শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 676

৩ রানের নাটকীয় জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিনিধি

এশিয়া কাপে আজ আফগানিস্তানকে ৩ রানে নাটকীয়ভাবে হারিয়েছে বাংলাদেশ। হেরে গেলে এশিয়া কাপ থেকে একরকম ছিটকে যেতে হতো। এমন ম্যাচে জিততে শেষ ওভারে মাত্র ৮ রান লাগে আফগানদের। মোস্তাফিজের করা সেই ওভারে আফগানিস্তান নিতে পেরেছে মাত্র ৪ রান। এই জয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার আশা এখন দেখতেই পারে বাংলাদেশ। ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা হয়ে উঠল অলিখিত সেমিফাইনাল। বাংলাদেশের এই জয়ে ভারতেরও ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়েছে।

আবুধাবিতে উত্থান-পতনের নাটকীয়তায় ঠাসা ম্যাচের শেষটা হলো একেবারেই স্বার্থক। ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ যে শেষ পর্যন্ত ২৫০ রানের লক্ষ্য দিতে পারবে, কেই–বা ভেবেছিল? আর জবাব দিতে নেমে শুরু থেকে মেপে মেপে পথচলা আফগানরা শেষে এসে হিসাব গরমিল করে ফেলবে, সেটা ভাবাও ছিল কঠিন। বাংলাদেশের ৭ উইকেটে তোলা ২৪৯ রানের জবাবে আফগানদের থামতে হলো ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে। টানা দুই ম্যাচে শেষ ওভারে হেরে আফগানদের এশিয়া কাপ থেকে কান্নাভেজা বিদায় নিতে হলো। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতলেও আর লাভ হবে না। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল যাবে ফাইনালে।

৬ বলে ৮, ২ বলে ৫, ১ বলে ৪—স্নায়ুর চরম পরীক্ষা। এমন স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে কতবার পা হড়কেছে বাংলাদেশ। আজ আর পথ হারায়নি, চাপকে জয় করে আবুধাবিতে বাংলাদেশ পেয়েছে দুর্দান্ত এক জয়। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন মাশরাফিরা।

৬ বলে ৮, টি–টোয়েন্টির এই যুগে কঠিন কিছু নয়। কিন্তু আফগানিস্তানের কাছে কাজটা কঠিন করে তুললেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে বাঁহাতি পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে এনে দিল অসাধারণ এক জয়। আফগানদের দরকার ছিল ৮ রান, মোস্তাফিজ দিলেন মাত্র ৪ রান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাশরাফি বিন মুর্তজা তাই বললেন, ‘জাদুকরি বোলিং করেছে মোস্তাফিজ!’

অথচ ১৮ ওভার শেষেই আফগানিস্তানের আস্কিং রানরেট হয়ে যায় ৬। একটা সময়ে সেটি ১০ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং দলই সাধারণত চাপে থাকে। আফগানরাও ছিল। প্রয়োজনীয় রান তুলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ উইকেট হারাবে, একটা সময়ে খেই হারিয়ে হার মেনে নেবে—এই সূত্র ধরে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জিতেছে বাংলাদেশ। গত দুই বছরে একটি ওয়ানডেতেও ২৫০ কিংবা এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতেনি আফগানিস্তান। আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানরা জোর চেষ্টা করেছে এই অচলায়তন ভাঙতে। বাংলাদেশের সামনে জয়টা প্রায় মরীচিকা হতে বসেছিল চতুর্থ ওভারে, মোহাম্মদ শেহজাদের ক্যাচটা যখন মিড অনে মোহাম্মদ মিঠুন ছাড়লেন।

ক্যাচ ধরতে পারলে আফগান ওপেনারের আর ৫৩ রান করা হয় না। থেমে যান ৯ রানেই। ক্যাচ ধরতে না পারাটা নিজেদের দোষ। বাংলাদেশের পাশে মনে হচ্ছিল নিয়তিও নেই। ৪৪.৩ ওভারে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির বিপক্ষে করা এলবিডব্লুর জোরাল আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার মরিস এরাসমাস। সাদাচোখে মনে হবে সাকিবের বলটা নিশ্চিত লাগবে অফ স্টাম্পে । অথচ বল ট্র্যাক বলছে স্টাম্প মিসিং! প্রযুক্তি কখনো কখনো আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপও হয়, বাংলাদেশ আজ সেটি বুঝল। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া শেনওয়ারি অপরাজিত থাকলেন ২৩ রানে।

এই যে ক্যাচ ধরতে না পারা, রিভিউ নিয়ে আফগানদের বেঁচে যাওয়া সবই ম্যাচের একেকটা রং। এই রং ম্যাচটা করে তুলেছে ভীষণ রোমাঞ্চকর। আফগানদের জন্য কাজটা শুরু থেকেই কঠিন করে তুলেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। দলের ২০ রানে ফিরে গেছেন ওপেনার ইহসানউল্লাহ। ৬ রানের মধ্যে সাকিবের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রানআউট রহমত শাহ (১)। কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগটা কাজে লাগিয়ে শেহজাদ ফিফটি করলেন, তৃতীয় উইকেটে হাসমতউল্লাহকে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়লেন। ব্যাটিংয়ে ভালো করা মাহমুদউল্লাহ অবশেষে শেহজাদকে বোল্ড করে ব্রেক থ্রুটা এনে দিয়েছেন।

খণ্ডকালীন বোলার মাহমুদউল্লাহ সাফল্য পেলেও বিশেষজ্ঞ বোলাররা উইকেট বের করতে অনেক সময় নিয়ে ফেললেন। ততক্ষণে আসগর আফগান ও হাসমতউল্লাহ চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রান যোগ করে ফেলেছে। ব্যাটিং–বোলিং অসাধারণ হয়েছে। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে আসগরের (৩৯) দেখার মতো এক ক্যাচ নিয়ে আবারও ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার কাজটা করেছেন মাহমুদউল্লাহ।

৪৪তম ওভারে বাংলাদেশের সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ানো হাসমতউল্লাহকে (৭১) মাশরাফি যখন বোল্ড করে দিলেন, আশার প্রদীপটা ভালোভাবে জ্বলে উঠল। সাকিবের করা পরের ওভারে রিভিউ নিয়ে শেনওয়ারির বেঁচে যাওয়া। বাংলাদেশের হুমকি হয়ে শেনওয়ারি টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু শেষ ওভারে তাঁকে আরেকটি আফগান রূপকথা লিখতে দেননি মোস্তাফিজ, লিখতে দেয়নি বাংলাদেশ। এই জয়ে টলে যাওয়া আত্মবিশ্বাসটা আবারও ফিরে পেল বাংলাদেশ । ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে হবে মাশরাফিদের।

বাছাইপর্বে সেরা হয়ে পরের ধাপে বাংলাদেশের মেয়েরা


ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভিয়েতনাম নিয়ে ভয় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েরা সেই ভয়ের বাধা পার হলো ২-০ গোলের জয় দিয়েই। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা।
‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’—প্রকম্পিত গর্জন। গ্যালারিতে লাল-সবুজ পতাকা। এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ বাছাইপর্বের অলিখিত ফাইনাল ম্যাচে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দেখা গেল এমন দৃশ্য। দর্শকদের সমর্থনের জবাবটা ভালোই দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ভিয়েতনামকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্বের ‘এফ’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে পা রেখেছে বাংলাদেশ। একটি করে গোল করেছে ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন ও ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন।

আজকের ম্যাচের আগে টানা তিন জয়ে দু দলের পয়েন্টই ছিল সমান নয়। কোনো গোল না খেয়ে দুই দলই গোল করেছে সমান ২৫টি। ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে পা রাখতে দুই দলের প্রয়োজন-ই ছিল জয়।ম্যাচটিকে তাই ধরা হয়েছিল সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। কিন্তু কিসের কি। বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি ভিয়েতনামের মেয়েরা।

স্কোর লাইনটা বোঝাতে পারছে না ম্যাচে তহুরা খাতুনদের দাপট। বলের দখলে অনেক এগিয়ে ছিল তারা। বাংলাদেশকে ঠেকাতে ভিয়েতনাম দল বেশ অঙ্ক কষে মাঠে নামলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশের মেরুদণ্ড দুই মিডফিল্ডার অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা ও মনিকা চাকমাকে কড়া ম্যান মার্কিয়ে রেখে কিছুটা সফলতা অবশ্য তারা দেখিয়েছে। সে কারণেই তাই মাঝমাঠ থেকে খুব বেশি পাস বাংলাদেশের মেয়েরা আজ বাড়াতে পারেনি।

