শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 675

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা রায়ের তারিখ ধার্যের আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের : আদেশ ৩০ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক ..

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত করে রায় ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো: আখতারুজ্জামানের আদালতে আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

এদিকে এ মামলায় দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে করা অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়েও আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেয়া হবে। সে পর্যন্ত জামিন দেয়া হয়েছে মনিরুল ইসলাম খানকে। তবে গ্রেফতারকৃত জিয়াউল ইসলাম মুন্নার জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

মামলার প্রধান আসামি বেগম খালেদা জিয়ার জামিনও আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আজ আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, মামলা পরিচালনায় আসামি পক্ষ আদালতকে সহযোগিতা করছে না। তাই তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সমাপ্তি ঘোষণা করে রায়ের দিন ধার্যের আবেদন করেন।

অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলা দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করছেন। এছাড়া কয়েকজন অসুস্থ থাকায় তারা আদালতে আসতে পারছেন না। তারা এ মামলার শুনানি পেছনোর জন্য সময় চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের বিষয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশের তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদার অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারের আদেশ দেয়ায় আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। আদালত ওই আবেদন নামঞ্জুর করলে বিচারকের প্রতি অনাস্থা দেন তাদের আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

দুদকের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।

মিরসরাইয়ে ৫দিন ধরে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে ৫দিন ধরে আব্দুল আজিজ (১০) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। সে উপজেলার ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাষ্টার পাড়া এফদার আলী টেন্ডল বাড়ির মোঃ আলমের পুত্র। এই বিষয়ে আজিজের পিতা বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (নং ১৩৫৯) দায়ের করেন।

জানা গেছে, আজিজ উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়ার্লেস হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতো। গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তাঁর পিতা মাদ্রাসায় খবর নিতে গেলে শিক্ষকরা জানায় আজিজ বাড়িতে গেছে। কিন্তু সে বাড়ি যায়নি। পরে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করে তাকে পাওয়া যায়নি। যাওয়ার সময় আজিজের গায়ে সাদা পাঞ্জাবী ছিলো। গায়ের রং ফর্সা। মুখমন্ডল গোলাকার। উচ্চতা ৪ফুট ৫ ইঞ্চি। সে মিরসরাইয়ের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি যদি তার সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে এই মোবাইল নম্বরে (০১৭২৪৫১৩৮৮২) যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছেন তার পিতা।

এই বিষয়ে মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজের বিষয়ে থানায় ডায়রী করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন থানায় ওই ছাত্রের ছবি সহ ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিয়েছি এবং খোঁজ খবর নিচ্ছি।

 

দাবী পূরন না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পশ্চিমবাংলার করনিকরা

বিশ্বজিৎ মিত্র.. পশ্চিমবঙ্গ ভারত
রাজ‌্য জুড়ে লাখো সমস‌্যার মধ‌্যে অন্তরালে থেকে যায় ছাত্র শিক্ষক সমস‌্যার বাইরে শিক্ষাকর্মীদের সমস‌্যা। শিক্ষার এক প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও মর্যাদা ও সুযোগ দুটোতেই ঘাটতি রয়েছে তাদের। রয়েছে সুবিধার অত্যন্ত অভাব।
তাদের সুযোগ সুবিধার দাবীতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে মাদ্রাসা ও স্কুল শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে জেলায় জেলায় নতুন সংগঠন গড়ে তুলেছেওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল অ‌্যান্ড মাদ্রাসা ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন।
শিক্ষাকর্মীদের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও বুক জমা বঞ্চনার পাহাড় নিয়ে তাদের অবিরত দিনগুজরান করতে হয় ।শিক্ষক-শিক্ষিকার বাইরে টুকিটাকি ছাত্রসমস‌্যা ছাড়া অন‌্যান‌্য সমস‌্যা খুব বেশি আসেওনা প্রচারের আলোকে।
অনালোকিতই রয়ে যায় শিক্ষাকর্মীদের বঞ্চনার চিত্রটি। নেই বিএড বা সমতুল কোনো ডিগ্রি করবার সুযোগ। নেই বেতন বৃদ্ধির সুযোগ। তাই তাদের নিজস্ব দাবীর ভিত্তিতে লড়াইয়ে প্রস্তুতি স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষাকর্মীরা গড়ে তুলেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল এন্ড মাদ্রাসা ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন নামে এক অরাজনৈতিক নবসংগঠন।
কোনো রাজনৈতিক দাবীদাওয়া নয়, কেবলই নিজস্ব দাবীদাওয়া ভিত্তিতে আন্দোলন, চাওয়া পাওয়ার নিরীখে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনে গড়ে উঠেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল এন্ড মাদ্রাসা ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন। দিনভর গাধার খাটুনির পর যৎসামান‌্য মাইনে, প্রয়োজনের তুলনা সুযোগ সুবিধা সর্বাত্মক ঘাটতির অভিযোগ শিক্ষাকর্মীদের।


