মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 113

মিরসরাইয়ের শেখেরতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুণীজন সংবর্ধনা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শেখেরতালুক সুকুমার নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বার্ষিক ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন সবুজের সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুস্তফা মোল্লার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. ফারুক হোসাইন, চট্টগ্রাম জজ আদালতের আইনজীবি এডভোকেট ভবতোষ নাথ, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া, বিদ্যলয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন, জামাল উদ্দিন, রনজিৎ নাথ, মোমিনুল ইসলাম সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া গত শনিবার বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল ঘোষনা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।

 

মিরসরাইয়ে হাজী নুরুল ইসলাম ডিলারের উদ্যোগে প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠিত

 

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই সীতাকুণ্ডের স্বনামধন্য সিমেন্ট-রড় পরিবেশক মেসার্স হাজী নুরুল ইসলাম ডিলারের আয়োজনে প্রীতি সম্মিলন (মিট দ্যা রিটেইলার) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় উপজেলার আবুতোরাব বাজার সংলগ্ন আবুতোরাব বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে এসম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। মেসার্স হাজী নুরুল ইসলাম ডিলারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাজ উদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, কেএসআরএম স্টীল লিমিটেডের মার্কেটিং এন্ড সেলস্ এর সিনিয়র ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন, কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের হেড অফ সেলস্ এন্ড মার্কেটিং জিএম মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, কেএসআরএম স্টীল লিমিটেডের জিএম মার্কেটিং এন্ড সেলস মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রয়েল সিমেন্ট লিমিটেডের কর্পোরেট এফেয়াস জিএম মুহাম্মদ আবুল মনসুর কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের সেলস্ এন্ড মার্কেটিং ডিজিএম আশিষ কান্তি পালিত, কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের সিনিয়র জিএম মিরাজুর রহমান, ইনচি সিমেন্ট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার নুরুল ইসলাম সোহেল, রয়েল সিমেন্ট লিমিটেডের রিজিয়নাল ম্যানেজার মহিউদ্দিন রাজু প্রমুখ।

মিট দ্যা রিটেইলার অনুষ্ঠানে মিরসরাই সীতাকুণ্ডের ১৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দুপুরে প্রীতিভোজ শেষে ১২০জন ব্যবসায়ীকে সন্মাননা স্মারক ক্রেষ্ট এবং উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়, এছাড়া সীতাকুণ্ড মিরসরাইয়ের ৩০ জন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও ১০০ জন রাজমিস্ত্রীকে সন্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রীত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অত্র প্রতিষ্ঠানের আবুতোরাব বিয়ে বাড়ি নামের কমিউনিটি সেন্টার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আমন্ত্রীত অতিথিরা।

উল্লেখ্য, মেসার্স হাজী নুরুল ইসলাম ডিলার কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড, কেএসআরএম স্টীল লিমিটেড ও রয়েল সিমেন্টের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডের পরিবেশক। প্রতিষ্ঠানটি কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের পরপর ৩বার সারাদেশে প্রথম স্থান অধিকার লাভ করে। এড়াছা মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে একযুগেরও বেশী সময় ধরে সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই ০১৮১৫৫০০৭০৫।

ফখরুলসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে জাগপার বিক্ষোভ

 

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলটির নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে যুব জাগপা। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি।

যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু বলেন, বর্তমান সরকারের দুঃশাসন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সরকার বিএনপি এবং বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নিধনে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, রাতের অন্ধকারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা দুজনই বয়োজ্যেষ্ঠ। দেশের এই সম্মানিত দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অবিলম্বে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ সব নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান জাগপার সভাপতি।

 

প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুব জাগপার সাধারণ সম্পাদক কাওছার হামিদ, সহ-সভাপতি জুলফিকার নয়ন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফিন সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক মন্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এলিটের শীতবস্ত্র বিতরণ

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্র্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশে অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামে হতদরিদ্র শীতার্ত নারী-পুরুষদের মাঝে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়।

