শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 687

বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে বার বার দুর্ঘটনায় পড়ছে এনা

নিজস্ব প্রতিবেদক..

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে বারবার সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে এনা পরিবহন। উক্ত মহাসড়কে এনা, শ্যামলী , ইউনিক ও হানিফ পরিবহনের বাসগুলো দ্রুত গতিতে চলে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গতিতে চলে এনা পরিবহনের বাস। যাত্রীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার নামে ওভারটেকিং করে এনার বাসগুলো রীতিমতো গতির প্রতিযোগিতায় নামে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে ঢাকা থেকে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার রুটে চলাচলকারী এনা পরিবহনের বাসগুলো প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় মহাসড়কে লাশের মিছিল দীর্ঘ হবার পাশাপাশি আহত হয়ে অনেক যাত্রীরা পঙ্গুত্ব বরণ করছে ।
সর্বশেষ গত বুধবার এনা পরিবহনের বেপরোয়া চালনায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লাশের মিছিলে শরীক হলেন আরো পাঁচজন বনী আদম।
একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে এনা পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে বাসের তিন যাত্রী এবং নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আমতলায় এনা পরিবহনের বাসের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
একদিনে পাঁচ প্রাণ কেড়ে নেয়ার ঘটনায় শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীই নয় বুধবার টক অব দ্যা কান্ট্রি ছিল এনা পরিবহন। যথারীতি হয়েছে সংবাদ শিরোনামও। এ ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এনা পরিবহনের বিরুদ্ধে বইছে নিন্দার ঝড়।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে এনা পরিবহনের বাস বেশ কয়েকটি আলোচিত দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সরাইল উপজেলার গোগদ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় তিন নারী পথচারী নিহত, ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় বাসের চাপায় মাইক্রোবাসের ৮ আরোহী নিহত এবং সর্বশেষ গত বুধবার সরাইল উপজেলার বৈশ্বামুড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন যাত্রী নিহত ও নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার আমতলা এলাকায় এনা পরিবহনের বাসের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হোসেন সরকার জানান, সাম্প্রতিক ট্রাফিক সপ্তাহে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে শুধু এনা পরিবহনের বাস-ই ২০ শতাংশ।
বেপরোয়া গতির কারণেই এনা পরিবহনের বাসগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয় উল্লেখ করে হাইওয়ে থানার ওসি বলেন, বুধবারের দুর্ঘটনাও বেপরোয়া গতির কারণেই ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর এনার চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বাসগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে।
তবে এনা পরিবহনের মহাব্যবস্থাপক আতিকুল আলম দুর্ঘটনার কারণে তাদের কিছুটা বদনাম থাকার কথা স্বীকার করলেও ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে এনা পরিবহনের সব বাসের কাগজপত্রই বৈধ ছিল বলে দাবি করেন। দুর্ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়কে আমাদের গাড়ি কয়েকটি দুর্ঘটনার শিকার হবার পর আমাদের প্রতিটি গাড়ির পাম্পের গোড়া সিল মেরে লক করে দেয়া হয়েছে যেন গতি ৮০’র বেশি গতি না ওঠে। যেহেতু সড়কে ৮০’র উপরে গাড়ি চালালে মামলাও হয় সেজন্য গতিসীমা ৮০ নির্ধারণ করে দিয়েছি। এছাড়া ২০ লাখ টাকা খরচ করে ব্র্যাকের কাছ থেকে আমাদের ৪শ’ চালককে প্রশিক্ষণ করিয়ে আনা হয়েছে।’
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ এলাকার ৪০/৪৫ কিলোমিটার অংশে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। মূলত চালকদের অদক্ষতা, ওভারটেকিং আর বেপরোয়া গতিই এসব দুর্ঘটনার কারণ বলে হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র মনে করে।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্তর ও বিশ^রোড মোড়সহ বেশ কিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এ বাঁকগুলো সতর্কতার সঙ্গে অতিক্রমের নির্দেশনা থাকলেও চালকরা সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে সতর্ক না হলে দুর্ঘটনা আর মহাসড়কে লাশের মিছিল আরো ভারী হবে বলে সচেতন মহল মনে করে।

 

সরকারের মাস্টার প্ল্যান ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হবে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী জোটের সরকার জনগণের টাকায় জালিয়াতি করার মেশিন কিনে জালিয়াতির নির্বাচন করতে চায়। সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় যে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। তবে এবার সরকারের সব মাস্টার প্ল্যান ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা হবে।

আজ শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী এসব বলেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ দল, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজের বিরোধীতা ও সারা বিশ্ব থেকে প্রত্যাখ্যাত ও নিষিদ্ধ হওয়া এই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ডিজিটাল মেশিনটি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ১০০ আসনে ব্যবহার করার অনুমোদন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কয়েকজন কমিশনার। নিজের নেতৃত্বাধীন কমিশনেও ভিন্নমত থাকার পরও ইভিএম ব্যবহারে মরিয়া হয়ে এটি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ সুস্পষ্ট হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন বিবেক দ্বারা স্বায়ত্বশাসিত নন। এটা দিবালোকের মতো সত্য প্রমাণিত হলো যে, সবদিক থেকে ইভিএমের ব্যাপারে বিরোধীতা থাকার পরও সিইসিসহ কয়েকজন কমিশনারের একতরফা ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচন জালিয়াতি করারই চুড়ান্ত মাস্টার প্ল্যান। কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন একটি গোপন কোড জানা থাকলেই ইভিএম ভোটিং মেশিনের গণনাপদ্ধতি সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে ফেলা যায়।

তিনি বলেন, ভোটাররা দূর থেকে দেখেছে ভোট ডাকাতির দৃশ্য। সত্যিকারের গণতন্ত্রে সরকার পরিচালনায় যে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন হয় সেটা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। সেজন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী থাকতেই ভালবাসেন। তাই অনুগত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইভিএম নামক ‘যাদুর বাক্স’ আমদানি করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধাপ্পাবাজির ভোটের বন্দোবস্ত করছেন। তবে এবার জনগণ সরকারের সকল মাস্টার প্ল্যান ডাস্টবিনে ফেলে দিবে। ভোট নিয়ে অনাচারের পুনরাবৃত্তি জনগণ রুখে দেবে। এবারে জনগণের শিলা-কঠিন ঐক্যে সরকারের সকল পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।

জনসভায় ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি
রিজভী বলেন, দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভায় কাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ব্যাপক জনসমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আগামীকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও ভালো জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটবে।

জনসভায় কোনো বাধার আশঙ্কা করছেন কী না- এ প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আমরা কামনা করি না যে, জনসভার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে হয়রানি করবেন। করলে, এটা দেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না। কর্মসূচিতে পরোক্ষভাবে কোনো বাধা দেশে মানুষ ভালোভাবে নেবে না। কারণ এটা একটি দিবস।

দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার প্রসঙ্গ
দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান মুসা মিয়াসহ ১১ জন মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালত তাদের জেল-হাজতে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ওলামাদল সভাপতি শামসুর রহমান খান বেনুকে তার নিজ বাড়ী থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। মেধাবী অনলাইন এক্টিভিস্ট ও নানা সংকলনের প্রকাশক, ওয়াসিম ইফতেখারকে আইনশৃঙ্খলা পরিচয় দানকারী বিশেষ বাহিনী গতকাল ভোর রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে তার বাবা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেনি তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে আছে। ওয়াসিমের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে- কিছুদিন আগেই মাত্র যারা তার মাকে হারিয়েছে। শিশু দুটি কার মুখের দিকে তাকিয়ে তার মায়ের কথা ভুলে থাকবে।

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন মেরামতের জন্য ভেঙ্গে ফেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কে বা কারা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার না করে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের এই আচরণে মনে হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করতেই আওয়ামী লীগের ক্যাডার দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় আক্রমণ করানো হয়েছে। এটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আজিজুল হক মিতুকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করেছে। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক পল্লবীতে তার নিজের বাসায় গত পরশু পল্লবী ও রুপনগর থানার কিছু মুরুব্বিদের ঈদ পুনর্মিলনী উপলক্ষে দুপুরে আহারের জন্য আমন্ত্রণ করেন। দুই থানার কয়েকজন মুরুব্বি উপস্থিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কয়েকটি পুলিশের গাড়ি এসে আমিনুলের বাড়িতে হানা দেয় এবং নয়জনকে গ্রেফতার করে। এই মুরুব্বিরা দলের কোনো নেতাকর্মী নয়, দলের সমর্থক মাত্র।

রিজভী আরো বলেন, ঝিনাইদহ জেলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে পুলিশ তাণ্ডব চালাচ্ছে। সেখানে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে কে পোলিং এজেন্ট হবে এবং পরিবারের সদস্যদের নাম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে-যা অশুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয় এক বছরের অধিক আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও সরকারী প্রশাসন সেখানে একত্রিত হয়ে কাজ করছে। সারা জেলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছে এবং প্রতিদিনই থানা, ইউনিয়ন, গ্রাম থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশ ঝিনাইদহ জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিচয় জিজ্ঞাসা করছেন। কে কোন দলের লোক সেটি তালিকা করছে পুলিশ। এটি দুরভিসন্ধিমূলক ও আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারি ষড়যন্ত্র নিয়ে আভাস ফুটে উঠছে। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে আলোচনা সভার জন্য ডিসি, এসপি ও ওসির কাছে আবেদন করলেও তারা সরাসরি না করে দিয়েছে। সারা ঝিনাইদহ জেলা এখন সরকারি জুলুমের মুখে বন্দীশালায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়ে দিনযাপন করছে। আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশী হামলা, হয়রানি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করছি।

কর্মসূচি :
এদিকে আগামীকালশনিবার বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সকাল ১০টার আগেই সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য আহবান জানানো হচ্ছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দলের নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা ২টায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেইসাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানস্থ চেয়ারপার্সনের কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে সকাল ৬টায় দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসের কাহিনী-আমেরিকা,লন্ডন অ্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় ওরা তিনজন

মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী
১।
কাকডাকা ভোরে উঠে “সজল” কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। কাকডাকা বললে ভুল হবে কারন নিউইয়র্ক সিটি তে কাক দেখা যায় না। ভোর ৬ টার মধ্যে তাকে কাজে পৌছাতে হবে। মারিলান থেকে অকটন এ যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা। প্রতিদিন বাস-এ এইসময়টা সে ঘুমিয়ে নেয়। আজ ঘুম আসছে না। তাই বাস-এ বসে “সজল” বিগত দিনগুলির ভাবনায় চলে গেল। দেশে থাকতে কখনো দশটা’র আগে ঘুম থেকে উঠেনি।চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে কিন্ত স্কুল জীবনের পর থেকে তার প্রতিদিনের নির্ধারিত ঘুম ছিল সকাল দশটা পর্যন্ত। দেশে তাদের অবস্থা অনেক ভালো না থাকলেও অসচ্ছল ছিল না। একদিন ডাকপিয়নের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত একটি চিঠি (ডিভি)-র হাত ধরে তার আমেরিকায় আগমন। তারপর ৬টি বছর কেটে গিয়েছে এখানে। এর মধ্যে একবার দেশে গিয়েছিল ।আমেরিকা তে একটি রেস্টুরেন্টে সে কাজ করে। “সজল” এই রেস্টুরেন্টে “Kitchen-Porter ” হিসেবে ঢুকেছিল। আমেরিকায় আসার পর বাঙ্গালী বড় ভাইয়েরা উপদেশ দিয়েছিল রেস্টুরেন্ট অথবা ইয়োলো ক্যাব-এ ঢুকার জন্য। এখানেই নাকি সব পয়সা। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না, তাই রেস্টুরেন্টে “Kitchen-Porter” হিসেবে তার আমেরিকায় কর্ম জীবনের শুরু। এভাবে তিনটি বছর কেটে গিয়েছে পরবর্তী এক বছর “হাফ-সেফ”-এ পদোন্নতি, তারপর “ফুল-সেফ ”। হায়রে আমেরিকা ! ব্যাংক বা কোন কর্পোরেট অফিসে পদোন্নতি নয়, রেস্টুরেন্টে পদোন্নতি। খারাপ নয়, কী-ই বা তার করার ছিল। ম্যানেজমেন্ট-এ ডিগ্রী দিয়ে এই দেশে কী করবে? টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকলে না হয় অন্য কিছু একটা ভাবত।

বলা হয় আমেরিকা নাকি ওয়ান-ওয়ে কান্ট্রি। এই ওয়ান-ওয়ে কান্ট্রি কথাটি সজলের জীবনে সত্যি হয়ে গেল। Kitchen-Porter,হাপ-সেফ,ফুল-সেফ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্যাব ড্রাইভার হয়ে গেল।ক্যাব চালিয়ে তার আয়-রোজগার বেশ ভালো। বন্ধুরা তাকে ক্ষেপায়, ইয়োলো ক্যাবের চাকা ঘুরলেই নাকি পয়সা। আয় ভালো হলেও কাজটি কিন্ত মোটেই সহজ নয়। অমনোযোগী হলেই মৃত্যু অবধারিত। মাঝে মাঝে তাকে প্যাসেঞ্জারের ব্যাগ এপার্টমেন্টে তুলে দিতে হয়। কাজটি বাধ্যতামুলক নয় , তবুও তাকে মাঝে মাঝে এটা করতে হয়। বন্ধুরা যে বলে ইয়োলো ক্যাব হলো আমেরিকায় রিক্সা চালানো—কথাটি মিথ্যা নয়। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী পাশ করার পর “সজল” ইচ্ছা ছিল “কস্ট এক্যাউন্টেন্ট” হওয়া। এজন্য সে আইসিএমএ-তে ভর্তিও হয়েছিল। কিন্ত আমেরিকায় আসার ভুত মাথায় চেপে যাবার পর সব বাদ দিয়ে সোনার হরিণের দেশ আমেরিকায় চলে এল। সে এখন একজন ক্যাবী। তার “কস্ট একাউন্টেন্ট” হবার স্বাদ হারিয়ে গেল, তাকে এখন সবাই বলে ক্যাবী।

২ .
সুজন দ্রুত দৌড়াচ্ছে। তাকে যতটা সম্ভব দ্রুত দৌড়াতে হবে। কারন সে লন্ডন এ Pizza ডেলিভারীর কাজ করে।যত বেশী ডেলিভারী দিতে পারবে, তত বেশী টিপস্‌। টিপস্‌ হল ডেলিভারী চাকুরীর প্রধান আয়। কিন্তু Pizza ডেলিভারির কাজ বছরের সব সময় থাকে না,যখন কলেজ ইউনিভার্সিটি Summer-Vacation হয় তখন এই ধরনের কাজ করা যায়।আর এই আয়ে বসরের বাকিটা সময় থাকা ,খাওয়া এবং কলেজ ইউনিভার্সিটি Tuition fess manage করতে হয়।এই আয়ের জন্যই সোনার হরিণের দেশে আসা ও সবাইকে নিজ দেশে ফেলে এখানে পড়ে থাকা। সুজন লন্ডন এসেছে প্রায় বছর চারেক হল।আসার পরই ডেলিভারী কাজে ঢুকেছে।তারপর অনেক কাজ বদল করেছে।কিন্ত শেষ পর্যন্ত আবার ডেলিভারী কাজেই ফিরে এসেছে।লন্ডন এ সব রকম অড জবের মধ্যে ডেলিভারী ও নাইট শিফট এর কাজ এ সবচেয়ে বেশী ইন্‌কাম।
সুজন এর দরকার টাকা। তাই সে এটাই করছে। ডেলিভারী কাজে বেতন খুব কম হলেও টিপ্‌স থেকে প্রচূর আয় হয়।প্রথম দিকে টিপ্‌স নিতে খুব খারাপ লাগত কারন সে ছিল বাংলাদেশে রসায়নে স্নাতোকোত্তর।আর লন্ডন এ আসা এম,বি,এ পড়তে এবং এখানে এসে চেষ্টা করেছিল নিজ পেশায় কিছু করতে।রসায়নে স্নাতোকোত্তর সার্টিফিকেটের মূল্যায়ন ও হল না দুইহাজার বছরের পুরনো শহর লন্ডন এ।তার তো সিভিল,মেকানিক্যাল, ইলেট্রিক্যাল,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মত টেকনিক্যাল কোন ডিগ্রী নাই। কম্পিউটার বিদ্যাও টাইপিং পর্যন্তই। তাই ডেলিভারীর কাজ নিয়ে থাকতে হল,ভালো চাকরীর জন্য আবার একটা উচ্চতর ডিগ্রী নিতে হবে যেখানে দরকার প্রচূর অর্থের এবং সময়ের। তার কাছে তখন সেই সময় বা অর্থ কোনটাই ছিল না বা এখনও নাই। বরং দেশে অর্থ পাঠাতে হয় সংসার চালানোর জন্য। দেশে আছে ছোট ভাই ও ২ বোন। এক বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, বাকী সবাই পড়াশোনা করছে, বাবা গত হয়েছে বছর দুই হল, সংসারের দায়িত্বটা এখন তার উপর।
সুজন ডেলিভারী কাজটা এখন ভালই উপভোগ করে। ডেলিভারী নিয়ে সুন্দর, সুন্দর আফিসে ঢুকে, ভেতরটা দেখতে পারে, মাঝে মাঝে অত্যধিক রকমের ভালো কিছু ব্রিটিশ মানুয এর প্রশংসা বাক্য শুনে। মাঝে মাঝে সুজন এর মনটা খুব খারাপ হয়ে যায় যখন কোন ডেলিভারীতে তাকে টিপস অ্যান্ড Thank you বলে না। আবার মাঝে মাঝে এই ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে যে, যদি এই অফিসে একদিন চাকুরী করতে পারতাম। সুজন এর ভালো অফিসিয়ালী একটা চাকুরী করার কথা ছিল। দেশে থাকলে তাই হতো কারন তার পরীক্ষার ফলাফল বরাবর ভালোই ছিল। কিন্ত তা হয়নি। ভাগ্যের কাছে সে বন্দী হয়ে অনেক উপার্জন করছে ঠিকই কিন্ত মানসিক শান্তি পাচ্ছে না। সাতটা প্যাকেট ডেলিভারী দেবার পর রেষ্টুরেন্টে ফিরছে আরে এসব ভাবছে। নাহ্‌, আজ আর কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। আজ সে ছুটি নিয়ে বাসায় চলে যাবে।


আমার গল্পের শেষ নায়ক “সুমন”।সে ছিল খুবই ভাগ্যবান। কারন সে অস্ট্রেলিয়া এসেছিল পূর্ণতা নিয়ে অর্থাৎ সে এসেছিল তার স্ত্রী “কুলসুম বেগম” কে সাথে নিয়ে। দেশে পড়াশুনা শেষ করেই সে একটি Multinational company তে চাকুরী পেয়ে যায়। আর চাকুরী পাবার দুই বছর পরেই “কুলসুম “ এর সাথে বিয়ে। বিয়েটা ছিল বাবা-মায়ের পছন্দে। কুলসুম ছিল রূপবতী, শিক্ষিতা একটি মেয়ে। তারা সুখেই ছিল। তাদের সুখ আরো বৃদ্ধি পেল যখন বিয়ের দ্বিতীয় বছরের মাথায় অস্ট্রেলিয়া High skilled migration এর সুযোগ পেয়ে গেল। আত্মীয় স্বজন সবাই বলল, “সুমন” এর বউ ভাগ্যবতি।“কুলসুম বেগম” কে সাথে নিয়ে “সুমন” যথাসময়ে অস্ট্রেলিয়া এল। উঠেছিল দুর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায়। তারপর যথারীতি কাজ খোজা। একটা Telecom-company তে জব পেয়েও গেল। কিন্তুু জব টি ছিল সপ্তাহে তিন দিন নাইট শিফ্‌ট,তিন দিন ডে শিফ্‌ট। দুজনে একটা এক বেডরুমের বাসা নিল মেলবোর্ন শহর এ ।শুধুমাত্র সুমন এর আয়ে বাসা ভাড়া , ইউটিলিটি বিল, খাওয়া ও অন্যান্য খরচ চালানো খুবই কস্টের। তাই বাধ্য হয়ে কুলসুম কেও একটি চাকুরী নিতে হল। মেলবোর্ন এ তারা একটা ছোটখাট ছিমছাম সংসার শুরু হলেও বেশি দূর এগুতে পারলো না। চাকুরীতে অতৃপ্তি, পরস্পরকে সময় না দেয়ার অভিযোগ, বাসার কাজে কুলসুম কে সাহায্য না করার অভিযোগ – এসব খুটিনাটি ঝগড়া ওদের মধ্যে লেগেই থাকত। মাঝে মাঝে ঝগড়াটা বড় পর্যায়ে চলে যেত। ধীরে ধীরে অপূর্ন স্বাদগুলিও ঝগড়ায় স্থান পেতে লাগল যেমন তাদের একটা গাড়ী না থাকা, কিংবা বাসায় পর্যাপ্ত আসবাপপত্র না থাকা, কিংবা আদৌ তাদের একটা বাড়ী কখনো কেনা হবে কিনা! তিক্ততা থেকে দুরত্ব, দুরত্ব থেকে অন্য কোনদিকে আকর্ষণ। অস্ট্রেলিয়া আসার দেড় বছরের মাথায় সুমন কুলসুম কে হারিয়ে ফেলল। আরো বেশি কিছু বিলাসিতা, একটি নিরাপদ জীবন ও সুমন প্রতি হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসাকে নুতন করে খুজে পাবার আসায় “কুলসুম বেগম” একদিন “রিয়াদের” হাত ধরে চলে গেল। জীবন কখনো থেমে থাকে না।জীবন যায় চলে, কোন না কোন ভাবে।সুমন এর জীবনও থেমে নেই।

উপসংহারে ফিরে যাই,এই হল তিন বন্ধু। প্রত্যেকেই শিক্ষিত এবং ডিগ্রীধারী। দেশের অনিশ্চিত, অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজ দেশ ত্যাগ করে আমেরিকা,লন্ডন,অস্ট্রেলিয়া চলে এসেছে নিজেদের চমৎকার ভবিষ্যত গঠনের আশায়। এদের মত আরো অনেকেই এসেছে। কারো এখানে থাকা এবং কাজ করার বৈধ কাগজ আছে,কারো নাই।কেউ লেখাপড়া শেষ করায় নিজ দেশে ফিরে ব্যাবসা-বানিজ্য,চাকুরী বাকরী নিয়ে ব্যস্ত হতে চায় কিন্তু তাও সম্ভব নয় দেশের অস্তিতিশীল রাজনিতিক পরিস্থিতি ও নিতি নিরধারকের অভাব।সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু এই তরুন প্রজন্ম কে নিয়ে কেউ ভাবে না।
এটি তো নিশ্চয় ঠিক নয়,জীবন যুদ্ধে সবাই জয়ী হবে ?যারা হেরে যায় তারা হেরে যায় বলেই অন্যরা জয়ী হয় ! অনেকে আবার যোগ্যতা থাকলেও এখানে যুদ্ধে নামতে পারেন না শ্রেফ লিগাল রেসিডেন্সি নেই বলে | আবার অনেকে কোনরকম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই অনেক যোগ্য লোকের চেয়েও অর্থনৈতিকভাবে অনেক উপরে উঠে যাচ্ছেন এই প্রতিযোগিতার সুযোগের দেশে | আরেকটি বিষয় শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে- আমাদের জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি এখনো ঘানা,নাইজেরিয়া,সোমালিয়ার সমপর্যায়ের। এ কারনে নিউইয়র্কের ক্যাব ড্রাইভাররা হয় মধ্য আফ্রিকার, নয়ত দক্ষিণ এশিয়ার। তবে প্রথম প্রজন্মের সব ইমিগ্র্যান্টদের এ অবস্থা ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত। যেমন প্রথম প্রজন্মের ইটালিয়ানরা হয় নাপিত নয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমেরিকান সৈনিক। অথবা প্রথম প্রজন্মের আইরিশরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা বলা যায় অনেক ভালো। আমাদের দ্বিতীয় প্রজম্নের বাঙালীরা যেমন অর্জন করছে উচ্চ শিক্ষা, তেমনি যাচ্ছে ভালো-ভালো চাকরিতে।পরিশেষে এই কথাই বলতে চাচ্ছি অন্ধকারের উল্টোপিঠের আলোকিত দিকটাও আমাদের নিশ্চয় দেখা উচিত।
শেষ কথাঃআমি শুধু দেখাতে চেয়েছি , বাংলাদেশে অনেকেরই আমেরিকা,লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে অনেক রোমাঞ্চকর ধারণা আছে, অনেকেই হয়তবা ভেবে থাকেন যে আমেরিকা ,লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া মানেই ডলার আর ব্রিটিশ পাউন্ড কিন্তু ডলার,ব্রিটিশ পাউন্ড কামাতে কতটা সংগ্রাম, কতটা কষ্ট করতে হয় – তারা হয়তবা অনেকেই জানেন না।
লেখকঃ
মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী
বি,এস, সি (অনার্স‌) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইউ,এস,টি ,সি,বাংলাদেশ)
এম ,এস,সি ইনফর্মেশন টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট (লন্ডন,ইউনাইটেড কিংডম)
E-mail:mozammal_ustc@yhaoo.com

মিরসরাইয়ে প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের মিললমেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লায় ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক আফছার হোসেন চৌধুরীর বাড়িতে মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাত নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামীলীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত মিলনমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপদেষ্টা, মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক তোফায়েল উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল, মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আজম, সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খোকন, সমাজ সেবক ব্যবসায়ী আফছার চৌধুরী, প্রবাসী সালাহ উদ্দিন লিটন,

দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছলিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রামের কুটুম্ববাড়ি রেস্তোরার পরিচালক আশরাফুল আহসান রাকিব, ব্যবসায়ী মোঃ রৌশন জামাল সিদ্দীকি মাহী, কফিল উদ্দিন, কয়লা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তপন ত্রিপুরা, কাটাছরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী আলম, আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজ ড্রাইভার, দুলাল চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী প্রমুখ।


প্রধান অতিথি শেখ আতাউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়নের স্বর্ণ শিখরে বাংলাদেশ। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আগামীতেও আওয়ামীলীগের বিকল্প নেই। তাই আগামী নির্বাচনে মিরসরাই আসনে গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে আবারো নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে প্রবাসী নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

গণফোরাম-যুক্তফ্রন্টের জোট টেকে কি না-ওবায়দুল কাদেরের সংশয়


নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণফোরাম আর যুক্তফ্রন্টের ঐক্যের জন্য শুভকামনা। গণফোরাম আর যুক্তফ্রন্টের জোট নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী হোক। তবে নির্বাচন পর্যন্ত এটি টেকে কি না, এটাই দেখার বিষয়।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনায় ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন এলে নতুন নতুন মেরুকরণ হয়। নতুন নতুন ঐক্য হবে, এটাই স্বাভাবিক। যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম যে ঐক্য গড়েছে, তা ইতিবাচক বিষয়। নির্বাচন পর্যন্ত এটি ঠিকে থাকে কি না, এটাই দেখার বিষয়।’ তিনি বলেন, নতুন জোট করে আন্দোলনের নামে কেউ যদি ২০১৪ সালের মতো আগুন-সন্ত্রাসের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করবে।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার চায়। তারা যদি বিচার চাইত, তাহলে জজ মিয়া নাটক সাজাত না। বিচার চাইলে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, এফবিআইকে গ্রেনেড হামলার তদন্ত করার সুযোগ দেওয়া হতো। বিএনপি বিচার চাইলে হত্যাকাণ্ডের সব আলামত ধ্বংস করে দিত না। তিনি আরও বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা এখন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি জানেন, কীভাবে আলামত ধ্বংস কারা হয়েছে।’

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহারের দাবি আওয়ামী লীগের নতুন কোনো দাবি নয়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপের সময় ইভিএম ব্যবহারের দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ইভিএম ব্যবহারের দাবিতে এখনো অটল। বিএনপির ইভিএম নিয়ে এত অবিশ্বাস কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘গত তিনটি সিটি নির্বাচনের কয়েকটা কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে এর অপরিহার্যতা বোঝানো হয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ সারা বিশ্বে প্রশংসিত। ভারতেও বেশ কয়েকটি নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশে ইভিএম ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানেও তা-ই হবে।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে বলেছেন, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে হবে।’ দ্রুত মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আখতার হোসেন প্রমুখ।

সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আজিজুল হক।
#সূত্র প্রথম আলো

বিশ্বব্যাপী আস্থা হারাচ্ছে ইভিএম মতবিরোধ খোদ ইসিতেও

বিএমনিউজ ডেস্ক..

পৃথিবীর শতকরা ৯০ ভাগ দেশে ই-ভোটিং পদ্ধতি নেই। যে কয়েকটি দেশ এটি চালু করেছিল, তারাও ইতোমধ্যে তা নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড ই-ভোটিং পরিত্যাগ করে। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে জার্মানির ফেডারেল কোর্ট ইভিএমকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দেয়। একই বছর ফিনল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট ইভিএমে সম্পন্ন তিনটি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।

ড. অ্যালেক্স হালডারমেন নামে এক প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ইভিএমের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছিলেন, আমেরিকায় ভোট কারচুপির প্রতিরোধক (টেম্পার প্রুফ) নয় ইভিএম। ফলে সেই অঙ্গরাজ্যেও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। আমেরিকার ২২টির বেশি অঙ্গরাজ্যে এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যগুলোতেও তা নিষিদ্ধ হওয়ার পথে।

সম্প্রতি ইভিএম তথা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কারচুপি সম্ভব বলে অভিযোগ তুলে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ফের ব্যালট পেপারে ভোটের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তারা একযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছে ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে। এভাবে বিশ্বব্যাপী আস্থা হারাচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।

অথচ ঠিক এমনই সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেড় লাখ ভোটিং মেশিন কেনার পথে হাঁটছে। এ জন্য ৩৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে তারা। তবে মতবিরোধ রয়েছে খোদ ইসিতেও। একজন কমিশনার ভিন্নমত দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। আরো দুই কমিশনার জানেনই না ইভিএম ক্রয়ের খবর।

এ দিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পুরোপুরি বিপরীত মেরুতে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নির্বাচনে ইভিএম বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিংয়ের প্রবর্তন বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে সরকার ই-ভোটিং রাখতে চায়, যা দুরভিসন্ধিমূলক।

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশনারদের মধেও। পাঁচ কমিশনারের তিনজন এ প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাদের একজন আরপিও সংশোধনের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেছেন, সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার নতুন যে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি; আপনাদের কাছে জানতে পারলাম।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আমি ইভিএমের প্রকল্পের বিষয়ে কিছু জানি না; ইসি সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানেন। যখন এগুলো ব্যবহার করার জন্য কমিশন সভায় আলোচনা হবে, তখন বলব। এর আগে বিষয়টি নিয়ে বলার কিছু নেই, আমি বলতেও চাই না। কমিশনার কবিতা খানম বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে হলে তা আরপিওতে সংযুক্ত করতে হবে। তারপর কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে ইভিএম ব্যবহার করবে কি না। ইভিএম কেনার নতুন প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে আরপিও সংশোধন করা হচ্ছে- সে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে একজন কমিশনার ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে তিনি এটি প্রস্তুত করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য কমিশন সভায় তিন ধরনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ওই দিন দু’টি প্রস্তাব বাদ দিয়ে শুধু একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনার জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কমিশন সভা মুলতবি করা হয়। স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় এরই মধ্যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও ভোটারের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রথম থেকে বলে আসছেন- রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হলে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে। সরকারে প থেকে স্বাগত জানালেও বিরোধী রাজনৈতিক প থেকে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে অধিকতর আলোচনা প্রয়োজন ছিল।

২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেখানকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সময় ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। তার পর এটি সারানো আর সম্ভব হয়নি। ফলে ওই কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণ করতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন। এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা সমস্যা চিহ্নিত করেনি, বরং ইসি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তোলে বুয়েট।

ইভিএম নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল আগের কমিশনেও। সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক সিইসির কাছে এক ইউও (আনঅফিশিয়াল) নোটে লেখেন, কমিশনে যে ইভিএম রয়েছে তাতে ভোট সংখ্যার কাগজ রেকর্ডের ব্যবস্থা নেই; ভোটারের পরিচিতি শনাক্তকরণেরও ব্যবস্থা নেই। ফলে এ যন্ত্র দিয়ে ভোটে কারচুপি রোধ করা সম্ভব নয়।

এ দিকে পাশের দেশ ভারতে ইভিএমের বিরোধিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য ইভিএম বজায় রাখারই পক্ষপাতী, তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন সব দলেরই মতামত খতিয়ে দেখবে বলে কথা দিয়েছে।

গত চার বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ইভিএম নিয়ে কারসাজির অজস্র অভিযোগ তুলেছে একাধিক বিরোধী দল। এবারে নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে গিয়ে কংগ্রেসসহ একাধিক বিরোধী দল দাবি জানিয়েছে ইভিএম পদ্ধতিটাই বাতিল করে দেয়া হোক।

কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, শুধু আমরাই নই। দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ রাজনৈতিক দলই মনে করে যত দ্রুত সম্ভব কাগজের ব্যালট আবার ফিরিয়ে আনা উচিত। এই দাবিতে আমরা অনড় থাকব। কারণ ইভিএমের ওপর আমাদের বিশ্বাস টলে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জালিয়াতির সুযোগ থাকায় ইভিএমে এক চাপে ৫০টি ভোট দেয়া সম্ভব। বিদেশের মাটিতে বসেও ইভিএম হ্যাকিং করা যায় এবং একটি ইভিএম হ্যাকিং করতে এক মিনিটের বেশি সময় লাগে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে তার ভালো-মন্দ খতিয়ে দেখা উচিত। আর নির্বাচনের অন্যতম স্টেক হোল্ডার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। যে প্রযুক্তিই গ্রহণ করা হোক না কেন তা রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়েই করা উচিত।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জে. (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ছোট পরিসরের নির্বাচনে ইভিএম যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু সংসদ নির্বাচনের মতো ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি কমিশন নির্বাচন। এ ছাড়া, খোদ ইভিএম উদ্ভাবনকারী দেশগুলোও এই প্রযুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

যে রেকর্ড শুধুই মোহাম্মাদ নবীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বেলফাস্টে আজ স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের শততম ম্যাচ খেলতে নেমেছে আফগানিস্তান। একটি দেশের জন্য এটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে দলের হয়ে এই ম্যাচটি খেলতে নেমেই অনন্য এক রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ নবী। কারণ এই ম্যাচটি ছিলো নবীরও ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে।

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নবী দেশের এক থেকে একশতম ওয়ানডে ম্যাচের সবগুলো খেললেন। ইনজুরি, বিশ্রাম, ছুটি নিষেধাজ্ঞা, ফর্মহীনতা- কত কারণে একজন খেলোয়াড় দলের বাইরে থাকেন। কিন্তু মোহাম্মাদ নবীর সৌভাগ্য এসব কিছুই তার ক্ষেত্রে ছিলো না। টানা খেলেছেন দেশের প্রথম একশ ওয়ানডের সবগুলো। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে তার এই রেকর্ডে ম্যাচ সংখ্যা আরো বাড়বে।

এই তালিকায় তার ধারেকাছেও নেই কেউ। কেনিয়ার স্টিভ টিকোলো দেশের হয়ে এক থেকে ৪৯তম ওয়ানডে পর্যন্ত টানা খেলে রেকর্ড গড়েছিলেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে দেশের ৪২তম ওয়ানডে পর্যন্ত খেলে এই তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে হটন।

বাংলাদেশের হয়ে এই রেকর্ডটি বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর দখলে। দেশের প্রথম ১৯ ওয়ানডেতে টানা খেলেছেন তিনি।

মিরসরাইয়ে স্কুল ছাত্রের উপর সন্ত্রাসী হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি
মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সেলিমের ভাতিজা স্কুল ছাত্র মোস্তফা আবরার আতিকের (১৩) উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৭ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৯টার সময় নিজামপুর-ভোরেরবাজার সড়কের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চৌধুরীবাড়ীর রাস্তার মুখে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে সরকারহাট এন আর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।
সালাহ উদ্দিন সেলিম অভিযোগ করেন, আতিক প্রতিদিনের মতো পদুয়া থেকে প্রাইভেট শেষ করে বাড়ি ফিরছিলো। পদুয়া থেকে কিছুদুর পূর্বে চৌধুরী বাড়ির রাস্তার মাথায় আসলে ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ তার উপর অতর্কিতভাবে হামলা করে সড়কের পাশে ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হামলায় সময় তারা আমি রাস্তায় না উঠার হুমকি দেয়। তিনি আরো বলেন, রাজনীতি করি আমি। আমার সাথে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এই ছোট বাচ্চার অপরাধ কি বুঝতে পারছিনা।

বিএনপি জামায়াত নয়, ছদ্মবেশী শত্রুরা বেশি সক্রিয় : কাদের

 


নিজস্ব প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত নয়, ছদ্মবেশী শত্রুরাই বেশি সক্রিয়।মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত শোকদিবসের মাসব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ছদ্মবেশী শত্রু রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নয়, ছদ্মবেশী শত্রুরাই বেশি সক্রিয়। এরাই গুজব সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। তারা সুশীলে আছে, গণমাধ্যমে আছে। গণমাধ্যমের একটি অংশ অপপ্রচার করছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য সারা দুনিয়ায় প্রচার করেছেন। জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বানানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। নিরীহ শিশুদের যুক্তিসঙ্গত সামাজিক আন্দোলনকে নিয়ে ছদ্মবেশী কুচক্রীদের সাথে মিলিত হয়ে বললেন বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে, যেখানে কোনও হতাহতই হয়নি। এ অপপ্রচার নোবেল বিজয়ীদের পর্যন্ত বিবৃতি দিতে প্রলুব্ধ করেছে। এ কুচক্রী মহলের কতটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে সেটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১ আগস্টের খুনিদের পৃষ্ঠপোষকরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। বিএনপি নেতারা ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার চান। এটাকে কী বলবেন আপনি? ইতিহাসের নৃশংস বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতি নিষ্ঠুর রসিকতা? ধিক্কার জানাই এই রাজনীতিকে, ধিক্কার জানাই এই নোংরা রাজনীতিকে। এরা খুন করে খুনের বিচার চাইতে পারে, দুর্নীতি করে দুর্নীতির বিচার চাইতে পারে, দণ্ডিত হয়েও নিরাপদ বলে নিজেদের জাহির করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘তারা এখন ক্ষমতা চায় না। কারণ, তারা জানে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই চক্রান্তের চোরাগলি বাছাই করেছে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শেখ হাসিনাকে হঠানোর ষড়যন্ত্র করছে। যুবলীগসহ দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, আনোয়ারুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, বেলাল হোসাইন, আতাউর রহমান, মাহবুবুর রহমান হিরণ, যুবনেতা কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন ইকবাল মাহমুদ বাবলু।

#সূত্র নয়া দিগন্ত

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন: ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিনিধি

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। সে সময় নির্বাচন হলে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকে।

হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হবে এমন পরিকল্পনা সামনে রেখেই সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইন পাস, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতসহ সব কিছু ঠিক থাকলে সংসদ নির্বাচনের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো সক্ষমতা থাকবে ইসির।

ইভিএম ব্যবহার করার আগে ভিত্তিস্বরূপ আইন দরকার। ৩০ আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার পর সেটি ভেটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। আইন পাস হলে তার পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলবে কমিশন। তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি হবে না- এমনটাই জানিয়েছেন ইসি সচিব।

এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পরেই সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।

#সূত্র নয়া দিগন্ত