রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 667

কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক টোলপ্লাজা ওজন স্কেল: প্রশান্তি না ভোগান্তি!

নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী টোলপ্লাজার পাশে স্থাপিত হচ্ছে ওজন মাপার স্কেল (এক্সেল লোড কন্ট্রোল। ইতোমধ্যে এক পাশে বসানো শেষ অন্য পাশে সেট করা হচ্ছে। এ যন্ত্রের কাজ ওভারলোড কন্ট্রোলের মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচলকারী ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।

ফলে মহাসড়কে চলাচলরত পণ্যবাহী যানবাহন গুলোর তিন ধরনের এক্সেল মাপা হবে। এর মধ্যে ৬ চাকাবিশিষ্ট দুই এক্সেলের ট্রাক পণ্য পরিবহন করতে পারবে ১৩ টন। ১০ চাকাবিশিষ্ট তিন এক্সেলের ট্রাক ১৮ টন ও চার এক্সেলের ১৪ চাকার ট্রাক ২৭ টন পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর আগে ওসব ট্রাক নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্ধারিতের কয়েক গুণ পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করতো।

তবে এই এক্সেল লোড কন্ট্রোল যন্ত্রটি এর পুর্বে চট্টগ্রাম বড় দারোগাহাট মহাসড়কেও স্থাপন করা হয়েছিলো। আবার ওই ওজন স্কেল স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে মানববন্ধনও করেছিল চট্টগ্রামের ২০টি স্বনামখ্যাত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

নতুন এই যন্ত্রের ব্যবহার ও পদক্ষেপে দেশের সাধারণ মানুষ সুফল পাবে কিনা? না বঞ্চিত হবে এবং ভোগ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে ? না কমবে। জনগণের মাঝে প্রশান্তি আনবে, না ভোগান্তি বাড়াবে। এমন হিসাব কষতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

শহরের প্রবেশদ্বার কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক টোল প্লাজায় যন্ত্রটি স্থাপনের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট বৃদ্ধি করতে পারে। এমনটি আশঙ্কা কেননা একই জায়গায় টোল আদায়। আবার নতুন করে যোগ হচ্ছে দুপাশে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বা ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল। অনেকের ব্যক্তিগত অভিমত টোলপ্লাজায় এ স্কেল না বসিয়ে অন্য জায়গায় বসানো উচিত ছিল। কেননা প্রবেশ ধারে পণ্যবাহী গাড়ির সাথে যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ বাড়াবে দ্বিগুণ।

এতে ভোগান্তিতে পড়বে নানা পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন এমনটি ধারণা। এটা বসানোর পর কার্যকর হলে যানজট থাকার আশংকা করছে স্বয়ং হাইওয়ে পুলিশও।

কর্ণফুলী তৃতীয় শাহ আমানত সেতু ২ লেনের ছিল । যা বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ফোর লেন মহাসড়কে। যদিও তা সেতুর টোল প্লাজা হতে শিকলবাহা ওয়াই ক্রসিং পর্যন্ত এরপর নেই। এখন টোল প্লাজার সামনে ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেল বসানো হচ্ছে। ফলে আটকে পড়ে থাকবে অহরহ যানবাহন। সময় ক্ষেপণ করে গাড়ি ছাড় দেয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার সম্ভাবনা ও উড়িয়ে দিচ্ছেনা পরিবহন শ্রমিক ও ড্রাইভারেরা। এতে সৃষ্টি হবে ভোগান্তি সহ তীব্র যানজট।

তথ্যমতে, বর্তমানে কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর টোল আদায় করছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কোম্পানি ইউডিসি-ভ্যান জেভি। এ কোম্পানির আওতায় টোল আদায়, ব্যবস্থাপনা এবং এক্সেল লোড সিস্টেম পরিচালনার কাজ চলছে। কার্যাদেশ মতে, প্রতিষ্ঠানটি ৩ বছর এ দায়িত্বে থাকবেন।

যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সহ ইউডিসি-ভ্যান জেভি কোম্পানীর উদ্দেশ্য হল এক্সেল লোড সিস্টেম স্থাপিত হলে মহাসড়কের সুরক্ষা বাড়বে, কমবে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবাহনের সংখ্যা। কিন্তু জনগণ বলছে ভিন্ন কথা । তারা ভাবছেন সুফলের চেয়ে জনভোগান্তি বেশি হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয় কর্ণফুলীর নদীর উপর তৈরী শাহ আমানত সেত তৃতীয় সেতু। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে, ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০ দশমিক ২৪ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করে চীনের মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন। এটি বাংলাদেশের প্রথম এক্সেটার ডোজ সেতু।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানা যায়, তারা এক্সেল লোড সিস্টেম স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। টোল প্লাজার পাশেই ৬টি এক্সেল লোড কন্ট্রোল মেশিন বসানো হবে। কিছুদিনের মধ্যে তা চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।

একটি সাধারণ ছয় চাকার ট্রাকের ওজন বহন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৫ টন হলেও ওই সড়কে চলাচলকারী ট্রাকগুলো ১৮ থেকে ২৪ টন পর্যন্ত মালামাল নিয়ে চলাচল করছে। এতে সড়কের আয়ু রাতারাতিই কমে যাচ্ছে। এজন্য যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এদিকে ব্যবসায়িরা মনে করেন এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণে পরিমাপক যন্ত্র বসানো হলে কক্সবাজার ও আনোয়ারা, কর্ণফুলীর বড় বড় মিল কারখানা ও গার্মেন্টস থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বেশি পড়বে। যা অন্য জেলায় কম হবে। সরকার যদি সারাদেশের প্রধান সড়কগুলোতে একই নিয়ম চালু করে সেক্ষেত্রে কোন সমস্যা ছিলনা। কিন্তু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসীর জন্য আলাদা নিয়ম কেন এমন প্রশ্ন অনেকের!

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পরিমাপক যন্ত্র বসবে আর অন্য কোন সড়কে বসবে না, এতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মাঝেও তখন চাপা ক্ষোভ বিরাজ করবে। দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিনা তাও ভেবে দেখার দাবি জানান মন্ত্রণালয়ের কাছে। এতে মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণে পণ্য পরিবহনে বাধ্যবাধকতা শিথিল করা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন ব্যবসায়িরা।

ডায়মন্ড সিমেন্ট কোং লিমিটেড এর পরিচালক আলহাজ্ব আজিম আলী বলেন, মহাসড়কের সুরক্ষা ব্যবসায়ীরা ও চায়। সরকার যদি স্কেল বসায় তাতে ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকার কথা না। তবে সারা দেশে যেন একই নিয়মে ওজন নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয় দ্বিমুখী নিয়ম যেন নাহয়।’

প্রসঙ্গত, এরপুর্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগাহাট ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করায় পণ্য পরিবহনে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, আইনি জটিলতায় গ্রাহক বা সাধারণ ডিলার বা পাইকাররা চট্টগ্রাম থেকে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে আগ্রহ কমেছে। ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছিল।

এমতাবস্থায় পুনরায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রীর সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীবৃন্দের আর্থিক ক্ষতি নিরসনের জন্য মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ওজন স্কেল ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত তা পুনরায় ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন।

ইউডিসি-ভ্যান জেভি এর পরিচালক (অপারেশন) অপূর্ব সাহা জানান, কিছুতেই দুই নিয়মে স্কেল কার্যকর হবেনা। সারা দেশের নিয়মে তা চলবে। আমাদের এক পাশে মেশিন বসানো শেষ অপর পাশে কাজ চলছে। আগামী মাসের ১ তারিখ চালু হবে।’

২০১৬ সাল থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ওজন নিয়ন্ত্রণ কার্যকরের চেষ্টা চালায়। এর পর বিভিন্ন সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হলেও আপত্তি জানান পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। গত ডিসেম্বর থেকে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমানে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

