শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 671

মিরসরাইয়ের সোনাপাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র্যাবের অভিযান, গুলিবিনিময়-বোমা বিস্ফোরণ

::মিরসরাই প্রতিনিধি::
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র্যাব ৭-এর অভিযান চলছে। এ সময় সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
তবে এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভোর সাড়ে ৫টা থেকে র্যাবের এই অভিযান শুরু হয়। জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র্যাব সেই বাড়ি থেকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার ভোরে র্যাব ৭-এর ফেনী ক্যাম্প পিপিএম অধিনায়ক শাফায়াত জামিল ফাহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

র্যাব জানায়, মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ বিএসআর এরএম স্টিল মিল ও বারইয়ারহাটের মাঝামাঝি সোনাপাহাড় এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান নেয়া জঙ্গিদের সাথে তাদের গোলাগুলি হচ্ছে। বাড়ি থেকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল টিম রওনা দিয়েছে। সেই টিম আসলে র্যাব বাড়ির ভেতরে ঢুকবে।

মিরসরাইয়ে পাহাড়ি জনপদে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি দেখতে ভিড় করছে পর্যটকরা

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের পাহাড়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাড়ি এখন অনেকটা পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। শখের বসে নির্মাণ করা এই বাড়ি দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। শুধু শৈল্পিক বাড়ি নয়, আশপাশের সবুজ শ্যামল দৃশ্য, ফল-ফুলের বাগান আর পাখ-পাখালির কিচির মিচির শব্দ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। কারো মন খারাপ থাকলে এখানে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে করেরহাট ইউনিয়নের কয়লায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদে এই বাড়ি অবস্থিত। ওই এলাকার বাসিন্দা কানাডা প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আফছার হোসেন চৌধুরী শখের বসে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। প্রতিনিয়তই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে বাড়িটিকে দেখতে। সুন্দর নির্মাণ শৈলীতে গড়া বাড়িটি নির্মাণে কত টাকায় ব্যায় হয়েছে এর কোন হিসেব নেই আফছার চৌধুরী’র কাছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরসরাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কয়লার পশ্চিম সোনাই গ্রামের মৃত সিরাজুল হক চৌধুরী’র ছোট ছেলে কানাডা প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আফছার হোসেন চৌধুরী দুই বছর আগে ২শ’ শতক জায়গার উপর শখের বসে তৈরি করেছেন একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। পাহাড়ি জনপদে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা এই বাড়ির নির্মানের পাশাপাশি শখের বসে পালন করছেন টার্কি মুরগিও। যা ভ্রমন পিয়াসু মানুষদের মনকে আকৃষ্ট করে তোলে। মুরগি গুলো পালন করার জন্য বাড়ির ভিতর বিভিন্ন আকৃতির ঘর ও খাঁচা তৈরি করেন। মাঝেমধ্যে টার্কিগুলো বিকট শব্দে ডেকে উঠছে। সাদা ও কালো দুই রঙের টার্কি দেখা গেল। পুরুষ টার্কিগুলোর ঠোঁটের নিচে লাল রঙের লম্বা শূরের মতো ঝুলে আছে। পুরুষ টার্কিগুলো মাঝেমধ্যে পেখম মেলে স্ত্রী টার্কিগুলোর সঙ্গে খুনসুঁটিতে মেতে উঠছে। শুধু টার্কি মুরগী নয়, হাঁস ও ছাগলের খামারও রয়েছে তার বাড়ির আঙিনায়।
বাড়ির চারপাশে কমলা গাছ, পেয়ারা গাছ, কলা, কাঁঠাল, আম, জাম, পেঁপে, বেল, স্ট্রবেরী, জাম্বুরা, আমলকী, জলপাই, ডালিম, আঁতাপল, লেবু, কাগজি সহ শতাধিক প্রজাতির ফলের চারা লাগানো হয়েছে। এছাড়াও দৃষ্টিনন্দন এ বাড়িতে রয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক প্রজাতির ফুল গাছ


এরমধ্যে গাঁদা, গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কারনেশন, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, পিটুনিয়া, ভারবেনা, ক্যামেলিয়া, স্যালভিয়া, জারবেরা, এজালিয়া, কাঞ্চন (সাদা), জবা, কামিনী, অলকানন্দা বা অ্যালামন্ডা, জয়তী বা জ্যাট্রোফা, হাজারপুটিয়া, নয়নতারা সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির ফুলের চারা লাগান।
পাশাপাশি বাড়ির ভিতরে শখের বসে একটি সবজি বাগান করেছেন। এখানে সিম, ঢেঁড়স, আঁকড়ি, ধনিয়াপাতা, টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, কাঁচা মরিচ, শসা ইত্যাদি। বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ৩টি পুকুর খনন করে হাঁস পালনের ঘর ও এগুলোর মধ্যে কই, মাগুর, শিং, রুই, পাবদা, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া, শোলমাছ, কার্পুসহ অনেক প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। রয়েছে দুই শতাধিক হাঁস পালনের খামার, চাগলের খামার ও গরুর ফার্ম।
এছাড়াও বাড়ির পাশে শখের বসে লাগানো হয়েছে দুই শতাধিক মাল্টা বারি-১ ও পাকিস্থানী গাছের চারা। এগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করার জন্য রয়েছে তিনজন কর্মচারী।
অসাধারণ কারুকাজে নির্মিত বাড়ির ভেতরের অংশও দেখার মত। বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে লাইব্রেরী গড়ে তুলেছেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বই, উপন্যাস, গল্পের বইয়ের সমাহার।


এই বাড়িতে বেড়াতে দুবাই প্রবাসী মোরশেদ আজম, শরীফুল ইসলাম খোকন ও তরুণ ব্যবসায়ী অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী আশরাফুল আহসান রাকিব জানান, গ্রামীণ পাহাড়ি জনপদে এমন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি আর চোখে পড়েনি। আমরা বিদেশে অনেক বাড়ি দেখেছি। কিন্তু ফুলে, ফলে, পশু-পাখির কলরবে মুগ্ধ করার মত বাড়ি চোখে পড়েনি। এক কথায় অতুলনীয়। আমরা যখন দেশে এসে এখানে ছুটে আসি। এখানে আসলে সব ক্লান্তি যেন নিমষেই দুর হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কানাডা প্রবাসী ব্যাবসায়ী ও সমাজসেবক আফছার চৌধুরী বলেন, আমি বিদেশে থাকি, ঢাকায় বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ঠিকানা আমার গ্রাম, জন্মস্থান। এই বিষয়টি উপলব্ধি করে আমি বাড়ি নির্মাণ করেছি। দুই বছর আগে শখের বসে বাড়িটি নির্মাণ করায় পাহাড়ের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে অনেক ভ্রমন পিয়াসু মানুষ ছুটে আসে বাড়িটিকে একনজর দেখার জন্য। সকল শ্রেনীপেশার মানুষের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করা হয়েছে। যাতে মানুষ এখানে এসে কোলাহলময় জীবনে প্রবেশ করে সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।


তিনি আরো বলেন, প্রবাসে ব্যাবসার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সেবা করতে যখন সময় পাই তখনই ছুটে আসি নিজের হাতে গড়ে তোলা এই বাড়িতে। বাড়ির ভিতরে যে তালগাছ গুলো রয়েছে। সেই গাছে তালের পাতা দিয়ে সুন্দর করে তৈরি করা বাবুই পাখিদের বাঁধা বাসায় তাদের কিচিরমিচির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙ্গে তার।

মিরসরাইয়ের গ্রামীণ জনপদে অদম্য-২০০৫ এর তালের আঁটি রোপণ কর্মসূচি


মিরসরাই প্রতিনিধি
‘বজ্রপাত প্রতিরোধে তাল গাছের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষার্থে তালের আঁটি রোপণ কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। অদম্য-২০০৫ এর এমন উদ্যোগ স্থানীয় জনসাধারণকে আরো বেশি সচেতন করে তুলবে বলেও আমার বিশ্বাস।’ কথাগুলো মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদের। মিরসরাইয়ের অন্যতম সামাজিক সংগঠন অদম্য-২০০৫ এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তালের আঁটি রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘অদম্য-২০০৫ এর দেখাদেখি অন্যান্য সংগঠনগুলোরও পরিবেশ বান্ধব এসব কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা উচিত।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মুহাম্মদ সাজেদ জানান, ‘চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিস তালের আঁটি সরবরাহ করে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। গ্রামীণ জনপদে তালের আঁটি রোপণ করার এই কাজটি সংগঠনের সদস্যরাও সাদরে গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।’
আঁটি রোপণ উদ্বোধনকালে সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মঞ্জুর আলম ভূইয়া ও মোহাম্মদ হোসেনের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, সংগঠনের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মফিজ উদ্দিন মিশু, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, নাজমুল প্রমুখ। পরে উপজেলার পশ্চিম রহমতাবাদ সড়কে তালের আঁটি রোপণের মাধ্যমে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উল্লেখ্য, সংগঠনটি বিগত বছর প্রায় এক হাজার আঁটি লাগানোর পর এবারও আরো এক হাজার আঁটি রোপণ সম্পন্ন করেছে।

খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় রাখা হয়েছে : রিজভী

 


নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাত-পায়ের যন্ত্রণায় ভুগছেন। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার পরিবারের লোকেরা গতকাল দেখা করতে গিয়ে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনেরা ব্যথিত হয়েছেন। স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। বাম হাত-পা, হাতের আঙ্গুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিও একরকম বন্ধই করে দেয়া হয়েছে। তাঁর জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়নি।

আজ বুধবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, দেশনেত্রীকে গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রাখাটাই যেন সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্র কব্জা করে ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এটা আইনী লেবাসে প্রতিহিংসা পূরণের নমুনা। আমি আবারো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দানুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে তড়িৎ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর স্বজনরা সাক্ষাৎ শেষে আমাকে জানিয়েছেন- গত রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জনসভা সফল করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকাবাসী, বৃহত্তর ঢাকা জেলাসহ সারাদেশের জনগণের মধ্যে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগরী (উত্তর-দক্ষিণ), বৃহত্তর ঢাকা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সারাদেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে গণমাধ্যমের যেসমস্ত সাংবাদিক জনসভা প্রচার ও প্রকাশ করেছেন তাদেরকেও বিএনপি চেয়ারপারসন আন্তুরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। জনসভা চলাকালে ফরিদপুর নগরকান্দার ফুলসুতি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাতুব্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকে ম্রিয়মান পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রিজভী বলেন, এইচ টি ইমাম নামে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা যিনি সরকারের গোপন পরিকল্পনা মাঝে মাঝে প্রকাশ করে দেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করলে তিনি কিভাবে বাছাই করা প্রশাসনের লোকদের দিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলো নিজেদের আয়ত্বে রাখবেন সেটিও পরবর্তিতে প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী সরকারের অনাচারমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশদাতা এই এইচ টি ইমাম কিভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই বিসিএস-এ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন সেটিও একটি সভায় ফাঁস করেছেন। এখন তিনি গায়েবী পরিসংখ্যান ব্যুরোর অধিকর্তা সেজেছেন মুজিব হত্যাকারীদের সহযোগী, এই সাবেক আমলাটি। তিনি বলেছেন-আওয়ামী লীগের ভোট নাকি ৪২ শতাংশ, আর বিএনপির নাকি ৩০ শতাংশ। এসব উদ্ভট পরিসংখ্যান এইচটি ইমামের নিজস্ব নাকি তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টার তা জাতির জানার আগ্রহ আছে। কারণ এহেন অলৌকিক পরিসংখ্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের মাথা থেকে আসাটা যৌক্তিক এই কারণে যে, খন্দকার মোশতাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য বিব্রতকর অবস্থা কাটাতে এখন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে মোসাহেবদের ম্যারাথন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চান। তবে প্রধানমন্ত্রীর মনে রাখা উচিৎ যারা ‘হুজুরের কথায় অমতকার’ বলে মোসাহেবী করেন তারা বিপজ্জনক। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীদেরকে আক্রমণাত্মক হতে হবে বলেছেন, যা শুধু নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী নয়, বরং আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদেরকে সন্ত্রাসী হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উস্কানি দেয়ার শামিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনটি যে ভোটার ছাড়াই হবে এইচ টি ইমামের বক্তব্য সেটিরই পূর্বাভাস। এইচ টি ইমাম এখন আওয়ামী সরকারের ‘রাসপুটিন’ হিসেবে কাজ করছেন – সেজন্যই আওয়ামী লীগ এখন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন- পুলিশের কাছে নাকি তথ্য আছে বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতার ছক আঁকছে। সেজন্যই হাতিরঝিল থানায় বিএনপি মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নামে মামলা হয়েছে। আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই- আপনাদের মতো আপনাদের পুলিশরাও এখন গায়েবী তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। আপনাদের পুলিশ এমনই যে, ঐ মামলায় বর্ণিত ভাংচুর হওয়া গাড়ির নম্বর জানে না। এছাড়াও সম্প্রতি দায়ের করা অনেক মামলায় দুই বছর আগে মারা যাওয়া বিএনপি নেতার নামেও মামলা দেয়া হয়েছে, হজে থাকাকালীন অবস্থায়ও মামলা দেয়া হয়, হাসপাতালে শায়িত ৮৩ বছর বয়স্ক বিএনপি নেতার নামে এবং বিদেশে থাকলেও মামলা দেয়া হয়। পুলিশ বলেছে- মগবাজারে ঘটনা ঘটেছে, অথচ সাংবাদিকরা সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জেনেছে যে, ঐ এলাকায় গাড়ি ভাংচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কোনো তথ্য-প্রমাণ তারা পায়নি। এমনকি ওই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও গাড়ি ভাংচুর বা ককটেল বিস্ফোরণের কথা জানে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। এমন ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশ এখন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় আশীর্বাদ।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় না, আওয়ামী লীগ চায় আনুগত্যতন্ত্র। সেজন্য আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর একনিষ্ঠ অনুগত পুলিশ দেশজুড়ে গ্রেফতার আর মামলার জাল বিছিয়ে বিরোধী কন্ঠস্বর নীরব রাখতে চাচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে গোরস্থানের নীরবতা আর কবরের ভিতরের অন্ধকারের শান্তিতে ক্ষমতাসীনরা উৎফুল্ল, উল্লসিত। এজন্য বাংলাদেশে ওবায়দুল কাদেরদের ভোটারবিহীন গণতন্ত্রের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলকে খতম করতে লাগামছাড়া অভিযান চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ফেনী জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন দুলাল এর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে দা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। গুরুতর আহত আমির হোসেন দুলাল এর আশু সুস্থতা কামনা করছি।

রিজভী জানান, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিএনপির শান্তিপূর্ণ জনসভা শেষে নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আফসার উদ্দিন দেওয়ান, মো: শামীম, মো: সানি, মো: রাজিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলী আহমদ, মো: সোহেল, আমির হোসেন, মো: রুবেল, মো: সোহেল-২, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: আল আমিন, ফয়সাল, রুবেল, আরিফ, কাওছার, মো: বিল্লাল, মো: মিরাজ, মো: রাকীব, মো: সৌরভ, মো: রকি, আরমান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কামাল আহমেদ, মো: সবুজ, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: শ্যামল এবং গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: রাসেলসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, মো: রনি, মো: শুভ, আলম, টিটু, সিরাজুল, সেন্টু, হারুনুর রশীদ হারুন, লিটন, গিয়াস উদ্দিন, রাসেল, কবির, জসিম, পারভেজ, জাহাঙ্গীর, সালাহউদ্দিন, মন্টু, দ্বীন ইসলাম, রিপনসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহীর গুজিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানা ছাত্রদলের সদস্য হাবিবুর রহমান শান্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবী করছি।

ফখরুল মঈন আব্বাসসহ বিএনপির শীর্ষ ৭ নেতার আগাম জামিন


নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের কাজে বাধা ও নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ সাত নেতার অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্টে ।

জামিন পাওয়া অন্য নেতারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিএনপি নেতাদের পক্ষে জামিন সংক্রান্ত আবেদন শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন জমা না দেয়া পর্যন্ত তাদের আগাম জামিন দেয়া হয়।

বিএনপি নেতাদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।

ইতোমধ্যেই এ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিরি এক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন।

মামলায় পুলিশ বলছে, বিএনপি কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।

মামলায় বলা হয়, বিএনপির এসব নেতার এমন বক্তব্যের পর ১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে হাতিরঝিল থানার মগবাজার রেলগেট এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেন। পুলিশ জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ না করতে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা পুলিশকেই হত্যার উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। সেখানে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা লাঠি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মারধর শুরু করেন এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে— রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন, পুলিশকে আক্রমণ করেছেন, যানবাহন ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেছেন। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাঁশের লাঠি, পেট্রোল বোমা, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, কাচের টুকরা ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরসরাইয়ে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ১৪ বছরের হাফেজ নাসির


মিরসরাই প্রতিনিধি

৫দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের রহমতাবাদ গ্রামের হাফেজ নাসির উদ্দিন। তিনি উপজেলার কাজীগ্রাম হাফিজিয়া মাদরাসার প্রথম জামাতের শিক্ষার্থী। তিনি গ্রামের আজিম মোয়াজ্জেম প্রকাশ আলিম মোল্লা বাড়ীর নুরুল ইসলামের পুত্র।
নিখোঁজের ঘটনায় হাফেজ নাসিরের বড় ভাই বাদি হয়ে মিরসরাই থানার সাধারণ ডায়েরী (যাহার নম্বর ১৬১৮) দায়ের করেছেন। পরিবারের দাবি, নাছির এর আগে কখনো নিখোঁজ হননি। গত শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার পর কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।
থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরী সূত্রে জানা গেছে, হাফেজ নাসির উদ্দিন মিঠানালা ইউনিয়নের কাজি গ্রাম মাদ্রাসা থেকে কুরআন হাফেজ শিক্ষা শেষ করে বর্তমানে সে আবাসিক হোস্টেলে থেকে প্রথম জমাতে পড়ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে নাসির বাড়িতে ফিরে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় পরিবারের লোকজনকে কিছু না বলে বাড়ির বাহিরে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।
নিখোঁজ নাছিরের বড় ভাই আবু বক্কর জানান, নিখোঁজের সময় তার গায়ে ছিলো কালো টি-শার্ট ও পরণে ছিলো লুঙ্গি। গায়ের রঙ শ্যামবর্ণ। সে মিরসরাইয়ের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। তার উচ্চতা ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি।

মিরসরাই উপজেলা কাজী সমিতির কমিটি গঠিত


মিরসরাই প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কাজী সমিতি মিরসরাই উপজেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ বছরের জন্য গঠিত কমিটিতে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া হেলাল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ নুরুন্নবী। কমিটির অন্যরা হলেন সহ-সভাপতি কাজী মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন চৌধুরী, কাজী মুহাম্মদ আতাউর রহমান খাঁন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী করিমুল চৌধুরী ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শাহদাত হোসেন চৌধুরী মিনার, অর্থ সম্পাদক কাজী মুফিজুর রহমান, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ তমিজ উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য কাজী এ.কিউ.এম একরামুল হক চৌধুরী, সদস্য কাজী মহিউদ্দিন, কাজী বোরহান উদ্দিন আক্রমী, কাজী আবু বক্কর, কাজী সিরাজ উদ্দিন, কাজী জাকের হোসাইন, কাজী ওমর ফারুক, কাজী সেহাব উদ্দিন।

২দিনের রিমান্ডে সেই তিন ভূয়া ‘ডিবি পুলিশ’

নিউজ ডেস্ক::

মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে প্রতারণার সময় গ্রেফতার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জয়ন্তি রানী রায় এই আদেশ দিয়েছেন বলে জানান । তারা হলেন- মো. ইউসুপ (৩০), আসাদুজ্জামান খাঁন (৩০) ও আলমগীর (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহফুজ।

আসামীদের মধ্যে ইউসুপের বাড়ি বরগুনা, আলমগীরের বাড়ি শরীয়তপুর ও আসাদুজ্জামানের বাড়ি ঝালকাঠি। সম্পর্কের দিক দিয়ে তারা বেশ ঘনিষ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে এ তিনজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় ডিবি পরিচয়ে দাফিয়ে বেড়িয়েছে। এতদিন অসংখ্যঅপরাধ তারা সংঘটিত করেছে। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়াহাট পৌর বাজার ইউর্টান এলাকা থেকে একটি ঢাকামুখী এলিয়ন প্রাইভেট কার থেকে তাদের তিনজনকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
আটক তিনজনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গুলি ও সরঞ্জামাধির কথা উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, তাদের থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, তিন রাউন্ড কার্তুজ, একটি ওয়াকিটকি, একজোড়া হ্যান্ডকাফ, দুইটি
ডিবি পুলিশ লেখা জ্যাকেট, দুইটি গামছা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও জব্দ তালিকায় রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, এই তিনজন ভূয়া ডিবি পরিচয় দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষকে জিম্মী করে চাঁদা আদায় করেছে। ধুম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান থেকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাহফুজ বলেন, দুটো মামলার একটিতে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুইদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আরেকটি মামলায় জেলগেটে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

মিরসরাইয়ে ৯৪১ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে টেকনোলজি সেন্টার

নিউজ ডেস্ক..
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৯৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকনোলজি সেন্টার নির্মাণ করবে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরমধ্যে বিশ্ব ব্যাংক দিচ্ছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা । প্রকল্পের বাকি টাকা দেবে সরকার।
সোমবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স সেন্টারে ‘স্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন মিটিং অন দ্যা প্রপোজড টেকনোলজি সেন্টার (টিসি) টু বি ইস্টাবলিস্ড এ্যাট মিরসরাই ইকনোমিক জোন ইন চিটাগাং’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ আমদানিমুখী দেশ থেকে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত হচ্ছে। এই রপ্তানির ৮০-৮২% পণ্যই তৈরি পোশাক শিল্পের। এরপর রয়েছে ওষুধ শিল্প। যথাযথ সহায়তা পেলে আরো অনেক সেক্টর রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে রপ্তানির নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।

তিনি বলেন, এসব সেক্টরের মধ্যে প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং ফুটওয়্যার পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানিকরণে সরকার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ইসিজে (এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস) প্রজেক্টের মাধ্যমে মিরসরাই ইকোনমিক জোনে একটি টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সেন্টারের মাধ্যমে দক্ষ জনবল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মো. ওবায়দুল আজম বলেন, সরকার মিরসরাই ইকনোমিক জোনে ১০ একর জায়গায় একটি টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে । এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংক আমাদেরকে সহায়তা করছে। টেকনোলজি সেন্টারটি বাস্তবায়িত হলে প্লাষ্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং কারিগরি উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পাবলিক ও প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের সকলের সহযোগিতায় পরিচালনা হবে টেকনোলজি সেন্টার। টিসি’র মাধ্যমে এক্সপোর্ট সাপোর্ট স্ট্রাকচার তৈরি করা হবে। উদ্যোক্তারা রপ্তানির সাপ্লাই চেইনে অন্তর্ভূক্ত হতে পারবে ।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক দক্ষতা বাড়ানো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। দেশে এখন উন্নতমানের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পণ্যের মানোন্নয়ন অপরিহার্য। পণ্যের উৎপাদনে নতুন কারিগরি প্রযুক্তির সংযোজন, আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য সরবরাহ, পণ্য ব্র্যান্ডিং করা ও পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা এ টেকনোলজি সেন্টার থেকে প্রদান করা হবে।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও (অতিরিক্ত সচিব) ও প্রকল্প পরিচালক (ইসিফোরজে) মো. ওবায়দুল আজম, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ ও ওমর হাজ্জাজ, প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি, বেজার ডেপুটি ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, বিশ্ব ব্যাংকের কনসালটেন্ট মৃনাল কান্তি সরকার, প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. লৎফুর রহমান, ইপিবির পরিচালক কংকন চাকমা, বিসিকের প্রমোশন কর্মকর্তা তানিজা জাহান, প্রান্তিক গ্রুপের এমডি প্রকৌশলী গোলাম সরওয়ার, লুবরেফের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ, ওসমানিয়া গ্লাস শীট ফ্যাক্টরী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার, ইউনিভার্সাল রাবারের মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপের মো. মঞ্জুর খান, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মনির আহম্মদ, চামড়া ও চামড়াজাত, ফুটওয়্যার, প্লাষ্টিক ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীগণ।

মিরসরাইয়ে সাড়ে ৮ হাজার ইয়াবা সহ আটক ১


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা। সোমবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার ঘরতাকিয়া এলাকার মের্সাস ফেবো অয়েল এন্ড গ্যাস কোম্পানী ফিলিং স্টেশন এর সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি ট্রাক আটক করে ৮ হাজার ৭’শ ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় বরগুনা জেলার আমতলী থানার পূর্ব চিলা গ্রামের মৃত কালু আকনের ছেলে মোঃ হীরন (৪২) কে আটক করা হয়।
র‌্যাব-৭ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) শাফায়াত জামিল ফাহিম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী একটি ট্রাক যোগে পন্য পরিবহনের আড়ালে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঘরতাকিয়া এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এ সময় চট্টগ্রাম হতে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক র‌্যাব সদস্যরা ট্রাকটিকে থামানোর সংকেত দিলে আসামীরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটিকে না থামিয়ে র‌্যাবের চেকপোস্ট অতিক্রম করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় র‌্যাব সদস্যরা গাড়ীটির পিছু নিয়ে ধাওয়া করে ট্রাকটিকে (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-২৭১০) আটক করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী মোঃ হীরন (৪২) কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাক তল্লাশী করে ট্রাকের ভিতরে ড্রাইভিং সিটের নিচে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৮,৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ আসামীকে গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত ট্রাকটি জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৪৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।