রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 14

মিরসরাই প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মিরসরাই প্রেসক্লাবের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এসময় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট সাইফুর রহমান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মহি উদ্দিন, মিরসরাই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কামাল উদ্দিন বিটু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মীর হোসেন, মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জামশেদ আলম কমিশনার, সাবেক সদস্য সচিব জাহিদ হুসাইন, সমাজসেবক রহমত উল্ল্যাহ, শাখাওয়াত হোসেনসহ প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, মিরসরাই প্রেসক্লাব দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ প্রেসক্লাবের নিয়মিত ও গঠনমূলক কার্য্যক্রমের একটি অংশ, যা সংগঠনের ঐক্য, পেশাদারিত্ব ও কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ একে অন্যের পরিপূরক। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর মিরসরাই গড়ে তোলা সম্ভব।

 

মিরসরাইয়ে খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা

 

সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুপার ওমেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে মিরসরাই সদর ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যাগে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় তিনি আরো বলেন বেগম জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি অন্যায় জুলুমের শিকার হলেও ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি যে সফল প্রধানমন্ত্রী তার প্রমাণ জানাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণ।
মিরসরাই সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মাঈন উদ্দিন কোম্পানি সভাপতিত্বে শোকসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজী নিজাম উদ্দিন।
এসময় মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ফখরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য তাহের আহমদ, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন, ঢাকাগ্রন্ত মিরসরাই ফোরামের সভাপতি আইয়ুব খানসহ বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শোকসভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করে দোয়া করেন নেতাকর্মীরা।

গার্ড অব অনার প্রদান-রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। দাফন শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা মরহুমার প্রতি সশস্ত্র সালাম জানান।বাংলাদেশ ভ্রমণ

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার পর ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সব রাস্তা জুড়ে সমবেত হন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা, কর্মী, সমর্থকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশে আসেন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

পাশাপাশি, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও জানাজায় শামিল হন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত এ জানাজায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারাও অংশ নেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরাও খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা লাশ জানাজাস্থলে আনা, জানাজা ও দাফন পর্যন্ত সাথে ছিলেন।

নজরুল ইসলাম খান- খালেদা জিয়ার হত্যার দায় থেকে হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে না দিয়ে ‘হত্যা করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ হত্যার দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তার জীবন ও কর্ম তুলে ধরে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসার অভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন দেশনেত্রী। সমগ্র দেশবাসী সাক্ষী যে, হেঁটে তিনি কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম অসুস্থতা নিয়ে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে পরে গৃহবন্দি থাকা চার বছরে তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা না দেওয়ায় তার অসুস্থতা ক্রমে বেড়েছে। ফলে এভাবে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো এ অপরাজেয় নেত্রীর। তাই এ মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের কল্যাণে একের পর এক গ্রহণ করেছেন যুগান্তকারী সব কর্মসূচি। তার পরিকল্পনায় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের পর বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিত পেয়েছিল ইমার্জিং টাইগার হিসেবে।

বক্তব্যে খালেদা জিয়ার জন্ম, পারিবারিক পরিস্থিতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনীতিতে উঠে আসা, পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘খালেদা জিয়ার আগে মারা যাওয়ার দাবিটি গুজব- ডা. মারুফ রায়হান খান

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর দিনক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অনেকে। তবে এ তথ্য ভুয়া বলে জানিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মারুফ রায়হান খান।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‌‘আমার ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন স্পেশালিস্ট ক্লাসমেট ও ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম সরাসরি চিকিৎসক। প্রতিদিন ওর সঙ্গে কথা হতো উনার আপডেট ও ক্লিনিক্যাল প্যারামিটার্স নিয়ে। কাল রাতেই আমরা বুঝতে পারছিলাম এই রাতটি আর হয়তো পার হবে না। গত প্রায় এক মাসের কনভারসেশন শেষ হলো এই মেসেজে। এতো খারাপ লাগছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।

