সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 656

সাগরিকা পাইপ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির আয়োজনে উঠান বৈঠক ও সংবর্ধনা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি
নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা পাইপ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সার্বিক সহযোগীতায় ও ৭৭ নং বিট পুলিশের উদ্যোগে উঠান বৈঠক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাহাড়তলী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার পংকজ বড়ুয়া। ৭৭ নং বিট পুলিশের সভাপতি নুরুল আফছার সওদাগরের সভাপতিত্বে ও মহানগর যুবলীগ নেতা আফগানী বাবুর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ সদীপ কুমার দাশ পিপিএম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পাহাড়তলী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল হারুন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, সাগরিকা পাইপ ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির উপদেষ্টা দোস্ত মোহাম্মদ, সভাপতি হাজ্বী শামসুদ্দিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ইদ্রিস খাঁন, অর্থ সম্পাদক নুরুল আলম,সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ পারভেজ প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, দেশে মাদক ও জঙ্গীর বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। তারই ধারাবাহিকতায় অনেক জঙ্গী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আটক হয়েছে। তারপরও অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে সাধারণ মানুষ যারা যার অবস্থান থেকে সহযোগীতা করতে হবে। তাহলে অপরাধীরা পার পাবে না। তাই পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগীতার আহবান জানানো হয়।


আলোচনা সভা শেষে বিট কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখায় পাহাড়তলী জোনের সনিয়ির সহকারী পুলিশ কমিশনার পংকজ বড়ুয়া, পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ সদীপ কুমার দাশ, পিপিএম, ওসি তদন্ত আবদুল্লাহ আল-হারুন, উপ-পরিদর্শক অর্নব বড়ুয়া ও সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই মিঠু দাশকে সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেয়া হয়।

স্পন্সর সংকেট ভুগছে মিরসরাই স্পোর্টিং ক্লাব

রাহাত আব্দুল্লাহ

মিরসরাইয়ের পিছিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মিরসরাই স্পোর্টিং ক্লাব বর্তমানে প্রায় অর্থশূন্যে দিশেহারা।প্রতিষ্ঠার ২টি বছর অতিক্রান্ত হলে ও এখনো মিলে নি কোনো স্পন্সর।এতদিন ধরে চলছে কর্মকর্তাদের ব্যাক্তিগত খরচ দিয়ে ক্লাবটির কার্যক্রম।ইতিমধ্য চট্টগ্রাম তৃতীয় ফুটবল বিভাগে মিরসরাই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে ১ম রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় দল টি।কিন্তু অর্থ সংকটে পড়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ছেন একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা জসিম উদ্দিন দুলাল।চট্টগ্রাম তৃতীয় বিভাগ লীগে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন চারটে খানে কথা নয়।তাছাড়া চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায়(সিজিকেএস) এ সুনাম কুঁড়িয়েছে ক্লাবের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা।তারপর ও এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান এই মহতী উদ্যোগের সুখ দুঃখের সাথী হয় নি।তৃতীয় বিভাগের জার্সি টি পর্যন্ত খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের অর্থ দিয়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে।সপ্তাহে তিন দিন জোরারগঞ্জ আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট এবং ফুটবল বিভাগে আলাদা আলাদা ভাবে দুই জন কোচ প্রশিক্ষন দিয়ে থাকেন খেলোয়াড়দের।মফস্বলের প্রতিভা গুলোকে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর জন্য এই ক্লাবটি টিকে থাকার স্বার্থে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হওয়া খুবই জরুরি।

নির্বাচন পেছানো : যা ভাবছে দুই পক্ষ


নিজস্ব প্রতিনিধি
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের তফসিল না পেছানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, তফসিল পেছানোর জন্য ঐক্যফ্রন্ট নামে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় জোট যে দাবি জানাচ্ছে তার মধ্যে কোন ‘কূটকৌশল থাকতে পারে’ বলে তারা মনে করছেন।

সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট । এই জোট বলেছে, তাদের দাবিগুলো নিয়ে তারা সরকারের সাথে আরো আলোচনা করতে চায়। শনিবার ফ্রন্টের নেতাদের এক বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আরো আলোচনার জন্য তারা রোববারই প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠাবেন।

কিন্তু নির্বাচনী তফসিল পেছানোর দাবি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সন্দেহ রয়েছে।

তারা মনে করছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো সঙ্কট তৈরির কৌশল থেকে হয়তো তফসিল পেছানোর এমন দাবি করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যেও এসেছে যে, ৭ নভেম্বরের পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আর কোনো সংলাপ তারা করবেন না। এর মাঝেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি এমন মন্তব্যও করেছেন যে, “কেউ যদি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে, সেটার সমুচিত জবাবের প্রস্তুতিও আমরা নিচ্ছি। এমন তৎপরতার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সতর্ক আছে।”

দলটি নির্ধারিত সময়েই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড: আব্দুর রাজ্জাক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ২৮ জানুয়ারির মধ্যে করতে হবে।

“সব প্রক্রিয়া শেষ করে ডিসেম্বরের শেষের দিকে নির্বাচন না হলে, এই সংসদের মেয়াদের মধ্যে ৯০ দিনের যে একটা বাধ্যবাধকতা আছে, সেটা শেষ করা যাবে না। কাজেই সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন করতে হবে” – বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবি কার্যত নাকচ হয়েছে। সরকার বা আওয়ামী লীগ এখনকার সংবিধানে যা আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে বলে অনড় রয়েছে।

এরপরও বিএনপি সহ এই জোট কৌশল হিসেবে তাদের দাবি নিয়ে সরকারের সাথে আরও আলোচনা করতে চায়।

আর আলোচনার এই বিষয়কে যুক্তি দেখিয়ে এই জোটের শীর্ষ নেতা ড: কামাল হোসেন তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তফসিল পেছানো যায় এবং তাতে কোনো সংকট হবে না বলে তারা মনে করেন।

“যে যত কথাই বলুক যে তফসিল পেছানোটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার, আসলে এটা হলো রাজনৈতিক ব্যাপার। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তার কথায় : সকলকে নির্বাচনে আনার জন্য যদি সরকারের আগ্রহ থাকে সে জন্য প্রয়োজনবোধে তফসিলটা পিছিয়ে দেয়া যায়।

