রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 16

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ ভাষণ

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন তিনি।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনায় যোগ দেন। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল- পুরো পথে ছিলো লাখো নেতা-কর্মীর স্রোত। তারেক রহমানও পুরো পথে সবাইকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছে তারেক রহমান উপস্থিত লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সারা দেশের মানুষের উদ্দেশে এক ঔতিহাসিক ভাষণ দেন।

পাঠকদের জন্য তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাষণ হুবহু তুলে ধরা হলো—

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় বাংলাদেশ,
উপস্থিত প্রিয় মুরুব্বিবর্গ, মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আমার সামনে উপস্থিত প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যারা দেখছেন এই অনুষ্ঠান, প্রিয় ভাই-বোনেরা, প্রিয় মা-বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ প্রথমেই আমি রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাজারো লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই- রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি, আপনাদের দোয়ায়, আপনাদের মাঝে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৭৫ এ আবার ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা হয়েছিল। একইভাবে পরবর্তীতে ৯০ এ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এদেশের জনগণ, এদেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল। কিন্তু, তারপরেও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। আমরা তারপর দেখেছি ২০২৪ সালে ৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ২০২৪ সালে এদেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ- কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারীপুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত নির্বিশেষে শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ সেদিন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট এই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ চায়, তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই, সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা- যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন, অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু যে-ই হোক না কেন- নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য পাঁচ কোটির মতন শিশু, ৪০ লক্ষের মতন প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর একটি প্রত্যাশা আছে এই রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর একটি আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই। আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- তাহলে আমরা এই লক্ষ কোটি মানুষের সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, ৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এইরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য। বিগত ১৫ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শত শত হাজারো গুম-খুনের শিকার হয়েছে শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে। ২০২৪ সাল মাত্র সেদিনের ঘটনা। কীভাবে আমরা দেখেছি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের এই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, কয়েকদিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪ এর আন্দোলনের এক সাহসী প্রজন্মের এক সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। আজ ২৪ এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসহ, ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো- যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিভিন্ন আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখনও লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে। আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন আপনারাই আগামীদিন দেশকে নেতৃত্ব দিবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদেরকে আজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি শক্ত ভিত্তির উপরে। গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমার সাথে আজকে মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি- আল্লাহর রহমত আমরা চাই যে- যেসকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন, মঞ্চের বাইরে যে সকল জাতীয় আরো নেতৃবৃন্দ আছেন, আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে যে কোন মূল্যে আমাদেরকে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যে কোন উস্কানির মুখে আমাদেরকে ধীর শান্ত থাকতে হবে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশের শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই। প্রিয় ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিং, নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো আপনারা? মার্টিন লুথার কিং, তার একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে, ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, ‘আই আই হ্যাভ অ্যা প্লান ফর দ্য পিপল অফ মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়- প্রিয় ভাই-বোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি, আমরা যেন হে রাব্বুল আলামীন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরবারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব।

আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে এই দেশের উপরে থাক্‌ ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করীম (সা) ন্যায়পরণয়তা, সেই ন্যায়পরাণয়তার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ আপনারা জানেন এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। একটি মানুষ যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন, তার সাথে কি হয়েছে আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসাবে আপনাদের কাছে আমি চাইব, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন, যাতে আল্লাহ উনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছে, অর্থাৎ আপনারা, এই মানুষগুলোকে যাদের জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনভাবেই ফেলে যেতে পারি না। এবং সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাবার আগে আপনাদের প্রতি সহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আজ আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমাদেরকে আজকে নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণীর মানুষ হই, আমরা যে দলেরই রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যেকোন মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোন মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, যেকোনো শ্রেণী, যেকোনো পেশা যেকোনো ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে- এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।

প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন সবাই মিলে আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।

আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়ে, আবারো সকলকে যেকোনো মূল্যে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে, যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করে, ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। আবারো আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আজকে আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য। আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ। আসসালামু আলাইকুম।

মিরসরাই উপজেলা এসএসসি ‘৯৭ ব্যাচের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

‘সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বে জাগ্রত’ এই স্লোগানে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি-’৯৭ ব্যাচের তৃতীয় পুণর্মিলনী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী এসএসসি ৯৭ ব্যাচের পুণর্মিলনী উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে আরশিনগর ফিউচার পার্কে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ৪০ টি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। বিশেষ আয়োজন হিসেবে বেলুন ফোটানো, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, র‌্যাফেল ড্র ও সৌজন্য পুরস্কারের আয়োজন করা হয়।

পুণর্মিলনী ২০২৫ উদযাপন পরিষদের আয়োজকরা জানান, এ দিনটিকে পালন করতে নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধু ও তাদের পারিবারিক উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করেছে। কর্মব্যস্ততার কারণে সবাই বিভিন্ন জায়গায় থাকে, আজকের এমন একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাই এক হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

দিনব্যাপী এই আয়োজন সঞ্চালনা করেন সমন্বয়কারী মুহাম্মদ দিদারুল আলম, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু ও সালা উদ্দিন সোহেল। এছাড়া সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমন্বয়কারী মোঃ শরফু উদ্দীন, কবির হোসেন, সাইদুল হক সুমন, মাহিন চৌধুরী, কিশোর চক্রবর্তী, আবু সাঈদ মাহমুদ রনি, ওমর ফারুক, শাহাদাত হোসেন সবুজ, জসিম উদ্দিন, শাখাওয়াত হোসেন শামীম, মোফাজ্জল হোসেন রাজিব, সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম সোহেল, নজরুল হোসেন, এডভোকেট আবদুল মতিন।

বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত ৬ শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী এ পুণর্মিলনীতে অংশ গ্রহণ করেছেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে এবং পেশাগত কারণে দূরত্ব থাকলেও এ দিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছেন বন্ধুরা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, বিজয়ের মাসে বীর শহীদের স্মরণ, প্রয়াত বন্ধু, শিক্ষাগুরুদের সম্মানার্থে শোক এবং ১ মিনিট নীরবতা পালন, কেক কাটা এবং স্কুল বন্ধুদের কেক এ ফটোসেশন, স্কুল প্রতিনিধি কিংবা স্কুল মনোনীত বন্ধুদের অনুভূতি প্রকাশ, র‍্যাফেল ড্র, শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে দিনব্যাপী এই আয়োজনে যোগ দেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর।

মিরসরাইয়ে এসএসসি ৯৭ ব্যাচের পূনর্মিলনী

মিরসরাই প্রতিনিধি
‘সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বে জাগ্রত’ এই স্লোগানে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি-’৯৭ ব্যাচের তৃতীয় পুণর্মিলনী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী এসএসসি ৯৭ ব্যাচের পুণর্মিলনী উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে আরশিনগর ফিউচার পার্কে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার ৪০ টি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। বিশেষ আয়োজন হিসেবে বেলুন ফোটানো, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, র‌্যাফেল ড্র ও সৌজন্য পুরস্কারের আয়োজন করা হয়।

পুণর্মিলনী ২০২৫ উদযাপন পরিষদের আয়োজকরা জানান, এ দিনটিকে পালন করতে নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধু ও তাদের পারিবারিক উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করেছে। কর্মব্যস্ততার কারণে সবাই বিভিন্ন জায়গায় থাকে, আজকের এমন একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাই এক হতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

দিনব্যাপী এই আয়োজন সঞ্চালনা করেন সমন্বয়কারী মুহাম্মদ দিদারুল আলম, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু ও সালা উদ্দিন সোহেল। এছাড়া সমন্বয়কারী ছিলেন শরফু উদ্দীন, কবির হোসেন, সাইদুল হক সুমন, মাহিন চৌধুরী, কিশোর চক্রবর্তী, আবু সাঈদ মাহমুদ রনি, ওমর ফারুক, শাহাদাত হোসেন সবুজ, জসিম উদ্দিন, শাখাওয়াত হোসেন শামীম, মোফাজ্জল হোসেন রাজিব, সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম সোহেল, নজরুল হোসেন, এডভোকেট আবদুল মতিন।

বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত ৬ শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী এ পুণর্মিলনীতে অংশ গ্রহণ করেছেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে এবং পেশাগত কারণে দূরত্ব থাকলেও এ দিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছেন বন্ধুরা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা, বিজয়ের মাসে বীর শহীদের স্মরণ, প্রয়াত বন্ধু, শিক্ষাগুরুদের সম্মানার্থে শোক এবং ১ মিনিট নীরবতা পালন, কেক কাটা এবং স্কুল বন্ধুদের কেক এ ফটোসেশন, স্কুল প্রতিনিধি কিংবা স্কুল মনোনীত বন্ধুদের অনুভূতি প্রকাশ, র‍্যাফেল ড্র, শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে দিনব্যাপী এই আয়োজনে যোগ দেন মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর।

‘প্রজন্ম মিরসরাইয়ে’র সভাপতি শাহেদ নূর সম্পাদক রাশেদ

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘প্রজন্ম মিরসরাই’র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহেদ নূর এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে সংগঠনের সাধারণ সভা ও নির্ধারিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক বছের জন্য কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌহিদুল হাসান, সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আকিব, রাশেদুল ইসলাম ইভন ও পারভেজ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইমাম হোসেন রিফাত ও জয় বড়ুয়া আদি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব হোসেন, ইকবাল হোসেন, ফয়সাল তৈয়মুর ও ফয়সাল মাহমুদ সানজিদ, অর্থ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ মইন উদ্দিন, সহ-অর্থ সম্পাদক সাদেক হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইব্রাহিম বাদশা, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিশান কুমার নিশু, দপ্তর সম্পাদক কফিল উদ্দিন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক প্রিয়ন্ত দাশ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইমাম হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মামুন রশিদ ফাহাদ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী তানজিম ইবনে মাইনুল, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পাদক জোবায়ের বিন আমিন এবং কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মো. হাসান সাকিব।

নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি শাহেদ নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘প্রজন্ম মিরসরাইকে একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সংগঠনে রূপ দিতে আমরা নিষ্ঠার সাথে কাজ করব। তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুচ্ছালাম ভূইয়া ফোরকান এবং নির্বাচন কমিশনার মো. মামুনুর রশিদ মামুন ও মো. গোলাম রব্বানী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আজীবন সদস্য নুরুল ইসলাম ইরান, নির্বাহী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন এবং সাবেক সভাপতি রহিম উদ্দিনসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ।

বারী ইতালিতে মিরসরাই এসোসিয়েশনের মিলনমেলা

 

মিরসরাই প্রতিনিধি
ইতালির বারীতে বসবাসরত মিরসরাই উপজেলার প্রবাসীদের সংগঠন মিরসরাই এসোসিয়েশন বারী ইতালির সদস্য নিবন্ধন, মিলনমেলা ও প্রীতিভোজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার ( ২৪ ডিসেম্বর) রাতে ভিয়া নিকোলাইয়ে এই আয়োজন করা হয়।
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বারী এসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল কাদের।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি:শেখ আবদুল সুমন, গাজী মো. ফারুক হোসেন,সহ-সাধারণ সম্পাদক: চন্দন কুমার দে (জয়),সাংগঠনিক সম্পাদক: রিপন আহাম্মদ,অর্থ সম্পাদক: জামশেদ আলম (মামুন),ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: কামরুল হাসান (মিঠু),অফিস সম্পাদক: মোশাররফ হোসেন নিপুন,প্রচার সম্পাদক: তৌহিদুল ইসলাম (লাভলু),আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম নয়ন,ধর্মীয় সম্পাদক: শাহাদাত হোসেন,মহিলা সম্পাদিকা: সাদিয়া আফরিন।
উল্লেখ্য, ইতালির বারী শহরে বসবাসরত মিরসরাই প্রবাসীদের উদ্যোগে ২০১৮ সালে মিরসরাই এসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
এসোসিয়েশনের ক্রীড়া সম্পাদক কামরুল হাসান মিঠু বলেন,আমাদের এই এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে খেলাধুলো, মিলনমেলা আমাদের সবাইকে অনেক বেশি আন্তরিক হয়ে উঠেছে। আমি চাই এই ধারা সবসময় অব্যাহত থাকুক।
এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বলেন, সংগঠনটি প্রবাসী সমাজের সেবামূলক কার্যক্রম, দুঃসময়ে ত্রাণ বিতরণ এবং অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।
এসোসিয়েশনের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন,আমাদের এসোসিয়েশনের মাধ্যমে মিরসরাইয়ের সবাইকে আমরা একসাথে পেয়েছি। আজকে আমরা সদস্য নিবন্ধন, মিলনমেলা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করেছি। সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা এবং দোয়া কামনা করছি।
অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র এর পুরস্কারপ্রাপ্তদের পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

 

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মিরসরাইয়ে বিএনপির আনন্দ মিছিল

মিরসরাই প্রতিনিধি
দীর্ঘ সময় পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তবারক হোসেন, জহির উদ্দিন হুমায়ুন, জাকারিয়া মেম্বার, নজরুল ইসলাম, ইলিয়াস উদ্দিন মাসুদ, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রহিম উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক আরিফ হোসেন আমজাদ বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, রেজাউল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য গিয়াস উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, জাবেদ হোসেন, আবুল হাসেম, আকিল হোসেন, আফলাতুন, মানিক হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেন, নিজামপুর কলেজের সাবেক আহবায়ক ফয়সাল চৌধুরী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

 

মিরসরাইয়ে নারী ইউপি সদস্য গ্রেফতার

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য শামিমা আক্তার সাথীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শামিমা আক্তার সাথী মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি। ওই দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এবিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে সন্ত্রাস দমন আইনে ইউপি সদস্য শামিমা আক্তার সাথীকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

মিরসরাই মারুফ মডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও ফলাফল প্রকাশ

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের মারুফ মডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান এবং অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষক শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের পরিচালক সাইফুদ্দিন মীর শাহীন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মিরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোমিন উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক একরামুল হক, উজ্জ্বল কুমার নাথ, অভিভাবক নজরুল ইসলাম মাসুদ, এইচ এম হানিফ, তুষার কান্তি দাস প্রমুখ।

নার্সারি-১ থেকে ১০ম শ্রেণির ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অর্জনকারীকে পুরস্কৃত করা হয়।

 

ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে অপেক্ষা একটি রাতের

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের নির্বাসিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ৬ হাজার ৩০৯ দিন নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটবে। আগামীকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসীর দৃষ্টি থাকবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পূর্বাচলের বিশাল মঞ্চের দিকে। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতাকে বরণ করতে প্রস্তুত বিএনপি। এখন ঢাকামুখী লাখ লাখ মানুষ। দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আবহ। যেন এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে দেশ।

এদিকে, তারেক রহমানের সংবর্ধনায় বিএনপি শক্তির মহড়া দেখাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিপুল লোকসমাগম ঘটবে এমনটি মাথায় রেখে নানামুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটি এরই মধ্যে বিভিন্ন কমিটিসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছে। বিশাল জনসভার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স ও সংবর্ধনার স্থানের প্রবেশমুখে এবং আশপাশে ৩টি মেডিকেল বুথ থাকবে। যেখান থেকে যে কেউ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী এক অভূতপূর্ব জাগরণ তৈরি হয়েছে। দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম সব প্রান্তের লাখো নেতাকর্মী এখন ঢাকামুখী। বাস, ট্রেন, লঞ্চ কিংবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে যেভাবে পারছেন, প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন।

দেশে ফেরার প্রস্তুতি সেরেছেন তারেক রহমান: তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে টিকিট বুকিং করেছেন। ফ্লাইটটি

২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। এই ফ্লাইটে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

দলে দলে ঢাকায় আসছেন নেতাকর্মীরা: গতকাল থেকেই দলে দলে ঢাকায় আসা শুরু করেছেন প্রত্যন্ত এলাকার নেতাকর্মীরা। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রত্যন্ত এলাকার নেতাকর্মীদের দেখা গেছে। বগুড়া থেকে আসা এক তৃণমূল কর্মী বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছি। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা জানাতেই আমরা এসেছি।

এদিকে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রবাসী নেতাকর্মী এরই মধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

চিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি: ব্যাপক লোকসমাগমের ফলে যে কেউ অসুস্থ হতে পারেন বা সমস্যায় পড়বেন এমনটি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যাপ্ত খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে আগামীকাল। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ গতকাল কালবেলাকে জানান, তারা এরই মধ্যে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। এর মধ্যে পুরো ঢাকা মহানগরীতেই থাকবে ২৫-৩০টি মোবাইল অ্যাম্বুলেন্স। সংবর্ধনা স্থানের দুই প্রান্তে এবং কাছাকাছি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট তিনটি মেডিকেল বুথ থাকবে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোয় থাকবে মেডিকেল টিম। যেখানে একজন ডাক্তার ও নার্স বা টেকনিশিয়ান থাকবেন।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন রাজধানীতে কয়েক হাজার বোতল বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু। তিনি গতকাল কালবেলাকে বলেন, বহু বছর পর দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন দিবসে ঢাকায় মানুষের ঢল নামবে। প্রচুর লোকসমাগমে যাতে মানুষ কষ্ট না পায়, সেই বিবেচনায় কয়েক হাজার পানির বোতল তিনি বিতরণ করবেন। এরই মধ্যে পানির বোতলে তারেক রহমানের ছবি যুক্ত করে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বরণ করতে প্রস্তুত বিএনপি: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। মঞ্চ তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ঢাকা জেলা প্রশাসন এরই মধ্যে এই গণসমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় অর্ধকোটি মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০০ ফিট এলাকাকে কেন্দ্র করে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মাইক বসানো হয়েছে, যাতে আগত জনতা প্রিয় নেতার বক্তব্য শুনতে পারেন। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

নতুন যুগের সূচনা: বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্থিতি দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান কালবেলাকে বলেন, তারেক রহমান শুধু একটি দলের নেতা নন, তিনি বর্তমান বাংলাদেশের তারুণ্যের প্রতীক। দীর্ঘ নির্বাসন জীবন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে পূর্ণতা দেবে। আমরা শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে চাই।

গতকাল দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। যিনি তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো কমিটির সদস্য সচিব। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন জনগণের প্রিয় নেতা তারেক রহমান। সেদিন তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তিনি।

রিজভী বলেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি দল থেকেও সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক। দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আসা বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যেন সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয় এবং যানজট যেন অসহনীয় পর্যায়ে না পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং জেলা প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা ‘৯৭ উৎসব ২৫ ডিসেম্বর ।

সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্ব বন্ধুত্বে জাগ্রত এই স্লোগানকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে মিরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এস‌এসসি’৯৭ তৃতীয় পুনর্মিলনী।
দিনব্যাপী এই মিলনমেলা অনুষ্ঠানে থাকছে- বন্ধুদের আড্ডা, অনুভূতি প্রকাশ, খেলাধুলা। দুপুরে প্রীতিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর র‍্যাফেল ড্র এবং পুরষ্কার বিতরণ।

আয়োজকরা জানান, আমরা চাই এধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্ততপক্ষে বছরে একবার হলেও সকল বন্ধুদের এক জায়গায় করে আড্ডা দিতে।
এটা আমাদের ৩য় পুনর্মিলনী। আমরা এবার গত দুই পুনর্মিলনীর চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি বন্ধুদের থেকে। এবার আমাদের প্রায় ৬০০ জন বন্ধু নিবন্ধিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বন্ধুদের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী যুক্ত করেছি।
আমরা আশা করছি আগামীতে আরও বৃহৎ পরিসরে বন্ধুদের সাথে আমাদের দেখা হবে।