বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 644

চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের ঈদে আজম মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি
দয়াময় আল্লাহতাআলার পরম রহমত হিসেবে সমগ্র মানবমন্ডলীর দোজাহানের সর্বকল্যাণ ও মুক্তি সাধনায় দুনিয়ায় প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন ঈদে আজম উদ্যাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে শুক্রবার চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তফসিরুল কোরআন মাশাহেদুল ঈমানের প্রণেতা ও পবিত্র বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাফহিমুল বোখারী শরীফের প্রণেতা, ওস্তাজুল ওলামা, শায়খুল হাদিস, ইমামে আহলে সুন্নাত, পীরে হাক্কানী, ওলীয়ে রাব্বানী- হাফেজ আল্লামা সৈয়দ সাইফুর রহমান নিজামী শাহ।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত। বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ আল্লামা অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী, ডঃ আল্লামা অধ্যাপক এহসানুল হাদি, ডঃ আল্লামা অধ্যাপক এসএম রফিকুল আলম, ডঃ আল্লামা অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন ফারুক। এছাড়াও লক্ষাধিক ঈমানী ভাইবোন সবার অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত এ বিশাল মহাসমাবেশে সহাস্রধিক সম্মানিত পীর মাশায়েখ ওলামায়ে কেরাম ও শিক্ষাবিদবৃন্দ যোগদান করেন।
সভাপতির ভাষণে সমাবেশের মূল বক্তা আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলার সম্পর্ক ও বন্ধনে অপরিহার্য্য অবলম্বন হিসেবে সর্বগুণ-সর্বজ্ঞান-সর্বকল্যাণের উৎস রূপে দুনিয়ায় আল্লাতাআলার মহাসত্তার পবিত্র নূর প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমন সত্য-জীবন ও মানবতার অতুলনীয় মহা ঈদ ঈদে আজম। তিনি বলেন, প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমন স্বয়ং আল্লাহতাআলার নিজেকে প্রকাশ করা এবং মানবমন্ডলীর সাথে আল্লাতাআলার সংযোগ ও বন্ধন তৈরি করা।
ঈমানী অস্তিত্ব ও মুক্তির উৎস হিসেবে প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমন ঈদে আজমের দান ও লক্ষ্য উপলব্ধির আহবান জানিয়ে ইমাম হায়াত বলেন, ঈমান-দ্বীন-নাজাতের প্রবাহধারা রক্ষায়, দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাধীনতা-অধিকার-মর্যাদা-সমৃদ্ধি-নিরাপত্তা ও জীবনের সকল আলোকদিশা প্রদান, সকল অপশক্তির মিথ্যা-মূর্খতা-আঁধার-দাসত্ব-পাশবতা-বর্বরতা-সন্ত্রাস-পরাধীনতা-স্বৈরতা-দস্যুতা থেকে আত্মা ও জীবনের সব দিকে উদ্ধার ও মুক্তির লক্ষ্যে এ মহান শুভাগমন।
ইমাম হায়াত বলেন, ঈদে আজম পবিত্র কলেমার ভিত্তিতে রেসালাত কেন্দ্রিক তাওহীদ ভিত্তিক যে ঈমানী সত্তা ও জীবনের ভিত্তিতে বস্তুর উর্ধ্বে যে মুক্ত স্বাধীন মানবসত্তা দান করেছে এবং মুক্ত মানবতার যে কল্যাণময় দুনিয়া দান করেছে, বিভিন্ন বাতিল-জালেম অপশক্তি তা বিনষ্ট ও উৎখাত করে ক‚ফরিয়াত ও হায়ওয়ানিয়াতের আঁধার জীবন ও রূদ্ধ দুনিয়া কায়েম করেছে।
ইমাম হায়াত সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমন ঈদে আজমের দান ঈমান-দ্বীন-জীবন-ন্যায়-অধিকার-স্বাধীনতা হরণের লক্ষ্যে ঈমানীয়াত ও ইনাসানিয়াত বিণাশী বিভিন্ন বাতিল জালেম অপশক্তি বিভিন্ন নামে দুনিয়াব্যাপী তাদের একক গোষ্ঠিবাদী স্বৈর দস্যুতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, বিশেষ ভাবে একক ধর্ম-জাতি-গোত্র-ভাষা-বর্ণ-শ্রেণী ভিত্তিতে সৃষ্ট একক গোষ্ঠিবাদী অপরাজনীতি ও স্বৈরতন্ত্রই প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমনের দান ও কল্যাণ প্রবাহ থেকে সমগ্র মানবমন্ডলীকে বঞ্চিত রাখার জন্য বাতেল জালেম অপশক্তির কার্যকরি হাতিয়ার।
ইমাম হায়াত বলেন, ইসলামের ছদ্মনামে ওহাবী-সালাফি-শিয়াবাদ ইত্যাদি বাতেল ফেরকা, বস্তুবাদী মতবাদ এবং বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ দুনিয়ায় প্রিয়নবীর শুভাগমনের দান ও লক্ষ্য থেকে মানবমন্ডলীকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে তথাকথিত ধর্মরাষ্ট্র ও উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে দোজাহানে ধ্বংসের কাঠামো মুলুকিয়ত তথা একক গোষ্ঠিবাদী স্বৈরদস্যুতন্ত্র তৈরি করেছে।
প্রাণাধিক প্রিয়নবীর শুভাগমনের দান সত্য ও কল্যাণের রূদ্ধ প্রবাহ ধারা এবং মানবজীবনের হারানো সত্ত্বা-স্বাধীনতা-অধিকার পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে অপশক্তির সব চক্রজাল নস্যাত করে প্রিয়নবী প্রদত্ত মুক্ত জীবনের মুক্ত দুনিয়া গড়ে তোলার বিপ্লবী লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে ইমাম হায়াত বলেন, প্রিয়নবীর দেয়া সকল মানুষের জন্য সর্বকল্যাণময়, ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের সম অধিকার-নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-মালিকানা ভিত্তিক, দ্বীনী মূল্যবোধ ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, একক গোষ্ঠির স্বৈরতামুক্ত, সর্বজনীন মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও অখন্ড মানবতার অবিভাজ্য বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াতই বাতিল জালিম অপশক্তির রূদ্ধতার ফাঁস থেকে জীবন ও মানবতার মুক্তির একমাত্র উপায়, মহান ঈদে আজমের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও আলোকপ্রবাহ জারি রাখার একমাত্র পথ।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই ০১৮১৫৫০০৭০৫।

ঘূর্ণিজালে ১৭ উইকেট পতনের দিন

 

খেলা ডেস্ক

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মোট ১৭ উইকেটের পতন হয়েছে। সব উইকেটই নিয়েছেন দুই দলের স্পিনাররা
শুধু ব্যাটিং বিপর্যয় বললে সঠিক চিত্রটা ঠিক ফুটে ওঠে না। এ রীতিমতো আত্মহত্যার মিছিল! হাতে ৭৮ রানের লিড নিয়ে আজ শেষ সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ পথটা এখনো বহু দূরের। সেই পথে আজ দ্বিতীয় দিনের বাকি ১৭ ওভার খেলার আগে স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ৫৫ রান। আর ‘আত্মহত্যা’ করেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান!

হাতে ৫ উইকেট নিয়ে ১৩৩ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। কাল টেস্টের তৃতীয় দিনে এই ইনিংস কত দূর যাবে, তা নির্ভর করছে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিমের ওপর। মুশফিকের (১১*) সঙ্গে উইকেটে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (০*)। তবে দ্বিতীয় দিনকে দর্শকেরা মনে রাখবেন ১৭ উইকেট পড়ার জন্য, যেখানে সব উইকেটই স্পিনারদের!

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ২৮ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বাকি ২ উইকেট তুলে নেন ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সবগুলো উইকেটে ভাগ করেছেন বাংলাদেশের চার স্পিনার-নাঈম হাসান, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিষেক টেস্টে নেমেই ৫ উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিনার নাঈম। সাকিবের শিকার ৩ উইকেট আর ১টি করে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ও মিরাজ।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বিদেশিরা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বিদেশিরা
ইসির সঙ্গে বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা–দূতাবাসের যোগাযোগ
ডিসেম্বরের শুরু থেকে পর্যবেক্ষণ–প্রক্রিয়ায় গতি আসতে পারে
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নীতিমালায় প্রথম কিছু ধারা যুক্ত ইসির
বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক জোট ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিদেশিরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

ইসির কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এ মাসের শুরু থেকে আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাসগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে আগামী মাসের শুরু থেকে বিদেশিদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়ায় গতি আসতে পারে।

এদিকে, বিদেশিরা পর্যবেক্ষণে আগ্রহী হয়ে উঠলেও নির্বাচন কমিশন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নীতিমালায় এবার প্রথমবারের মতো কিছু ধারা যুক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রণীত নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার অথবা ফেসবুক, টুইটার বা অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। সব সময় ইসির সরবরাহ করা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার আইনগত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। গোপনে বুথে যাওয়া যাবে না। ভোট গণনার সময় একটি পর্যবেক্ষক দল থেকে একজন উপস্থিত থাকতে পারবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই করে অনাপত্তির জন্য তা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে ইসি।

খোঁজখবর নিচ্ছে বিদেশিরা

ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের পর থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষণের বিষয়ে যোগাযোগ করছে। এ মাসের শুরু থেকে তাদের এই যোগাযোগ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচন ও গণতন্ত্রবিষয়ক মার্কিন গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার সঙ্গে যুক্ত ব্যাংককভিত্তিক সংস্থা অ্যানফ্রেল এবং ঢাকায় ফ্রান্স ও জাপান দূতাবাস এ যোগাযোগ শুরু করেছে। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত আরও কয়েকটি দূতাবাস নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নানান বিষয় নিয়ে গত দুই সপ্তাহে কমিশনের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল বিকেলে এই প্রতিবেদককে জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন সময় আমন্ত্রণ জানায়। ইসি ওই সংস্থাগুলোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে। আবার কমনওয়েলথসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা সাধারণত আমন্ত্রণ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত হয় না। এ ক্ষেত্রে এ তালিকার সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যেসব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চাইবে, তাদের সরাসরি ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

সাধারণত বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের কাজের সঙ্গে ইসি সরাসরি যুক্ত থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রক্রিয়ায় সহযোগীর ভূমিকায় থাকে। তবে গতকাল এ নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্বাচনের আগে একটি সেল গঠন করা হয়। এ ধরনের কোনো সেল এখনো পর্যন্ত হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর এ কাজ শুরু হতে পারে।

বিশ্বরেকর্ড গড়ে চট্টগ্রামের ছেলে নাইমের দুর্দান্ত অভিষেক

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অভিষেক টেস্ট ইনিংসেই পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাইম হাসান। আর সেই সাথে তিনি ঢুকে গেছেন রেকর্ডবুকে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব এখন এই বাংলাদেশী তরুণের। অভিষেক ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ১৪-২-৬১-৫। তার ঘুর্নি জাদুতেই ক্যারিবীয়দের ২৪৬ রানে অলআউট করে প্রথম ইনিংসে ৭৮ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার ক্যারিবীয় মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান জোমেল ওয়ারিক্যানকে ফিরিয়ে টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন নাঈম। এদিন তার বয়স ১৭ বছর ৩৫৫ দিন। আগে এই রেকর্ডটি ছিলে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কমিন্সের। তিনি অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ১৮ বছর ১৯৩ দিন।

আর বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে অভিষেক ৫ উইকে নেয়া বোলারদের তালিকায় নাইম যুক্ত হলেন ৮ নম্বরে। গত বছর মেহেদী মিরাজের পর তিনি এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে নাইমের বলে বোল্ড হয়ে যান ওয়ারিক্যান। ক্যারিবীয়দের দলীয় রান তখন ২২৫। নাইমের বলটি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে টার্ন নিয়ে ভিতরে ঢুকে ভেঙে দেয় স্ট্যাম্প। সেই সাথে সাথে তিনি ঢুকে যান রেকর্ডবুকে।

স্বাধীন ভারতে কলকাতার প্রথম মুসলমান মেয়র ‘ফিরহাদ হাকিম’