মহান আল্লাহ আমাদের শৈশবের প্রধানমন্ত্রীকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। তিনি দল-মত ছাড়িয়ে বাংলাদেশের আপামর মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন।
(ফেসবুকে অজস্র মানুষ প্রচার করে বেড়াতেন উনি অনেক আগেই মারা গিয়েছেন, নানা কারণে ইচ্ছে করে সেটির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না–এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল প্রচারণা। কাল রাতেও তিনি ডায়ালাইসিস পেয়েছেন।

ডায়ালাইসিস পাবার পর তার ব্লাড প্রেশার ফল করতে শুরু করে। রাত ১১টার দিকে ৩ ধরনের, ২টার দিকে ৪ ধরনের প্রেশার বাড়ানোর ইনজেকশান একই সঙ্গে চলতে থাকার পরেও তার ব্লাড প্রেশার বাড়ানো যাচ্ছিল না। তখনই যা বোঝার আমরা বুঝে ফেলেছিলাম।

রক্তের টোটাল কাউন্ট মাত্রাতিরিক্ত কমে গিয়েছিল। যার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছিল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। আর্টারি লাইনে ও এইচ বি ক্যাথেটার লাইনে অত্যন্ত নটোরিয়াস ব্যাকটেরিয়ার গ্রোথ পাওয়া গিয়েছিল, যা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ছিল, অর্থাৎ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই আর কাজ করছিল না।

পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হওয়ায় তার পরিবারের সবাইকে রাতে এসে দেখে যাবার জন্য বলা হয়। কেউ কেউ আগ থেকে ছিলেন, আবার কেউ কেউ ছুটে আসেন দ্রুত হাসপাতালে। বাংলাদেশের অধিকাংশ, এমনকি প্রচুর শিক্ষিত মানুষও অতিকথন ও গুজব পছন্দ করে। যা তাদের শিক্ষাদীক্ষার কোয়ালিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেক সাংবাদিক পর্যন্ত বিশ্বাস করতো না যে উনি বেঁচে ছিলেন।

এই পুরো সময়ে অনেককে প্রায় জোর করে বোঝাতে হয়েছে যে তিনি বেঁচে আছেন এবং কিছু সময়ে সাময়িক উন্নতির জন্য তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। এমন একজন পেশেন্টকে কীভাবে মানুষ মৃত বানিয়ে ফেলতো? এসব মানুষের মেন্টালিটি দেখে আফসোস হয়।

আজ তিনি মারা গিয়েছেন। আজ শোকের দিন। আজ কি এতো বিতং করে এসব ব্যাখ্যা প্রদান করার দিন? আজ কি প্রমাণ করার দিন যে তিনি এতোদিন আসলেই বেঁচে ছিলেন? কিন্তু ন্যূনতম বিবেকহীন লোকজনের নোংরামি দেখে দেখে এসব না লিখে উপায়ও নেই।

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে দূরে থাক। কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ। আর তোমরা একজন অন্য জনের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কোরো না। আর একজন অন্যজনের গিবত কোরো না।’ (সূরা আল-হুজুরাত : আয়াত ১২)’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মিরসরাইয়ে শোকের ছায়া

 

মিরসরাই প্রতিনিধি

বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। দলের চেয়ারপারসনকে হারিয়ে শোকাহত দলীয় নেতাকর্মীরা। শোক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন উপজেলা-ইউনিয়ন প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত।

মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বেগম জিয়া ১৯৯৬ সালে মিরসরাই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন। তিনি অনেকবার মিরসরাই এসেছেন। জাতির বড় প্রয়োজনের সময়ে তাকে হারালাম। তবে এই দেশ ও জাতি যতদিন থাকবে, মানুষ তাকে ততদিন মনে রাখবেন।

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, ‘ আমরা আজ থেকে অভিভাবকহীন হয়ে গেলাম। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তার আপসহীন নেতৃত্বের ফলে বিভিন্ন সময়ে দেশের সঙ্কটময় পরিস্থিতির সফল উত্তরণ ঘটেছে। তার ইন্তেকালে দেশ এক অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতার সৃষ্টি করল।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংসদীয় রাজনীতি সুসংহতকরণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’বাংলাদেশ ভ্রমণ

মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালের ৩৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিরবিদায় নেন তিনি। এদিন সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান চিকিৎসকরা।

 

 

গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালের মে মাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যখন হত্যা করা হয়, খালেদা জিয়া তখন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। রাজনীতি নিয়ে চিন্তাধারা তো দূরের কথা, রাজনৈতিক কোনো অনুষ্ঠানেও তাঁকে খুব একটা দেখা যেত না। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিনিই একজন গৃহবধূ থেকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে হয়েছেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। ঘরে-বাইরে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তাঁকে এই দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। স্বামী হারানোর বেদনার মধ্যে তাঁর গড়া দলের হাল ধরতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। সেখানেও অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেখান থেকে শুরু হয় রাজনৈতিক সংগ্রামের জীবন। টানা আট বছর রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যখন তিনি এই আন্দোলনের পথে হাঁটতে শুরু করেন তখন শুরুতে কেউ পাশে না থাকলেও একসময় তিনি পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। কখনো আপস করেননি বলে তাঁকে আপসহীন নেত্রী উপাধি দেওয়া হয় তখন। দৃঢ় মনোবলের কারণে, দেশপ্রেমের কারণে, গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে দেশের আপাময় জনগণ তাঁকে কখনও ছেড়ে যায়নি। নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ভঙ্গুর দলকে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং অকল্পনীয়ভাবে তাঁর দল জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে। খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সবগুলোতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। দেশে এ রকম নজির আর কারও নেই। তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।

জন্ম ও বিয়ে
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলায় তাঁর ডাক নাম ছিল পুতুল। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ফেনীর বর্তমান পরশুরাম উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসার উন্নতির জন্য তিনি দিনাজপুরে গিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশে পরিণত হলে তিনি দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৩৭ সালের ১৯ মার্চ তাঁর সঙ্গে তৈয়বার বিয়ে হয়। তৈয়বা বর্তমান পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ীর বাসিন্দা। এই পরিবার ‘টি-ফ্যামিলি’ নামে পরিচিত। তাঁর মা তৈয়বা মজুমদার সমাজকর্মী ছিলেন।

তরুণ ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে দিনাজপুরে কর্মরত থাকার সময় খালেদা খানমকে বিয়ে করেন। ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট শুক্রবার দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় খালেদার বাবার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। খালেদা জিয়ার শ্বশুর বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি, কারণ তিনি করাচিতে ছিলেন। বিয়ের বছর খানেক আগে জিয়ার মা মারা যাওয়ায় তিনি শাশুড়ির স্নেহ থেকেও বঞ্চিত হন। খালেদার মা ছিলেন জিয়ার মায়ের দূর সম্পর্কের আত্মীয়।

খালেদা জিয়া ৩৬ বছর বয়সে বিধবা হওয়ার পর থেকেই জাতির সেবায় আত্মনিবেদন করেছেন। তিনি এমন একটি সময়ে স্বকীয় রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন, যখন পুরুষশাসিত সমাজের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। তিনি প্রথমে রাজনৈতিক ও পরে সরকারি গুরুদায়িত্ব সময়োচিতভাবে গ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল সংকটপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণে ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ। এমন এক সময়ে খালেদা জিয়া দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, যখন দেশ এরশাদের চাপানো সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল।

