শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 674

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা : রিজভী


নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার ২১শে আগস্ট বোমা হামলায় হীন উদ্দেশ্যসাধনের জন্য প্রতিহিংসার মনোভাব নিয়েই মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারেক রহমানকে ফাঁসাতেই হবে’ এই প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্যই ক্ষমতা হাতে পেয়েই বেছে আনা হয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতা কাহার আকন্দকে। তাকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বোমা হামলায় জড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে এক কথা বলেন, বিদেশে বলেন অন্য কথা। নিউইয়র্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেছেন- সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে সরকার। আসলে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। কারণ এখনো পর্যন্ত আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সকল পদক্ষেপ একতরফা নির্বাচনেরই আলামত। কিন্তু এবার আর একতরফা নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুখে মধু ও অন্তরে বিষ নিয়েই তিনি বিদেশীদের সাথে কথা বলেন।

বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলা সরকার গুম, বেআইনী হত্যা, নির্দোষ মানুষদের গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানীর কোনো কিছুই বাদ দিচ্ছে না। এরা মানুষের মানবাধিকারকে পায়ে দলতে যে দ্বিধা করে না, তার বহু তথ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা বই থেকে পাওয়া যাচ্ছে। সাগর-রুনী হত্যার এখনও কুল-কিনারা করতে পারেনি, অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- এস কে সিনহা একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন- সাগর-রুনী হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানেন। আসলে অনাচারের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে যাওয়াতে সরকার এখন দিশেহারা। সরকার ক্ষমতার উন্মাদনা মধ্যে থাকতে চায়, এজন্য যখন যেটা প্রয়োজন অর্থাৎ গুম, খুন থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলায় বিরোধী নেতাদের ফাঁসাতে দ্বিধা করছে না। কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের হাতের মুঠোয়। আর এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে দিয়েই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বোমা হামলার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিরোধী দল ও মতকে নির্মূলের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আযম খান, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শত চেষ্টা করেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলায় জড়াতে পারেনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্দোলনের ফসলরা। তাদের সময় আদালত চার্জশিট একসেপ্ট করে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। কেউই তারেক রহমানের কথা বলেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার মনপছন্দ কাহার আকন্দ কেরামতি দেখাতে শুরু করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নামে বিচারিক আদালত থেকে ফিরিয়ে এনে এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। উদ্দেশ্য একটাই তারেক রহমানকে মামলায় জড়ানো।’

তিনি বলেন, ‘অত্যাচার, নিষ্ঠুর পীড়ণের মাধ্যমে একমাত্র যার জবানবন্দীর ওপর ভিত্তি করে তারেক রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়, সেটি ছিল মুফতি হান্নানের। কাহার আকন্দের তদন্ত চলাকালীন ২০১১ এর ৭ই এপ্রিল মুফতি হান্নানকে দিয়ে বলানো হয়, সে-ই হামলাকারীদের সাথে তারেক রহমান সাহেবের সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছিল! ইত্যাদি। মূলত: এর উপর ভিত্তি করেই সাাজনো চার্জশিটের কারিগর কাহার তার ‘চার্জশিট প্রহসন’ রচনা করে তা আদালতে দাখিল করে।’

রিজভী বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্র্রেট কর্তৃক এমন জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করার পর থেকেই তা প্রত্যাহারের জন্য সুযোগ খুঁজছিলেন মুফতি হান্নান। কিন্তু তদন্তকালে তা প্রত্যাহার করলে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ মৃত্যুবরণ করতে হবে আশঙ্কায় সে প্রহর গুনতে থাকে চার্জশিট দাখিলের। কেননা, কোনো মামলায় চার্জশিট প্রদানের পর সেই আসামিকে আর ওই মামলায় রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ পুলিশের থাকে না। অবশেষে সেই সুযোগ তিনি পেয়ে যান গত ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর। তারই বিবরণ এখন উল্লেখ করছি। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে পূর্বের জোর করে নেয়া জবানবন্দী প্রত্যাহার করে নিয়ে লিখিতভাবে তিনি জানান- অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক জবানবন্দী নেয়া হয়েছিল। পূর্ববর্তী জবানবন্দীতে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দের লেখা। নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক এতে স্বাক্ষর নেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই অন্য এক ব্যক্তি তার হাত ধরে তাতে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।’