তবুও অদম্য বাংলাদেশকে থামানো যায়নি। ৩৭ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়র বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছিল কিন্তু কিছুক্ষণ কালক্ষেপণ করে অফসাইডের কারণে সে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। অবাক করা বিষয় হলো সহকারী রেফারি অফসাইডের জন্য পতাকা না তুললেও রেফারি সহকারী রেফারির সঙ্গে আলোচনা করে গোলটি বাতিল করেন।
গোল বাতিল হওয়ায় কিছুটা মুষড়ে পড়েছিল তহুরারা। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা বরাবরই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ৪৫ মিনিটে তহুরার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ডানপ্রান্ত থেকে আনাই মগিনির ক্রস ভিয়েতনাম গোলরক্ষক গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে জটলার মধ্যে থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের টোকায় মাথা ছুঁইয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেয় তহুরা।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোল পায় ৬২ মিনিটে। অধিনায়ক মারিয়া মান্দার কর্নার থেকে হেড নিয়েছিল শামসুন্নাহার জুনিয়র। সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে জটলার মধ্যে থেকে ডান পায়ে আঁখি প্লেসিং করে গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেয় । ফিরতি বলে বাম পায়ে জালে জড়িয়ে দেয় দীর্ঘদেহী এই ডিফেন্ডার।

বাছাইপর্বের আগের তিন ম্যাচে এক গোলও হজম করেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। আজ অলিখিত ফাইনালে বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়াল ভাঙার পরিস্থিতিও সৃষ্টি করতে পারেনি ভিয়েতনাম। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে সময়মতো পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে কয়েকটা বল ক্লিয়ার করতে হয়েছে। এই তো !

এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। গতবারের চেয়ে এবার দলসংখ্যা বেড়েছে বাছাইপর্বে। তাই গত আসরের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ছয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্সআপ দলকে খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
আগামী বছরের ফেব্রয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার লড়াই। সে টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো ঠিক হয়নি।

মাল্টা চাষ করে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন মিরসরাইয়ের আজম


নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাড়ির পাশে অবস্থিত ১০ শতক জায়গায় শখের বসে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন মিরসরাইয়ের গোলাম মোঃ আজম। দুই বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। এখন সেই মাল্টা বিক্রি করে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ফলন প্রথম বছর হওয়ায় মাল্টা আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীকে বিতরণ করেছেন তিনি। মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধকরণ থেকে শুরু করে অধ্যবদি সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস। গোলাম মোঃ আজম উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড়কমলদহ গ্রামের মৃত জালাল আহমদের পুত্র। এক সময় গাড়ি ব্যবসা, ইট ব্যবসা সহ বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও এখন চাষাবাদ নিয়ে পড়ে আছেন তিনি। মাল্টা চাষের পাশাপাশি বিষমুক্ত কলা চাষ করছেন তিনি।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত ১০ শতক জায়গায় মাল্টা বাগানের সমারোহ। পাশাপাশি রয়েছে লেবু গাছ। তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। তখন তিনি বাগানে পরিচর্চা করছেন। বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই এই ব্যক্তির এখন সময় কাটে মাল্টা বাগান ও পাশে অবস্থিত কলা বাগানে।


কথা হয় আজমের সাথে। তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান ভাই আমার পূর্ব পরিচিত। মূলত তিনি আমাকে মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমিও নতুন কিছু করতে খুব আগ্রহী। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাড়ির উত্তর পাশে ১০ শতক জায়গায় বারি মাল্টা-১ জাতের ১শত চারা লাগাই। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে প্রথম বছর শাক ও পরের বছর মরিচ চাষ করেছি। গাছের চারা, সার উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হয়। চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে মাল্টা গাছে ফুল আসে। এখন মাল্টা পাঁকতে শুরু করেছে। সম্পুন্ন ফরমালিননমুক্ত এই মাল্টা অনেক সুস্বাদু। প্রথম বছরের ফলন হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দিয়েছি। আগামী বছর থেকে বিক্রি করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আমি মাল্টা চাষের আরো পরিধি বাড়ানোর চিন্তাও করছি। উপজেলা, জেলা ও মাল্টা প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা আমার বাগান পরিদর্শন করেছেন। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, নতুন উদ্বাবিত বারি মাল্টা-১ চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় চাষিরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই জাতের মাল্টা চাষে। বারি মাল্টা লাগানোর মাত্র ২-৩ বছরের মাথায় ফলন দেয়া শুরু করে। ২০ বছর ধরে গাছগুলোতে ফলন ধরে। একটা পরিপক্ব মাল্টা গাছে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়।
মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু সুফিয়ান বলেন, আজম ভাই নতুন কিছু করতে আগ্রহী। তাই সাইট্রাস লেবু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারিভাবে তাকে ১শ মাল্টা চারা ও চার ধরনের সার বিনামূল্যে দিয়েছি। মূলত মাল্টা চাষের প্রদশর্নী হিসেবে আমরা এই বাগান বেচে নিয়েছি। উপজেলার আরো কয়েকটি জায়গায় অনেকে মাল্টা চাষ করছে। কেউ যদি মাল্টা চাষে আগ্রহী হয় আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, মাল্টা চাষের জন্য এখানকার মাটি বেশ উপযোগী। আমরা মাল্টা চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। ক্রমান্বয়ে উপজেলায় মাল্টা চাষের পরিধি বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টা চাষীদের সবসময় সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি।