জিয়ার উত্তরসূরি সন্ধান ও খালেদা জিয়া
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে উৎখাত করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন এইচ এম এরশাদ। নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে ঘোষণা করে প্রকারান্তরে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করেন তিনি। এরশাদের আগ্রাসী অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলটি যেন উত্তাল সাগরে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়ার পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছিল এবং নতুন বাস্তবতার পটভূমিতে দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, বিশেষ করে জিয়ার কোনো যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি ছাড়া দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া একান্তভাবেই দুঃসাধ্য হয়ে গিয়েছিল। সদস্যপদ ও সমর্থকদের সংখ্যা বিবেচনায় ১৯৮১ সালের মধ্যে বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। সদস্যদের মধ্যে বহুমুখী মতাদর্শের কারণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মূলনীতির চেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এমন একজন নেতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, যিনি জিয়ার সুযোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হতে পারবেন এবং স্বাধীনভাবে স্বকীয় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন। এদিকে বয়োবৃদ্ধ অসুস্থ সাত্তার ধকল কাটিয়ে উঠে দলকে কাঙ্খিত পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হওয়ায় নতুনভাবে উজ্জীবিত হওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য কোনো একজনকে নেতা হিসেবে খুঁজছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চৌকশ সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া সাধারণ বাংলাদেশি গৃহবধূর মতো পরিমিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে লালনপালন করতেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছিলেন। এমনকি যখন স্বামী ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন, তখনও খালেদা জিয়া নিজেকে রাজনীতিতে বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত করেননি, যদিও ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে হয়েছে। জিয়া ও বেগম জিয়ার দুই ছেলে থাকলেও কোনো মেয়ে নেই। তাঁর অন্য বোনেরও কোনো মেয়ে নেই। বেগম জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর এবং ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। দুই ছেলেরই মেয়ে আছে। তারেক রহমানের একটি মেয়ে আছে। তাঁর মেয়ে এখন যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কোকোর লন্ডননিবাসী দুই মেয়ে আছে। তারাও সেখানে লেখাপড়া করছেন।

বিএনপিতে যোগদান ও নিজেকে আত্মপ্রকাশ
জিয়ার অনুসারী ও কর্মীদের কাছে খালেদা জিয়ার পরিচিতি খুব কম থাকলেও দলের নেতৃস্থানীয় সবার কাছে তিনি সুবিদিত ছিলেন এবং তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য তিনিই হতে পারেন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কান্ডারি। বছরের পর বছর ধরে এই মূল্যায়ন সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর নেতৃত্বে দলটি ভেতরের ও বাইরের সব বাধা-বিপত্তি ও ঘাত-প্রতিঘাত উতরে টিকে আছে। অনেক হিসাব-নিকাশ কষার পর খালেদা জিয়াকে শেষমেশ চূড়ান্তভাবে পছন্দ করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থ্যানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি দলের পরিত্রাতা হিসেবে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন এবং নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন।

দলীয় নেতৃত্ব গ্রহণের পর খালেদা জিয়াকে পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের কবল থেকে মুক্তির জন্য আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে কঠোর ও অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ করতে হয়েছিল। দলীয় নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ৩৫ বছরে তিনি কেবল গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না, বরং বিপুল ঝুঁকির মধ্যেও সোচ্চার ছিলেন আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। দলীয় আদর্শে নিবেদিতপ্রাণ খালেদা জিয়ার কথা বিবেচনা করে তাই বলা যায়, ‘খালেদা জিয়া’ ও ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ পারস্পরিকভাবে সমার্থক হয়ে উঠে।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব
দলের মধ্যে একটি অংশের বাধার মধ্যেও খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ওই বছরের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি জীবনের প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হলে খালেদা জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যেই দলের হাল ধরে ১৯৮৩ সালে তিনি ৭ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করেন। শুরু করেন এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। খালেদা জিয়া মূলত ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ছেদ পড়ে।

‘আপসহীন’ নেত্রীর খেতাব
নির্বাচন প্রশ্নে বিরোধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ভেঙে ৮ দল ও ৫ দলে ভাগ হয়। শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে ৮ দল ও জামায়াত ৮৬ সালের নির্বাচনে যায়। এরপর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, বাম দলগুলোর পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট থাকে রাজপথে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। সংসদ ভেঙে দিতে বাধ্য হন এরশাদ। আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে বের হয়ে এলে পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। রাজপথে দীর্ঘ ৮ বছর একটানা আপসহীন সংগ্রামে ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে দেশবাসীর কাছে পেয়ে যান ‘আপসহীন’ নেত্রীর খেতাব।

বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে খালেদা জিয়া হন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, জনগণকে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল নেতায় পরিণত হবেন- এটি তাঁর বিরুদ্ধাচারীদের কাছেও অচিন্তনীয় ছিল। তাই ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল দেখে তারা হতভম্ব হয়েছিলেন।