“এই সংসদের মেয়াদকালেই যদি নির্বাচন করার কথা আমরা চিন্তা করি, তাহলেও ২৮শে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। সুতরাং এটা সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছাার ওপর নির্বর করছে।”

বিএনপি বলছে, তারা নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের রূপরেখাও তারা সরকারের কাছে তুলে ধরতে চায়।

কিন্তু গণভবনে পহেলা নভেম্বরের সংলাপে তারা কোনো রূপরেখা দেয়নি।

যদিও সেই সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন যে, বিরোধীজোটের সাথে পরে আরও আলোচনা হতে পারে।

তবে ছোট পরিসরে আরো আলোচনার বিষয়টি এখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং তফসিল পেছানো বা না পেছানো নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে।

মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলতানা কামাল বলছিলেন, নতুন নতুন বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

“এই যে একটা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে রাজনৈতিক দলগুলো এবং এই সংকটটাকে তারা অনবরত বাড়িয়েই যাচ্ছে। তারা ব্যক্তিকেন্দ্রিক, দলকেন্দ্রিক, নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক কিছু ইস্যু নিয়ে নিজেদের মধ্যে দেনদরবার করে যাচ্ছে,আমার মনে হয় না, এর থেকে জনগণ খুব বেশি উপকৃত হবে।”

এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ৭ নভেম্বরের পর ঘোষণা করা হতে পারে, নির্বাচন কমিশন সেই প্রস্তুতি শেষ করে এনেছে বলে কর্মকর্তারা বলেছেন।

তফসিল পেছানোর বিরোধী জোটের দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের কোন পাওয়া যায়নি। প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন শনিবার বৈঠকে বসেছিল, সেই বৈঠক রোববার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে।

পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প বাজার ব্যবস্থাপনায় আমাদের ব্যাপক দুর্বলতা রয়েছে – অধ্যাপক ড. দোহা

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক। এছাড়া পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পে বাংলাদেশের সুবৃহৎ কোম্পানি নাহার এগ্রো গ্রুপ -এর চেয়ারম্যান। প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যবহারিক উভয় দিক থেকেই উল্লেখিত দুটি শিল্পে তিনি অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। দেশের কৃষি সেক্টরে একটি কথা মাঝেমাঝেই ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসে এবং সেটি হলো কৃষক বা খামারি তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এক্ষেত্রে প্রচলিত বাজার ব্যবস্থাপনায় অনেক ক্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। ড. দোহা যেহেতু মার্কেটিং বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং পাশাপাশি উল্লেখিত ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত, তাই আমরা চেষ্টা করেছি পোলট্রি ও ডেইরি শিল্পে বিরাজমান পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, উত্তরণ এবং উন্নীতকরণের কৌশল সম্পর্কে জানার। সেই জানার চুম্বক অংশ সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে এখানে প্রকাশ করা হলো।

অধ্যাপক ড. দোহা: সেই ১৯৮৬ সালের কথা। আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। বাবা তখন রেলওয়েতে চাকরি করতেন। উনার স্বপ্ন ছিলো এবং সবসময় বলতেন রিটায়ার্ড করার পর গ্রামে গিয়ে একটা খামারবাড়ী করবেন। সেখানে পুকুরে মাছ, খামারে হাঁস, মুরগি, গরু সব থাকবে। বাবার স্বপ্ন, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় তখন থেকেই বড় ভাই (রকিবুর রহমান টুটুল, এমডি, নাহার এগ্রো) আর আমার পোল্ট্রিতে হাতেখড়ি। আমরা সরকারি যে বাসায় থাকতাম সেখানে অনেক খোলা জায়গা ছিলো। সেখানেই ৫০টা লেয়ার মুরগি দিয়ে অনেকটা আমরা প্রথমে শুরু করি। আসলে তখনতো আর সেভাবে ব্যবসা বুঝতাম না। শখ করেই সবাই মিলে করা। বড় ভাই সেই থেকেই ব্যবসায়ী হবেই বলে ব্রত ছিল। মা এবং আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতাম। আমাদের ঘরে দৈনিক তখন ৮-১০টা ডিম লাগতো। তখন নিজেরা খাওয়ার জন্য ডিম রেখে অতিরিক্ত ডিমগুলো বাজারে বিক্রি করে দিতাম। আমাদের যাত্রা শুরু মূলত এভাবেই।

এরপর পোলট্রির একদিনের বাচ্চা ও ফিডের পরিবেশক হিসেবে ব্যবসা করেছি দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোর সাথে। পরিবেশক ব্যবসার পাশাপাশি নিজেদের বেশ কিছু খামার হয়ে যায়। তাই ব্যবসার পাশাপাশি আমরা চাকতাই, খাতুনগঞ্জ, পাহাড়তলী থেকে ফিডের কাঁচামাল এনে ফিড ফর্মুলেশন করে নিজেরাই ফিড তৈরি এবং মুরগিকে খাওয়ানো শুরু করি। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিধি। এরপর আস্তে আস্তে নিজেরাই হ্যাচারি, ফিডমিল প্রতিষ্ঠা শুরু করি। পাশাপাশি আমি লেখাপড়া করতে থাকি। HSBC, Grameen সহ বেশ কয়েকটা কোম্পানিতে চাকুরী করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসাবে যোগ দেই। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি করি আর সেটাও পোল্ট্রি সাপ্লাই চেইনের উপরে। যখনি সময় পেয়েছি, বড় ভাইকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।

ঐদিকে, ডেইরিতে যদি শুরুর কথা বলি তবে বলতে হবে ১৯৮৯ সনের কথা। ওতটা বাণিজ্যিক চিন্তা করে নয়, মাত্র ৩টা গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করি নিজেদের দুধের চাহিদার মেটানোর জন্য। বাকীটুকু বিক্রি করে দিতাম। আসলে আমরা খুব ধীরে ধীরে এগিয়েছি। হাটি হাটি পা পা করে এতোদূর আসা। এখনতো অনেককেই বলতে শুনি ক্যাটল শিল্পে নাকি আমরাই সবচেয়ে এগিয়ে আছি। সেটা একদিনে হয়নি। অনেকের অনেক শ্রম আছে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

প্রশ্নঃ নাহার এগ্রো প্রতিষ্ঠার পেছনে আপনার মায়ের ভূমিকা অনেক বলে আমরা শুনেছি, এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?

