শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 682

বিএনপির মানববন্ধনে বিপুল নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেক কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতা উপস্থিত রয়েছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে কয়েক লাইনে বিভক্ত হয়ে লাইনে দাঁড়ান নেতাকার্মীরা। মানববন্ধনে বিএনপির ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খান, মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, মীর সরফত আলী সপু, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ড. মোর্শেদ হাসান খান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমানসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

এদিকে বিএনপির মানববন্ধন ঘিরে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রেসক্লাবের আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তা বল গড়ে তোলেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মুক্তি দাবিতে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন।

সৌদি আরবে নির্যাতিত বাংলাদেশী কর্মীদের দেশে ফেরার আর্তনাদ

মনির হোসেন…

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো অসংখ্য (নারী-পুরুষ) শ্রমিক থাকা, খাওয়া ও বেতন ঠিকমতো না পাওয়াসহ কিছু মালিকের হাতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এমন অভিযোগ নিয়ে দেশে থাকা তাদের স্বজনেরা ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কাকরাইলের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অভিযোগ সেলে হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
যথানিয়মে ওই সব ঘটনায় জড়িত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জনশক্তি ব্যুরো থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসে নির্যাতিত কর্মীর নাম ঠিকানা, পাসপার্ট নম্বর ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নাম উল্লেখ করে পত্র দেয়া হচ্ছে। চিঠিতে নির্যাতিত শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীকর্মীরা নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন।
গত ১২ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মো: জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে সৌদি আরবে নির্যাতিত ৮ শ্রমিককে দেশে আনার ব্যাপারে পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উপযুক্ত বিষয় ও সূত্রস্থ পত্রগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, সৌদি আরবে ৮ জন কর্মী কর্মস্থলে নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছেন মর্মে অভিযোগ জানিয়ে তাদেরকে দেশে ফেরত আনার জন্য ওই কর্মীর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাসে পত্র পাঠানো হয়। পরে এ বিষয়ে দূতাবাস থেকে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করে বলা হয়, নির্যাতিত নারীকর্মীদের সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে দেশে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
নির্যাতিত নারীকর্মীরা হলেন, ঢাকার কাশেম ব্যাপারীর মেয়ে সাগরিকা। তিনি গেছেন মেসার্স মিথিলা ওভারসিস (আর এল-০৬১) ও মেসার্স নগর ওভারসিসের (আর এল-১২৮৬) মাধ্যমে। সিরাজগঞ্জের মো: আফজাল সরকারের মেয়ে রত্না খাতুন। তাকে পাঠানো হয় সৌদিয়া রিক্রুটিং এজেন্সি (আর এল-৬৪৫) থেকে, জয়পুরহাটের মো: ইলিয়াছ দেওয়ানের মেয়ে মোসাম্মৎ মেরিনা খাতুন। তিনি গেছেন আল আমানা এস্টাবলিস্টমেন্ট (আর এল-৪৪৩) নামক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। হবিগঞ্জের মো: নুরুল আমিনের স্ত্রী ময়না বেগম গেছেন আল জুবাইলি ইন্টারন্যাশনালের (আর এল-৭১০) মাধ্যমে। সাতক্ষীরার এসহাকের মেয়ে সেলিনা খাতুন মেসার্স আল ফাতিন ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে। শরীয়তপুরের মনির হোসেন ঢালীর মেয়ে মোসাম্মৎ নাসরিন গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ওভারসিসের মাধ্যমে। এ ছাড়া মোহনা ওভারসিসের মাধ্যমে গেছেন বগুড়ার সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী দোলেনা খাতুন।
চিঠিতে অভিযোগকারী নারীদের নানা নির্যাতনের বর্ণনার ১১ পাতার অভিযোগও মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। শুধু উল্লিখিত ৮ জন নারীই নন, জর্ডান, বাহরাইন, কাতারে পাড়ি জমানো এমন শত শত নারীকর্মীর নামে অভিযোগ জমা পড়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে প্রতারিত পুরুষ শ্রমিক রয়েছেন।
সৌদি আরবের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা, শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (স্থানীয়) মো: আলতাফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার, মোহনপুর চাকশা গ্রামের বাসিন্দা আফজাল সরকারের মেয়ে গৃহকর্মী রত্না খাতুনকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকার সৌদিয়া রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে মদিনা শহরে আগমন করেন। উল্লিখিত বিষয়ে কনস্যুলেট থেকে গৃহকর্মী রত্না খাতুনের নিয়োগকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সৌদি আরবের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আল-গুনাইম অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রত্না খাতুনকে দেশে প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলে দ্রুত রত্না খাতুনকে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে মর্মে কনস্যুলেটকে আশ্বস্ত করেন।
গতকাল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: সেলিম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব দেশে নারীরা যাওয়ার পর সমস্যা হচ্ছে এবং দেশে ফেরত আসতে স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে আমাদের এখান থেকে সেগুলো মনিটরিং করা এবং পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়া যায় সে ব্যাপারে ব্যুরোতে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। এই সেলে জনশক্তি ব্যুরোর কর্মকর্তা ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। গতকাল জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে আমাদের এখানে অভিযোগ জমা পড়ছে আমরা প্রথমেই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিচ্ছি। সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে আমরা সাথে সাথে ওই এজেন্সির লাইসেন্স সার্ভারে ব্লক করে দিচ্ছি। এতে শ্রমিকের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো শ্রমিক ওই এজেন্সির মাধ্যমে তারা কোনো দেশেই পাঠাতে পারছে না। এতে প্রতারিত শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে আমাদের সুবিধা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
গতকাল অভিবাসন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নিজের নাম না প্রকাশ করে বলেন, সরকার ‘কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই’ যাকে খুশি তাকেই জনশক্তি রফতানির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রদান করছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে বেশ কিছু এজেন্সির মালিক জনশক্তি রফতানির মার্কেটিং কিভাবে করতে হয় তা-ই জানেন না। এর জন্যই আজকে আমাদের এই ট্রেডের বদনাম ছড়িয়ে পড়েছে। আমরাও তো লোক পাঠাচ্ছি। কিন্তু আমাদের কোনো লোকতো সমস্যায় পড়ছে না। আসলে সরকারকে লাইসেন্স দেয়ার আগে এসব বিষয় গভীরভাবে ভাবতে হবে।

