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

করেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাই উপজেলার করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা রিষদের সভাপতি সাখাওয়াত উল্লাহ রিপন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবলু কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূইয়াঁ, যুগ্ম সম্পাদক এসএম আবুল হোসেন, করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূইয়াঁ, করেরহাট উদয়ন ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহিম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর, ফেনী উপত্যকা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, অভিবাবক সদস্য মহিউদ্দিন কিরণ, আবু ইউসুফ, কমফোর্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূইয়াঁ বলেন, দুইদিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ৫৬ ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, ১৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, স্কাউট টিম পুরস্কার ও উপজেলায় চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের পুরস্কৃত করা হয়।

 

 

মিরসরাইয়ের আলোচিত কাশেম মেম্বার হত্যা মামলা দুই আসামী কারাগারে

মিরসরাই প্রতিনিধি :::
মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ৬ বারের সাবেক মেম্বার আবুল কাশেম হত্যা মামলার দুই আসামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মামলার ধার্য তারিখে বাদী পক্ষ আসামীদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানী শেষে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন মোস্তাকিম তাসিন আসামীদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে প্রেরণকৃত দুই আসামী হলেন সিরাজ উদ দৌলা এবং নজরুল ইসলাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদি পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য কাশেম মেম্বার হত্যা মামলার অন্যতম দুই আসামী নজরুল ইসলাম এবং সিরাজ উদ-দৌলা পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদনে এই দুই আসামীর অপরাধ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামী পক্ষ জামিন স্থায়ীর আবেদন করলে জামিন বাতিলের আবেদন করি। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে আসামীদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
মামলার বাদী বিবি ফাতেমা বলেন, আমার স্বামী কাশেম মেম্বার আজীবন মানুষের সেবা করেছেন। বেলালসহ অন্যান্য আসামীরা আমার স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এই মামলায় আমি প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহায়তা পেয়েছি। আমি মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনিসুর রহমান এর নিকট কৃতজ্ঞ তাঁরা সঠিক ঘটনা যাচাই পূর্বক তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার আনন্দ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কাশেম মেম্বারকে উপর্যপুরি চুরিকাঘাত করা হয়। এরপর উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান।

দুর্নীতি ও দুঃশাসনে মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে : জি এম কাদের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের সম্মান, সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বৈষম্যের কারণে একটি অসম রাষ্ট্র তৈরি হচ্ছে। এমন একটি দেশের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। মানুষে-মানুষে বৈষম্য হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনাপরিপন্থী।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৈষম্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ধনী ও গরিবের ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। সরকারি দল না করলে চাকরি মেলে না, ব্যবসা করা যায় না। এমনকি শোনা যাচ্ছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক বদলি ও নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

‘আমরা আইনের শাসন চাই। আমরা ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা চাই,’ বলেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, ‘বড় বড় ভবনের সাথে হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু চিকিৎসা সেবার মান বাড়ছে না। অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন হচ্ছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি দেয়া হচ্ছে কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে এবং ব্যবস্থাপনার অভাবে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে না।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো: মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দেশের অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না। শত কোটি টাকা ব্যয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, কিন্তু এই টাকায় প্রতিটি উপজেলায় স্পেশালাইজড হাসপাতাল তৈরি হলে দেশের মানুষ বেশি উপকৃত হতো।’

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি শেরিফা কাদেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতিক পার্টির নেতা নুরুন্নাহার বেগম, খন্দকার দেলোয়ার জালালী, মো: হাবিবুল্লাহ ফকির প্রমুখ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে জি এম কাদের ও মুজিবুল হক চুন্নুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেকার আহসান হাসানসহ নেতারা।

 

চট্টগ্রামে ২৩ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি রেলের বগি : তেল ছড়িয়ে পড়েছে কৃষিজমিতে

 

চট্টগ্রামের হালিশহরে লাইনচ্যুত ট্রেনের তেলবাহী তিনটি বগি আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। বগি তিনটি উদ্ধার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া বগি তিনটি থেকে পড়া তেল পার্শ্ববর্তী মহেশ খাল হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ও নালায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি ও পরিবেশের ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।

আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিবেশ অধিদফতরের একটি টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে।

এর মধ্যে দুটি বগি পুরোপুরি এবং একটি আংশিক কাত হয়ে প্রায় ৪০ হাজার লিটার ডিজেল নিঃসরিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিকে রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) প্রবেশের পথে তেলবাহী (ডিজেল) রেলের বগি তিনটি লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, লাইনচ্যুত বগিতে ৬০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার লিটার তেল পড়ে গেছে।

আজ দুপুর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান বলেন, লাইনচ্যুত বগি তিনটি উদ্ধারে কাজ চলছে। সকাল ৭টা পর্যন্ত উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ করছে। ওই বগিগুলো উদ্ধারে আরো কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানায় তিনি।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বগি থেকে পড়া তেল আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। আজ সকালে আমাদের গবেষণাগার কার্যালয়ের একটি টিম দুর্ঘটনাস্থলে গেছে। নমুনা সংগ্রহ করে এনেছে।’