অধ্যাপক ড. দোহা: হ্যা, আপনি ঠিকই শুনেছেন। এই যে আমাদের এতোদুর আসা, এর পিছনে আমাদের মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উনি না থাকলে হয়তো আজ আমাদের এতোদুর আসা সম্ভব হতো না। আমার বাবা হেল্পফুল না হলে এই ব্যাবসার শুরুই হতো না। অনেক বাবা-মা ছেলেদের লেখাপড়ার ক্ষতি চিন্তা করে রাজী হতো না। তিনি সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন আর ছেলেদের উপর আস্থা রেখেছেন বলেই আজ এতোখানি হয়েছে আল্লাহ্‌র অশেষ কৃপায়। ভালো মানুষ বেশিদিন বাঁচেনা এবং সেটাই সত্যি হলো। ১৯৯৪ সনে আমাদের বাবা মারা যান। তখন আমি মাত্র এইচ.এস.সি দিয়েছি, বড় ভাই তখন ডিগ্রিতে পড়েন। তখন মা-ই আমাদের আগলে রেখেছেন। তখন থেকে আজ অবধি মা আমাদেরকে ছায়ার মতো দেখে রেখেছেন।

আসলে বাবা ছিলেন আমাদের স্বপ্নদ্রষ্টা, আমার মা হলেন সেই স্বপ্নের বাস্তব রুপকার। সাথে বড় ভাই ছিলেন, উনি প্লান দিতেন আমি সার্পোট করতাম। আমরা পড়ালেখার ফাঁকে যতটুকু সময় পেতাম সব সময়টুকুই আমাদের খামারে ব্যয় করতাম। মা আমাদের হাতে কলমে শিক্ষা ‍দিয়েছেন। উনি তখন নিজেই খামারে কাজ করতেন। এমনও সময় ছিলো রাত ২টা বা ৩টা বাজে মা খামারে চলে যেতেন। দেখতেন খামারে ঠিকমতো পানি-খাদ্য দেয়া হয়েছে কিনা বা কোনো হিংস্র ‍পশু খামারে আক্রমণ করলো কিনা। এখনো তিনি কাছাকাছি যে খামারগুলো আছে সেখানে চলে যান খোজখবর নেয়ার জন্য।

প্রশ্নঃ দেশের পোলট্রি শিল্পে টানা এক বছর ধরে একটা অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর প্রধান কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. দোহা:: এই শিল্পে সাপ্লাই চেইনে একটা বড় সমস্যা আছে আমাদের। বিজনেসের ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইন একটা বড় ইস্যু। আমাদের মধ্যে নিবিড় একতা নেই বলে আমি মনে করি। আমরা যে যার যার মতো ব্যবসা করছি। আমাদেরকে ভাবতে হবে সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন/সপ্তাহে/মাসে/বছরে ডিম ও মাংসের চাহিদা কত? চাহিদার প্রবৃদ্ধির হার কত? জনসংখ্যার সাথে সাথে পরের বছর কতো হতে পারে, আরো পাঁচ বছর কতো হবে ইত্যাদি এবং সেই অনুযায়ী উৎপাদন ও সরবরাহ করতে হবে। কারণ, সা্প্লাইয়ের সাথে ফুড কনজামশনটা ঠিক থাকতে হবে। তাহলেই সাপ্লাই আর ডিমান্ড -এর মধ্যে সমন্বয় হবে। আর তা না হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এবং হবো। তাছাড়া ভোক্তাদের প্রতিদিন মিনিমাম প্রোটিন ইনটেক সম্বন্ধে ধারনা দিতে হবে। প্রোটিনের অন্যান্য সোর্স কি হতে পারে সেগুলোর কমপ্লিট ইনফরমেশন দিতে হবে। তাহলে ভোক্তারা নিজেরাই নিজেদের ভালোর জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। পুশ মার্কেটিং করে মার্কেট বেশীদিন টিকানো যায় না। ভোক্তাকে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহজ করে বুঝাতে হবে।

আরো একটি বিষয় খেয়াল করুন, দেশের এখন কয়েকশ’ ফিডমিল রয়েছে। প্রতিদিন শুনবেন অমুক জায়গায় নতুন ফিডিমিল হচ্ছে। বুঝে হোক কিংবা না বুঝে লাভের কথা শুনেই অনেকে দৌড়াচেছ। কিন্তু এতোগুলো ফিডমিল আদৌ দরকার আছে কিনা সেটাওতো দেখার বিষয়। কারণ, চাহিদার সাথে উৎপাদনের তো একটা সমন্বয় থাকতে হবে। সমন্বয় না থাকলে তো আমরা সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হবো। সেজন্য কিছু করার আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার দরকার।

আপনি হয়তো জানেন, চলতি বছরে আমাদের ব্রয়লার মাংসের দাম খুব কম যাচ্ছে। ডিমের দাম একটানা কয়েক মাস খারাপ গেছে যদিও এখন কিছুটা ভালো। কিন্তু সেই টানা খারাপ পরিস্থিতিতে অনেক খামার ধ্বংস হয়ে গেছে, পথে বসে গেছে অনেক খামারি। বাস্তবতা হলো- খামারিরা না বাঁচলে, আমরাও বাঁচবো না। ব্যবসা করবো কিভাবে, আপনারাই বা লিখবেন কি নিয়ে? শুধুমাত্র সুষ্ঠু সমন্বয়ের অভাবে এসব হচ্ছে। খামারীরা বলছে, আমরা মরে যাচ্ছি। ডিলার বলছে আমি তো শেষ। প্যারেন্ট স্টক আর হ্যাচারি মালিকরা বলছে আমাদের তো সব চলে যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো, আসলে আমরা সবাই ক্ষতির মুখে আছি। দড়ি টানাটানি করে লাভ নাই। যে যত বড় বিনিয়োগ করেছেন তার তত বেশি ক্ষতি হবে। একজনের লাভে কিংবা লসে আরেকজনের কোনো সম্পর্ক নাই। সবাইকেই বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভোক্তাকে দরকারি জিনিসটাই তুলে দিতে হবে।

