সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 660

বিপিএলে কে কোন দলে খেলবেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ২০১৯ মৌসুমের নিলাম। এবারের আসরে সরাসরি চুক্তি করার হিসেবে ডেভিড ওয়ার্নার ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের নাম সবচেয়ে বড়। ডেভিড ওয়ার্নারের সাথে চুক্তি করেছে সিলেট সিক্সার্স। এবি ডি ভিলিয়ার্সকে দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
দলগুলো ছয়জন করে ক্রিকেটার আগেই নিশ্চিত করেছে। যাদের মধ্যে চারজনকে আগের মৌসুম থেকে ধরে রাখার সুযোগ ছিল। আরো দুজন ক্রিকেটার যারা আগের মৌসুমে খেলেননি তাদের সাথে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ ছিল। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে বড় নামগুলোর সাথে আগেই চুক্তি থাকায় নিলামের দিন মূলত বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়েছে দলগুলোর মধ্যে।
শহীদ আফ্রিদি খেলবেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন শহিদ আফ্রিদি। তাকে কিনতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে খরচ করতে হয়েছে ২ লাখ ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
নিলামের আগে কেবল মাত্র মুশফিকুর রহিমের দল নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু ড্রাফট শুরুর আগেই চিটাগং ভাইকিংস মুশফিককে দলে নেয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের তৃতীয় সফলতম ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
সিলেট সিক্সার্স আফিফ হোসেনকে দলে নিয়েছে। সৌম্য সরকারকে নিয়েছে রাজশাহী কিংস। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দল চিটাগং ভাইকিংস। আবু হায়দার রনির ঠিকানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জহুরুল ইসলাম ও অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ক্রিকেটার শরিফুল ইসলামকে দলে নিয়েছে খুলনা টাইটানস। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে ছয় বলে ছয়টি ছক্কা হাকানো হজরতুল্লাহ যাযাই যোগ দেবেন
রংপুর রাইডার্স
মাশরাফি বিন মুর্তজা, ক্রিস গেইল, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিঠুন, এবি ডি ভিলিয়ার্স, অ্যালেক্স হেইলস, শফিউল ইসলাম, সোহাগ গাজী, ফরহাদ রেজা, মেহেদি মারুফ, রবি বোপারা, রাইলি রুশো, নাহিদুল ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী, আবুল হোসেন রাজু, ফারদিন হোসেন অনি, বেনি হাওয়েল, ওশানে থমাস।
ঢাকা ডায়নামাইটস
সাকিব আল হাসান, সুনিল নারাইন, রোভম্যান পাওয়েল, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, হজরতউল্লাহ জাজাই, শুভাগত হোম, রনি তালুকদার, নুরুল হাসান সোহান, রুবেল হোসেন, অ্যান্ড্র বার্জ, ইয়ান বেল, কাজী অনিক, মিজানুর রহমান, আসিফ হাসান, শাহাদাত হোসেন রাজীব, নাইম শেখ।
রাজশাহী কিংস
মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, জাকির হাসান, কায়েস আহমেদ, ক্রিস্টিয়ান জাঙ্কার, আলাউদ্দিন বাবু, আরাফাত সানি, ফজলে রাব্বি, সৌম্য সরকার, ইসুরু উদানা, লরি ইভেনস, মার্শাল আইয়ুব, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রাহায় টেন ডেসকাট, সেকুগে প্রশন্ন, মোহাম্মদ সামি।
সিলেট সিক্সার্স
নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, লিটন দাস, সোহেল তানভির, ডেভিড ওয়ার্নার, সন্দীপ লামিচানে, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ আল আমিন হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, মোহাম্মদ ইরফান, নাবিল সামাদ, এবাদত হোসেন, অলক কাপালি, জাকির আলী, গুলবাদিন নাইব, আন্দ্রে ফ্লেচার, মেহেদি হাসান রানা, প্যাট ব্রাউন, নিকোলাস পুরান।
খুলনা টাইটানস
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ডেভিড মালান, আলী খান, মোহাম্মদ আল আমিন, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম অমি, জহির খান, সেলফেইন রাদারাফোর্ড, শুভাশিষ রায়, জুনায়েদ সিদ্দিকী, তানভীর ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, ব্রেন্ডন টেলর।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস
তামিম ইকবাল, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, অ্যাসেলা গুনারত্নে, লিয়াম ডসন, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক বিজয়, মেহেদি হাসান, জিয়া-উর রহমান,  থিসারা পেরেরা, মোশরারফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ শহীদ, শামসুর রহমান শুভ, সঞ্জিত সাহা, এভিন লুইস, ওয়াকার সালমা খাই, আমের ইয়ামিন।
চিটাগং ভাইকিংস
সিকান্দার রাজা, লুক রনকি, মুশফিকুর রহীম, নজিবুল্লাহ জাদরান, সানজামুল ইসলাম, রবি ফ্রাইলিংক, নাঈম হাসান, সৈয়দ খালেদ, আহমেদ আবু যায়েদ রাহি, মোসাদ্দে হোসেন সৈকত, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, দাসুন সানাকা, মোহাম্মদ আশরাফুল, রবিউল হক, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, নিহাদুজ্জামান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সাদমান ইসলাম।

 

 

পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘন্টার অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

::মিরসরাই প্রতিনিধি::

রোববার (২৮ অক্টােবর) সকাল থেকেই চলছেনা চার চাকার যানবাহন। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে সরকারি-বেসরকারি চাকজীবীরা চট্টগ্রাম শহরে আসার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে কোন গাড়ি না পাওয়ায় অনেকে বাড়িতে ফিরে গেছে।

উপজেলা কেন্দ্রীক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবিদের পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে ভাড়া গুনতে হয়েছে তিন থেকে চার গুন বেশি।

সরকারি চাকরিজীবী রাশেদুল হাসান জানান, সকাল ৮ টা থেকে মিঠাছরা বাইপাসে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। দশটা পর্যন্ত গণপরিবহনের কোন বাস চোখে পড়েনি। দূরপাল্লার কয়েকটি বাস চট্টগ্রাম অভিমুখে চললে ও সেগুলো স্থানীয় যাত্রীদের বহন করেনি।

রাশেদুল হাসান জানান, সকাল দশটার পর থেকে চারবার গাড়ি পরিবর্তন করে দুপুর সাড়ে বারটায় এ কে খান পর্যন্ত পৌঁছি। এ কে খান এসেও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। যেখানে একশ টাকায় মিঠাছরা থেকে আগ্রাবাদ পৌঁছানো যায় সেখানে আজ চট্টগ্রাম আসতে খরচ হয়েছে সাড়ে তিনশ টাকা।

চট্টগ্রাম অভিমুখী একাধিক চাকরিজীবী এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে চট্টগ্রামে ধর্মঘট কিছুটা শিথিল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সেই ভরসায় অনেকেই সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দেয়ার সিন্ধান্ত নেন। কিন্তু রাস্তায় এসে দেখেন পরিস্থিত উল্টাে। মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, টেম্পু এবং হিউম্যান হলারগুলো তিন থেকে চারগুন ভাড়া নিচ্ছে। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে এসব গাড়িতে করে গন্তব‌্যে আসেন।

সরেজমিনে গিয়ে বারইয়ারহাট বাসষ্ট্যান্ডে দেখা গেছে, সকাল থেকে কোন ধরনের বাস ছেড়ে যায়নি। দুএকটি গাড়ি উত্তর দিক চট্টগ্রামের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের বাঁধার কারণে গাড়ি বন্ধ করে দিকে বাধ্য হয়।

নিজামপুরে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী বলেন, এর আগে অনেক ধর্মধট দেখেছি। আজকের মতো এমন কঠিন ধর্মঘট আগে দেখিনি। সড়ক একেবারেই ফাঁকা। তিনি সীতাকুণ্ড থেকে চারবার হিউম্যান হলার পরিবর্তন করে নিজামপুর পর্যন্ত এসেছেন। কিছু পথ পায়ে হেটেছেন। গন্তব্য জোরারগঞ্জে কবে নাগাদ পৌঁছাতে পারবেন সেই দুঃশ্চিন্তায় আছেন।

প্রাইভেট কার চালক রফিক উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক ভয়ে ভয়ে বারইয়ারহাট থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। ভাটিয়ারি থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। অতিরিক্ত ভাড়া কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীরাতো আপত্তি করছে না। গন্তব্যে যেতে পারছেন এতেই তারা খুশি।

মিরসরাইয়ের দূরপাল্লার বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজ ( রবিবার) সকাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চট্টগ্রাম থেকে চলাচল করছে না। ৪৮ ঘন্টার টানা পরিবহন ধর্মঘট চলার কারণে বন্ধ আছে দূরপাল্লার বাসগুলো। এদিকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী কোন ট্রাক, লরিও চলাচল করতে দেখা যায়নি।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, শ্রমিক সংগঠনের ডাকে অবরোধে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমার টিম দায়িত্ব পালন করছেন। মহাসড়কের মিঠাছড়া, জোরারগঞ্জ, সোনাপাহাড়, ও বারইয়ারহাটে দায়িত্ব পালন করেছে।

মিরসরাইয়ে চুরি যাওয়া ৫৪টি মোবাইল সেট সরঞ্জাম সহ আটক ১


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌর বাজারের জমিদার প্লাজার নাজমা মোবাইল গার্ডেন থেকে চুরি যাওয়া ৫৪টি মোবাইল সেট ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সহ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। রবিবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত চোরের নাম মোঃ নাজমুল হক পলাশ (২৮)। সে জোরারগঞ্জ থানার ধুম এলাকার মৃত উবায়দুল হকের ছেলে।


জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবেদ আলী জানান, গত ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর যে কোন সময় বারইয়ারহাট জমিদার প্লাজার ২য় তলায় অবস্থিত নাজমা মোবাইল গার্ডেনে চুরির ঘটনা ঘটে। দোকান থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর ৫৪টি মোবাইল,পেন ড্রাইভ সহ মোবাইল সামগ্রী ও নগদ টাকা চুরি হয়। ওই চুরির বিষয়ে দোকানের মালিক মোঃ নাজমুল আলম রনি বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের দায়ের করেন (নং-৩০,তারিখ-২৮/১০/২০১৮)। মামলার তদন্তকারী পি এস আই মোঃ আলমগীর হোসাইন মামলাটি তদন্তকালে ঘটনার সহিত জড়িত চোর মোঃ নাজমুল হক পলাশ (২৮) গ্রেপ্তার করেন। তাার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে চোরাই যাওয়া ৫৪ টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন ৯ টি পেন ড্রাইভ এবং নগদ ১০ হাজার টাকা তারিখ উদ্ধার করা হয়।

শাহ সূফী নূর মুহাম্মদ নিজামপুরী (রঃ) বার্ষিক মাহফিল আজ

নিউজ ডেস্ক..
আজ ২৮অক্টোবর, রোজ রবিবার হাদিয়ে দ্বীন ও মিলাত মুরশেদে আজম গাজিয়ে বালাকোট হযরত শাহ সুফি নূর মুহাম্মদ নিজামপুরি (রঃ) এর ইছালে ছাওয়াব ও বার্ষিক মাহফিল।

সকাল ৭টা হতে খতমে কুরআনে করিম, খতমে তাহলীল ও অন্যান্য খতমাত। বাদ জোহর ওয়াজ নছিহত ও জীবনীর উপর আলোচনা। বাদ মাগরিব জিকির আজকার, মিলাদ শরীফ ও আখেরী মুনাজাত এবং বাদ এশা তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হবে।

বালাকোট যুদ্ধের গাজী হজরত শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী রহ: একজন নন্দিত সাধক পুরুষ। সমসাময়িক সমাজব্যবস্থায় রেসালাতে মোহাম্মদ সা:-এর আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের তিনি বালাকোটের প্রান্তরে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে গাজী উপাধিতে ভূষিত হন এবং মুসলিম পুনর্জাগরণ ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে গেছেন।

বি.দ্র:: কেহ যদি তাবরুকে শরীক হতে ইচ্ছা রাখেন রশিদের মাধ্যমে শরীক হতে পারেন।

আজ রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর

 


নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন ১৩ জন। রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছয়জন এবং ছাত্রমৈত্রীর একজন কর্মী প্রাণ হারান। লগি-বৈঠার নির্মম প্রহার, গুলি আর ইটপাটকেলের আঘাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় নিহত হন ছয়জন। ওই দিন প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যার পরে লাশের ওপর নৃত্য করা হয়, যা সারা বিশ্বের মানুষকে হতভম্ব করেছে। এই ঘটনায় পল্টন ও শাহবাগ থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়। পল্টন থানায় দায়েরকৃত পাল্টাপাল্টি দু’টি মামলার একটি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই প্রত্যাহার করা হয়। ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সব মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আসামি ছিলেন। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের আসামি করে যে মামলাটি হয়েছিল তা উচ্চ আদালত স্থগিত করে রেখেছেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হতাহতের ঘটনা ঘটে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আহূত অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে। ওই দিন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে রাস্তায় মহড়া দিতে দেখা যায় পেশাদার সন্ত্রাসীদের।

ওই দিন জামায়াত-শিবিরের নিহত নেতাকর্মীরা হলেন মোজাহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন (১), জসিম উদ্দিন (২), গোলাম কিবরিয়া শিপন, ফয়সাল ও হাবিবুর রহমান। প্রকাশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষের সামনে এদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পরে দুর্বৃত্তদের লাশের ওপরে উঠে নাচতে দেখা যায়। জামায়াতের আহত অপর একজন সাইফুল্লাহ মো: মাসুম ঘটনার দু’দিন পর হাসপাতালে মারা যান। একই সময় পল্টন মোড়ে নিহত হন ছাত্র মৈত্রীর খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান। সহিংস ঘটনায় পল্টন ও এর আশপাশের এলাকাতেই আহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা করেন পল্টন থানা জামায়াতের তৎকালীন আমির এ টি এম সিরাজুল হক। মামলা নং ৬১, তারিখ ২৯.১০.২০০৬। এ মামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মো: নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননসহ ৪০ জন এজাহার নামীয় আসামিসহ সহস্রাধিক আসামি করা হয়। আহত মাসুম মারা যাওয়ার পরে ৩ নভেম্বর আর একটি সম্পূরক এজাহার দাখিল করা হয়। এই এজাহারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৩ জন এজাহারনামীয়সহ দুই শতাধিক লোককে আসামি করা হয়। এ অভিযোগটি করেন মাসুমের ভাই মো: শামসুল আলম মাহবুব। অপর দিকে, ছাত্রমৈত্রীর রাসেল খান নিহতের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার বাদি হয়েছেন ওই সময়ের ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান। মামলা নম্বর ৬২(১০)২০০৬। এই মামলায় ৬১ নম্বর মামলার বাদি সিরাজুল হককেও আসামি করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন থানায় আরো তিনটি এবং শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়।

পল্টন থানায় দায়েরকৃত ৬১ নম্বর মামলায় ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল ৪৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হয়। চার্জশিট নম্বর ১৪৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩২৩/ ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪ দণ্ডবিধি। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয় তারা হলেন- আব্দুল জলিল, নাসিম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাহারা খাতুন, হাজী সেলিম, ডা: এইচ বি এম ইকবাল, আব্দুস সালাম ওরফে সেলিম, সবুজ, আলী, মনা, রতন, আবুল, বাবু ওরফে নাজির আহম্মদ, জাকির ওরফে জাকির হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দিন খোকন, সুলতান মিয়া, আবুল কাশেম, আলমগীর ওরফে গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, নওসের আলী, আব্দুল লতিফ ওরফে ক্ষ্যাপা, মো: জাকির হোসেন, শাহরিয়ার ওরফে সোহেল শাহরিয়ার, শাহাবুদ্দিন কিরণ, জাহাঙ্গীর হায়দার চৌধুরী, আশরাফ হোসেন, টিটু, ওমর ফারুক, শেখ হাসিনা, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সিদ্দিক নাজমুল আলম, রাসেল, মজিবুর রহমান মাইজ্জা, বেলায়েত হোসেন, আবু সাঈদ, বশির আহম্মদ, কিরণ ওরফে আব্দুল মালেক, শাহরিয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী, মোস্তাকিম বিল্লাহ, মুকুল, রায় মোহন শীল ও সুমন।

এই চার্জশিট ২০০৭ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে গৃহীত হয় এবং আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে পরোয়ানা মূলতবি করা হয়। ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতা গ্রহণের পরে ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট এই মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। অপর দিকে কামরুল আহসানের দায়েরকৃত মামলায় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ মে এই মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়নি। উচ্চ আদালতে এই মামলাটি কোয়াশমেন্টের আবেদন করা হলে আদালত মামলাটি স্থগিত করেন।

সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে শোচনীয় হার ভারতের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

৫৫ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের যখন তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটেছিল, তখন খেলা কোন দিকে যাচ্ছে, তা অনেকেই হয়তো বুঝে ফেলেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা। নইলে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিনা শেষ পর্যন্ত করে ৯ উইকেটে ২৮৩ রান। কিন্তু বিরাট কোহলির ভারতের সামনে এটি কি বড় কোনো চ্যালেঞ্জ? কোহলি নিজেই তো এই ম্যাচেও সেঞ্চুরি করে বসলেন। কিন্তু না, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেই শোচনীয়ভাবে হারতে হলো ভারতকে। ৪৩ রানে জিতে ৫ ম্যাচ সিরিজে ১-১-এ সমতা ফেরাল সফরকারীরা। প্রথম ম্যাচে ভারত জিতেছিল। নাটকীয়তায় ভরা দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়েছিল টাই। আর শনিবার পুনেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যাচে জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন হোপ। তিনি ৯৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দেন।
জবাবে ভারতও ভালোভাবে শুরু করে। বিশেষ করে কোহলির সেঞ্চুরির (১০৭ রান) কারণে এই ম্যাচে ভারতের হারার কোনো কারণই হয়তো ছিল না। কিন্তু সব হিসাব উল্টে দেয় ক্যারিবিয়ান ফিল্ডাররা। তারা ২৪০ রানেই ভারতকে অল-আউট করে দেয়।

সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক! ফের রেকর্ড বইয়ে বিরাট
কঙ্ক্ষিত সিঙ্গল নেয়ার পর খালি একবার ড্রেসিং রুমের দিকে তাকিয়ে ব্যাটটা তোলা। ফের মন দেয়া ব্যাটিংয়ে। কোনো সেলিব্রেশন নেই। নেই কোনও উচ্ছ্বাস। ‘এখননোঅনেক কাজ বাকি।’ এটাই এখন বিরাটের মানসিকতা। দামোদর শেঠের মতো অল্পেতে খুশি নন ভারতীয় অধিনায়ক। হয়তো তার মনে তখনই পরাজয়ের আশঙ্কা উঁকি দিয়েছিল। তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন, আর দল গেছে হেরে।

তবে মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের কাজটা নিষ্ঠার সঙ্গে করলে কী হতে পারে তা বারবার দেখাচ্ছেন বিরাট। ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট। এই পুরনো ইংরেজি প্রবাদটা বিরাটের জন্য পাল্টে যাচ্ছে প্রতি দিন। তার জন্য ক্লাসও পারমানেন্ট, ফর্মও। গত তিন-চার বছরে তার রেকর্ডের দিকে তাকালেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি রেকর্ড। পর পর তিনটি একদিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে এবিডি, জাহির আব্বাস, সাইদ আনোয়ারদের সঙ্গে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলেন বিরাট। প্রথম ভারতীয় হিসাবে।

এমনিতে একদিনের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের বেশিরভাগ রেকর্ড ভারতীয়দের দখলে। প্রথম ২০০ রান, সবচেয়ে বেশি ২০০ রান, ব্যক্তিগত সবচেয়ে বেশি রান, এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান ইত্যাদি ইত্যাদি। তালিকাটা বেশ লম্বা। আশ্চর্যজনক ভাবে পর পর তিনটি সেঞ্চুরির তালিকায় এত দিন কোনো ভারতীয় ব্যাটম্যান ছিলেন না। আপাতত বিরাট যে ভাবে খেলছেন, তাতে এই রেকর্ড নতুন করে লিখতে হতে পারে। পর পর ৪টি সেঞ্চুরি করে একেবারে শীর্ষে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সঙ্গকারা। কে বলতে পারে, সেটা হয়তো আগামী সপ্তাহেই টপকে যেতে পারেন বিরাট। সিরিজে এখনও ২টি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

মিরসরাইয়ে মাওলানা শাহ বেলায়েত হোসাইনের স্মরণ সভা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার বিশুমিয়ারহাট নূরীয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক মাওলানা শাহ বেলায়েত হোসাইনের স্মরণে জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা ও স্মরণ সভা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৭ অক্টোবর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক নাসির উদ্দিন দিদার।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি একসময়ের অবহেলিত মাদ্রাসা শিক্ষাকে কিভাবে আরো বেগবান করা যায় সে লক্ষ্যে নিরন্তন প্রচেষ্টার ফলাফল কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে স্বীকৃতি প্রদান করা।
তিনি আরো বলেন, একশেণীর ধর্ম ব্যবসায়ীরা রয়েছে যারা ধর্ম সম্পর্কে, কোরআন সম্পর্কে মানুষকে ভুল ব্যাখা দেয়; তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। প্রত্যেক মুসলমান ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে ইহকাল ও পরকালে শান্তি পাবে।
এসময় প্রধান আলোচক ছিলেন ফেনী ওলামাবাজার দারুল উলুম হোসাইনিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন প্রমুখ। প্রবন্ধ পাঠ করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী। বিশুমিয়ারহাট নূরীয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতী মুহিউদ্দীন আকবর আলীর সভাপতিত্বে এসময় ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ছিলেন আবুরহাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল হুদা, জামালপুর আজিজিয়া হাফিজুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মকসুদ আহমদ, নয়দুয়ারিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফজলুল হক, মৌলভী রফিক উল্ল্যাহ, ব্যবসায়ী নুরুল আলম প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা

মিরসরাই প্রতিনিধি


মিরসরাইয়ে ছাত্রদল নেতাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা। শনিবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্রগ্রাম বিভাগীয় জনসভা শেষে বাড়ী ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খায়ের ভুঁইয়ার বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দাউদ পিতা আবু বক্কর ,৭ নং কাটছড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ শাহাদাত পিতা মৃত আব্দুল মন্নান,মোঃ সাহাদাত হোসেন পিতা নেজাম উদ্দীন যুগ্ন আহ্বায়ক আহত হন। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা শেষে বাড়ী ফেরার ফেরার পথে রাত ৮টার সময় উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খায়ের ভুঁইয়ার বাড়ীর সামনে এলাকার চিহৃিত সন্রাসীরা ছাত্রদল নেতাদের বহনকারী মাইক্রো থামিয়ে তাদের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় এতে গাড়ীর চালকসহ ছাত্রদল নেতারা মারাত্মকভাবে আহত হন
। একপর্যায়ে আশাপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান । ছাত্রদল নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  নুরুল আমিন,বারইয়ার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর,গাজী নিজাম, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মেম্বার,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন,উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফোরকান উদ্দীন চৌধুরীর, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম উদ্দীন,৭নং কাটাছড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক,সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো , ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন সিদ্দিকী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশঃ জনগনই সকল ক্ষমতার মালিক, জনগনের আবারো বিজয় হবে- ড. কামাল হোসেন

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগন যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে। এবারও জনগনের বিজয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগনই ক্ষমতার মালিক। তিনি বলেন, জনগন সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। আজকে জনগণ ৭ দফার পক্ষে হাত উঠিয়ে গণরায় দিয়েছে। সিলেটেও গণরায় দিয়েছে। কাজেই সময় থাকতে ৭ দফা দাবি মেনে নিন। অন্যথায় অমান্য করার জন্য বিচার হবে, এর যে শাস্তি হবে তা অকল্পনীয়।

তিনি বলেন, দেশে এখন প্রতিদিনই জনগনের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, সংবিধান লংঘন করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বছর কাটিয়ে দেয়া হল, এটা গুরুতর অপরাধ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর পর হতে প্রতিনিয়ত সংবিধান লংঘনের কৈফিয়ত এদেশের জনগন নেবে, এর জন্য শাস্তি পেতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়ার প্রতি ঘন্টার জন্য জবাদিহি করতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদ ভেঙ্গে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রামে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

শনিবার দুপুরে নূর আহমেদ সড়কে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে এই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জে এস ডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ডঃ খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহেম্মদ, গণফোরামের সদস্য সচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু, গণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্য আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোঃ মনছুর, কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব:) সৈয়দ মোঃ ইব্রাহিম, গণ ফোরামের নির্বাহী সভাপতি এড সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্য সদস্য সচিব মোস্তফা আমিন, এলডিপি মহাসচিব ডঃ রেদোয়ান আহম্মেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোঃ শাজহাজান, মীর মোঃ নাছির উদ্দীন, তানিয়া রব। বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, ডঃ সুকোমল বডুয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, ফজলুল হক ফজু, গণ ফোরাম কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আ হ ম শফিউল্লাহ, সহ সভাপতি জগলুল হায়দার আফ্রীদি, ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, জেএসডি কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দীন শপন, খায়রুল কবির খোকন, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন, গোলাম জিলানী চৌঃ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, শাহাদাত হোসেন সেলিম, লুৎফর রহমান কাজল, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, আবু সুফিয়ান, নুরী আরা সাফা, জাফরুল ইসলাম চৌ, সোহরাব হোসেন, শাহজান চৌ, ম্যা মা চিং, গাজী শাহজান জুয়েল, এড. জানে আলম, মো শাহ আলম, রেহেনা আকতার রানু, চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ারবেলায়েত হোসেন ও মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্ত) নুরুল আমিন। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম। দুপুর ১ টার আগেই মূল সমাবেশ শুরু হয়।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সংবিধানে লেখা আছে জনগণ ক্ষমতার মালিক, সরকার সেবক মাত্র। তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল লালদীঘি মাঠে। জনসভা করা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, লালদীঘি মাঠ না দিয়ে মানুষকে কষ্ঠ দেয়ার কৈফিয়ত আদায় করা হবে। এর জন্য শাস্তি পেতে হবে।

বাংলাদেশ কারো একক সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষ এদেশের মালিক। আজ হোক কাল হোক সীমিত জায়গায় সভা করতে বাধ্য করে মানুষকে কষ্ট দেয়ার বিরুদ্ধে বেঁচে থাকলে মামলা করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান। জনসভা করতে কারো দয়া মায়া চাইনা মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার। সরকারে যারা আছেন তারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও এখন সকাল-বিকাল সংবিধান লংঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য শাস্তি পেতে হবে।

প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার নিজেরাই নাশকতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার পর পরই আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এর মাধ্যমে দেশকে অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দেয়া হল। নেত্রীর সেই কথাই আজ সত্যি প্রমানিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জনগন এখন নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই করছে। আগামী নির্বাচনে জনগন ভোট দিতে পারলে ভাঙ্গা নৌকায় আর উঠবেনা। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগনকে আটকে রেখে কোন স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করবনা, আমরা পরাজিত হবনা। ৭ দফা দাবি আদায় করে, জনগনের ভোটের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব। মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনকে জাতির সামনে একজন অভিভাবক, বিবেক হিসেবে মন্তব্য করেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবেনা, বাংলাদেশ ঘেরাও করতে হবে। স্বৈরাচার যাতে পালাতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা বিচারে পালাতে দেবনা, পালাবার রাস্তা নাই। তিনি বলেন, ৭ দফা মেনে না নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করলে বলবো সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেননা। পুলিশ আর বেশিক্ষন সরকারের পাশে নাই। খালেদা জিয়াকে নি:সঙ্গ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন, এজন্য ক্ষমা নাই। মামলা হামলায় কাজ হবেনা, ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে, জনতার কাছে আত্মসমর্পন করতে হবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা গণতন্ত্র আজ আওয়ামী বাক্সে বন্দী। চট্টগ্রামের সমাবেশে সরকার পদে পদে বাধা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিছিল আসতে দিচ্ছেনা, সড়কে দাঁড়াতে দিচ্ছেনা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে, তবুও জনতার স্রোত নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই চট্টগ্রাম থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি পুলিশ প্রশাসনকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আজকে আওয়ামীলীগ যা করেনি, আপনারা তা করেছেন। মনে রাখবেন আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, হুশিয়ার হয়ে যান। সরকারের বেআইনী হুকুম না মেনে জনগনের পাশে দাড়ান।
ব্যারিষ্টার মওদুদ বলেন, সরকার কোন ভাবেই চাইবেনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করা হবে। নির্বাচনের আগে যাতে সরকারের অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা প্রকাশ করা না যায় সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মওদুদ বলেন, আমরা সকলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এই ঐক্যেই স্বৈরাচারের পতন আনবে, গনতন্ত্র ফিরে আসবে। আওয়ামী লীগকে একটি অসহিষ্ণু স্বৈরাচারী দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই আচরণের কারণে জনগন ভোটের অধিকার হারিয়েছে, আইনের শাসন হারিয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীনতা হারিয়েছে এবং সর্বোপরি গণমাধ্যম স্বাধীনতা হারিয়েছে।

মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা শুধুই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, কোন অধিকার কেউ দেয়না, আদায় করে নিতে হয়। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জাতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না, তা দেশকে অন্ধকারে নিয়ে যাবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ খালেদা জিয়াকে জনমানবহীন কারাগারে রেখে দেয়া কোন ধরনের মানসিকতা? গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেয়া জায়গায় আহত মুক্তিযোদ্ধা নিজের সব কিছু ত্যাগ করে গনস্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে জনগনের সেবা করে আসছিলেন, আর সে প্রতিষ্ঠানে কুকুরদের লেলিয়ে দিয়ে ধবংশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধূরী বলেন, বর্তমান সরকার পাকিস্তানিদের চাইতে খারাপভাবে দেশ শাসন করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়াকেও এখন ভয় পান মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনি জনতাকে ভয় পাবেননা। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা আইনজ্ঞ, আইনের মানুষ। তাই খালেদা জিয়াকে যেভাবে হেনস্থা করছেন, তার পূনরাবৃত্তি হবেনা এই নিশ্চয়তা আছে। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, তাকে নিয়েও কটুক্তি করা হয়। মাওলানা ভাসানীর জন্ম না হলে শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু হতেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আর মাত্র ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কি হয়। বিজয় নিশ্চিত।

মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমাদের একটাই শ্লোগান তুমি যাও, ভোট দাও, ক্ষমতা ছাড়। তিনি বলেন, আমরা এই সরকারের পতন চাই, গনতন্ত্র রক্ষা করতে চাই। তিনি বলেন, জনগনের জয় হবে, ঠেকানোর কোন শক্তি নাই। ৭৩ বছর বয়সেও একজন ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় অন্যায়ভাবে, জবরদস্তি মূলকভাবে মিথ্যা মামলায় নির্জন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে আটকে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা
# অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

# গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

# বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

# কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

# নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্য্ন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

# নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোট কেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনাস্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর ওপর কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ না করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

# তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এদিকে জনসভায় আসতে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপি’র পক্ষ হতে। তাছাড়া নগরীর নাসিমন ভবনের সম্মুখ সড়কের আউটার স্টেডিয়াম প্রান্তে ফুটপাতের উপরও পুলিশ কাউকে দাঁড়াতে দেয়নি। ব্যাপক জনসমাগম হলেও নির্দিষ্টস্থানের বাইরে মাইক টাঙ্গাতে বাধা দেয়ার কারনে কাজির দেউরী বাজার, ভিআইপি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় দাড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক লোক জাতীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনতে পারেননি বলেও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন।

‘৭ দফা অমান্য করলে বিচার হবে’ ড: কামাল হোসেন

‘৭ দফা অমান্য করলে বিচার হবে’ ড: কামাল হোসেন
ছবি : সংগৃহীত 
সরকারের উদ্দেশ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সময় থাকতে ৭ দফা মেনে নিন। ৭ দফা অমান্য করলে বিচার হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভবকে সম্ভব করে। কীভাবে ক্ষমতায় আছেন তার জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, জনগণ সংবিধানের মালিক।
আজ শনিবার চট্টগ্রামে কাজীর দেউরি এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নূর আহমেদ সড়কের সামনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষ আজ নিরাপদে নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি।
ওই নির্বাচন সংবিধানবিরোধী হয়েছে। তাই এবার সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষে সাত দফা আদায় না হলে ঐক্যফ্রন্ট ঘরে ফিরবে না।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, যারা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, অপরাধ করে তারা মনে করে, পার তো পেয়ে গেছি। এখন কে আমাদের বিচার করবে? ইনশাআল্লাহ, এবার ন্যূনতম যেটা আমাদের দাবি, সাত দফা এগুলো সময় থাকতে মেনে নিন। এটা অমান্য করলে বিচার হবে। ২০১৪ সাল থেকে সংবিধান লঙ্ঘন করার জবাবদিহিতা, সেটাও জনগণ আদায় করবে বলে জানান তিনি।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, যারা ক্ষমতা আকড়িয়ে বসে আছে আজকে তাদরেকে জানিয়ে দিন, হাত উঁচু করে বলুন, আপনারা সাত দফার পক্ষে আছেন কি না। আপনারা রায় দিয়েছেন, এখানেও গণরায় হয়ে গেছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, এরপর আমরা রাজশাহীতে যাবো, শেষে ঢাকায় এটাকে আমরা সম্পন্ন করবো। এবার জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আপনারা জেনে রাখুন, এই চিটাগং থেকে জনসভা করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অর্থাৎ এটা অসম্ভব না। এটা সম্ভব।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ভয় পেয়েছে। যে কারণে কাউকে সমাবেশ করতে দেয় না।
প্রশাসনের প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশ লালদিঘীর ময়দানে হবার কথা ছিল। প্রশাসন সরকারকে সমর্থন করেছে। আমাদের সমাবেশে পদে পদে বাধা দেয়া হয়েছে। তারপরেও জনস্রোত হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
তিনি আরো বলেন, মামলা অনেকে হয়েছে, ভৌতিক মামলা অনেক দিয়েছে। কিন্তু সাত দফা দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।
তিনি বলেন, সরকার নিজেরা নাশকতা-সহিংসতা করে। তারপর বিরোধীদলের ওপর দোষ দেয়। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না। আমরা ৭ দফা দাবি আদায় করে তবেই ফিরব।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার সবসময় বলার চেষ্টা করছে তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, তোমাদের অধীনে নির্বাচন হবে না। মান্না বলেন, ‘গদি ছাড়তে হবে, ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে। আর যদি তা না হয়, তবে কীভাবে গদি থেকে নামাতে হয় তা জানি।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। এটা তাজউদ্দীনের আওয়ামী লীগ নয়। এটা লুটপাটের আওয়ামী লীগ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করি। গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য করেছি। এ ঐক্য ক্ষমতার ঐক্য নয়, জনতার ঐক্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় পাচ্ছে কেন? উন্নয়ন হয়ে থাকলে মানুষকে এত ভয় কেন! তাহলে বুঝতে হবে, ডাল ম্যা কুচ কালা হ্যায়।’
জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই এ সরকারের পতন চাই। আমাদের ঐক্য আছে, ঐক্য থাকবে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ছাড়া সবাই এই ঐক্যে শামিল হবেন।’
এর আগে বেলা ১২টা থেকে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এতে মঞ্চের একপাশের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আরেকপাশের রাস্তা বন্ধ না থাকলেও যানবাহন চলাচল করছে না।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিকাল তিনটার দিকে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টা থেকে ঐক্যফ্রন্টের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। এরপর মঞ্চে একে একে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত হন।
দুপুর আড়াইটার দিকে মঞ্চে উপস্থিত হন প্রধান অতিথি গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এরপর আসেন সমাবেশের প্রধান বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদূদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা।