রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 11

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন হাজার হাজার নেতাকর্মী

 

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে মিরসরাই উপজেলার প্রায় ২০টি স্পটে মহাসড়কের পাশে তারা অবস্থান করেন।

বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান মিরসরাই পৌর সদর অতিক্রম করেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট তাকে আটকে রাখেন। তাকে দুই দশক পর দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নেতাকর্মীরা।

তারেক রহমানকে দেখতে আসা বৃদ্ধা হাজেরা বেগম বলেন, জীবনে কখনো উনাকে সামনাসামনি দেখিনি, আজ দেখেছি। আমাদের দেখে হাত নেড়েছেন, খুব ভালো লাগছে।

বিএনপি কর্মী আবুল কালাম বলেন, প্রায় দুই দশক পর তারেক জিয়াকে কাছ থেকে দেখলাম। আর কখনো দেখতে পাবো চিন্তা করিনি।

মিরসরাই পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহিদ হুসাইন বলেন, প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য দুপুর থেকে শত শত বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে বেশি আগ্রহ ছিল।

মিরসরাই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রিয় নেতা, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে দেখতে মিরসরাইয়ের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। উনার আগমনে নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। এখানকার মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক জিয়ার হাতে আমাকে তুলে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

মিরসরাইয়ে ফেভরিট ফ্রেন্ডস বিজনেস এন্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের বার্ষিক সদস্য সমাবেশ, পুনর্মিলনী ও মেজবান অনুষ্ঠিত

 

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ের ব্যতিক্রমী ও গবেষণামূলক ব্যবসাবান্ধব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফেভরিট ফ্রেন্ডস বিজনেস এন্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের দুদিন ব্যাপী সদস্য সমাবেশ, পুনর্মিলনী ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ শুক্র ও শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল সদস্য সমাবেশ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, আড্ডা, মেজবান, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগিতা ও র‍্যাফেল ড্র ইত্যাদি।
ফেভরিট ফ্রেন্ডস বিজনেস এন্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের এর উদ্যোগে মিরসরাই পৌর সদরে অবস্থিত ওয়ান্ডারল্যান্ড মডেল সিটির নিজস্ব ভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত সমাবেশে ফ্রেন্ডস বিজনেস এন্ড ওয়েলফেয়ার ফান্ডের সভাপতি মুহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ধুম ইউনিয়নের প্রতিনিধি মুহাম্মদ দিদারুল আলম ও আবুল কালামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি জিয়াদ আমিন খান ৷
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মিরসরাই আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাবেক ডেপুটি এর্টনি জেনারেল এডভোকেট ছাইফুর রহমান ৷ প্রধান আলোচক হিসেবে সংগঠনের ব্যপ্তি ও কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টা খাইরুল ইসলাম ভূঁইয়া ৷
এসময় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহসভাপতি এম এম নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল মুরাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়াক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, নিরীক্ষণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, বারইয়ারহাট পৌরসভা প্রতিনিধি মেছবাহ উদ্দিন খন্দকার, মিরসরাই পৌরসভা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মামুনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা ৷
আয়োজকেরা জানান, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা প্রাণের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। কয়েক হাজার লোকের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান বেশ সাড়া ফেলেছে ৷ সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই এই ধরনের আয়োজন সফল ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সবশেষ আগত অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই
০১৮১৫৫০০৭০৫।

মিরসরাইয়ে নারী ভোটারদের নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মিরসরাই প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল আমিনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নারী ভোটারদের নিয়ে নির্বাচনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বারইয়ারহাট খাঁন সিটি সেন্টারে, বারইয়ারহাট পৌরসভা ও হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দিন সেলিম।

বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কমিশনার নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব জসীম উদ্দিন কমিশনার।

প্রধান বক্তা ছিলেন ধুম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মেজবাউল হক মানিক। আরো বক্তব্য রাখেন বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইদুল ইসলাম মামুন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জসীম উদ্দিন ভেন্ডার, নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক কামরান সরোয়ার্দী, জহিরুল হক খোন্দকার, সেলিম উদ্দিন হাজারী, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক সোহাগ, সাবেক সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, বারইয়ারহাট বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর, বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন, বারইয়ারহাট পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক নুরুল আবছার মিয়াজী, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান সানি সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনে নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর অনেক মা সন্তান হারিয়েছে, অনেক স্ত্রী স্বামী হারিয়েছে, অনেক বোন ভাই হারিয়েছে। আওয়ামী লীগের অত্যাচারে অনেকে বাড়ি ঘরে থাকতে পারেনি। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর সবাই বাড়ি-ঘরে থাকতে পারছে। আগামীতে সুন্দর, উন্নয়নশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তাই আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মিরসরাইয়ে নুরুল আমিনকে বিজয়ী করতে হবে।

 

মিরসরাইয়ে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে নুরুল আমিন-ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল আমিনের ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারনা উপলক্ষে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ২২ জানুয়ারি) উপজেলার বারইয়ারহাটে নির্বাচনী কার্যালয়ে মিরসরাই উপজেলা ওলামা দলের উদ্যোগে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল আমিন।

জামালপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মকসুদ আহম্মদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ওলামা দলের যুগ্ম সম্পাদক এইচএম খায়ের উদ্দিন মাসুকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও মিরসরাই আসনে নির্বাচন পরিচলনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা জমির উদ্দিন নূরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ডা. আকতার উদ্দিন, মাওলানা রাশেদ পারভেজ, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সালাহ উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, আলহামদুল্লিাহ, আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু করেছি। প্রথমদিন ধানের শীষের পক্ষে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দলকে ক্ষমতায় আনতে মুখিয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি ধানের শীষ বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, একটি দল বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা অপপ্রচারে কান দেবেন না। ধানের শীষকে ভোট দিয়ে উন্নত দেশ গড়ার সুযোগ করে দিন।

এর আগে প্রচারনার প্রথম দিন উপজেলার ওচমানপুরে পিতা মরহুম মাওলানা আবুল খায়েরের কবর জেয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। সকালে উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করার পর দুপুরে ওলামা দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভায় ও বিকেলে ধুম ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারনা করেন।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই
০১৮১৫৫০০৭০৫।

নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীরা কী কী করতে পারবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা।

এই প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় পাচ্ছেন প্রার্থীরা, অর্থাৎ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।

নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীরা কী কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এবারের নির্বাচনে পোস্টারও ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থীরা, যে নিষেধাজ্ঞা দেশে প্রথমবার কোনো নির্বাচনে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনে দলগুলোর কোনো বাধা নেই। তবে সভা-সমাবেশ আয়োজন করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ ও সময়-লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা।

সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলেও ব্যবস্থা নেবে ইসি। প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের অবিচ্ছেদ্য অংশেই পরিণত হয়েছিল পোস্টার। এবারের নির্বাচনে সেই পোস্টারের ওপর দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। অর্থাৎ প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। যেকোনো ধরনের প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার কোনোটিই দৈর্ঘ্যে ১৬ ফুট ও প্রস্থে ৯ ফুটের বেশি নয়। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারে ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনেও থাকছে নানা বিধিনিষেধ।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, ব্যানার-লিফলেট-হ্যান্ডবিল-ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো। ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট হতে হবে। লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের আয়তন হতে পারে সর্বোচ্চ এ-ফোর আকৃতির। আর ফেস্টুনের সর্বোচ্চ মাপ বেঁধে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চিতে।

ইসি জানিয়েছে, ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধু পোর্ট্রেট আকারে। প্রচারে ব্যবহার করা ছবির আয়তন সর্বোচ্চ ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার হতে পারে।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা তাদের প্রচারসামগ্রীতে কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের বেশি হতে পারবে না।

প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না।

নির্বাচনী আচরণবিধিতে ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষাও ব্যবহার করা যাবে না। অপব্যবহার করা যাবে না ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি। সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে; মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।

গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে ইসির আচরণবিধিতে জানানো হয়।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন নিয়ে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনো শোডাউনে না করা হয়েছে। প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না।

এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কাউকে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, প্রচারে তোরণ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ থাকবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬: জনতুষ্টির বয়ানে অর্থনীতির অসংগতি

জামায়াতের পলিসি সামিট ২০২৬: জনতুষ্টির বয়ানে অর্থনীতির অসংগতি

-ইঞ্জিনিয়ার তাওসিফ ইমরাজ শিহান

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। দলটির উপস্থাপিত উন্নয়ন কাঠামো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি একটি সুসংগত রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার চেয়ে বরং জনতুষ্টিবাদী বা ‘পপুলিস্ট’ আকাঙ্ক্ষার এক আবেগীয় তালিকা। আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জটিল সমীকরণ বোঝা প্রয়োজন, জামায়াতের প্রস্তাবনায় তার নিদারুণ অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

*রাজস্ব সংকোচন ও ব্যয়ের বৈপরীত্য*
জামায়াতের অর্থনৈতিক দর্শনের প্রধান ত্রুটি হলো তাদের রাজস্ব নীতি। তারা একদিকে ভ্যাট ১০ শতাংশ এবং কর ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা সরাসরি রাষ্ট্রের আয়কে সংকুচিত করবে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬-৮ শতাংশ বরাদ্দের মতো উচ্চাভিলাষী খরচের তালিকা দিচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত যেখানে মাত্র ৯ শতাংশের আশেপাশে, সেখানে আয়ের উৎস কমিয়ে ব্যয়ের এমন অঙ্ক মেলাতে যাওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকার যদি অপরিকল্পিতভাবে টাকা ছাপে বা ঋণ গ্রহণ করে, তবে তা মুদ্রাস্ফীতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাবে যেখানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

*ভর্তুকি ও শিল্প-বিশৃঙ্খলা*
শিল্প খাতের জন্য ৩ বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রতিশ্রুতিটি পলিটিক্যাল ইকোনমির বিচারে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বালানি বাজার যেখানে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার সাথে যুক্ত, সেখানে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সীমাহীন ভর্তুকি দিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম ধরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে দেউলিয়া হওয়ার নামান্তর। এছাড়া, নতুন শিল্পের জন্য এমন সুবিধা দেওয়া হলে তা বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে। রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী এবং এটি বিনিয়োগের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করে মার্কেট ডিস্ট্যাবিলাইজেশনের জন্ম দেবে।

*‘সুদমুক্ত ঋণ’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ঝুঁকি*
তরুণ গ্র্যাজুয়েট ও বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য যে ‘সুদমুক্ত ঋণ’ বা কর্জে হাসানার কথা বলা হচ্ছে, তা আদতে একটি পপ্যুলিস্ট স্ক্যাম বা ভোট-আকর্ষণী ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। বাংলাদেশে যেখানে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়, সেখানে বিপুল সংখ্যক তরুণকে ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় অংকের জামানতহীন ঋণ দেওয়া মানে তাদের ঋণের জালে আটকে দেওয়া। পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘স্টুডেন্ট লোন’ যেভাবে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে রূপ নিয়েছে, আমাদের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতে তার প্রতিফলন হবে আরও ভয়াবহ। এই বিশাল অংকের খেলাপি ঋণের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে, তা নিয়ে জামায়াতের পলিসিতে কোনো দিশা নেই।

*মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার অস্পষ্টতা*
বন্ধ কারখানা পিপিপি মডেলে চালু করে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার ঘোষণাটি মূলত সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার এক অকার্যকর অনুকরণ। বেসরকারি সম্পত্তির ওপর শ্রমিকদের এমন সরাসরি মালিকানা প্রদান দেশের প্রচলিত আইনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করবে। এছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং লভ্যাংশ বন্টনের যে জটিলতা তৈরি হবে, তা শিল্পখাতে অস্থিরতা ও মামলা-মোকদ্দমার পাহাড় জমিয়ে তুলবে। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সুচিন্তিত কোনো নীতি নয়, বরং অভিজ্ঞতার অভাবে সৃষ্ট একটি অবাস্তব ফ্যান্টাসি।

*সক্ষমতা ও চলমান প্রকল্পের রাজনৈতিকায়ন*
স্মার্ট সোশ্যাল কার্ড বা জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল—এগুলো মূলত একটি রাষ্ট্রের চলমান প্রাতিষ্ঠানিক বিবর্তনের অংশ। বিদ্যমান তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে পাশ কাটিয়ে মেগা প্রজেক্টের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা প্রমাণ করে যে, জামায়াত কাঠামোগত সংস্কারের চেয়ে দৃশ্যমান মেগা প্রজেক্টের দিকেই বেশি আগ্রহী। এছাড়া সব শিশুকে বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদী সাপ্লাই চেইন সম্পর্কে দলটির কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই।

রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগ বা সাংগঠনিক সদিচ্ছার বিষয় নয়; এটি গাণিতিক বাস্তবতা এবং সুশৃঙ্খল নীতিনির্ধারণের বিষয়। জামায়াতের পলিসি সামিট থেকে এটা স্পষ্ট যে, দলটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জটিল অর্থনৈতিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। তাদের প্রস্তাবনাগুলো একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রের ছবি না এঁকে বরং একটি ‘বিলাসবহুল চাহিদাপত্র’ তৈরি করেছে, যার আর্থিক ও আইনি ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এমন আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখানো দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী প্রমাণিত হতে পারে।সদিচ্ছার আধিক্য থাকলেও কৌশলগত অদূরদর্শিতা এবং বাস্তববিমুখ চিন্তা জামায়াতের এই রূপরেখাকে একটি ‘আবেগের তালিকায়’ পরিণত করেছে, যা বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কেবল একটি মরিচিকাই তৈরি করবে।

ইঞ্জিনিয়ার তাওসিফ ইমরাজ শিহান
আহ্ববায়ক
জিয়া সাইবার ফোর্স – জেডসিএফ
চট্টগ্রাম ঊত্তর জেলা।

মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে বিএনপির মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিনের ধানের শীষের প্রতীককে বিজয়ী করতে মহিলা দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দলের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে ছোট কমলদহ আল আমিন কনভেনশন হলে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা রিজা।

ইউনিয়ন মহিলা দলের আহবায়ক খুরশিদা বেগমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রাহেলা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইমাম হোসেন বাবলু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তোবারক হোসেন, জহির উদ্দিন মোহাম্মদ হুমায়ূন, নজরুল ইসলাম, জাকারিয়া মেম্বার, ইলিয়াস উদ্দিন মাসুদ এবং যুবদলের আহŸায়ক রহিম উদ্দিন। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিটের মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নারী সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহিলা দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নারী নেত্রীদের সক্রিয় ভ‚মিকা রাখার আহ্জাবান জানান তারা।

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই
০১৮১৫৫০০৭০৫।

মিরসরাইয়ে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পেলো সহস্রাধিক রোগী

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীর চক্ষু পরীক্ষা, ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরসরাই উপজেলার ঝুলনপোল বেণী মাধব উচ্চ বিদ্যালয়ে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মিরসরাই ও লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এবং ক্লিফটন গ্রুপের সৌজন্যে ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পেইনে বিভিন্ন বয়সী ৮শতাধিক রোগীর বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ওষুধ বিতরণ, ১’শ জনের মাঝে চশমা বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১২০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়।

ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন, লায়ন্সের সিনিয়র গভর্নর এ্যাডভাইজার এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মিরসরাই পরিচালক লায়ন তাহের আহমেদ, রিজিয়ন চেয়ারপার্সন ও পরিচালক লায়ন এজেডএম সাইফুল ইসলাম টুটুল, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মিরসরাইয়ের প্রেসিডেন্ট মোঃ আলমগীর, লায়ন শওকত আকবর সোহাগ, জয়েন্ট ট্রেজারার দাউদুল ইসলাম, লায়ন মিনহাজ উদ্দিন, লায়ন মুসলিম উদ্দিন লিটন, ঝুলনপোল বেণী মাধব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ খান, ইছাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু নোমান ভঁ‚ইয়া, সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন বাদশা, আবুল হোসেন বাবুল, সাইফুল্লাহ শিবলু, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আবছার, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক তৌহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মুসলিম উদ্দিন, নাজিম সিদ্দিকী, সাকিব আল হাসান, লিও আইনুল ইসলাম চৌধুরী, লিও তৌহিদুল ইসলাম, লিও সাদেক হোসেন।
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং মিরসরাই এর পরিচালক লায়ন এজেডএম সাইফুল ইসলাম টুটুল বলেন, “এই ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে ৮’শ শতাধিক রোগীর চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ১’শ জনের মাঝে চশমা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২০জন রোগীকে চানি অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। শিগগিরই এসব রোগীর বিনামূল্যে চানি অপারেশন সম্পন্ন করা হবে।”

এমএমডি
এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই
০১৮১৫৫০০৭০৫।

মিরসরাইয়ের তারুণ্য সংঘের ২৯ বছর উদযাপনে নানা আয়োজন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্য সংঘের ২৯ বছর উদযাপন উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ক্রীড়া উৎসবের পুরুষ্কার বিতরনী, শিক্ষা সামগ্রী, শীতবস্ত্র বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারুণ্য সংঘের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ শামসের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সোহেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল মিয়াজির যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পুন্ন হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির আহবায়ক মাঈন উদ্দিন লিটন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল হক খন্দকার, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম লিটন, জোরারগঞ্জ থানা জামায়াত নেতা রিদোয়ান উল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেল, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন কৃষকদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফারুক, তারুণ্য সংঘের উপদেষ্টা মমিনুল হক ভ‚ঁইয়া, আজাদ ভ‚ঁইয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এফডিএফ বাংলাবাজার। রানার্সআপ হয় বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদল একাদশ। তারুণ্য সংঘের প্রচার সম্পাদক কাজি ইমনের সঞ্চালনায় খেলায় রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন ক্রীড়া সম্পাদক বোরহান। এতে তারুণ্য সংঘের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

 

উচ্চশিক্ষার রূপান্তর ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: একটি উন্নয়নের রোডম্যাপ

উচ্চশিক্ষার রূপান্তর ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: একটি উন্নয়নের রোডম্যাপ

– ইঞ্জিনিয়ার তাওসিফ ইমরাজ শিহান

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির যে ধারা গত তিন দশকে বিকশিত হয়েছে, তার শিকড় সন্ধানে গেলে ১৯৯২ সালের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি জাতির মেরুদণ্ড যে শিক্ষা ব্যবস্থা, তার আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর ভিত্তি রচিত হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে। আজ আমরা যে উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে যাওয়ার কথা বলি, তার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল বিএনপি সরকারের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমেই।

১৯৯২ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। সেদিন মহান জাতীয় সংসদে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল’ পাসের মাধ্যমে দেশে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ দেশেই বিশ্বমানের শিক্ষার পথ সুগম করার সেই সিদ্ধান্তটি ছিল সময়োপযোগী এবং সাহসী। এর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে আর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিতে হয়নি, বরং দেশেই তৈরি হয়েছে দক্ষ জনশক্তি।

একই বছরের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়’। আজ যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত এবং ৩০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার আওতায় এনে বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছিলেন যে, উচ্চশিক্ষা কেবল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির একচেটিয়া অধিকার নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নের এই দর্শনটিই শহীদ জিয়ার ‘আধুনিক বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের সার্থক প্রতিফলন।

​বর্তমানে শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম আর বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়নমুখী রাজনীতির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আগামীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। তিনি কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক রোডম্যাপ নিয়ে এগিয়ে চলছেন। বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার কার্ড’ কর্মসূচী কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বৈপ্লবিক হাতিয়ার। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি আগামীর বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তার স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

​শিক্ষাখাতে যেমন ১৯৯২ সালের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের সুফল আমরা আজ তিন দশক ধরে ভোগ করছি, ঠিক একইভাবে তারেক রহমানের পরিকল্পিত এই জনকল্যাণমূলক পলিসিগুলোর সুফল আগামী কয়েক বছরের মধ্যে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ উপহার দেবে। জাতীয় সংকটকালে জিয়া পরিবার ও বিএনপি বরাবরই ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করেছে। ইতিহাসের সত্য এটাই যে, যখনই দেশ নীতিগত দিকভ্রান্তিতে পড়েছে, বিএনপি তার সঠিক সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে।

​বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি স্থিতিশীল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। অতীতের সাফল্যের ধারাবাহিকতা আর আগামীর আধুনিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে বিএনপিই পারবে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে। আস্থা রাখুন সত্যের পথে, বিশ্বাস রাখুন তারেক রহমানের নেতৃত্বে।

ইঞ্জিনিয়ার তাওসিফ ইমরাজ শিহান আহ্বায়ক জিয়া সাইবার ফোর্স –জেডসিএফ চট্টগ্রাম ঊত্তর জেলা।