শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Home Blog Page 679

চমেক ক্যান্টিনে পচা সবজি দিয়ে খাবার তৈরি

নিজস্ব প্রতিনিধি

অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে পচা সবজি দিয়ে খাদ্য তৈরি ও বাসি পরোটা বিক্রয় করায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনকে জরিমানা করা হয়।

শনিবার ক্যান্টিনে অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, খুলশী, পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালী থানায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ সিরাপ, অননুমোদিত ওষুধ, পচা সবজি, বাসি পরোটা এবং ২৫০ গ্রাম পরিমাণ হাইড্রোজ ধ্বংস করা হয়।

জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আইসক্রিমে মেয়াদোত্তীর্ণ চকলেট সিরাপ ব্যবহারের জন্য খুলশী টাউন সেন্টারের ক্যাফে ফায়ার ডোরকে ৫ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ করায় আমবাগানের মেসার্স জনসেবা ফার্মেসিকে ৮ হাজার টাকা একই অপরাধে কে সি দে রোডের স্বদেশ মেডিকোকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া চট্টগ্রামের কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানায় অভিযান পরিচালিত হয়। জনৈক অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বোতলজাত পানি বিক্রয় করায় চকবাজার এলাকার টিএমটি ডেইলি নিডসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রয় ও সংরক্ষণের দায়ে কোতোয়ালি থানার অ্যাপোলো ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ক্যান্টিনকে পচা সবজি ব্যবহার, বাসি পরোটা বিক্রয়, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং হাইড্রোজ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করায় ৪০ হাজার জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ১০ কেজি পরিমাণ পচা সবজি, বাসি পরোটা ও ২৫০ গ্রাম হাইড্রোজ ধ্বংস করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস ও মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সিসিটিভির আওতায় আসছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-অপরাধ দমনে থাকছে আরো নানা প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি

দুর্ঘটনা রোধ ও অপরাধ দমনে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সিসিটিভির আওতায়। আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে ২৪ ঘণ্টাই ক্লোজড সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে ঢাকা–চট্টগ্রাম ফোরলেন মহাসড়ক। এমন কী স্পষ্ট ভাবে নম্বর প্লেট পড়তে পারে এমন আধুনিক যন্ত্রও কিনতে যাচ্ছে মহাসড়কে যানবাহনের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মহাসড়কে ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট চিহ্নিতকরণ, অত্যধিক গতি শনাক্তকরণ, সন্দেহজনক যানবাহন, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন ট্র্যাক করা, রাস্তায় গতিশীল ট্রাফিক প্রবাহ তথ্যে বাস্তবিক অবস্থা ও ট্রাফিক নির্দেশ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্য ও ইয়াবা চোরাকারবারীদের গ্রেফতার ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের জন্য এই সড়কে ব্যবহার করা হবে উন্নত প্রযুক্তি। প্রতিটি সড়কেই থাকবে সিসি ক্যামেরা, উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইস ও সফটওয়্যার সিস্টেম। ফলে সড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ বস্তু ১৫ মিনিটের মধ্যে শনাক্ত করে সংকেত বাজবে ও পুলিশের হাতে ধরা পড়বে। এমন কী বেপরোয়া গতির যানও ধরা পড়বে এই পদ্ধতিতে।

এ বিষয়ে ফোরলেন এর চট্টগ্রাম বিভাগের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সর্বস্তরের সকলের নিরাপত্তার পাশাপাশি সড়কের প্রতিটি অংশের রক্ষণাবেক্ষন সম্ভব হবে দ্রুত গতিতে। মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন আমাদের অনুসন্ধানী কার্যক্রম কমিয়ে অপরাধ দমন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব হবে, যা পুলিশবাহিনীর জন্য অনেক সুফলদায়ক হবে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৬৪ কিলোমিটার রাস্তায় স্থাপন করা হবে ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা। পরে সেগুলো থেকে নেওয়া ফুটেজগুলো অ্যানালাইসিস করা হবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। কোনো গণপরিবহনে ছিনতাই ও ডাকাতি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়বে অপরাধীরা।