বর্তমানে এ নিয়ম লঙ্ঘন করলেই পণ্যবাহী পরিবহনগুলোকে উৎসস্থলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে অতিগুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত এক্সেলের অতিরিক্ত পণ্যের প্রতি টনের জন্য ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পণ্য লোডিংয়ের উৎসমুখে এক্সেল লোডের নির্দেশনা মেনে চলতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

২১ আগস্ট মামলার রায় একতরফা নির্বাচনের কারসাজি : রিজভী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে সাজা দেয়া হয়েছে তা ‘স্টেট স্পন্সর্ড জাজমেন্ট’। আসলে বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্যই সরকারের বিশেষ ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা পূরণে এই রায়।

তিনি বলেন, এই রায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ জন্য যে, একতরফা নির্বাচন করার জন্য এই রায় একটি কারাসাজি। সেইসাথে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাসা-বাড়িতে তল্লাশির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার জিয়াউর রজমান খান, সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন ও আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

রিজভী বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে কি নির্মমভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে আপনাদেরকে (সাংবাদিকদের) ইতোপূর্বে অবহিত করেছি। হাত-পায়ের নখ তুলে নিয়ে অকথ্য শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পূরক জবানবন্দী নেয়া হয়েছিল। মুফতি হান্নান দাবি করে বলেন, ব্যাপক নির্যাতন করে সিআইডির লিখিত কাগজে তার সই আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২০১১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায়- ‘সম্পূরক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন মুফতি হান্নানের’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে- ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জড়িয়ে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন মুফতি হান্নান….। তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে এধরনের কোনো জবানবন্দী দেননি। অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর মুফতি হান্নানের সই নিয়ে তার আইনজীবী আবার আদালতে আবেদনটি জমা দেন। তবে এ নিয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। হাতে লেখা ১০ পৃষ্ঠার প্রত্যাহার আবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর এ পর্যন্ত মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।’ মুফতি হান্নান সেদিন আরো বলেছিলেন- ২১ আগস্ট বোমা হামলায় তারেক রহমান বা বিএনপির কেউ জড়িত নয়।

তিনি বলেন, সুতরাং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্যই কারো ইচ্ছা পূরণে গতকাল এই রায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ এই রায় প্রত্যাখান করেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিভাবে সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে বিএনপিসহ সাধারণ জনগণও। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বন্দুকের জোরে তাড়িয়ে দেয়া এবং সঠিক বিচার করতে গিয়ে জেলা জজ মোতাহার হোসেনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। সুতরাং গতকাল নিম্ন আদালত যদি সঠিক রায় দিতো তাহলে তাকেও দুর্ভাগ্য বরণ করতে হতো।

রিজভী বলেন, লক্ষীপুরে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে খুন করে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তথ্যমতে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশেষ ক্ষমতায় অন্যান্যদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারের মতো ভয়ঙ্কর আসামীদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সরকার এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বিচার প্রক্রিয়া দুষ্টকে পালন করারই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং যতদিন এই ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদিন কেউ ন্যায়বিচার পাবে না বলেই জনগণ মনে করে।

সারাদেশে গ্রেফতার, হামলা ও নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে তল্লাশির চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, আবদুল্লাহপুর, শুভাড্যাতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকানপাট, বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণে) এখন ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি আরো জানান, মতিঝিল থানা বিএনপি নেতা হাসিবুর রহমান মান্নু, পল্টন ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মাখি আলম এবং মোঃ মনা, সরকারী কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল নেতা খন্দকার ইরফান আহমেদ ফাহিম, নেত্রকোণা জেলা যুবদলের ওয়ারেশ উদ্দিন কারাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের খালিদ সাইফুল্লাহ মুন্নাসহ ১০ জন নেতাকর্মী, মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শাহাদাৎ হোসেন এবং সৈয়দপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু সরকার, মো: বাবলু, মো: জাবেদ এবং মো: শাকিলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

রিজভী বলেন, বরিশাল মহানগর যুবদলের অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান শামীম, মাসুদ হাসান মামুন, তারেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ যুবদলের সিরাজ ও মহিউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা যুবদলের আমির হোসেন ঢাকায় বংশাল থানা বিএনপি নেতা খালেদ হাসান টুটুল, মুগদা থানা বিএনপি নেতা মো: শাহজাহান, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপি হাজী মো: ফারুক, খিলগাও থানা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন দুলাল, নিজামউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম বাবুল, আরিফ, লিয়াকত, কাওছার, তোহিদ, ডেমরা থানা বিএনপি নেতা মো: মিন্টু, সাইদুর রহমান টিটু, মাসুদ রানা, আল আমিন, মো: রমজান, মো: ফিরোজ মিয়া, মো: শহিদুল রিপন খান, মো: খালেক, শ্যামপুর থানা বিএনপি নেতা মাসুদ পারভেজ, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের মো: ওমর ফারুক সেলিম, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ যুবদলের মো: মশিউর রহমান, ভোলার দক্ষিণ আইশা থানার ছাত্রদলের সাইফুল ইসলাম, দুলারহাট থানার কামরুল ইসলামকে গতকাল পুলিশ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে এবং ভোলা জেলায় মোট ৪টি মিথ্যা মামলা রুজু করেছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত মঙ্গলবার ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশ গাড়ী উঠিয়ে দিয়ে বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করেছে। এছাড়া নেত্রকোনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আ ক ম রফিকুল ইসলামকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে ও নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সালেহ আহমেদ কাঞ্চনকে ঢাকায়, লালমনিরহাটে নূরুল ইসলাম প্রধান, হাতিবান্ধা খন্দকার মো: নুর নবী কাজল এবং সাতক্ষীরা ইসমাইল হোসেন নীরবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রিজভী বলেন, এছাড়াও শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানের চট্টগ্রামের বাসায় পুলিশ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তল্লাশীর নামে ব্যাপক তান্ডব চালায় এবং বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।

স্বেচ্ছাসেবক দল লালমনিরহাট জেলার সভাপতি আবু ইয়াহিয়া ইউনুস আহমেদের বাসায় তল্লাশীর নামে ব্যাপক ভাংচুর ও তান্ডব চালিয়েছে পুলিশ। দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা দায়ের, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং বাসায় বাসায় তল্লাশীর নামে পুলিশী তান্ডবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী। একইসাথে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির ও বাসায় বাসায় পুলিশী তান্ডব বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

নিজামপুর সরকারী কলেজে অনার্স ১ম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস

নিজস্ব প্রতিনিধি

উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মিরসরাইয়ের নিজামপুর সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষ হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থপনা বিভাগের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গনে অনার্স ভবনে নিজামপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মেজর রফিক উদ্দীনের সভাপত্বিতে ও অধ্যাপক আশরাফ নিজামীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মেজর রফিক উদ্দীন নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আমাদের সম্পদ।নিজামপুর কলেজে পড়াশুনা করে তোমরা নিজেকে এবং দেশের জন্যে যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে তুলবে।সন্ত্রাস,মাদক ও জঙ্গি বাদ থেকে নিজেকে দুরে রাখতে হবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নব নির্বাচিত কলেজ শিক্ষক পরিচালনা পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিয়া খান,অধ্যাপক জসিম উদ্দিন,ফরহাদ হোসাইন,আশরাফ নিজামী।

শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বক্তব্য শেষে নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় নিজামপুর সরকারী কলেজের শিক্ষক/শিক্ষিকা বৃন্দ।

কা/হা

শিল্পপতি ফখরুল ইসলাম খাঁন সিআইপির গন-সংবর্ধনা আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি

মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি, সুমাইয়া গ্রুপ,আবুধাবী ও এফ.আই.কে প্রোপ্রাটিজ ডেভেলপমেন্ট লিঃ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি ফখরুল ইসলাম সিআইপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে ২০১৭ সালের বৈধ চ্যাণেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী
ক্যাটাগরিতে বানিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ অর্জন করায় আজ বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টা শারজাহ মোবারক সেন্টার, রোলা, এশিয়ান প্যালেসে মিরসরাই সমিতির উদ্যোগে এই গন-সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শেখ আতাউর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত মিরসরাই সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদরা বক্তব্য রাখবেন।

মিরসরাই সমিতির সকল সদস্য, ও প্রবাসী ভাইদের যথা সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন সমিতির সাধারন সম্পাদক মোরশেদ আজম।

খালেদা জিয়ার জামিন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

গত ১২ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

দৃষ্টিনন্দন বাংলার তাজমহল মসজিদ

বিশেষ প্রতিবেদক

বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা ভারতের আগ্রার তাজমহলের মতো। ধবধবে সাদা রঙে আবৃত মসজিদটি এক নজর দেখার জন্য অনেকে ছুটে আসেন। কার্পেটিং করা সড়ক ঘেঁষে চার দেয়ালের সীমানা প্রাচীরের মধ্যখানে এমন একটি মসজিদ দেখার অনুভূতি অনেকেরই জাগতে পারে। মসজিদের সামনে সবুজ বেষ্টনী আর ফ্লোর করা বিশাল মাঠ। দুপাশে দুটি পুকুর। পুকুরে সানবাঁধানো ঘাট, পুকুর ধারে ঘাটের পাশে কাঠ বাদাম গাছের মেঘের মতো ছায়া।

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের জোরারগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে এই মসজিদের অবস্থান। যাকে স্থনীয়রা এক নামে ‘তাজমহল মসজিদ’ নামে চেনেন। পুরো ১ একর জমির ওপর একটি মসজিদ, দুটি একাডেমিক ভবন, মসজিদের দুপাশে দুটি পুকুর। যাতে রয়েছে সানবাঁধানো ঘাট। আর মধ্যখানে রয়েছে সবুজ ঘাসের বেষ্টনী আর ফ্লোর করা বিশাল মাঠ। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় এমনি দৃশ্য। পুরো মসজিদটি সাদা রংয়ে আবৃত। এটি তৈরি করা হয়েছে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে। মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট যার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে চারটি পিলার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সাল। স্থানীয় ৬ নম্বর ইছাখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা মরহুম মৌলভী নজির আহমদের ছেলে প্রয়াত আলহাজ সফিউল্লাহ তার নিজস্ব জমিতে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে সময় তিনি প্রায়ই ভারত সফরে যেতেন। সফরে গিয়ে তাজমহলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। পরে তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তাজমহলের আদলে দেশে একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন। এক প্রকৌশলীর সহায়তায় আগ্রার তাজমহলের আদলে হার্ডবোর্ড দিয়ে মসজিদটির নকশা তৈরি করেন। ওই নকশা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সম্পূর্ণ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তে নির্মাণ করেন দ্বিতল বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন। সেখানে ২০০০ সাল থেকে একটি দাখিল মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। যা তার পিতা মরহুম মৌলভী নজির আহমদের নামে নামকরণ করেন ‘মৌলভী নজির আহমদ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা।’

বর্তমানে ওই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে উপজেলার শ্রেষ্ঠ একটি বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে। মসজিদের আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন। স্থানীয়রা অনেকে বিকেলে আছরের নামাজ আদায় করে পুকুর ঘাটে কিংবা মাঠে বসে গল্প করেন মাগরিব পর্যন্ত। আবার অনেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে এশার পর্যন্ত এখানে বসে সময় কাটান। সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ হওয়ায় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণা বাতাসে নিজেকে সপে দিয়ে অনেকে গল্পের ফাঁকে মাঠে ঘুমিয়ে পড়েন অপকটে।

এ দিকে মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, দোতলা বিশিষ্ট। মসজিদের নিচতলায় পুরুষ একসাথে ২৫০ জন, আর দোতলায় মহিলারাসহ মোট ৫০০ জন একযোগে নামাজ আদায় করতে পারেন। দোতলায় ওঠার জন্য মসজিদের ভেতরে দুই পাশে দু’টি সিঁড়িও রয়েছে। প্রতিদিন মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়রা একসাথে জোহরের নামাজ আদায় করেন।

‘চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবেলার আপদকালীন ফান্ডে অর্থসঙ্কট’

নিউজ ডেস্ক..