দাফনের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার সাথী!

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

গত ২৯ আগস্ট রাতে যশোরে সরকারি সিটি কলেজ এলাকা থেকে পলিথিন মোড়ানো অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই লাশ উদ্ধারের খবরে পর দিন ৩০ আগস্ট যশোর কোতোয়ালি থানায় ছুটে যান চৌগাছার নয়ড়া গ্রামের আমজাদ আলী। তিনি ‘অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি’ তার মেয়ে সাথী খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। সেই লাশ উদ্ধার ও দাফনের ১১ দিন পর সেই সাথী খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ‘পরকীয়া প্রেমিকের’ ধর্মপিতার বাড়ি সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়ি থেকে রোববার সকালে পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

চৌগাছার নয়ড়া গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে সাথী খাতুন চৌগাছার চাঁদপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। তাদের এহসান নামে ছয় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।


সাথীর ভাই বিপ্লব হোসেন বলেন, সাথী গত ১৪ জুলাই ‘বাইরে কাজে যাচ্ছি, বিকেলে ফিরে আসবো’ বলে স্বামীর বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান ছিল না।
সাথী নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা আমজাদ আলী বাদি হয়ে চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।

গত ২৯ আগস্ট রাতে যশোরে সরকারি সিটি কলেজ এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের খবরে পর দিন ৩০ আগস্ট যশোর কোতোয়ালি থানায় ছুটে যান চৌগাছার নয়ড়া গ্রামের আমজাদ আলী। তিনি ‘অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি’ তার মেয়ে সাথী খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। বিপ্লব হোসেন দাবি করেন, তার বাবা লাশ দেখে হতবিহ্বল হয়ে তাৎক্ষণিক লাশটি তার বোনের বলে শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু পরে এ নিয়ে তদন্ত হলে তিনি জানতে পারেন তার ভুল হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সাথী খাতুন বলেন, ‘স্বামীর নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে ১৪ জুলাই স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যশোরে চলে আসি। শহরের নিউ মার্কেটে বাস থেকে নেমে এক ঘণ্টা বসেছিলাম। ‘একপর্যায়ে সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের জলকর গ্রামে যাই। যাওয়ার পথে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে পানিতে ফেলে দিই। এরপর ওই গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়িতে আশ্রয় নিই। গত ৭ সেপ্টেম্বর আজিজ লস্কর পত্রিকার পাতায় আমার মৃত্যুর সংবাদ দেখেন। তারপর থেকে তিনি আমাকে আর আশ্রয় দিতে রাজি হননি।’