৩ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ‘কাল্পনিক’ মামলার তদন্তে কমিশন চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ ৩ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৪ হাজার মামলার তদন্ত করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। ‘গায়েবী ও কাল্পনিক’ এইসব মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

আজ রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এ রিট দায়ের করেন।

আগামীকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, মওদুদ আহমদসহ সিনিয়র আইনজীবীরা এই রিটের ওপর শুনানি করবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনজীবীরা যাতে খালেদা জিয়ার মামলা না করতে পারে এবং আগামী নির্বাচনের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে ঘরে না থাকতে পারে সে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এসব মামলা করা হয়।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলোর তদন্ত বন্ধ এবং এ গায়েবি মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে যেন এ ধরণের মামলা দেয়া না হয়, তার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অগুণিত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গায়েবি বা আজগুবি মামলাকে দায়ের করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপি রমনা জোনের ডেপুটি ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, রমনা, পল্টন ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ঢালাওভাবে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করার উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিরোধী দলকে চাপে রেখে বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা।

তিনি বলেন, এ ধরণের মামলা সঠিক হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে একটি উচ্চ পর‌্যায়ের কমিশন গঠন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরণের কাল্পনিক মামলা করে যেন হয়রানি না করা হয় তার নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে। যারা এ ধরণের মামলা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েও আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন পত্রিয়কায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে আবেদনকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত মানুষের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক’ মামলা করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই ধরণের ‘কাল্পনিক’ মামলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে এ ধরণের মামলা দায়ের থেকে বিরত থাকতে এবং এ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি (যার মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখা) গঠনের নির্দেশনা জারির আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়াও রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে করা এসব মামলার তদন্ত থেকে বিরত থাকে নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে আবেদনে।

খালেদা জিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে শুনানি ২৫ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএইচএম রুহুল ইমরান শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেছেন।

এ মামলার দুই আসামি মো: আমিনুল হক ও এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন জানিয়ে সময়ের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

এ মামলার বর্তমানে আসামির সংখ্যা ১০ জন।

আসামিরা হলেন- বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো: আমিনুল হক, মো: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মুঈনুল আহসান, সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশারফ হোসেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো: সামছুল আলম খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৫ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক মো: আবুল কাসেম ফকির খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুনঃদরপত্র ছাড়ায় সিএমসিকে কাজ দেয়ায় সরকারের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ টাকার ক্ষতির অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

 

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, গতকাল কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার আত্মীয়স্বজনেরা দেখা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া এখনো গুরুতর অসুস্থ। তার হাত, পা এর ব্যথা আরো তীব্র হয়েছে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতাকে আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতেই দেশনেত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। অসুস্থতা লাঘবের জন্য বেগম জিয়ার আস্থার হাসপাতাল ও চিকিৎসকদেরকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো: তাইফুল ইসলাম টিপু, মো: মুনির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেগম জিয়ার চিকিৎসা প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রস্থেসিস কমপেটিবল এমআরআই মেশিন ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা অন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে রয়েছে। কিন্তু এটি বিএসএমএমইউতে নেই। এমনকি বিএসএমএমইউতে ভর্তিকৃত অনেক রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষাও বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে করা হয় এবং দুপুর দুইটার পর বিএসএমএমইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া দুস্কর ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বন্ধ থাকে। সুতরাং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের দাবি কি অনায্য? এমনকি সরকারি মেডিকেল বোর্ডও বিএসএমএমইউসহ যেকোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেছে। বিএসএসএমএমইউ যদি এতই বিশেষায়িত ও ইকুইপড্ হতো তাহলে রাষ্ট্রপতি বারবার চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন কেনো? কদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিদেশ থেকে চিকিৎসা করে আসলেন কেনো? তারা কেনো বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিলেন না?