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আপদকালীন সময়ের জন্যে অর্থসঙ্কট আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।

এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্বের বক্তব্যে দুর্যোগ প্রস্তুতির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দুর্যোগে আপদকালীন সময়ে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দেয়া খুব জরুরি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দুর্যোগের সময় আপদকালীন ফান্ডে অর্থের ক্রাইসিস রয়েছে। সকালে বিষয়টি জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং সচিব স্যারকে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছি। আশা করি দ্রুত পর্যাপ্ত পরিয়াণ অর্থ বরাদ্দ পাব।’

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বন্দর, স্কাউটসের প্রতিনিধিবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরো বলা হয়, দুর্যোগ প্রতিরোধে সক্ষমতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলী’ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে, যাতে উপকূলবর্তী মানুষেরা আশ্রয় নিতে পারে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।

জিম্বাবুয়ের সফর : কী ধরনের পরিবর্তন হবে দলে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে ২১ অক্টোবর থেকে একটি সিরিজ খেলবে। যেখানে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে দলটি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ইনজুরিতে ভুগছেন। যাদের মধ্যে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মতো বড় ক্রিকেটারের নাম রয়েছে।

এশিয়া কাপের পর শোনা যাচ্ছিলো যে অনেকটা আনকোরা একটি দল দেয়া হতে পারে এবারের সিরিজে।

তবে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলছেন, এখানে সব কিছু মিলিয়ে সেরা দলটি নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যাপার থাকে।

সেক্ষেত্রে ফর্মে থাকা ক্রিকেটারদের রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিটন দাস চার দিনের একটি ক্রিকেট ম্যাচে ১৪২ বলে ২০৩ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন।

মারকুটে এই ইনিংসে ৩২ টি চার ও ৪ টি ছক্কা হাকিয়েচেন তিনি। রাজশাহীতে রংপুর ও রাজশাহীর মধ্যকার ম্যাচে রংপুরের হয়ে এই ইনিংস খেলেন লিটন।

তবু কতটা শক্তিশালী দল গঠন করা সম্ভব?
“যেহেতু দুজন খেলোয়াড় এখন পুরোপুরি ইনজুরিতে আছেন, সে হিসেবে দল সাজানো হচ্ছে, তবে টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে আমাদের এখন খেলোয়াড় আছে, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ভালো ক্রিকেটারদেরই নেয়া হবে,” বলছিলেন নান্নু।

তবে কিছু নতুন খেলোয়াড় নেয়ার কথাও বলেছেন প্রধান নির্বাচক।

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, “চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নাম বলা যাবে না, তবে কিছু তো নতুন মুখ থাকবেই, তিনটি ম্যাচ রয়েছে, তিনটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।”

সেক্ষেত্রে মিজানুর রহমান ও শাদমান ইসলামের মতো নামগুলো আসতে পারে স্কোয়াডে।

দল ঘোষণার বিষয়ে আরো কিছু বিষয় মাথায় রাখছে নির্বাচক প্যানেল।

নান্নু বলেন, যেহেতু প্রথম শ্রেণির খেলা চলছে, এজন্য একটু আগেভাগে স্কোয়াড দেয়া হবে। কারণ জাতীয় লিগের অন্যান্য দলগুলোতে প্রভাব না পড়ে। সেক্ষেত্রে ওয়ানডে দলের জন্য ১৩ জনকে রেখে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

এশিয়া কাপের দল থেকে বেশ কিছু পরিবর্তন হওয়ার কথা বলেছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

তবে সেটা প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন নান্নু। তিনি বলেন, “ফোর ডে ম্যাচের সাথে ওয়ানডের পার্থক্য রয়েছে, তাই এখানে ভালো পারফর্ম করলেই যে নেয়া হবে ব্যাপারটা এমন নয়।”

বিএনপি যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার কর্মপন্থা নির্ধারণ আজ

 


নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি বৃহত্তর কার্যকর ঐক্য নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনার পাশাপাশি দফা ও লক্ষ্য স্থির করতে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতারা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তবে এ বৈঠকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনা হচ্ছে না, এমনকি আগেও হয়নি। প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এসব বিষয় নিয়ে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার কারো মধ্যেই আপাতত তেমন আগ্রহ নেই, এসব নিয়ে সবাই চায় কম বিতর্কে জড়াতে।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকে আলোচনার এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে গত মঙ্গলবার ও গতকাল কয়েক দফা বৈঠক হয়। আজকের বৈঠকে যেন অহেতুক কোনো বাগি¦তণ্ডা না হয় সে ব্যাপারে ঐক্যপ্রক্রিয়ার সম্পৃক্তরা এজেন্ডা চূড়ান্ত করেছেন গতকাল।

সূত্র জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের পর একটি বৃহত্তর ঐক্য হয়ে গেছে শুধু এমন ধারণা নিয়ে কাজ করলেই কাক্সিক্ষত ফল আসবে না,সর্বস্তরের জনগণও এতে সম্পৃক্ত হবে না। তাই এসব বিষয় নিয়ে গত দু’দিন আন্দোলন এবং ভবিষ্যতে কাক্সিত সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়। ঐ সময় কার কী ধরনের ভূমিকা থাকবে এসব বিষয় নিয়ে কিভাবে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা যায় তা সৃষ্টি করতেই এখন আলোচনা হচ্ছে। জানা গেছে, এক ধরনের গ্যারান্টি আদায়ের পালা চলছে। আর এ জন্য তাড়াহুড়া না করতে আস্থা তৈরিতে আগামী দিনগুলোতে আরো যুগপৎ কর্মসূচি বিশেষ করে রাজপথের পাশাপাশি সভা-সেমিনার আয়োজন নিয়ে আলাপ-আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। আর এসবের ফাঁকে বাকি অন্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা যাবে ধরে নিয়ে আজকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তবে ঐক্যপ্রক্রিয়ার অপর একটি সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকটি মূলত বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া এ পর্যন্ত সব ক’টি দফার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ দিতে আলোচনা হবে। জানা গেছে এ পর্যন্ত সবার পক্ষ থেকে ডজন খানেক দফা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। যা নিয়ে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও ঐক্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে এখনও অনেক মতবিরোধ আছে। আর এগুলোকে আরো সংক্ষিপ্ত করে জনগণের কাছে তুলে ধরতে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

এসব তথ্য দিয়ে নয়া দিগন্ত প্রতিবেদককে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন জানান, খসড়াটি চূড়ান্ত করেই আজ জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনকে কাছে দেয়া হবে। জানা গেছে, এটি চূড়ান্ত করতে গতকাল সকালে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় কয়েক দফা বৈঠকও হয়। এ ছাড়া এটি চূড়ান্ত করার আগে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতরাও নিজেদের মধ্যে গত বুধবার বৈঠকে বসেন।

২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের স্মারকলিপি প্রদান

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্ছ শাস্তির দাবীর পক্ষে ব্রাসেল্স বাংলাদেশ দূতাবাসে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।
স্মারক লিপি প্রদান কালে উপন্থিত ছিলেন সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক খোকন শরীফ বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সিনিয়ার সহ সভাপতি বাবু বিধান দেব যুগ্ম সম্পাদক দাউদ খান সোহেল প্রচার সম্পাদক আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারী আরিফুল হক রাষ্টদূতের পক্ষে স্মারক লিপি গ্রহন করেন।