শীতবস্ত্র বিতরণকালে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মানবিক যুবলীগের প্রবক্তা কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নির্দেশনা অনুযায়ী যুবলীগ সারাদেশে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমি আমার নিজ জন্মস্থান মিরসরাই উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি।

এসময় তিনি আরও বলেন, দেশে শীতের তীব্রতা বাড়ায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষ অত্যাধিক কষ্ট পাচ্ছে। শীত এলেই দরিদ্র অসহায় মানুষ শীতে কাতর হয়ে যায়, খাবারের চেয়েও তাদের শীত নিবারণ অতীব জরুরী হয়ে পড়ে। তাই সরকারের পাশাপাশি যুবলীগ কর্মীদের এই মহৎ কাজে নির্দেশনা ও উৎসাহ দেয়ার জন্য মানবিক যুবলীগের প্রবক্তা যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি আছিফ রহমান শাহীন, যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ অভি, শওকত আজিম রিংকু সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ছবির ক্যাপসনঃ মিরসরাইয়ে দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।

টানা ৩৫ বছর ইমামতি, বিদায়বেলায় ১৫ লাখ টাকা সম্মানী

 

চট্টগ্রামের খুলশিতে ইমামের বিদায়ে বিরল সম্মাননা জানিয়েছেন মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা। টানা ৩৫ বছর একই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব থেকে বিদায়বেলায় নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং নানা উপহারসামগ্রী দিয়ে সম্মাননা দেয়া হয়।

রোববার (১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী কলোনি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ কমিটি ও খুলশি কলোনি এলাকার মুসল্লিরা এ সম্মাননা দেন।

ওই ইমামের নাম আলহাজ হাফেজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া (৬২)। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার থানার চরবাটা গ্রামের মৃত আলহাজ হাফেজ সোলায়মানের ছেলে তিনি।

পারিবারিক জীবনে তিন ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা মাওলানা কিবরিয়া। তার তিন ছেলেই কুরআনের হাফেজ ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এক মেয়ে মাস্টার্স ও অন্য দুই মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন।

মাওলানা কিবরিয়া মাত্র ২৭ বছর বয়সে ওই এলাকায় এসে ইমামতি এবং এলাকার মক্তবে পড়ানো শুরু করেন। প্রায় তিন যুগ ধরে মসজিদে ইমামের কাজ করার পর ৬২ বছর বয়সে গত ১ জানুয়ারি অবসর নেন। তার অবসরকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে বিদায়ী ইমামের হাতে তুলে দেয়া হয় নগদ ১৫ লাখ টাকা ও নানা উপহারসামগ্রী।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হান্নান জানান, ‘উনি টানা ৩৫ বছর আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। একজন ইমামের কতই বা বেতন। বিদায়বেলায় আমাদের মনে হলো- ইমাম সাহেবকে যথাযথ সম্মান দেয়া উচিত। এ কারণেই মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী সবাই মিলে ওই উদ্যোগ নিয়েছি।’

ইমামের বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- খুলশি কলোনি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ড. আতাউর রহমান নদভী, খুলশী থানার অফিসার্স ইনচার্জ সন্তোষ কুমার চাকমা, মাওলানা হাফিজ আহমেদ, খুলশী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুর রহমান, খুলশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নুরুল আবছারসহ আরও অনেকেই।

মিরসরাইয়ে একই রাতে কৃষকের দুটি গরু চুরি

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে একই রাতে কৃষকের দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ জানুয়ারি) আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের নিজতালুক ও ভূঁইয়াপাড়া পূর্ব মসজিদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। চোরের দল ওই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ হারেসের একটি ও নুরুচ্ছাপার একটি গরু নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হারেস বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে গোয়াল ঘরে গরু রেখে ঘরে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ৩টার সময়ও ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে দেখি গরু দেখতে পাই। বুধবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি গোয়াল ঘরে গরু নেই। গরুটির বাজার মূল্য প্রায় ১লাখ ৭০ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, বর্গা নিয়ে অনেক কষ্টে গরু পালন করছিলাম। কিন্তু চোরের দল আমার সব শেষ করে দিয়েছে। একই সময়ে একই ইউনিয়নের পাশের গ্রামের মো. নুরুচ্ছাপার গরুও নিয়ে গেছে চোরের দল। ওই গরুটির বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০হাজার টাকা বলে জানান কৃষব নুরুচ্ছাপা।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, গরু চুরির বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই এলাকায় পুলিশের একটি ফোর্স পাঠিয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মির্জা ফখরুল-আব্বাসের ৬ মাসের জামিন