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার ওপর জুলুম ও অত্যাচারে সরকার রীতিমতো উৎফুল্লবোধ করছে। সরকার প্রধানের একধরনের অহংবোধ চরিতার্থ করতে বেগম জিয়ার চিকিৎসায় বাধা দেয়া হচ্ছে। মানুষ হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের টালবাহানায় অসুস্থ বেগম জিয়া চিকিৎসা না পাওয়ায় দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আপাত সংকীর্ণতার মধ্যেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবর্তিত হয়। এদের মধ্যে মানবতা, সভ্যতা, উদারতা ও সহমর্মিতার প্রচণ্ড ঘাটতি। বিরোধী নেতা ও সংগঠনকে সবদিক থেকে পর্যুদস্ত করতে এদের সাথে আর কারো তুলনা করা যায় না। আওয়ামী লীগের মানবসত্তায় অন্তর্নিহিত রয়েছে বিপজ্জনক অনাচার।

রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই- ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি তো দেশে বসেই সৎ সাহসের সঙ্গে কাজ করছিলেন’। কিন্তু প্রধান বিচারপতির কাছে তো বন্দুক নেই। রাষ্ট্রের বন্দুকধারীরা যদি তার দিকে বন্দুক তাক করে দেশের বাহিরে যেতে বাধ্য করে তখন তিনি কি করবেন? তখন তিনি বিদেশে গিয়ে লিখবেন নাকি গণভবনে সবুজ লনে বসে লিখবেন? আওয়ামী লীগ সরকারের লোকেরা একজন নিরস্ত্র প্রধান বিচারপতিকে সন্ত্রাসীদের কায়দায় বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। এটা কোনো বীরের কাজ নয়, এটি কাপুরুষের কাজ। সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন সংস্থা। অথচ বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী-উপদেষ্টারা কথা বলার নামে এমন আচরণ করেছেন যেন তারা প্রধান বিচারপতিকে রিমান্ডে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব তাকে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সামনে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ধমকাধমকি করেছেন তা সন্ত্রাসী আক্রমণেরই সমতুল্য। প্রধান বিচারপতি তার বইয়ে লিখেছেন যে, ক্ষমতাসীন সরকারই তাকে পদত্যাগে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছে। নির্যাতিত এস কে সিনহা কি আওয়ামী লীগের মৌসুম দেখে বই প্রকাশ করবেন? ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘প্রধান বিচারপতি সাবেক হয়ে গেছেন, সাবেক হওয়ার অন্তর্জালা আছে।’ আপনারা তো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে এস কে সিনহা সাহেবকে সন্ত্রাসী কায়দায় সাবেক হওয়ার আগেই সাবেক করেছেন। তাই সত্য কথা লিখাতে অন্তজর্¦ালা হচ্ছে আপনাদের।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, যদি ভোটারবিহীন ক্ষমতাসীন সরকার দেশের প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে তাহলে প্রশাসন, আইন আদালতকে বাধ্য করে বিচারকের কাছ থেকে মামলা ফেরত এনে সম্পূরক চার্জশীটে তারেক রহমানের নাম জড়ানো তো কঠিন কাজ নয়। গণবিরোধী অবৈধ সরকার যেকোনো কাজই করতে পারে। আজ জনগণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ২১ আগস্টের বোমা হামলার আইনী প্রক্রিয়া নিয়ে। ১/১১’র সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম তদন্ত করে পেলনা। তদন্তকারি কর্মকর্তারা কোথাও সন্দেহবশতও তারেক রহমানসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেনি। অথচ আওয়ামী লীগ ২০০৯ এ ক্ষমতায় এসে নজীরবিহীনভাবে পছন্দের তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে অবসর থেকে ডেকে এনে ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলার পুনঃতদন্তের ভার দেয়। সে বিচারকদের কাছ থেকে মামলাটি ফেরত এনে পুনঃতদন্তের নামে তারেক রহমানকে মামলায় জড়িয়ে ষড়যন্ত্রের যাত্রা শুরু করে।