অভিযোগ জানাতে তারা পা মেলাচ্ছন মিছিলে। সম্পাদক তন্ময় সরকার জানাচ্ছেন চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের পর ইউডিসি স্কেলে পদোন্নতি, ক্লার্কদের জেনারেল ট্রান্সফার চালু, অতিরিক্ত কাজের জন্যএক্সট্রা অ‌্যালাউয়েন্স, ক্লার্কদের শিক্ষাগত যোগ‌্যতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন সহ দশ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশনের ডাক দিয়েছেন তারা ।
এজন্য চলছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল এন্ড মাদ্রাসা ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা গত প্রস্তুতি। কোচবিহার থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সর্বত্র ক্লার্কবন্ধুরা একত্রিত হয়ে অনশন, বিক্ষোভ, মিছিল, আন্দোলন অবস্থান করছেন । সব জেলায় সংগঠন বিস্তারের কাজ শেষে এখন মিছিলের প্রস্তুতির পালা সেরে ফেলছেন সংগঠনের নেতা কর্মীরা। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় প্রতিদিনই অবস্থান ,বিক্ষোভ , ধর্না,মিছিল ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের নিকট দশ দফা দাবির ভিত্তিতে ডেপুটেশান জমা দিচ্ছেন তারা । আট তারিখ শিক্ষামন্ত্রীর প্রধান সচিবের নিকট ডেপুটেশন দিয়েছেন তারা । এছাড়াও তেইশটি জেলার শিক্ষাদপ্তরে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নিকট তারা তাদের দাবিপত্র জমা দিচ্ছেন । জানাচ্ছেন বঞ্চনার চিত্রলিপি। রাজ্য কমিটির সদস্য এবং মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্টের কোঅর্ডিনেটার বিশ্বজিত মিত্র জানাচ্ছেন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে

শনিবার ঢাকায় আ. লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও বিএনপির সমাবেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দল ঢাকায় সমাবেশ করবেন। ওই দিন বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই সমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪-দলের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাসিম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মহানগর ১৪ দলের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় নাসিম এ কথা বলেন।

ওই একই দিন, অর্থাৎ, ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশের তারিখ ২ দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করবে বলে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর এই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।

এখন থেকেই ঢাকা দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট। জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নেতা-কর্মীরা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন। কারও নামে বা কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নাসিম বলেন, ওই অপশক্তি যেন মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল, ভবিষ্যতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা মাঠে নামবে, আর কে নামবে না। তিনি বলেন, আগামী একটি মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশা আল্লাহ আমরা প্রতিহত করব।

নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে নাসিম বলেন, নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে জেলা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। ১৪ দলের শরিক দলগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনের কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এবার চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হোক। কিন্তু যখন কোনো উত্তপ্ত রাজনীতিবিদেরা, দলছুট রাজনীতিবিদেরা, যাঁদের আদর্শের কোনো ঠিকানা নেই, দলের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তখন আমাদের সন্দেহ হয় আবারও সেই অসৎ চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে।

২৯ সেপ্টেম্বর ১৪ দলের সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আমরা এত দিন দেখেছি খেলার সময় খেলোয়াড় ভাড়া করা হয়, এখন দেখছি ড. কামাল হোসেনের মতো নেতারাও ভাড়ায় যাচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে খেলবেন, খেলেন। কোনো সমস্যা নেই। ভাড়াটে খেলোয়াড় দিয়ে কি কখনো জয় পাওয়া যায়? যায় না। যাদের নিজেদেরই কোনো অস্তিত্ব নেই তারা অন্য দলে গিয়ে কি অস্তিত্ব পাবে? ‘

জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আপনারা (যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা) বর্ণচোরা। আপনাদের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা নেই। আর বিশ্বাস করি আপনাদের কর্মীদেরও আপনাদের প্রতি আস্থা নেই।’

নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যখনই এ দেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই হয়েছে, এই চেনা মুখগুলো নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নামে সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করা হচ্ছে দাবি করে নাসিম আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সকলের মনে আছে ২০০১ সালে কীভাবে একটি দলকে পরাজিত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। পৃথিবীর কোনো দেশে তাদের সেনাবাহিনীকে এভাবে ব্যবহার করা হয় না। আমরা দেখেছি কীভাবে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করবে। নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচনের আছে মাত্র তিন মাস। অল্প কিছুদিনেই হয়তো নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। তাদের সিদ্ধান্ত দেবে।

বিবিসি বাংলার সাথে সেই সাক্ষাৎকারে যা বলেছিলেন ড. কামাল


বিবিসি..

বাংলাদেশে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিরোধী রাজনৈতিক জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ড. কামাল হোসেন বিবিসি বাংলাকে গত রোববার একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন।

রেডিও-তে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটির ওপর ভিত্তি করে বিবিসি বাংলার অনলাইনে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তার শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে নীতিগত আপত্তি নেই ড. কামালের”।

ওই সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে সোমবার সাংবাদিকরা ড. হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে বিবিসি বাংলা তার বক্তব্য ঠিকভাবে উদ্ধৃত করেনি। বিবিসি বাংলার সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি যা বলেছিলেন, নিচে তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

ড. কামাল হোসেনের কাছে বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া কি নির্বাচনী জোট, না-কি সরকার বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ?

ড. কামাল হোসেন : পুরো সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোট, যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে ইমিডিয়েটলি করে নেয়া।

বিবিসি বাংলা : তাহলে আপনি বলছেন এটি ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কোনো জোট নয়?

ড. কামাল হোসেন : না না, মোটেই না। সরকার আসতে পারে তো এখানে।

বিবিসি বাংলা : কিন্তু আমরা তো এরকম একটা সমালোচনা শুনছি যে আপনারা আসলে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এবং বিরোধী দল বিএনপিকে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়ার জন্য এই জোটটা করেছেন।

ড. কামাল হোসেন : ওনাদেরকে একটু আশ্বাস দিতে পারেন যে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের মাথায় ছিলই না যখন আমরা এটা করি।। শুরু ছিল যে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যারাই নির্বাচনে, ইনক্লুডিং সরকারও, এই জোটে আসতে পারে।

বিবিসি বাংলা : তো এই যে আপনারা বলছেন যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আপনারা এই জোটটা করেছেন তো সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কী কী পূর্বশর্ত আপনারা সরকারকে দিচ্ছেন যে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আসলে করা সম্ভব হবে?

ড. কামাল হোসেন : এই যেমন সুষ্ঠু নির্বাচন হল যে, ভোটার লিস্টগুলো নিরপেক্ষভাবে, সঠিকভাবে তৈরি করা হবে। সকলকে সেই সুষ্ঠু ভোটার লিস্টের ভিত্তিতে ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

বিবিসি বাংলা : কিন্তু নির্বাচনটা যে সরকার পরিচালনা করবে সেই সরকার কেমন হবে, কোন কাঠামোতে সেই সরকার পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে আপনাদের বক্তব্যটা কী?

ড. কামাল হোসেন : সেটা তো আইনেই আছে। বুচ্ছেন না। সেখানে ইলেকশনের সময় যারা পরিচালনা করবেন তারা নিরপেক্ষ থাকবেন, তারা কোন দলীয় প্রভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবেন না। ইলেকশন হবে। মানে যেটা শুড বি, নট অনলি ফেয়ার, বাট বি সিন টুবি ফেয়ার, বুচ্ছেন না, এটা মানে …

বিবিসি বাংলা : কিন্তু এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান, সেই সংবিধানে কি আসলে এমন নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠনের কোনো সুযোগ আদৌ আছে?

ড. কামাল হোসেন : না, সেটাতো মানে, সংবিধানে এটা তো মানুষের চরিত্রের ব্যাপার। আমরা বলছি যে বিভিন্ন দলের যারা নেতৃবৃন্দ আছেন তারা যখন একটা স্বাক্ষর করবেন যে, আমরা কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করবো না, আমরা এই প্রক্রিয়াকে একটা নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে হতে দেব। তখন আমরা ধরে নিতে পারি যে সরকারের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে কথাগুলো বলবেন, আমাদের পক্ষে যারা ওথ নিয়ে বলবেন, তাদের তো একটা ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকবে আর কী, যেটা বলবেন সেটা রক্ষা করবেন।

বিবিসি বাংলা : কিন্তু এখন যে বাংলাদেশের সংবিধান, এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কিভাবে আসলে এই সরকারটা গঠন করা হবে। আপনাদের কি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে?

ড. কামাল হোসেন : না, সেগুলো তো আইন এবং সংবিধান দেখলে তো ওখানে বলা আছে, নির্বাচন হবে, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে, সকলেই যারা এখানে, মানে প্রতিযোগিতা করতে চান, এসে করতে পারবেন। এবং সেটা নির্বাচন কমিশন এটার রেফারি হিসাবে পরিচালনা করবে। কোনো রকমের যদি নিরপেক্ষতা থেকে কেউ সরে যায় তো সেটাকে তারা চিহ্নিত করবে এবং এটাকে অবৈধ বলবে। এবং যদি সে, এরকম অবৈধ কোন জিনিষ না হয়, যেটা নিয়ে ইলেকশন কমিশন কে বলতে না হয় যে এ নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ হলো না, তখন তারা এটার রায় দেবে না আর কী। তো এগুলো তো ইলেকশন আইনের মধ্যেই আছে।

বিবিসি বাংলা : তার মানে আপনি কী, আপনারা কী এটা বলতে চাইছেন যে এখন বাংলাদেশের যে সংবিধান এবং এই সংবিধানের অধীনে এখন বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায়, এই সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচনে যেতে রাজি?

ড. কামাল হোসেন : ইন প্রিন্সিপাল, ইন প্রিন্সিপাল। এটা বলা হচ্ছে যে তারা যেগুলো, মানে আইনে আছে, এগুলো মেনেই করবেন। যদি এখান থেকে কোনো দেখা যায় যে না তারা এখান থেকে সরে যাচ্ছে, অথবা কোনো রকমের প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে, তখন যদি এটা দৃষ্টিতে আসে, তখন তো প্রচণ্ড আপত্তি করা হবে যে এটা থেকে আপনারা বিরত থাকেন। যদি এটা থেকে বিরত … যদি করতে থাকেন, আমি বলবো না যে করবেন, যদি আইদার সাইড দেখে যে না, এটা কোনো কেউ এটা রীতিনীতি না মেনে করা হচ্ছে, তখন তো নির্বাচনকে বাতিল করার জন্য কোর্টে যেতে হবে। কোর্টকে বলতে হবে যে, এসব কারণে এটা অবাধ নিরপেক্ষ হল না, যেটা আইনের বিধান আছে যে এটা হতে হবে, সো আপনারা কোর্ট এটাকে বিবেচনা করে ডিক্লেয়ার করেন যে এটা হল না। এটা ইলেকশন এখানে সংবিধান অনুযায়ী হয়নি, তো যার কারণে এখন নতুন করে ইলেকশন আবার করতে হয়।

বিবিসি বাংলা : এই যে আপনি বলছেন ইন প্রিন্সিপাল বা নীতিগতভাবে বর্তমান সরকারের অধীনে, নির্বাচনে যেতে আপনারা রাজি, এটি কি শুধু আপনাদের কথা বলছেন, নাকি আপনাদের প্ল্যাটফর্মে যতো দল এসেছে বিএনপিসহ সবার কথা বলছেন – সবাই যেতে রাজি?

ড. কামাল হোসেন : না, আসলে তো আমরা এভাবে বসে এই ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি আমাদের দলের কথা বলছি আর কী। আর, এটা তো একটা সিম্পল প্রভিশনের আমি মনে করি যে সবাই এটা, মানে, বলতে দ্বিধাবোধ করবেন না। তবে কোন সিদ্ধান্ত এ রকম বসে আমরা নিই নাই।

মিরসরাই ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড মিরসরাই শাখার কনফারেন্স রুমে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর-প্রাণ প্রাকৃতি সাজাই’ এই স্লোগান সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের মিরসরাই শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে পল্লী পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ জাফর উল্লাহ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার (অপারেশন) জাহেদ উদ্দিন, ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসাইন প্রমুখ।
ইসলামী ব্যাংক ‘পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ১৫শ বিভিন্ন ফলজ ও ঔষুধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপন করা

মিরসরাইয়ের ঠাকুরদীঘিতে ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত

::নিজস্ব প্রতিনিধি::

মিরসরাই উপজেলার ঠাকুরদীঘি বাজারে ট্রাক চাপায় ৪ সিএনজি অটোরিকশা চালক সহ ৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই জন। মঙ্গলবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহ আলম ( ৪০), দিদারুল আলম ( ৩৫), কামরুল ( ৪৫), মোশারফ ( ২৬) এবং অটোরিকশার যাত্রী মহিউদ্দিন ( ৬০)। আহত হয়েছে অটোরিকশা যাত্রী দুই সহোদর লিটন ( ২৫), সোহেল ( ২২) আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজারে ঠাকুরদীঘি ঝুলনপোল লাইনের অটোরিকশা স্ট্যান্ডে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী কয়েল বোঝাই একটি ট্রাক ( ঢাকা মেট্রো ট- ১৬৫২৩৫) মহাসড়কের পশ্চিম পার্শে গিয়ে অটোরিকশা চালকদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন মারা যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সীতাকু-ে মারা যায় চালক মোশাররফ।
ঘটনার পর মিরসরাই ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিস ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালায়। কুমিরা ইউনিটের স্টেশন অফিসার শামছুল আলম জানান, লাশগুলো স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঘাতক ট্রাকের ড্রাইভারকে স্থানীয়রা জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রাকটির চালক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় জনসভা করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তথ্য জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল খান, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আহা, এমন ওভার!


খেলা ডেস্ক
শেষ ওভারে মাত্র ৭ রানের পুঁজি নিয়ে বল হাতে নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। চরম চাপের মুখেও মাত্র ৪ রান দিয়েছেন। ব্যাটসম্যানরা নিতে পেরেছেন দুই রান, বাকি দুই রান এসেছে লেগ বাই থেকে। অসাধারণ এক ওভারে বাংলাদেশকে স্মরণীয় এক জয় উপহার দিয়েছেন মোস্তাফিজ
এমন কিছুর শিকার বাংলাদেশই হয়। শেষ ওভারে ৮ রান দরকার। এমন অবস্থায় ব্যাটিং দল যদি বাংলাদেশ হয়, সে ক্ষেত্রে কীভাবে না কীভাবে যেন ২-৩ রান কম দিয়ে বিজয়ী হয় প্রতিপক্ষ দল। কিছুদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেমন হলো। তার আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হয়েছিল ভারত। আর ফিল্ডিংয়ে থাকা দল যদি বাংলাদেশ হয়, তাহলে শেষ বলে হলেও ব্যাটিং দল জয় পেয়ে যায়। ওই যে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল। আর এশিয়া কাপেরই ফাইনালে ২ রানে হেরে যাওয়ার সেই দুঃখ যে কত দিন বয়ে বেড়াতে হবে, কে জানে!

এমন কিছুকেই ভাগ্য মেনে নিত বাংলাদেশের সমর্থকেরা। অবশেষে আজ অন্য কিছু হলো। কঠিনতম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশই পেয়েছে জয়। মোস্তাফিজের শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান নিয়ে ৩ রানে হেরেছে আফগানিস্তান।

৪৯তম ওভারে সাকিব আল হাসান যখন এক ছক্কাসহ ১১ রান দিলেন, এরপরই কাঁধ ঝুলিয়ে মাঠে ঘুরে বেড়াতে পারত বাংলাদেশ। আগের ৮ ওভারে মাত্র ৪২ রান দিলেও শেষ ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান ৭ রানকে পুঁজি করে লড়বেন, এতটা আশা করা যাচ্ছিল না। মোস্তাফিজ যে বোলিংয়ে যে জাদুর ন্যূনতম ছোঁয়াই ছিল না! কে জানত, নিজের সোনালি সময়ের কিছু ট্রিকস জাদুকর জমিয়ে রেখেছেন শেষ ওভারের জন্য!

মোস্তাফিজের প্রথম বলটা ঝাঁপিয়ে পড়া ফিল্ডারের সামনে দিয়ে যখন এক্সট্রা কভারে চলে গেল, তখন মনে হয়েছিল আরেকটি হারই বোধ হয় লেখা হচ্ছে বাংলাদেশের কপালে। প্রথম বলেই দুই রান। সমীকরণটা তখন আফগানিস্তানের জন্য আরেকটু সহজ, ৫ বলে ৬ রান। ৪ উইকেট হাতে থাকা এক দলের জন্য এ আর এমন কী?

পরের বলটা খাটো লেংথে ফেললেন মোস্তাফিজ। পুল করতে গিয়ে জায়গার অভাবে ভুগলেন রশিদ খান। মোস্তাফিজের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন আফগান ক্রিকেটের উজ্জ্বলতম বিজ্ঞাপন। ৪ বলে দরকার ৬ রান। পরের বলটাই চলে গেল শর্ট লেগে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে। ক্যাচের আবেদনে ফেটে পড়ল বাংলাদেশ। কিন্তু লেগ বাইয়ের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন আম্পায়ার। সঠিক সিদ্ধান্তের বিপক্ষে কিছু বলার ছিল না বাংলাদেশের। ৩ বলে ৫ রান দূরত্বে আফগানিস্তান। একটি চারেই তো ম্যাচ হেলে পড়বে আফগানিস্তানের দিকে।

চতুর্থ বলের জন্য নিজের সেই প্রিয় পুরোনো অস্ত্রকে খুঁজে নিলেন মোস্তাফিজ। অফ কাটারটি বুঝতেই পারলেন না গুলবাদিন নাইব। ২ বলে দরকার ৫ রান।

পরের বলেও নাইবকে পরাস্ত করলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু পায়ে লাগা সে বলে দৌড়ে স্ট্রাইক পাল্টালেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। ১ বলে ৪ রান দরকার আফগানিস্তানের। ব্যাটের কোনায় লেগেও চার হয়ে যেতে পারে, ম্যাচ হেরে যেতে পারে বাংলাদেশ।

মোস্তাফিজ সেটা হতে দিলেন না। সরে এসে মারতে গিয়ে নিজের ব্যাটই উড়িয়ে ফেললেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। কিন্তু ব্যাটে বল লাগল না। বল সোজা মুশফিকের হাতে। শেনওয়ারি আর দৌড়ানোর ঝামেলায় গেলেন না। কিন্তু পুরো বাংলাদেশ দল তখন দৌড়াচ্ছে। বারবার এভাবে কাছে এসেও হারের জ্বালা সহ্য করা এক দল অবশেষে শেষ ওভারে স্বল্প পুঁজিতেও জয় পেয়েছে আজ। আবেগের বিস্ফোরণ আজ মেনে নিতেই হবে।

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের আসল নায়ক মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সংজ্ঞা কী? অন্তত আজকের জন্য উত্তরটা মাহমুদউল্লাহ! চাপের মধ্যে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার পরও যখন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা ফের লম্বা জুটি গড়ার চেষ্টা করেছেন, অসাধারণ এক ক্যাচ নিয়ে সেটিও ভেঙেছেন—ম্যাচের নায়ক কে, নামটা বলার দরকার আছে? মাহমুদউল্লাহ আজ আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাই তিনজনের কাজ করেছেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার তাঁর হাতেই তো মানায়!

ব্যাটিংয়ে যখন নামেন, বাংলাদেশ ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে। ষষ্ঠ উইকেটে ইমরুল কায়েসকে নিয়ে গড়েছেন মহামূল্যবান ১২৮ রানের জুটি। আফতাব আলমের বলে ৭৪ রানে আউট হলেও বাংলাদেশকে বড় স্কোর এনে দেওয়ার কাজ ততক্ষণে সেরে ফেলেছেন। কীভাবে ইমরুলকে নিয়ে এগিয়েছেন, ইনিংস বিরতিতে সেটি জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘আমি আর ইমরুল একেকটি বল ধরে এগোতে চেয়েছি। কোনো তাড়াহুড়ো করতে যাইনি। যখন জুটি জমতে শুরু করল, তখন একে অপরকে বললাম আমাদের ভালোভাবে শেষ করে আসতে হবে। ইমরুল একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। কিন্তু ওকে আজ মিডল অর্ডারে নামানো হয়েছে, যাতে এখানে বাড়তি অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আমরা চাইছিলাম মিডল অর্ডার আজ একটু শক্তিশালী হোক।’

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও সমান উজ্জ্বল মাহমুদউল্লাহ। খণ্ডকালীন বোলার হিসেবে যতটুকু করার দরকার, তার চেয়েও বেশি করলেন। থিতু হয়ে যাওয়া মোহাম্মদ শেহজাদকে বোল্ড করে ব্রেক থ্রুটা এনে দিলেন। ৫ ওভারে ১৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। মাহমুদউল্লাহ সাফল্য পেলেও বিশেষজ্ঞ বোলাররা উইকেট বের করতে অনেক সময় নিয়ে ফেললেন। ততক্ষণে আসগর আফগান ও হাসমতউল্লাহ চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রান যোগ করে ফেলেছে। ব্যাটিং-বোলিং অসাধারণ হয়েছে। বাকি ছিল ফিল্ডিং। সেটিও দেখালেন। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে আসগরের (৩৯) দেখার মতো এক ক্যাচে নিয়ে আরেকবার ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার কাজটা করলেন মাহমুদউল্লাহ।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে তাঁর হাতে। তবে মাহমুদউল্লাহ আলাদাভাবে কৃতিত্ব দিলেন শেষ ওভারে অসাধারণ বোলিং করা মোস্তাফিজুর রহমানকে। কীভাবে চাপকে জয় করেছেন তাঁরা, বললেন সেটিও, ‘আজ অনেক গরম ছিল। কিছুটা পানিশূন্যতায় ভুগেছি। তবে শেষটা ভালোভাবে করেছি। মোস্তাফিজকে কৃতিত্ব দিতে হবে। জানতাম, ওদের ভালো কিছু মারকুটে ব্যাটসম্যান আছে। তারা চাপকে জয় করতে পারে। শেষ পর্যন্ত আমরাই চাপকে জয় করেছি। অসাধারণ এক দলীয় প্রচেষ্টা ছিল। দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে সব সময়ই ভালো লাগে। ইমরুলের সঙ্গে আমার ভালো একটা জুটি হয়েছে। আমরা শেষ করে আসতে চেয়েছি। আমাদের বোলাররা শেষ পর্যন্ত ওদের আটকে ফেলতে পেরেছে। ফাইনালে যেতে আমাদের এখন জিততে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।’