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

মঙ্গলবার বিচারপতি মোঃ সেলিম ও বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিএনপির এই শীর্ষ দুই নেতাকে ছয় মাসের জামিন দেন। একই সাথে তাদের কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের রুলে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জামিন আদেশের পর বিএনপি নেতাদের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, হাইকোর্ট বিএনপি’র দুই নেতাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় জামিনে মুক্তির বাধা নাই। আদালতে বিএনপির দুই নেতার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সাথে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, গাজী কামরুল ইসলাম সজল, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মোহাম্মদ আলী, মোঃ সগীর হোসেন লিওন, মোঃ আক্তারুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম সপু, সাইফুল ইসলাম, আনিছুর রহমান খান, সালমা সুলতানা, মাকসুদ উল্লাহ প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম গোলাম মোস্তফা।

সোমবার তাদের জামিন আবেদন করা হয়। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ১১ দিন পর রোববার আদেশের কপি পান তাদের আইনজীবীরা। এর পর সোমবার উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলেও উচ্চ আদালতের জামিন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তাদের আইনজীবীরা। জানান, হাইকোর্ট বিভাগের ৬৫ ডিএলআরের ৫৪১ পৃষ্ঠায় আছে মামলার এফআইআরে যাদের নাম আছে তাদের জামিন হলে যাদের নাম নেই তারা জামিন পাবেন।

এছাড়া সাংবাদিক শফিক রেহমানের মামলায় আপিল বিভাগের নির্দেশনা আছে যারা অসুস্থ এবং বয়স্ক তারা জামিন পেতে পারেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার এফআইআরে নাম না থাকা এবং দু’জন বয়োজ্যেষ্ঠ, সমাজ ও রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের জামিন পেতে কোনো বাধা নেই বলে আইনজীবীরা মনে করেন।

মধ্যরাতে বিএনপির শীর্ষ এই দুই নেতাকে নিজ নিজ বাসভবন থেকে তুলে নেয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও জামিন পাননি।

সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। তবে আদালতের আদেশ না পাওয়ায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।

গত ৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে তুলে নেয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর ডিবির কার্যালয় থেকে ৯ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয়। গত ৭ ডিসেম্বর পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে চারবার জামিন না পাওয়া মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের হাইকোর্টে জামিন আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আসাদুজ্জামান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৫, ১২ ও ৯ ডিসেম্বর তিনটি আদালতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দেয়ার অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় গত ৮ ডিসেম্বর দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ ৪৩৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে পাঠানো বিএনপি নেতাদের মধ্যে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ ৪৩৪ জন। তবে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্যাহ আমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

 

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামীলীগ নেতাকে অব্যাহতি

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন টিটুকে দলের পদসহ সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ জানুয়ারী) ভোর রাতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় মাঈন উদ্দিন টিটুকে অব্যাহতি দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গত রবিবার (১ জানুয়ারী) ভোর ৪টায় ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগের নেত্রীবৃন্দের উপর দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ হামলা ও পিস্তলের গুলি নিক্ষেপ করে নেতা কর্মীদের আহত করে। উক্ত ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হয় এবং বেআইনী কার্যকলাপের দ্বারা দলীয় সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের কারণে ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর যুগ্ম সম্পাদক মাঈন উদ্দিন টিটু, পিতা আরব আলী কে ৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সকল ধরনের, সকল স্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। ঘটনারদিন রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাতেই জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চেয়াম্যান ও সভাপতি শ্যামল দেওয়াজনী স্বাক্ষরিত একটি দলিয় প্যাড়ে এই সিদ্যান্ত নেয়া হয়।’ অব্যাহতি আদেশটি উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।
৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মাঈন উদ্দিন টিটুর ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
৩নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, মাঈন উদ্দিন টিটু ও তার অনুসারীরা কোন প্রকার উস্কানী ছাড়াই রবিবার ভোর ৪টায় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের উপর অন্যায়ভাবে অতর্কীত হামলা করে। হামলার সময় সে সকলের সম্মুখে থেকেই পিস্তল উচিয়ে গুলি করেছে। দলীয় লোকের উপর হামলায় ঘটনায় সাংগঠনিক সিদান্ত অনুযায়ী তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো মামলা পরবর্তী তাদের ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র যেন উদ্ধার করে ও তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হত্যাসহ যে কোন অপারধমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
প্রসঙ্গত : জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া ১০দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার শেষ দিন রবিবার ভোর রাতে মেলা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম সম্পাদক মাঈন উদ্দিন টিটুর নেতৃত্বে তার গ্রুপের লোকজন মেলার দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীদের উপর হামলা করে। এসময় ৬জন গুলিবিদ্ধসহ ১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহদের মধ্যে ৭জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় সোমবার (২ জানুয়ারী) বিকাল ৫টা পর্যন্ত থানায় কেউ মামলা করেনি এবং কেউ আটক হয়নি বলে নিশ্চিত করেন জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদ হোসেন।

 

বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে : আমীর খসরু

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কোন দিকে যাবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে আছে। দেশ কোন পথে যাবে সেটা নিয়েও দ্বিধায় আছে। বিদেশীরাও উদ্বিগ্ন। কারণ বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে।

 

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রুপরেখা ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ প্রত্যেকটি দফা একেকটি ভিন্ন চিন্তা ভাবনা থেকে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক ফিলোসফি। যা খুব কম রাজনীতিবিদ করতে পারেন। সেই জায়গায় তারেক রহমান এই রুপরেখা ঘোষণা দিয়ে নিজের নেতৃত্বের যোগ্যতাকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা’ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিল বিএনপির মিডিয়া সেল।

আমীর খসরু বলেন, আজকে নব্বই শতাংশ রাজনীতিবিদ বক্স থেকে বেরিয়ে চিন্তার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তারা বিজনেস মনে করে শুধু। কিন্তু বিশ্ব যে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবে না। সেই জায়াগাটা উপলব্ধি করেই কিন্তু তারেক রহমান এই রুপরেখা দিয়েছেন। যেমন তার বাবা জিয়াউর রহমান সাহসী কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের সব অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। মাঝে স্বৈরাচার সরকার দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়।

খসরু বলেন, আজকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে গভীর সঙ্কটে নিপতিত করেছে। যা অনেক গভীরে চলে গেছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে ২৭ দফা রুপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বিএনপি তুলে ধরেছে বলে সাধারণ মানুষ বলছে। বিদেশীদের কাছেও খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে বিএনপির ২৭ দফা রুপরেখা বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। দেশকে গভীর গর্ত থেকে তুলে আনতে হলে ২৭ দফার বিকল্প নাই। এজন্য বিএনপির প্রতিশ্রুত থাকা দরকার।

আমীর খসরু বলেন, আজকে বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি শুরু হয়েছে। দেশের ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী সংসদে বসে আছেন। তারা তো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আজকে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা তো তারাই করছে। আজকে দেশের অর্থনীতি আওয়ামী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং পরিবর্তন দরকার। আপার হাউসের পরিবর্তন দরকার। যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী তারা সেখানে যাবেন। তখনই দেশের স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি আরো বলেন, ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে জনগণের সাথে কিছু চুক্তি বা ওয়াদা দিতে হবে। সেটাই করেছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। যা রাজনীতিবিদরা খুব একটা করতে পারেন না। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের যোগ্যতা অনেক উপরে স্থান পেয়েছে।

