শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 673

মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে শাখাওয়াত হোসেন রিপন নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। গতকাল বড়তাকিয়া বাজারে অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিপন উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তি দাবী করেছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল আলম।


মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, রিপনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

সমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামীকাল রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। আজ সকাল ১১ টার দিকে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপিতে গিয়ে পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠক করে। এসময় তাদের ২২ শর্তে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কথা জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলে থাকা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ জানান, মহানগর পুলিশ কমিশনার আধা ঘন্টা তাদের সাথে বৈঠক করেছেন। আমরা সমাবেশের অনুমতি পেয়েছি। আগামীকাল দুপুর ২ টায় সমাবেশ শুরু হবে।

জানা গেছে, বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্ব শর্ত হিসেবে সমাবেশ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি।

মিরসরাইয়ে পথসভায় গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে

মিরসরাই প্রতিনিধি
জাতীয় ঐক্যের নামে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে গোপন আতাঁত করে কেউ নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধিনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ষড়যন্ত করে কেউ সফল হবে না। শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন ইউনিয়নে ১১টি পথসভায় যোগ দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এসব কথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মহামায়া সেচ প্রকল্প তৈরি, রাস্তাঘাটের স্থানীয় উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকার বিকল্প নেই। এতিমের টাকা মেরে খালেদা জিয়া এখন জেলে, আর খাম্বার টাকা মেরে তারেক এখন লন্ডনে। আবার যদি বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াত এদেশে ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশ উন্নয়নশীল থেকে তলাবিহীন ঝুড়িতে রূপান্তরিত হবে। মন্ত্রী আরো বলেন ড. কামাল, বি চৌধুরীরা জাতীয় ঐক্যের নামে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে উন্নয়নের বিরুদ্ধে এক শ্রেণীর মানুষের প্রপাগান্ডা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নেমেছে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে জনগণ। শেখ হাসিনার সরকার আগামী ১শ’ বছরের ডেলটা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। যা এদেশ একদিন সিঙ্গাপুরে রূপান্তরিত হবে। নেতা-কর্মীদের উদ্যোশ্যে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যেভাবে হোক নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। অন্যথায় বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে পিঠের চামড়া তুলে ফেলবে। বিএনপি-জামায়াতের জন্য মানুষ ঠিকমত ব্যবসা বানিজ্য করতে পারেনি। গত ১০ বছর নির্ভয়ে মানুষ ব্যবসা করছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জোট সরকারের আমলে মিরসরাইয়ে ২৯টি লাশ পড়েছে। আগামীবার তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে শত শত লাশ পড়বে।


গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘আওয়ামীলীগ সরকার গত ১০ বছরে সারা দেশের যে উন্নয়ন করেছে অতীতের কোন সরকার তা করতে পারেনি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ১’শটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দ্রæত গতিতে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছে যাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে আবারো জ্বালাও পোড়াও করার জন্য ষড়যতন্ত্র করছে। বদরুদ্দৌজা চৌধুরী আর ড. কামালকে নিয়ে এখন ঐক্যজোড় করেছে। যারা নির্বাচনে নিজেদের ছাড়া আর কারো ভোট পায় না। আর তাদের সাথে একত্র হয়েছে সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহা। নির্বাচনী সময়ে এদের দোসররা যাতে আ’লীগে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার নির্দেশ দেন।’
রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম বলেন, ‘ডিসেম্বরের নির্বাচনে আ’লীগকে যদি পুনরায় নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা না যায় তাহলে দেশে পুনরায় সাম্প্রদায়িক হামলা শুরু হবে। বিএনপি-জামায়াত দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দিয়ে লুটপাট শুরু করে দেবে। আ’লীগ-ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কাউকে বাড়ি থাকতে দিবে না। তাই দলীয় সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে।’
শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের করেরহাট বাজার থেকে পথসভা শুরু হয়ে নির্বাচনী পথসভা বারইয়ারহাট পৌরসভা, ধুম ইউনিয়নের বাংলাবাজার, জোরারগঞ্জ বাজার, আজমপুর বাজার, বামনসুন্দর বাজার, সুফিয়া বাজার, আবুতোরাব বাজার, সাহেরখালী বাজার, দমদমা বাজার, ছোট কমলদহ বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পথসভায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাউজানের সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আনোয়ার বাহার চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন ভিপি, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোস্তফা মানিক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাসেল ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসাইন প্রমুখ।

