রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 669

খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি শুরু, মেডিকেল বোর্ডের সাথে সাক্ষাত বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি দেওয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার তার সাথে দেখা করবে মেডিকেল বোর্ড।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কোনো অবনতি হয়নি। আজ (মঙ্গলবার) থেকে তাকে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। সকালে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধানসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম হাসপাতালে নিয়মিত রাউন্ড দিয়েছে।’

এই দলে পরিচালক আবদুল্লাহ আল হারুনসহ, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরী ও আরেক সদস্য সৈয়দ আতিকুল হক ছিলেন।

আবদুল্লাহ আল হারুন আরো বলেন, ‘আগামীকাল (বুধবার) বিকেল ৪টায় মেডিকেল বোর্ডের গঠিত পাঁচ সদস্যই খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে যাবতীয় ব্যবস্থাই হাসপাতাল থেকে যথাযথভাবে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল(মঙ্গলবার) রাতে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।’

সোমবার বিএসএমএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া ৩০ বছর ধরে বাতের সমস্যায় ভুগছেন। যার ফলে উনার বাঁ হাত একটু বাঁকা হয়ে গেছে। মূলত তার গেঁটে বাতটা বেড়ে যাওয়ার ফলে এসব সমস্যা বাড়ছে। বাতের কারণে খালেদা জিয়ার যেসব ওষুধ যে পরিমাণে খাওয়া দরকার ছিল, ঠিক পরিমাণে তা খাওয়া হয়নি। যার ফলে এ সমস্যা শুরু হয়েছে। এ জন্য তার বাঁ হাত অবশ ও বাঁকা হয়ে গেছে।’

ডা. জলিল আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রধান সমস্যা হলো গেঁটে বাত, কোমরে ব্যথা, মাজায় ব্যথা ও হাতে ব্যথা। এ ছাড়া তার বাঁ হাত বাঁকা হয়ে গেছে কিছুটা। এ ছাড়া তিনি ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে ভুগছেন। তার গিরায় গিরায় ব্যথা আছে, হাই প্রেসারের সমস্যা আছে। হাঁটু প্রতিস্থাপন করার কারণে হাঁটুতেও সমস্যা আছে। সেটিও কিছুটা বেড়েছে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাঁকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ আতাউর রহমান ওমানে সংবর্ধিত

মিরসরাই প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান ওমানে সংবর্ধিত হয়েছেন। সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হামিরিয়ায় একটি রেষ্টুরেন্টে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মিরসরাই সমিতি ওমান এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আব্দুল কাইয়ুমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শেখ আতাউর রহমান। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন ওমান হামেরিয় আওয়মী লীগের সভাপতি মো: রেজাউল করিম, মো: নবী, জীবন চৌধুরী, মো: সাইফুল, মো: কামরুল, মো: হারুন, মো: সবুজ প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে সাইমুন হোসেন (৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে। সাইমুন বারইয়ারহাট কদমতলা মাদারাসার নুরানী তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।
জানা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার নানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় পুকুরঘাটে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে পুকুরে জাল দিয়ে তার তাকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
সাইমুন উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের সেকান্তর হাজ্বি বাড়ির নুরের সালাম ও নাছিমা আক্তারের একমাত্র ছেলে।

কোটা বহালের দাবিতে মিরসরাইয়ে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটা বহালের দাবিতে ঢাকা-চট্ট্রগাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে অবরোধ সহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখা। সোমবার (৮অক্টোবর) সকাল ১১টায় মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসদরে ১১টায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।পরে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবিরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন এবং সরকারী চাকুরীতে প্রথম শ্রেণী সহ সকল গ্রেড এ ৩০% কোটা বহাল করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানকারী এবং বঙ্গুবন্ধুর ছবি ভাংচুরকারী দেশদ্রোহীদের চিন্হিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সন্তানদের সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা বাতিল করতে হবে।

আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন কান্তি ধুম এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক জাফর উদ্দিন এর সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান খৈয়াছরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, মিরসরাই পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাফর ইকবাল, পৌর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, আওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল প্রমুখ ।

মিরসরাইয়ে কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে হয়রানির অভিযোগ