হারেননি কখনও
তিনি যে কেবল আন্দোলনেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তা নয়, অভূতপূর্ব জনসমর্থন- পাঁচটি আসনে তাঁর বিজয়ও নিশ্চিত করেন। তারপর থেকে বিরুদ্ধাচারীদের শত ঘৃণ্য কৌশল সত্ত্বেও তিনি কোনো নির্বাচনে হেরে যাননি। যদি নির্বাচন জনপ্রিয়তার মান নির্ধারণ করে, তাহলে তিনি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। কখনও হেরে যাননি। বাংলাদেশে বা উপমহাদেশে তাঁর সমমর্যাদার অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা এ ধরনের কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করে খালেদা জিয়া তাঁর কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে সংকল্পবদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কাছে এটা ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রতি এক ধরনের আধ্যাত্মিক উপলব্ধি। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর সামনে দুটি সমস্যা ছিল- এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সুসংহতভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। এ সময়ে দলীয় ঐক্য একাধিকবার তীব্র আঘাতের সম্মুখীন হয়েছিল, কিন্তু তিনি শক্ত হাতে সেই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি রাজপথে আন্দোলন, নির্বাচনে জয়লাভ ও সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

দুই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই
১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি দুই ধরনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন- এর একটি ছিল দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, যেমন আন্তঃকোন্দল এবং অন্যটি স্বৈরাচারী এরশাদ। তাঁর নেতৃত্বকালীন বছরগুলোতে তিনি দলের ওপর একক ও ফলপ্রসূ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তিনটি বিষয়ে খুব জোর দিয়েছিলেন- জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঐক্য ও রাজনীতি তৃণমূলের কাছে নিয়ে যাওয়া; প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়ার সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং আওয়ামী লীগের প্রতি সম্যক দৃষ্টিভঙ্গি।

নব্বইয়ের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে সংবিধানের সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং পদত্যাগ করেন। ওই বছরের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৬টি আসন পেয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী হন। আর আওয়ামী লীগ ১৪৭ আসন পেয়ে জাতীয় পার্টি ও জাসদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে।

‘এক-এগারো’র পটপরিবর্তন ও ক্ষমতা হাতছাড়া
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে অষ্টম সংসদের মেয়াদপূর্তির পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ‘এক-এগারো’ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে; তিনি ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েন। এ সময় তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু জুলুম-নির্যাতনের মুখেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। ২০০৭ সালে ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক বছর কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তিলাভ করেন। এর আগে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের পরের বছর জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে একটানা ৯৩ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘেরাওয়ে ছিলেন। পরের বছরও তাঁকে একইভাবে ঘেরাওয়ের মধ্যে থাকতে হয়েছিল।

নিঃসঙ্গ ও যোগাযোগহীন জীবনযাপনে বাধ্য
৩৫ বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া সবসময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সোচ্চার ও সংগ্রামমুখর ছিলেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির জন্য তাঁকে ভুগতে হয়েছে। তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল, তাঁর সভা ও মোটর শোভাযাত্রা বিরোধীদের ভয়ঙ্কর আক্রমণের শিকার হয়েছিল। তাঁকে নিঃসঙ্গ ও যোগাযোগহীন জীবনযাপন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সম্ভবত বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ২৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং কোনোটিতেই পরাজিত হননি।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এসব আসন হচ্ছে ফেনী-১. বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন। খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি।