নেতিবাচক প্রচারণাও বাজার খারাপ হওয়ার একটি কারণ। দেখবেন কোনো কোনো মানুষ বলছে ব্রয়লার মুরগি ভালো না, এটা খেলে ক্যান্সার হবে, শরীরের ক্ষতি হবে। প্লাস্টিকের ডিম নিয়ে অপপ্রচার। সোস্যাল মিডিয়াতে দেখবেন এসব নানা অপপ্রচার চলছে। এখন সত্য হোক কিংবা মিথ্যা কিছু মানুষতো অবশ্যই সেগুলো কম-বেশি বিশ্বাস করছে। কারণ, তাদেরতো ওতো সময় নেই বিচার বিশ্লেষণ করার। কিছু অশুভ চক্র এসব করছে। এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছি প্রান্তিক খামারি থেকে লিডিং পজিশনে থাকা কোম্পানীগুলো। কোনটা অপপ্রচার আর কোনটা দৈব ঘটনা সেটা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়ার দ্বায়িত্ব সরকারের।

এক্ষেত্রে আপনারা যারা মিডিয়া আছেন, তাদের কিন্তু একটা বড় ভূমিকা আছে কাস্টমারকে মুরগীর মাংস আর ডিম সম্পর্কে পজিটিভ দিকগুলো জানানোর। সারা বিশ্বের বড় বড় ফুড চেইনগুলো (ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি, বার্গার কিংস সহ সবাই) এই মুরগী খাওয়াচ্ছে আমাদের। যদি নিরাপদই না হতো, উন্নত বিশ্ব কখনো করতো না। তাছাড়া একসময় মুরগী আর গরুর মাংশের দাম প্রায় একই ছিল। কিন্তু খামার হওয়ার কারণেই মুরগি ৯২-১০৫ টাকায় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এই দামে মুরগি বিক্রি করে কেউ বাঁচার কথা না। আরও ৫০ ভাগ বেশি দাম পেলে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। মিনিমাম প্রফিট না হলে ব্যবসা সবাই একদিন ছেড়ে দিবেন। আপনারা শুনে থাকবেন যে, ব্রাজিল ও অন্যান্য দেশ উঠে পড়ে লেগেছে বাংলাদেশে মুরগি ও গরুর মাংস রপ্তানি করার জন্য। এরা অনুমতি পেলে পুরো শিল্প ধ্বসে পড়বে আর ভোক্তারা একদিন অনেক দামে এসব কিনে খেতে বাধ্য হবে। এখন পছন্দ আপনার।

আপনারা যদি বেশি বেশি করে নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করেন যেমন, ব্রয়লার চিকেন অন্য অনেক উপাদানের চাইতে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো আর কম ঝুঁকিপূর্ণ, এটা অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, এতে ক্ষতিকর কিছুই নাই ইত্যাদি। তাহলে কিন্তু ডিমান্ডটা বেড়ে যাবে। মানুষ ভুল বুঝতে পারবেন।

প্রশ্নঃ বিরাজমান পরিস্থিতিতে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে সেক্টরের সংগঠনগুলো কি করতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক ড. দোহা: এদেশের মানুষ এক সময় সপ্তাহে একবার শখ করে নুডুলস খেতো বা ঘরে মেহমান এলে রান্না করে খাওয়ানো হতো। আর যারা একটু ভালো পজিশনে আছে তারা হয়তো বিকালে নাস্তা হিসেবে নুডুলস খেতো। কিন্তু নুডলস কোম্পানিগুলো কি চিন্তা করলো? মানুষ শুধু বিকেলে না, সকালের নাস্তা হিসেবেও নুডলস খাবে এবং মানুষকে সেটি খাওয়ানোর কৌশল বের করতে হবে। এক নুডলস দিয়েই তারা নানা ধরনের রেসিপি বিজ্ঞাপন শুরু করলো, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস তৈরি করে বাজারে ছেড়ে দিলো যাতে মানুষ সহজেই খেতে পারেন। অর্থাৎ তারা সাপ্লাই দেয়ার আগে ডিমান্ড তৈরি করেছেন এবং মানুষ সেটা গ্রহণ করেছে। কাস্টমারকে এমনভাবে প্রমোট করছে যে, এখন দেখেন প্রত্যেকের ঘরে ঘরে নুডুলস থাকে। এখন আর কেউ এটাকে শুধু বিকালে খায় না। নুডুলস এখন নিত্যদিনের খাবার হয়ে গেছে। অফিসের ব্রেক টাইমেও ভাজা-পোড়ার বদলে অনেকে নুডলস খায়। কারণ তারা সেটার ভাল দিক তুলে ধরতে পেরেছেন। সেখানে আমাদের সুযোগ আরও বেশী।

এখন আমরা যদি একতাবদ্ধ হয়ে ব্রয়লার চিকেন ও ডিম সম্পর্কে পজিটিভ ধারনা তৈরি করতে পারি, সহজ পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে পারি এবং সেগুলো প্রচার করতে পারি তাহলে আমরা সবাই লাভবান হবো। আমরা স্কুলের বাচ্চাদের টিফিনের জন্য চিকেনকে যদি সেইফ ঘোষণা করতে পারি তাহলে কিন্তু আমরা সবাই লাভবান হবো। আবার বিকালবেলা যে নুডুলস রান্না করা হচ্ছে সেখানে চিকেন দিয়ে রান্না করার জন্য মোটিভেট করতে পারি। সারা বিশ্বে কয়েক হাজার চিকেন রেসিপি পাওয়া যাবে। সেগুলো আমাদের আলোকে প্রমোট করতে হবে। কাস্টমারকে বুঝাতে হবে যে চিকেন খেলে কোলেস্ট্রর এর ঝুঁকি কমে, যাদের এলডিএল কোলেস্টোরেল আছে তাদের জন্য ব্রয়লার চিকেন উপযোগী। তাদেরকে বুঝাতে হবে চিকেন কিভাবে রান্না করলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে। তাহলেই চিকেনের চাহিদা বেড়ে যাবে। আর তখন সাপ্লাইয়ের সাথে ডিমান্ডের সমন্বয় হবে।

প্রশ্নঃ টেকসই পোলট্রি শিল্প করতে গেলে আমাদের কি করা উচিত? মোটা দাগে, পয়েন্ট আকারে উত্তর দিবেন প্লিজ?