বিএনপির এই নেতা জানান, ‘মুফতি হান্নান বলেন, রাজনৈতিক নেতা এবং নিজের জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে তার ওপর অমানুষিক বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। উলঙ্গ করে বৈদ্যুতিক শক; নাকে, কানে, জিহবাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক চার্জ, বেধড়ক লাঠিপেটা ছাড়াও তার দু’হাতের ৯টি আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা হয়। তার আগে প্রত্যেকটি আঙ্গুলের মাথায় আলপিন ঢোকানো এবং আঙ্গুলের অগ্রভাগ গ্যাস লাইট দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। পায়ের আঙ্গুলগুলো তারা পাথর দিয়ে থেঁতলে দেয়। সম্মুখভাগে হাজার ভোল্টের বাল্ব জ্বালিয়ে রেখে মুখসহ বিভিন্ন জায়গা ঝলসে দেয়া হয়। পা ওপরের দিকে দিয়ে মাথা নিচের দিকে রেখে ঝুলিয়ে রাখা হতো জিজ্ঞাসাবাদের সময়। এছাড়া ভেজা গামছা নাকে ও মুখে রেখে মরিচ মিশ্রিত গরম ও ঠান্ডা পানি ঢালা হতো। অনেক সময় আদিম বর্বর যুগের মতো নির্যাতন করা হতো। বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে কাটিং প্লায়ার্স দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়াও তুলে ফেলা হতো। দাঁত টেনে তুলে ট্রের উপর রাখা হতো। বৈদ্যুতিক ঘুরন্ত চেয়ারে তাকে ঘোরানো হতো। তিনি আরো বলেন- আমি (হান্নান) উপরোক্ত গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। কোনো প্রকারে জড়িতও নই এবং কারা এর সাথে জড়িত তাও আমি জানি না। আমি কখনোই এই মামলার আসামি ছিলাম না এবং আমাকে উক্ত মামলার আসামি হিসাবেও গ্রেফতার করা হয় নাই। এভাবে মুফতি হান্নানকে ভয়-ভীতি, নৃশংস শারীরিক নির্যাতন, লোভ-লালসাসহ ২০৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে উপরোল্লিখিত নির্যাতন করা হয়। মূলত সরকারের নির্দেশে নির্যাতনের সর্বোচ্চ মাত্রা প্রয়োগ করা হয় মুফতি হান্নানের ওপর, যাতে সে ২১শে আগস্ট বোমা হামলায় তারেক রহমানের নাম বলে।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারপ্রধান তার পুঞ্জিভূত ক্রুরতা, চাতুরী, কুটিলতা ও রক্তঝরানো কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। সেটির প্রথম টার্গেট করেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে। এই মামলায় তারেক রহমানের নাম জড়ানো বর্তমান সরকারপ্রধানের প্রতিহিংসা পূরণের মাস্টারপ্ল্যান।’

সারাদেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গতকাল রংপুর জেলার কাজী খয়রাত, মিজানুর রহমান রন্টু, শরিফুল ইসলাম ডালেস, ফজলুর রহমান বাদল, ফিরোজ আলম, মনা, মনিরুজ্জামান মনি, সুজন খান, মোকশেদুল হক পান্না, শরিফুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আরাফাত জীবন, এ্যাপোলো চৌধুরী, বসুনিয়া আজাদ, আব্দুস সালাম, মেহেরপুরের গাংনীতে জামাল হোসেন, ইয়ার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল সারাদেশে মোট ৭টি মামলায় ১৪৪০ জনকে এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাত প্রায় ৫০০ জনের অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবী মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি দলের পক্ষ থেকে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

রিজভী জানান, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বাসভবনে গোয়েন্দা পুলিশ হানা দিয়েছে। এছাড়া গত পরশু রাতে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর বাসভবনে পুলিশ হানা দিয়ে তার ছোট ভাই ও বোনসহ দুই ভাতিজাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে। আমি পুলিশের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারত: এবার কী সেই হারের জ্বালা মেটানোর পালা?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবারও এশিয়া কাপের ফাইনাল, প্রতিপক্ষ আবারও সেই ভারত। তাহলে আবারও কি স্বপ্নভঙ্গের জ্বালা? কে জানে, ক্রিকেট তো গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। শেষ বলের আগে কিছুই বলা যায় না!

বুধবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। প্রথমে ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুন। দু’জনে গড়েন ১৪৪ রানের দুর্দান্ত জুটি। এরপর মিঠুন ফিরে যান ব্যক্তিগত ৬০ রানে। আর মুশফিক বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯৯ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতে ২৩৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চেপে ধরে মাশরাফি বাহিনী। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০২ রান করে পাকিস্তান। ফলে ৩৭ রানের জয় নিয়ে ১৪ তম এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

শুক্রবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত মানেই তো গত এশিয়া কাপের দুঃসহ স্মৃতি।

এবার কি তাহলে সেই হারের জ্বালা মেটানোর পালা? এশিয়া কাপে এবারসহ চার টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল ফাইনালের। সেই হারের স্মৃতি ভোলা সম্ভব? শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে পাকিস্তানের ৯ উইকেটে ২৩৬ রান তাড়া করতে নেমে ২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

