শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 681

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৪’ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ৯ হাজার ৭৬৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৪’ এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭৬৭ জন। ইতোমধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বরের তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফলাফল জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (www.mopme.gov.bd) এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, রাজস্ব খাতভুক্ত ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৪’ দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর চলতি বছর ২০ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। চারটি ধাপে সারা দেশের ৬১টি জেলায় শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ১৩ লাখ প্রার্থী আবেদন করলেও তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার মধ্যে ২৯ হাজার ৫৫৫ জন উত্তীর্ণ হন।

নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী আসন প্রতি তিনজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ প্রার্থীকে নির্বাচন করা হয়। গত ৮ জুলাই সারা দেশের সব জেলার লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে আগামী ২৯ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ জুলাই থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। দেশের ৬১ জেলার মৌখিক পরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ৬১টি আলাদা ‘ভাইভা কমিটি’ সহায়তা মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ের মধ্যে বাকি তিন জেলাও (পার্বত্য তিন অঞ্চল) স্থানীয়ভাবে মৌখিক পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়

আফগান প্রিমিয়ার লিগ : তামিম মুশফিক একই দলে

ক্রীড়া প্রতিনিধি..
একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার নিয়ে প্রথম আসরেই চমক দেখাতে আসছে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ। ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদি, আন্দ্রে
রাসেল, বেন্ডন ম্যাককালামের মতো তারকারা ইতোমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন এই টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় তালিকায়।

আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে এই টুর্নামেন্টের আসর। ৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মরুর বুকে লড়াই হবে ব্যাটে বলে। টুর্নামেন্টে পাঁচটি দলের আইকন খেলোয়াড় হিসেবে থাকবেন গেইল, আফ্রিদি, আন্দ্রে রাসেল, ম্যাককালাম ও আফগান তারকা রশিদ খান। মোট পাঁচটি ফ্রাঞ্চাইচি দল অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। আফগানিস্তানের পাঁচটি অঞ্চল পাকতিয়া, কাবুল, বালখ, নানগারহার ও কান্দাহারের নামে গঠন করা হয়েছে দলগুলো।

সোমবার রাতে দুবাইয়ে এই টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ থেকে ২০ জন করে খেলোয়াড় কিনেছে প্রতিটি দল। নিম্নে দলগুলোর উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের তালিকা দেয়া হলো :

পাকতিয়া স্কোয়াড : শহীদ আফ্রিদি(আইকন), থিসারা পেরেরা, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, ক্রিস জর্ডান, ফাহিম আশরাফ, লুক রাইট, মোহাম্মাদ শাহজাদ, শরফুদ্দিন আশরাফ, সামিউল্লাহ শেরওয়ান।

কাবুল স্কোয়াড : রাশিদ খান(আইকন) লুক রঞ্চি, কলিন ইনগ্রাম, সোহেল তানভীর, লরি ইভান্স, ওয়েন পারনেল

বালখ স্কোয়াড : ক্রিস গেইল(আইকন), কলিন মুনরো, মোহাম্মাদ নবী, রবি বোপারা, মোহাম্মাদ ইরফান, কামরান আকমল, রায়ান টেন ডাসকাট, মোহাম্মাদ নওয়াজ।

নানগারহার স্কোয়াড : আন্দ্রে রাসেল(আইকন) তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, বেন কাটিং, মুজিব জাদরান, মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান, মোহম্মাদ হাফিজ, স্বন্দীপ লামিচান

কান্দাহার স্কোয়াড : ব্রেন্ডন ম্যাকাকালাম(আইকন), ওয়াহব রিয়াজ, পল স্টারলিং, নাজিবুল্লাহ জাদরান, তায়মাল মিলস, স্যাম বিলিংস।

কারাগারে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দেখতে গেলেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিনিধি

কারারূদ্ধ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল নেতা-কর্মীদের দেখতে গেলেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে তিনি নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করেন এবং মামলার জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। পরে আদালতেও একাধিক নেতার সাথে দেখা করেছেন।

কারাবন্ধি নেতাদের মধ্যে অন্যতম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, উপজেলা বিএনপি নেতা মুসা চেয়ারম্যান, মাসুকুল আলম সোহান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ইফতেখার মাহমুদ জিপসন ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

দেখা করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শাহীনুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আবুল হাসেম, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবু নোমান ভূইয়া সাবেক, মিরসরাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কামাল উদ্দীন, উপজেলা বিএনপি নেতা দিদারুল আলম মিলন, আবুল মনসুর বাবলু,২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক সোহাগ, চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি মনজুরুল হক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক শরফু উদ্দীন,কোষাধ্যক্ষ গোলাম মাওলা বাবলু,

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহ মোঃ ফোরকান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম , উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা সালমান হায়দার,আরিফ হোসেন বাবলু, উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদুল ইসলাম, আবু হাসনাত।

ঐক্য সময়ের ব্যাপার-বিএনপি-গণফোরাম-যুক্তফ্রন্টসহ বিরোধী শিবির একাট্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে ৩০ অক্টোবরের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। অথচ এখনো নির্বাচনকালীন ‘সরকার পদ্ধতি’ বিরোধের সুরাহা হয়নি। নির্বাচনকালীন সরকার সমঝোতার মাধ্যমে হবে নাকি সংঘাত অনিবার্য সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ‘জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ে’ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ইস্যুতে বিরোধী শিবিরে জোট গঠনের অগ্রগতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নানা মত-পথের রাজনৈতিক দল এক সারিতে আসার সিদ্ধান্ত কার্যত নিয়েই ফেলেছে। ‘বৃহৎ ঐক্য জোট’ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার। কিছু দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আবার কিছু দাবিতে রাজপথে ’৯০-এর মতো যুগপথ কর্মসুচি পালন করা হবে বলে জানা গেছে। রুপরেখা দেয়া হবে সেই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের তিন জোটের রুপরেখার আদলেই। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সব্রত চৌধুরী বলেছেন, জোট কার্যত হয়েই গেছে। কিভাবে জোট ফাংশন করবে সবকিছুই ঠিকঠাক। এখন ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র। নাগকির ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যের ব্যাপারে আমি এখন আর কোনো বাঁধা দেখি না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানববন্ধনে বলেন, দানব সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তিনি ‘নো খালেদা জিয়া নো ইলেকশন’ ইংগিত দেন।
বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে’ কাজ করবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহৎ স্বার্থে সব দলকে ‘কিছু ছাড়’ দেয়ার আবহান জানিয়েছেন। জোট গঠনের ‘পথের কাঁটা’ জামায়াত নিয়ে গণফোরাম ও বিএনপির মধ্যে যে সংকট ছিল সেটাও কার্যত কেটে গেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নেতারা বৈঠক করে বৃহৎ ঐক্যের ব্যাপারে ‘একমত’ হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর ড. কামাল হোসেন আহুত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ থেকে কিছু কর্মকৌশল ঘোষণা করা হবে। সুশাসনের দিক-নির্দেশনা তুলে ধরা হবে। অতপর কিছু কমন গ্রাউন্ডে বিএনপি, গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ে ঐক্যজোটের ঘোষণা দেয়া হবে। জামায়াতকে জোটেভুক্ত না রাখার বিষয়টির সুরাহা হবে রাজপথে ’৯০ আদলে যুগপথ কর্মসূচির মাধ্যমে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্য বিরোধীরা বিএনপি-যুক্তফ্রন্টে যেন ঐক্য না হয়, ঐক্য প্রক্রিয়া যাতে না এগোয় তার জন্যই নানা ধরনের কথা বলছেন। যুক্তফ্রন্ট কতদিন রাষ্ট্র শাসনের সময় চায় তা তো অনেক পরের ব্যাপার। এখনো পর্যন্ত সরকারবিরোধী একটা ফ্রন্ট তৈরি হচ্ছে। বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট বা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত প্রাথমিক যে শর্তগুলো আছে তা নিয়ে ফাইনাল আলোচনা শেষ পর্যায়ে। আর যাদের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট হচ্ছে তারাও তো শক্তিশালী, ফেলনা নয়। শাসন-প্রশাসনের ব্যাপারটা আরও পরে আসবে।
নির্বাচনকালীন সরকার গঠন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা সংলাপ না করে নির্বাচনকালীণ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া মাঠের বিরোধী দলগুলোকে আরো কাছাকাছি আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান শেলি বলেন, রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র সমাধান পারস্পরিক সমঝোতা। ক্ষমতাসীনরা ধরেই নিয়েছে প্রতিদ্ব›িদ্ব দলগুলোর তাদের (আওয়ামী লীগ) ঠেকানোর সক্ষমতা নেই। তবে বিরোধিরা বড় করে প্রতিবাদ করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। পরিস্থিতি সংঘাতের পথেও যেতে পারে।
২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে সফল করতে প্রতিদিন ঘরোয়া বৈঠক চলছে। জাতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে মিলিত হচ্ছেন ড. কামাল হোসেনের প্রতিনিধিরা। গতকালও ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী বাসদের খালেকুজ্জামান ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক মোশরেফা মিশুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগের দিন জোনায়েদ সাকিসহ বাম দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথক ভাবে বৈঠক করেন। বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শক্তি আর ভোটের নামে রঙ্গ করে সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে ঐকবদ্ধ হতে হবে। তিনি এব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যে ছয় দফা এগার দফা নিয়ে গণ জাগরণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে; মানুষের মধ্যে সে ধরণের একটি গণজাগরণ গড়ে তোলার হাই টাইম চলে এসেছে। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে আসা কঠিন না। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে স্বৈরাচার জনদাবি মানতে বাধ্য হবে। আমরা সেটাই করছি।
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে যেন জোট, ফ্রন্ট আর কোয়ালিশনের যুগ। বিশ্বের বিভিন্ন বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ঐক্যজোট গঠিত হয়ে থাকে। দেখা যায় সময়ের প্রয়োজনে বিপরীত মেরুর দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মধ্যপন্থী দলের সঙ্গে জোট বাঁধা সহজ। দেখা যায় কট্টর দক্ষিণপন্থী ও রক্ষণশীল দলের সঙ্গে বামপন্থী এমনকি মার্ক্সবাদী দলও জোট বেঁধেছে। তারা মনে করে জোট বেঁধে আন্দোলন বা নির্বাচন করলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। এক দল বা ব্যাক্তির স্বৈরাচারী শাসনের চেয়ে সরকারে বিভিন্ন দল-মতের অংশগ্রহণ থাকুক, জনগণ সেটাই ভাল মনে করে ভোট দেয়। যাঁরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন তাঁরা বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন হন এবং জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগ করতে দ্বিধা করেন না। বহুদলীয় জোটের সরকার মালয়েশিয়ায় দেখা যাচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও বহুদলীয় জোটের সফল সরকার বহুদিন ছিল। জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের বর্তমান সরকার কার্যত কোয়ালিশন সরকার। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সেটা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সে চর্চা হচ্ছে।
বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে অনেক আগেই। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি জোটের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। কয়েক মাস থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেশ কয়েকটি সমমনা দলের সঙ্গে বৈঠক করছেন, যোগাযোগ রাখছেন। অন্যদিকে বিকল্প ধারার বি চৌধুরী, গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না দীর্ঘদিন থেকে পৃথক ভাবে বৃহৎ ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে আলাপ আলোচনা চালাচ্ছিলেন। এই আলোচনা সরকার ভালভাবে না নেয়ায় কিছুদিন আগে আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বৈঠকে বাধা দেয় পুলিশ। দীঘদিন আলাপ আলোচনা ও প্রক্রিয়ার পর বি চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ওই ফ্রন্টে যাননি ঐক্য প্রক্রিয়া’র কারণে। তবে ২৮ আগষ্ট ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরী এবং গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠক শেষে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরী বলেন, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এই লক্ষ্যে পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য আমরা একটি সাব কমিটি গঠন করার ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের যৌথ নেতৃত্বে ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ২২ সেপ্টেম্বর নাগরিক সমাবেশ হবে। সেখানে কর্মসূচি ঘোষণা হবে। অভিন্ন বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনীতিক কামাল হোসেনও।
সুত্র জানায়, বিগত এক বছর ধরে বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের চেষ্টা চলছে। সেখানে জাসদের আসম রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক এক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না প্রতিটি বৈঠকে অংশ নেন। কিন্তু হঠাৎ করে আবদুল কাদের সিদ্দিকী যুক্তফ্রন্টে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন; জানান কামাল হোসেন না গেলে যাব না। আবার এখন জাতির বৃহৎ স্বার্থে বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের ‘বৃহৎ ঐক্য প্রক্রিয়া’ গঠনের ব্যাপারে বেঁকে বসেন। হঠাৎ করে ঘোষণা দেন শেখ হাসিনার অধীনেই তিনি নির্বাচনের পক্ষে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যাতে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে লক্ষ্যে তিনি ড. কামাল ও বি চৌধুরীকে বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের পরিবর্তে পৃথক ভাবে জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে দিল্লীর কংগ্রেসীয় সুতার টান হিসেবে অবিহিত করছেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন জমানায় মস্কোয় বৃষ্টি হলে ঢাকায় কমিউনিস্টরা মাথায় ধরতেন ‘ছাতা’। চীনে কিছু ঘটলে ঢাকায় ঘেউ ঘেউ করে উঠতেন। কারণ তারা এদেশের জনগণের নয় ওইসব দেশ থেকে নিয়মিত ফুয়েল পেতেন এবং ওইসব দেশের স্বার্থ-আদর্শের রাজনীতির চর্চায় ছিলেন অভ্যস্ত। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতার হঠাৎ পরিবর্তনের রহস্য অজানা। বি চৌধুরী, ড. কামালের সঙ্গে বছরের পর বছর বৈঠক করে কংগ্রেসীরা অখুশি হয় সে ভয়ে এখন সুর বদল করেছেন। ওই পথে নতুন সুর তুলেছেন ২০ দলীয় জোটের শরীক এলডিপির সভাপকি কর্ণেল (অব) অলি আহমদ। তিনি জন্মদিনে মোদীর সুভেচ্ছ পেয়েছিলেন; কিছুদিন আগে ১৫ দিন ভারত সফর করেন। তিনি কখনো বেগম জিয়ার মুক্তির আগেই আসন ভাগাভাগির দাবি করছেন; কখনো গণফোরাম, বিকল্পধারা জাসদ, নাগরিক ঐক্যের নেতাদের গণবিচ্ছিন্ন অবিহিত করে তাদের সঙ্গে জোট গঠনের বিএনপিকে না এগোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন। বিএনপি নাকি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর নিজের গণভিত্তি কতটুকু সে সম্পর্কে অবশ্য কিছুই বলছেননা। জাতীয়তাবাদী এই নেতাও কী দিল্লী বটিকায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বিরোধী শিবিরে ঐক্য জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আহূত ২২ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে বৃহত্তর জোট গঠনের বিষয়ে একটি ঘোষণা দেয়া হবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ঢাকায় কর্মরত সব বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানাবেন। বাম ধারার দলগুলোসহ প্রায় অর্ধশত দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের সামনে তিনি জোট গঠনের রুপরেখা তুলে ধরবেন। বিএনপির এই জোটে বিকল্পধারা, গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণদলসহ অর্ধ শতাধিক রাজনৈতিক দল থাকছে। নতুন এ জোটের সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ ‘জাতীয় ঐক্য পরিষদ’ ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ বা ‘বৃহত্তর ঐক্য ফ্রন্ট’ নামগুলো বিবেচনায় রয়েছে। এই জোট গঠনের পর দাবি আদায়ে দলীয়ভাবে একক বা জোটের ব্যানারে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচিতে নামতে চায় বিএনপি।
জানা গেছে, জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকায় ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর জোট গঠনের পথে দলটি ছিল প্রধান বাধা। এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় নির্বাচনে জোটের শরিক দল হিসেবে না ভেবেই বৃহত্তর ঐক্যে গড়তে যাচ্ছেন বি চৌধুরী-ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের স্পষ্ট বক্তব্য ‘কোনো ভাবেই জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়’। সে চিন্তা মাথায় রেখেই অগ্রসর হচ্ছে বিরোধী শিবিরের দলগুলো। রাজনীতির ‘গুণগত পরিবর্তন’ এনেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষে যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হচ্ছে। ’৯০ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যে প্রক্রিয়ায় তিন জোটের রুপরেখা প্রণয়ন হয়েছিল, রাজপথে জামায়াতের সঙ্গে যে প্রক্রিয়ায় যুগপথ আন্দোলন হয়েছিল সেই প্রক্রিয়ায় এবারও জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন হবে। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নেয়া হবে যে ড. কামাল হোসেন যখন সক্রিয় হবেন তখন সিপিবি-বাসদসহ ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট-মোর্চা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ার প্রয়োজন অনুভব করবে। তারাও মাঠে নামবে। এদিকে ‘ফ্যাসিবাদি দুঃশাসন রুখে দাঁড়ানো ও ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা’র জন্য এ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের। প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সবাবেশে জোটের নেতারা বলেছের, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে এবার তা প্রতিহত করা হবে। ##

আমীর খসরুর রিট শুনানি শেষ, আদেশ ১৬ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ঠিক করেন।

আদালতে আজ আমীর খসরুর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর আমীর খসরু মাহমুদকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ।

গত ০৩ সেপ্টেম্বর আমীর খসরু মাহমুদকে দুদকে হাজির হওয়ার নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

গত ১৬ আগস্ট অবৈধ লেনদেন, মুদ্রা পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমীর খসরুকে তলব করে দুদক। দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

উচ্চ আদালতে রিট মামলা বিচারাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে আমীর খসরু দুদকে এখন পর্যন্ত হাজির হননি। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন।

দুদকের চিঠিতে অভিযোগ আনা হয়, তিনি বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার এবং নিজ, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য আমীর খসরুর বন্দর নগরীর চকবাজার থানার মেহেদীবাগের বাসায় ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠানো হয়। দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম এই অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন।

বাস কেড়ে নিল লেগুনার ৬ যাত্রীর প্রাণ

জেলা প্রতিনিধি..

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়কের চকরিয়া বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার (ম্যাজিক গাড়ি) মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরইতলী রাস্তার মাথা নতুন পেট্রল পাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চিরিংঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ টিএসআই খলিলুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- ম্যাজিক গাড়ির চালক চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর এলাকার খায়ের আহমদ (৪০), চকরিয়ার হারবাং পাহাড়তলীর সাইফুল আলমের ছেলে আবুল কাশেম (২৭), হারবাং দক্ষিণ পাড়ার মনছুর আলমের ছেলে জহির আহমদ (৩১), চট্টগ্রামের লোহাগড়ারর চুনতি এলাকার মোস্তাক আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৮), তার মেয়ে ও আবুল হাশেমের স্ত্রী জায়তুন নাহার (২৫) এবং মৃত যতিন্দ্র সিকদারের মেয়ে বাসন্তি সিকদার।

এ ঘটনায় উভয় গাড়ির অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। চকরিয়ার চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে চিরিংঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের টিএসআই খলিলুর রহমান জানান, স্টার লাইন পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫০৬৩৮) কক্সবাজারমুখী বাসটি মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলী রাস্তারমাথা পেট্রল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতমুখী ম্যাজিক গাড়ির (ন-১৬-৬৪৬৫) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ম্যাজিক গাড়ির এক নারী যাত্রী মারা যান। এই গাড়ির বাকি আরও ৮-১০ জনকে চকরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সরকারি হাসপাতালে চালকসহ চারজন এবং ইউনিক হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। একই ঘটনায় স্টার লাইন বাসের ১০-১৫ যাত্রী কম বেশি আহত হয়েছেন। তাদেরকেও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এবার ব্যাংকারদের নিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

করপোরেট ক্রিকেটের কথা অনেকেরই জানা আছে। এবার সেই আদলেই ব্যাংকগুলোকে নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ব্যাংকার্স কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ব্যাংকিং পেশায় সরাসরি সম্পৃক্তদের অংশগ্রহণেই অক্টোবরে মাঠে গড়াচ্ছে এই টুর্নামেন্টটি।

অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের কোচ আনোয়ার হোসেন। সাবেক এই ক্রিকেটার ক্রিকেট কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকটিতে। কিন্তু, ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক কোন টুর্নামেন্ট না থাকায় শেষ পর্যন্ত এ ক্রিকেট কোটা বন্ধ করে দেয়। একই গল্প অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রেও। যে কারণে পেশাদার ক্রিকেটাররা অবসরে গেলে তাদের ভবিষ্যত কিংবা পরবর্তী পেশাগত জীবন নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। সে ভাবনা থেকেই ব্যাংকার্স কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা।

ব্যাংকিং পেশার একঘেঁয়েমি জীবন থেকে একটু স্বস্তি দেয়ার সঙ্গে ব্যাংকারদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বাড়াতেই ব্যতিক্রমি এ উদ্যোগ নিয়েছে ইমেগো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্রিকেট মাঠ ও গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে ১২ দলের অংশগ্রহণে টি-টোয়েন্টি ফরমেটের এ টুর্নামেন্ট।

এরই মধ্যে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এবি ব্যাংক-সহ দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ব্যাংক। টুর্নামেন্টের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও ব্যাংকার ইশতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, ব্যাংকার সাদউল্লাহ।

রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যাংকার্স কাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়া ব্যাংক প্রতিনিধি, উপদেষ্টা কমিটি ও টুর্নামেন্ট আয়োজকদের মধ্যে আজ অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। সেখানে সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘ব্যাংকার্স কাপ ক্রিকেটের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত জীবন সুরক্ষিত হবে। ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গেলে যে পরবর্তী পেশা নিয়ে আর অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে না।’

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও ব্যাংকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সার্ভিসেস দলগুলোর অংশগ্রহণে নানা ধরনের স্পোর্টস ইভেন্ট হয়। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের জন্য ভবিষ্যত সুরক্ষিত থাকে। বাংলাদেশে আগে বিচ্ছিন্নভাবে এ ধরনের টুর্নামেন্ট হয়েছে। কিন্তু, এখন থেকে নিয়মিত এ টুর্নামেন্ট আমরা আয়োজন করতে চাই।’

আগামী ১২ অক্টোবর, (শুক্রবার) পর্দা উঠবে ব্যাংকার্স কাপ ক্রিকেটের এবারের আসরের। গ্রুপ পর্ব হবে সিঙ্গেল লেগে। ২ গ্রুপের শীর্ষ ২টি দল খেলবে সেমিফাইনাল। ১৬ নভেম্বর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে হবে শিরোপা নির্ধারনী ফাইনাল।

#সূত্র জাগো নিউজ

মিরসরাইয়ে নবাগত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে প্রেসক্লাবের মত বিনিময়

::নিজস্ব প্রতিনিধি: :
মিরসরাইয়ে নবাগত সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) শামসুদ্দিন সালেহ চৌধুরী ও জোরারগঞ্জ থানায় সদ্য দায়িত্ব নেয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান চৌধুরীর সাথে মিরসরাই প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ্রের মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় কালে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের বিশেষ সহযোগীতা কামনা করেন।

এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি শারফুদ্দিন কাশ্মীর, সম্পাদক নুরুল আলম, সহ সভাপতি বিপুল দাশ, আইটি সম্পাদক মো. রিগান উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আবু সাইদ ভূইয়া, ক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সদস্য রাজু কুমার দে, সুজন মন্ডল, আজিজ আজহার, সাদমান সময়, বাবলু সহ ভিবিন্ন মিড়িয়ায় কর্মরত স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর সভাপতি মোঃ আলী আহসান।

অবশেষে ১২ শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজিরের পর রিমান্ডে


নিজস্ব প্রতিনিধি
তেজগাঁও ও মহাখালী থেকে আটক যে ১২ শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না তাদের আজ আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। ঢাকার সি.এম.এম আদালতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা পৃথক ২ মামলায় হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ। আপরদিকে আসামী পক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন নাহার ইয়াসমিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেককে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যাদের কে রিমান্ড দেয়া হয়েছে তারা হলোঃ তারেক আজিজ, মো. তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমীন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মো. মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, মো. সাইফুল্লাহ ও মো. রায়হানুল আবেদিন।

আসামী পক্ষে আইনজীবিরা আদালতে বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর তারিখে মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাদের আটক করে নেয়া হয়। কিন্তু তারপর তারা কোথায় কিভাবে ছিল আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করা হয়নি।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন-আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসিম, রোকন রেজা, শহিদুল ইসলামসহ বেশ কিছু আইনজীবী।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও বিজি প্রেস এলাকা থেকে ৩১ জনকে তুলে নিয়ে যায়। এক দিন পর ১২ জনকে আটকে রেখে বাকি শিক্ষার্থীদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই আটকের বিষয়ে ডিবি অফিস থেকে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

 

মিরসরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গৃহবধুর উপর হামলার অভিযোগ


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে ছাগলে শিম গাছ খেয়ে ফেলার অভিযোগে মমতা জলদাস নামে এক গৃহবধুর উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের বানাতলী মধ্যম মুরাদপুর গ্রামের এঘটনা ঘটে। মারাতœক আহত অবস্থায় মমতা জলদাসকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
আহত মমতা জলদাসের দেবর সুনীল জলদাস অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের একটি পুকুরের তারা দীর্ঘদনি ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। ওই পুকুর পাড়ে সোমবার তার বৌদি (বড় ভাইয়ের স্ত্রী) তাদের ছাগল বেঁধে আসে। কিন্তু স্থানীয় জামাল উল্যা নামে একব্যক্তি ছাগলে তার শিম গাছ ফেলে অভিযোগ করে ছাগলগুলো বাড়িতে নিয়ে যায়। জামালউল্যা বাড়িতে মমতা ছাগল আনতে গেলে জামাল উল্যা, তার দুই ছেলে নোমান ও আরমান তাকে বেদম পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। আহতের চিকিৎসা শেষে এই ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানান সুনীল জলদাস।

মিরসরাই থানার পরিদর্শদ (তদন্ত) বিপুল দেবনাথ জানান, হামলায় আহত গৃহবধু মমতাকে নিয়ে তার অভিভাবকরা মামলা করতে থানায় আসে। কিন্তু আহত গৃহবধু প্রথমে চিকিৎসা প্রয়োজন বলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।