‘দেশনেত্রী’ সম্বোধন
তিনি দেশের অদ্বিতীয় জননন্দিত নেতা। দেশের প্রায় সব জায়গায় তিনি গেছেন। তিনি শ্রমসাধ্য দীর্ঘ সফর করতে পারঙ্গম ছিলেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের ১৪ দিন আগে তিনি সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করেছিলেন। যখন তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতেন, তখন তিনি অদম্য প্রাণপ্রাচুর্যে বলীয়ান হয়ে উঠতেন। তখন তিনি সকাল, দুপুর বা রাতের খাবারের জন্য কোনো সময়সূচি বজায় রাখতেন না। তিনি রাত তিনটায় নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিয়েছেন। তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতেন এবং একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে কঠোরভাবে তা মেনে চলতেন। বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় ফোর্বস ম্যাগাজিন খালেদা জিয়াকে ২০০৪ সালে ১৪তম, ২০০৫ সালে ২৯তম এবং ২০০৬ সালে ৩৩তম স্থান দেয়। ২০১১ সালের ২৪ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি সিনেটে গণতন্ত্রের যোদ্ধা (ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি) হিসেবে সম্মানিত হন। তাঁর দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা তাঁকে অকপটে সম্বোধন করেন ‘দেশনেত্রী’ বলে।

শোকাহত বাংলাদেশ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। আমরা তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।

Screenshot

 

 

শেষ মুহূর্তে বিএনপির যে সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছেন

ডেস্ক বিপোর্ট

 

নির্বাচন সামনে রেখে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি আসনে প্রার্থিতায় রদবদল এনেছে বিএনপি। কিছু কিছু আসনে দলের বিকল্প প্রার্থীরাও মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতার আসনে বিকল্প প্রার্থীরাও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

মনোনয়ন পরিবর্তন মাঠপর্যায়ের জরিপ, অসন্তোষ ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে ‘ধানের শীষের বিজয়’ নিশ্চিত করতে আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বগুড়া-৬ (সদর) আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান–বনানী–ক্যান্টনমেন্ট) আসন থেকেও নির্বাচন করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে। তিনি মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে আজ তারেক রহমানের পক্ষে ফরম জমা দিয়েছেন। এর আগে এই আসনে জোটপ্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করা আন্দালিভ রহমান পার্থ এখন ভোলা সদর আসনে নির্বাচন করবেন। পার্থ তারেক রহমানের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই আসন থেকে ফরম নেননি।

মনোনয়ন তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে। ঢাকা-১২ আসনটি বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের পরিবর্তে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘কোদাল’ প্রতীকে লড়বেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী মো. মাসুদুজ্জামানের ভোটের অনীহার পর সেখানে বিএনপির সাবেক মহানগর সভাপতি আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামে একাধিক আসনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনে ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গতকালই এটি নিশ্চিত করা হয়।

সম্প্রতি সেখানে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং গোলাম আকবরের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে প্রার্থীদের সাম্প্রতিক মতবিনিময় সভাতেও গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ডাকা হয়নি। ওই আসনে নতুন মনোনয়ন পাওয়া গোলাম আকবর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি আগে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুকের জন্য ফাঁকা রাখা হলেও অলি আহমদের দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পর সেখানে বিএনপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের পরিবর্তে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আর চট্টগ্রাম-১১ থেকে সরিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে; চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও পরিবর্তন এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে মান্না শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের বদলে কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে প্রার্থী করা হয়।

মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে একমি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান সিনহার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে কামরুজ্জামান রতনের বদলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পরিবর্তে জোটসঙ্গী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যশোর-১, যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনেও দলীয় ও জোটগত সমীকরণে নতুন প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাদারীপুর-১ আসনে কামাল জামাল মোল্লার বদলে নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যশোর-৬ আসনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্রাবণকে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ঝিনাইদহে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান।

বিএনপি দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরে মিত্রদের জন্য আরও ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। বাকি আসনগুলোর মনোনয়নও চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, তার জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত। প্রতিদিন একাধিক পরিবর্তনের কারণে একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বাদ, বিএনপির চূড়ান্ত টিকিট পেলেন গোলাম আকবর

ডেস্ক রিপোর্ট

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বিএনপি। এই আসনে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকারকে।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) গোলাম আকবর খোন্দকারের ছেলে তারেক আকবর খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

চট্টগ্রাম-৬ আসনে আজ (রোববার) গোলাম আকবর খোন্দকারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহ করেছেন তিনি।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনীত কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছিলেন।