শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 686

খান সিটি সেন্টার উদ্বোধন করলেন গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বাইয়ারহাট পৌর এলাকায় মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি ফখরুল ইসলাম খান সিআইপি প্রতিষ্ঠিত খান সিটি সেন্টার উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) খান সিটি সেন্টারে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঈদুল আযহার ছুটিতে আসা মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আজম, যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম খোকন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তাহের ভূঁইয়া সহ নেতৃবৃন্দ, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবীর, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী যুগ্ম-সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, সদস্য খোরশেদ আলম আজাদ, মহি উদ্দিন রাশেদ, মহাকবি কাইয়ুম নিজামী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, উপজেলা চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপদেষ্টা মঘাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক নুরুল মোস্তফা মানিক, বারইয়ারহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাশেল ইকবাল চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন প্রমুখ। মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি ফখরুল ইসলাম খান সিআইপির সৌজন্যে সকলের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়।

মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এস আলম বাসের ২ যাত্রী নিহত, আহত ২৫ ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন


নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট রেল ক্রসিং এলাকায় ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এস আলম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টায় ময়মনসিংহ থেকে চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে এস আলম পরিবহনের ওই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ১ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট উক্ত উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।


আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিমল চাকমা নামে একজন মারা যায়। বাকিদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা গেইট ম্যানের দায়িত্ব অবহেলাকে দোষছেন।

মিরসরাইয় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন এর কর্মকর্তা রবিউল আজম ও জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মিরসরাইয়ে ক্বওমী মাদ্রাসা প্রধানদের সাথে গনপূর্তমন্ত্রীর মতবিনিময়


নিজস্ব প্রতিনিধি
গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই সরকারই ক্বওমী মাদ্রাসার দাওরায় হাদীস এর সনদকে মাষ্টার্স ডিগ্রীর সমমান প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছে। যা অতীতের কোন সরকারই পারেনি। শুধু তাই নয়, ক্বওমী মাদ্রাসার দ্বীনি সেবার পাশে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সরকার সবসময় পাশে থাকতে চায়। আর তাই ক্বওমী মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের সকল সুবিধা অসুবিধা এবং আগামী দিনে করণীয় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা ভাবছে এই সরকার।
মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার ( ৩১ আগষ্ট) বিকাল বিকেলে উপজেলার ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এইসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবিরের সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামালপুর মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা মকছুদ আহমেদ, ফারুকীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুর রহমান, আবুরহাট মাদ্রাসার মাওলানা শহীদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা খুরশিদ আলম আজাদ, মিরসরাই থানার ওসি সাইরুল ইসলাম, জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, সাবেক পৌর মেয়র এম শাহজাহান, ইছাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজউদ্দৌল্লাহ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোস্তফা মানিক, আওয়ামলীগ নেতা সাইফুল্লাহ দিদার প্রমুখ।

গৌরবের চার দশকে পা রাখলো বিএনপি-৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আজ শনিবার গৌরবের চার দশকে পা রাখলো। আজ দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৯৭৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীদের ‘যূথবদ্ধ শক্তিমঞ্চ’ হিসাবে এই দল গঠন করেন।

ফেলে আসা ৩৯ বছরে সংঘাত-বিক্ষোভ, জনপ্রিয়তা আর চড়াই-উত্রাইয়ের পথপরিক্রমায় বিএনপি এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক দল। উন্নয়ন-উত্পাদনের আধুনিক রাজনীতিকে মূল প্রতিপাদ্য করে ১৯ দফা কর্মসূচির আলোকে মোটে পাঁচ মাসের মাথায় ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০০টি আসন লাভ করে। বিএনপি অচিরেই এ দেশের মানুষের ’বাংলাদেশি’ রাজনৈতিক দর্শনের নিয়ামক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

এ দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড় করাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তার প্রাণ হরণ করা হয়। কালযাত্রায় বিএনপি দেশ শাসন করেছে ১৮ বছর। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরব অর্জন করেন দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের অক্টোবরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। ১/১১ এর পটবদলের পর বিএনপিকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। ২০১৪ সালের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এই সরকারের গত প্রায় দশ বছরে রাজপথের আন্দোলনে বিএনপির কোন সাফল্য নেই।

প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতির মামলায় ৫ বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে। তার নামে মামলা হয়েছে ৩৫টির বেশি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে। তার দিক-নিদের্শনা, পরামর্শ নিয়ে সিনিয়র নেতারা দল পরিচালনা করছেন। তারেক রহমানের নামে শতাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। ছোট-বড় সব নেতার নামে অসংখ্য মামলা। শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব নেতাকে একাধিকবার কারাগারে যেতে হয়েছে। এমন কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপি আজ তার ৪০তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে দুইদিনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আজ ১ সেপ্টেম্বর ভোরে দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয় এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১০ টায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ২টায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ভুয়া ছবি দিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণায় ধরা খেলো মিয়ানমার সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ে ভুয়া তথ্য ও ছবি দিয়ে বিভ্রান্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

বইয়ের একটি ছবিতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি জমি নিড়ানি নিয়ে দুই লাশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আর নিচে ক্যাপশনে লিখা আছে- ‘স্থানীয়দের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা’।

বইটিতে ১৯৪০ এর দশকে মিয়ানমারে দাঙ্গার অধ্যায়ে ওই ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে। বার্মিজ ভাষায় ছবির বিবরণে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা বৌদ্ধদের হত্যা করেছে। রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে তুলে ধরতে বইয়ে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কিন্তু রয়টার্স ছবিটি পরীক্ষা করে দেখেছে যে, সেটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তোলা হয়েছিল, যখন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

গত জুলাইয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ থেকে বইটি প্রকাশ করা হয়। ওই বইয়ে এরকম তিনটি ভুয়া ছবি পাওয়া গেছে যেগুলোকে রাখাইন অঞ্চলের আর্কাইভ ছবি বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই তিনটি ছবির মধ্যে দুটি বাংলাদেশ থেকে এবং একটি তানজানিয়া থেকে নেয়া হয়েছে। একটি ছবির মিথ্যা ক্যাপশনে বলা হয়-‘বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গা’, যেটি আসলে রুয়ান্ডার গৃহযুদ্ধের সময়কার একটি ছবি।

এদিকে এসব ছবির সত্যতা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতয়ে বা সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব উ মিও মিন্ট মং মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, তিনি বইটি পড়ে দেখেননি।

‘মিয়ানমারের রাজনীতি ও তাতমাদো: প্রথম পর্ব’ নামে ১১৭ পৃষ্ঠার ওই বইয়ে গত বছরের আগস্টের সামরিক অভিযান নিয়ে সেনাবাহিনীর ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসেবে, সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ আর জ্বালাও পোড়াওয়ের মধ্যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাতমাদো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল নাম।

বইটিতে প্রকাশিত বেশিরভাগ তথ্যের উৎস হিসেবে সেনাবাহিনীর ‘ট্রু নিউজ’ ইউনিটের কথা বলা হয়েছে। গত বছর সংকট শুরু থেকেই ওই ইউনিট সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মূলত ফেসবুক ব্যবহার করে ঘটনাপ্রবাহের ‘সংবাদ’ দিয়ে আসছে।

মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের সব বইয়ের দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে এই বইটি। শহরের অন্যতম বড় বইয়ের দোকান ইনওয়ার একজন কর্মী জানান, তারা ৫০ কপির অর্ডার দিয়েছিলেন, সেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মী বলেন, আপাতত নতুন করে এই বই আনার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই, কারণ খুব বেশি মানুষ ওই বই নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি।

সেনাবাহিনীর তাদের এই নতুন বইয়ে কোনও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতার জন্য উল্টো ‘বাঙালি সন্ত্রাসীদের’ ওপর দায় চাপিয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই বইয়ে রোহিঙ্গাদের শেকড়ের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, যাদেরকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

বইয়ের সূচনায় লেখক লে. কর্নেল কিয়াও কিয়াও উু লিখেন, ‘বাঙালিদের ইতিহাস উদঘাটনের’ লক্ষ্যে ‘ডকুমেন্টরি ফটো’ ব্যবহার করে বর্ণনা তৈরি করা হয়েছে।

রয়টার্স জানাচ্ছে, ওই বইয়ে ৮০টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক ছবি হিসেবে আটটি ছবিকে ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলোর মধ্যে তিনটিই ভুয়া বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। তবে বাকি পাঁচ ছবির সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

মিরসরাইয়ে ২৯ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) হাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপ-পরিদর্শকের ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন মিনি ট্রাকের চালক ও সহকারী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবা।

শুক্রবার (৩১ আগস্ট) ভোরে মিরসরাই থানার রেদোয়ান পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি মিনি ট্রাকসহ (ঢাকামেট্রো-ন ১৪-১৮২৯) তাদের আটক করা হয়। আটক দুইজন হলেন- ট্রাকচালক মো. মোক্তার (২৪) ও সহকারী মো. সবুজ প্রকাশ বাবু (১৯)।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, ফার্নিচার বোঝাই একটি মিনিট্রাকে করে ইয়াবা পাচারের সময় মিরসরাই থানার রেদোয়ান পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে মো. মোক্তার ও মো. সবুজ নামে দুইজনকে আটক করেছে র্যাব। তাদের কাছ থেকে ফার্নিচারের (স্টিলের ফাইল কেবিনেট) ভেতর তালাবদ্ধ করে লুকানো ২৯ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রাকচালক ও সহকারী ইয়াবাগুলো নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার হাইলেভেল রোড থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান মিমতানুর রহমান।

ট্রাকচালক মো. মোক্তার ও সহকারী মো. সবুজের কাছ থেকে পাওয়া ইয়াবাগুলো সিএমপির এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বলে জানা গেছে। সেই এসআইয়ের নাম মো. বদরুদ্দৌজা মাহমুদ। তিনি সিএমপির পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত ছিলেন। গত একমাস আগে ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা থেকে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করে সিএমপিতে পাঠানো হয় বলে সিএমপি সূত্রে জানা গেছে।

ইয়াবা উদ্ধারের পর তারা দুইজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এসআই বদরুদ্দৌজাকে আটক করে খুলশী থানা পুলিশের হেফাজতে তুলে দেন সিএমপি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাকিলা সুলতানা। এসআই বদরুদ্দৌজা বর্তমানে খুলশী থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশের সূত্র।

জানা যায়, ২৯ আগস্ট ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এসআই বদরুদ্দৌজার ফার্নিচার ও মালামাল চট্টগ্রামের লালখানবাজার হাইলেভেল রোডে নিয়ে আসেন ট্রাকচালক মো. মোক্তার ও সহকারী মো. সবুজ। পরদিন ৩০ আগস্ট রাতে সেই ট্রাক ঢাকায় ফেরত যাওয়ার সময় ট্রাকে স্টিলের ফাইল কেবিনেট তালাবদ্ধ করে তুলে দেন এসআই বদরুদ্দৌজা এবং এটি মোহাম্মদপুরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেন। পরে মিরসরাই থানার রেদোয়ান পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় র্যাবের হাতে আটক হন তারা।

শাকিলা সুলতানা বলেন, এসআই বদরুদ্দৌজাকে খুলশী থানা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তিনি সিএমপির পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত ছিলেন। একমাস আগে ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখা থেকে বদলি হয়ে সিএমপিতে আসেন এসআই বদরুদ্দৌজা।
এদিকে এসআই বদরুদ্দৌজার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সেই মামলা এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

ট্রাকচালক মো. মোক্তার ও সহকারী মো. সবুজকে আসামি করে র্যাবের পক্ষ থেকে মিরসরাই থানায় মামলা করা হচ্ছে। সেই মামলায় এসআই বদরুদ্দৌজাকে সরাসরি আসামি করা না হলেও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

কুরআন শিক্ষায় ৫০ বছর ধরে ছুটছেন আছিয়া

 


নিজস্ব প্রতিবেদক

বয়সের ভারে ন্যুব্জ আছিয়া। এখন আর আগের মতো হাঁটতে পারেন না। তারপরেও দিনভর ছুটে চলেন এ-গ্রাম থেকে ও-গ্রামে। এ-পাড়া থেকে ও-পাড়ায়। ঘুরে ঘুরে ছেলেমেয়েদের কুরআন শিক্ষা দেন। গত ৫০ বছর ধরেই আছিয়া এই কাজ করে এসেছেন। আগে কারো কাছ থেকে এ বাবদ টাকা নিতেন না। এখন আর সংসার চলে না। যে কারণে যে যা দেন সংসার চালাতে তা গ্রহণ করেন।
গ্রামের সবার কাছে আছিয়া ‘আরবি পড়ানোর নানী’ হিসেবে পরিচিত। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামে এমন কোনো মানুষ নেই; যিনি আছিয়া খাতুনকে চেনেন না। ১৯৬৮ সালের কথা। বাড়ির আশপাশের শিশুদের বিনামূল্যে কুরআন শেখানো শুরু করেন আছিয়া। দিন দিন বাড়তে থাকে শিার্থীর সংখ্যা। তাকে ছুটতে হয় দুই-তিন কিলোমিটার দূরের গ্রামেও। কুরআন শিক্ষা দেন বিনা পারিশ্রমিকে। কাওরাইদসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে তিনি যেমন পরিচিত ঠিক তেমনই নন্দিত একজন মানুষ।
আছিয়া খাতুনের বয়স ৮৭ ছুঁয়েছে। তবুও তার অবসর নেই। অবসর নেবেনই বা কেন? তিনি বাড়িতে বসে থাকলে যে অনেক শিশুর কুরআন শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে! বয়স্কদেরও অনেকে তার কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী আছিয়া খাতুন জানান, স্বামীকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব ছিল একমাত্র ছেলে ফাইজুর কাঁধে। রিকশা চালিয়ে সংসারের চাকা সচল রেখেছিল ফাইজুর। ১২ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছেলে অম হয়ে পড়ে। এখন আর কোনো কাজকর্ম করতে পারে না। বড় মেয়ে তখন তাকে কিছু সহায়তা করত। চার বছর আগে মেয়েটিও মারা গেছে ক্যান্সারে। ছেলে ও তার বউসহ দুই নাতির সংসারের ভার এখন বৃদ্ধা আছিয়ার কাঁধে। বাড়িভিটে ছাড়া তার নেই কোনো জমিজমা। বয়সের ভারে এখন আর পারছেন না আছিয়া। ভোর থেকে কষ্ট করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন শিক্ষা দিলেও আছিয়ার কোনো চাহিদা নেই। কেউ ২০ টাকা, কেউ ৫০ টাকা কেউ বা খুশি হয়ে তাকে ১০০ টাকাও দেন। এতেই তিনি সন্তুষ্ট।
আছিয়া বলেন, আল্লাহকে খুশি করার জন্যই তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কুরআন শিক্ষা দিচ্ছেন। কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি তিনি ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষাও দিতেন। যে কারণে পুরো এলাকার মানুষ তাকে পছন্দ করে। এলাকায় কোনো নারী মারা গেলে গোসল করানোর জন্যও ডাক পড়ে তার। আছিয়া বলছিলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মৃত নারীকে গোসল করিয়েছেন তিনি।
আল্লাহর ঘর দেখার খুবই ইচ্ছে আছিয়ার। হজ পালন করতে চান তিনি। এ জন্য তিনি কিছু টাকাও জমিয়েছেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তার কষ্ট, আর মনে হয় সম্ভব হবে না! আল্লাহর ঘর দেখার ইচ্ছে মনে হয় ইচ্ছেই থেকে যাবে।
আছিয়াকে নিয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজনের সাথে। সাদিয়া আফরিন রানী নামের একজন গৃহিণী বলেন, ওনার মতো সহজ-সরল ও ত্যাগী মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। গ্রামের মানুষও তো অসচ্ছল। যে কারণে ওনার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
মরিয়ম খাতুন নামের একজন বৃদ্ধা বলেন, আমি এই শেষ বয়সে ওনার কাছে কুরআন শিখছি। উনার পরিশ্রম দেখে নিজের মনে বল ফিরে পাই। আমি চাই এই মানুষটার প্রতি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক। আর্থিকভাবে জীবনমানের পরিবর্তন করতে না পারলেও আছিয়া খাতুনের কোনো আফসোস নেই। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করেই আছেন এই মহতী নারী।

#সূত্র নয়া দিগন্ত

 

মিরসরাই বিএনপি নেতাদের কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী জোটের সরকার জনগণের টাকায় জালিয়াতি করার মেশিন কিনে জালিয়াতির নির্বাচন করতে চায়। সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় যে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। তবে এবার সরকারের সব মাস্টার প্ল্যান ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হবে।

আজ শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।

দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মুসা মিয়াসহ ১১ জন একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা মামলা জামিন নিতে গেলে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালত তাদের জেল-হাজতে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ দল, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের বিরোধীতা ও সারা বিশ্ব থেকে প্রত্যাখ্যাত ও নিষিদ্ধ হওয়া এই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ডিজিটাল মেশিনটি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে ব্যবহার করার অনুমোদন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কয়েকজন কমিশনার। নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনেও ভিন্নমত থাকার পরও ইভিএম ব্যবহারে মরিয়া হয়ে এটি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ সুস্পষ্ট হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন বিবেক দ্বারা স্বায়ত্বশাসিত নন। এটা দিবালোকের মতো সত্য প্রমাণিত হলো যে, সবদিক থেকে ইভিএমের ব্যাপারে বিরোধীতা থাকার পরও সিইসিসহ কয়েকজন কমিশনারের একতরফা ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচন জালিয়াতি করারই চুড়ান্ত মাস্টার প্ল্যান। কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন একটি গোপন কোড জানা থাকলেই ইভিএম ভোটিং মেশিনের গণনাপদ্ধতি সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে ফেলা যায়।

তিনি বলেন, ভোটাররা দূর থেকে দেখেছে ভোট ডাকাতির দৃশ্য। সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় যে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। সেজন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী থাকতেই ভালবাসেন। তাই অনুগত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইভিএম নামক ‘যাদুর বাক্স’ আমদানি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধাপ্পাবাজির ভোটের বন্দোবস্ত করছেন। তবে এবার জনগণ সরকারের সকল মাস্টার প্ল্যান ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। ভোট নিয়ে অনাচারের পুনরাবৃত্তি জনগণ রুখে দেবে। এবারে জনগণের শিলা-কঠিন ঐক্যে সরকারের সকল পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।

রিজভি আলো বরেন, অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়ে দিনযাপন করছে। আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশী হামলা, হয়রানি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করছি।

 

বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে : দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো ভালো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সেপ্টেম্বর থেকে লড়াই শুরু হবে এবং বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। কারণ আমাদের লক্ষ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় একটি পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। এমন দুঃসময় দেশে কখনো আসেনি।

আজ শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক দোয়া ও স্মরণসভায় তিনি এসব বলেন।

কৃষকদলের সাবেক নেতা মরহুম ড. আমিনুল ইসলাম মঞ্জুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্বরণসভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল। সংগঠনের সহ-সভাপতি এম এ তাহেরের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকেই। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিতর্কিত ইভিএম দিয়ে নির্বাচন করার কথা বলছে। নিজেদের লোকদের চেয়ারে বসে ষড়যন্ত্রের নির্বাচন করতে চায়। এ ধরনের নির্বাচন আমরা প্রত্যাশা করি না।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া ছাড়া দেশে কোনো ভালো কাজ আগে হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। আমাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। এটাই বড় সত্য। এই অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে মাঠে নেমে গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। বিশদলীয় জোটকেও মাঠে নামতে হবে। নির্বাচনের আগেই এসব ফয়সালা করতে হবে।

কারো জন্য নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না : ওবায়দুল কাদের

বিএমনিউজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তা হলে নির্বাচনের ট্রেন থেমে থাকবে না। বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, আওয়ামী লীগের তাতে কিছু করার নেই।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ট্রেন কি থেমে থাকবে কোনো একটা দলের জন্য। বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেটা তাদের ভুল। সে ভুলের মাশুল তারা আজো দিচ্ছেন। সেই ভুলের জন্য যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অপরাধটা কোথায়?’

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন করেছে। এখন একটা দল নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের একটা ফাঁদ তৈরি করেছিল। সেটা তো সংবিধানের দোষ নয়। সেটা তো যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, ওই ফাঁদের মধ্যে আটকা পড়ে, সেটা তো তাদের দোষ নয়। ইলেকশনে তো যারা প্রতিদ্বন্দ্বী, তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।’

বিএনপির জনগণের ওপর যাদের আস্থা নেই, তারা অজুহাত খুঁজে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের চেয়েও বেশি দরকার নিরপেক্ষ ইলেকশন কমিশন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের দরকার নির্বাচনটা নিরপেক্ষ হবে কি না? নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের ভয় কোথায়?’

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ইভিএম ব্যবহারের বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বৈঠক করে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনও দিয়েছে। যদিও এতে ভিন্ন মত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। ইভিএম এ নির্বাচনী ফলাফল টেম্পারিং করা অসম্ভব।’