সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 655

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি
মন্ত্রিসভার টেকনোক্র্যাট সদস্যদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে না কি সামান্য আগে নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা করা হবে, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনার মধ্যেই এ নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদেরআরো বলেন, ৭ নভেম্বরের পর কারো সাথে আর সংলাপের সুযোগ নেই। সংলাপ শেষে ৮ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবারের মন্ত্রিপরিষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাদের।

এর আগে সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপে যুক্তিসঙ্গত কোনো প্রস্তাব থাকলে আলাপ-আলোচনা করে মেনে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সংলাপের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের কিছু কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা হলে অনেক কিছুই আমাদের সীমানায় থাকবে না।

কাদের আরও বলেন, আলোচনায় তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) যে দাবি জানিয়েছেন আমরা তার দুই-তিনটি মেনে নিয়েছি। আলোচনার ‘ওয়ার্নিং এ স্পিস’-এ আমরা কোনো কোনো বিষয়ে ঐক্যমত হতে পারি তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার করা হয়েছে।

আমরাও বলেছি, এই এই বিষয়ে দাবি মানতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিছু কিছু বিষয় আছে, তা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। যেমন বিদেশি পর্যবেক্ষক। এ বিষয়ে ইলেকশন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে সরকার কোনো বাধা দেবে না।

তিনি বলেন, আরেকটা আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। সেটাতো আমরা বলেছি। আমরা কোনো মন্ত্রী সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেব না। এমনকি মন্ত্রীরা ফ্লাগ ইউজ করবে না।

তবে নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যতিক্রম। কারণ একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয় থাকে। সেটা থাকবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও থাকবে। কারণ মন্ত্রীরা ফ্লাগ নিয়ে গেলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপের বিষয়ে আমরা এখন কোনো ঘোষণা দেব না। সংলাপের বিষয়গুলো সারসংক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের ফলাফল জাতির উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেবেন। আগামী ৮ বা ৯ নভেম্বর এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

‘খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন’

 


নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ চলছে। বেলা দুইটায় এই সমাবেশ শুরু হয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ হচ্ছে।

সরকারকে ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, খালেদা জিয়া জেলখানায় অার উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন। সোজা পথে ঘি উঠবে না। বাঁকা পথে হাঁটতে হবে।

সুলতান মনসুর বলেন, সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছে সরকার। একবার না অারেকবার বসতে চেয়েছে। ৭ দফা বাস্তবায়ন চাই। খালেদা জিয়া জেলখানায় অার উনারা ভাবছেন এই দেশে থাকবেন। সোজা পথে ঘি উঠবে না। বাঁকা পথে হাটতে হবে। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংলাপে যদি মেনে নেয় তবে ভালো।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আজকের এই জনসভার প্রধান অতিথি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ এ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

মিরসরাই বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

 

::মিরসরাই প্রতিনিধি::

চটগ্রাম শহরের হোটেল সফিনা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী ও যুগ্ম আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী সহ ১২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। গত ২৩ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে নগরীর জুবলি রোড়ে অবস্থিত হোটেল সফিনা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার জন্য নাশকতার প্রস্তুতি মামলা দেয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরসরাই থানায় দায়েরকৃত মামলায়ও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহসিন জানান, গতকাল রবিবার আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদর করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আব্দুল্লাহ। বিচারক শুনানী শেষে আজ সোমবার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি

 
নিজস্ব প্রতিনিধি
ফের সংলাপে বসার অপেক্ষায় রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ছোট্ট পরিসরে সংলাপে বসতে গতকালই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। জানা গেছে, সংবিধানের ভেতরে থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়ার বিষয়টি দ্বিতীয় দফা সংলাপে তুুলে ধরা হবে। সাংবিধানিক সমাধান খুঁজে বের করতে আইনবিশেষজ্ঞদের সাথে এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন ফ্রন্টের নেতারা।
 
বিএনপির শীর্ষ এক নেতা জানিয়েছেন, প্রথম দফা সংলাপে সরকার বলেছে, তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না। এখন তারা সংবিধানসম্মত প্রস্তাবই দেবেন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
 
 
জানা গেছে, সাংবিধানিক সমাধান বের করতে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মওদুদ আহমদ তার মতিঝিলের চেম্বারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক ড. বোরহানউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ সিনিয়র আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করেছেন।
এই বৈঠকের আগে ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের মধ্যে অন্তত দশ জায়গায় সংসদ ভেঙে নির্বাচনের কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যেন হয়। এ জন্য দেশের সংবিধান এবং আইনজ্ঞরা বসেছি। কিভাবে একটি সম্ভাব্য সমাধান বের করা যায় তা দেখছি।
 
তিনি আরো বলেন, অতীতে বেশির ভাগই নির্বাচনই জাতীয় সংসদ ভেঙে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা থাকলে বর্তমান সঙ্কট সমাধান কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে একদল সুযোগ-সুবিধা বেশি পাবে। এ ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।
 
জানা গেছে, গত শুক্রবার জাতীয় ঐক্যফন্টের বৈঠকেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে নেতারা নিরপেক্ষ ব্যক্তি কারা, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ড. কামাল হোসেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাউকে খুঁজে নেয়ার পরামর্শ দেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভায় প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্রপতি যদি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হন, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কী হবে? এর জবাবে এক নেতা বলেন, তাকে ‘দফতরবিহীন’ করা হলে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা বলেন, দফতর না থাকলেও বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তারা আরেকবার সরকারের সাথে আলোচনায় বসবেন। সেখানে যদি গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তির নাম চাওয়া হয়, তাহলে তারা দেবেন।
গত ১ নভেম্বর ক্ষমতাসীনদের সাথে সংলাপের পর গত কয়েকদিনে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করে সংলাপের নানা বিষয় পর্যালোচনা করেছেন। সংলাপে ক্ষমতাসীনরা একটি দাবি না মানলেও আাবারো সংলাপ করে সমঝোতার শেষ চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফের সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গতকাল চিঠি পাঠিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।
 
চিঠিতে শেখ হাসিনার উদ্দেশে ড. কামাল লেখেন, ‘গত ১ নভেম্বর গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ধন্যবাদ জানাই। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও আমাদের আলোচনাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেই দিন আপনি বলেছিলেন আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তারই ভিত্তিতে ঐক্যফ্রন্ট জরুরি ভিত্তিতে আবারো আলোচনায় বসতে আগ্রহী। ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার সাংবিধানিক ও আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য উভয়পক্ষের বিশেষজ্ঞসহ সীমিত পরিসরে আলোচনা করা প্রয়োজন।’
চিঠিতে ড. কামাল প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সংলাপ শেষ হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
 
ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার সংলাপ যেন সফল হয় অথবা সফল না হলেও এর দায় যেন ঐক্যফ্রন্টের নিতে না হয়, সেজন্য ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে ফিরতি সংলাপের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই সংলাপে সদস্য সংখ্যা বেশি রাখার পক্ষে নয় তারা। বিশেষ করে সংবিধানের বিষয়ে আইনি জ্ঞান থাকা নেতাদের নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদল করা হচ্ছে। ৭ দফা দাবি আলোচনার বিষয়বস্তু হলেও নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়ার ইস্যুতে জোর দেবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। খালেদা জিয়ার মুক্তিও আইনি প্রক্রিয়ায় কিভাবে সম্ভব, সেটিও দ্বিতীয় দফা আলোচনায় তুলে ধরা হবে।
 
সূত্র মতে, সঙ্ঘাত এড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যফ্রন্ট সবচেয়ে বেশি আন্তরিক। এ জন্য সংলাপে সবার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কিভাবে হতে পারে এর ফর্মুলা দেয়া হবে। মোটকথা সংলাপে তারা এমন সব প্রস্তাব রাখতে চায় যাতে প্রথমবারের মতো সঙ্ঘাতহীনভাবে একটি নির্বাচন হতে পারে।
 
জানা গেছে, প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় আগামীকাল ঢাকার জনসভা থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে আপাতত পরিবর্তন করা হয়েছে। কর্মসূচি দেয়া হলেও তা কঠোর হবে না। ফিরতি সংলাপের চিঠির জবাব এবং শেষ পর্যন্ত সংলাপ হলে এর ফল দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
 
কাল সমাবেশের প্রস্তুতি : আগামীকাল ৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারসহ সাত দফা দাবিতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সমাবেশে বিপুল লোকের সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। দলটি তফসিলের আগে ঢাকায় একটি বড় ধরনের শোডাউন করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীদের জনসভায় যোগ দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, জনসভায় রাজধানীসহ ঢাকার আশাপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন।
 
এই মধ্যে সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যৌথসভা হয়েছে। ওই সভায় নির্বাচন ও আন্দোলন এ দু’টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংলাপের বিষয়ে নেতারা বলেন, সংলাপের নামে সরকার সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে তা পরিষ্কার। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ সাত দফা দাবিতে অনড় থাকার কথা জানান নেতারা। দাবি মানলে সরাসরি নির্বাচন, না হলে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন তারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, জনসভায় লাখ লাখ লোকের সমাগম হবে। ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হবে এটি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই জনসভার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত বার্তা দিতে চায় ঐক্যফ্রন্ট।
 
জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কর্মসূচি ও কর্মপন্থায় আন্দোলন আর নির্বাচন দু’টিকেই সামনে রাখা হয়েছে। নির্বাচনে সম সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে চাপে রাখা হবে। আবার নির্বাচনের ময়দান গৃহপালিত ধরনের দল দিয়ে সাজানোর সুযোগ রাখা হবে না।
 

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট

নিজস্ব প্রতিনিধি

নগরের জামালখান, আসকার দীঘির পাড়, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, কোতোয়ালীসহ প্রায় এলাকায় সকাল ৯টা থেকে গ্যাস নেই। এর ফলে চুলা জ্বালাতে পারেননি গৃহিণীরা। কেউ কেউ মাটির চুলায় রান্না করেন। বিপাকে পড়েছে গ্যাস-নির্ভর হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোও।

রোববার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে গ্যাস সংকট শুরু হলেও কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা।

কেজিডিসিএলের ম্যানেজার (কাস্টমার অ্যান্ড মেইনটেইনেস) ইঞ্জিনিয়ার অনুপম দত্ত জানান, সিলেটের বিবিয়ানায় প্রধান লাইনে সমস্যার কারণে চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস সংকট রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান লাইনে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

চকবাজার বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা কোহিনূর আকতার বলেন, কিছুদিন পরপর এভাবে ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস না থাকাটা খুবই ভোগান্তির। সকালে চুলা না জ্বলায় পরিবারের সবাইকে হোটেলে গিয়ে খেতে হয়েছে। কিন্তু দুপুরে খেতে গেলে দেখি, খাবারের সংকট। হোটেলে যে খাবার ছিল সেগেুলোর দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গ্যাস নেই অজুহাতে।

জামিন পেলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আমীর খসরুর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ওই একই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন চলাকালে আমীর খসরুর মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে কুমিল্লায় অবস্থানরত নওমী নামে এক ছাত্রদল কর্মীর কথোপকথনের অডিওক্লিপ ভাইরাল হয়। এতে আমীর খসরুর কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, তিনি ওই কর্মীকে বলছেন, ঢাকায় এসে লোকজন নিয়ে নেমে পড়তে। ওইদিনই ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলা হয়।

মামলায় জাকারিয়া দস্তগীর দাবি করেন, আমীর খসরুর উসকানির জেরে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে বিচ্ছৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তার কথার জেরেই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা হয়।

এরপর গত ৪ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।

মামলায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও ষড়যন্ত্রের চেষ্টার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে ট্রেইলারের ধাক্কায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ১০টার দিকে বন্দরের ১৩ নম্বর জেটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু জাফর (৫৫) ভোলা জেলার তজমুদ্দিন এলাকার আলতাফ উর রহমানের ছেলে। তিনি বেসরকারি বার্থ অপারেটর এফ কিউ খানের নিয়োগ করা শ্রমিক ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, কাজ করার সময় একটি ট্রেইলারের ধাক্কায় আবু জাফর আহত হন। তাকে প্রথমে ডক শ্রমিক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়ার পর চিকিৎসক আবু জাফরকে মৃত ঘোষণা করেন।

বড় আন্দোলনের ঘোষণা আসছে: মান্না

নিজস্ব প্রতিনিধি

সামনে আরও বড় আন্দোলনের ঘোষণা আসছে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রোববার (০৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা আমাদের চিঠি নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি। পরশুদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের জনসভা। সেখানে আমরা আরো বড় করে আন্দোলনের কর্মাসূচি ঘোষণা করব।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ, সুন্দর পথে আসুন। আমরা যদি সুন্দর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারি তাহলে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু এটা নিশ্চিত জানেন, কোনো ছলচাতুরতা, ষড়যন্ত্র করে আন্দোলন বন্ধ করে দিয়ে ক্ষমতায় থাকবেন তাহলে আমরা আপনাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ জনসভাটি শুক্রবার (০২ নভেম্বর) হওয়ার কথা ছিল পুলিশের অনুরোধে সেটি ৬ নভেম্বর করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যেই পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

টেষ্টে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আবার ভরাডুবি

 


ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অল্পরানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। মাত্র ৫১ ওভারেই অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা, স্কোর বোর্ডে উঠেছে ১৪৩ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে লিড পেয়েছে ১৩৯ রানের।

ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনতা আর জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এই ইনিংসে বাংলাদেশকে দাড়াতে দেয়নি। যার ফলে সফরকারীরা পেল বড় লিড।

রোববার সকালে জিম্বাবুয়েকে দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু স্পিনবান্ধব উইকেট বানিয়েও নিজেদের ধসে পড়তে হলো সেই প্রতিপক্ষের পেস আক্রমণেই। স্কোর বোর্ডে ১৯ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারায় ৪ উইকেট। জিম্বাবুইয়ান পেসার চাতারা তিনটি ও জারভিস চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন স্বাগতিকদের। অথচ এই মাঠে স্পিনাররা সহায়তা পাবে এমন চিন্তা করে মাত্র একজন পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ।

১৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর এক পর্যায়ে আশঙ্কা হয়েছিলো ফলোঅনে পড়তে হবে কি না। কিন্তু মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহীম(৩১), নবাগত আরিফুল হক(৪১*) ও মেহেদী হাসান মিরাজের(২১) ব্যাটে সেই লজ্জায় পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। আরিফুল হক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪১ রানে।

ইনিংসের শুরুতে চাতারা যে ধস শুরু করেছিলেন মিডল অর্ডারে সেটা করেছেন বামহাতি স্পিনার সিকান্দার রাজা। দুজনেই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। এছাড়া জারভিস নিয়েছেন ২ উইকেট।

১৩৯ রানে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশ এই টেস্টে কতটা লড়াইয়ে ফিরতে পারবে সেটি নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফিরতে হলে জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত অলআউট করতে হবে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ওভার ব্যাটিং করেছ জিম্বাবুয়ে। স্কোর বোর্ডে এক রান তুলেছে দলটি। এরপরই আম্পায়ারদ্বয় দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। সোমবার তৃতীয় দিনে আবার ব্যাট করতে নামবে দলটি।

বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম আর নেই, আমিন চেয়ারম্যানের শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রবীণ রাজনীতিক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার বিকেল ৫টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার মৃত্যুতে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সাবেক এই মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তথ্য মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তরিকুল ইসলাম।

যশোর-৩ আসন থেকে চারবার নির্বাচনে জিতে সংসদে যাওয়া তরিকুল ইসলাম চারদলীয় জোট সরকারের তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসার আগে তিনি সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

অসুস্থতার কারণে কয়েক বছর ধরে দলীয় কার্যক্রমে অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন তরিকুল। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষবার তিনি অংশ নেন গত ফেব্রুয়ারিতে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে।