রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 663

মিরসরাইয়ে সুপ্ত প্রতিভা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত


::মিরসরাই প্রতিনিধি::
মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুপ্ত প্রতিভার মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৃত্তি প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ৯ টায় করেরহাট কে এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, বারইয়ারহাট কিন্ডার গার্ডেন কেন্দ্র, ও বড়তাকিয়া জাহিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, মিরসরাই সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সভাপতি আশরাফ উদ্দিন সোহেল, করেরহাট স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন, করেরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হোসেন, সাংবাদিক মোহাম্মদ রিগান উদ্দিন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, সুপ্ত প্রতিভার সাধারণ সম্পাদক শামীম ওসমান প্রমুখ।

বিকল্পধারা থেকেই বি. চৌধুরী-মান্নান-মাহিকে বহিষ্কার!

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটের আগে জোটের রাজনীতির ফাঁদে পড়ে দ্বিখণ্ডিত হতে চলেছে বি চৌধুরী-মান্নানের গড়া দল বিকল্পধারা। দলটির একটি অংশ পাল্টা-বিকল্পধারা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল তাই নায়, নিজেদের মূল স্রোত দাবি করে তারা দল থেকে বি চৌধুরী, মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরীকে বহিস্কার করে ৭১ সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে বিকল্পধারার বিদ্রোহী গ্রুপ।

এ উদ্দেশ্যে শুক্রবার ( ১৯ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এতে বিকল্পধারা তিন প্রতিষ্ঠাতাকে বহিস্কার করে নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই বিকল্পধারা দুইভাগে বিভক্ত হতে চলছে।

বি চৌধুরীরর বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল আমীন বেপারী হচ্ছেন নতুন অংশের সভাপতি, বর্তমান কমিটিতে মহাসচিব হচ্ছেন শাহ আলম বাদ আর জানে আলম হাওলাদারকে করা হচ্ছে যুগ্ম মহাসচিব। নতুন বিকল্পধারার ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে যার আসছেন তাদের সিংহভাগই হলেন আগের কমিটির সদস্য।

জানতে চাইলে নতুন অংশের মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে একটা বড় প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের অধিকার আদায় সম্ভব হবে। কিন্তু মাহি বি চৌধুরী আমাদের কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলেনই জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আগে নানা শর্ত জুড়ে দেন। এককভাবেই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এতি একটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এ ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন। তবে বাবার নাম ব্যবহার করে মাহী বি. চৌধুরীর সিদ্ধান্তে দলের অধিকাংশ নেতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমরা একটি অংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরই তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার আমরা প্রেস কনফারেনন্স ডেকেছি, সেখানে আমরা নতুন কমিটি ঘোষণা করবো।

তিনি বলেন, বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্রণ্টের সঙ্গেই থাকবে। সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের বিকল্পধারার জন্য অপেক্ষা করছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনের আগেই দলটি কাউন্সিল করবে জানিয়ে দলটির সিনিয়র কয়েকজন নেতা বলছেন, নতুন উদ্যমে শুরু হওয়া বিকল্পধারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই কাউন্সিল করে কমিটি দিবে। তবে যদি কোনো কারনে তা সম্ভব না হয় তবে নির্বাচনের পরে কাউন্সিল হবে।

অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল আরো বলেন, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় কমিটি ৭১ সদস্যের হলেও এখন রয়েছে ২৫ থেকে ২৬ জন। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সম্পাদক জানে আলম, সমবায়বিষয়ক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবলু, যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার জোবায়ের, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী জুন্নু, কৃষক ধারার আহ্বায়ক চাষী এনামুল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শিপরা রহিম, সদস্য নুর মুহাম্মদ, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আবদুল মতিনসহ ১৭ জনই আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।

‌দলের একটি সূত্র জানায় , বি. চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দলের সিনিয়র সহ সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী কয়েকদিন আগে বারিধারার বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি বি. চৌধুরীকে ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষ যা চায় তাই করেন। কিন্তু তার মতামতকে উপেক্ষিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহী অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকেই নতুন কমিটিতে সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপির সঙ্গে জড়িত ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০৪ সালে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাড়াতে বাধ্য হন। এরপর তিনি দলত্যাগ করে বিএনপির আরেক নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানকে নিয়ে গড়ে তোলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ। প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় কুলা। প্রতিষ্ঠার এই ১৪ বছরে দলটিতে কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক উদারতাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ দলটি তৃণমূলে কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি।

আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, নিজ দলের নির্বাহী কমিটির সিংহভাগ সদস্য যখন বিদ্রোহী অংশে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, সেখানে নির্বিকার বি. চৌধুরীসহ দলের অপর দুই শীর্ষ মান্নান ও মাহি। নিজ দলের পুরনো কমীদের ধরে রাখার কোনো উদ্যোগ না নিয়েই বিএনপি বেনতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে আসা ন্যাপ আর এনডিপিকে নিয়ে নতুন জোট গঠনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

বেশির ভাগ জুয়াড়ি ভারতীয়, আইসিসির বিস্ফোরক দাবি


ক্রীড়া প্রতিবেদক
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের দুর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে তদন্ত চালাচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি। যেখানে জড়িয় গেছে সনৎ জয়সুরিয়ার নাম। আইসিসির পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, আরো অনেক নামই সামনে আসবে। কিন্তু তারই মাঝে আরো একটা তথ্য প্রকাশ করেছে তারা। আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখার আলেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ক্রিকেট গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত জুয়াড়িই হলো ভারতীয়।

একটি ওয়েবসাইটে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ক্রিকেট গড়াপেটা তদন্তের দায়িত্বে থাকা মার্শাল বলেছেন, ‘‘শ্রীলঙ্কায় আমরা দেখেছি, জুয়াড়িরা হয় স্থানীয় নয় ভারতীয়। কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ জায়গায় দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতিগ্রস্ত জুয়াড়িরা প্রায় সবাই ভারতীয়।’’ মার্শাল এমন দিনে এই কথা বললেন, যে দিন আবার নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের লেগস্পিনার দানিশ কানেরিয়া। এবং কানেরিয়া যে জুয়াড়ির কথা বলেছেন, সেই অনু ভট্টও একজন ভারতীয়।

এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে ওয়ান ডে সিরিজ খেলছে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। যেখানে আইসিসি সমস্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ছবি দেখায় দু’দলের ক্রিকেটারদের। মার্শাল বলেন, ‘‘এমন লোকেদের ছবি আমরা দেখিয়েছি, যারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে।’’ আইসিসি আপাতত ১২ থেকে ২০ জনের ওপর নজর রেখেছে। যাদের মধ্যে ছ’জন ক্রিকেট গড়াপেটার সঙ্গে ভালো রকম জড়িত বলে সন্দেহ। মার্শালের বক্তব্য, ‘‘আমরা ছ’জনের ছবি দেখিয়েছি। তবে নজরে আরও ১২ থেকে ২০ জন আছে। যাদের ছবি দেখানো হয়েছে, তারা সবাই পুরুষ। তবে তার বাইরে জনা দু’য়েক মহিলার ওপরও আমাদের নজর আছে।’’

জুয়াড়িদের তালিকায় ভারতীয়দের নাম সবার উপরে থাকলেও আইসিসির নজর এখন শ্রীলঙ্কার ওপর। মার্শাল বলেছেন, ‘‘বেশ কয়েকটি দেশ নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন। এদের মধ্যে শ্রীলঙ্কাও আছে। এই সব দেশ থেকে এত রিপোর্ট আসছে আর এত তদন্ত হচ্ছে যে, বোঝা যায়, দুর্নাতির ছায়া খুব ভালো ভাবে আছে।’’ এর পরে মার্শাল যোগ করেন, ‘‘গত ১২ মাসে সব চেয়ে বেশি তদন্তের ঘটনা ঘটেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট নিয়ে। দু’নম্বরে আছে জিম্বাবুয়ে।’’

জোরারগঞ্জে ২ হাজার পিস ইয়াবা সহ এক নারী আটক

 


নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড় এলাকা থেকে পাচারকালে ২ হাজার পিস ইয়াবা সহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়। আটকৃত নারীর নাম লাইলী বেগম (২৮)। সে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার দক্ষিণ চেচরি রামপুর এলাকার নহুমান খানের মেয়ে ও শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই আবেদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনাপাহাড় হাজী পোলট্রি লিঃ সংলগ্ন পুর্ব পার্শ্বে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা গামী লেনে মহাসড়কের উপর চট্রগ্রামের দিক হইতে আসা রোহান পরিবহন নং-ঢাকা মেট্রো -১৪-৩৩৫১ তল্লাশী করে তাকে আটক করা হয়েছে। এসময় নারী পুলিশ দ্বারা তল্লাশী করিয়া তার কোমড়ে স্যালোয়ারের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ২ হাচার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা (নং-১৯ তারিখ-১৮/১০/২০১৮ ইং) দায়ের করা হয়েছে

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল : ইসি সচিব

নিউজ ডেস্ক..
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।

ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাকক্ষে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ওই বৈঠকে বসে কমিশন।

বৈঠকের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিংক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে ইইউ বিশষজ্ঞ টিম পাঠাবে। তফসিলের পরে নভেম্বরে তারা দুই সপ্তাহ অবস্থান করে ভোটের পরস্থিতি দেখবে।’

 

মাত্র ৬শ টাকা নিয়ে ঢাকা পাড়ি জমিয়েছিলেন চট্টগ্রামের বাচ্চু


নিজস্ব প্রতিবেদক

পকেটে মাত্র ৬শ টাকা। বুকে বিরাট স্বপ্ন। ঝাঁকড়া চুলের এক তরুণ উঠেছিলেন ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের এক হোটেলে। আজ থেকে আরও ৩৫ বছর আগে চিরতরুণ রকস্টার পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজধানীতে। গান গেয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন, অর্জন করেছেন কোটি মানুষের হৃদয়। তবু স্বপ্নটা বুঝি তার পূরণ করে যেতে পারেননি। তিনি স্বপ্ন দেখতেন, বাংলা গান পৃথিবীর বুকে উজ্জ্বল হয়ে দাঁড়াবে। আক্ষেপ করে বলতেন, আমি, আমরা এখনো সে স্বপ্নের পেছনে ছুটছি।

আইয়ুব বাচ্চু বিশ্বাস করতেন দেশের তরুণরাই বাংলাদেশকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গায় নিয়ে যাবে। তাই তিনি যেখানে গান করতে যেতেন সেখানেই তরুণদের দেশপ্রেমের বাণীতে উজ্জীবিত করতেন। তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে নিজের কঠিন জীবন পাড়ি দেওয়ার গল্প। তিনি বলতেন, ‘আমার সন্তানেরা ছোটবেলা থেকে আমার মুখে একটা গল্প শুনে অভ্যস্ত। এই ঢাকা শহরে ১৯৮৩ সালের শেষের দিকে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে এসেছিলাম। উঠেছিলাম এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে। সেই আমি কিন্তু এখনো কাজ করে খাচ্ছি। পরিবার-বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে ভালোই আছি। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা শহরে আমি যখন ৬০০ টাকা নিয়ে আসি, তখন এখানে আমার অনেক আত্মীয়স্বজন থাকতেন। আমি কারও কাছেই যাইনি। বিপদে কারও মুখাপেক্ষী হইনি। নিজেকে গড়ে তুলেছি। কাজে হাত দিয়েছি। কাজের পর কাজ করেছি। এখনো করেই যাচ্ছি। দিনরাত কাজ করে একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।’

তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি প্রায়শ বলতেন, ‘সামনে অনেক পথ খোলা ছিল। সবকিছু পাশ কাটিয়ে গেছি। চলার পথে এমন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় ছিল, যাদের নাম শুনলে আতঙ্কিত হতে হতো। শুধু তা-ই নয়, আমার পরিচিত অনেকে মাদকসেবনও করত। চাইলে আমিও হয়তো বখে যেতে পারতাম। কিন্তু মিউজিকই ছিল আমার ধ্যানজ্ঞান। আমি সেই লক্ষ্যে ছুটে গেছি। যেটার সঙ্গে আমার পরিবার একমত না এ ধরনের লাইফস্টাইল থেকে নিজেকে সংবরণ করেছি। কারণ, আমার মা কষ্ট পেলে দেশ কষ্ট পাবে। আত্মীয়-স্বজনেরা মন ছোট করবেন। দেশ কষ্ট পেলে দুনিয়া কষ্ট পাবে। এ জন্যই নিজেকে সংবরণ করেছি। আমি বলতে চাই, লোভ সংবরণ করা খুব দরকার।’

তরুণদের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে তিনি বলেছিলেন, তরুণেরা ভুল কিছু করবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। বিপথগামী আর তরুণ এক নয়। সম্পূর্ণ আলাদা দুটি শব্দ এবং আলাদা দুটি সত্ত্বা। তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জায়গায় নিয়ে যাবে। শুধু আমার নয়, এটা ৬৮ হাজার গ্রাম এবং সাড়ে ১৬ কোটি মানুষেরও বিশ্বাস বলে মনে হয়। ঢালাওভাবে তরুণদের যেন অপবাদ দেওয়া না হয়। আমাদের দেশে অসংখ্য মেধাবী তরুণ আছে। এই অসংখ্য উদ্যেমী তরুণের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজের মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়েরা।

রকস্টার আয়ুব বাচ্চুর সঙ্গীত জীবন :
বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয়। ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে ১৯৭৮ সালে। তাঁর কন্ঠ দেয়া প্রথম গান “হারানো বিকেলের গল্প”। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি। আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) এর মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করেন। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের “শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি”, “ঘুম ভাঙ্গা শহরে”, “হকার” গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখ ও তবুও বের হয়। সুখ অ্যালবামের “সুখ, “চলো বদলে যাই”, “রূপালি গিটার”, “গতকাল রাতে” উল্লেখযোগ্য গান। “চলো বদলে যাই” বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে “কষ্ট কাকে বলে”, “কষ্ট পেতে ভালোবাসি”, “অবাক হৃদয়”, ও “আমিও মানুষ”। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। “অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে” বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম ‘বলিনি কখনো’ প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।

সূত্র সিভয়েস

চসিকে সংবর্ধিত হলেন মিরসরাইয়ের ড. মুস্তাফিজুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি

কাতারের বাংলাদেশ দুতাবাসে কাউন্সিলর (শ্রম) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মিরসরাইয়ের সন্তান ড. মুস্তাফিজুর রহমান। এ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে চসিক সম্মেলন কক্ষে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, কর্মজীবনে বদলী একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে পদোন্নতি একজন দক্ষ কর্মকর্তার কর্মস্পৃহাকে নিঃসন্দেহে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় গতি আনার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছেন। তবে সরকারি খাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় সন্তোজনক হলেও বেসরকারি পর্যায়ে তা সন্তোষজনক নয়। অথচ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে রাজস্ব অদায়ের হার ৭০ শতাংশ। তবে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।

মেয়র বিদায়ী প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার কর্মময় জীবনের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

বিদায়ী প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কর্পোরেশনে কর্মকালীন সমযে আমি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করি। চেষ্টা করেছি রাজস্ব বিভাগের কর কর্মকর্তা-উপ কর কর্মকর্তাদের মধ্যে দন্ধ দূর করে সমন্বয় সাধনের। যে কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তার দেড়শ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর আদায় করতে সক্ষম হয়। এ অর্জন নগরবাসীর, মেয়র ও আমার।

পরে মেয়র বিদায়ী প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড.মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং উপহার তুলে দেন। উল্লেখ্য ড. মুস্তাফিজুর রহমানকে কাতারে কাউন্সিলর (শ্রম) পদে বদলী করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্পোরেশনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা।

যুগ্ম জেলা জজ জাহানারা ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সংবর্ধনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্পোরেশনের সচিব মো. আবুল হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও রাজস্ব বিভাগের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন। এতে কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ড.মুস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি মিরসরাইয়ের ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিম মিঠানালায়।

আকবর শাহ থানার ওসি জসীমসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আকবর শাহ থানার ওসি জসীম উদ্দীনসহ ৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী রুবি বেগম।অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- আকবর শাহ থানার এসআই মো. আলাউদ্দীন, এসআই আশহাদুল ইসলাম, এএসআই সাইফুল ইসলাম, এএসআই আবু বকতর ছিদ্দিক ও কনস্টেবল মো. নুরুল আলম।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী মো. আবুল কাশেম প্রকাশ আলমগীর নগরের আকবর শাহ থানাধীন পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনীর এক নং ঝিল মসজিদ ঘোনা এলাকার বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালত আকবর হোসেন মৃধার আদালতে এই অভিযোগ করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী ফজলুল করিম ভু্ঁইয়া বলেন, আদালতে এজাহারটি আমরা জমা দিয়েছি। অভিযোগের স্বপক্ষে সেখানে অনেক তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য্য রেখেছেন আদালত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মসজিদ ঘোনা এলাকায় মুরগি বিক্রি করেন আলমগীর। তার শ্যালক নুরে আলম একই এলাকায় গরু-ছাগল ও কবুতর লালন-পালন করে বিক্রি করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬-৭টার দিকে একই এলাকায় ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তখন ইব্রাহিমকে নিয়ে প্রথমে আল আমিন হাসপাতালে যান আলমগীর, ইব্রাহিমের স্ত্রী ও দুই শ্যালকসহ স্থানীয় সুমন ও মিজান। তখন আল আমিন হাসপাতাল আহতকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যেতে বলে। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ইব্রাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে এক পুলিশ সদস্য আলমগীরকে আটক করে পুলিশ বক্সে নিয়ে রাখে।

আটকের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইব্রাহিম মারা যাওয়ায় আকবর শাহ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং থানার নির্দেশে আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০-১১টার দিকে আকবর শাহ থানার এসআই আশহাদুল ইসলাম এসে হত্যা মামলার কারণ দেখিয়ে আলমগীরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে নিয়ে যায়। এরপর আলমগীরের মা আনোয়রা বেগম ও শ্যালম নূরে আলম থানায় গেলে তাকেকে দেখা করতে দেয়া হয়নি। পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে আলমগীরের শ্যালক আলম থানায় ঢুকে তাকে নাস্তা দিয়ে আসে। সেখান থেকে বেরিয়ে আলম তার বোন আলমগীরের স্ত্রীকে জানান যে, এসআই আলাউদ্দীন দুই লাখ টাকা চেয়েছে, উক্ত টাকা না দিলে মৃত ইব্রাহিমের হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেবে। একই বিষয়টি নিয়ে রাত ১১টা-সাড়ে ১১টার দিকে আলমগীরের শ্যালক আলমসহ স্থানীয় লোকজন ওসি জসীমের সাথে কথা বলতে চাইলে তাদেরকে থানায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীরকে নাস্তা দিতে থানায় যান মা, স্ত্রী ও শ্যালক। তখনও শ্যালক আলম ছাড়া অন্যদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেরিয়ে আলম পুণরায় জানায়, দুই লাখ টাকা ওসি জসীম ও এসআই আলাউদ্দীনকে না দিলে পুলিশ বাদী হয়ে ইব্রাহিম হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেবে। একইদিন দুপুরে এলাকায় জানাজানি হয় যে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইব্রাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং ওই মামলায় ইব্রাহিম ও তার শ্যালক আলমকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় আলমগীরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এরপর আদালতে এসে কাগজপত্র তুলে বাদী জানতে পারেন, ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় আলমগীরের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় পলাতক আসামি করা হয়েছে আলমগীরের শ্যালক আলমকে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে আটকের পর ২৮ তারিখ দুপুর পর্যন্ত আলমগীর পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। এবং অস্ত্র মামলার ঘটনার সময়ও তিনি থানাহাজতেই আটক ছিলেন। এরপরও দুই লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ মিথ্যা অস্ত্র মামলায় আলমগীরকে আসামি করেছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়।

চট্টগ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে চিরসমাহিত হবেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বাচ্চু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে তার চট্টগ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে চিরসমাহিত করা হবে।

তার আগে ঢাকায় এই শিল্পীর নামাজে জানাজা হবে জাতীয় ঈদগাহের পাশে হাইকোর্ট মসজিদে।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণের পর দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান।

সকালে নিজের বাসায় আইয়ুব বাচ্চু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতাঙ্গনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। হাসপাতালে দেখা গেছে ফকির আলমগীর, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ, হানিফ সংকেত, ফাহমিদা নবী, কুমার বিশ্বজিৎ, কবির বকুল, এলিটা করিমকেও।

সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন, তার মরদেহ এখন হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহের পাশে হাইকোর্টের মসজিদে আইয়ুব বাচ্চুর নামাজে জানাজা হবে। সেদিন রাতে বিদেশ থেকে তার ছেলে তাজয়াত আইয়ুব ও মেয়ে সাফরা আইয়ুব দেশে আসবেন। এরপর মরদেহ নিয়ে তারা মধ্যরাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন।

শনিবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। শৈশব থেকেই তিনি গান শুনতেন প্রচুর। একসময় নিজেও গাইতে শুরু করেন। এরপর শুরু করেন গিটার চর্চাও। কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটা ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন, পরে অবশ্য এর নাম পাল্টে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’। বিয়েবাড়ি, জন্মদিন আর ছোটখাট নানা অনুষ্ঠানে তাদের এই ব্যান্ডদল গান করতো।আইয়ুব বাচ্চুপরে বন্ধুরা যে যার মতো একেক দিকে ছড়িয়ে পড়লেও আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডদল ‘ফিলিংস’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডের লিডগিটার বাজানোর দায়িত্বে ছিলেন টানা ১০ বছর। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।আইয়ুব বাচ্চু মঞ্চ পারফরম্যান্সে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বীবাংলা ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন আইয়ুব বাচ্চু মঞ্চ পারফরম্যান্সে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। শ্রোতা-ভক্তদের কাছে ‘এবি’ নামে পরিচিত এই গুণীশিল্পীর ডাকনাম রবিন। মূলত রক ধাঁচের কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক, ক্লাসিকাল সংগীত এবং লোকগীতি গেয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধতায় ভাসিয়েছেন ‘এবি’।

আইয়ুব বাচ্চুর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে’, ‘এক আকাশের তারা তুই একা গুনিসনি’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো, ‘এই রূপালি গিটার ফেলে একদিন…’। এসব গান বছরের পর বছর ধরে দর্শকশ্রোতাদের মুখে মুখে।

তার একক অ্যালবামের মধ্যে- রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), একা (১৯৯৯), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এলআরবি ব্যান্ডের অ্যালবামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জীবনের গল্প (২০১৫), ফেরারী মন (১৯৯৬)।

কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর জীবনাবসানে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ অঙ্গনে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমেও তার স্মৃতিচারণ করে প্রয়াত এই শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভক্ত-অনুসারীরা।

দুনিয়া কাঁপানো চট্টগ্রামের ছেলেটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইয়ুব বাচ্চু, ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি এই সঙ্গীতশিল্পী। দেশের ব্যান্ড সঙ্গীতকে পথ দেখানো দুনিয়া কাঁপানো চট্টগ্রামের এই ছেলেটি আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। খবর জাগোনিউজ

দেশসেরা ব্যান্ড দলগুলোর বেশিরভাগই জন্ম ও বেড়ে ওঠা বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা পর বাংলাদেশে ব্যান্ড সঙ্গীত যেসব মানুষের হাত ধরে জনপ্রিয় হয়েছে তাদের অন্যতম আইয়ুব বাচ্চু। চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পথ চলা শুরু করা এই কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী চিরদিনের মত থেমে গেলেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে।

স্বাধীনতার ঠিক পরের বছর ১৯৭২ সালে চট্টগ্রামের কিছু গানপাগল তরুণ সাজিদ উল আলম, লুলু, নেওয়াজ, রনি বড়ুয়া ও তাজুল মিলে বিদেশি গানের দলের অনুকরণে ‘সোলস’ নামে গানের দল গঠন করেন। সে সময় ‘সোলস’ শুধু চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীতজগতে প্রবেশ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরে ১৯৭৮ শেষ দিকে ‘সোলস’-এ যোগ দেন বাংলা ব্যান্ডের ‘ক্ষ্যাপা’ তরুণ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাওয়া আইয়ুব বাচ্চু।

শুরু হয় বাংলার সর্বকালের সেরা একটি ব্যান্ড দলের যাত্রা, যেখান থেকে বাংলা আধুনিক ও ব্যান্ড সঙ্গীতের আকাশে সমহিমায় ঠাঁই করে নিয়েছে একটি একটি নক্ষত্র। সেই তরুণদের একজন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি একাধারে ছিলেন ব্যান্ডের গিটারিস্ট, ভোকাল, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী।

১৯৮০ সালে বের হয় ‘সোলস’-এর প্রথম অ্যালবাম ‘সুপার সোলস’। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম কোনো ব্যান্ড অ্যালবাম এটি। ওই অ্যালবামে আইয়ুব বাচ্চুর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এরপর থেকেই তিনি সুরকার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

১৯৮২ সালের দিকে নকীব খান, পীলু খান ও কুমার বিশ্বজিৎ ব্যান্ড ছেড়ে দিলেও ‘সোলস’-এর ভোকাল হিসেবে থেকে যান আইয়ুব বাচ্চু। এরপর ১৯৮০ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত একটানা সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৮৬ সালে আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হলেও সফলতা পান ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’ দিয়ে। সোলসের হয়ে ব্যান্ড সঙ্গীতে নাম তৈরি করা আইয়ুব বাচ্চু ১৯৮৯ সালে নিজের স্টাইলে গাইবেন -এ সংকল্পে সোলস ত্যাগ করেন।

১৯৯০ সালে আইয়ুব বাচ্চু প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ব্যান্ড দল ‘ইয়োলো রিভার ব্যান্ড’। কিন্তু বিদেশের এক প্রোগ্রামে গিয়ে দেখেন ভুল করে তার দলের নাম লেখা হয়েছে ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। নামটি তার ভালো লেগে যায় এবং নিজ দলেন নাম বদলে রাখেন ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে জানা যায়, ওই নামে অস্ট্রেলিয়ান একটি ব্যান্ড আছে। ফলে আবারও নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ যা ‘এলআরবি’ নামেই পরিচিত।

১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল নিজ স্টাইলে গান গাওয়ার সংকল্প নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু ‘এলআরবি’ ব্যান্ড গঠন করে। এরপর থেকেই সারা দুনিয়ায় ঝড় তুলতে শুরু করে এলআরবির হার্ড রক, ব্লুজ রক, সাইকাডেলিক রক গানগুলো। ব্যান্ড গঠনের এক বছর যেতে না যেতেই প্রথম অ্যালবামের জন্য ২২টি গান রেডি করে এলআরবি।

এলআরবির প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম ‘এলআরবি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙ্গা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ এবং ‘তবুও’ বের হয়।

১৯৯৫ সালে প্রকাশ হয় আইয়ুব বাচ্চুর সর্বকালের সেরা একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এ অ্যালবামের ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো তুমুল জনপ্রিতা পায়।

শেষ জীবনে চট্টগ্রামে ছেলেটি চট্টগ্রামের জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। চট্টগ্রামের তরুণ শিল্পী এবং ব্যান্ড সঙ্গীতে আগ্রহীদের জন্য ‘এবি লাউঞ্জ’ নামে নতুন একটি প্লাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করেন।

গত ২৪ আগস্ট আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান। তাই চট্টগ্রামের জন্য আমি কিছু করে যেতে চাই। আমি সারাজীবন গাইতে পারব না। কিন্তু আমি চাই চট্টগ্রাম থেকে আমার মতো আরও কেউ বের হোক। চট্টগ্রামের উদীয়মান শিল্পীদের জন্য আমি একটা প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই। চট্টগ্রামে ‘এবি লাউঞ্জ’ হবে ব্যান্ড সঙ্গীত এবং উদীয়মান ব্যান্ড শিল্পীদের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার।’

২০১৭ সালের ২০ মে গিটার শো ‘নাও অ্যান্ড দেন’ এ অংশ নিয়ে আইয়ু্ব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের অলিতেগলিতে রাতের পর রাত আমি গিটার হাতে বেড়িয়েছি। কাঁধে গিটার নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়েছি, গিটার বাজিয়েছি। চট্টগ্রাম আমার নাড়ি পোতা শহর। এই শহরে আমার মা ঘুমিয়ে আছেন। এই শহরেই আমি আবারও ফিরে আসবো।’

সত্যিই এই কিংবদন্তি তার শহরে আবারও ফিরে যাবেন, তবে নিথর দেহে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রথম নামাজে জানাজা শেষে জনপ্রিয় শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।