বিবিসি বাংলা

কলকাতার নতুন মেয়র হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

ববি হাকিম নামে বেশি পরিচিত এই নেতা আগে থেকেই রাজ্যের নগরোন্নয়ন এবং পৌর দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।

এর আগে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন শোভন চ্যাটার্জী।

কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়ছিলেন, এই অভিযোগে মমতা ব্যানার্জী তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন।

নতুন মেয়র বেছে নেয়ার জন্য দলীয় কাউন্সিলরদের বৈঠক আগেই ডাকা হয়েছিল, যেখানে মমতা ব্যানার্জী ছাড়াও হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব।

সেই বৈঠকেই মিজ ব্যানার্জী জানান নতুন মেয়রের নাম।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে পাঁচজন মেয়র ছিলেন মুসলিম, যাদের মধ্যে ছিলেন শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক।

কিন্তু তারপর থেকে কখনও কোনও মুসলিম ধর্মাবলম্বী নেতা কলকাতার মেয়র পদে বসেননি।

ফিরহাদ হাকিম দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অঞ্চলের মানুষ।

কংগ্রেস রাজনীতি করতে করতেই মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা এবং গত শতাব্দীর নয়ের দশকের শেষ দিকে কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসাবে প্রথম ভোটে জেতা।

যতদিন গেছে, ততই মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠদের বৃত্তে ঢুকে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছাকাছি পাড়ার বাসিন্দা ফিরহাদ হাকিম।

কর্পোরেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছিয়ে গেছেন বিধানসভায়। ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়ার পরে হয়েছেন মন্ত্রী।

আর রাজনীতির ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছেন মমতা ব্যানার্জীর ‘ম্যান ফ্রাইডে’দের অন্যতম।

পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, তার দাদু বিহারের গয়া জেলা থেকে কলকাতায় এসে ব্যবসা শুরু করেন।

বাবা ছিলেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের আইন আধিকারিক। আর মা ছিলেন কলকাতার একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা।

ফিরহাদ হাকিমের মায়ের আদি বাড়ি ছিল ফরিদপুরে।

তার মা হিন্দু মুখার্জী পরিবারের সন্তান ছিলেন বলে জানিয়েছেন মি. হাকিমের বাল্য বন্ধু ঋষিকেশ মুখার্জি।

‘ববি ধর্মে মুসলমান ঠিকই, নিয়মিত নামাজও পড়ে, গত বছর হজ করে এসেছে, কিন্তু ওর মধ্যে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গটা একেবারেই নেই। ওর মা ছিলেন পূর্ব বঙ্গীয় হিন্দু পরিবারের মানুষ, বোনের বিয়ে দিয়েছে হিন্দু পরিবারে।’

‘ছোট থেকে আমরা কয়েকজন বন্ধু প্রতি শনিবারে নিয়ম করে কালীঘাটের কালী মন্দিরে যেতাম দর্শন করতে, সেখানে ববিও থাকত। আবার ঈদের দিনে আমরা সব বন্ধুরা ওদের বাড়িতে বিছানায় বসে একসঙ্গে আড্ডা মারতাম। আর এটা তো নতুন করে বলার কিছু নেই যে চেতলা অগ্রণী ক্লাবে যে দুর্গাপুজো এখন বিখ্যাত, তার শুরুটাই ববি আর আমরা কয়েকজন বন্ধু করেছিলাম।’

‘ওদের বাড়ির ঠিক সামনে ফুটপাথে শুরু হয়েছিল সেই দুর্গাপুজো, বলছিলেন ফিরহাদ হাকিমের ছোটবেলার বন্ধু, তার পাড়ারই বাসিন্দা মি. মুখার্জি।

তিনি আরও জানাচ্ছিলেন যে বড় নেতা বা তারপরে মন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পরেও কলকাতায় থাকলে নিয়মিত আড্ডায় বসেন বন্ধুদের সঙ্গে, সেখানে রাজনীতির আলোচনা কমই হয়।

‘যখন আড্ডা মারি আমরা, তখন মন্ত্রী বলে মনেই হয় না ওকে। আর পাড়ার ক্লাব অন্ত প্রাণ। কিছুক্ষণের জন্য হলেও ক্লাবে আসবেই ও। তবে যখন সামনে পুলিশের গাড়ি নিয়ে ওর কনভয় বেরয়, তখনই একমাত্র ওকে মন্ত্রী বলে মনে হয়,’ বলছিলেন ঋষিকেশ মুখার্জী।

বিদায়ী মেয়র শোভন চ্যাটার্জীকে মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বলার পর থেকেই যে নামগুলো উঠে আসছিল সম্ভাব্য মেয়র হিসাবে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফিরহাদ হাকিমের নাম।

আর তখন থেকেই সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ লিখতে শুরু করেছিলেন যে একজন মুসলমানকে মেয়র করা হোক। নজরে আসছিল এরকম মন্তব্য যে স্বাধীনতার পর থেকে কেন কলকাতা শহরে কোনও মুসলমান মেয়র হয় নি।

সিপিআইএম দলের নেতা ও সংসদ সদস্য মুহম্মদ সেলিম বলছিলেন, “নজরে এসেছে যে এরকম একটা আলোচনা ফেসবুকে চলছে দু’দিন ধরে। কিন্তু আমার মনে হয় কলকাতার মতো একটা কসমোপলিটান শহরের প্রথম নাগরিক – মেয়র, কোন ধর্ম বা ভাষা গোষ্ঠীর থেকে হবেন, অথবা এতদিন কেন হয় নি সেটা কি আলোচনার বিষয়?”

‘ফিরহাদ হাকিম কর্পোরেশনে দীর্ঘ বছর কাউন্সিলর ছিলেন, তার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই ক্ষমতাসীন দল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে হয়। এর মধ্যে তার ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে আসা ঠিক হবে না।’

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মুহম্মদ কামরুজ্জামানের কথাতেই অনেকটা সেই একই সুর।

‘এটা তণমূল কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত যে তারা কাকে মেয়র করবে। তিনি হিন্দু না মুসলমান, সেটা আলাদা করে দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। নিতান্তই একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এটা,’ বলছিলেন মি. কামরুজ্জামান।

ইভিএম ব্যবহার করবই: সিইসি

 

নিউজ ডেস্ক..
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার থেকে সরে আসার কোনো সম্ভবনা নেই জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে যারা মামলা করবে এটা তাদের ব্যাপার, আমার কিছু বলার নেই। আমরা ইভিএম সীমিত আকারে ব্যবহার করবো।’

শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ে ইটিআই ভবনে একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

এর আগে প্রশিক্ষকদের উদ্দেশেও সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা এটা সীমিত আকারে ব্যবহার করবো। এটা থেকে পিছিয়ে যাব না।’

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে মামলার হুমকি দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল এক অনুষ্ঠানে জোট নেতারা এ কথা বলছেন, দেশে ইভিএমের ব্যবহার সংবিধান পরিপন্থি। কারণ সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। আর ইভিএম দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোট হয় না। সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘এটা তাদের ব্যাপার আমার কিছু বলার নেই। আমরা ইভিএম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করবো। এটা করতে হবে। একেবারে সীমিত আকারে ব্যবহার করবো।’

তাদের (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) ভুল ভাঙ্গাতে আপনাদের তরফ থেকে কোন আায়োজন থাকবে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ নাহ’।

ইভিএম ব্যবহার করার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ‘সব আসনেই কি ইভিএম ব্যবহার হবে? কতটুকু সীমিত ব্যবহার হবে সেটা এখনও ঠিক করিনি। আগামী শনিবার মিটিং হবে সেদিন এটা পরিস্কার হবে। সেসময় ঠিক হবে। হয় পূর্ণাঙ্গ আসন, হয় কিছু সংখ্যক কেন্দ্রে। এই দুইটা জিনিস আমরা মিটিংয়ে ঠিক করবো।’

এর আগে প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে নূরুল হুদা বলেন, ‘ইভিএম একটি নতুন উদ্যোগ। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার যে জটিলতা সেটা নিরসনের একটা উপায় আমাদের বের করতেই হবে। আমরা নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করি সেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট দিতে যে ঝামেলা সেটা থেকে মুক্তি পেতে পারবে। সে কারণেই ইভিএম চালু করতে চাই।’

সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আইনগত ভিত্তি আমাদের রয়েছে। এ বছর আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এটা ব্যবহার করার জন্য আইনের যে প্রক্রিয়া আমরা সেগুলো আমরা ঠিক করেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আইনগত কোনো বাধা নেই। আমরা এটা সিমীত আকারে ব্যবহার করবো। এটা থেকে পিছিয়ে যাব না।’

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যেখানে ইভিএম ব্যবহার হবে, সেখানে অন্তত ৫-৬ দিন আগে আগে মানুষকে বুঝাতে হবে। দেখাতে হবে কিভাবে ভোট দেয়া হয়। ভোটারদের বুঝাতে হবে। বিভিন্ন দল ইভিএমের বিরোধিতা করেন আমি অনুরোধ করবো তাদের প্রতিনিধি আমাদের কাছে পাঠান। তারা এটি এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখুক। তাদের লোক দিয়ে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয় পরীক্ষা করুক। তাহলে তাদের সংশয় কেটে যাবে।’

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি। দিনটি এতোই গুরুত্বপূণ দিন যে দিনে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচন করবে। দিনটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলসহ সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষতা, কারিগরি দক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনায় আইন বিধিবিধান জানা দরকার। আপনারা নির্বাচন কিভাবে পরিচালনা করবেন সেটা জানলেও, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারদের জানার কথা নয়। বার বার বিভিন্ন পর্যায়ে এই ট্রেনিং দেয়া হয়ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আপনারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনারা তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন।’

পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘কারণ তারা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা থাকেন মাঠে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তারা প্রশ্ন করবে, জানতে চাইবে সেটি তাদের বুঝাবেন। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের সব রকমের ব্যবস্থা আমরা রেখেছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বব করেন নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক।

মিরসরাইয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফঃঅর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে মিরসরাই হবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শহর

 


মিরসরাই প্রতিনিধি
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, মিরসরাই ইকোনোমিক জোনে ২০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী করেছিলাম মিরসরাই ইকোনোমিক জোনের যেসব শিল্পকারখানা হবে সেখানে মিরসরাইয়ের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সবার আগে করতে হবে। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেখানে মিরসরাইয়ের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হওয়ারপর বাকী থাকলে অন্য এলাকার লোকদের চাকুরি হবে। ইকোনোমিক জোনে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, জাপানসহ অসংখ্য দেশ জায়গা নিয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আমরা ভাগ্যবান আমাদের এলাকায় এরকম একটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চল পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা হলে মিরসরাই অঞ্চল হবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো শহর।


তিনি বলেন, মকবুল আহম্মদ কল্যাণ পরিষদ মিরসরাইয়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। জনকল্যাণমূলক এই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যাবত অসহায়, গরীব ও দুস্থ্য মানুষের কল্যাণে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। আমি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা রেজাউল করিম মাষ্টারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমি অতীতেও ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া লেক হওয়ার কারণে মিরসরাইয়ের হাজার হাজার কৃষক উপকৃত হচ্ছে। এছাড়া খৈয়াছড়া ঝর্ণার জন্য ১’শ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়েছে শীঘ্রই খৈয়াছড়া ঝর্ণাকে পর্যটন এলাকায় রুপান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে মিরসরাই এলাকা উন্নত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হবে। বর্তমান সরকার বিগত ১০ বছরে মিরসরাইয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।


শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মস্তাননগরের মকবুল আহম্মদ কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে এবং শাহ্ কালা (রহঃ) প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, রাবেয়া খাতুন নুরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এসব কথা বলেন। শাহ্ কালা (রহঃ) প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, রাবেয়া খাতুন নুরানী তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ¦ রেজাউল করিম মাষ্টারের সভাপতিত্বে এবং মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সদস্য মহিউদ্দিন রাশেদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন দিদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ঈমন, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক প্রসার কান্তি বড়ুয়া, আওয়ামীলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া, জিএম শহীদুল্লাহ, সিরাজ উদ্দিন বাঙ্গালী, ইছাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক মোহাম্মদ হাসান, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুল হক, যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন অপু, এমরান হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন আলী প্রমুখ।

 

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে বাংলাদেশের দেয়া ৩২৪ রানের বিপরীতে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ২৪৬ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ৫৫ রান। ফলে তারা সফরকারীদের চেয়ে ১৩৩ রানে এগিয়ে আছে।

শনিবার সকালে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ এই লিডটাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারবে তার ওপর নির্ভর করবে এই টেস্টের ভাগ্য।

দলীয় ১৩ রানের মাথায় দুই ওপেনার আউট হয়ে ফেরেন। জোমেল ওয়ারিকানের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর রোস্টন চেজের বলে ক্রিইগ ব্রাথওয়েইটের ক্যাচে সৌম্য সরকার ফেরেন ব্যক্তিগত ১১ রানে।

ইমরুল-সৌম্যের পর দলীয় ৩২ রানে ফেরেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। চেজের বলে এলবির শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ১২ রানে ফেরেন মুমিনুল। তিন রানের ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ফেরায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। ওয়ারিকানের বলে গ্যাব্রিয়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আর দলীয় ৫৩ রানের মাথায় মোহাম্মদ মিথুন ব্যক্তিগত ১৭ রানের মাথায় বিশুর বলে বোল্ড হয়ে সাজ ঘরে ফেরেন।

বর্তমানে উইকেটে আছেন মুশফিকুর রহিম ৭ রানে ও মেহেদী হাসান মিরাজ এখনো রানের খাতা খুলেননি ।

এর আগে বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ৯ রান যোগ করতেই বাকি দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ

মিরসরাইয়ে ১২তম শান্তিনীড় শিক্ষোন্নয়ন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিলো ২২শ শিক্ষার্থী

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা শান্তিনীড়ের ১২তম শিক্ষোন্নয়ন বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজ ও মিরসরাই সরকারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ৩টি কেন্দ্রে একযোগে উক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
শান্তিনীড় সভাপতি আশরাফ উদ্দিন সোহেল জানান, মিরসরাই, সীতাকুন্ড ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ২০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ম থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ২২শ জন ছাত্র-ছাত্রী উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এতে পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট বিভাগ বান্দরবানের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো: কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বারইয়ারহাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার দুলাল, শান্তিনীড় উপদেষ্ঠা মীর্জা জসীম উদ্দিন, বারইয়ারহাট কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক সুনীল কান্তি নাথ, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান শাহীনুল কাদের চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সরকার, বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, আল-হেরা স্কুলের অধ্যক্ষ জাফর আহমদ, পল্লী বিদ্যুত সমিতির পরিচালক আলী আহসান, বজলুছ ছোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক পলাশ পাল, শিক্ষক মিলন কুমার দে, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক এম মাঈন উদ্দিন, প্রজন্ম মিরসরাইয়ের সাবেক সভাপতি রাজীব দাশ, উদ্দীপন ক্লাবের সভাপতি আক্তারুজ্জামান, অদম্য-২০০৫ এর সভাপতি নিয়াজ মো: সাজেদ, সুপ্ত প্রতিভার সভাপতি শাহরিয়ার, তারুণ্য সংঘের সভাপতি মো: শাহজাহান, প্রচষ্ঠা ছাত্র-পরিষদের সহ-সভাপতি রাজীব পালসহ সাংবাদিকবৃন্দ ও শান্তিনীড়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মিরসরাই ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আবছার দুলাল এবং শান্তিনীড় সভাপতি ইঞ্জিঃ আশরাফ উদ্দিন সোহেল ও শিক্ষা সম্পাদক মৃদুল দাশের সার্বিক তত্ত¡াবধানে বারইয়ারহাট কেন্দ্রে শান্তিনীড় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ দিদারুল আলম হল সুপার ও শান্তিনীড় সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান নিজামী পলাশ সহকারী হল সুপার এবং বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক হল সচিব, বারইয়ারহাট ডিগ্রী কলেজে শান্তিনীড় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান চৌধুরী হল সুপার ও তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাঈন উদ্দিন সহকারী হল সুপার, মিরসরাই কেন্দ্রে শান্তিনীড় আজীবন সদস্য একরামুল হক হল সুপার, শান্তিনীড় সদস্য শওকত হোসেন সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন। বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্রে শান্তিনীড় কোষাধ্যক্ষ সবুজ সেন এবং বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শান্তিনীড় সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সার্বিক তত্ত¡াবধান করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অন্যান্য চলমান সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০০৭ সাল থেকে শান্তিনীড় শিক্ষোন্নয়ন বৃত্তি কার্যক্রম টানা ১২বছর অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সহিত সম্পন্ন হয়ে আসছে।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছে বিএনপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষ করেছে বিএনপি। এখন প্রার্থী চূড়ান্ত করবে দলটি। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষাৎকার গ্রহণপ্রক্রিয়া শেষ হয় বুধবার রাতে। ওই দিন সকাল থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে বিএনপির প্রায় দুই হাজার ছয় শ’ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাৎকার দেন। সাাৎকার নেন বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা। প্রতিদিনই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন। যদিও সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে কাউকেই প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ‘সঙ্কেত’ দেয়া হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণার জন্য অপো করতে হচ্ছে দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের। কে পাবেন বিএনপির টিকিট তা জানতে আরো পক্ষকাল অপেক্ষা করতে হবে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের সাাৎকার পর্বে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। প্রধানত নেতাদের নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড কী হবে, সে বিষয়ে বার্তা দিতেই এবার সাাৎকার পর্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্বাচনের মাঠ না ছাড়তে এবং দল থেকে মনোনীত প্রার্থীর হয়ে কাজ করার জন্য বার্তা দিয়েছে দল। এ ছাড়া কেউ যেন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে দলের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে এবং শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশনা দেন।

বিএনপির একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি অনেক আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে যাবে, এটাও বেশ আগের সিদ্ধান্ত। প্রায় এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ মতায়, এ কারণেই জনপ্রিয়, কর্মঠ ও পরীক্ষিত নেতাদেরই মনোনয়ন দেবে বিএনপি। এ ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করার পর বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। এ কারণেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরকে আরো পক্ষকাল অপেক্ষা করতে হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষ হলো। এখন চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে অপেক্ষা করতে হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা ও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তিনি ও দলের হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনকে বিগত নির্বাচনগুলোর মতো মনে করছে না বিএনপি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দলটি। এ জন্যই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সতর্কভাবে এগোচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। যোগ্য ও ত্যাগী এবং দক্ষ নেতাদেরকেই দলের মনোনয়নপত্র তুলে দিতে চায় দলটি। প্রার্থী বাছাই ফাইনাল করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জটিলতা এড়াতে প্রতি আসনে দুই থেকে তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। এরপর দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে তিনি ছাড়া অন্যরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যারা বিএনপির মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দেন গত ১৮ নভেম্বর (রোববার) থেকে তাদের বিভাগভিত্তিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করে বিএনপি। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকার চলে গত বুধবার রাত পর্যন্ত। বুধবার শেষদিনে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা সাংগঠনিক বিভাগের ৯৩টি নির্বাচনী আসনের বিপরীতে ৯৬০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাাৎকার দেন। ১৮ নভেম্বর সাক্ষাৎকার শুরুর দিন রংপুর বিভাগের ৩৩টি নির্বাচনী আসনের বিপরীতে ১৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগের ৪০টি আসনের বিপরীতে ৩৬৮ জন, দ্বিতীয়ত দিন বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিপরীতে ১৭৮ জন, খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের বিপরীতে ৩০০ জন, তৃতীয় দিন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট সাংগঠনিক বিভাগের ৭৭টি নির্বাচনী আসনের বিপরীতে ৬২২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাাৎকার দেন। চার দিনে মোট ২ হাজার ৫৮৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাৎকার দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনে ৪ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে দলটি। এসবের মধ্যে প্রায় তিন হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। যদিও জমা দেয়ার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান বিএনপি জানায়নি।