কক্সবাজারের চকরিয়ায় স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে নিজেকে আত্মগোপনে রেখে অপহরণের নাটক করে অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন আহমদ উল্লাহ নামের ২৭ বছর বয়সী এক যুবক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার লিংক রোড় এলাকায় একটি বিকাশের দোকান থেকে টাকা তুলতে গেলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।
গ্রেপ্তার আহমদ উল্লাহ রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রহিমের ছেলে এবং পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী।
জানা গেছে, আহমদ উল্লাহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করতেন। কিছুদিন আগে তিনি চকরিয়া পৌরসভার হালকাকারা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই এলাকায় মো. কালু নামের একজনের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। পরে ওই বিষয়টি মিটমাট করে বাসা ছেড়ে দিয়ে আবারও নিজের বাড়ি রামুতে চলে যান আহমদ উল্লাহ।
গত শুক্রবার আহমদ উল্লাহ চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অপহৃত হয়েছে বলে নিজের মোবাইল থেকে স্ত্রী খালেদা বেগমকে ফোন করে বিকাশে টাকা দাবি করার কথা বলেন। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন তার স্ত্রী খালেদা বেগম। ওই মামলায় আসামি করা হয় পূর্বের লেনদেন থাকা হালকাকারার মো. কালু নামের এক ব্যক্তিকে।
পরে অভিযানে নামে চকরিয়া থানা পুলিশ। পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আহমদ উল্লাহর অবস্থান সনাক্ত করেন। এতে তিনি কক্সবাজারের সদর উপজেলার আশেপাশে অবস্থান করছেন বলে অবগত হন পুলিশ সদস্যরা। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছদ্মবেশি পুলিশ সদস্যরা। টাকা পাঠানোর জন্য তার কাছ থেকে বিকাশ নম্বর চাওয়া হয়। পরে আহমদ উল্লাহ একটি বিকাশ নম্বর দেন। কথামতো তিনি বিকাশের দোকানে টাকা নিতে আসলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা চকরিয়া থানার এসআই ওমর ফারুকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
চকরিয়া থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে সবজি ব্যবসা করে আসছিলো। খুব সুন্দরভাবেই ব্যবসা চালাছিলো। কিন্তু সবজির ব্যবসা করতে গিয়ে সে পরকীয়া প্রেমে পড়ে যায়। প্রেম করতে গিয়ে তার ব্যবসার সমস্ত মূলধন হারিয়ে ফেলে। মূলধন হারিয়ে সে নিরূপায় হয়ে যায়। ব্যবসায় টাকার জোগান দিতে সে অপহরণ নাটক সাজিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি আটে। তবে পুলিশি তৎপরতায় তার সেই ফন্দি মাঠে মারা যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, অপহরণ নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকা যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