সূত্র : ইউএনবি

মিরসরাইয়ের শেখেরতালুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা ও অভিবাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শেখেরতালুক সুকুমার নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা ও অভিবাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার একেএম ফজলুল হক। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন সবুজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসাইন, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ, উপ-সহকারি প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদুল হাসান টিপু, মিরসরাই উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আশারফুল কামাল মিটু। সমাবেশে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিবাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মা ও অভিবাবকদের সমাবেশ শেষে বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজলুল হক বলেন, শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারে অভিবাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে মায়ের দায়িত্ব বেশি। ছোট থেকে তাদের প্রতি যতœবান হলে তারাই এক সময় বড় হয়ে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে নেতৃত্ব দিবেন। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের এই দেশকে আরো সুন্দর ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী এখন বছরের প্রথম দিনেই সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছেন। মেধাবৃত্তি, উপবৃত্তি সহ আরো অনেক সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

সরকার হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল কথা বলছে: মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, আমাদের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছে। কারণ সরকারের দুর্নীতি, দুর্সাহস, লুটপাট সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে মানুষ বিএনপির কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষেদর উপস্থিতি দেখে সরকার হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল কথা বলছে। সরকারের কথা শুনে মানুষ হাসছে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধরেতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ এই দুঃসহ বর্তমান এবং অনিবাৰ্য্য ধ্বংস থেকে বাঁচতে চায়। তাদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ ও অক্ষম সরকারের পরিবর্তন চায় বলেই বিরোধী দলের সভা, সমাবেশ, মিছিলে তারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে; হামলা, মামলা, নির্যাতন অগ্রাহ্য করতে সাহসী হয়েছে এবং বিজয়ের লড়াইকে বেগবান করছে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রার অভাবে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষিতে যে সংকট পড়েছে তা থেকে মুক্তির পথ দেখা যাচ্ছে না। তার ওপর সরকার, সরকারি দল এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা দেশের সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করছে। সেকেন্ড হোম, বেগম পাড়া, দুবাইয়ে গুলশান-৩ আর সুইসব্যাংকে জমা হচ্ছে এসব লুটের টাকা। আর বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে তাদের ফতুর করে দিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের নামে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে কর্মহীন, ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে আর অন্যদিকে বাড়ছে হাতে গোনা কিছু মানুষের অবৈধ সম্পদ। ঋণ বাড়ছে দেশ, দেশের মানুষ ও দেশের শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের।

তিনি বলেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় যখন দেশের স্বার্থে সকলের একযোগে কাজ করা দরকার, তখন অবৈধ ও দুর্নীতিবাজ সরকার সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থে যারা কথা বলে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে, গুলি চালিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে, নির্যাতন করে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছে। ইতিহাস সাক্ষী- এমন চেষ্টা অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে এবারেও হতে বাধ্য। জনগণের সংকট মোচনের লক্ষ্যে ঘোষিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ১০ দফা দাবী আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের জন্য সরকার পুলিশী হামলা- মামলার পাশাপাশি শান্তি সমাবেশের নামে প্রতিনিয়ত জনগণকে ভয় দেখানো; সভা-মিছিলে হামলা করে আহত, নিহত, নির্যাতীত করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে এবং বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের উস্কানি দিচ্ছে। বিরোধী দল সচেতনভাবে এসব প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেওয়ায় সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতারা হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল কথা বলে লোক হাসাচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি টিভি চ্যানেলে ডিজিটাল কায়দায় বানানো একটি ভিডিও প্রচার করেছে যা দেখলে যেকোনো সাধারণ নাগরিকও বুঝবে, এটা নোংরা রাজনৈতিক অপপ্রচারের এক বানোয়াট ও নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। সরকার দলের অরাজনৈতিক অপকৌশলের পাশাপাশি আমরা তদের সহযোগী অনুগত মিডিয়ারও অনৈতিক কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ভিডিও প্রচারের পর কমেন্ট বক্স ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলগুলোর নির্মম অথচ সঠিক সমালোচনার ঝড় বইছে। কাজেই এ ব্যাপারে নতুন কিছু না বলে আমরা শুধু বলবো, চলমান গণআন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত এবং দেশের সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার এই বৃথা অপচেষ্টা মাঠে মারা গেছে। জনগণ প্রতিদিনের জীবনে যে নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন তা ভুলিয়ে দেওয়ার কিংবা তা থেকে মুক্তির যে লড়াই তা থামিয়ে দেওয়ার সাধ্য কোনো ভুয়া ভিডিও অথবা কোনো চ্যানেলের অপপ্রচারের নেই। থাকে না কখনও।

তিনি বলেন, সরকার দলের সম্মেলনের দিন আমরা ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। অথচ তারা আমাদের প্রতিটি কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে চলেছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এসব ঘটনা বর্জনীয় বলেই তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করে নিন্দা জানায়। জনগণ আশা করে সরকার দল রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন সহিংস তৎপরতা বন্ধ করবে। বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের দুর্ভোগ মোচন এবং দেশ ও দেশের জনগণকে দুর্নীতি, অনাচার, লুট ও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায় ভাবে কারারুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক কারণে আটক নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে যে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তা ক্রমান্বয়ে বেগবান হয়ে অবৈধ সরকারকে পদত্যাগে ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্র পুণঃরুদ্ধারে দেশের সকল শ্রেণী পেশার জনগণ ও মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদন্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান।