শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 683

এবার লড়াই হবে, প্রস্তুতি নিচ্ছি: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী সংসদ নির্বাচনে লড়াই হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতাদের উত্তরাঞ্চলে ট্রেন সফর করার আগে কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন ও তা ঠেকানোর ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে তারা সফল হয়নি এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে।

দশম জাতীয় সংসদের মতো আগামী সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে কি না সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সেজন্য তারা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। সেজন্য প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।’

নির্বাচনকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা সফরের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে আজ সকাল আটটায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসে চড়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হন দলটির একটি প্রতিনিধিদল। ১৫টি সাংগঠনিক দলের চলমান সফরের অংশ হিসেবে এই সফর করছেন প্রতিনিধিদল। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওবায়দুল কাদের।

নীলফামারী গিয়ে থামার আগে যাত্রাপথে ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেলস্টেশনগুলোতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।

ট্রেনে ওঠার আগে কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার জন্যই আমাদের এই সফর। এর মাধ্যমে আমরা তৃণমূলের কিছু বার্তা দিতে চাই।’ ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও এই সফর করা হবে বলে জানান তিনি।

কাদের বলেন, এটা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এই ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নির্বাচনী সফর করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূলের মানুষ যেন বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির নিয়ে সচেতন হয়, সে বিষয়ে দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কাদের বলেন, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর সড়কপথে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে।

কাদেরের সফরসঙ্গী হিসাবে আছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সূত্র ঢাকাটাইমস/৮সেপ্টেম্বর

মাশরাফি-সুমির যুগলবন্দীর এক যুগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এক যুগে যুগলবন্দী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা দম্পতি। স্ত্রী সুমনা হক সুমির সঙ্গে ১২টি বছর পার করে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্রিকেট অঙ্গনের এ দম্পতির (মাশরাফি-সুমি) গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল ১২তম বিবাহবার্ষিকী। এইদিনে দেশের নানা জায়গা থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রিয় অধিনায়কের ভক্তরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত ৬ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার পর থেকেই মাশরাফি দম্পতির জন্য শুভ কামনা করেন তার ভক্তরা। শেখ নয়ন নামে এক ভক্ত ফেসবুকে লিখেছেন-‘শুভ বিবাহবার্ষিকী ভাই-ভাবি।’ এমবিএ লিংকন লিখেছেন-‘নড়াইল তথা বাংলার ১৭ কোটি মানুষের মধ্যমনি ও গর্ব, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা কৌশিকের শুভ বিবাহবার্ষিকী। শুভ হোক আগামীর দিনগুলি।’ হিরা সারথীর মন্তব্য-‘হ্যাপি অ্যানিভারস্যারি বন্ধু, অনেক অনেক ভালো থাকো সবসময়। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন লিখেছেন, ’সফলতা কামনা করি নিরন্তর।’ এছাড়া ফেসবুকবন্ধুরা মাশরাফির বিয়ের দিনের ছবিসহ তার স্ত্রী ও সন্তানদের ছবিও পোস্ট করেছেন। বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য দোয়াসহ ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যশা করেন তার সকল ভক্তরা।

এশিয়া কাপকে সামনে রেখে ৬ আগস্ট বিসিবির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে হাজির উপস্থিত ছিলেন মাশরাফি। কথা বলার এক পর্যায়ে বিবাহবার্ষিকী এবং সংসার নিয়ে কথা উঠলে অধিনায়ক বলেন,‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংসার! আসলে যারা চাকরি করছে তাঁদেরও তো সংসার করছে। এখানে কঠিন কিছু নেই। সংসার জীবনের পুরোটাই হচ্ছে একজন আরেকজনকে বোঝাপড়ার বিষয়। আমার তো মনে হয় চাকরিজীবীদের চেয়ে ক্রিকেটারদের সংসার করাটা আরও সহজ। আমাদের অনেক বিরতি থাকে, সুযোগ থাকে পরিবারকে নিয়ে সফর করার। এটা একজন চাকরিজীবী বা অন্যান্য পেশায় থাকে না। এটা যুগলদের জন্য আরও মজার, খেলাধুলা আসলে বন্ধনটা আরও শক্ত করে’।