রেইনবো নেশনের ব্যাখ্যা করে আমীর খসরু বলেন, রেইনবো নেশন হলো- আজকে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। এখানে অনেক ধর্মের ও বর্ণের মানুষ বাস করে। সবার ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য বা সম্মান জানানোর জন্য রেইনবো নেশন। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূলে রেখে নতুনভাবে রেইনবো নেশনের কথা বলা হচ্ছে। যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই ধারণা মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে। রেইনবো নেশন সারাবিশ্বকে বোঝায়।

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা দিয়েছে তা সময়োপযোগী। আসলে দেশের যে অবস্থা তার মেরামত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশ ও জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাস্তব চিন্তা ধারা থেকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা দিয়েছেন।

বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী বলেন, গণতন্ত্র হলো বুর্জোয়া পদ্ধতি। আজকে ক্ষমতাসীনরা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করেছে। তারা লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। আজকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের বিকল্প নাই।

স্বাগত বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা ঘোষণা করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য সেটা বাস্তবায়ন হবে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে কাজ করা। ক্ষমতা ভোগ করা নয়। ইতোমধ্যে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সবাই প্রশংসা করছেন।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, লাইফ সাপোর্টে থাকা গণতন্ত্র ও লক্ষচ্যুত দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের বিকল্প নেই। বিএনপি যে রুপরেখা দিয়েছে এটা জাতির মুক্তির সোপান।

অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ২৭ দফা শুধু রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা নয়, এটা এখন বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ।

অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। এখান দেশের মানুষ ও দেশকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা দিয়েছেন তা হলো আমাদের মুক্তির গাইডলাইন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশ ভালো চললে তো আজকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা লাগতো না। কিন্তু দেশের কী পরিস্থিতি? এখানে ভোটাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। আর্থিক খাতে চলে লুটপাট। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটে স্বদেশ আজ ধ্বংস প্রায়। এখানে থেকেই দেশ রক্ষার লক্ষ।

 

আগামী দিনের লড়াইয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে : নজরুল ইসলাম

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। আগামী দিনের লড়াইয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এ সময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করলেই ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।

 

সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করলেই আন্দোলনে জয়ী হওয়া যায় না, ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। তারা (আওয়ামী লীগ) জানে এটা। জানার পরেও তারা একই ভুল করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে ছিলাম, আক্ষেপটা বোধ হয় তাদেরই বেশি। কী ভেবে, কী চিন্তা করে, কী আশা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলাম। আর কি পেয়েছি। কত রঙ, কত রকমের কথা শুনেছিলাম আমরা, বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে। বাংলাদেশকে কত কী করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হবে। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ করা হবে শুনেছি। যে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখেছি, অনাচার দেখেছি, অব্যবস্থাপনা দেখেছি। শেষ পর্যন্ত সেদেশে গণতন্ত্রহীনতা দেখেছি। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখেছি। এগুলোর কোনোটাও সোনার মতো মূল্যবান না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বলা হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র চর্চা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করেছে, তারাই এখন গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন বলে দাবি করে। তখন কষ্ট হয়। গণতন্ত্র তো ক্ষমতায় যাওয়ার বাহন না। গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। আপনারা সেই নির্বাচন ধ্বংস করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলবেন, এইটা বলতে পারেন না।’

বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে মন্তব্য করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘আমাদের এত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে; মাত্র তিন মাসের মধ্যে আমাদের ১২-১৩ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও আমাদের প্রত্যেকটা প্রোগ্রাম সফল হয়েছে। প্রত্যেকটা আন্দোলনে সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। আর সাধারণ জনগণ তখনি অংশগ্রহণ করে, যখন তারা পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন চায় কল্যাণের জন্য, সমৃদ্ধির জন্য, শান্তির জন্য। এবং জনগণের শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধির যে আকাঙ্ক্ষা যুগে যুগে কেউ কখনো তা দাবিয়ে রাখতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। আগামী দিনের সেই লড়াইয়ে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী। এ সময় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন একরাম, ইসলামি ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল করিম, মুসলিম লীগের মহাসচিব মো: নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহ আলম, মুক্তার আহমেদ প্রমুখ।

সম্মেলনে শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও নজরুল ইসলামকে মহাসচিব ঘোষণা করা হয়।