বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 643

সিইসি ও ৪ কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

 


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং চার কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত গেজেট বাতিল চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন দাখিল করা হয়।

রিট আবেদনটি শুনানির জন্য আজ সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো: আশরাফুল কামালের বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে।

আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, রিট আবেদনে দুটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এর একটি হচ্ছে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন গঠনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ আইন না করেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু তারা সরকারি আমলা হওয়ায় অতীতে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না।

বিএনপির তালিকা চূড়ান্ত, মনোনীতরা চিঠি পাবে আজ

 


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রার্থীদের আজ থেকে চিঠি দেবে বিএনপি। গুলশান কার্যালয় থেকে বিকেল ৪টায় দলের প্রত্যয়নপত্র বিতরণের এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শক্রমে গতরাতে আবারো প্রার্থী তালিকায় সংযোজন বিয়োজন করা হয়। ২৩০ থেকে ২৪০ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেশ কিছু আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হবে। এসব জায়গায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে দেয়া হবে চূড়ান্ত নির্দেশনা।

বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ প্রার্থীদের চেয়ে নির্বাচনে অভিজ্ঞতা আছে, সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবেÑ এমন প্রার্থীদের এবার অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বেশি। তরুণেরাও পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন, তবে সে সংখ্যা খুব বেশি নয়। কারাগারে কিংবা দেশের বাইরে থেকে দলের বেশ কিছু নেতা নির্বাচন করতে চাইলেও তাতে বিএনপির হাইকমান্ড তেমন আগ্রহ দেখায়নি।
সারা দেশে প্রার্থীর কোনো সঙ্কট না থাকলেও রাজধানীর আসনগুলোতে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী পাচ্ছে না বিএনপি। দলটিকে তাই মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ছেড়ে দিতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে হেভিওয়েট নেতা বেছে নেয়া হবে।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এক নেতা জানান, ঢাকার আসনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে চমক দেবে ঐক্যফ্রন্ট। দু-এক দিনের মধ্যে তা পরিষ্কার হবে। যেসব নেতা ঢাকার আসনে নির্বাচন করার আলোচনায় আছেন তাদের বাইরেও আরো কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; যারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত।
বিএনপির এক নেতা বলেছেন, মামলা জটিলতা, দেশের বাইরে থাকা কিংবা কারাগারে থাকায় ঢাকার বেশ কিছু আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীর অভাব দেখা দিয়েছে। এসব আসনে দলের একাধিক প্রার্থী আছেন, কিন্তু তারা জাতীয় নেতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ নন। জানা গেছে, ঢাকা ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৫, ১৬, ১৮ এই ক’টি আসনে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নির্বাচন করতে পারেন।
বিএনপি সূত্রমতে, তালিকায় নাম থাকলেও ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণের বর্তমান পদধারী কোনো নেতার এবার মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি কারাবন্দী হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মনোনয়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মামলার কারণে বিদেশে থাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুমের বিকল্পও নেই ঢাকা-১১ আসনে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ঐক্যফ্রন্টের কাউকে মনোনয়ন দেয়া যায় কি না সে বিষয়ে ভাবছে বিএনপির হাইকমান্ড।

এ দিকে আসন বণ্টন নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে গতকালও বিএনপি নেতারা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। ফ্রন্টের এক নেতা জানান, ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো তাদের প্রার্থীদের নাম বিএনপি মহাসচিবের কাছে দিয়েছেন। এ তালিকা নিয়ে আজ ও কাল একাধিক বৈঠক হবে। এর মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে প্রার্থী প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত আলোচনা চলবে। জানা গেছে, নির্বাচনের জন্য ঢাকা মহানগর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
২০ দলীয় জোটের সাথেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ-কালের মধ্যে এটিরও সুরাহা হবে। জোটের এক নেতা জানান, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সাথেই মূলত বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কারণ অন্য দলগুলোর আসন প্রায় নির্ধারিতই।

বিএনপির শীর্ষ এক নেতা জানান, জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে সব মিলিয়ে ৭০টি আসন ছেড়ে দিতে পারেন তারা।
জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী চায় ৫০ আসন। এলডিপি ২০টি আসনে তালিকা প্রস্তুত করেছে। কমপক্ষে পাঁচটি চায় তারা। এ ছাড়া, খেলাফত মজলিশ চারটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুই-তিনটি, কল্যাণ পার্টি একটি, বিজেপি দু’টি, জমিয়ত তিন-চারটি এবং জাগপা একটি আসন পেতে পারে।
অন্য দিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চায় কমপক্ষে ১০০ আসন। এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম অন্তত ৭০ আসনের তালিকা তৈরি করে দেনদরবার করছে। ড. কামাল হোসেন নিজে নির্বাচন করবেন বলে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি। তিনি নির্বাচন করতে চাইলে ঢাকায় আসন দিতে রাজি বিএনপি।

নাগরিক ঐক্য থেকেও ২৫টি আসন চাওয়া হয়েছে। তাদের পাঁচ-ছয়টি আসন দেয়া হতে পারে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ২০ টি আসনে তালিকা তৈরি করেছে। তারা তিন-চারটি আসন পেতে পারে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৫টি আসনে তালিকা তৈরি করেছে। তাদের দুই-তিনটি আসন দেয়া হতে পারে।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, ব্যক্তি ইমেজ, সংশ্লিষ্ট দলের ভোটব্যাংক ও জনপ্রিয়তার দিক বিচার করেই জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

মিরসরাইয়ে ২ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

 


মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে ২ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে ২ জনকে। আজ রোববার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিচ ইয়াবাসহ কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দেলোয়ার হোসেন এবং কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার ফয়সাল উদ্দিনকে আটক করেছে।

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবেদ আলী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাপাহাড় এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে অভিযানকালে দেলোয়ারের কাছ থেকে ১ হাজার ও ফয়সালের কাছ থেকে ১ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্বাচনে প্রশাসনেই আস্থা আ’লীগের!

 

নিজস্ব প্রতিনিধি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের দমনে প্রশাসনিক পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে রেখেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। তারই অংশ হিসেবে বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলাগুলো সক্রিয় করা হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেফতারও করা হচ্ছে নিয়মিত। সাথে যোগ করা হচ্ছে নতুন নতুন মামলা।

আগামী নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী কিছু সময় পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও ব্যাপকভাবে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। বিরোধীদের প্রশাসনিকভাবে দমনের পাশাপাশি প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় প্রচার নিয়ে মাঠে থাকবেন নেতাকর্মীরা।

আ’লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই ধরনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। বিএনপি জোট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে একরকম এবং শেষ দিকে নির্বাচন বর্জন করলে আরেক রকম কৌশল প্রয়োগ করা হবে।

সূত্রগুলো জানায়, এখনো পর্যন্ত বিএনপি জোট নির্বাচনী মাঠে থাকায় গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মডেলকে সামনে নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সে অনুযায়ী নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত তৎপর থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের সম্ভাব্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক শক্তি কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে ৩০ ডিসেম্বরের আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় নেতাদেরও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। বিশেষ বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে অঘোষিত একাধিক গ্রেফতার অভিযানও পরিচালনা করা হতে পারে। তবে গ্রেফতার অভিযান যাতে চোখে পড়ার মতো না হয় এবং ফলাও করে প্রচারের সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে প্রশাসন। এভাবেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চান সরকারের নীতি নির্ধারকেরা।

আর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করলে আরো হার্ডলাইনে যাবে প্রশাসন। ওই সময় দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব কিছুই করবে সরকার। বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করলে কোনোভাবেই তাদের নির্বাচনে ফেরানোর চেষ্টা করবে না সরকার। বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আন্দোলন বা নাশকতা শুরু হলে কঠোরতার মাত্রাও বাড়বে। বিএনপির কেন্দ্রীয়সহ তৃণমূল পর্যায়ের ডাকসাইটে নেতাদের আটক ও গ্রেফতার করা হতে পারে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের মডেলের সফলতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। তাদের কারো মতে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রশাসনের সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে সেই শক্তি সারা দেশে ভাগ হয়ে যাবে। দেখা গেছে, সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যকে মোতায়েন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে আর সেই সুযোগ থাকছে না। এ ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের কর্মীরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে সক্রিয় থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেজন্য খুলনা ও গাজীপুর মডেল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আ’লীগ ও সরকারের সূত্রগুলো আরো জানায়, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করবে আ’লীগ। তবে নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দলীয় নেতাকর্মীরা কেবল সহযোগী হিসেবেই মাঠে থাকবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের সম্ভাব্য আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল সরকারের। এতে দেশব্যাপী সহিংসতা ও নাশকতার তথ্যও ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকারের সময় সরকারবিরোধীরা সহিংসতা শুরু করতে পারে বলে সরকারের কাছে নানা ধরনের তথ্য দেয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

নির্বাচনকালীন সরকারের কারণে এ সময় প্রশাসনের ওপর সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণও খানিকটা ঢিলে হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি মাথায় নিয়েই তফসিলের আগে কয়েক দফা প্রশাসনিক রদবদল করা হয়। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান মাঠ প্রশাসনকেই পছন্দ সরকারের। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি জোট ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছে। তারা ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের সব মিলিয়ে ৯২ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে বিএনপি জোটের দাবি অনুযায়ী মাঠ প্রশাসনে রদবদল কোনোভাবেই মানবে না ক্ষমতাসীন আ’লীগ। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের পক্ষ থেকে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে ডজনখানেক পাল্টা অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, এখন পর্যন্ত বিএনপি জোট নির্বাচনে থাকবে ধরে নিয়েই এগোচ্ছে সরকার। সেজন্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সারা দেশে দায়ের হওয়া জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলাগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে প্রশাসন। এর বাইরেও গত ১০ বছরে বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোকেও চাঙ্গা করা হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেফতার অভিযান নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নয়াপল্টনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে। তাদের অনেককেই রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিরোধী নেতাকর্মীদের চাপে রাখার জন্যই এসব মামলা ও গ্রেফতার চলছে বলে আ’লীগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) সদর দফতরে ডেকে ব্রিফ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। নিয়মিত সভা করে নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মপন্থা ঠিক করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আ’লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন নেতা বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জোটের রাজনৈতিক কথাবার্তার জবাব দল থেকে সংবাদ সম্মেলন বা অন্য কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দিচ্ছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। আর অন্য বিষয়গুলো দেখবে প্রশাসন। সেখানে আমাদের না জড়ানোই ভালো। সে জন্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আ’লীগ নেতাকর্মীদের শুধু সতর্ক থাকতে বলা হবে। এটাই আমাদের কৌশল।’
তাদের একজন বলেন, ‘সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো আ’লীগের জন্য অনুকরণীয়। এসব নির্বাচনে কোনো সহিংসতা বা নাশকতা হয়নি। ভোট সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ওই নির্বাচনে কারচুপির বড় কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। সেজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনেও সেই কৌশল নিবে সরকার।

বিশেষ করে খুলনা ও গাজীপুর সিটির নির্বাচনকে মডেল হিসেবে নিয়ে এগোবেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।’

এ ব্যাপারে আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণজাগরণ তৈরি হলে প্রশাসন কিছু করতে পারে না। আর আ’লীগ প্রশাসনে ভর করে নির্বাচনে জিততেও চায় না। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি যেসব অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন। দেশের জনগণই আ’লীগকে ভোট দিয়ে আবারো সরকার গঠনের সুযোগ দিবে।’

ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকার ও ইটিভির আব্দুস সালাম!

নিউজ ডেস্ক..
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার।

আজ রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি যোগদান করবেন।

এ ছাড়া একুশে টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালামও গণফোরামে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

তারা দুইজনই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানে আরও অনেকেই যোগদান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় একে খন্দকারকে মন্ত্রী করা হয়। তাকে দেয়া হয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

মিরসরাইয়ে নৌকার প্রচারণায় অংশ নিবে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাবে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন। শনিবার বিকালে মিরসরাই উপজেলা কমিটি সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ওইদিন বিকাল ৩টায় উপজেলা সদরে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নৌকা প্রতীকের পক্ষে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে আয়োজিত ওই সভার সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার।
সভায় বক্তব্য রাখেন, সংগঠক বদরুল আলম জোসেপ, সহ-সভাপতি কামরুল আনোয়ার মিলন, এনায়েত হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিয়াজ নওশাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র দাশ, মহিলা সম্পাদিকা শামীমা আক্তার মুন্নী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল আহসান রোকন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. নূর উদ্দিন, সহ-দপ্তর সম্পাদক রতন চন্দ্র দাশ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম চৌধুরী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রানা চৌধুরী, সহ-শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক ফারহান গিয়াস, অর্থ সম্পাদক বিধান কর্মকার, সদস্য সিরাজুল আলম সোহেল ও মো. হেলাল উদ্দিন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মাষ্টার জানান, আমারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাবো। আমাদের প্রচারণা হবে ব্যতীক্রম। আমরা উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর এলাকায় এসব প্রচারণা চালাবো।

 

সৌদি আরবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মিরসরাইয়ের কামরুলের মৃত্যু

মিরসরাই প্রতিনিধি

সৌদি আরবে হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে মিরসরাইয়ের কামরুল হাসানের (৩৫)। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৭ টায় সেমুসী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কামরুল মিরসরাই উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাদেক আলী ভূঁইয়া বাড়ীর আনোয়ার হোসেন দুদুর বড় ছেলে। সে ১ কন্যা সন্তানের জনক।

কামরুলের চাচাতো ভাই তোফাজ্জেল হোসেন জানান, এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে রিয়াদে গেছেন তিনি। শনিবার হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠলে স্থানীয় প্রবাসীরা তাকে রিয়াদের সেমুসী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কামরুলকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

তিনি আরও জানান, কামরুল প্রায় ১০ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদের একটি কোম্পানিতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রামের বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর শোনার পর শোকের ছায়া নেমে আসে।

মিরসরাইয়ে গৃহবধু কচির খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মানববন্ধন


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে গৃহবধূ রুমানা আক্তার কচির খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মিরসরাই সদরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মরহুমা রুমানা আক্তার কচির বড় ভাই নজরুল ইসলাম, মিরসরাই পৌর যুবলীগ নেতা সূফি আরমান হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাফর ইকবাল, যুবলীগ নেতা তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ রানা, মোঃ নুর উদ্দিন,এমরান হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা- রায়হান, মোহাম্মদ মুন্না, মোঃ জনি, সাজ্জাদ হোসেন।


মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্ভে রুমানা হত্যার সাথে জড়িত তাঁর স্বামী সহ সকলকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ নভেম্বর যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে রুমানা আক্তার কচিকে খুন করার অভিযোগ উঠে। নিহত গৃহবধূ রুমানা আক্তার (১৯) ওই গ্রামের মো. টিপুর স্ত্রী।

ইসি সচিব ও সরকারি কর্মকর্তাদের আড়াই ঘণ্টা গোপন বৈঠক

 

নিউজ ডেস্ক..
নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে। প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন রিজভী।

আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা।

রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকী আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেটির আলামত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, বৈঠকে আরো বলা হয়- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে। এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবেনা, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে ৮ জন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ওইসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারাদেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলতঃ এখানে সব ধরনের অফিসারদের গমনাগমণ ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে অফিসার্স ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। উপরোক্ত দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকান্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশ্যে কখনো নীরবে-নিভৃতে বাস্তবায়ন করছে- এই অভিযোগ এখন সর্বত্র ভুরিভুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরসন করতে সক্ষম হয়নি। মোদ্দাকথা তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী প্রশাসনিক দাপটের ছবিটা মোটেও বদলায়নি। কিন্তু কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করছে বলেই এই অভিযোগগুলো থেকে ছিটকে আসা কাদা তারা ঠেকাতে পারে না। বিতর্কিত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।

ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতেছে ক্ষমতাসীনেরা : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীনেরা ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত গোপন বৈঠক চলছে। প্রশাসন এবং পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) সদস্য সচিব আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) কাজী নিশাত রসুল। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, ডিএমপি ও কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তারা।

রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকী আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুন করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেটির আলামত ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, বৈঠকে আরো বলা হয়- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে। এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবেনা, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে।

তিনি বলেন, এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে ৮ জন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ওইসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারাদেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মূলতঃ এখানে সব ধরনের অফিসারদের গমনাগমণ ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে অফিসার্স ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে।

রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। উপরোক্ত দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকান্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশ্যে কখনো নীরবে-নিভৃতে বাস্তবায়ন করছে- এই অভিযোগ এখন সর্বত্র ভুরিভুরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরসন করতে সক্ষম হয়নি। মোদ্দাকথা তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী প্রশাসনিক দাপটের ছবিটা মোটেও বদলায়নি। কিন্তু কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করছে বলেই এই অভিযোগগুলো থেকে ছিটকে আসা কাদা তারা ঠেকাতে পারে না। বিতর্কিত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে সরাতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।

সারাদেশে এখনো নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা আরো বলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য। এজন্য তিনি কারাগারে কারাবিধি অনুযায়ী তিনি ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাকে আটক করার পর প্রথমে ডিভিশন দেয়া হলেও গতকাল তা বাতিল করে সাধারণ কয়েদিদের সাথে আমদানী ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। কারাগারেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নির্যাতনের মুখে রাখতে হবে, এটাই হচ্ছে এই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। সেই কারণে মানসিক ও শারীরিকভাবে যন্ত্রণা দিতেই কারাগারে গিয়াস কাদের চৌধুরীর ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই আইনী প্রক্রিয়ার নামে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য টুকুকে আটকিয়ে রাখা, যাতে সে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে। রমনা থানা ছাত্রদল নেতা মোঃ জুয়েল রানাকে গত বুধবার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ, এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার পরিবারসহ দলের নেতাকর্মীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। অবিলম্বে তাকে জনসম্মুখে হাজির করে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, খিলক্ষেত থানাধীন ৪৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক ভূঁইয়াকে গতকাল সকালে গ্রেফতার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এছাড়া রূপনগর থানা যুবদলের মোঃ ফখরুল ইসলাম শিপু, মোঃ জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, শাহজাহান সিকদার, মিন্টু মিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ একটি উঠোন বৈঠক চলাকালে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্টো পুলিশ বাদী হয়ে গত ১৯ নভেম্বর ৪৮ জনকে জ্ঞাত ও ৩৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। একই ঘটনায় গতরাতে ভৈরবে যুবলীগের পৌর সভাপতি বাদী হয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৯৮ জনকে জ্ঞাত ও ১০০ জন নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামী করে আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বিএনপি নেতা জামাল ডাক্তার ও আলমগীর মেম্বারসহ ইতোমধ্যেই পাঁচজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কয়েকদিন থেকেই পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশীর নামে তান্ডব চালাচ্ছে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিফুল আলমসহ নেতাকর্মীরা এখন এলাকাছাড়া। বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ উঠোন বৈঠকে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা হলেও উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই সকল বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশী তল্লাশী বন্ধেরও জোর দাবি জানান তিনি।