রিজভী বলেন, আদালত দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণের রমরমা রাজনৈতিক সফলতায় ক্ষমতাসীনরা উল্লসিত। এই অবৈধ সরকার আইন, বিচার সবকিছু কুক্ষিগত করে দেশকে ‘মগের মুল্লুক’ এ পরিণত করেছে। সরকারের ‘গাইডলাইন’ অনুযায়ী ২১শে আগস্ট বোমা হামলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে কি না, তা নিয়ে জনগণের মনে বড় ধরণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সব ধরণের বক্তব্য, বিবৃতি ও প্রচারকেই জনগণ বাকোয়াস বলে মনে করে। তাদের উন্নয়নের ফানুস ফেটে গেছে। গণতন্ত্রকে বন্দী করে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত দমনের পথ বেছে নিয়ে, মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে সরকার বিরোধী দলের নেতাদের ঘুম কেড়ে নিতে চাচ্ছে। তবে আমি আবারো প্রত্যয়দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই-সরকারের এই সমস্ত অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সম্মিলিত কন্ঠস্বরে সরকার ও সরকারপ্রধান কতটুকু শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন তা দেখার জন্য জনগণ অপেক্ষা করছে।

রিজভী বলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যুবদল নেতা শাহিন আহমেদকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রনিকে নতুন করে আরো একটি বানোয়াট মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড দেয়। আমি দলের পক্ষ থেকে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি। রনির রিমান্ড বাতিল ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

জাতীয় ঐক্যের মঞ্চ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতীয় ঐক্যের মঞ্চ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করার পূর্ব শর্ত হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি না দিলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মান্না বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যে সরকার গঠন হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে।

নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি কামনা করে মান্না বলেন, সেনাবাহিনীই পারে জনমনে অাস্থা ফিরিয়ে আনতে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও মত দেন তিনি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়ে নতুন কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।

গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালন করছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন।

সমাবেশে উপস্থিত আছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আব্দুল মঈন খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান নূর হোসেন কাশেমী প্রমুখ।

আরো পড়ুন : মঞ্চে ড. কামাল-মির্জা ফখরুলসহ সিনিয়র রাজনীতিবিদরা

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। বিকাল তিনটার কিছু পরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এ সমাবেশ শুরু হয়।

মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান। এছাড়া উপস্থিত আছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ঢাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান মনসুর আহমেদ, জাসদ (রব) সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুল নেতাকর্মী।

কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এ নাগরিক সমাবেশ করছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর।

এদিকে, সমাবেশে আগত বিএনপি নেতাকর্মীদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

মাসখানেক আগে যুক্তফ্রন্ট (বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য) এবং গণফোরাম জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে একমত হওয়ার পর থেকেই বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। পর্দার আড়ালে বিএনপির সাথেও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছান ড. কামাল হোসেন। বাম ঘরানার আরো বেশ কিছু দল জাতীয় ঐক্যে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৃহত্তর ঐক্য গঠনে জড়িত অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর সব দাবি মেনে নিতে সম্মত হয়েছে বিএনপি। জাতীয় ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে অভিন্ন দাবি নিয়ে এখন রাজপথে নামতে চায় দলটি।

যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া যৌথভাবে তাদের যে দাবি ঘোষণা করেছে, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি তারা চাননি। বিএনপি নেতারা বলছেন, এটা কোনো সমস্যা নয়। ঘোষণার আগে এ নিয়ে তাদের সাথে বিএনপির কথা হয়েছে। এখন সবার বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচন যেমন সম্ভব নয়, তেমনি শেখ হাসিনার সরকার মতায় থাকলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াও সম্ভব নয়। যেহেতু সবার সুর একই, তাই বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি তারা না চাইলেও জাতীয় ঐক্য গড়তে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে যুক্তফ্রন্ট বা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কোনো বাধাও থাকবে না।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা কয়েকদিনে একাধিকবার বৈঠক করেছেন বৃহত্তর ঐক্য গঠন নিয়ে। জানা গেছে, এই ঐক্যের নেতা কে হবেন তা নিয়েও দলটি আলোচনা করেছে। যুক্তফ্রন্টে থাকা তিনটি দল এবং গণফোরামসহ অন্যান্য দল সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রহণযোগ্য কাউকে মনোনীত করলে বিএনপির তাতে আপত্তি থাকবে না।

ড. কামাল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, নেতৃত্ব নির্ধারণ হবে যৌথ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে। আর যেখানে অনেক রাজনৈতিক দল থাকবে, সেখানে দলীয় নেতৃত্ব থাকবে। কোন দল থেকে কে নেতৃত্ব দেবেন, সেটা সংশ্লিষ্ট দল ঠিক করবে। এটি একজন বা দু’জন করে হতে পারে।

বিএনপির ৭ দফা :
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সাত দফা দাবি চূড়ান্ত করেছে।
১. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই- ক) জাতীয় সংসদ বাতিল, খ) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

২. ক) দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, খ). নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা, গ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করা, ঘ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা।

৩. সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

৪. সব রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা।

৫. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেণে তাদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা।

৬. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা।

৭. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা।

মিরসরাইয়ে লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু শিবির


মিরসরাই প্রতিনিধি
লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম মিরসরাই ও খুলশীর উদ্যোগে, লায়ন ডাক্তার এস এ ফারুকের সার্বিক সহযোগিতায়, ক্লিফটন গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরীর আর্থিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু শিবির ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার (২২সেপ্টেম্বর) উপজেলার ওছমানপুর ইউনিয়নে ডা. এস এ ফারুকের বাড়িতে দিনব্যাপী এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ও লায়ন্স ক্লাব মিরসরাইয়ের পরিচালক লায়ন তাহের আহম্মদ, লায়ন্স ক্লাব মিরসরাইয়ের সাবেক সভাপতি লায়ন এজেডএম সাইফুল ইসলাম টুটুল, বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন ডা. এসএ ফারুক, লায়ন্স ক্লাব মিরসরাইয়ের সভাপতি লায়ন ইলিয়াস সিরাজী, সাধারণ সম্পাদক লায়ন মঈন উদ্দিন মনি, লায়ন রাশেদা আক্তার মুন্নি, মোঃ আজিজ চৌধুরী, মোঃ তসলিম, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল, লায়ন ফেরদৌস কবির মিশু, লিও জাহিদুল ইসলাম, লিও তরিকুর রহমান, লিও রাজি পাল, লিও কেফায়েত উল্লাহ।
লায়ন্স ক্লাব মিরসরাইয়ের সাবেক সভাপতি লায়ন এজেডএম সাইফুল ইসলাম টুটুল জানান, চিকিৎসা শিবিরে ৬শ রোগীকে চক্ষু পরীক্ষা, ৩শ রোগীকে ডায়াবেটিক সনাক্ত করন ও ৭০ জন রোগীকে চট্টগ্রাম নিয়ে চক্ষু অপারেশন করার জন্য বাচাই করা হয়েছে।

২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আইনগত ভিত্তি পেলেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সকালে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

এদিন সিইসি বলেন, ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া যাবে ন। নিখুঁতভাবে যতটুকু ব্যবহার করা সম্ভব ততটুকুই করা হবে। আমরা মানুষের কৌতুহল ও সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করব। ইভিএমে ত্রুটি থাকলে আমরা এটা ব্যবহার করব না।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র আইনগত স্বীকৃতি পেলেই এটি (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এই পদ্ধতিতে সহজে ভোট প্রদান করা যায়, গণনাও করা যায় খুব সহজে। এতে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। তাই এটা নিয়ে জেনে তারপর মন্তব্য করলে ভাল হয়। আমাদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হতে হবে। নির্বাচনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

এদিনের কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। এ কর্মশালায় ৫০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেবেন।

চট্টগ্রাম কলেজে ফের মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে ফের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি পক্ষ।

এদিকে, সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাসে চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সকাল ১০টা থেকে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। এক গ্রুপের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্যাম্পাস ও কলেজ রোডে অবস্থান নেয়। অন্য গ্রুপ ক্যাম্পাসের বাইরে পাল্টা অবস্থান নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। আমরা দুই গ্রুপের মধ্যে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

সংঘাত এড়াতে কলেজ এলাকায় চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানান ওসি আবুল কালাম আজাদ।