২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নড়াইল চিত্রাপাড়ের মেয়ে সুমনা হক সুমিকে বিয়ে করেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। নড়াইল শহরের রূপগঞ্জে একটি কমিউনিটি সেন্টারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরেরদিন ৮ সেপ্টেম্বর চিত্রা নদীর কোল ঘেষে গড়ে ওঠা চিত্রা রিসোর্টে বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠান ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তৎকালীন সভাপতি, কোচ, খেলোয়াড়, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মিলন মেলা হয়েছিল। এদিকে, মাশরাফি ও তার পরিবার কখনোই বিবাহবার্ষিকী এবং জন্মদিন ধূমধাম করে পালন করেন না। এক্ষেত্রে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। মাশরাফি-সুমির দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা এবং সাহেল নামে দুই সন্তান রয়েছে।

যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা শিগগির

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারবিরোধী জোটগুলোর অভিন্ন কর্মসূচি আসছে শিগগিরই। জোটগুলো একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিতে নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে আসছে, তা ইতোমধ্যে বহু দূর এগিয়েছে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পুরো প্রক্রিয়া প্রকাশ্য রূপ নিতে পারে। জানা গেছে, আদর্শগত অমিল এবং দাবির ভিন্নতা থাকায় জোটগুলো যদি শেষ পর্যন্ত এক মঞ্চে নাও আসে, নির্বাচন ইস্যুতে সবাই অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে, যা একটি পর্যায়ে গিয়ে ‘বৃহত্তর নির্বাচনী মোর্চা’য় রূপ নিতে পারে।

জানা গেছে, ‘৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারণা থেকেই তিন বা এর অধিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ নাগাদ অথবা অক্টোবরের শুরুতে অভিন্ন কর্মসূচিতে এ জোটগুলো আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দীর্ঘদিন ধরেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সিপিবি, বাসদসহ বেশ কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা। ক’দিন আগে যুক্তফ্রন্ট এবং গণফোরাম মিলে গঠন করছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। একাধিক সূত্র বলছে, নানা রকম শর্ত এবং প্রশ্ন এড়াতে তিনটি জোট আলাদা অবস্থান থেকে অভিন্ন কর্মসূচিতে যুগপৎ আন্দোলন পরিকল্পনার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এরশাদের পতনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দল, বিএনপির নেতৃত্বে সাত দল এবং ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, জাসদ সমন্বয়ে পাঁচ দলীয় বাম জোট গঠিত হয়েছিল। ওই সময় জামায়াতে ইসলামী তিন জোটের কোনটিতে না থাকলেও তিন জোটের কর্মসূচি হুবহু অনুসরণ করেছিল। ‘৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শেষ ভাগে তিন জোট ১৯ দফার একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছিল।

এবারো একই ভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জোটগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না নয়া দিগন্তকে বলেছেন, ঐক্য গড়ার পথে অনেক দূর এগিয়েছি আমরা। ঐক্য গড়ার সময় প্রস্তাব নিয়ে, দাবি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়, আমাদের তেমন হয়নি। কারণ স্বৈরতন্ত্রের থাবা এত তীব্র যে মানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষা এখান থেকেই জোরালো হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমরা যুগপৎভাবে আন্দোলন করব। এটি একপর্যায়ে গিয়ে নির্বাচনী ঐক্যে রূপ নিতে পারে।

গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আমরা একসাথে আন্দোলন করতে চাই। এক মঞ্চ হলে ভালো হয়, তা না হলে যে যার অবস্থান থেকে আমরা অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলন করতে পারি।

বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার এক নেতা বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আমরা ইতোমধ্যেই আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েছি। এ ইস্যুতে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করতে পারি। এ নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে।
জানা গেছে, ড. কামাল হোসেনের সাথে শিগগিরই বাম ফ্রন্টের বৈঠক হওয়ার কথা আছে। বিএনপির সাথেও ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জোটের বৈঠক হবে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য হবে। সবাই মিলে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে শিগগিরই যেতে পারব বলে আশা করছি।
এ দিকে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এবং এ দাবির পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার অংশ হিসেবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ আহ্বান করেছেন ড. কামাল হোসেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ সমাবেশের মাধ্যমে বিশাল শোডাউন করতে চান প্রবীণ এ আইনজীবী। সমাবেশ থেকে সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হবে।
জানা গেছে, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা এ সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। কয়েকটি বাম দলের শীর্ষ নেতারাও এতে উপস্থিত থাকতে পারেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাথে জড়িত নয় সুশীল সমাজের এমন একটি অংশও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়েচড়ে বসেছে। তারাও একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের গ্রাউন্ড তৈরিতে নিজ নিজ পরিমণ্ডলে কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন।

সুশীল সমাজের এ অংশটির দেশে-বিদেশে নিরপেক্ষ একটি ইমেজ রয়েছে। যারা সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজনও হয়েছেন। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকেও ‘বিতর্কিত’ হিসেবে দেখেছেন। সেই পটভূমি থেকে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তারা ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।

আজ নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ ফুটবলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে আজ মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী নেপালের মুখোমুখি হবে দুর্বার হয়ে ওঠা বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম দু’ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। নেপালের বিপক্ষে জয় বা ড্র হলেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করতে পারবে জেমি ডে’র শিষ্যরা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। এর অগে বিকেল ৪টায় ভুটানের বিপক্ষে লড়বে পাকিস্তান।

২০০৯ সালে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের গ্রুপ পর্বের বাঁধা টপকে সেমিফাইনাল খেলেছিলো বাংলাদেশ। এরপর আরো তিনবার সাফে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই নিজেদের মিশন শেষ করে বাংলাদেশ। এবার অন্তত গ্রুপ পর্বের বাধাঁ টপকে যাওয়াই আসল লক্ষ্য তাদের, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই লক্ষ্যের পূরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ।

ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে এবারের আসরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। ওই জয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠে তপু বর্মন-মাহবুবুর রহমনারা। এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিলো এ ম্যাচেও জয় তুলে নেয়া।

কিন্তু ম্যাচ জিততে প্রয়োজন গোলের, সেই কাঙ্খিত গোলের স্বাদই নিতে পারছিলো না বাংলাদেশ। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত গোলহীন কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। তবে ৮৫ মিনিটে ভাগ্যদেবী মুখ তুলে তাকায় স্বাগতিকদের দিকে। পাকিস্তানের ডি-বক্সের কিছুটা দূরে থ্রো পায় বাংলাদেশ। বাঁ-দিক দিয়ে লম্বা থ্রো রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষের। যেই থ্রো পৌঁছায় পাকিস্তানের গোলমুখের কাছাকাছি। বলটি মাটিতে পড়ার আগেই মাথা দিয়ে গোল আদায় করে তপু বর্মন। আগের ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন তিনি। তপুর ওই গোলেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ফলে ২ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সেমিফাইনালের দোরগোড়ায়ও। দু’ম্যাচ জিতেও সেমি নিশ্চিত না হবার পেছনে পয়েন্ট টেবিলের মারপ্যাচ রয়েছে।

কারণ, ২ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেপাল। একই অবস্থা পাকিস্তানের। প্রথম দু’ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে ভুটান।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপাল যদি বাংলাদেশকে এবং পাকিস্তান যদি ভুটানকে হারিয়ে দেয়, তখন পয়েন্ট টেবিলের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে তিন দলকে। সেক্ষেত্রে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৬। তখন গোল গড়ের হিসাবে দু’দল উঠবে সেমিফাইনালে। তাই সেমির টিকিট এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ। অবশ্য এখন পর্যন্ত গোল গড়ে সমান অবস্থানে বাংলাদেশ ও নেপাল। পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে গোল রয়েছে ৩টি করে। পাকিস্তানের ভান্ডার শূন্য।

তবে এসব হিসাব-নিকাশের দিকে আগ্রহ নেই বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে’র। তার কথা বলার আকার-ইঙ্গিত তেমনই আভাস দেয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর জেমি ডে বলেন, ‘এমন টানা দু’টি বা একটা ম্যাচ জয়ই সবকিছু নয়, আমাদের যেতে হবে অনেক দূর। ছেলেরা ১২ সপ্তাহ কঠিন পরিশ্রম করেছে। এটি তারই ফল।’

বাংলাদেশের কোচের চোখ বহু দূর। তাই হয়তো শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে আরও চমক দেখানোর ছক কষে রেখেছেন জেমি ডে। বাংলাদেশের ফুটবলের আকাশে কালো মেঘ, দু’ম্যাচ দিয়েই যখন সরিয়ে পেরেছেন তখন নয় বছর পর লাল-সবুজের দলকে শেষ চারে পৌঁছে দিতেও পারবেন জেমি। কারন তার সাথে তো আছেন ১১জন যোদ্ধা। যারা মাঠে গোলের জন্য লড়াই করেন এবং গোল পেলে যুদ্ধের মতো গুলি করে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন। যেমনটা পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে গোলের পর গোলদাতা অভিনয়ের মাধ্যমে গুলি করে সতীর্থদের পরাস্ত করেন।

তাই এমন জয়ের পিপাসায় ভুগছিলেন তপু। গোল করে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এনে দেয়া তপু বলেন, ‘নিজেদের মাঠে খেলা। এমন জয় খুব বেশি দরকার ছিলো। এমন জয়ে আমরা সকলেই দারুন আনন্দিত।’

চিকিৎসা দেওয়া হলে ট্রায়াল ফেস করবেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করেছেন তার চারজন শীর্ষ আইনজীবী। শুক্রবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে তার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন কারাফটকের সামনে সাংবাদিকদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। জরুরী ভিত্তিতে তার চিকিৎসা করা দরকার। তার বামসাইড প্যারালাইসডের দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ম্যাডাম বলেছেন আপনারা আইনগতভাবে মোকাবেলা করুন, আগে আমাকে বাঁচতে হবে। আমার চিকিৎসা দরকার। তিনি বলেন, সরকারকে আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন। তারপর তারা বিচার করুক।

জয়নাল আবেদীন বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আমাদের বলেছেন, তিনি ট্রায়াল ফেস করতে প্রস্তুত কিন্তু আগে তার চিকিৎসা দরকার। তার শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ। কারাগারে তাকে তিলে তিলে ধ্বংস করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে তারা দেখা করতে যান। বেলা পোনে ৬টায় কারাগার থেকে বেরিয়ে আইনজীবীরা জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তার শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। বাম চোখ ফুলে গেছে। চোখে ঝাঁপসা দেখছেন। তিনি এতটাই শুকিয়ে গেছে যে শরীর শরীরে এক ছটাকও মাংস নেই। এই অমানবিক অবস্থায় কিভাবে তার বিচার হয়।

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাওয়া আইনজীবীরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আইনগত দিক দেখা যাবে, আগে তার চিকিৎসা করা দরকার। চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হলে তিনি পুরোপুরভাবে প্যারালাইসড হয়ে যেতে পারেন। তার বাম চোখ ফুলে গেছে, চোখে ঝাঁপসা দেখছেন। কারাকর্তৃপক্ষকে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন কিন্তু কারাগারে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাকে অবিলম্বে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল- ইউনাইটেড বা অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

কারাগারে মামলার বিচার সম্পার্কে আপনাদের কি পরামর্শ দিয়েছেন? জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার বিষয়ে পরামর্শ হয়েছে। তিনি আমাদের বলেছেন, আপনারা আইনগতভাবে মোকাবেলা করুন, আগে আমাকে বাঁচতে হবে। আমার চিকিৎসা দরকার। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন। সরকারকে বলেন আগে চিকিৎসা করতে। তারপর তারা বিচার করুক।

খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে তার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার বাম চোখ ফুলে গেছে। এছাড়া তার বাম হাত তিনি নাড়াচাড়া করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল কিংবা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। তা না হলে খালেদা জিয়া প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জয়নাল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার সারা শরীরে ব্যথা। অবিলম্বের তার চিকিৎসা দরকার।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ম্যাডাম পরিস্কারভাবে বলেছেন- এ মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে করা হয়েছে এবং বিচার করা হচ্ছে। তিনি কথা বলতে পারছেন না। চোখে দেখতে পারছেন না। তার শরীরে এক ছটাকও মাংস নেই।

তার অবস্থা খুবই অমানবিক, এ অবস্থায় কিভাবে আদালতে এনে তার বিচার করা হচ্ছে। আমরা ভাবিনাই বেগম খালেদা জিয়াকে এ অবস্থায় দেখব। প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমীর উদ্দিন সরকারের সাথে তিনি কথাই বলতে পারেনি। তিনি বলেছেন, ম্যাডাম এ অবস্থায় কিভাবে অপনার সঙ্গে কথা বলব। তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে বলেছেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি হয়। ওই শুনানিতে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। ওইদিন তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো না। আমার পা ফুলে গেছে। ডাক্তার বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বাম হাত প্যারালাইজড, বাম পায়ে প্রচ- ব্যাথা, পা ফুলে গেছে। হাঁটতে পারি না।

এভাবে বসে থাকলে আমার পা ফুলে যাবে। আদালতকে তিনি বলেন, ডাক্তারের রিপোর্ট দেখলে আপনা বুঝবেন আমি কতটা অসুস্থ। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচ- ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আমার সিনিয়র কোনো আইনজীবী আসেনি। এটা জানলে আমি আসতাম না। আপনাদের যা মনেচায় যতদিন ইচ্ছা সাজা দিতে পারেন, আমি অসুস্থ, এ অবস্থায় বার বার আসতে পারব না। ন্যায়বিচার এখানে হবে না। এখানে আমি ন্যায় বিচার পাব না।

মিরসরাইয়ে শান্তিনীড়ের ত্রাণ বিতরণ


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা শান্তিনীড়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের কার্যালয়ে উক্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শান্তিনীড় পৃষ্ঠপোষক কাস্টমসের সহকারী কমিশনার কামরুল ইসলাম চৌধুরী, শান্তিনীড়ের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল, পৃষ্ঠপোষক সদস্য লায়ন ইলিয়াছ সিরাজী, পৃষ্ঠপোষক সদস্য লায়ন মঈন উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নুরুল করিম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মেহেদী হাসান চৌধুরী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো: মাঈন উদ্দিন, কার্যনির্বাহি সদস্য মনজুর হোসাইন, শান্তিনীড় সদস্য রাশেদুল হাসান মামুন, রায়হান চৌধুরী প্রমুখ।

মিরসরাইয়ে ছাত্র কল্যাণ পরিষদের কৃতি শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি প্রদান

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ( সিকেপি) এর উদ্যোগে উপজেলার কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শুক্রবার ( ৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় মিরসরাই উপজেলা অডিটোরিয়ামে নজরুল ইসলাম বাপ্পীর সভাপতিত্বে ও তৌহিদুল আলম রুবেল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট এক্সিকিউটিভ অফিসার্স এসোসিয়েশন ( বাকাএভ) এর সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান।


সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রিয়তোষ নাথ । বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ, ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদুল হাসান টিপু, সমাজ সেবক আফছার হোসেন চৌধুরী, পাক্ষিক খবরিকা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সি.কে. পি ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পারভেজ।

আরো বক্তব্য রাখেন চলমান মিরসরাই’র নির্বাহী সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, ইউপি সদস্য আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক আলতাফ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেত্রী রাশেদা আক্তার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মানবজমিন মিরসরাই প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক নিজামী, সি-প্লাস প্রতিনিধি বাবলু দে, ভোরের ডাক প্রতিনিধি সানোয়ারুল ইসলাম রনি।


কামরুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের এই মেধাবী শিশুরাই আগামীদিনে দেশও জাতির কর্ণধার। এইসকল শিশুদের সকল অভিবাবকগন তাদের স্ব স্ব গন্থব্যমুখী মেধা চর্চার পাশাপাশি আদর্শ ও উত্তম মানুষ হিসেবে ওরা যেন বড় হয় সেদিকেও যতœবান হওয়াই উচিত বলে মনে করি। এছাড়া বিশেষ অতিথিগন ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ( সিকেপি) এর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আগামীদিনে মেধা বিকাশে আরো ব্যাপকতর উদ্যোগের আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনীর দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত- বারো শ’ মামলায় আসামি দেড় লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এখন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও থেমে নেই পুলিশের গ্রেফতারবাণিজ্য। বিএনপির তৃণমূল থেকে মধ্যম সারির নেতাকর্মীদের অনেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে ঠিকমতো থাকতে পারছেন না। বিএনপি বলছে, কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে গতকাল পর্যন্ত দেড় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই গ্রেফতার চলমান। নতুন করে মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক। নাম উল্লেখ করে আসামির সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। গ্রেফতার অভিযানের পাশাপাশি পুরনো মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে। অনেক সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধেও নতুন করে মামলা দেয়া হচ্ছে। সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বাইরে রাখার জন্যই বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে দলটির নেতাদের অভিযোগ। তবে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী বলছে, যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পয়লা সেপ্টেম্বর দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার আয়োজন করে বিএনপি। কিন্তু জনসভাকে ঘিরে আগের দিন রাতেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। জনসভায় ব্যাপক উপস্থিতির পর হঠাৎ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় বেড়ে গেছে। নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ছাত্রদলের সহসভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মফিজুর রহমান আশিক, বায়েজীদ আরেফিনসহ অনেকেই জানান, তারা ঠিকমতো বাসায় থাকতে পারেন না। সব সময় গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

এদিকে গত ৬ আগষ্ট ঢাকায় ছাত্র আন্দোলকে ইস্যু করে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানায় দুটি গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত সহ প্রায় আড়াইশ জনকে আসামী করা হয়। ওই মামলায় হাইকোট থেকে জামিন নিলেও নিন্ম আদালতে জামিন চাইতে গেলে জামিন না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কারাগারে যাওয়া নেতারা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়াররহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুকুল আলম সোহান, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইফতেখার মাহমুদ জিপসন, ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন। এছাড়া মিরসরাই থানায় মামলার আসামীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সেলিম, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন হুমায়ুন ও যুবদল নেতা এসএম হারুন।

মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী ও গণবিরোধী সরকারের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ক্ষমতা হারানোর ভয় পেয়ে বসেছে। এ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, সরকার আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি ভোটশূন্য নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তা চায় না। সে জন্যই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকার বিএনপিকে টার্গেট করেছে। যাতে বিএনপি আন্দোলন করতে না পারে। ফলে কোনো উসকানি ছাড়াই হামলা-মামলা করছে সরকার। তবে সরকার যতই নির্যাতন করুক, কৌশল গ্রহণ করুক কোনো লাভ হবে না। দেশবাসী এবার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, সরকার শেষ বেলায় এসে আরো বেশি উম্মাদ হয়ে গেছে। কোন কারণ ছাড়াই বিএনপি নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় আসামী করা হয়েছে। মিরসরাইয়ে ছাত্র আন্দোলন তো দুরের কথা একজন ছাত্রও রাস্তায় নামেনি। তাহলে কেন এই মামলা, হয়রানি। জনগন এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর সূত্র জানায়, এমনিতেই সারা দেশে ১৮ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮ হাজার মামলা ঝুলছে। নতুন মামলাও হচ্ছে। আবার পুরনো মামলাগুলো সচল করেও কাউকে কাউকে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এর মধ্যে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেই ৩৫টি মামলা রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের পর ঢাকা মহানগরীর বহু নেতাকর্মীর নামে নতুন মামলা দেয়া হয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুকে প্রধান আসামি ও ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে ঢাকার লালবাগ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি নতুন মামলা দায়ের করেছেন নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আনিসুল ইসলাম। সরফত আলী সপু জানান, তাকে যে মামলায় আসামি করা হয়েছে তার সাথে কোনোভাবেই তিনি সম্পৃক্ত নন। এটি একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত মামলা। এভাবে আরো অনেক নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দফতর সূত্র জানায়।

বিএনপির দফতর সূত্র জানায়, বুধবার ঢাকা মহানগরীর সূত্রাপুর থানায় বিএনপি নেতা আবদুস সাত্তার, জাবেদ কামাল রুবেল, আবু সাহেদ মিন্টু, আনু ও দেলোয়ারসহ ২০ জনের নামে দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ১০টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মোট ২৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশব্যাপী আবারো নতুন করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অথবা নিজেরাই নাশকতার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে নির্বিচারে গ্রেফতার করছে পুলিশ। কারণ শেখ হাসিনা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। সে জন্য একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করতে তিনি সারা দেশে বিরোধী দলশূন্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ঢাকা সহ সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ও পরিবার ছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতি দিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে। তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সাথে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার, গ্রেফতার করছে এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো মামলা দিয়ে সারাদেশকে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের বাহিনীগুলো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। দমন-পীড়নের তীব্র মাত্রার পরও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষয় হয়নি। জনগণের নীরব ক্ষোভ প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। সরকার যত জুলুম করছে ততই সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে। জনগণের সাথে প্রতারণার মাশুল সরকারকে দিতেই হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা গেফতারি পরোয়ানা রয়েছে শুধু তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে, এর বাইরে কোনো গ্রেফতার নেই।
মেহেরপুর সংবাদদাতা জানান, মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিএনপির ১১ ও জামায়াতের ৮ জন স্থানীয় নেতাকর্মী রয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার ভোর রাতে জেলার গাংনী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মাটিতে লালসবুজদের বিপক্ষে কোনো জয় নেই পাকিস্তানের। বরং দুটি ড্র ছাড়া বাকী সবই বাংলাদেশের জয়। কার সাফ সুজুকি কাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ফের জেমি ডে বাহিনীর জয়োৎসব। ৮৫ মিনিটে তপু বমর্নের গোলে ২০১১ সালের পর আবার ঢাকার মাঠে শেষ হাসি পাকিস্তানের বিপক্ষে। একই সাথে ২০১৩ সালে কাঠমান্ডু সাফে তাদের কাছে হারের বদলাও হলো। সেই ম্যাচে তারা জিতেছিল ২-১ এ। টানা দুই জয়ে বাংলাদশে এখন ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে। সেমিতে যেতে শনিবার নেপালের সাথে ড্র ই যথেষ্ট হবে।

তবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের গোলের উৎস বিশ্বনাথের লম্বা থ্রো। এই লম্বা থ্রোতে কাল বারবার গোলের সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে সাফল্য।


একাদশে একটি পরিবর্তন। মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদের জায়গায় সুযোগ পান অভিজ্ঞ মামুনুল ইসলাম মামুন। সাবেক এই অধিনায়কের উপস্থিতি দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করেছে। কোচের ৪-২-৩-১ ফরমেশনে রক্ষন লাইনের ঠিক উপরে ছিলেন এই মামুনুল এবং জামাল ভুইয়া। কিন্তু পাকিস্তানীদের মিডফিল্ডকে গুড়িয়ে ডিফেন্স চেরা কোনো পাস দেয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিলনা। বরং প্রতিপক্ষের আক্রমন রুখে দিতে তা পর্যাপ্ত মনে হয়েছে প্রধমার্ধে। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিটে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী পাকিস্তানীদের বিপক্ষে লালসবুজদের কোনো আক্রমন না হওয়ার নেপথ্য তাই।

স্বাগতিকদের কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর কৌশল বুঝে ডি বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে শুরু করেন পাকিস্তানী কিপার ইউসুফ ইজাজ ভাট। ফলে দূর থেকে শটে তাকে পরাস্ত করার বৃথা চেষ্টা ছাড়া প্রথমার্ধে আর কিছুই করতে পারেনি জেমি ডে বাহিনী। বরং ৯ মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছেল পাকিস্তান। ডেনমার্ক প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর সাধারন মানের হেড নিজের দীর্ঘ দেহকে পুঁজি করে কোনো মতে কর্নার করেন বাংলাদেশ কিপার শহীদুল আলম সোহেলে।এই দীর্ঘ দেহের কারনেই সব কোচের মতো জেমিরও পছন্দ এই সোহেল।

শুরু থেকে নড়বড়ে ছিলেন বাংলাদেশের রাইটব্যাক পজিশনে খেলা টুটুল হোসেন বাদশা। ৫৫ মিনিটে তার ভুলেই আবার গোলের সুযোগ পেয়ে যায় আলী। তবে এবারো সোহেলের প্রতিরোধ। মোহাম্মদ আলীর তীব্র ডান পায়ের শট বাম দিকে শূন্যে শরীর ভাসিয়ে কর্নার করেন বাংলাদেশ কিপার। লালসবুজরা কাউন্টার অ্যাটাকে ভালো, এশিয়াডে তা দেখেছেন পাকিস্তানের ব্রাজিলিয়িান কোচ হোসে অ্যান্থনিও নগেইরা। তাই পাকিস্তান দলও ছিল সতর্ক। তারাও ঘর গুছিয়ে আক্রমনে উঠার চেষ্টা করতে থাকে।

৫৮ মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম বারের মতো পরীক্ষায় ফেলে বিপক্ষ গোলরক্ষককে। কিন্তু বিপলুর শট গোলরক্ষক সোজা যাওয়ায় কিছুই হয়নি। ৮৩ মিনিটের মামুনুলের ফ্রি-কিকে তপু গোল করতে ব্যর্থ হলেও ৮৫ মিনিটে সাফল্য। বিশ্বনাথের লম্বা থ্রোতে পাকিস্তানের বক্সে একটি হেড হয়। সে হেড পোস্টে ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ছুটে আসা তপু বর্মনের হেড উল্লাসে ভাসায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার বিশেক দর্শককে।এই নিয়ে সাফের টানা তিন ম্যাচে গোল পেলেন তপু। ২০১৫ তে কেরালায় ভুটানের বিপক্ষে গোল ছিল। এবার ৪ সেপ্টেম্বর ফের ভুটানের বিপক্ষে গোল করেন।

বাংলাদেশ দল: সোহেল , তপু, বাদশা, বিশ্বনাথ, ওয়ালী, জামাল, জনি, মামুনুল, সাদউদ্দিন, বিপলু( ইমন বাবু ৯৪ মি.), সুফিল ( রনি ৮৯ মি.)।

মিরসরাই পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল


মিরসরাই প্রতিনিধি
আগামী একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিরসরাই উপজেলায় দুই থানায় পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। মিরসরাই থানার ওসি সাইরুল ইসলামকে বোয়ালখালী থানায় বদলি করা হয়েছে। একই সাথে জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবিরকে বদলি করা হয়েছে মিরসরাই থানায়। জোরারগঞ্জ থানায় নিযুক্ত হচ্ছেন সীতাকুন্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান। এছাড়া জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ, উপ-পরিদর্শক দীনেশ চন্দ্র দাশগুপ্ত, সহকারী উপ-পরিদর্শক এমরান পাটোয়ারীকে মিরসরাই থানায় বদলি করা হয়েছে। সে সাথে জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সুজন চন্দ্র পাল পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা নৌ পুলিশের পরিদর্শক নিযুক্ত হয়েছেন। এছাড়া জোরারগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার উল্ল্যাকেও বদলি করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বারইয়ারহাট খান সিটি সেন্টারে সদ্যবিদায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিদায়ী সংর্বধনার আয়োজন করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সদ্যবিদায়ী জোরারগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার উল্ল্যার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির। শিক্ষক সুভাষ সরকারের সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, বারইয়ারহাট কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর, জোরারগঞ্জ কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি ইরান, সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, মিরসরাই প্রেসক্লাব সভাপতি শারফুদ্দীন কাশ্মীর, সাংবাদিক মাহবুব পলাশ।