‘হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উন্নত দেশের মতো ঢাকা–চট্টগ্রাম মাহাসড়ের ফোরলেনকে ঢেলে সাজানো হবে। এমন উদ্যোগ দেশে প্রথম বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এর মধ্যে– রেকার, ভেহিস্যাল, স্টোপার, স্পিড ডিটেক্টর, অ্যাম্বুলেন্স ও স্ক্যানার ইত্যাদি।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (উন্নয়ন) গাজী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম ফোরলেন জুড়ে থাকবে সিসি ক্যামেরা। শুধু সেগুলোই নয় এর পাশাপাশি কেনা হবে উন্নত ডিভাইস–সফটওয়্যার সিস্টেম। এমনকি ফোরলেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলায় পড়বে ফিটনেসবিহীন ও বেপরোয়া গতির যানবাহন। তিনি বলেন, আমরা দু‘টি উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখেই এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। এই সড়কে কোনো অপরাধী গাড়ি আটকে ডাকাতি করতে পারবে না। কোনো কারণ ছাড়া ফোরলেনে সন্দেহভাজন ঘোরাঘুরি করলে ধরা পড়বে। নিরাপত্তা জোরদার হবে প্রকল্পের মাধ্যমে। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলতে পারবে না। আমরা নির্দিষ্ট গতিসীমা বেঁধে দিয়েছি এর বেশি হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হবে। যানবাহনের নম্বর প্লেট রিড করতে পারে এমন যন্ত্রপাতিও কেনা হচ্ছে প্রকল্পের আওতায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে আরো জানা যায়, সড়কে যেকোনো ঝুকিপূর্ণ বস্তুও শনাক্ত করা যাবে এতে। হঠাৎ কোনো বস্তু ১৫ মিনিটের বেশি সময় সড়কে থাকলে আমাদের কাছে সংকেত বাজবে। তখনই এটা উদ্ধার করা হবে। এছাড়া সড়কে থাকা কোনো সরকারি মালামাল কেউ গায়েব করলেও ধরা পড়বে। যেমন ফোরলেনে হয়তো ময়লার কোনো ডাস্টবিন আছে অনেক সময় এগুলো চুরি হয়। কেউ এগুলো চুরি করলেও ধরা পড়বে, এলার্ম জেনারেটর। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করলেও এলার্ম জেনারেট করবে এবং ধরা পড়বে। ক্যামেরার মধ্যে থাকে থাকবে সফটওয়্যার। প্রথমে ক্যামেরার ছবি সংগ্রহ হবে। পরে ছবিটা ডাটা–সফটওয়্যারে এনালাইসিস করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মাধ্যমে পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি থাকবে সেন্ট্রালাইজড এবং বিশ্বমানের সিস্টেম। এসব কাজ হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনাজনিত মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি থাকবে আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ইউনিফর্ম কমান্ড, কন্ট্রোল ও মনিটরিং প্লাটফর্ম।

বাড়বে পুলিশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সক্ষমতা। প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২২ কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। চলতি মাস থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায়, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের গতিপথ শনাক্তকরণ, পাবলিক অনুপ্রবেশ শনাক্তকরণসহ সড়কে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্দেহজনের ঘোরাফেরা, পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্তকরণ, বস্তু অপসারণ শনাক্তকরণ করা হবে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (উন্নয়ন) গাজী মো. মোজাম্মেল হক আরো বলেন, ফোরলেনে যানজট নিরসনে থাকবে ই–পুলিশ, ইন্টেলিজেন্ট ক্যামেরা চেকপোস্ট। ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংস্লিষ্টদের নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রকল্পটি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের উপ–প্রধান (আর্থ–সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ) মোহাম্মদ বোরহানুল হক, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের আইন–শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণে একটা প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে। এছাড়া অন্যান্য আনুষঙ্গিক উন্নয়ন ও করা হবে। এমন উদ্যোগ এবার প্রথম নেওয়া হচ্ছে ফোরলেনে। যা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যেতে পারে ফোরলেন এর দৃশ্যপট। কমে যেতে পারে দূর্ঘটনা ও নানান অপরাধ।

মিরসরাই সমিতি ওমান’র উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাই সমিতি ওমানের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানী মাস্কাটের বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা হামরিয়ার একটি রেষ্টুরেন্টে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুস্থ মানবতার সেবায় কাজ করে যাওয়া সমিতিটি ইতিমধ্যেই দেশ ও দেশের বাহিরে বেশ সুনাম অর্জন করেছে সংগঠনটি
ইতিমধ্যেই সমিতির পক্ষ থেকে ওমানে অসহায় শ্রমিকদের কে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। বিগত বছর গুলোতে সমিতির পক্ষথেকে অসহায় ও অভাবী মেয়দের যৌতুক বিহীন বিবাহ ও অর্থের অভাবে যারা চিকিৎসা করতে পারছেনা এমন অসহায়দের সহযোগিতা করে দেশের ভিতরও বেশ সুনাম অর্জন করেছে।


সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রনির সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মুসা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা সহিদ হোসেন, দাউদ হোসেন, মুহাম্মাদ এনাম ও সমিতির সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন তার বক্তব্যে সমিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার বক্তব্যে সবাইকে ওমানের আইন কানুন মেনে চলার অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে ওমানি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওমান সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার মাহার। মাহার তার আলোচনায় বাংলাদেশী দের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ওমানে আজ সব থেকে বেশি বাংলাদেশী বসবাস করছে। তবে বেশিরভাগ বাংলাদেশী না জেনে ভুল ভাবে দেশ থেকে ফ্র্রি ভিসায় ওমানে এসে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে, তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন দেশ থেকে নতুন যারা ওমানে আসতে চায়, তারা যেন কাজ জেনে দক্ষতা অর্জন করে এবং ফ্রি ভিসায় না এসে কোম্পানির ভিসায় ওমানে আসে। এছাড়া সমিতির সহ সভাপতি ইউনুস ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুল হক।
উল্লেখ্যঃ ইতিমধ্যে মিরসরাই সমিতি ওমানের পক্ষ থেকে ওমানে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীদের চিকিৎসার ব্যয়, মৃত্যু প্রবাসীদের দেশে পাঠাতে টিকেট প্রদান, দেশের বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নের জন্য নগদ অর্থ প্রদান, অসহায় মেয়েদের যৌতুক বিহীন বিবাহ দেওয়া সহ সমাজের বিভিন্ন সামাজিক কাজে বেশ অবদান রেখেছে।

তামিমের এই ত্যাগ চোখে পানি এনে দেয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, শুধু এ ম্যাচ নয়, তামিম ইকবালের এশিয়া কাপই শেষ! বাঁ-হাতি ওপেনারকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে দুবাই থেকে মুঠোফোনে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ প্রথম আলোকে অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি তামিমের টুর্নামেন্ট শেষ কি না। তবে তিনিও জানালেন, এই ম্যাচে আর খেলা হচ্ছে না বাঁ-হাতি ওপেনারের।

হাসপাতাল থেকে ফিরে বিষণ্ন মুখে বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমে। হয়তো ভাবছিলেন, ‘ইশ্‌! আবার যদি ব্যাট হাতে নামতে পারতাম…।’ কল্পচোখেও যদি দেখেন, তামিমের ভাবনায় বিদ্যুচ্চমকের মতো তখন কী খেলে গেছে, সেটি পড়ে ফেলা কঠিন কিছু নয়। মুশফিকুর রহিম উইকেট থিতু হয়ে গেছেন। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে লড়াই করে সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। মুশফিকের শুধু একজন সঙ্গী দরকার, যাঁর শুধু অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে। বাকিটা মুশফিকই করে নেবেন।

সাহস, ভীষণ সাহস শুধু দেখাননি, এ তো রীতিমতো পাগলামো! ৪৭তম ওভারের এক বল বাকি থাকতে সুরঙ্গা লাকমলের বলে মোস্তাফিজুর রহমান ফিরে যেতে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে গেল ৯ উইকেটে ২২৯। বাংলাদেশের স্কোর ওখানেই থেমে যেতে পারত। থামতে দেননি তামিম। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সবাইকে অবাক করে যে দৃশ্যের অবতারণা হলো, সেটি শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেট কেন, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর দৃশ্য। সাহসের অনন্য উদাহরণ হয়ে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম নামলেন। বাঁ-হাতি ওপেনারের এই সাহস, এই ত্যাগ চোখে জল এনে দিতে বাধ্য! দেশের জন্য, জাতীয় দলের জন্য তীব্র ব্যথাও তাঁর কাছে তুচ্ছ।

বাঁ-হাতটা ঝুলিয়ে রেখেছেন, যে হাত তাঁর মূল শক্তি! আরেকবার যদি বল লাগে আঘাত পাওয়া জায়গাটায়, এই টুর্নামেন্ট কেন পুরো ক্যারিয়ারটাই তাঁর পড়ে যাবে হুমকিতে। এবার বাঁ-হাতি ওপেনারের ভাগ্যটাই খারাপ। ভিসা বিড়ম্বনায় আরব আমিরাতে যেতে কত ঝক্কি পোহাতে হয়েছে। গেছেনও ডান হাতের আঙুলের চোট নিয়ে। কপাল তাঁর এতই খারাপ, আজ আবারও সেই চোট। এবার বাঁ-হাতের কবজিতে। সব জেনে-বুঝেই শেষে আবার তামিম নামলেন। লাকমল করলেন কী, যে শর্ট বলে বাংলাদেশ ওপেনারকে মাঠছাড়া করতে বাধ্য করেছিলেন, তামিমকে সেই হাত বরাবর আবারও শর্ট বল।

বাঁ-হাতটা কোনোভাবে সামলে, এক হাতেই বলটা খেললেন তামিম। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের উদ্দেশ্যে তিনি নামেননি। বাংলাদেশের হাতে ১৯ বল আছে। মুশফিককে যদি এ সময়টা সঙ্গ দেওয়া যায়, স্কোরটা অনায়াসে চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায় প্রতিপক্ষের কাছে। এ পরিকল্পনা মেনেই মুশফিক চালিয়ে গেছেন, তামিম চোট পাওয়া হাত নিয়ে অন্য প্রান্তে সঙ্গ দিয়ে গেছেন। আর তাতেই দুজনের শেষ উইকেটে ১৬ বলে ৩২ রানের অতিমূল্যবান জুটি হয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে ২৬১ রানের লড়াইয়ের স্কোর।

স্কোর, সংখ্যা, ম্যাচ, জয়, পরাজয়—সব তুচ্ছ হয়ে যায় তামিমের এই সাহসিকতা আর উদার মানসিকতার কাছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রায় বলেন, এটা শুধুই খেলা, যুদ্ধ তো আর নয়! অধিনায়কের কথায় যুক্তি আছে অবশ্যই। তবে এটিও লড়াই। এ যে দেশের সম্মান-গৌরব বয়ে আনার লড়াই। আর এ লড়াইয়ে কখনো কখনো নিজেকে যে ঝুঁকির মধ্যে অনায়াসে ফেলে দেওয়া যায়, তামিম সেটিই আজ প্রমাণ করলেন।

দলের প্রয়োজনে তামিম বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তবে দিন শেষে চিকিৎসাবিদ্যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তামিমের চোট এতটাই গুরুতর, এশিয়া কাপ আসলেই শেষ কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। থাকুক। তামিম যদি আর না-ও খেলতে পারেন, আজ যে সুন্দরতম দৃশ্য উপহার দিয়েছেন, সেটি এই এশিয়া কাপ কেন, হৃদয়ে গেঁথে থাকবে বহুদিন। সময়ের তীব্র স্রোতও অনিন্দ্যসুন্দর এই দৃশ্য মুছতে পারবে না নিশ্চিত।

মুশফিকের রানটাই করতে পারল না শ্রীলঙ্কা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের দেওয়া ২৬২ রানের জবাব দিতে নেমে ৩৫.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা অলআউট ১২৪ রানে। হেরেছে ১৩৭ রানে। ২০ সেপ্টেম্বর আবুধাবিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
তামিম ইকবালের ব্যান্ডেজ বেঁধে এক হাতে ব্যাট করতে নেমে পড়া আর মুশফিকুর রহিমের এলোপাতাড়ি মার…লঙ্কানরা যেন বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারেনি। ব্যাট হাতে নেমেও এমন খাবি খেয়েছে তারা, শেষ পর্যন্ত মুশফিকের রান, অর্থাৎ ১৪৪ করতে পারেনি, ২৬২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে অলআউট ১২৪ রানে। দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের।

২৬২ রানের লক্ষ্যটাকে এভারেস্ট–উচ্চতায় তুলে দিয়েছে লঙ্কানদের এই কাঁপাকাঁপি। জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজে বল হাতে দিয়েছেন নেতৃত্ব। অধিনায়ককে যোগ্য সমর্থন দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলিং আসলে খারাপ করেননি বাংলাদেশের কোনো বোলারই। লঙ্কানরা ব্যাট হাতে ঝোড়ো শুরুই করেছিল। ২ ওভারে তুলে ফেলেছিল ২২ রান। সেই তারাই পরের ৮ ওভারে তুলতে পারল মোটে ২০। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে আর মাপা বোলিং করে লঙ্কানদের স্বচ্ছন্দে এগোতেই দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। সর্বোচ্চ ২৯ রান এসেছে আটে নামা দিলরুয়ান পেরেরার ব্যাট থেকে। এতেই পরিষ্কার, কী কঠিন এক ম্যাচ গেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের।

শুধু বল হাতে নয়, মাশরাফির গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ সিদ্ধান্তও এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লুর আবেদন নাকচ হয়ে গেলে রিভিউ নিয়ে সফল হন মাশরাফি। মোস্তাফিজের সৌজন্যে প্রথম উইকেটের (কুশল মেন্ডিস) দেখা পায় বাংলাদেশ। পরের ওভারের শেষ বলে মাশরাফি বোল্ড করে দেন উপুল থারাঙ্গাকে। নিজের তৃতীয় আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আবার মাশরাফি। এবার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। পরিষ্কার এলবি, কিন্তু ধনাঞ্জয়া রিভিউ নিয়ে ফেলেন।

সেই ভুলের খেসারত পরে গুনতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। মেহেদী মিরাজের বলে এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার হাত তুলে দিলে কোনো বেগর বাই না করে সোজা হাঁটা দিতে হয় কুশল পেরেরাকে। অথচ কুশলের প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কানা ছুঁয়েছিল ব্যাট। বাকি ইনিংসে শ্রীলঙ্কা আর রিভিউ পায়নি, এটিও মস্ত বড় সুবিধা বাংলাদেশের।

অবশ্য ম্যাচটা ১৫তম ওভারেই একরকম শেষ করে ফেলতে পারত বাংলাদেশ। মিরাজের বল আড়াআড়ি চালাতে গিয়ে শনাকা আকাশে তুলে দিয়েছিলেন। সহজ ক্যাচ ছিল বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলামের জন্য। কিন্তু ‘মাশরাফি ভাই’ ধরবে ভেবে হাতই বাড়ালেন না নাজমুল! এই ভুলটা অবশ্য ভোগায়নি বাংলাদেশকে। ধারাবাহিক উইকেট পতনে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গেছে ১২৪ রানেই। আর এতে মরুর দেশে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ।

অসাধারণ শুরুর পরও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশের দুর্দান্ত এক কৌশলে। মুশফিকের সেঞ্চুরির পরও সুবিধাজনক অবস্থানেই ছিল শ্রীলঙ্কা। পুরো দৃশ্যটা এলোমেলো হয়ে গেল চোট পাওয়া হাত নিয়ে তামিম খেলতে নেমে! মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে আর ধরতেই পারেনি লঙ্কানরা। বোলিংয়ে এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মাশরাফিরা মাঠ ছাড়লেন বিজয়ের হাসি হেসে।

 

মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টূর্ণামেন্টে মিঠানালা ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন

মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ ১৭ ফুটবল টূর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদ একাদ্বশ। শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরসরাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতি ফাইনাল খেলায় ৩-০ গোলের ব্যবাধানে ৭ নং কাটাছড়া ইউনিয়ন পরিষদকে হারিয়ে এই ট্রফি অর্জন করেছেন। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন হায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার কোন বিকল্প নাই। তিনি মিরসরাই উপজেলায় খেলাধুলার সম্প্রসারনের জন্য যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রীর মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই ষ্টেডিয়ামকে দেশের আধুনিক ষ্টেডিয়ামে রুপান্তর করার ঘোষনা দেন।
১৮টি দলের অংশগ্রহন শেষে টুর্নামেন্টের উক্ত ফাইনাল খেলায় মিঠানালা ইউনিয়ন ৩-০ গোলে কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদকে হারিয়ে উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ফাইনাল খেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ন কবির খান ও সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা’র সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাচার্য ড. ঈসমাইল খান, উত্তর জেলা আ’লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রুহেল, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান (প্যানেল-২) ইয়াছমিন আক্তার কাকলী, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি কায়সার খসরু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ, সাবেক পৌরমেয়র এম শাহজাহান, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান, উপজেলা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভির হোসেন তপু, চ্যাম্পিয়ন মিঠানালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, রানার্স আপ কাটাছরা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা, ফজলুল কবির ফিরোজ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের সাক্ষাৎ