মুশফিক-সাকিবের সেই কান্না এখনো পোড়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। গত টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়েও মোছা যায়নি সেই কান্না। এবার? প্রতিপক্ষ তো সেই ভারত—মুশফিকদের মধ্যে আলাদা একটা তাড়না থাকাই স্বাভাবিক।

 

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাতি মামলার আসামি নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক..
নগরীর পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলী বেড়িবাঁধ এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাতি মামলার আসামি সবুজ প্রকাশ পিচ্চি সবুজ (২৫) নামে একজন নিহত হয়েছে।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুটি বন্দুক, একটি দেশীয় এলজি, একটি খেলনা পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাহড়াতলী থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, নিহত সবুজ পাহাড়তলী থানার শাপলা আবাসিক এলাকায় থাকতেন। এলাকার মানুষ তাকে চেনে ‘পিচ্চি সবুজ’ নামে। সবুজের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতির তিনটি এবং অস্ত্র আইনের দুটিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে ।

তিনি অারো বলেন, গভীর রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় একদল ডাকাতের অবস্থানের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। ডাকাতদের আস্তানা ঘিরে ফেলা হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় অপু (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ সবুজকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলেও জানান ওসি।

মিরসরাইয়ে গতিহারা ট্রাকে ৫ জনের মৃত্যু-জামিনযোগ্য ধারায় চালক শাহীনের বিরুদ্ধে মামলা


নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘি এলাকায় বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় চার অটোরিকশা চালক ও এক যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে হাইওয়ে পুলিশ। গত মঙ্গলবার চালক শাহীনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত শাহীনকে জেলহাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। জানা গেছে, চার অটোরিকশা চালক ও এক যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় দন্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, যা জামিনযোগ্য। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছরের কারাদন্ড। এছাড়া চালক শাহীনের পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়টি জেনেও ট্রাকের মালিক মোজাম্মেল হোসেন তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন গাড়ির স্টিয়ারিং। অথচ থানায় দায়েরকৃত মামলায় ট্রাক মালিককে আসামি করা হয়নি। জানা গেছে, চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ট্রাক মালিক সমিতির অন্তর্ভূক্ত ওই ট্রাকটির মালিক মোজাম্মেল হোসেন। এটির দেখভালের দায়িত্ব মোহাম্মদ বাহাদুর নামের এক ব্যক্তির কাছে। গতকাল বুধবার মালিক মোজাম্মেল হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করলে রিসিভ করেন মোহাম্মদ বাহাদুর।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপর ট্রাকের মালিক মোজাম্মেল অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না। ওই ট্রাকটি সবসময় আমি নিজেই দেখাশুনা করি।’
চালক শাহীনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেশাদার হালকা শ্রেণির জানার পরও কেন তার হাতে ট্রাক চালানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল জানতে চাইলে বাহাদুর বলেন, ‘তার লাইসেন্স আছে জানতাম। হালকা না ভারী তা আমরা দেখিনি। ঘটনার পর বিষয়টি জেনেছি।’


জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার জানান, ফাঁড়ির সহকারী উপ–পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বাদি হয়ে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জোরারগঞ্জ থানায় ৩০৪ (খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঘাতক ট্রাকের চালক রবিউল হোসেন ওরফে শাহীনকে প্রধান ও একমাত্র আসামি করা হয়েছে। নতুন পাশ হওয়া আইন এখনো কার্যকর না হওয়ায় পুরানো আইনেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রাকের মালিককে আসামি না করার যৌক্তিক কারণ জানতে চাইলে সোহেল সরকার বলেন, ‘আমরা মামলা তদন্ত করছি। মালিক যদি কোন কারণে দায়ি থাকেন অবশ্যই তাকে মামলার আওতায় আনা হবে।’
এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ–পরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর চালক শাহীনকে আমরা প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দুর্ঘটনার সময় ঘুমের ঘোরে থাকার কথা সে অস্বীকার করেছে। তার দেয়া ভাষ্যমতে ট্রাকে থাকা ভারী এমএস শিটের (লোহা) কয়েল নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যাওয়ার ফলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।’
চালকের ছিল হালকা লাইসেন্স : ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘিতে অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়া চালক রবিউল হোসেন ওরফে শাহীন ছিলেন অনভিজ্ঞ। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে মহাসড়কে চালাচ্ছিল ভারী যানবাহন (ট্রাক)।
বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তিকে পেশাদার হালকা মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীর ন্যূন্যতম বয়স হতে হবে ২০ বছর। এরপর পেশাদার মধ্যম মোটরযানের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২৩ বছর। আর পেশাদার ভারী মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীর ন্যূন্যতম বয়স হতে হবে ২৬ বছর।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘাতক ট্রাকের চালক শাহীনের বয়স মাত্র ২২ বছর। সে ১৮ বছর বয়সে ভারী মোটরযানের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে। বছর দুয়েক আগে থেকে পেশাদার হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে ভারী যানবাহন চালানো শুরু করে।
এদিকে লাইসেন্সপ্রাপ্তিতে নিয়ম ঘেঁটে জানা যায়, পেশাদার ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে একজন প্রার্থীকে প্রথমে হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। এর ন্যূনতম তিন বছর পর তিনি পেশাদার মধ্যম ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর মধ্যম ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কমপক্ষে তিন বছর পর ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।
বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী একজন চালক ন্যূনতম ২৬ বছর বয়সে হেভি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাও আবার ২০ বছর বয়সে হালকা যান চালানো শুরু করে তিন বছর করে দুই দফা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পর।
তাহলে সঙ্গত কারণে জনমনে প্রশ্ন জাগতে পারে মাত্র ২২ বছর বয়সে কি করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে চালক শাহীন এতদিন ট্রাকের মত ভারী যানবাহন চালিয়ে আসছিল ? তবে কি মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এতদিন চালক শাহীন আইনের হাত থেকে পার পেয়ে গেছে?
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সোহেল সরকার জানান, আটক ট্রাক চালক শাহীনের বয়স ২২ বছর। ট্রাকে থাকা গাড়ির কাগজপত্র ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি চালক শাহীনের কাছে ভারী যান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তার লাইসেন্স পেশাদার হালকা যান চালানোর জন্য ইস্যুকৃত।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ঢাকা–চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘি এলাকায় ঢাকামুখী একটি মালবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে কয়েকটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিন অটোরিকশা চালক ও এক যাত্রী। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজন অটোরিকশা চালক মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হন আরো তিন জন।

পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

::স্পোর্টস ডেস্ক::

সাকিব আল হাসান নেই, নেই তামিম ইকবাল। ইনজুরি নিয়ে খেলছেন মুশফিকুর রহীম এবং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের নিউক্লিয়াস যারা, তাদেরই অধিকাংশ নেই। এমন একটি দল নিয়েই এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেলো বাংলাদেশ। আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২৪০ রানের জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান থমকে গেলো মাত্র ২০২ রানে। ওপেনার ইমাম-উল হক একাই লড়াই করলেন। তিনি খেলেছেন ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। তবে বাংলাদেশের বোলারদের সাঁড়াসি বোলিংয়ের সামনে এই ইনিংস আর খুব একটা কাজে লাগলো না। পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

শুরু থেকেই মিরাজ-মোস্তাফিজদের বোলিং আক্রমণে দিশেহারা অবস্থা শুরু হয় পাকিস্তানের। প্রথম ওভারেই মিরাজের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট হারান পাকিস্তানের ওপেনার ফাখর জামান। রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। পরের ওভারেই মোস্তাফিজের আক্রমণ। ৪ ওভারের মধ্যেই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ইমাম-উল হক, শোয়েব মালিক, আসিফ আলিদের মাঝারি ধরনের কয়েকটা ইনিংস পাকিস্তানকে লড়াকু পজিশনে নিয়ে আসে।

মূলতঃ শুরু থেকেই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দেয় বোলাররা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশামাফিক সংগ্রহ স্কোরবোর্ডে জমা করতে না পারলেও, বোলিংয়ে যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল ঠিক তেমনটাই এনে দিলেন ডানহাতি অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের প্রথম এবং দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানকে।

বাংলাদেশের করা ২৩৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম বলেই মেহেদি হাসান মিরাজের বোলিংয়ে মিড অনে দাঁড়ানো রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ফাখর জামান। ৪ বল খেলে মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন তিনি।

পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে সাজঘরের ঠিকানা দেখান মোস্তাফিজ। বাঁহাতি কাটার মাস্টারের মিডল স্টাম্পে পিচ করা ডেলিভারিতে লিগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন বাবর। আউট হওয়ার আগে ৩ বল খেলে ১ রান করতে পেরেছেন বাবর।

বোলারদের সঙ্গে উইকেটের পেছনে মুশফিকও ছিলেন দুর্বার। তিনি যে অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরলেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। মোস্তাফিজের বলে তার ঝাঁপিয়ে পড়া ধরা ক্যাচেই ফিরে গেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। মাত্র ১৮ রানেই পড়লো পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট।

চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলটি অফ কাটার দেন মোস্তাফিজ। ভেতরের দিকে পড়ে বেরিয়ে যেতেই শট খেলতে যান সরফরাজ। কিন্তু বল ব্যাটে হালকা চুমু দিয়ে সোজা প্রথম স্লিপ দিয়ে বেরিয়ে যেতে লাগছিল। কিন্তু ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই বলটি তালুবন্দী করে নিলেন মুশফিক। ৭ বলে ১০ রান করে ফিরে গেলেন সরফরাজ। সতীর্থরা এসে মুশফিককে শোয়া থেকে তুলে জড়িয়ে ধরলেন। কোমরে ব্যাথা নিয়েও যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিনি, সেটাই অবিশ্বাস্য।

১৮ রানে নেই তিন উইকেট। সেখান থেকে পাকিস্তান ইনিংসের হাল ধরেন শোয়েব মালিক এবং ইমাম-উল হক। এই জুটি ভাঙতে নিরন্তর চেষ্টা বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। কোনোভাবেই পারছিলেন না। একটার পর একটা বোলার পরিবর্তন করেও না। এরই মধ্যে ৬৭ রানের জুটি গড়ে ফেলেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।

২১তম ওভারে রুবেলের হাতেই বল তুলে দিলেন মাশরাফি। ওভারের প্রথম বলেই মিডল স্ট্যাম্পের ওপর রাখেন রুবেল। ফুল লেন্থের। শোয়েব মালিক চেষ্টা করেন মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বলটা তুলে দিতে। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন মাশরাফি। মাথার ওপর দিয়ে বলটা চলে যাচ্ছিল। খানিটা পেছনদিকে লাফ দিয়ে মাথার পেছনে হাত বাড়িয়ে দুরহ কোন থেকে ক্যাচটা তালুবন্দী করলেন তিনি।

দুর্দান্ত এক ক্যাচ। তার এই ক্যাচেই ৩০ রানে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা শোয়েব মালিককে ফিরলেন সাজঘরে। ৫১ বলে ৩০ রান করেন শোয়েব মালিক। তবে আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়ে এ সময় মাঠ ছেড়ে যান মাশরাফি। মাশরাফির আগে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেছিলেন মুশফিক। তার ক্যাচে ফিরেছিলেন সরফরাজ আহমেদ।

শাদাব খানকে পাঠানো হয় উইকেট ধরে রেখে রানের চাকা সচল রাখার জন্য। কিন্তু অকেশনাল বোলার সৌম্য সরকারের করার ২৬তম ওভারের প্রথম বলে লেগ সাইডের বল ব্যাটে লাগিয়ে জমা দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। ৪ রান করে ফিরে যান সাদাব খান।

৯৪ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর ইমাম-উল হক এবং আসিফ আলি মিলে আরও একটি দারুণ জুটি গড়ে তোলেন। তাদের দু’জনের ব্যাট থেকে আসে ৬৯ রানের জুটি। এরই মধ্যে মোস্তাফিজের বলে সহজ একটি ক্যাচ মিস করেন লিটন কুমার দাস।

৩৪তম ওভারে বল তুলে দেয়া হয়েছিল মোস্তাফিজের বলে। প্রথম বলেই আসিফ আলিকে কাটার দিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। ব্যাটের কানায় লাগিয়ে দিলেন আসিফ আলি। কিন্তু উইকেটের পেছনে মনযোগি ছিলেন না ভারপ্রাপ্ত কিপার লিটন কুমার দাস। মুশফিক অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান। ফলে কিপিংয়ের দায়িত্বে আসেন লিটন।

আসিফ আলির ব্যাট ছুঁয়ে আসা বলটা শেষ মুহূর্তে একহাত ধরতে যান লিটন। কিন্তু সেটা আর হাতে জমাতে পারেননি। ছেড়ে দেন। সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়ে নিশ্চয় অনুশোচনায় পুড়ছিলেন লিটন। দর্শক-সমর্থকরাও দুয়ো ধ্বনি দিচ্ছিল তার নামে।

অবশেষে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্য করার সুযোগ পেলেন তিনি। পর পর দুই ওভারে পাকিস্তানের সেট হওয়া দুই ব্যাটসম্যান আসিফ আলি এবং ইমাম-উল হককে স্ট্যাম্পিং করে ক্ষত পুষিয়ে দিলেন তিনি।

৪০তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের হালকা সুইং করা বলে এগিয়ে এসে খেলতে যান আসিফ আলি। কিন্তু তিনি মিস করেন। চোখের পলকে বল ধরে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন লিটন। ৪৭ বলে ৩১ রান করে ফিরে যান আসিফ আলি। পরের ওভারে বোলার ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওভারের পঞ্চম বলে তাকে এগিয়ে এসে খেলতে যান ইমাম উল হক। যিনি ততক্ষণে ৮৩ রান করে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।

মাহমুদউল্লাহর বলটি মিস করলেন ইমাম। পেছন ফিরেই দেখেন তার স্ট্যাম্প উড়ে গেছে। অর্থ্যাৎ, এবার বল ধরে চোখের পলকে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন লিটন। ১০৫ বলে ৮৩ রান করে ফিরে গেলেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। বাংলাদেশের জয়ও প্রায় হাতের মুঠোয় চলে এলো।

ইমাম-উল হক আউট হওয়ার পর শুধু আনুষ্ঠানিকতার পালা। পরের টানা দুটি উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। মোহাম্মদ নওয়াজ ৮ রান করার পর তার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন। তার আগে হাসান আলিও উুঁচু করে মারতে গিয়ে আউট হলেন মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে। তিনিও করেন ৮ রান।

তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান খেলা শেষ ওভারে নিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে শাহিন আফ্রিদি মাঠে নেমে রান করেন। যদিও এর মাঝে মোস্তাফিজের বলে আরও একটি ক্যাচ মিস করেন লিটন কুমার দাস। তবে এটা একটু কঠিনই ছিল।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৯ রান করেছেন মুশফিক। মিঠুনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬০ রানের ইনিংস।
সিভয়েস/ এসসি

মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় যুবদল নেতা আহত

 


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় আবুল কালাম (৩৮) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার করেরহাট বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের পৃষ্টপোষকের দায়িত্বে রয়েছেন। আহত কালাম করেরহাট ইউনিয়নের ভালুকিয়া গ্রামের আব্বাস আলীর পুত্র।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহ মোঃ ফোরকান উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় করেরহাট বাজারে অবস্থিত একরাম পোলট্রির সামনে কয়েকজন সন্ত্রাসী আবুল কালামের উপর এলোপাতাড়ি হামলা করে। একপর্যায়ে আশাপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
আবুল কালামের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক শরফু উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক গোলাম মাওলা বাবলু।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা বিমানের ক্র্যাশ ল্যান্ডিং


নিজস্ব প্রতিনিধি

ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে। আজ বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের একাধিক সূত্র জানায়, বিমানটির সামনের নোজ হুইল কাজ না করায় বিমানটি ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস-বাংলার বিএস-১৪১ অথবা বিএস-১৪৩ ফ্লাইটে ত্রুটি দেখা দেয়ায় সেটি চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেছে। এর আগে ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ার নামছিল না বলে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল  (এটিসি) রুমকে জানিয়েছেন ফ্লাইটের পাইলট। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো ইউএস-বাংলার বিমানটির ফ্লাইট নম্বর নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, প্রথম চেষ্টায় ফ্লাইটটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামতে না পেরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ (নোস ল্যান্ডিং) করে। অবতরণের পর ফ্লাইটটিকে ফায়ার ব্রিগেডসহ বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘিরে রেখেছে।

ফ্লাইটের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শাহ আমানত বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার আজমি।

দুই সুন্দরীকে নিয়ে আলোচনার ঝড়


গণমাধ্যম এবং সামাজিকমাধ্যমগুলোতে রীতিমতো ট্রলের হিড়িক পড়েছে দুই নারীকে নিয়ে। একজনের আগ্রাসী আচরণ আরেকজনের খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিমানে মাদক সেবন। এ দুই নারীর অদ্ভুত কাণ্ডের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও এবং মাদকসেবী নারীর ছবি শেয়ার করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং শাস্তি চেয়েছেন। যাদের নিয়ে এতো তোলপাড় চলছে তাদের একজন চট্টগ্রামের মেয়ে বিমানের কেবিন ক্রু সৈয়দা মাসুমা মুফতি। অন্যজন নারীর সামী ফারদিন তবে পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ফ্লাইটের পূর্বে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার তথ্য গোপন করায় মাসুমা মুফতিকে গত রবিবার গ্রাউন্ডেড image করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

বিমানে প্রতিটি ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই পাইলট ও ক্রুরা মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা, বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্ট করা হয়। কিন্তু ঘটনার সময় কেবিন ক্রু মাসুদা মুফতি মাদক সেবন করেও বিষয় গোপন করে ফ্লাইটে আসেন। পরে ডোপ টেস্টে তার মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ডোপ টেস্টে প্রমাণ মিললে কোনও ব্যক্তিকে পরবর্তী ৯০ দিন কোনও ডিউটি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। মাসুদা মুফতির ডোপ টেস্টের তথ্য ডিজিএম নুরুজ্জামান রঞ্জু ফ্লাইট শিডিউল বিভাগকে জানাননি। তাই দায়িত্বে অবহেলা ও মাসুদা মুফতির মাদক সেবনের তথ্যটি গোপন করায় নুরুজ্জামান রঞ্জুকে গ্রাউন্ডেড করা হয়।

সারা দেশে যখন মাসুমাকে নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি ঠিক সেই মুহূর্তে সৈয়দা মাসুমা মুফতির অন্ধকার জীবনের সন্ধানে নেমেছে দেশের গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তার বাসার কড়া নজর রয়েছে তাদের। ঢাকায় থাকাকালীন মাসুমা মুফতি কাদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, কাদের সঙ্গে রাতে আড্ডা দেন, সেই খবরও পেতে শুরু করেছেন তারা।

সুন্দর চেহারা এবং আকর্ষণীয় ফিগারের কারণে মাসুমাকে দিয়ে সব সময় বিজনেস ক্লাসে ডিউটি করানো হতো। সেই সুযোগে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, বিচারপতি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এদের মধ্যে কার কার সঙ্গে তিনি অভিজাত এলাকায় রাতের পার্টিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের আগের রাতে এ ধরনের কোনো পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছেন কিনা তার খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

মাসুমা মুফতি মদ্যপ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ডিউটি করার সাহস দেখালো কিভাবে গোয়েন্দাদেরে এমন প্রশ্নের জবাবে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে না বিমান কর্মকর্তারা। এ প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটেও বিমানের যেসব স্টাফ ডিডটি করবেন তাদের সবার ডোপ টেস্ট করার পরামর্শ দেয়া হয়।

অপরদিকে ঢাকার মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে নিয়ম ভেঙে ‘সরকারদলীয় এমপির মেয়ে’দাবি করে উল্টো ট্রাফিক সার্জেন্টকে হুমকি দেওয়ায় ফেসবুকে সামী ফারদিন নামের এক নারীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তুমূল সমালোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওতে ওই নারীকে সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে দেখা গেছে। এমনকি ওই নারী তাকে ‘দুই টাকার চাকর’ বলতেও ছাড়েননি।

মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিওটি শেয়ার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। সেখানে তিনি ওই নারীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন- ‘এই ভদ্র মহিলা মিরপুর ১৩ নম্বর স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে তার প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৬-৯৩৪৭) ডাবল লেনে পার্কিং করে রেখেছেন। তার গাড়ির জন্য পেছনের গাড়িগুলো আসতে পারছে না। প্রচণ্ড জ্যাম লেগে আছে। তাকে অনেকবার সবিনয় অনুরোধ করলাম, আপু আপনার গাড়ির ড্রাইভারকে ডেকে দ্রুত গাড়িটি সরিয়ে পেছনের গাড়িগুলো আসার সুযোগ দিন এবং জ্যামমুক্ত করেন। কিন্তু না, তিনি আমার কোনো কথা তো শুনলেনই না বরং আমাকে খারাপ ভাষায় গালাগালি করেন এবং সঙ্গে বলেন তুমি সরকারের দুই টাকার চাকর, আমাকে চেনো তুমি? কার গাড়ি জানো এটা? আরও অনেক খারাপ কথা!’

আইন লঙ্ঘন করার ভিডিও নেয়ার সময় সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারকে ওই নারী বলেন- ‘এই কার গাড়ির ছবি তোলো? এটা সরকারি দলের লোকের গাড়ি। কার গাড়ির ছবি তোলো? বেশি কইরো না! তোমার মতো সার্জেন্ট কয় টাকা বেতনে চাকরি করে? কয় টাকা বেতনে চাকরি করে তোমার মতো সার্জেন্ট? আমরা প্রধানমন্ত্রীর লোক, ঠিক আছে? যদি সাহস থাকে আমার বাবা জাতীয় কমিটির সদস্য, আমার বাবা এমপি, ঠিক আছে? তোমার মতো হাজারটা সার্জেন্ট…ঠিক আছে? কয়টাকা বেতনে চাকরি করো?…’ এভাবে বলতে শোনা যায়।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই ওই নারীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তার কঠোর শাস্তি চেয়েছে এবং সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারের এই সাহসিকতার জন্যে অনেকে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ফেসবুকে মনিরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, সাব্বাস ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। সাহসিকতাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

আবার অনেকেই তার পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।

সূত্র সিভয়েস

জলবায়ু পরিবর্তন, সবচেয়ে ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম: বিশ্বব্যাংক

নিউজ ডেস্ক..

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিবর্ষণের ফলে বাংলাদেশের ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪ ভাগের ৩ ভাগ।সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো চট্টগ্রাম বিভাগ ।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

‘এশিয়া হটসপটস ইমপ্যাক্ট অব টেমপারেচার পিসিপিটেশন চেঞ্জেস অন লিভিং স্ট্যান্ডার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি মাথুরা মানি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগের ১০টি জেলার মধ্যে ৭টি জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ২০৫০ সাল নাগাদ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে জিডিপির ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, জলবায়ু মোকাবেলায় আমরা অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছি। আমরা ভালো করছি। তবে জলবায়ু মোকাবেলায় কম সুদে আরও ঋণ দরকার। বর্তমান সরকার অনেক ভালো কাজ করছে। এক্ষেত্রে সরকার কিছু ঋণের ব্যবস্থাও করেছে। আমরা প্রত্যাশা করছি শেখ হাসিনা সরকার আরও একবার ক্ষমতায় আসবে। এক্ষেত্রে আমাদের ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার যে ভিশন আছে তা পূরণ হতে সহজ হবে।

এই প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিউমিও ফান, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, বিশ্ব ব্যাংকের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট হাডিন শেফার, বিশ্ব ব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ মুথুরা মানি প্রমুখ।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ : ‘সাকিব নিচ্ছেন ইঞ্জেকশন, মাশরাফি ওষুধ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রতিপক্ষ শিবিরে মোহাম্মদ আমির, হাসান আলিরা থাকলেও বাংলাদেশের চিন্তা কিন্তু অন্য দুই বোলারকে নিয়ে। যে দুজনের নাম— মাশরফি মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান!

এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে কে খেলবে, সেটা ঠিক হওয়ার অঙ্ক খুব সহজ। আজ, বুধবার, পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশের লড়াইয়ে যে জিতবে, শুক্রবার ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র তাদের। কিন্তু পাকিস্তানকে নিয়ে ভাবতে বসার আগে বাংলাদেশের চিন্তা তাদের নিজের দুই ক্রিকেটারকে নিয়েই। মর্তুজা, সাকিব। দু’জনেই চোট-আঘাতের সমস্যায় ভুগছেন। তবে যা জানা যাচ্ছে, দু’জনেই খেলবেন। আরো জানা গেল, প্রথম জন মাঠে নামবেন ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে। দ্বিতীয় জন, অর্থাৎ সাকিব একেবারে ইঞ্জেকশন নিয়ে।

সাকিবের সমস্যাটা অবশ্য একটু পুরনো। কিছু দিন আগে শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা সিরিজে ফিল্ডিং করার সময় বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে চোট পান বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। আঙুলের হাড়ও সরে গিয়েছিল। ব্যান্ডেজ করে খেলে চলেছেন। অস্ত্রোপচার না করলে ঠিক হবে না। এই অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে সাকিবকে। বলও করতে হচ্ছে এই বাঁ হাতি স্পিনারকে। ব্যাটও করছেন অতি সতর্কভাবে। যাতে চোটের জায়গায় আরো লেগে না যায়। এই অবস্থাতেই খেলতে নামবেন সাকিব।

মাশরাফি এখন আর আগের মতো ফিট নন। দীর্ঘদিন ধরে পেস বোলিং করার ফলে ছোটখাটো সমস্যা তার লেগেই আছে। এখানে এশিয়া কাপে, এই প্রচণ্ড গরমে টানা খেলে যাওয়ার ছাপ পড়ছে তার শরীরে। চোটের একটা ছবি বাংলাদেশ সাংবাদিকদের দেখিওয়েছেন মাশরাফি। যাতে দেখা যাচ্ছে, ঊরুতে কালশিটে পড়ে গিয়েছে তার। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। তবে এই যন্ত্রণা নিয়েই খেলার জন্য তৈরি হচ্ছেন মাশরাফি। অবশ্যই আধুনিক ওষুধের সাহায্যে।

টানা খেলার ধকল কতটা পড়েছে দলের ওপর? জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের কোচের কাছ থেকে। মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনৈ এসে স্টিভ রোডস বলে গেলেন, ‘‘এই সূচিতে তো সবাইকে খেলতে হচ্ছে। তা হলে আর ওই নিয়ে ভেবে কী হবে। আমরা একটা দিন বিশ্রাম পেয়েছি। সেটাতেই আশা করি সবাই ঠিক হয়ে যাবে।’’ মঙ্গলবার ঐচ্ছিক প্র্যাক্টিস ছিল। যেখানে মাশরাফি বা সাকিব আসেননি।

আগের আফগানিস্তান ম্যাচেই মাশরাফিকে পুরো দশ ওভার বল করতে হয়েছে। কারণ মোস্তাফিজুর রহমান দশ ওভার বল করার ধকল নিতে চাননি। যেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা নিজের চোট বাড়িয়ে ফেলেছেন। এ ছাড়া মুশফিকুর রহিমও পাঁজরের চোটের সমস্যায় ভুগছেন। যদিও সেটা এমন কিছু গুরুতর নয় বলেই জানা যাচ্ছে। তিনি এ দিন প্র্যাক্টিসও করেন।

ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠে ফিরছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ অন্য দিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই জিতে আসছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেদের ফেভারিট বলতে চান না স্টিভ। বাংলাদেশ কোচ বলছেন, ‘‘অবশ্যই আমাদের মনোবল খুব ভালো জায়গায়। কিন্তু তাও বলব, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা আন্ডারডগ। ওরাই ফেভারিট।’’

তবে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশের কোচের মন্তব্য, ‘‘আবু ধাবির পিচ কিন্তু একটু মন্থর। ওখানে পাকিস্তানের জোরে বোলারদের বল খেলতে সুবিধে হতে পারে। মন্থর উইকেটে আমিরদের বল হয়তো ভালো মতো ব্যাটে আসবে।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা