
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ক্যাটাগরিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হলেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিন। তিনি ২২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে নিউয়র্ক পৌঁছেন। গিয়াস উদ্দিনকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মনোনীত করায় মিরসরাইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিরসরাইবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমার জন্য সফরটি অন্যরকম একটি পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী একজন তৃণমূলের কর্মীবান্ধব মানুষ, তার সফরে আমাকে যুক্ত করে তা আরো একবার মনে করিয়ে দিলেন। আগামী ৮ অক্টোবর দেশে ফিরব।’
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য সফরগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের সফরে অন্যদের সঙ্গে মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিনও রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩ তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। একই দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা। জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী মিশনের আয়োজনে ‘গেøাবাল কল টু অ্যাকশন অন ড্রাগ প্রবলেম’ শীর্ষক হাই লেভেল ইভেন্টেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনায় থাকবেন।
এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই ০১৮১৫৫০০৭০৫।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মিরসরাইয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস
শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয় : দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন বিএনপি গ্রহণ করবে না জানিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনেও বিএনপি যেতে চেয়েছিল কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশন যে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারেনি। সেটি সেই সময়ে অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে। এখনো বলি- বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তার সাথে আলোচনা করেন তাহলে দেশে সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে এটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনাদেরকে পাগল ছাড়া কিছুই ভাববো না।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত’ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকুসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের শর্ত জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবে কিন্তু পরিষ্কার কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন আমরা গ্রহণ করবো না। বর্তমান যে নির্বাচন কমিশন তিনি এক সময় চাকরি হারিয়েছিলেন শেখ হাসিনা তাকে নিয়ে এসেছে তার উপকারের জন্য। তিনি নিজেও বলেছেন দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি দিতে পারবে না।
দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ২০ দলের দাবি মেনে নেয়া- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে আর এটির জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি আরো বলেন, আমরা শুধু আন্দোলন করবো নির্বাচনে যাব না এটা ঠিক না দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন গ্যারান্টি পেলে আমরা নির্বাচনে যাব। আর সেই সুষ্ঠ নির্বাচনের গ্যারান্টি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ২০ দলের দাবি মেনে নেয়া সেই সাথে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে দুদু বলেন, শেখ হাসিনা নাকি দেশে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছে তিনি নাকি কত কিছু করেছে আমরা বলি দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই একটি দলের সাফল্য কতটুকু তা প্রমাণ হয়। দেশের সব রাজনৈতিক দল একটি নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। সেজন্য সবাই রাজপথে নামার উদ্যোগ নিয়েছে সে ক্ষেত্রে সরকার যদি সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে তারা ভুল করবে।
বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য সরকারগঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তিনজনই আওয়ামী লীগের। তারাও বলেছে খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ, অবিলম্বে তাকে হাসপাতোলে স্থানান্তর করতে হবে। আমাদের সিনিয়র নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে দাবি জানিয়ে ছিল বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দমতো ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করার পরও দুঃখের বিষয় হলো সরকার গঠিত বোর্ড করেছে বিএনপির আবেদন খালেদা জিয়ার আবেদন সরকার অগ্রাহ্য করেছে। তারপরও এই বোর্ড সুপারিশ করেছে হাসপাতালে স্থানান্তর করার জন্য সেটাও করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এই সরকার এত নির্মম যে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত হয়েছেন তাকে শুধু মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়নি তার সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে না। তাই এই সরকারকে বলব এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে এই দিনই নিয়ে যাবে সেই দিনের কাছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুদ্দীন এহিয়া খান মজলিস সারোয়ার, জাগপার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো: আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনন্য মাইলফলকের সামনে মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ উইকেট পেয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সে ম্যাচে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি তারকা পেসার শোয়েব আখতারকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মাশরাফি। এবার আরেকটি মাইলফলকের সামনে নড়াইল এক্সপ্রেস।
মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বেশ কিছুদিন ধরেই দারুণ পারফর্ম করছে বাংলাদেশ দল। শুধু নেতৃত্ব নয়, সবসময় দলের কাণ্ডারির ভূমিকায় পারফর্ম করে দলকে টেনে তুলেছেন সফলতম এই অধিনায়ক। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫০ উইকেট অর্জন করতে মাত্র তিনটি উইকেট প্রয়োজন তার।
এখন পর্যন্ত ১৯১টি ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি। শিকার করেছেন ২৪৭ উইকেট। আর মাত্র ৩টি উইকেট পেলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আড়াইশ’ উইকেটের ঘরে ঢুকে যাবেন। পাশাপাশি ওয়ানডেতে দ্রুততম ২৫০ উইকেট পাওয়া বোলারের তালিকায় পেছনে ফেলবেন ভারতীয় কিংবদন্তি কপিল দেব ও লংকান পেসমেশিন চামিন্দা ভাসকে।
কপিল ২১৮ ম্যাচে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। আর ভাস সেই তালিকায় ঢুকতে খেলেন ২০৪ ম্যাচ। আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচেই ৩ উইকেট পেলে সবচেয়ে দ্রুত আড়াইশ’ উইকেট পাওয়ার তালিকায় ঢুকে যাবেন মাশরাফি। সেক্ষেত্রে ১৯২ ম্যাচেই এ কীর্তি গড়বেন তিনি। সেই সঙ্গে কপিল-ভাসকে পেছনে ফেলবেন মাশরাফি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে মাখায়া এনটিনি (২৬৬), জেমস অ্যান্ডারসন (২৬৯), হরভজন সিং (২৬৯), অ্যালান ডোনাল্ড (২৭২), জ্যাক ক্যালিস ২৭২টি উইকেট লাভ করেন। মাশরাফির সামনে তাদেরকে ও ছাড়িয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই ব্যাপারে মোটেও অতিরিক্ত আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আমার আসলে এসব নিয়ে বাড়তি কোনো আগ্রহ নেই। প্রত্যেক বোলারের জন্য আলাদা আলাদা মাইলফলক থাকে। আমার ক্ষেত্রে বলব, ১০০ বা ২০০ উইকেটের মাইলফলকের ক্ষেত্রেই কোনো অনুভূতি আসেনি। সেখানে ২৫০ উইকেটের ক্ষেত্রেও এমন কিছুর প্রশ্ন ওঠে না।’
তবে দলে নিজের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে চান বলে জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিটি ম্যাচ খেলা। ম্যাচে ছোট ছোট অবদান, যতটুকু আমি রাখতে পারি, সেটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে, যদি আমি সম্পূর্ণ ম্যাচ খেলতে পারি, চেষ্টা করব আবদান রাখার জন্য।’
তিনটি উইকেট অর্জনে মাশরাফির নজর থাকবে না সেটি নিশ্চিত করেছেন মাশরাফি নিজেই। তবে দলের জন্য ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনটি উইকেট পেলে বরং ভক্তরা আনন্দিত হবে। তাই ভালো খেলাকেই মাইলফলক হিসেবে নিয়েছেন মাশরাফি।
২১ আগস্ট মামলার রায় নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ন্যায়বিচার হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি বলছে, সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ধ্বংস করার সকল ষড়যন্ত্র সম্পন্ন করেছে সরকার। বন্দুকের নলের মুখে দেশ ত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য হওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার বইতে উল্লেখ করেছেন কিভাবে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, কিভাবে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন।
তিনি বলেন, এসকে সিনহা তার আত্মজীবনী বইয়ে পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন, তিনি সরকারের চাপে ও হুমকির মুখে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিচারপতি সিনহা তার ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ে পরিষ্কার বলেছেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে তিনি দেশ ছেড়েছেন এবং তার পরিবারকে জিম্মি করে বিদেশে থাকাকালীন অবস্থায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বিবিসির রিপোর্টসহ দেশের কিছু গণমাধ্যমে আজকে তা প্রকাশ পেয়েছে।
রিজভী বলেন, এসকে সিনহার বক্তব্যে আরো পরিষ্কার হলো বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েই সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় রায় দিয়ে কারাবন্দি করে এক নম্বর মিশন কার্যকর করার পর এখন দুই নম্বর মিশন কার্যকর করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় আগামী ১০ অক্টোবর রায় দেয়া হবে। দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশারই অংশ।
তিনি বলেন, রায় প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা নানা ধরণের বক্তব্য রাখছেন। বলছেন- এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি বিপাকে পড়বে। তার মানে সরকার জানে কি রায় হতে যাচ্ছে অথবা সরকারই ২১ আগস্ট মামলার রায় লিখে দিচ্ছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ওই সময়ে যাদের কম বয়স ছিল এখন তারা প্রাপ্তবয়স্ক, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই- আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দফতর সম্পাদক জনাব শহীদুল ইসলাম মিলন স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে ২১ আগস্ট ২০০৪ মুক্তাঙ্গনে সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। পুলিশের নিকট প্রেরিত আবেদনের ভিত্তিতে ২১ আগস্ট ২০০৪ মুক্তাঙ্গনে সভার জন্য ১৯ আগস্ট ২০০৪ পুলিশ লিখিত অনুমতি দেয়। ২১ আগস্ট জনসভার জন্য মুক্তাঙ্গনের আশেপাশে যথারীতি ব্যাপক পুলিশ নিয়োগ করা হয়। বেলা ১টায় সভাস্থল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে স্থানান্তরিত করা হয়। এতে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা হতবাক হয়। আকস্মিক সভাস্থল পরিবর্তনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ২০০ফিট X ৫০ ফিট এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুলিশ ডেপ্লয়মেন্ট হওয়ার আগেই।
রিজভী বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় মামলা রজু হওয়ার পর তদন্তভার অর্পণ করা হয় সিআইডির ওপর। দুই বছর তদন্ত চলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি আতিকুর রহমান ও তদারককারী কর্মকর্তা এসপি রুহুল আমিন জনৈক জজ মিয়াসহ তার আরো কয়েক সহযোগীকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে মামলাটি চার্জশিট দেয়ার মানসে অনুমতি প্রার্থনা করে তদানীন্তন ‘জাতীয় মনিটরিং সেল’ কর্তৃপক্ষের কাছে- যার প্রধান ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। কিন্তু সিআইডির সেই তদন্ত মনিটরিং সেলের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় উল্লিখিত আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি না দিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট ও ভিত্তিমূলক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহপূর্বক তদন্ত নিষ্পত্তি করার জন্য মনিটরিং সেল সিআইডি কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়। অতঃপর পরামর্শ মোতাবেক সেই তদন্ত অব্যাহত থাকাকালীন বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর আন্দোলনের ফসল মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত জরুরি সরকার বিএনপিকে দমন-পীড়ণে উঠেপড়ে লাগে। তারা সিআইডির পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন কর্মকর্তা হিসেবে এএসপি ফজলুল কবিরকে দায়িত্ব দেয়। তদন্তে ২২ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে দেড় বছর শত চেষ্টা করেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ আরো অনেককে আসামি হিসেবে মামলায় জড়িত করতে পারেনি।
তিনি বলেন, আদালত চার্জশিট একসেপ্ট করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীরা কেউই তারেক রহমানসহ অন্য কারো নাম বলেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মামলাটি পুনঃতদন্তের নামে বিচারিক আদালত হতে আগস্ট ২০০৯ এ ফিরিয়ে এনে তা পুনঃতদন্তের ভার দেয়া হয় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এসপি কাহার আকন্দকে, যিনি বেশ কয়েক বছর আগেই স্বাভাবিক নিয়মে অবসর গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত করে ফেলেন, এমনকি তার নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জ-কটিয়াদি থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থনা করেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্তির পর আলোচ্য মামলাটির তদন্তকালীনই বিশেষ বিবেচনায় তাকে পরপর দুটি পদোন্নতি দিয়ে এসপি পদে উন্নীত করা হয়। যিনি এখনো অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বয়োঃবৃদ্ধ চাকরিজীবী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। কাহার আকন্দ অতঃপর আরো প্রায় দুই বছর তদন্ত করে গত জুলাই ২০১১-তে পূর্ববর্তী ২২ জনের সাথে ৩০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বমোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেয়। যার মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সেই সময়ে পুলিশ বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাবৃন্দ যারা কাহার আকন্দের কাছে ওই সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আক্রোশবশতই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মামলায় অন্যায়ভাবে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের কোনো কীর্তি নেই, যা আছে সবই অপকীর্তি। এইসব অপকীর্তি ঢাকতেই আওয়ামী সরকার জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নানাভাবে চক্রান্তের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে, গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে গতকাল ভোটারবিহীন সংসদে পাশ হলো বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এই কালো আইন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অথবা যেকোনো মাধ্যমইে যাতে দুর্নীতির কোনো খবর প্রকাশিত না হয়, অথবা প্রকাশ করতে না পারেন সেজন্যই এই ন্যাক্কারজনক কালো আইন তৈরী করা হলো।
রিজভী বলেন, এই কালো আইনে মানুষের সকল বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের বিস্তার লাভ করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এটি সংবিধানবিরোধী একটি আইন। কারণ এ আইনে সংবিধানের মূল চেতনা বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে দেশের মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ল। কারণ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এখন বিনা ওয়ারেন্টে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অফিস ঢুকে তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালাতে পারবে, কম্পিউটারসহ সকল কিছু সীজ করতে পারবে, যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। সাধারণ মানুষও এই কালো আইনের থাবা থেকে রেহাই পাবে না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক এই কালো আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সংবিধান পরিপন্থী। এই আইন বাকশালেরই প্রেতাত্মা। এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে দেশবাসীসহ সকল গণমাধ্যমের কর্মী, মুক্ত চিন্তার মানুষদের রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে তালিকা করে আজগুবি সংবাদ প্রকাশ করছে কিছু গণমাধ্যম। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশব্যাপী সংসদীয় এলাকায় বিএনপির নামে ভুয়া প্রার্থী তালিকা ছাপানো হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরুপে একটি চক্রান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিরাই মিথ্যা তালিকা প্রকাশে কাজ করছে। আমি দলের পক্ষ থেকে এধরণের বানোয়াট সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে অন্যায়ভাবে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আমি সোহেলকে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে তার রিমান্ড বাতিল, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর বাসভবনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক তান্ডব চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। এছাড়া জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলীর বাসভবনে পুলিশের তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, গতকাল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল আলম আবুল এবং জেলা ছাত্রদল সভাপতি কামরুল ইসলামসহ সাতজন নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোনো হদিস দিচ্ছে না পুলিশ। আমি তাদেরকে আটক ও আটকের বিষয়ে পুলিশের অস্বীকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের অবস্থান নিশ্চিতের জন্য জোর দাবি করছি।
চট্টগ্রামে গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিনিধি
গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে প্রতিষ্ঠানটির চাকরি হারানো কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তারা কারখানার সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এসে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে চট্টগ্রামের দিকের একপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে গত দু’মাস আগে ঢাকার একটি হোটেলে মিটিং করে চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার উৎপাদন বন্ধ করার পাশাপাশি কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকে ওই কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রথমে প্রতিবাদ শুরু করে। এরপর দীর্ঘ এক মাস দিনের বেলায় অবস্থান ধর্মঘট পালন শেষে এবার মহাসড়কে নেমে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি তপন দত্ত বলেন, গ্ল্যাক্সো বন্ধ করার অর্থ হচ্ছে এ দেশের মানুষকে মানসম্পন্ন ওষুধ সুলভে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া। এছাড়া আর কোনো কারণ নেই। আমরা আগেই বলেছিলাম শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলনে সুফল না এলে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া উপায় থাকবে না।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আজম বলেন, গ্ল্যাক্সোর সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরাম শাকী (পাকিস্তানি নাগরিক) দু’বছর ধরে কারখানা সরিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় কর্মরত ইরাম শাকী কিছু বাংলাদেশিকে সাথে নিয়ে কারখানার সম্পর্কে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে গত দু’বছর ধরে। কারখানা বন্ধ করার তৎপরতা আড়াল করার জন্য কারখানায় আধুনিকায়ন ও কর্মসহায়ক পরিবেশ তৈরির নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
কারখানা বন্ধের এই ষড়যন্ত্র কার্যকর করতে কাঁচামাল আমদানি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। উৎপাদিত অনেক ওষুধ গুদামে থাকার পরও বাজারজাত করা হয়নি।
ওই কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানা বন্ধের পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রয়েছে। বাংলাদেশের আইন না মেনেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে তিনি দাবি করেন।
ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ওষুধ ব্যবসায় গ্ল্যাক্সো লোকসানের কথা বললেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই মুনাফা করেছে। গত দুই বছরে অবকাঠামো সংস্কার ও কর্মসহায়ক পরিবেশ তৈরির নামে নানা খাতে অপ্রয়োজনীয় খরচ করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় করপোরেট অফিসের নামেও প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
অবকাঠামো সংস্কার, ভ্যাকুয়াম যন্ত্র সংগ্রহ, বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানোর নামে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। তারপরও লাভজনক ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত হয় এটি।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১ দশমিক ১৮ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং দশমিক ৯১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
গত জুলাইয়ে ঢাকায় একটি হোটেলে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় লোকসানের কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে কারখানায় বিক্ষোভ করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
কারখানায় ১৫০ জন কর্মকর্তা ও ২৫০ জন কর্মী রয়েছেন। সারা দেশে তাদের এক হাজার কর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মিরসরাইয়ের কাটাছড়ায় সর্প দংশনে নারী নিহত

::নিজস্ব প্রতিনিধি::
মিরসরাইয়ের কাটাছড়ায় বিষাক্ত সাপের দংশনে এক নারী মারা গেছে ( ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেতৈয়া গ্রামের কাশেম মোল্লা বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি ওই বাড়ির মরহুম আবু জাফরের স্ত্রী।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নিজঘরে ওই মহিলাকে দংশন করে বিষাক্ত সাপ। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভেষজ গুণের ডুমুর

‘ডুমুরের ফুল’ না দেখলেও ডুমুর ফল আমরা সবাই দেখেছি। গ্রামের বন-বাদাড়ে দেখেছি। আমাদের চেনা ডুমুর খাবার হিসেবে অনেক জায়গাতেই পরিচিত। আমাদের দেশের রাজশাহী অঞ্চল, বিশেষত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পার্বত্য এলাকার খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি, সিলেটের মৌলভীবাজার ও টাঙ্গাইলে ডুমুর তুলনামূলক বেশি জন্মে। দেশের অন্যত্রও বিক্ষিপ্তভাবে ডুমুরের গাছ দেখা যায়। কাঁচা ফল অতি উন্নত সবজি। শুধু ডুমুর বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিলিয়ে ডুমুরভাজি অথবা এর ভর্তা উপাদেয়। এ ছাড়া ছোট মাছের সঙ্গে ডুমুরের ঝোলও রাঁধা হয়।
ডুমুর খুবই উচ্চমানের ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় স্মরণাতীতকাল থেকে ডুমুরের পাতা, কাঁচা ও পাকা ফল, নির্যাস, বাকল, মূল প্রভৃতি কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতি ১০০ গ্রাম ডুমুরে খাদ্যশক্তি ৩৭ কিলোক্যালরি, ১২৬ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনসহ ভিটামিন এ, বি, সি ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গুটিবসন্ত, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি ও মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা, স্নায়বিক দুর্বলতা, মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধি, সর্দি-কাশি, ফোড়া বা গ্রন্থস্ফীতি (টিউমার) ও স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় জগডুমুর কার্যকর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অবিনাশ দাশ বলেন, ডুমুরের পুষ্টিগুণ হচ্ছে ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি। এতে তিনটিই আছে। ওষধি গুণ হচ্ছে ডুমুর টিউমার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি নিবারণে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ডুমুরের ফল সবজি হিসেবে এবং পাতা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডুমুরগাছের পাতা শিং ও মাগুর মাছ পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়।
পুষ্টি উপাদান হচ্ছে প্রতি ১০০ গ্রামে জলীয় অংশ ৮৮ দশমিক ১ গ্রাম, খনিজ পদার্থ শূন্য দশমিক ৬, হজমযোগ্য আঁশ ২ দশমিক ২, খাদ্যশক্তি ৩৭ গ্রাম, আমিষ ১ দশমিক ৩, চর্বি শূন্য দশমিক ২, শর্করা ৭ দশমিক ৬, ক্যালসিয়াম ৮০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ দশমিক ১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৬২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ শূন্য দশমিক শূন্য ৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ শূন দশমিক শূন্য ৫ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম।
ডিকে পাবলিশিংয়ের ‘হিলিং ফুডস’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সতেজ ও শুকনো ডুমুর খাওয়া যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ কার্যকর। এ ছাড়া পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখার পাশাপাশি হাড় মজবুত রাখে। যাঁরা ওজন কমানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ খাবার।
এতে ফাইবারের উপস্থিতি এই ফলের খাদ্যগুণকে বাড়িয়ে তুলেছে। জেনে নিন ডুমুর শরীরকে কীভাবে ভালো রাখতে সক্ষম।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
ডুমুরে আছে প্রচুর দরকারি ফাইবার। এ ফাইবার হজমে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ডায়রিয়া বা অন্য কোনো রকম পেটের গোলযোগ সহজে হতে দেয় না।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
শরীরে মেদ নিয়ে যাঁরা দুশ্চিন্তা করেন, তাঁদের জন্য ডুমুর উপকারী। এর ফাইবার মেটাবলিজমকে ঠিক রাখে এবং শরীরে অকারণ মেদ জমতে দেয় না।
উচ্চ রক্তচাপ
নানা কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ও পরিমিত ডুমুর ফল খেলে আমাদের শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের সামঞ্জস্য রক্ষা হয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা কম হয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ডুমুরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ফ্রি র্যাডিকেলস নষ্ট করে। এতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে। শুকনো ডুমুর রক্তের ট্রাইগ্লিসারিডসকে কমায়।
হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখে
ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আয়রন কমে গেলে আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ডুমুর আমাদের শরীরে আয়রনের পরিমাণকে স্বাভাবিক রাখে।
ত্বকের জন্য উপকারী
শুধু খেতে ভালো তা-ই না, ডুমুরের ঔষধি গুণ নিয়েও অনেক প্রশংসা আছে। ডুমুর ফল কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, ফোঁড়া ও চর্মরোগ নিরাময়ে বেশ কাজ দেয়।
সূত্র প্রথম আলো
মিরসরাইয়ের সরকারহাট এনআর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য হলেন মিঠু

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারহাট এন আর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য হয়েছেন যুবলীগ নেতা আশরাফুল কামাল মিঠু। সম্প্রতি তাকে বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য মনোনিত করা হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান। আশরাফুল কামাল মিঠু ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, গরিবের মেয়ের বিয়েতে সাহায্য, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসা সহ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার আরো মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ সকল কর্মকান্ডে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। মিঠু দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা ও বড়দারোগাহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক কোম্পানীর প্রথম পুত্র।
মিরসরাইয়ের সন্তান অধ্যাপক হেলাল নিজামী ৩য় মেয়াদে বিএসইসি’র কমিশনার হলেন

নিউজডেস্ক..
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামীকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার পদে সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক মো: হেলাল উদ্দিন নিজামী এর চুক্তির মেয়াদ পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবং অনুরুপ শর্তে ২ মে, ২০১৮ অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী ২ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হলো।’
২০১১ সালে সম্পাদিত প্রথম চুক্তিতে সরকার হেলাল উদ্দিন নিজামীকে তিন বছরের জন্য বিএসইসি’র কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। এতে শর্ত হিসেবে বলা ছিল, তিনি এসময় অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে সম্মান এবং ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হেলাল উদ্দিন নিজামী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তিনি বলেন, সরকারি আদেশ পেয়ে আজ অফিসে যোগদান করেছি। বিএসইসি’র ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখা এবং পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখাই হবে এবার তার প্রধান কর্তব্য।
তার বাড়ি মিরসরাই উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের উত্তর ওাহেদপুর গ্রামে।
বারইয়ারহাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলার দুইটি পৌরসভার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা বারইয়ারহাট। এই পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি একটি নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য বারইয়ারহাট পৌরসভা পরিদর্শনে আসলে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ হারুনসহ আরো ২ জন কাউন্সিলর পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় ওই পরিদর্শকের নিকট তুলে ধরেন। এসময় পৌরসভার কনফারেন্স রুমে ২২ বস্তা (২২ টন) ভিজিএফের চাল পাওয়া যায়।
বারইয়ারহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হারুন পরে সাংবাদিকদের জানান, সর্বশেষ বারইয়ারহাট পৌরসভার জন্য ভিজিএফের ৯২ টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গিয়েছিলো। গত ঈদুল আজহার আগে ওই ৯২ টন চাল থেকে বিভিন্ন পৌর কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রায় ৭০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছিল। বাকি ২২ টন চাল বিতরণ না করে পৌরভবনের কনফারেন্স রুমে রেখে দেয়া হয়েছিলো।
বারইয়ারহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হারুন বলেন, আমি বা আরো যে দুইজনের কথা বলা হচ্ছে যে, আমরা (মূল্যায়ন) পরিদর্শনের সময় পরিদর্শককে চাল বিতরণের ব্যাপারে অবহিত করেছি এই বিষয়টি সত্য নয়। আসল ঘটনা হলো নিয়মিত মূল্যায়ন পরিদর্শনের একপর্যায়ে ম্যাডাম একটু বসতে চাইলে তখন পৌরসভার পক্ষ থেকে কনফারেন্স রুমে ভিজিএফের চাল রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। এসময় তিনি এই চাল দেখতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে পৌর কর্মকর্তারা ওই কনফারেন্স রুমের দরজা খুলে দেওয়ার পর দেখা যায় ২২ বস্তা চাল ওই স্থানে রাখা হয়েছে। ভিজিএফের চাল বিতরণ না করে রেখে দেয়ায় তিনি এসময় খুব অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন বলেন, আমার পৌরসভায় ভিজিএফের চাল আসলে আমি পৌর কাউন্সিলরদের নিয়ে মাসিক মিটিংয়ে বসে ঠিক করি চালগুলো কিভাবে বিতরণ করা হবে। যথারীতি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্ধকৃত চালগুলোর বেশিরভাগই চাল কোরবানি ঈদের আগেই বিতরণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু চাল আমি বারইয়ারহাটের জামালপুর মাদ্রাসার এতিমদের জন্য রেখেছিলাম এবং আমি আমার কর্মকর্তাদের বলেছিলাম চালগুলো বিতরণ করে দিতে। ইতিমধ্যে আমি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যাই। গত সোমবার উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি ম্যাডাম একটি নিয়মিত মূল্যায়নের জন্য আমার পৌরসভায় পরিদর্শনে আসলে আমার বিরুদ্ধে সক্রিয় কয়েকজন কাউন্সিলর বিষয়টি ম্যাডামের কর্ণগোচর করে। অথচ আমি জানতাম যে, চালগুলো বিতরণ করা হয়ে গেছে। এসময় আমি তাৎক্ষণিকভাবে যাদের জন্য চালগুলো রাখা হয়েছিলো তাদের ডেকে এনে ওই চাল বিতরণ করে দিয়েছি। সত্যি কথা হলো, প্যানেল মেয়রসহ ৩ জন কাউন্সিলর ও বারইয়ারহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে সার্বক্ষনিকভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে তারাই জল ঘোলা করছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, আসলে আমি ওই পৌরসভায় একটি নিয়মিত (মূল্যায়ন) পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। পরিদর্শনকালে ওই পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হারুনসহ আরো দুই কাউন্সিলর টেন্ডারে অনিয়মসহ চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি আমার কাছে তুলে ধরেন। চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি যেহেতু আমার এখতিয়ারভুক্ত নয় তাই আমি বিষয়টি চট্টগ্রাম এসে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি এবং তাৎক্ষণিকভাবে এই চালগুলো দ্রুত যথাযথভাবে বিতরণের জন্য পৌর মেয়রকে বলেছি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, উক্ত চাল বিতরণের অনিয়মের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত অবগত হয়েছি। এই ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