মিরসরাই প্রতিনিধি

অবসরোত্তর সুবিধা না দিয়ে জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুল ইসলামকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে । কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দোহাই দিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আশিষ কুমার দেববর্মণ এ হয়রানি করছেন বলে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম সোমবার (৮ অক্টোবর) মিরসরাই প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১৫ জুন জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে তিনি নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক অবসরোত্তর প্রাপ্য সুবিধাদি পেতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে আবেদনের বিধান রয়েছে। কিন্তু কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজ পরিচালনা কমিটির দোহাই দিয়ে তাকে সে আবেদন করতে না দিয়ে উল্টো নানা ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন। ফলে তিনি আর্থিক ও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

অন্যদিকে পরিচালনা কমিটিকে প্রভাবিত করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের বেতন ভাতা ১০গুন বৃদ্ধি করেছেন এবং নিজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন কুট কৌশলের মাধ্যমে কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ দীর্ঘায়িত করে চলেছেন। আশিষ কুমার বর্মন শিক্ষক সমিতি’র (বাকবিশিস) নেতা হয়ে শিক্ষক বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্ববিরোধী নজির স্থাপন করেছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আশিষ কুমার দেব বর্মন বলেন, কামরুল ইসলাম অধ্যক্ষ থাকাকালীন অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করেছেন। সে টাকার জন্য উনাকে আন্ডারটেকেন দিতে বলেছিলাম। উনি দিচ্ছেন না। এক প্রশ্নের জবাবে আশিষ কুমার দেব বর্মন বলেন, না ওই টাকা (কথিত অতিরিক্ত টাকা) চেয়ে মন্ত্রনালয় থেকে কোন চিঠি আসেনি। তাহলে কেন আপনারা সেই টাকা চাচ্ছেন এই প্রশ্নের সঠিক কোন জবাব তিনি দিতে পারেননি।

কোটা বহালের দাবিতে মিরসরাইয়ে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ

::মিরসরাই প্রতিনিধি::

৩০% কোটা বহালের দাবিতে ঢাকা-চট্ট্রগাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে অবরোধ সহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখা। সোমবার (৮অক্টোবর) সকাল ১১টায় মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসদরে ১১টায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।পরে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবিরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে আন্দোলনকারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন এবং সরকারী চাকুরীতে প্রথম শ্রেণী সহ সকল গ্রেড এ ৩০% কোটা বহাল করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানকারী এবং বঙ্গুবন্ধুর ছবি ভাংচুরকারী দেশদ্রোহীদের চিন্হিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের সন্তানদের সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা বাতিল করতে হবে।
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিরসরাই উপজেলা শাখার সভাপতি নয়ন কান্তি ধুম এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক জাফর উদ্দিন এর সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান খৈয়াছরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী, মিরসরাই পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাফর ইকবাল, পৌর আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, আওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল প্রমুখ ।

মিরসরাইয়ে অবশেষে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলো দক্ষিন অলিনগর

::মিরসরাই প্রতিনিধি::
মিরসরাইয়ে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে করেরহাটের দক্ষিন অলিনগরের দূর্গম পাহাড়ি জনপদ। স্থানীয় সাংসদ ও গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অল্টিমেটামে অবশেষে আজ (৮ অক্টোবর ) বিকেলে লাইনটি চালু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় আলোকিত হলো দূর্ঘম পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, করেরহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সম্পাদক কামরুল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -৩ এর সচিব আক্তারুন্নবী শামীম, জাবেদ ইকবাল, বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের এজিএম হামিদুল হাসান, মিরসরাই জোনাল অফিসের ইঞ্জিনিয়ার আলি আকবর, এলাকা পরিচালক জাহাঙ্গির আলম বাবুল।

এর আগে গত ১ আক্টোবর সকালে বনবিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের দ্বন্ধ ও ঘুষ দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে লাইনটি দ্রুত চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী গ্রামের বাসিন্দারা। ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংযোগটি পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন পূর্তমন্ত্রী। পরে শনিবার দুপুরে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আজ বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে ১৫০ পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগটি চালু করা হয়।

এন্টারটেইনার অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ১৬ গুণী ব্যক্তি

 


নিজস্ব প্রতিনিধি

আমাদের দেশ আমাদের ভাষা আমাদের সংস্কৃতি আমাদের অহংকার এই থীমকে হৃদয়ে লালন করে উপমহাদেশে প্রথম মূলধারার সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার সম্মাননা ‘এন্টারটেইনার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’-এ এবার যারা মূলধারা সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ কর্মনৈপুণ্যের জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন –

শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে মুজফফর আহমদ ( মরণোত্তর ) , ভাষা বিজ্ঞানী ও নাট্যকার হিসেবে ড. রাজীব হুমায়ুন ( মরণোত্তর ) , সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক ( মরণোত্তর ) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ , সেরা উন্নয়ন সংগঠক ও শ্রেষ্ঠ উপস্থাপক ফারজানা রশীদ ব্রাউনিয়া , সেরা সংগঠন ভাষা শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি পরিষদ , সেরা মূকাভিনয় শিল্পী , ও নির্দেশক নাদেজদা ফারজানা মৌসুমী , সেরা বাচিকশিল্পী বদরুল আহসান খান , সেরা সৃজনশীল সাংবাদিক রিমন মাহফুজ , সেরা বিনোদন সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ জসিম , সেরা নৃত্যশিল্পী শারমীন হোসাইন , সেরা মঞ্চনাট্য পরিচালক শিশির দত্ত, সেরা সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নাট্যকার কানাই চক্রবর্তী , সেরা সংগীত শিল্পী , গীতিকার ও সুরকার শান্তনু বিশ্বাস , সেরা শিক্ষক জসিম উদ্দিন সরকার , সেরা আলোকচিত্রশিল্পী মউদুদুল আলম , সেরা পরিচালক ( টিভি ) শাখাওয়াত শিবলী।

উপমহাদেশে প্রথম মূলধারা সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে উপমহাদেশের কাকাবাবুর শহরে, বাংলার আদি কবি চর্যাপদের কবি মিননাথের শহরে, মহাকবি আব্দুল হাকিমের শহরে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবের শহরে, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শহরে, স্বাধীনতা ঘোষণার শহরে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালকের শহর চট্টগ্রাম শহরে।

এবার সম্মাননা প্রাপ্তদের পাশাপাশি সন্দ্বীপের কৃতিসন্তান হিসেবে বিশেষ সম্মাননায় সম্মানিত করা হবে জেনারেল ( অবঃ) ড. হাসান সারোয়ার্দি চৌধুরী বীরবিক্রম এনডিসি, পিএসসি কে । প্রথম কোনো সন্দ্বীপ সন্তান হিসেবে তিনি ই প্রথম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন হয়ে দ্বীপ ভূমি সন্দ্বীপকে একটি অনন্য মর্যাদায় অলংকৃত করেছেন।

উপমহাদেশে প্রথম মূলধারার সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার সম্মাননা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকারী ও উদ্যোক্তা এবং আয়োজক সংগঠন চট্টগ্রাম মিডিয়া ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং জালাল ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আনপ্রেজুডিস ক্রিয়েশন এন্ড কমিউনিকেশনস’র চেয়ারম্যান এ কে এম সামশুজ্জামান ভূঁইয়া সোহেল মূলঅনুষ্ঠানটি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন l

অনুষ্ঠানটি আনপ্রেজুডিস ক্রিয়েশন এন্ড কমিউনিকেশনস’র সার্বিক তত্ত্ববধানে যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে l এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে জেনারেল ( অবঃ) ড. হাসান সারোয়ার্দি চৌধুরী বীরবিক্রম এনডিসি, পিএসসি উপস্থিত থাকবেন। ইতিপূর্বের সেলিব্রিটি স্ব স্ব ক্ষেত্রে বর্তমান সেলিব্রিটিদের অ্যাওয়ার্ড তুলে দিবেন এবং আমন্ত্রিত বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

হবিগঞ্জে অগ্নিকান্ডে বসতঘর পুড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

 


আজিজুল ইসলাম সজীব, হবিগঞ্জ

বানিয়াচঙ্গে অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর পুড়ে গেছে। রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর বসত ঘরে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকান্ডে নগদ টাকা, ধান-চাউলসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

স্থানীয়রা জানান, কৃষক আনোয়ার আলীর বসত ঘরে হাঠাৎ করে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। পরে মুহুর্তের মধ্যেই আগুণের লেলিহান শিখা বসত ঘরের চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন প্রায় ঘন্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকান্ডে ঘরে থাকা প্রায় ১শত মন ধান, চাউল, নগদ টাকা পয়সাসহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অগ্নিকান্ডের সময় আনোয়ার আলীর বতসঘরের চার পাশের লোকজনদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

হঠাৎ কেন এত ‘গায়েবি মামলা’

কোনো ঘটনা ঘটেনি, তারপরও কল্পিত ঘটনায় মামলা  কল্পিত ঘটনার মামলা গায়েবি মামলা নামে পরিচিতি পেয়েছে
লক্ষ্য—একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির দাবি, ৪ হাজারের বেশি মামলা করেছে পুলিশ মামলায় আসামি ৩ লাখ ৬০ হাজার, গ্রেপ্তার ৪৬০০ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার ভিত্তিতে আসামি করা হচ্ছে গায়েবি মামলার তথ্য গণমাধ্যমে আসায় বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত প্রত্যেক নেতাকে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পুলিশ বাদী হয়ে সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘গায়েবি’ মামলা করছে। ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের পুলিশের বেশ কিছু সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীর সম্ভাব্য এজেন্ট কারা এবং মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার সক্ষমতা কার আছে, এমন নেতা–কর্মীদেরও শনাক্ত করে মামলার আওতায় আনতে থানাপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রগুলো বলছে।

এদিকে বিএনপির তৈরি এক হিসাবে দাবি করা হচ্ছে, গত এক মাসে সারা দেশে তাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে চার হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এতে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত মিলিয়ে আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার। গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজার ৬০০ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাঠপর্যায়ের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনার ভিত্তিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি ধরে ধরে মামলার আসামি করা হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো মামলায় মৃত ব্যক্তি, হজে থাকা, বিদেশে থাকা, বয়োবৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে চলাফেরায় অক্ষম ও কারাগারে থাকা নেতা-কর্মীরাও আসামি হয়ে গেছেন, যা গণমাধ্যমে আসায় কিছুটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়েছে।

মামলা দেওয়া ছাড়াও নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতি জেলার জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রগুলো জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা এ পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন তদারকিতে যুক্ত আছেন। তাঁরা পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) আলাদাভাবে পুলিশ সদর দপ্তরে ডেকে এসব পরিকল্পনা বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। এ ধরনের কোনো কোনো বৈঠকে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাও উপস্থিত থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র, ডিআইজি (গণমাধ্যম ও পরিকল্পনা) রুহুল আমিন বলেছেন, এটা ঠিক নয়। তবে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য এসপিদের সঙ্গে বৈঠক হতেই পারে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশের বেশ কটি সূত্র থেকে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেই বিএনপির কমিটির তালিকা থানার পুলিশকে পাঠিয়ে প্রত্যেকের ঠিকানা যাচাই করতে বলা হয়। যাঁদের একাধিক ঠিকানা আছে, সেটাও বের করতে বলা হয়েছে। বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে আসা নেতা–কর্মীদের ছবি তুলতে বলা হয়েছে। পরে ছবি দেখে নেতা-কর্মীকে শনাক্ত করে, যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় নিবাচনে বিএনপির সম্ভাব্য এজেন্টদেরও শনাক্ত করে এবং বিগত বিভিন্ন নির্বাচনে যাঁরা বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন, তাঁদেরও মামলার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে থানা-পুলিশকে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এসব গায়েবি মামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনের সময়ে নেতা-কর্মীরা যাতে মাঠে থাকতে না পারেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাতে প্রার্থী হতে না পারেন। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো মনে করি, এটা সরকারের নীলনকশা। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এসব মামলা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কিছু করছে না। আর বিএনপি অভিযোগ সব সময় করে। বেশির ভাগ অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ ধরনের কথিত গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করে পুলিশ। ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চট্টগ্রামের পাঁচটি থানায় ‘ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বৈঠকের’ অভিযোগ এনে বিএনপির ১২৪ নেতা-কর্মী এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে পুলিশ। সব কটি মামলায় এজাহারের বর্ণনা অভিন্ন। শুধু ঘটনাস্থল, আসামির নাম ও বাদীর নাম ভিন্ন। এতে বিদেশে ছিলেন, এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে তখন ওই সব মামলা করা হয়েছিল। ওই সব মামলা নিয়ে গত ৩ এপ্রিল প্রথম আলোতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর গত আগস্টে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কিছু মামলা হয়, তখন অনেকে গ্রেপ্তারও হন।

১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশে বড় জমায়েত হওয়ার পর থেকে সারা দেশে ব্যাপকভাবে কথিত গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু হয়। এতে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদেরও আসামি করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীকেও আসামি করা হয়। অনেক মামলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের নামও আসামির তালিকায় এসেছে।

বিভিন্ন মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলাগুলোর এজাহারও প্রায় একই ছকে লেখা। গোপন বৈঠক, নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া, পুলিশ গেলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ইত্যাদি অভিযোগে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এতে লাঠি, বাঁশ, ইটের টুকরাসহ কিছু আলামতও জব্দ দেখানো হচ্ছে।

এ ধরনের মামলা নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে, কোনো ঘটনা ঘটেনি, এরপরও কল্পিত ঘটনার কথা উল্লেখ করে পুলিশ মামলা দিয়েছে। তাই এসব মামলা ‘গায়েবি মামলা’ হিসেবে লোকমুখে প্রচার পেয়েছে। বিএনপি এসব মামলাকে ‘ভৌতিক মামলা’ বা ‘কল্পিত মামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘কোনো মানুষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়া মামলা বা গ্রেপ্তার করা হলে তা আইনবহির্ভূত। আমাদের প্রত্যাশা, এভাবে কাউকে যেন কোনো প্রকার হয়রানি বা নির্যাতন করা না হয়।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৈরি করা এক হিসাবে দেখা যায়, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১৩৫টি মামলা হয়েছে। এতে মোট আসামি ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩১৪। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি ৮৫ হাজার ৬০৪ জন। অজ্ঞাত আসামি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭১০ জন। এই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ হাজার ৬৫০ জন।

পুলিশের হিসাবে, গত এক মাসে সারা দেশে মোট মামলার সংখ্যা কত—এটা জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রস্তুত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

ঢাকার বাইরে ১৯ জেলা ও মহানগর থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ওই ১৯ জেলায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলার সংখ্যা ১৮৭। মোট আসামি ১২ হাজার ৫৮ জন। গ্রেপ্তার ৪০৪ জন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে কমপক্ষে ১২৩টি মামলা হয়েছে। ঢাকার আদালত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত মাসের প্রথম ১২ দিনে ঢাকার ৩২টি থানায় ৮৬টি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করে ১৬৯ জনকে। রাজধানীর চকবাজার থানার এক মামলায় পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করার অভিযোগে ২৮ মাস আগে মারা যাওয়া বিএনপির নেতা আবদুল আজিজুল্লাহকে আসামি করা হয়। হজে ছিলেন, এমন ব্যক্তিও এই মামলার আসামি।

গত সোমবার ঢাকার ৩১টি থানায় ৩৭ মামলা হয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় ১৯৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মূলত গত রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা শেষে ফেরার সময় বিভিন্ন স্থান থেকে এঁদের আটক করা হয়। এর মধ্যে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির ৭ জন নেতাসহ ৫৫ জনকে আসামি করে। তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, মগবাজার রেলগেট এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, তাঁরা ওই দিন এমন কোনো ঘটনা দেখেননি বা শোনেননি। এই আসামিদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশেই ছিলেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও এ মামলার আসামি। তিনি বলেন, এটা হচ্ছে হীরক রাজার দেশ, যা বলবে তাই হবে, হচ্ছে। পুলিশ আগেই মামলা কম্পিউটারে সাজিয়ে রেখেছে, এখন শুধু নাম বসিয়ে দিচ্ছে।

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র উপমহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও পরিকল্পনা) রুহুল আমিন বলেন, এ অভিযোগ ঠিক নয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণত কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা বা তাঁকে ধরার কথা নয়। বিএনপির নেতাদের যদি মনে হয় যে অন্যায়ভাবে কাউকে আসামি করা হচ্ছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের ইউনিট প্রধানের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পারেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান তত বাড়বে। নির্বাচনের আগ দিয়ে এসব মামলা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অজামিনযোগ্য এসব মামলায় গ্রেপ্তার হলে জামিনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে হবে। সব ধাপ পার হতে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। তত দিনে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া এসব মামলায় এখন যেসব নেতা উচ্চ আদালত থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগাম জামিন পাচ্ছেন, তাঁদের জামিনের মেয়াদ নির্বাচনের আগেই শেষ হয়ে যাবে। তখন তাঁদের আবার নিম্ন আদালতে যেতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শাহদীন মালিক বলেন, ‘পুলিশ স্পষ্টত রাষ্ট্রের পুলিশের পরিবর্তে সরকারের পুলিশ হয়ে গেছে। এরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ক্রমাগত যোগ্যতা হারাচ্ছে। ফলে নির্বাচনের সময় আমার ধারণা, সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করার পক্ষে বিভিন্ন দলের যে দাবি, তার যৌক্তিকতা বাড়ছে।’