সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 657

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিরসরাই সমিতির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

 


নিজস্ব প্রতিনিধি
সংযুক্ত আরব আমিরাত মিরসরাই সমিতির কার্যকরী পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১নভেম্বর বৃহস্পতিবার, রাত ৮ টা, আজমান, মহিন ৩, সভাপতি বাসভবনে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সভাপতিত্ব করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত মিরসরাই সমিতির সভাপতি এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি, ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি ও সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক, মেজবাহ উদ্দিন।

সভায় বক্তব্য দেন মিরসরাই সমিতির সম্মানিত প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ আবুল হাশেম ভূঁইয়া,মিরসরাই সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আলহাজ্জ্ব মাজহার উল্ল্যাহ মিয়া,সংগঠনের সহসভাপতি, সালা উদ্দিন হেলাল, নাজিম উদ্দীন,এনামুল হক নিজামী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আলতাফ,মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন পারভেজ,ব্যাংকার মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আলতাফ, দিপক বাবু,সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম,মনিরুজ্জামান,মোঃ আকাশ রহমান,অর্থ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন,সহ দপ্তর মোঃ ফজলুল করিম, সহ প্রচার সম্পাদক সরওয়ার উদ্দীন রনি,,ত্রীড়া সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক সহ অনেকে।এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এর কার্যকারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ প্রমুখ।

বর্ধিত সভায় মিরসরাই উপজেলা উন্নয়ন কিভাবে করা যায় এ বিষয়ে আলোচনা করেন কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা। পাশাপাশি মিরসরাই সমিতির অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন এবং মিরসরাই সমিতির অবকাঠামো কিভাবে আরো বাড়ানো যায় সেবিষয়েও আলোচনা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মিরসরাই সমিতি সমাজসেবক ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত এ সমিতির সভায় মিরসরাই উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন, গুণগত শিক্ষার প্রসার, সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিমুক্ত করণে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সভায় বিভিন্ন সদস্যর মতামত গৃহীত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিরসরাই সমিতির সম্মানিত সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি বলেন, আমরা দেশ থেকে দূরে আছি, দূরত্বে নয়। আঞ্চলিকতা ঘুচিয়ে এই দূর প্রবাসে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এসে প্রবাসের ব্যয়বহুল জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরির পাশাপাশি সমাজসেবার সংগঠন করি থাকি।


আমাদের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে মেধা-যোগ্যতা ও সততা দিয়ে এখানে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে। আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে সুনাম, আস্থা, তথ্য প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞান নির্ভর কমিউনিটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠুক বাঙালি জাতি। এটা সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরা সবাই সবার জন্য। ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সত্তা ও মতভিন্নতা নিয়ে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষই ভিন্ন মেজাজ মর্জির। তবে, আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের ধর্ম-বিশ্বাস, দল বা মতাদর্শ যাই থাকুক না কেন, আমরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভালোবাসায় আবদ্ধ। মিরসরাই সমিতির মানব সেবার সংগঠন হলেও আমাদের চেষ্টা থাকবে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশি কমিউনিটির যে কোনো গঠনমূলক প্রশংসনীয় উদ্যোগে পাশে থেকে কাজ করার। বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতি, প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এখানকার মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। তিনি মিরসরাই সমিতির সাহায্য তহবিলের প্রতিমাসে এক লক্ষ টাকা অর্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে মিরসরাই সমিতির সবাই সুস্বাস্থ্য,দীর্ঘায়ু ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন ও নৈশভোজ আয়োজন করেন ।

টস জিতে ব্যাটিং নিলো জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সিলেট স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে টসে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। আর প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়ক। ব্যাটিং উইকেট দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

টেস্ট ইতিহাসে আজ যুক্ত হলো সিলেট

বিরাজমান রাজনীতিতে কী হয়, সে শঙ্কা সিলেটেও। আছে সংলাপের লাভ-ক্ষতির আলোচনা। যে টেবিলে শুধুই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার আগের পরিস্থিতি। রাজনীতির এ ঢামাঢোল অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের টেস্ট ম্যাচের উত্তাপ। অন্য সময়ে হলে সিলেটের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ নিয়ে তোলপাড় হতো। যা দেখা গেছে এর আগে শহীদ চান্দু বগুড়া, শেখ নাসের খুলনা, মিরপুর শেরেবাংলা, জহুর আহমেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বা অন্য সব ভেনুতে। সিলেটেও উৎসাহ আছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে অনেকাংশেই মলিন, দেশের প্রবাহমান রাজনীতির ধারায়। তবু থেমে থাকবে না দেশের মানুষের প্রাণের খেলা ক্রিকেট। উৎকণ্ঠার মাঝেও বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের টেস্ট ম্যাচ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। জিম্বাবুয়ের র্যাংকিং কত? তাদের বিপক্ষে ক’দিনে টেস্ট ম্যাচটা জিতে যেতে পারে? সাকিব-তামিমের অবর্তমানে অন্যরা কেমন করবে? এসব প্রশ্নের অবতারণা ও আলোচনা বিদ্যমান। কিন্তু সবার আগে দুশ্চিন্তাটা নিজেদের ঘিরেই। কারণ ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্দান্ত বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে দিনকাল খুব ভালো যাচ্ছে না। শেরেবাংলায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই উন্নতির ধারা ধরে রাখা যায়নি। ওই ম্যাচের পর আর কোনো ম্যাচে জয়ও আসেনি। এরই মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সর্বশেষ দুই ম্যাচে যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে টিম বাংলাদেশ সেটা থেকে কিভাবে নিজেদের উত্তরণ ঘটানো যাবে সেটাই বিষয়। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দুই ম্যাচের সিরিজে ব্যাটিংয়ে যে দুরবস্থা সেটা ভুলে যাওয়ার নয়। চিন্তার বিষয়, ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মধ্যে থেকেও টেস্ট ম্যাচে এন্টিগায় ৪৩ ও ১৪৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ২১৯ রানে এবং জ্যামাইকাতে ১৪৯ ও ১৬৮ রান করে ১৬৬ রানে পরাস্ত হওয়ার ঘটনা কোনো ব্যাকারণেই মেনে নেয়া সম্ভব না। কী হয়েছিল সে দুই ম্যাচের ব্যাটিং, তা আজো রহস্যময়। অথচ এর পরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ এ সিরিজ জয় বাংলাদেশের। প্রশ্নটা এখানেও উঠছে।

তাহলে টেস্ট ম্যাজাজটা কি হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ? ওই টেস্টের পরই যেহেতু সিলেটের নতুন ভেনুর এ ম্যাচ। দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া যায় কিভাবে? জিম্বাবুয়ে দলে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সমারহ। তাদের ক্রিকেটে পুরনো ধারা ফিরিয়ে আনতে দৃঢ়তা নিয়েই মাঠে নেমেছে। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ০-৩ এ হেরেছে বলে কি? টেস্টে কিন্তু বাংলাদেশের দুর্বলতাটা তারা জানে! সব কিছু সহজ এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ বাংলাদেশ দলে নেই নির্ভরযোগ্য দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। এদের ব্যাকআপরা কী করবে সেটাই দেখার বিষয়। এ স্কোয়াডে নতুন মুখ চারজন। সেখান থেকে কে কে খেলবেন সেটা নিশ্চিত হবে আজ সকালে। কাল মাহমুদুল্লাহ জানিয়েছেন, সকালে আরেক দফা উইকেট দেখেই সিদ্ধান্ত হবে। তবে মূল সিদ্ধান্ত নেয়াই। পেসার দুই না তিন এটাই সম্ভবত নিশ্চিত হবে সকালে।

বেশ ক’বছর যাবৎ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট পিছিয়ে পড়েছে। তবু এখনো টেস্ট ম্যাচের জয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে তারা। এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে ১৪ টেস্ট হয়েছে। যার ছয়টিতে জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচ ম্যাচ। তিন ম্যাচ ড্র। এর মধ্যে সর্বশেষ চার ম্যাচে টানা জয় বাংলাদেশের। এর মধ্যে হারারেতে একটি। বাকি তিন ম্যাচ মিরপুর শেরেবাংলা, খুলনা ও চট্টগ্রামে। তবে এটাও ঠিক, শুধু ওয়ানডেই নয়। টেস্টেও বিবর্ণ এখন জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ দলে যতই তারুণ্যের সমাহার ঘটুক না কেন। এরপরও অ্যাডভান্টেজে বাংলাদেশই। জিম্বাবুয়ে হয়তো তাদের অভ্যন্তরীণ নানা কারণে খুবই ধীরালয়ে এগোচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এগোচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি স্পিডে। প্রতিপক্ষ দলে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর, শেন উইলিয়ামস,কাইল জার্ভিসের মতো অভিজ্ঞরা আছেন। বাংলাদেশ স্কোয়াডও অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণে গড়া। তরুণ যারা রয়েছেন, তারাও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেই এসেছেন। তা ছাড়া টিম বাংলাদেশ হোম কন্ডিশনে খেলে দুর্দান্ত ক্রিকেট। ফলে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের চেয়ে নিজেদের নিয়েই ভাবনটা একটু বেশি টিম বাংলাদেশের। কারণ নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করতে পারলে জিম্বাবুয়ে কোনো সমস্যাই নয়।

১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে। দুই দল খেলে প্রথম টেস্ট মেলবোর্নে ১৫ মার্চ ১৮৭৭ এ। সিলেট স্টেডিয়াম হবে বিশ্বের ১১৬তম এবং বাংলাদেশের অষ্টম টেস্ট ভেনু, যা লিপিদ্ধ হবে আজ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের টেস্ট ভেনুগুলো হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, মিরপুর শেরেবাংলা, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা স্টেডিয়াম, এম এ আজিজ, চট্টগ্রাম, জহুর আহমেদ চৌধুরী, বগুড়া শহীদ চান্দু, খুলনা শেখ নাসের। সিলেটে আজ ম্যাচ শুরু হবে সকাল ৯-৩০ মিনিটে।

 

মিরসরাইয়ে বামনসুন্দর স্পোর্টিং ক্লাবের ৬ষ্ঠ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি

জমজমাট ফাইনালের ৬ষ্ঠ আসরে বামনসুন্দর ফুটবল একাডেমীকে ট্রাইবেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পশ্চিম বাড়িয়াখালী যুব জাগরণী ক্রীড়া সংঘ। খেলায় ম্যান অব-দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মো. রাশেল।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) বিকালে মিরসরাই উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের জাফর হাফেজ মাদ্রাসা সংগলগ্ন মাঠে তারা বামনসুন্দর ফুটবল একাডেমীকে ট্রাইবেকারে ১-০ গোলে হারিয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে ইউনিয়নের চারটি দল অংশ গ্রহণ করে।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মানারাত আহম্মেদ বাবু, সদস্য মেজবা উদ্দীন মেজবা, মেজবাউল করিম সোহেল, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক জাফর ইকবাল নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহমেদ আরিফ,কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রুবেল, আওয়ামীল নেতা বাদশা, সার্বিক সহযোগীতায় বসর হাজী,ছাত্রনেতা রাজিব উল হক চৌধুরী, মেজবাহ, নিয়াজ, শহিদ, ইব্রাহীম, মো. কামরুল, প্রমুখ।

সর্বশেষ অতিথিরা বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রপি তুলে দেন।

৪১ বছর বয়সী জেএসসি পরীক্ষার্থী!

 


নিজস্ব প্রতিনিধি
‘লেখা পড়ার বয়স নাই, চলো সবাই স্কুলে যাই’- শিক্ষা গ্রহণের এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে ৪১ বছর বয়সে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চমক দিয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়ার এক শিক্ষার্থী।

অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ বৃহস্পতিবারের শ্রীমতি মাতৃ মঙ্গল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যর সৃষ্টি করেন। জেএসসি পরীক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোটালীপাড়া রামশীল গ্রামের মৃত হরেকৃষ্ণ বাড়ৈর ছেলে। তার মায়ের নাম পবিত্র বাড়ৈ।

পরীক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ জানান, চাকুরীর জন্য অন্তত একটি সার্টিফিকেট দরকার। তাছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিজীবনে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যে বয়সে স্কুলে যাবার কথা ছিল, সে বয়সে পরিবারের দায়িত্ব নেয়ায় স্কুল থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।

তিনি আরো বলেন, যখন বুঝতে পেরেছেন যে, চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকুরীর আবেদন করতেও অন্তত অষ্টম শ্রেণির একটি সনদপত্র দরকার হয়, তখন পড়াশোনা ছাড়া গতি নাই। এই শিক্ষা থেকে তিনি স্কুলে ভর্তি হয়ে নিয়মিত পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বয়স বেশি হলেও পড়ালেখা কোন হাস্যকর ব্যাপার নয় বলেই বিশ্বাস করেন জেএসসি পরীক্ষার্থী হরষিত বাড়ৈ।

এই মূল মন্ত্র ধারণ করে তিনি রাজিহার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে কম্পিউটার এ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি বিষয়ে ভর্তি হয়ে চলমান জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাসের নজর কাড়েন পরীক্ষার্থী হরষিত। পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার যে কোনো বয়স নাই এবং যে কোনো বয়সেই যে লেখাপড়া করা যায় তার অনন্য উদাহরণ শিক্ষার্থী হরষিত। জ্ঞানার্জনের জন্য বয়সের চেয়ে নিজের ইচ্ছা শক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে হরষিত লেখাপড়া করায় বর্তমান সমাজ ও দেশের জন্য এটি একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। হরষিতের নিকট থেকে অনেকেরই শিক্ষা নেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস।

প্রধানমন্ত্রীকে অমর হয়ে থাকার পথ বলে দিলেন ড. কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সভা-সমাবেশের অনুমতি ছাড়া সংলাপে বিশেষ কোনো সমাধান আসেনি বলে জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে গণভবনে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা সংলাপ শেষে রাতে বেইলি রোডে নিজের বাসায় এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা সংলাপ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তবে এর আগে গণভবনে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- ‘১৯৭৩ সালে গণপরিষদ ভেঙে দিয়েই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বঙ্গবন্ধু সংসদের সমাপনী অধিবেশনে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিশ্বের বুকে তারা একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।’

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- এই ঐতিহাসিক সন্ধ্যায় আপনাকে এবং আপনার দল ও জোটের সহকর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি দৃপ্ত অঙ্গিকার করার জন্য, যেখানে আপনি বলেছেন; অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আপনার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। আমরা বিশ্বাস করি, একথায় আমাদের মতো অনেকেই- বিশেষ করে দেশবাসী আশ্বস্ত এবং বিশেষভাবে উৎসাহিত হয়েছেন। আপনি অবগত আছেন যে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত মহান স্বাধীনতার প্রধান লক্ষ্য ছিল, সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সংবিধানের প্রাধান্য’-কে সমুন্নত করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ, সংবিধানের এই ঘোষণার সঙ্গে বাক্-ব্যক্তি, সংবাদপত্র ও সমাবেশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ড. কামাল বলেন, অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই হলো জনগণের মালিকানা নিশ্চিত হওয়া।

তবে আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, গায়েবি ও হয়রানিমূলক হাজার হাজার মামলা দায়ের, নির্যাতন, বিচারবর্হিভূত প্রাণনাশ এবং অন্যান্য বহুবিধ অন্যায় ও অবিচার ঘটে চলেছে। এসব অনতিবিলম্বে বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের আশু ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এটা অন্যতম ও অবিচ্ছেদ্য পূর্বশর্ত। ড. কামাল প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, গণতন্ত্রকে বলা হয় আর্ট অব কম্প্রোমাইজ। বাংলাদেশের বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসে সংলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে সফল না হলেও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় স্বার্থে সমঝোতা বা একটা আপোসমূলক অবস্থায় পৌঁছানোর নজির আমাদের আছে। বিএনপি গোড়াতে না চাইলেও আপনার নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় আন্দোলনের মুখে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার সংবিধানে যুক্ত করেছিল।

আজ আমরা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাবিষয়ক যেসব কারণে এখানে হাজির হয়েছি, সেসব নীতিগত কারণে সাম্প্রতিক অতীতেও আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের সহযোদ্ধা ছিলাম। নির্বাচনকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়া আদায়ের সংগ্রামে ২০০৫ সালের ২২শে নভেম্বরে পল্টনের ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ১১ দল, জাসদ, ন্যাপ নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের যে লিখিত রূপরেখা দিয়েছিল, তার মধ্যকার কিছু মৌলিক বিষয় আজও প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। ড. কামাল বলেন, আপনি সংবিধানসম্মত সমাধানে আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু এটাও আপনার অজানা নয় যে, কোনো বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের দরকার পড়লে তা নিয়ে আলোচনা করাও সংবিধানসম্মত। কারণ সংবিধান সংশোধনের বিধান সংবিধানেরই অংশ।

তবে বিরাজমান পরিস্থিতিতে সংকট থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংবিধানসম্মত একাধিক পথ খোলা আছে বলে আমরা মনে করি। ড. কামাল বলেন, এ প্রসঙ্গে আমরা আমাদের সাত দফার পাশাপাশি ১৩তম সংশোধনী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের আলোকে বিশেষ করে দশম ও একাদশ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করা, নির্বাচনের ৪২ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠনসহ বিভিন্ন নির্দেশনা, ২০১৩ সালে বিরোধী দলকে নির্বাচনী মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানে আপনার প্রস্তাবের প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সংবিধানের ১২৩ (৩) অনুচ্ছেদের খ উপ দফায় সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা এবং সংবিধানের ৫৬ (৪) অনুচ্ছেদে সংসদ ভেঙে যাওয়া এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিধান রয়েছে। সুতরাং সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করা সংবিধানসম্মত এবং তা ওয়েস্টমিনস্টার মডেলের সংসদীয় রীতি মেনে চলা বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অনুশীলনের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ।

বাংলাদেশেও ২০১৪ সালের নির্বাচনটি ব্যতিরেকে এর আগের নয়টি সংসদ নির্বাচন সংসদ ভেঙে দেওয়া অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মৃতিচারণ করে ড. কামাল বলেন, ১৯৭৩ সালে গণপরিষদ ভেঙে দিয়েই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বঙ্গবন্ধু সংসদের সমাপনী অধিবেশনে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিশ্বের বুকে তারা একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামাল বলেন, আমরা মনে করি- আজকের আলোচনায় আপনি আমাদের যথাযথভাবে আশ্বস্ত করলে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ ও তার সামর্থ্য বৃদ্ধিকল্পে সংবিধান সম্মত একাধিক নির্দিষ্ট প্রস্তাব দ্রুততম সময়ে আমরা আপনার সদয় বিবেচনার জন্য পেশ করতে পারব।

রাজনীতির লক্ষ্য হলো দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণ সাধন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও জনগণের শক্তিকেই সবচে বেশি গুরুত্ব দিতেন। আপনিও জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও জনগণের কথা বলতে এসেছি। জনগণ ভোট দেয়ার পরিবেশ চায়, অবাধে ভোট দিতে চায়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল বলেন, আজ (১ নভেম্বর) যুব দিবস। তাই বিশেষভাবে আমাদের এটা মনে রাখতে হবে যে, ইতিমধ্যে মোট ভোটারের অধিকাংশ যুবক। গত এক দশকেই সোয়া দুই কোটি নতুন ভোটার হয়েছে। আমরা তাদের হতাশ করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, পরিশেষে বলবো- দেশ পরিচালনার যে ঐতিহাসিক সুযোগ আপনি পেয়েছেন, সেখানে জাতীয় ঐক্য এবং রিকন্সিলিয়শন বা মেলবন্ধনে কতটা কার্যকর ভূমিকা আপনি রেখে যেতে পারছেন, আগামী দিনের মানুষ যুগযুগ ধরে সেটাই মনে রাখবে। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো রাজনীতিকদের সারাবিশ্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে একটি বিবাদমান ও সংঘাতপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য।

ড. কামাল বলেন, জীবন সায়াহ্নে বঙ্গবন্ধুর একজন ক্ষুদ্র অনুসারী হিসেবে, আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় মেলবন্ধনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনা সম্ভব হলে তার ইতিবাচক প্রভাব জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ সবকিছুর ওপরই পড়বে। বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে আপনি একটি সফল সংলাপের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারেন। আর সেটা সম্ভব হলে আপনার এই উদারনৈতিক অবদানটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড়মাপের নেতাদের মতো আপনাকে অমর করে রাখবে।

এই লক্ষ্য অর্জনে আপনি সম্ভব সবধরনের পদক্ষেপ নিন। জাতির ইতিহাসে আপনার নাম সোনার হরফে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান, প্রস্তাব এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারগুলি আমার অভিজ্ঞ সহকর্মীরা আপনাদের সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপণ করবেন। আপনার ও সহকর্মীদের সবসময়ের মতো আজও শুভ কামনা করে শেষ করছি।

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ তাজমহল মসজিদের খতিব মুরতাজাল হাইয়ের ইন্তেকাল


মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ দক্ষিণ প্রান্তের তাজমহল মসজিদের খতিব মাওলানা মুরতাজাল হাই আর নেই।

তিনি আজ সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহির রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

শুক্রবার বাদ মাগরিব জোরারগঞ্জ ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি কর্মজীবনে জোরারগঞ্জ ইসলামিয়া মাদ্রাসার সুপার, জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড মাওলানা, করেরহাট মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দীর্ঘসময় দায়িত্বপালন করেন। এছাড়া সর্বশেষ তিনি জোরারগঞ্জ তাজমহল মসজিদের খতিব ছিলেন।

বাংলাদেশ এখন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্ব সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত-মিরসরাইয়ে গনপূর্তমন্ত্রী


মিরসরাই প্রতিনিধি
বাংলাদেশ এখন অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্ব সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ারর মোশাররফ হোসেন এমপি।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে উন্নয়য়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি আমাদের মাঝে রয়েছে তা বজায় রাখতে সকলে মিলে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা শুধু আজকের নয়, বাঙালি এই চেতনাকে হাজার বছর ধরে লালন করে আসছে। বাঙালির শারদীয় দূর্গোউৎসব বিশ্বে আজ অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধনে এক সাথে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান হিংস্রতাকে পিছনে পেলে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।
এছাড়াও তিনি মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মহামায়া সেচ প্রকল্প তৈরি, রাস্তাঘাটের স্থানীয় উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিকল্প নেই।


বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ মিরসরাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিজয়া পূর্ণমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুক্রবার (২ নভেম্বর) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মিরসরাই উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজল শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত।
সংবর্ধিত অতিথি বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি বিপুল কান্তি দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক উত্তম কুমার শর্মা, সদস্য সুদর্শন রায়, অনির্বাণ চৌধুরী রাজিব, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র ভিপি নিজাম উদ্দিন, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, সাবেক মেয়র এম শাহজাহান, পৌরসভা আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ-উদ-দ্দৌলা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপুসহ মিরসরাই পূজা উদ্যাপন পরিষদের বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ইভিএম নিয়ে এরশাদও আতঙ্কিত!

নিউজ ডেস্ক..
ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা থাকে দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট যে দাবি দিয়েছে, তা হাসিনার পক্ষে মানা সম্ভব নয়। সে কারণে আমার মনে হয় সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, রংপুর মহানগর সভাপতি ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এরশাদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, মহানগর সেক্রেটারি এস এম ইয়াসির, জেলা যুগ্ম সম্পাদক হাজি আবদুর রাজ্জাক, শাফিউল ইসলাম শাফী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও জেলা যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান নাজিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মেজবাহুল ইসলাম মিলন চৌধুরী, জাতীয় ছাত্রসমাজের মহানগর সভাপতি ইয়াসির আরাফাত, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম ছোট প্রমুখ।

এ সময় ইভিএম প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ইভিএম পরীক্ষিত নয়। ইভিএমকে আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ইভিএমের পক্ষে নই।

এরশাদ আরো বলেন, ঐক্যফ্রন্টে যেসব দল আছে তারা আজ সংলাপে যাবে। আমার মনে হয় সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না। যেসব দাবি তারা দিয়েছেন সে দাবি সরকারের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। তারা হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছেন, হাসিনা কি পদত্যাগ করবেন?

এক দিনের সফরে দুপুরে বিমানে রংপুর আসেন এরশাদ। তার বাড়ি পল্লী নিবাস পুনর্নির্মাণ হওয়ার কারণে তিনি রংপুর পর্যটন মোটেলে রাতযাপন শেষে আজ ঢাকায় ফিরবেন।

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নিউজ ডেস্ক..
কক্সবাজারের টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই দল মাদক কারবারি ও পুলিশের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালীর খুরের মুখ এলাকায় সমুদ্র সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। এই সময় পুলিশের চার সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- সাবরাং সিকদার পাড়া এলাকায় সুলতান আহমদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৬) ও হ্নীলা পূর্ব সিকদার পাড়ার তোফায়েল আহমদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৮)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল মহিউদ্দিন, কনস্টেবল মেহেদি হাসান, কনস্টেবল আবদুস শুক্কুর। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘শুক্রবার ভোরে টেকনাফে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থলে দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও মানব পাচারসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আমরা সমাধান পাইনি : ড. কামাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা করেছি। আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। তিনি (শেখ হাসিনা ) লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কোনও সমাধান পাইনি।’

বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে বেইলি রোডে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট নই, আগেই বলেছি। ঐক্যফ্রন্টের দেয়া কর্মসূচি চলবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দাবি জানিয়েছি। এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর পাইনি।’

আসম আব্দুর রব বলেন, আমাদের ৭ দফার আন্দোলন চলবে।

গনফোরামের নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আজকের সংলাপে ড. কামাল হোসেন সুচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়াও বিএনপি মহাসচিব ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন’।