অধ্যাপক ড. দোহা:: মোটা দাগে উত্তর দিতে গেলে আমাদের যা যা করতে হবে তা হলো-

আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সাপ্লাই আর ডিমান্ডের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে প্রবেশ করার চিন্তা করতে হবে। আমরা মধ্যপ্রাচ্যে চিকেন মিট রপ্তানি করতে পারি। আমাদের পাশের দেশ ভারত যদি পারে তাহলে আমরা কেনো পারবো না।
সবাইকে মানসম্মত প্রোডাক্ট সম্পর্কে সঠিক জ্ঞ্যান নিতে হবে।
প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি ঠিক রাখার জন্য সরকারকে একটা আইন করতে হবে এবং সেটা যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের প্রোডাক্ট সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে আরো নমনীয় হতে হবে যাতে ক্রেতা সঠিক সময়ে সঠিক এবং মানসম্মত প্রোডাক্ট পায়।
আমাদের সবাই মিলে একটা ফান্ড তৈরি করতে হবে। সবাই যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ফান্ডে টাকা রাখবে। বিভিন্ন এসোসিয়েশনকে আমাদের সাথে আনতে হবে। যাতে আমরা যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারি।
ইতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে।
পোলট্রি কাঁচামালের মান নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সাথে ডিউটিগুলো তুলে দিলে খামারিরা উপকৃত হবে। এই সেক্টরে ট্যাক্স তুলে দিলে ভাল হতো। এখনো সেই সময় আসেনি বলে আমি মনে করছি। কমপক্ষে একটা লেভেল পর্যন্ত করা উচিৎ।
অযাচিতভাবে ভুল প্রচারণার শাস্তি দিতে হবে।
আমাদের দেশেই পোলট্রি ডেইরী মেডিসিন বানাতে হবে। এই সেক্টরে বিশাল একটা অর্থ আমাদের দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
প্রশ্নঃ এবার আসি ডেইরি প্রসঙ্গে। বর্তমান কেমন চলছে শিল্পটি?

অধ্যাপক ড. দোহা: বর্তমানে ডেইরিতেও একই অবস্থা। মানুষ ২০টাকা দিয়ে একটা ২০০ এম.এল জুস কিনে খেতে পারে অথচ ২০ টাকা দিয়ে ২৫০ মিলি দুধ খেতে চায় না। অথচ জুসের চেয়ে কিন্তু দুধের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এক্ষেত্রে ভো্ক্তাদের সচেতন করতে হবে। সোস্যাল মিডিয়াতে প্রচার হচ্ছে আমাদের দেশে নাকি প্লাস্টিক এর ডিম পাওয়া যায়, চাল পাওয়া যায়, টিস্যু দিয়ে, শ্যাম্পু দিয়ে নাকি দুধ তৈরি করা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদেরকে বুঝতে মানুষ কিন্তু এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেইসবুকে সময় কাটায়। তাই উনারা ওখানে যা দেখে তাই বিশ্বাস করে। এক্ষেত্রে আমাদের ভোক্তাদের সচেতন করে তুলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি বার বার একটা কথাই বলি আমাদের মধ্যে একতা থাকতে হবে। তথ্য নির্ভল ছোট ছোট ভিডিও করে আমরা ইউটিউবে এ প্রচার করতে পারি, সোস্যাল মিডিয়ায়ও প্রচার করতে পারি।

প্রশ্নঃ আস্থার সংকট উত্তরণের জন্য কী করা উচিত এবং ভোক্তাদের ব্যাপারে আপনার মতামত ও বক্তব্য কি?

অধ্যাপক ড. দোহা: আমাদের দেশের ক্রেতা নিজের দেশের প্রোডাক্ট মান নিয়ে নিয়ে সংশয় করে। তারা আমদানি করা ড্রাগন ফল খাবে ৬০০-৮০০টাকা দরে কিন্তু আমাদের দেশের ড্রাগন ফল ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে খাবে না। অথচ আমাদের দেশের ড্রাগনফল আমদানি করা ড্রাগনফলের চেয়ে অনেক অনেক সুস্বাদু এবং পুস্টিগুন সমৃদ্ধ। এজন্য শুধু ভোক্তাদের দায়ি করলে চলবেনা। কারণ, আমাদের দেশে সাধারণত যে ফরমেটে খামার করা হয় উন্নত রাষ্ট্রে কিন্তু এভাবে হয় না। তাদের দেশের ভোক্তারা খামারিদের ‍উপর আস্থা রাখতে পারে কারণ তারা জানে যে খামার থেকেই চিকেন নেয়া হোক না কেনো তাদের কোনো সমস্যা হলে তাদের দেশের সরকার, খামারি বা বিভিন্ন এসোসিয়েশন সম্পূর্ণ দ্বায়িত্ব গ্রহণ করবে। তাই সেসব দেশের ভোক্তাদের তাদের দেশের প্রোডাক্ট এর উপর পূর্ণ আস্থা আছে। আমাদেরও সেই আস্থার জায়গাটা প্রমাণ দিয়ে তৈরি করতে হবে। আমাদের এমন টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে যেনো ভোক্তা নিজেই পণ্যর মান যাচাই করতে পারে।

এক্ষেত্রে আমি ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলতে চাই, আপনার একটু সময় পেলে আপনার আশে পাশে যে খামারগুলো আছে সেখানে যান। দেখেন তারা মুরগীকে কি খাওয়াচ্ছে, কোন কোম্পানীর ফিড খাওয়াচ্ছে, এতে কি কি উপাদান আছে। সেগুলো বাসায় এসে গুগুলে সার্চ করে দেখেন যে ফিডে উপাদানগুলো আছে সেগুলো আমাদের শরীরের জন্য ভালো কিনা। দয়া কর গুজুবে কান দিবেন না। এছাড়াও আমরা যে এতো সভা-সেমিনার করছি, সেসব বার্তা সব মানুষের কাছ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশ্নঃ শিল্পোদ্যোক্তা, খামারি এবং যারা নতুন খামার করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?

অধ্যাপক ড. দোহা: আমাদের দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরি ইন্ডাষ্ট্রিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে সেটা আমাদের জন্য আশির্বাদ। কিন্তু আমাদেরকে ব্যবসা করে যেতে হবে। এখানে ‍দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। একটি ইনপুট মার্কেটিং আর একটি আউটিপুট মার্কেটিং।

আমরা ইনপুট মার্কেট করতে পারলেও যখন আউটপুট মার্কেটিং -এ যাই, মানে খামার থেকে ভোক্তাদের প্রোডাক্ট বিক্রি করতে আমাদের কিন্তু প্রচুর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। কারণ, আমরা এখনো ভোক্তাদের কাছে আমাদের উপর আস্থা অর্জন করতে পারি নাই। এইটার অনেক কারণ। কিছু অসাধু কারবারীর জন্য সবার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলাও ঠিক না। আমাদের সবাইকে খেতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিক করতে সকল পক্ষকে ধৈর্য্য ধরে এগুতে হবে। হুটহাট করে নেগেটিভ প্রচারণা সকলের মাঝে বিভাজন তৈরি করে। খামারিদের প্রতি আস্থা রাখুন। ভুল হলে আলোচনা করে শুধরে দিবেন।

আমাদের খামারিদের একটা সমস্যা হলো- যখন তারা একটি খামার শুরু করে তখন তারা প্রচুর পরিশ্রম করে। আর যখন দুই বা তিনটা ফ্লকে কিছু লাভের মুখ দেখে তখন আর খামারে সেইভাবে সময় দেয়ার প্রয়োজন মনে করে না। তখন তারা মনে করে, আমি তো ব্যবসা শিখে গেছি। খামারে লেগে থাকে, মুরগির ময়লা গায়ে মাখতে পিছপা হয়না এমন খামারি লোকসানে পড়ে কম। আসলে যত বছরই ব্যাবসা করেন না কেন, আপনাকে খামারে যেতে হবে।

অথচ এখনো গ্রামের অনেক খামারে দেখবেন সকাল ১১টা বেজে গেছে কিন্তু গেছে খামারের পর্দা তোলা হয় নাই, ফ্যান অন করা হয় নাই। মুরগিকে সময়মতো খাবার দেয়া হয় নাই। ঠিকমতো পানি দেয়া হয় নাই, পানির পাত্রগুলো শুকিয়ে গেছে ইত্যাদি। উনাদের আপনি খামারি বলবেন? তারা লস করবেনা তো কারা করবে? বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খামার ব্যবস্থাপনা শিখতে হবে আর প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিদিন এই সেক্টর পরিবর্তিত হচ্ছে। আপনাকেও সেই তালে শিখার চর্চা বাড়িয়ে দিতে হবে। ব্যবস্থাপনাই একটা খামারকে লাভজনক করতে যথেষ্ট।

আর কোনো কারণে খামারির লস হলে ডিলারকে সে বাকী টাকা শোধ দিতে পারছে না। ডিলার টাকা না পেলে ফিড, চিকস্ কোম্পানি টাকা পাচ্ছে না। এখানে কিন্তু একটা চেইনের মতো কাজ করে। খেয়াল করে দেখুন কার লস বেশী হচ্ছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো- কেউ যদি খামার করতে চায় তাহলে মিনিমাম যেনো ১০ থেকে ১৫ হাজার চিকেন নিয়ে এবং সম্পূর্ণ আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাতে শুরু করেন। অন্তত ছয় মাস লেখাপড়া করুন। জানুন, শিখুন, আলোচনা করুন। কারণ, ছোট খামারে আয়ের সাথে ব্যায়ের সমন্বয় রাখাটা কঠিন। বড় কোম্পানীগুলো যেভাবে খামার পরিচালনা করে ছোট খামারিদের পক্ষে কিন্তু সেভাবে চালানো সম্ভব না। একটা কোম্পানী যেভাবে প্রোডাক্ট এর কোয়ালিটি ঠিক রাখার জন্য টেকনোলজি ব্যবহার করে ছোট খামারীরে পক্ষে কিন্তু সেটা সম্ভব না। এসব কারণে তাদের ‍উৎপাদন খরচও বেশি পড়ে। সেক্ষেত্রে ছোট কয়েকজন মিলে একটি বড় খামার করতে পারেন। অন্যথায়, বর্তমান বাজারে টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন। ডেইরি ও ক্যাটলের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা উচিত। হুট করে না জেনে বুঝে বিনিয়োগ করলে হোচট খেতে হবে।

সূত্র এগ্রিনিউজ২৪.কম

জোরারগঞ্জে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উঠান বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (২ নভেম্বর) রাতে উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন দিদার। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা ফকিরের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কাশেম কন্ট্রাক্টর, হাকিম আলী, মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম উল হুদা, যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন অপু, মোহাম্মদ আলী, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সুজন, যুবলীগ নেতা মঞ্জুর খাঁন, নোবেল, হারুন, মতিন, ছাত্রলীগ নেতা বিশ্বজিৎ পাল, তৈয়ব, রণি, হরি দাশ, সুকন দাশ, শুকলাল দাশ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হলে এবং আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করতে হলে তৃণমূলের মানুষের কাছে উন্নয়ন বার্তা প্রতিটি নেতাকর্মীকে পৌঁছে দিতে হবে। আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নের সরকার, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য একাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক নাসির উদ্দিন বলেন, মিরসরাই আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সাংসদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে। কারণ উনার সময়ে মিরসরাইবাসী যে উন্নয়েনর ছোঁয়া পেয়েছে তা অতীতের কোন সময় হয়নি।

সাফ অনূর্ধ্ব ১৫ ফুটবলে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইনালে পাকিস্তানকে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব ১৫ সাফ ফুটবলের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।

আহ, কত দিন পর ছেলেদের ফুটবলে বাংলাদেশের শিরোপা জয়। তাও আবার ঠাসা উত্তেজনার ম্যাচে স্নায়ুর পরীক্ষা পাশ করে। পাকিস্তানকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র ছিল।

একটা ফাইনাল ম্যাচে যতটা লড়াইয়ের আশা করে মাঠে আসেন দর্শকেরা তার সবটুকুই ছিল আনফা কমপ্লেক্সে। এগিয়ে যাওয়া, আবার সমতা। আর সবশেষে টাইব্রেকারে বাংলাদেশের জয়। যেখানে তিনটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে নায়ক বদলি গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়েছিল যশোরের এই কিশোর।

আজও একাদশে ছিল না গোলরক্ষক মেহেদী। কিন্তু ‘পেনাল্টি স্পেশালিস্ট’ হিসেবে সে তো প্রমাণিত। ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতা শেষ হচ্ছে দেখে ৯০ মিনিটে নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল মারমার বদলি হিসেবে মাঠে পাঠানো হয় তাকে। কোচ আনোয়ার পারভেজের জানাই ছিল এই ছেলেই পারবে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে। করে দেখালও তাই। প্রথম, দ্বিতীয় ও শেষ শটটি ঠেকিয়ে হলো নায়ক। শেষ শটে পাকিস্তানের মোদাসসের গোল করতে পারলে ৩-৩ সমতায় ফিরতে পারত পাকিস্তান। কিন্তু মেহেদীর সেভ দিয়ে বোঝাল, তাকে কেন বদলি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। স্পটকিক থেকে বাংলাদেশের তিনটি গোল করেছে হ্রদয়, রাজা আনসারি ও রুস্তম। মিস করেছে রাজন ও রবিউল।

এর আগে ২৫ মিনিটেই আত্মঘাতী গোল এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেড করে নিজেদের জালে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তানের ডিফেন্ডার হাসিব আহমেদ খান। এর পরে মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের সমতায় ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পাকিস্তানকে সমতায় ফেরান মহোব উল্লাহ। শেষ মিনিট পর্যন্ত উত্তেজনার পারদ ছুঁয়েছিল চূড়ান্ত উচ্চতা। ম্যাচের উত্তেজনা ছিল এমন যে গোলের আগ পর্যন্ত সব সময় মনে হয়েছে ম্যাচটি জিততে পারে যেকোনো দলই।

মালদ্বীপের জালে ৯ গোল গোল দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আনোয়ার পারভেজের শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে নেপালকে ২-১ গোলে হারানোর পর সেমিফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। আবারও সেই টাইব্রেকারে স্নায়ুকে জয় করে শিরোপা উল্লাস।

২০১৫ সালে সিলেটে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৬ সাফে শেষ শিরোপা জয় করেছিল বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টই ফরম্যাট বদলে এখন অনূর্ধ্ব ১৫। ফলে তিন বছর পর ছেলেদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে শিরোপা জয় করল বাংলাদেশ।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানির ফিল্টার প্রদান


মিরসরাই প্রতিনিধি
বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানির ফিল্টার প্রদান করেছেন বারইয়ারহাট এ.কে ইলেকট্রিকের স্বত্ত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম। শনিবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ নুরুল আবছারের কাছে ফিল্টারগুলো হস্তান্তর করা হয়। এসময় রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম মাষ্টার ও সাংবাদিক এম মাঈন উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আরিফুল ইসলাম ছোটবেলা থেকে স্বেচ্ছায় বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামুলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৭ সালে বাই সাইকেল যোগে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ৩৭০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাদক ও যৌতুকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন।

‘বিশ্ববাসী ও বিশ্ব নেতারা এখন বাংলাদেশকে নিয়ে গর্ব করে’


মিরসরাই প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন দলের দেশপ্রেম নেই। আওয়ামী লীগ যত ক্ষমতায় থাকবে দেশ তত এগিয়ে যাবে। নৌকায় ভোট দিলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এটাই আওয়ামী লীগের ওয়াদা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শনিবার (৩ নভেম্বর) মিরসরাই উপজেলায় ঐচ্ছিক তহবিলের নগদ অর্থ ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপির আমলে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতাম না। এখন বিশ্ববাসী ও বিশ্ব নেতারা আমাদের নিয়ে গর্ব করে। তিনি বলেন, নৌকা আবার ক্ষমতায় এলে আমরা সব স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করব। আগামী দুই মাস আওয়ামী লীগের জন্য আপনারা কাজ করুন নৌকার পক্ষে কাজ করুন, নৌকাকে বিজয়ী করুন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে এর চেয়ে আরও অনেক বড় স্বপ্ন দেখি। আমরা স্বপ্ন দেখি দেশের প্রতিটি মানুষ ধনী হবে। স্বপ্ন দেখি দেশের মানুষ বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াবে। আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি ডিজিটাল রাষ্ট্র। কিন্তু ২০২১ সালের আগেই আমরা ডিজিটাল রাষ্ট্রে পা রেখেছি। স্বপ্ন আমরা পূরণ করেছি। এখন আমরা আগামীর স্বপ্ন দেখছি। আগামী ২০ বছরে অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমরা যেমন নির্ধারিত সময়ের আগে ডিজিটাল দেশ ও মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছেছি, ঠিক তেমনি ২০৪১ সালের আগেই উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পৌছব।
গণপূর্ত মন্ত্রী তাঁর ঐচ্ছিক তহবিল হতে ৫ হাজার টাকা হারে ৭০ জন ও ২৫ হাজার টাকা হারে ২২ ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান কে অনুদানের চেক বিতরণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য খুরশিদ আলম আজাদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসমিন শাহীন কাকলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মোঃ আতাউর রহমান, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা, সিরাজ উদ দ্দৌলা, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর হোসেন তপু প্রমুখ।

রোববারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুক্রবার

জেএসসি পরীক্ষাসারাদেশে চলমান জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার আগামীকাল রোববারের (৪ নভেম্বরের) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এই পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। অনিবার্য কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাজমূল হক খান জানান, ‘আগামীকাল রোববার জেএসসির ইংরেজি প্রথম পত্র আর জেডিসির আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে এই পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হচ্ছে। রোববারের পরীক্ষাগুলো শুক্রবার নেওয়া হবে। অন্যান্য দিন পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হলেও শুক্রবার পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ৯টায়।’

উল্লেখ্য, বৃস্পতিবার (১ নভেম্বর) সারা দেশে একযোগে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তার মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। দেশের ২৯ হাজার ৬৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

রাজপথেই সমাধান দেখছে ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের ‘সদিচ্ছার অভাব ও নেতিবাচক অবস্থানের’ কারণে সংলাপ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে সরকার তাদের অনড় অবস্থানের কথাই কেবল পুনর্ব্যক্ত করেনি বরং বেশ কিছু ইস্যুতে তিক্ত মন্তব্যও তাদের শুনতে হয়েছে। সংলাপের শুরুতে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘অমর’ হয়ে থাকতে পারেন বলে যে আশাব্যঞ্জক বক্তব্য দিয়েছিলেন, সংলাপ শেষে তা হতাশায় রূপ নিয়েছে। কারণ সাত দফার একটিও সুস্পষ্টভাবে মানেনি ক্ষমতাসীনেরা। বিশেষ করে ফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ দাবি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, সংসদ ভেঙে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে ন্যূনতম কোনো আশ্বাসও মেলেনি।

‘সংবিধানের বাইরে আওয়ামী লীগ যাবে না’, এমন অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর এসব দাবিতে ফের সংলাপে বসেও কোনো লাভ হবে না বলে মনে করছে ঐক্যফ্রন্ট। দাবি আদায়ে রাজপথেই সমাধান দেখছেন ফ্রন্টের নেতারা। জানা গেছে, আন্দোলনের সূচনা হিসেবে আগামী ৬ নভেম্বর ঢাকায় জনসভার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ সমাবেশ থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দেয়া হতে পারে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল বলেছেন, সংলাপে সাত দফার কোনোটিই মানা হয়নি। বরং নেতিবাচক মন্তব্য করেছে সরকারদলীয় লোকজন। দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সংলাপের ফলাফল শূন্যের কোঠায়। কোনো দাবি তারা মানবে না।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গতকাল শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, সাত দফার মধ্যে প্রধান দাবিগুলো হচ্ছেÑ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও সংসদ ভেঙে নির্বাচন। এই তিনটি বিষয়ে সুরাহার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি সংলাপে।

জানা গেছে, সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি সংবিধানসম্মতভাবেই সুরাহার আহ্বান জানান। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ারও কথা বলেন তিনি। জবাবে সংবিধানের কথা বলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ১/১১ প্রসঙ্গ টেনে দেশে নিরপেক্ষ কে তা জানতে চেয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। এ সময় বিএনপি নেতারা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথাও বলেন। জবাবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সে সময়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। এখন ওই ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই। যদি পরিস্থিতি থাকত তাহলে জনগণ আন্দোলন করত। এখনো প্রয়োজন হলে জনগণ আন্দোলন করবে। পারলে আন্দোলন করেই এই দাবি আদায় করে নেয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেয়া হয় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির নেতারা দাবি তুললে জবাবে ক্ষমতাসীনেরা জানায়, এটি পুরোপুরি আদালতের বিষয়। তবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা গায়েবি রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তদন্ত করে বিবেচনা করার আশ্বাস দেয়া হয়। সংলাপে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে এ প্রস্তাবেও ক্ষমতাসীনেরা কোনো সায় দেয়নি।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা জানান, ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেননি শুধু তার ওপর আস্থা রাখার কথা বলেছেন। নিরপেক্ষ সরকার, সংসদ ভাঙা ও খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনো ফয়সালা না হলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর কী জন্য আস্থা রাখতে হবে, তা এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশ্ন। সঙ্গত কারণে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ দিকে সংলাপের পর থেকে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সংলাপের প্রকৃত বিষয়বস্তু জানতে আগ্রহী ছিল। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতাদের কার কি ভূমিকা ছিল তা-ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছেন অনেকে। নেতারা বলেছেন, সঙ্ঘাত নয়, সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপি শেষ পর্যন্ত সঙ্কট নিরসনের চেষ্টা করেছে এবং করবে। তবে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা না দেখে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন নেতারা।

সূত্রমতে, বিএনপির পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের বেশির ভাগ নেতাও আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষে। তবে দু-তিনজন নেতা আছেন তারা মনে করেন সব দাবি আদায় সম্ভব না হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি এখনো আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব। এ জন্য আলোচনার জন্য আরো কিছু সময় নেয়া যায় কি না তা নিয়ে বিএনপি নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন তারা। জবাবে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ঐক্যফ্রন্টের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীনেরা যে আলোচনা করবে, সেই আলোচনায় কোনো লাভ হবে না। ক্ষমতাসীনেরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যাতে ক্ষমতাসীনেরাই আলোচনার উদ্যোগ নেয়। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের আদ্যোপান্ত নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা গতকাল বৈঠক করেছেন। পরবর্তী করণীয় নিয়ে তারা শলাপরামর্শ করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও জোটের সাথে বৈঠক হতে পারে। লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও সংলাপের বিষয়বস্তু জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে ধরে নিয়েই আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের এরই মধ্যে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

বিএনপির সূত্রমতে, সংলাপ হলেও তা সফল হবে না ধরে নিয়েই দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এবার সংলাপ শেষ হওয়ায় চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণা করা হলে ওইদিন থেকে আন্দোলন শুরু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে দেশব্যাপী দলের সব ইউনিটে বার্তা দেয়া হয়েছে। আন্দোলন সফল করার জন্য প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ঢাকার জনসভা থেকে আন্দোলনের চূড়ান্ত নির্দেশনা আসবে।
৬ নভেম্বর ঢাকায় জনসভা : এ দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৬ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে। গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশের অনুমতি পেলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

রিজভী জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা সফল করতে আজ শনিবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ সভা হবে।
সংলাপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপে সরকারের একতরফা মনোভাব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায়। সরকারের একগুঁয়ে মনোভাব গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অশনি সঙ্কেত। সংলাপে মানুষের মনে যে আশাবাদ জেগেছিল, সংলাপ শেষে সেই আশার মুকুল ঝরে পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা দাবি মেনে না নিলে রাস্তায় নেমেই আদায় করা হবে।

নৈশভোজে অংশ নেননি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা : এ দিকে সংলাপে অংশ নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন বলে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, সেটি সঠিক নয় বলে জানা গেছে। সংলাপে অংশ নেয়া কমপক্ষে পাঁচজন নেতা জানান, জুস, বাদাম, চিপস জাতীয় খাবার পরিবেশন করা হলে, ভদ্রতার খাতিরে তারা সেগুলো গ্রহণ করেছেন। নৈশভোজে তারা অংশ নেননি।
পরপর দু’টি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদে নৈশভোজে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির। পরে ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও তাতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।