মিরসরাই স্টুডেন্টস্ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’র কমিটি গঠন


চবি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত মিরসরাই উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘মিরসরাই স্টুডেন্টস্ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিরসরাইয়ের সাংসদ গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্টপোষক করা হয়েছে। এতে মোঃ মুসলিম উদ্দিন সভাপতি ও আরিফুল বারী তানভীর তপু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অন্যরা হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ আরজু চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মহিন, মোঃ ইব্রাহিম মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ আবেদীন মিশু,

শিবলু সরকার, প্রচার সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম, দপ্তর সম্পাদক সাহাব উদ্দিন ফাহিম, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নাহিদুল আনসার, অর্থ সম্পাদক ইবনুল ইন্তেসার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জুয়েল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নয়ন দাশ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মসরুর অনিক, ক্রীড়া সম্পাদক এ রাফাত, আপ্যায়ণ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম দীপু, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক শেখ তাসনিয়া সালেহীন মেধা।

মিরসরাইয়ে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে পিকআপের ধাক্কায় মেজবাউল আলম (৫৪) নামে একব্যক্তি নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মেজবাউল আলম ফেনী জেলার পশুরাম উপজেলার মৃত মৌলভী নুল আহম্মদের ছেলে।
চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক সোহেল সরকার জানান, মেজবাউল আলম সড়কের পাশ দিয়ে হোঁটে যাওযার সময় একটি পিকআর তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যায়। পরিবার মামলা না করায় লাশ সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

দুশ্চিন্তার নাম বাজে আম্পায়ারিং

 


ক্রীড়া ডেস্ক..
এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফাইনাল ম্যাচটির আগে একটি দুশ্চিন্তা কিন্তু থাকছেই। সেটা অন্য কিছু নয়, বাজে আম্পায়ারিং। কেননা ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই ভারতের বিপক্ষেই কলঙ্কিত আম্পায়ারিংয়ে লাল- সবুজের দলের স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি ঘটেছিলো।

বলার অপেক্ষা রাখে না মাঠের লড়াইয়ে ভারত জিতে গেলে তাতে কারোরই বিন্দুমাত্র কষ্ট থাকবে না। কিন্তু লড়াইটা যদি মাশরাফিদের সঙ্গে আম্পায়ারদেরও হয়! তাহলে সেটা হবে নিদারুণ বেদনার।

কী হয়েছিলো ওই ম্যাচে? অনেকেই হয়তো জানেন তারপরেও মনে করিয়ে দিচ্ছি। ১৯ মার্চের ওই ম্যাচের ৪০তম ওভারে রুবেল হোসেনের চতুর্থ বলে ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ রোহিত শর্মা ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিলে তা তালুবন্দি করেন ইমরুল কায়েস। রোহিতের ব্যক্তিগত রান তখন ৯০। কিন্তু ফিল্ড আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড ফুলটস বলটি নো ডেকে দিলেন! থার্ড আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।

রুবেলের বলে রোহিত ইমরুলের ক্যাচে পরিণত হওয়ার পর আম্পায়ার নো বল ডেকে বসেন-ছবি: সংগৃহীতএটি ছিলো ওই ম্যাচের কলঙ্কিত আম্পায়ারিংয়ের দ্বিতীয় ঘটনা। প্রথমটি ঘটেছিল ৩৪তম ওভারে। সুরেশ রায়নার বিরুদ্ধে লেগ বিফোরের আবেদন করেছিলেন মাশরাফি। আশ্চর্যজনকভাবে সেই আউটটিও দেননি আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড। আশ্চর্যজনক কেন? রিপ্লেতে দেখা গিয়েছিলো বল পিচআপ করে মিডল স্ট্যাম্পের ওপরেই ছিলো।

সন্দেহের বাষ্প উড়েছিল ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকানো টাইগার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আউট নিয়েও। আম্পায়ারদের এমন অমার্জনীয় ভুলের প্রতিবাদে সেদিন গ্যালারির সমর্থকেরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে আইসিসিকে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

ভারতের এই দুই ব্যাটসম্যান এবং রিয়াদের আউটের আবেদনে আম্পায়ার ও থার্ড আম্পায়ার যদি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত দিতেন তাহলে সন্দেহাতীতভাবেই ওই ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষেই আসতো একথা বলাই বাহুল্য। হয়তো দলটি ক্রিকেটের তিন মোড়লের একটি বলেই আম্পায়রা সাহস করেননি কিংবা তাদের অনুকম্পা লাভের আশায় সিদ্ধান্তের পাল্লা তাদের দিকে ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

আম্পায়ারদের অমার্জনীয় ভুলের প্রতিবাদে সেদিন গ্যালারির সমর্থকেরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে আইসিসিকে ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল’ আখ্যা দেন-ছবি: সংগৃহীতসেই ভারতই কিন্তু চলতি এশিয়া কাপের ফাইনালে টাইগারদের মুখোমুখি। আবারও কী তাহলে সেই প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ারিংয়ের পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে? না। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আম্পায়ার নাদির শাহ সেই সম্ভাবনা দেখছেন না।

‘আশা করছি বাজে আম্পায়ারিং হবে না। সবসময় ওইগুলি হয় না। ২০১৫ সালে হয়েছে এখন ২০১৮ সাল। মানুষ এখন অনেক সচেতন। বাংলাদেশিরা সব জায়গায়ই আছে। কখনও কখনও ভুল হয়ে যায়। ওইটা চাপে হয়ে গেছে। এবার হবে না। আম্পায়ারিংয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে।’

উদারহরণটি দিলেন চলতি এশিয়া কাপে সুপার ফোরে ভারত-আফগানিস্তান দ্বৈরথ দিয়ে। ম্যাচের ৪০ ওভারে আফগান অফস্পিনার মোহাম্মদ নবী তার চতুর্থ ডেলিভারিটি দিনেশ কার্তিকের পায়ে লাগিয়ে আবেদন করতেই আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন।

‘সেদিন দেখলেন না আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচে কার্তিককে ডাউন দ্য লেগে কী আউটটা দিল?’

তবে আম্পায়ারিং যত ভালোই হোক না কেন তামিম, সাকিবহীন বাংলাদেশকে ভারত বধে মাঠের খেলায় ১১০ ভাগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে রাখলেন লাল-সবুজের এই অভিজ্ঞ এই আম্পায়ার। টপ অর্ডারকেও দিলেন সতর্ক শুরুর বার্তা।

‘ভারতের সঙ্গে জিততে হলে বাংলাদেশকে ১১০ ভাগ দিয়ে খেলতে হবে। তাহলেই হবে। রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে আউট করতে পারলেই ভালো সুযোগ তৈরী হবে। টস জিতে বা হেরে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামলে অবশ্যই ২৫০-২৬০ রান করতে হবে। খুব ভালো খেলতে হবে। তামিম-সাকিব নাই, অনেক বড় সেটব্যাক। এজন্যই ১১০ ভাগ দিতে হবে এবং টপ অর্ডারকেও ভাল খেলতে হবে।’

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হাই ভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায়।

২১ বছরের আক্ষেপ ঘুচবে কি?

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০১৬ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে তীরে এসে তরী ডুবে বাংলাদেশের। শেষ ওভারের আক্ষেপটা এখনও দগদগে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মনে। সেবার ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় আট উইকেটে।

চলতি বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সিরিজে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ম্যাচের একেবারে শেষ বলে হেরে যায় বাংলাদেশ।

২০০৯ সাল থেকে অনেকবারই শিরোপার কাছাকাছি গিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপা আর জেতা হয়নি। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষমেশ দুই উইকেটে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই অবস্থা। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র দুই রানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হারার পর সাকিবের সেই কান্নার দৃশ্যটা অনেক ক্রিকেট ভক্তেরই মনে থাকার কথা।

১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। তারপর প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেছে। শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। যদিও সম্প্রতি নারীদের এশিয়া কাপে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু যেই পুরুষ দল নিয়ে এতো মাতামাতি তাদের হাত ধরে কোনো শিরোপা আসছে না।

মাশরাফিদের সামনে আবারও সুযোগ এসেছে টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এবারের এশিয়া কাপেও ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায়। এই ম্যাচ সামনে রেখে সকলের মনে একটাই প্রশ্ন যে, এবার শিরোপার আক্ষেপ ঘুচবে কি?

ছয়টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের এশিয়া কাপ। প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ পর্ব। বাংলাদেশ ছিল ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে অন্য দুইটি দল হলো আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে ওঠে আফগানিস্তান। গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে সুপার ফোরে ওঠে বাংলাদেশ।

‘এ’ গ্রুপে ছিল ভারত, পাকিস্তান ও হংকং। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল হংকং। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার ফোরে ওঠে ভারত। গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে ‍সুপার ফোরে ওঠে পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারানোর মাধ্যমে এশিয়া কাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় ১৩৭ রানে। সুপার ফোর পর্বে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে সাত উইকেটে হেরে যায়। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে তিন রানে জয় তুলে নেয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এরপর পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে টাইগাররা।

এশিয়া কাপে এবার শুরুতেই একটা হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই হাতের কব্জিতে ব্যথা পেয়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যান তামিম ইকবাল। এক ম্যাচ খেলেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। তামিম না থাকায় বেশ ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

তামিমের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে ইনজুরির কারণে শেষ দুই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আগেভাগেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। সুপার ফোরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলা সাকিব আল হাসান ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবেন না।

গেল আসরে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ এখনো বাংলাদেশের স্মৃতি পটে বিদ্যমান। সেই স্মৃতি ভুলে যাওয়ার দারুণ এক সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। চিত্রটা একেবারে ২০১৬ সালের মত। এশিয়া কাপের ফাইনাল- বাংলাদেশ বনাম ভারত। সেবার ছিলো টি-২০ ফরম্যাট, এবার ওয়ানডে ফরম্যাট।

এজন্য ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধই নিতে হবে বাংলাদেশকে। গেল আসরে শিরোপা জিততে না পারার প্রতিশোধ। তবে খেলায় ‘প্রতিশোধ’ বলতে কিছু নেই। তারপরও সেই ‘প্রতিশোধ’ নিতে গিয়ে যদি এশিয়া কাপের ট্রফি মাশরাফি হাতে ওঠে তবে প্রতিশোধই ভালো।

টার্নিং পয়েন্ট!

 


মঈন উদ্দিন খান..

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করবে ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার। আজ শুক্রবার নতুন এই তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। ৩০ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে একটি চিঠিও গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ বরাবর পাঠিয়েছে দলটি। জানা গেছে, বিএনপির এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন সামনে রেখে দলের সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা। সমাবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বশর্ত হিসেবে ৭ দফা দাবি দেয়া হবে। বিএনপির হাইকমান্ড গত একসপ্তাহ সিরিজ বৈঠক করে দাবিগুলো চূড়ান্ত করেছে। মনে করা হচ্ছে এটি সরকার পতন আন্দোলনের একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সমাবেশ থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের দাবি ও লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তফ্রন্ট, ঐক্য প্রক্রিয়া ৫ দফা দাবি ও ৯ লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। আমরাও সমাবেশ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।

জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে ৭ দফা দাবিনামা তৈরি করেছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. ক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় সংসদ বাতিল, খ) বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
২. ক) দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, খ). নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা, গ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করা, ঘ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা।
৩. সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাসাপেে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
৪. সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।
৫. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেণে তাদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা।
৬. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৭. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা।

সাত দফা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ১২টি লক্ষ্য বাস্তবায়নের ঘোষণাও জনসভায় দেবে বিএনপি। এগুলো হচ্ছেÑ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা। সব প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেতা নিশ্চিত করার ল্েয দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্রমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মতা নিশ্চিত করা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীকে আরো আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে সংস্কার ও কার্যকর করা। সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয় এ মূলনীতি অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা এবং স্বার্থ সংরণ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ বিনিয়োগ ইত্যাদি েেত্র আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদপে গ্রহণ করা। কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেয়া এবং কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া, সর্বনিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবন নিশ্চিত করে, আয়বৈষম্যের অবসানকল্পে অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং শ্রমজীবী জনগণের জীবনযাত্রার মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা।

জানা গেছে, সমাবেশে দলের এই ৭ দফা দাবি ও ১২ লক্ষ্য ঘোষণা করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে কোনো আলটিমেটাম দেয়া হবে না। সরকারকে এসব দাবি বাস্তবায়নে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমাদের কর্মসূচিতে যেতে হবে। তবে কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। জানা গেছে, সমাবেশের পর থেকেই দাবি আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে পা রাখবে বিএনপি।
এক দিন পিছিয়ে সমাবেশ : জানা গেছে, গতকাল বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষিত সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে জানতে ডিএমপিতে যান। এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের একটি সমাবেশের কথা জানিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশ না করার অনুরোধ জানান। পরে বিএনপি নেতারা ৩০ সেপ্টেম্বরের কথা বলেন। একটি লিখিত আবেদনও সেই পরিপ্রেক্ষিতে গতকালই পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্দুস সালাম আজাদ।

জানা গেছে, সমাবেশের অনুমতি মৌখিকভাবে পেয়ে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। গ্রেফতার এড়িয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সমাবেশে অংশ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ দিকে সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে পুলিশি তল্লাশি চলছে। মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বাসায় গিয়ে প্রতি রাতেই তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

জোটের ঐক্য অুণœ রেখে বৃহত্তর ঐক্য
এ দিকে জোটের ঐক্য অুণœ রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের পে মত দিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
গত রাতে গুলশান কার্যালয়ে জোটের শরিক দলগুলোর সাথে বৈঠকে বসে বিএনপি। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বৈঠকে জাতীয় ঐক্য গঠনের যে প্রক্রিয়া বিএনপি শুরু করেছে, তা সর্বশেষ কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
জোটের শরিকরা ঐক্যপ্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জোটের ঐক্য অুণœ রাখার ওপর জোর দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেনÑ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজিলসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, জমিয়তের (একাংশ) মহিউদ্দীন ইকরাম, জমিয়তের (অপর অংশ) নূর হোসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান আবদুর রকিব, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনায় আহত মুসলিমের চিকিৎসার্থে এগিয়ে এলেন একদল তরুণ

::মিরসরাই প্রতিনিধি::

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন মিরসরাইয়ের মুসলিম উদ্দিন। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে যখন চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না ঠিক তখন তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন একদল তরুণ।

তরুণদের গড়ে তোলা সংগঠন রক্তিম পরিবার ও ফ্রেন্ডস কেয়ারের পক্ষ থেকে মুসলিমকে ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় এক মাস পূর্বে বিএসআরএম কোম্পানিতে দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় আহত হয় মুসলিম। দুর্ঘটনায় সে তার একটি পা হারায়। মুসলিম মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক দারিদ্র্যতার কারনে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খায় তার পরিবার। তার অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তার চিকিৎসা খরচ যোগাতে ক্যাম্পেইন করে সামাজিক সংগঠন রক্তিম পরিবার ও ফ্রেন্ডস কেয়ার। মিরসরাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পেইন করে তারা ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা সংগ্রহ করে।

আজ রক্তিম পরিবারের সভাপতি বাহা উদ্দিন আকিফ ও ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহনকারী অন্যান্য সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুসলিমের হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা মিরসরাইতে ক্যাম্পেইন স্থগিত করে। তবে তারা প্রয়োজনে পরবর্তীতে আবার ক্যাম্পেইন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

মিরসরাইয়ে ট্রাক-বাস মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০

::মিরসরাই প্রতিনিধি::
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বালুবোঝায় ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এসময় অন্তত ২০জন বাস যাত্রী আহত হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে কমলদহ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম লিটন চন্দ্র নাথ (৩২)। সে নোয়াখালী জেলার চন্দনহাট এলাকার মন্টু চন্দ্র নাথের পুত্র। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত যাত্রী মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীগামী একটি বাস সড়কের পূর্বলেন দিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলো। এসময় চট্টগ্রামমুখী বালুবোঝায় একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে বাসে থাকা প্রায় সব যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছে। আমার হাতের রগ কেটে গেছে। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। আমি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল যাচ্ছি।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিমপাশের ঢাকামুখী লেনে সংস্কার কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এজন্য সব গাড়ি পূর্বপাশের লেন দিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। একজন মারা যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পাইনি।