 


নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ২০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান।

শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেন।

এসময় দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কাজী সালাহ উদ্দিন ও মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মিরসরাইয়ের সামগ্রীক রাজনীতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ড. কামাল ও বি চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মসূচী ঘোষণা শনিবার

Exif_JPEG_420

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি দেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রাত সাড়ে ৮টায় আ স ম রবের উত্তরার বাড়িতে বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিকল্প ধারার সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মনসুর আহমেদ প্রমুখ।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি নিরূপণ এবং ড. কামাল কিভাবে কাজ করবেন, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রাত ৭.৪০ মিনিটে রবের বাসায় প্রবেশ করেন ড. কামাল হোসেন। এ সময় কামাল হোসেনকে অভ্যর্থনা জানান জেএসডি সভাপতি রব।

দুই সপ্তাহ আগে ড. কামাল হোসেনের বাড়িতেও বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে ড. কামাল ও বি. চৌধুরী ঐকমত্য পোষণ করেন।

মিরসরাইয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা


মিরসরাই প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বেলাল উদ্দিন (২৪) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। সে ওই এলাকার ওসমান গনির পুত্র।
জানা গেছে, বেলাল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে দেশে এসে এখন বিএসআরএম কোম্পানীতে চাকরী করেন। গত কয়েক বছর বিয়ে করেন বেলাল। বিয়ে করার পর থেকে স্ত্রীর সাথে প্রায় সময় বিভিন্ন বিষয়ে বাগবিতন্ডা হতো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ২টায় নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার ময়নাতদন্ত ছাড়াই শুক্রবার সকাল ১০টায় দাফন করা হয়েছে।
মিরসরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে শুনেছি ছেলেটি মানসিক রোগী ছিলো। তাই আত্মহত্যার পর পরিবার ও ওই ওয়ার্ডের মেম্বার সহ সীদ্ধান্ত নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা হয়েছে।
এই বিষয়ে মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গড়িয়াইশে এক যুবকের আত্রহত্যার বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এই বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ছাঁকনি দিয়ে ধরা হচ্ছে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে এখন তুঘলকি শাসন চলছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ছাঁকনি দিয়ে ধরা হচ্ছে। যে জনগণকে পুলিশের নিরাপত্তা দেয়ার কথা অথচ নিত্যদিনের পুলিশের আগ্রাসী অভিযানে দেশের মানুষের জানমাল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে।

গত ২৪ ঘন্টায় বিরোধী দলের ৯০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আজ শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জনবিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না।

এছাড়া খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে অবিলম্বে বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানান রিজভী।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী বলেন, অসাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত বসিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় চায় রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে বলেছে ‘যেহেতু খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাচ্ছেন না, তাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করুন’। আদালতের কার্যক্রম শেষ করতে লিখিত আবেদনও দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসলে রাষ্ট্রের অবৈধ কর্তৃপক্ষ আওয়ামী সরকার চক্রান্তমূলকভাবেই দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে সাজা দিয়েছে সেটি আবারো প্রমাণ করলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ। তিনি হাত-পা নাড়াতে পারেন না, হাঁটাচলা করতে তার মারাত্মক অসুবিধা হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন তার বাম হাত ও পা প্রায় অবশ হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালতে যেতে পারবেন না, বেগম জিয়া সে কথাটিই বলেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে আদালতকে ব্যবহার করে বিচারকার্য ছাড়াই রায় দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি সম্পূর্ণরুপে ন্যায় বিচারের পরিপন্থী, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রতিহিংসার বিচার চরিতার্থ করতেই তাড়াহুড়ো করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের এই চাপ সরকারের নির্দেশেই হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ, সে কথাটি আদালতকেই তিনি বলেছেন, কিন্তু আদালত তো তার চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দিলেন না। কারণ সেই আদালত সরকারের হুকুমের বাইরে যেতে পারবেন কী না সেটি নিয়ে জনগণ সন্দেহ পোষণ করে। যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে হয়, সেখানে নি¤œ আদালত সরকারের চাপ প্রতিহত করে ন্যায়বিচার করতে পারবেন কী? এখন পর্যন্ত সেই দৃষ্টান্ত আমরা দেখিনি।

রিজভী বলেন, পোলিও টিকা খাওয়ানোর একটি শ্লোগান আমরা অনেকদিন যাবৎ শুনে এসেছি ‘বাদ যাবে না একটি শিশু’। এখন সরকার এই শ্লোগানটি ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। অর্থাৎ ‘মামলা-হামলায় বাদ যাবে না একটিও বিএনপি নেতাকর্মী’।

তিনি বলেন, দেশে এখন মানুষ নিজের ছায়াকেও ভয় পাচ্ছে। মনে হয়-দেশের প্রতিটি মানুষকে কেউ না কেউ অনুসরণ করছে, গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে। এমনিতে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের ক্রমাগত বিস্তৃতি ঘটছে, তার ওপর রাজধানীসহ দেশের আনাচে কানাচে এমন কোনো বিএনপিসহ বিরোধী দলের মানুষ বা সমর্থক নেই যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি। পাশাপাশি বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ছাঁকনি দিয়ে ধরা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, এ দেশে বিদেশী মিশনের কূটনীতিকদেরও নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপরও হামলা হয়েছে। কোথাও আওয়াজ শুনলেই সেখানে সরকারি হামলা ধেয়ে আসছে।

তিনি বলেন, পরোয়ানা, গ্রেফতার, হাজতবাস, নিষ্ঠুর বিচার এখন মানুষের নিয়তি। শুধু বিরোধী দল নয়, গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে এই সরকার অপরাধী বানাচ্ছে। সরকারের এই অপরাধের তালিকায় আছেন কোমলমতি স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী, অধ্যাপক, শিল্পী, আলোকচিত্রি, সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট, যাত্রী কল্যাণের মহাসচিব মোজাম্মেল হকের ন্যায় নিরীহ নাগরিক, শিশু, অশীতিপর বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। বাদ যায়নি কবরে শায়িত লাশ, প্যারালাইজড্ রোগী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী, পবিত্র হজ্জব্রত পালনরত ব্যক্তিও।

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, সরকারপ্রধানের মনে ত্রাস ও ভয়ের সৃষ্টি হওয়ায় দেশজুড়ে চলছে সরকারি জুলুমের আতিশয্য। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে কুর্নিশ করতে হবে, কোনো সমালোচনা চলবে না, এর ব্যত্যয় হলেই তার ঠাঁই হবে কারাগারে। এই তুঘলকি শাসন এখন চলছে বাংলাদেশে।

রিজভী জানান, প্রাপ্ত তথ্যমতে কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে ৩ হাজারের অধিক। আসামি করা হয়েছে নামে-বেনামে প্রায় ৩ লাখ নেতাকর্মীকে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৫০০-এর অধিক নেতাকর্মীকে। গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৯০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার সংবাদ পাওয়া গেছে।

গতকাল দিনরাতে পুলিশ মামলা হামলার বন্যা বইয়ে দিয়েছে জানিয়ে রিজভী বলেন, মতিঝিল থানায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সিনিয়র যুুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া এবং পল্টন থানার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য আব্দুস সালামসহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। উত্তরা থানায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. তাজমেরি এসএ ইসলাম ও সহপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ড. মোর্শেদ হাসান খানের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমি দলের পক্ষ থেকে এই অসত্য ও বানোয়াট মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।

এছাড়া গতকাল দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ জনাব তরিকুল ইসলাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক উজ্জল, জাসাস সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ বহু নেতৃবৃন্দের বাসায় পুলিশ হানা দেয় এবং তল্লাশীর নামে ব্যাপক তান্ডব চালায়। দেশের বিশিষ্ট ও জাতীয় রাজনীতিবিদদের বাসভবনে পুলিশ কর্তৃক তল্লাশীর নামে এই ন্যাক্কারজনক তান্ডবের ঘটনায় আমি দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।