‘এরপর ৭ সেপ্টেম্বর বাড়িতে আব্বার মোবাইল নম্বরে (মুখস্থ ছিল) কল করি। পুলিশকেও বিষয়টা জানাই। পুলিশ আজ উদ্ধার করেছে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলছেন, ‘মেয়েটির সাথে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ছেলের সম্পর্ক ছিল। তদন্ত করতে গিয়ে পরিবারের লোকজন জানালো গত ১৬ মার্চ সাথী খাতুন ভারতে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। এক মাস ১১ দিন পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন। তবে সাথী একাই গিয়েছিলেন ভারতে।’

‘বিষয়টি আমার সন্দেহ হয়। এরপর সাথীর পাসপোর্ট বইটি যাচাই করি। এতে দেখা যায় সাথী ১৬-২৪ মার্চ ভারতে ছিলেন। কিন্তু পরিবারের লোকজন বলছেন ১ মাস ১১ দিন। তাহলে বাকি দিন কোথায় ছিলেন?’
‘ভারতে থাকাকালীন সাথী ভারতের একজনের মোবাইল নম্বর থেকে কথা বলেছিলেন। সেই নম্বরও জোগাড় করি। কথা বলে জানতে পারি, সাথী ভারতে প্রবেশ করার এক ঘণ্টা আগে মালেশিয়া প্রবাসী চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মান্নু ওপারে (ভারতে) হাজির হন। পরে চিকিৎসা শেষে ২৪ মার্চ সাথী ও মান্নু দেশে আসেন।’ ২৪ মার্চ থেকে এক মাসের বেশি সময় সাথী ও মান্নু যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আজিজ লস্করের বাড়িতে অবস্থান করেন।’
তাহলে যে লাশ দাফন করা হয়েছে, সেটি কার? এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুজ্জামান বলেন, ‘ধরে নিয়েছিলাম ওই লাশটি সাথীর। কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে আসল রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এবার ওই লাশটি আসলে কার, সেই রহস্য উদঘাটনে কাজ করব।

মিরসরাইয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ আড্ডা


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের সামাজিক সংগঠন দীপ জ্বেলে যাই খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠে। শিক্ষার্থীদের মাঝে কবিতা আবৃতি ও গ্রামীন খেলা কানাকানির আয়োজনও কওে তারা।
গতকাল রোববার (০৯ সেপ্টেম্বর) মিরসরাইয়ের কিছমত জাফরাবাদ এম এ চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা বানু। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এসময় খুদে শিক্ষার্থীরা আনন্দে মেতে ওঠে।
বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত কবিতা আবৃতি ক শাখায় প্রথম হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকেয়া লেয়াকত, দ্বিতীয় হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিম বৃষ্টি, তৃতীয় হয় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী চৈতী রাণী নাথ। কবিতা আবৃতি খ শাখায় প্রথম হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষর্াী নাদিয়া সুলতানা, দ্বিতীয় হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিনিয়া নাসরিন ও তৃতীয় হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহছিনা আক্তার। গ্রামীণ খেলা কানাকানিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকা তাসনিম ইমু ও তার দল।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল আরিফের পরিচালনায় খুদে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্বে সহায়তা করেন সংগঠনের সদস্য রিপন গোপ পিন্টু, অংকন দে, নাহিদ মাহমুদ, বাঁধন দে, সাদিয়া স্মৃতি, সাংবাদিক আবু সাইদ ভূইয়া ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক শারফুদ্দীন কাশ্মীর।


পুরো অনুষ্ঠানে সহায়তা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিনাক্ষী ভৌমিক, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, রনজিৎ কুমার নাথ, মো. নুরুল করিম, উম্মে ফাতেমা আক্তার, মো. সালাহ্ উদ্দিন, দিলারা আক্তার, মো. নাসির উদ্দিন, মর্জিনা আক্তার ও আরফানা খানম।
পুরস্কার ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা বানু।

মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি::

মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় মিনহাজ উদ্দিন টিটু (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতা আহত হয়েছে। রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বারইয়ারহাট কলেজ ক্যাম্পাসের অদুরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে জানান, টিটু রবিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে টেনে হেঁচড়ে রেল লাইনের উপরে নিয়ে লাঠি, রড দিয়ে বেদড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টিটু উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর গ্রামের শহীদুল আলমের পুত্র।


তার উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদব নাজমুল হক সোহাগ, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন।

মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ছাড়া ফুটবল কল্পনা করা যায় না। এই দুই দেশের ফুটবল খেলার ভক্ত সারা বিশ্বে রয়েছে। আর আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের- ম্যাচ হল ফুটবল প্রেমীদের কাছে সেটা এক অন্যরকম ব্যাপার। তাদের ম্যাচের উত্তাপ পৌঁছে যায় সারা বিশ্বে। পুরো ফুটবল বিশ্ব দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তির মহাদ্বৈরথ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। আর এই উত্তেজনা মাঠে গড়াতে যাচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে।

সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে তাদের বিশ্ব ভ্রমণের সূচি প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, ১২ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা। এর চারদিন পর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব ফুটবল দেখবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের লড়াই। জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি।

দুই দলের শেষ ১০ মোকাবেলায় সমান ৪টি করে জয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। আর সব শেষ দু‘দলের দেখায় আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে ব্রাজিলকে হারায়।

উল্লেখ্য, রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আসরের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনাও শেষ আট থেকেই বিদায় নেয়। মেসি-নেইমারদের বিদায়ে বিশ্বকাপের উত্তাপটা কিছুটা হলেও কমে যায়।

আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিএনপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল তার ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার বিকেলে ৩টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ জন স্থায়ী কমিটির সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

এর আগে গত শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান বিএনপি নেতারা। এ জন্য দলটির পক্ষ থেকে চিঠিও দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: খালেদা জিয়াকে নিজ খরচে চিকিৎসা করাতে ভাইয়ের আবেদন

নয়া দিগন্ত অনলাইন, ১২ জুন ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিজ খরচে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছেন তার ভাই শামীম ইস্কানদার। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে আজই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে(সিএমআইচ) চিকিৎসা নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে নিজ খরচে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানোর বিষয়ে আবেদনটি করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কানদার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতর চিঠিটি গ্রহণ করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আবেদনপত্রে শামীম ইস্কানদার লিখেছেন, ‘বর্তমানে আমার বড় বোন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত। কারা অভ্যন্তরে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘ কারাবাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।’

আবেদনে খালেদা জিয়ার ভাই আরো বলেন, ‘গত ৯ জুন কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারা অভ্যন্তরে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। উক্ত চিকিৎসকরা জানেয়েছেন যে, খালেদা জিয়া গত ৫ জুন ‘মাইল্ড স্ট্রোকে’ আক্রান্ত হন। ফলে ভবিষ্যতের জন্য এ ধরনের বিষয় বড় ধরনের ঝুঁকির পূর্বাভাস বহন করছে। তাকে অনতিবিলম্বে ঢাকার ‘ইউনাইটেড হাসপাতালে’ ভর্তি করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা জরুরি। তাই খালেদা জিয়ার এ ধরনের সব চিকিৎসা ব্যয় আমরা নিজ/পারিবারিকভাবে বহন করবো।’

এই আবেদন পাওয়ার পরই ইউনাইটেড হাসপাতালের বদলে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ‘সর্বোচ্চ সেবা’ দেওয়ার লক্ষ্যে তারা এখন সিএমএইচের প্রস্তাবটি দেবেন। মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি যদি সেখানে (সিএমএইচ) যেতে চান, আমরা সেখান থেকেও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দিতে পারি। আমরা তার চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়েছি।’

সোমবারই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ-তে নেয়ার পরিকল্পনা ছিলো কারা কর্তৃপক্ষের। তবে খালেদা জিয়া সেখানে চিকিৎসা নিতে রাজি না হওয়া তাকে সেখানে নেয়া হয়নি। কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান কারাবিধিতে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় তা পেতে হলে খালেদা জিয়াকে আবেদন করতে হবে। এরপর খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিজ খরচে চিকিৎসা নেওয়ার আবেদন নিয়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায়।

মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষঃআহত ১৭

 


নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে খেলোয়াড়,স্কুল শিক্ষার্থী সহ আহত হয়েছে অন্তত ১৭ জন। শনিবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মারামারির এক পর্যায়ে ফুটবল ম্যাচ অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করে দিতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।
জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৩ টা থেকে উপজেলার জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ ১৭ গোল্ড কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিলো। মিরসরাইয়ের ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর এবং ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়ন প্রতিদ্বন্ধিতা করে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই খেলার শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি এক সময় রুপ নেয় সংঘর্ষে। এতে আহত হয় জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র জয়দেব দাস, ৮ম শ্রেনীর ছাত্র অয়ন দে, তৌহিদ, ৯ম শ্রেনীর ছাত্র সাজেদ হোসেন ,তুহিন ওয়াহেদুপুর ইউনিয়নে একজন খেলোয়াড় সহ অন্তত ১৭ জন। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।


জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ ১৭ গোল্পকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিলো। খেলায় আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবকের দয়িত্ব পালন করে। ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার কারনে তাদের দর্শকরা উছৃঙ্খল আচরণ করার সময় তাদের বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চলায় তারা। এতে আমার স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।


এ ব্যাপারে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, খেলা চলাকালীন সময় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনরত জোরারগঞ্জ স্কুলের ছাত্ররা আমাদের ইউনিয়নের সমর্থকদের উপর লাঠি দিয়ে মারধর করে। এতে আমার দলের একজন খেলোয়াড় সহ অনেকেই আহত হয়। তারা অন্যায়ভাবে আমার দলের খেলোয়াড়দের উপর হামলা করেছে। মারামারির এ পর্যায়ে আমরা খেলা বন্ধ করে দিয়ে চলে আসি।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকছুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, খেলা চলাকালীন সময়ে উছৃঙ্খল দর্শকরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ অসীম বড়–য়া বলেন, মারামারির ঘটনায় ৭ জন ভর্তি হয়েছিলে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৫ জন ফিরে গেছে।
মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী হাসপাতলে ভর্তি হলেও মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল কবির বলেন, কোন মরামারির ঘটনা ঘটেনি।

মর্মান্তিক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
মায়ের সঙ্গে খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলছিল শিশু জাওয়াদ। দুপুরে মাও কর্মব্যস্ত। কলেজ শিক্ষক বাবা কর্মস্থলে। একসময় বারবার ডাকাডাকি করে জাওয়াদের সাড়া-শব্দ না পেয়ে মা এদিক-ওদিক খুঁজতে থাকেন। চোখ যায় বাথরুমের দিকে। সেখানে বালতিতে উপুড় হয়ে পড়ে আছে জাওয়াদ। এগিয়ে গিয়ে দেখেন প্রিয় সন্তানের নিথর দেহ। মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজনও এগিয়ে আসেন। ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। ততক্ষনে খবর পেয়ে বাবাও ছুটে আসেন। তবুও মন মানেনা। সন্তানকে নিয়ে ছুটে যায় আধুনিক সদর হাসপাতালে। একইকথা বলেন এখানকার ডাক্তাররাও। খবর পেয়ে সহকর্মী ও স্বজনরা ভীড় জমান। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরের শহরের মিজান রোডের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারে। ওই টাওয়ারের ৮ম তলায় স্বপরিবারে থাকেন মহিপাল সরকারি কলেজের খন্ডকালীন প্রভাষক হাসান মাহফুজ। তার ৪ বছর বয়সী আরেকটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জানা গেছে, দুপুরে বাসায় খেলার সময় ছোট্ট বলটি বালতিতে পাড়ে যায়। বলটি তুলতে গিয়েই শিশু জাওয়াদ উপুড় হয়ে পড়ে। বালতিতে থাকা পানিতে তার নাক-মুখ ডুবে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, গতকাল মাহফুজের বাবা হজ্ব পালন শেষে দেশে ফেরার কথা। এর আগেই প্রিয় নাতির মৃত দেহ দাফন করা হয় দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে। বিকালে ১৬ মাস বয়সী শিশু জাওয়াদের লাশ গ্রামে নেয়া হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারিতে পাড়া-প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। সেখানে বাদ আসর শাহ সুফি সদর উদ্দিন মাজার মসজিদের সামনে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

মিরসরাইয়ে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা, পোলট্রি খামার ভাংচুর


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে মোহাম্মদ মিল্লাত (৩৮) নামে এক বিএনপি কর্মীকে উপর্যপুরি কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তার পোলট্রি খামারের ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের তিনঘোরিয়াটোলায় এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহত মিল্লাত ওই এলাকার বাহার চৌধুরী বাড়ির আবুল খায়েরের পুত্র।
আহত মিল্লাত জানান, শুক্রবার রাতে মুখোশধারী একদল সন্ত্রাসী বাড়িতে ঢুকে কিছু বুঝে উঠার আগে চুরি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমার হাত, পা ও কপালে কোপ লাগে। কয়েকজন আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলে। এসময় বাড়ির অন্যান্য লোক বেরিয়ে এলে তারা দৌড়ে দিয়ে আমার পোলট্রি খামারে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে ও ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় প্রায় শতাধিক মুরগী মারা গেছে। পরে লোকজন ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

এদিকে হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আলমগীর, মঘাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন।